ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। গত কয়েক মাস ধরে এই জল্পনা চলছে বি-টাউনে। সংসারে বনিবনার অভাবেই নাকি তাদের মধ্যে দূরত্ব। তাই এক ছাদের তলায় আর তারা থাকেন না। ঐশ্বরিয়ার বেশির ভাগ সময় কাটে একমাত্র মেয়ে আরাধ্যা বচ্চনকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু এক সময় ঐশ্বরিয়া ও অভিষেকের সম্পর্কের সমীকরণ এমন ছিল না। পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতেন তারা।
নানা রকমের সমালোচনা মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিষেকের। সমাজমাধ্যমে ট্রোলডও হয়েছেন তিনি। এই সময় অভিষেককে সাহস জুগিয়েছেন স্ত্রী ঐশ্বরিয়া। সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন অভিষেক। স্ত্রীর পরামর্শ মেনেই তিনি সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে জীবনে এগোতে পেরেছিলেন। ঐশ্বরিয়ার পরামর্শ ছিল, ‘দশ হাজার মানুষ তোমাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেবেন। কিন্তু তার মধ্যেও একটি নেতিবাচক মন্তব্য তোমার ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে।’ ঐশ্বর্যার এই কথা মনে ধরেছিল অভিষেকের। তখন থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, শুধু নিজের কাজে ও ইতিবাচক মন্তব্যকে গুরুত্ব দেবেন। গঠনমূলক সমালোচনা শুনবেন কিন্তু এই সবের জন্য মন খারাপ করবেন না।
ঐশ্বরিয়া আরও নানা পরামর্শ দিয়ে অভিষেককে সাহস জুগিয়েছিলেন। দুঃসময়ে স্ত্রীর দেওয়া আরও একটি পরামর্শ ছিলÑ ‘ব্যর্থতা তোমার সঙ্গে মানিয়ে নেবে। তোমাকে ব্যর্থতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে না।’ এর পর থেকেই নিজের ব্যর্থতার কথা ভুলে এগিয়ে যেতে শিখেছিলেন অভিষেক। অভিনেতা বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় ব্যর্থতা থেতে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করি।’
দীর্ঘ ১৭ বছরের দাম্পত্য অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার। ২০০৭ সালে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন তারা। ২০১১ সালে আরাধ্যার জন্ম। কিন্তু গত কয়েক দিনে নাকি এসেছে দূরত্ব। এও শোনা যাচ্ছে, অভিনেত্রী নিমরত কৌরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও দাম্পত্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ।
দুঃসময়ে ঐশ্বরিয়ার পরামর্শেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন অভিষেক
সাকিবের ভূমিকা নিতে প্রস্তুত হচ্ছে মিরাজ: শান্ত
জাতীয় দলে অভিষেকের পর ধারাবাহিক পারফর্ম করে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার দীর্ঘদিন জাতীয় দলকে সার্ভিস দেওয়ার পর গত মাসে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন। টেস্ট এবং ওয়ানডে থেকে অবসর না নিলেও রাজনৈতিক কারণে দেশে ফেরা তার জন্য কঠিন হয়ে গেছে।
যে কারণে আগামীকাল থেকে মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলা হচ্ছে না সাকিবের। তার অবর্তমানে সাকিবের ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত হচ্ছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এমনটিই বলেছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
রোববার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, এ মুহূর্তে ম্যাচ করা কঠিন। ক্যাপ্টেনের জন্য অবশ্যই কঠিন। উইকেট হয়ত পরিবর্তন হবে না। অতিরিক্ত বোলার বা ব্যাটার নিয়ে খেলতে পারতাম এটা থাকবে না। সাতে যে ব্যাট করবে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ মুহূর্তে মনে হয় না সাকিব ভাইয়ের মতো কোনো খেলোয়াড় আছে। তবে মিরাজ ভালো বিকল্প হতে পারে।’
মিরাজের ওপর আস্থা জানিয়ে শান্ত আরও বলেন, মিরাজ টেস্ট ক্রিকেটে খুবই ভালো করছে। ব্যাটিং বোলিং দুটোতেই। তবে আরও উন্নতির জায়গা আছে; মিরাজও দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। গত কয়েকটি টেস্টে ওর ব্যাটিং দেখুন, আগের চেয়ে অনেক ভালো, দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। আমি আশা করব পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে মিরাজ সাকিব ভাইয়ের জায়গাটা নিতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
অধিনায়ক আরও বলেন, মুশফিক-সাকিব ভাই না থাকলেৃ উনারা অনেক অভিজ্ঞ। যারা আসবে তাদের সময় দিতে হবে। প্রক্রিয়ার ব্যাপার। আশা করব যারা ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেন, ওই ইনটেনসিটি নিয়ে যেন খেলে। খেলোয়াড়রা যেন নিজেরাই দায়িত্ব নেয়। অপেক্ষা না করে- কেউ এসে বলে দিবে বা সুবিধা দিবে। নিজেই যেন ওই সুবিধা আদায় করে নেয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়ার মতো প্র্যাকটিস করে।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড
দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁদিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিউজিল্যান্ড। প্রোটিয়া মেয়েদের ৩২ রানে হারিয়ে ১৫ বছরের অধরা স্বপ্ন পূরণ করেছে কিউইরা।
এর আগে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দুটি আসরে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। তবে এবার সুযোগ হাতছাড়া করেনি কিউই মেয়েরা।
অন্যদিকে নারীদের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপের গত আসরেও ফাইনালে উঠেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেবার অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের কাছে ১৯ রানে হেরে তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। এবারও ভাগ্যে শিকে ছিঁড়লো না দক্ষিণ আফ্রিকার। ছলছল চোখে মাঠ ছাড়তে হলো প্রোটিয়াদের।
চলতি বছর পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ফাইনালে উঠেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে ভারতের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় তাদের। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘চোকার্স’ ট্যাগ যেন দিনেদিনে আরও স্থায়ী হচ্ছে।
রোববার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৫৮ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় নিউজিল্যান্ড। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ১২৬ রান।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ বলে ৪৩ রান করেন অ্যামেলিয়া কের। ২৮ বলে ৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ব্রæকি হালিডে। অভিজ্ঞ ওপেনার সুজি ব্যাটস করেন ৩১ বলে ৩২ রান।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ বলে ৩৩ রান করেন লরা উলভারডট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ বলে ১৭ রান করেন আরেক ওপেনার তাজমিন ব্রিটস। মিডলঅর্ডারে ১৬ বলে ১৪ রান নেন চোল ট্রায়ন।
ব্যাটে হাতে ৪৩ রান আর বল হাতে ২৪ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে ফাইনালসেরা হন অ্যামেলিয়া কের।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের নির্বাচনী সমাবেশ
নিউইয়র্ক :বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বানের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের নির্বাচনী সমাবেশ। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘সেলিম-আলী’ পরিষদ নির্বাচিত হলে সোসাইটিকে গণমুখি, কল্যাণকর ও জবাবদিহিতামূলক সর্বজনীন সংগঠনে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয় সমাবেশ থেকে। গত ১৩ অক্টোবর রোববার রাতে ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আয়োজনে এ নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে এবং ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব শামীম আহমেদ, কর্মকর্তা শামীম মিয়া ও রেজা আবদুল্লাহ স্বপনের যৌথ পরিচালনায় এ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী সোসাইটির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আজহারুল হক মিলন ও সদস্য সচিব কাজী তোফায়েল ইসলাম, উপদেষ্টা আকতার হোসেন, বাংলাবাজার বিজনেস সোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মুমিনুল ইসলাম, উপদেষ্টা জুনেদ চৌধুরী, সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি প্রার্থী মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি প্রার্থী কামরুজজামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ভুইয়া রুমী, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রার্থী অনিক রাজ, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক প্রার্থী রিজু মোহাম্মদ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত), সমাজ কল্যাণ সম্পাদক প্রার্থী জামিল আনসারী, সাহিত্য সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ এ আখতার বাবুল, স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক প্রার্থী সম্পাদক হাসান জিলানী এবং কার্যকরী সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারী, হারুন চেয়্যারম্যান, আবুল কাশেম চৌধুরী, জাহাঙ্গীর সেহরাওয়ার্দী, মনসুর আহমেদ ও হাসান খান।
আরো উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, ব্রুকলীন ও ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী নাঈম টুটুল, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুস সহীদ, আব্দুর রকিব মন্টু, হাসান আলী, মখন মিয়া, কফিল চৌধুরী, সামাদ মিয়া জাকারিয়া, বেলাল ইসলাম, এ ইসলাম মামুন, মোজাফ্ফর হোসেন, আবুল খায়ের আখন্দ, মিয়া মোঃ দাউদ, আব্দুল মুহিত, আনোয়ার জাহিদ, আনোয়ারুল আলম, শ্যামল চন্দ, মাজকুরুল, শাহ বদরুজ্জামান রুহেল, লিয়াকত আলী, আমীন মেহেদী, জামাল উদ্দিন আহমেদ, মছনুর রহমান, হেলাল উদ্দিন, গহর কিনু চৌধুরী, আব্দুর রউফ প্রমুখ।
সমাবেশে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের কর্মী-সমর্থকরা ছাড়াও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন সমাজ কল্যাণ সম্পাদক প্রার্থী জামিল আনসারী। প্রবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন সুধাংশু মন্ডল।
নির্বাচনী সমাবেশে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ। এ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি কামরুজজামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভুইয়া রুমী, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত), সমাজ কল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী, সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ এ আখতার বাবুল, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক আশ্রাফ আলী লিটন, স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হাসান জিলানী এবং কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারী, হারুন চেয়্যারম্যান, আবুল কাশেম চৌধুরী, জাহাঙ্গীর সেহরাওয়ার্দী, মনসুর আহমেদ ও হাসান খান।
সমাবেশে বক্তারা সোসাইটির আগামী নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের প্রার্থীদের যোগ্য পার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে তাদের নির্বাচিত করার জন্য সবার সহযোগিতা ও ভোট কামনা করেন।
‘সেলিম-আলী’ প্যানেল নির্বাচিত হলে অনিয়ম-দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ সোসাইটি গড়ার অঙ্গীকার করেন প্রার্থীরা। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। সোসাইটির ভাবমূর্তি রক্ষার্থে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সভায় সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সংশ্লিষ্ট সকলের দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করে বলেন, তাদের প্যানেল নির্বাচিত হলে ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি, মূলধারায় শক্ত অবস্থান ও বাংলাদেশ সেন্টার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন, নতুন প্রজন্মের সাথে সেতুবন্ধন সুদৃঢ় করে সোসাইটিকে আরো গণমুখি, কল্যাণকর ও জবাবদিহিতামূলক সর্বজনীন সংগঠনে রূপান্তরের প্রদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘মাদার সংগঠন’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক এর দ্বি-বার্ষিক কার্যকরি কমিটির (২০২৫-২০২৬) নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর রোববার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহন করা হবে। এ নির্বাচনে অপর প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেল হচ্ছে ‘রুহুল-জাহিদ’ পরিষদ।
সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট জামাল আহমেদ জনির নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন: আব্দুল হাকিম মিয়া, মোঃ আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মান্নান, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান বাদল ও আহবাব চৌধুরী খোকন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির তারিখ পেছানো হয়েছে।
আগামী ২৪ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
রোববার (২০ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু তাহেরের আদালতে মামলাটি শুনানির জন্য ছিল।এ মামলার ১৫ জন আসামির মধ্যে ১৪ জনের অব্যাহতির বিষয়ে শুনানি শেষ হয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার অব্যাহতি চেয়ে শুনানি শুরু হয়। তবে, আদালত দুদকের আইনজীবীকে নতুন করে অভিযোগ গঠনের শুনানির কথা বলেছেন। পরে, আগামী ২৪ অক্টোবর শুনানির পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন আদালত। খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তবে, অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি খালেদা জিয়া।
২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাটি করে দুদক।তদন্ত শেষে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি।
বর্তমানে এ মামলায় আসামির সংখ্যা ১৫ জন। এদের মধ্যে নয়জন আসামি মারা গেছেন।
সূত্র : বিবিসি
পুলিশের এএসপিদের কুচকাওয়াজ স্থগিত
বাংলাদেশে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ‘হঠাৎ’ স্থগিতের ঘটনা নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর পুলিশ একাডেমিতে এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ সদর দফতর কুচকাওয়াজ স্থগিত হওয়ার বিস্তারিত কোনো কারণ উল্লেখ করেনি।
বাহিনীর মুখপাত্র বিবিসি বাংলাকে শুধু বলেছেন ‘অনিবার্য কারণে’ এটি স্থগিত করা হয়েছে।
যদিও এই কুচকাওয়াজে যোগ দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাজশাহীতে পৌঁছেছিলেন।
তবে, হুট করে এই কুচকাওয়াজ স্থগিত হওয়ার ফলে ৪০তম বিসিএসে মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডারের জন্য নির্বাচিত ৬২জন এএসপির চাকরিতে যোগদান অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।
এদিকে, এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সমন্বয়ক ওই ৬২ জনকে ‘ছাত্রলীগের ক্যাডার’ উল্লেখ করে ওই অনুষ্ঠানে যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানালে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
মূলত এ কারণেই শনিবার রাতে অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই আজকের কুচকাওয়াজটি স্থগিত ঘোষণা করা হয় বলে অনেকে মনে করেন।
যদিও দুটি বিষয়ের মধ্যে আদৌ যোগসূত্র আছে কী-না কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিবিসির কাছে তা কেউ নিশ্চিত করেনি।
পুলিশের একজন সাবেক আইজিপি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, কুচকাওয়াজ স্থগিতের ঘটনাটি বেআইনি না হলেও ‘অনেকটা নজিরবিহীন’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেছেন, এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার, নতজানু আচরণ এবং সক্ষমতার অভাব প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে।
তিনি বলেন, ‘তাদের উচিত ছিল আগেই বিষয়টি রিভিউ করা, যাতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ ভিকটিমও না হয়, আবার সুবিধাও না পায়। এখনো উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিভিউ করে দেখা এবং খেয়াল রাখতে হবে যোগ্য কেউ যেন ভিকটিম না হয়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই আরেকজন শিক্ষক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ঢালাওভাবে পুরো একটি ব্যাচের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেয়াটা ‘সুবিবেচনাপ্রসূত’ নয়।
তিনি বলেন, ‘কেউ যদি রাজনৈতিক পরিচয় বা সুবিধা নিয়ে কোনো ফেভার পায়, কিংবা প্রশ্ন পেয়ে চাকরি পায়, সেটি যথাযথ তদন্তে প্রমাণিত হলে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে একটি ব্যাচকে রাজনৈতিক তকমা দেয়াটা যৌক্তিক হতে পারে না।’
যেভাবে বিতর্কের সূচনা
সরকারি কর্মকমিশন বা পিএসসি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ৪০তম বিসিএস পরীক্ষা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল।
এরপর, প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ যাচাই বাছাইয়ের সব ধাপ শেষে ২০২২ সালের নভেম্বরে নির্বাচিত প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করেছিল সরকার।
ওই গেজেট অনুযায়ী তখন ৭১ জনের সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগদানের কথা। যাদের মধ্যে ৬২ জন দু’বছরের প্রশিক্ষণ শেষে রোববার পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেয়ার কথা ছিল।
দু’দিনের সফরে রাজশাহীতে থাকা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি যোগ দেয়ার কথা ছিল। পুলিশের অন্য কর্মকর্তারাও শনিবারের মধ্যেই রাজশাহীর সারদা পুলিশে একাডেমিতে পৌঁছে যান।
এর মধ্যেই, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুচকাওয়াজে অংশ নেয়ার অপেক্ষায় থাকা নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যার সূচনা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়কের একটি পোস্টের মাধ্যমে।
তাকেও ওই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
রাত ১০টার দিকে ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘….. এই ৬২ জন এএসপি হাসিনার আমলে নির্বাচিত হইছে। আর কত চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বিসিএস (পুলিশ)-এ নিয়োগ হতো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ব্যক্তি আমার জায়গা থেকে তাই উক্ত প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার পক্ষপাতী নই। তাদের ব্যাপারে তদন্ত হয়েছে কিনা!!….’
নিজের পোস্টে নিজেই আবার কমেন্ট করে তিনি লিখেন, ‘আওয়ামী লীগ শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত (৪০তম বিসিএসে) ৬২ জন ছাত্রলীগের ক্যাডার এএসপি হিসেবে রোববার প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করতে যাচ্ছেন।’
এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে রাতেই রোববারের কুচকাওয়াজ স্থগিত করার কথা সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়।
যদিও পুলিশ সদর দফতরের মুখপাত্র এনামুল হক সাগর বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অনুষ্ঠানটি ‘অনিবার্য কারণবশত’ স্থগিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকেও একই বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
নজিরবিহীন ঘটনা?
উল্লেখ্য, বিসিএসে চূড়ান্ত উত্তীর্ণের পর সহকারী পুলিশ সুপার কর্মকর্তারা সারদার পুলিশ একাডেমিতে মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন, যার শেষ হয় সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেয়ার মাধ্যমে।
এরপর তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেন।
সারদায় পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণার্থী সহকারী পুলিশ সুপারদের পুরো ব্যাচ জুড়ে কুচকাওয়াজ স্থগিতের ঘটনা অনেকটাই নজিরবিহীন বলেছেন পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাদের কয়েকজন।
পুলিশের সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেছেন, এটি আইনবহির্ভূত না হলেও একটু ‘অস্বাভাবিক ও কিছুটা নজিরবিহীন’।
তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ব্যাচের লম্বা সময় ধরে প্রশিক্ষণে রাখার ঘটনা আগেও হয়েছে অনেক সময়। কিংবা প্রশিক্ষণ চলাকালে বিভিন্ন যৌক্তিক কারণে অনেকে বাদ পড়েছেন চাকরি থেকে। কিন্তু পুরো ব্যাচের কুচকাওয়াজ স্থগিতের ঘটনা সম্ভবত নজিরবিহীন ও একটু অস্বাভাবিক।’
তিনি আরো বলেন, প্রশিক্ষণকালে কারো আচরণ যথাযথ না হলে তাকে সরাসরি বাদ দেয়ার এখতিয়ারও কর্তৃপক্ষের আছে।
এছাড়া আবেদনের সময় যেসব তথ্য প্রার্থী দিয়ে থাকে সেগুলোর কোনোটি অসত্য প্রমাণিত হলেও ব্যবস্থা নেয়া যায়।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ শেষ করেও কুচকাওয়াজে যোগ দেয়ার অনুমতি না পাওয়ার উদহারণও পুলিশ বাহিনীতে আছে।
সারদায় ট্রেনিং সম্পন্ন করেও বিএনপি সরকারের আমলে চূড়ান্ত কুচকাওয়াজ বা পাসিং আউটে যোগদান করতে পারেননি অন্তত এক ডজন কর্মকর্তা। এর মধ্যে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদও ছিলেন।
পরে আওয়ামী লীগ আমলে ওই কর্মকর্তারা আবার চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছিলেন।
আবার, আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ শ’র বেশি এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছিলেন।
তাদের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে দলীয়করণ হয়েছে – এটা সত্যি। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল এই কুচকাওয়াজের আগেই এগুলো পর্যালোচনা করে দেখা। সেটি না করে, তারা ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে সিদ্ধান্ত নিলো, যা তাদের নতজানু আচরণ ও সক্ষমতার অভাবকেই তুলে ধরেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আগেও বিভিন্ন সময় প্রার্থীর কিংবা তার আত্মীয় স্বজনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দেখিয়ে অনেককে চাকরিতে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বঞ্চিত বা চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘এখনো সেই ধারা চলমান থাকলে তা হবে দুঃখজনক। কেউ যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবাদে পরীক্ষায় সুবিধা পেয়ে চাকরি পেয়ে থাকেন, প্রমাণসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে যৌক্তিক।’
‘কিন্তু সবাইকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে চাকরিতে যোগদান থেকে বঞ্চিত করাটা সঠিক হবে না।’
সূত্র : বিবিসি
৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট জাতীয় দিবস বাতিলের মিছিলে পিটুনি
৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট জাতীয় দিবস বাতিলের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ক্রিয়েটিভ রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২০/২৫ জন বিক্ষোভ শুরু করেন। তবে রাস্তায় নামতেই বিপুলসংখ্যক লোক তাদের গণপিটুনি দিলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে সংগঠনের মুখপাত্র কুতুব হেলালীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন সংগঠনের ২০/২৫ জন নেতাকর্মী। এ সময় পাশ থেকে ১৫-২০ জন লোক আখ, বাঁশ ও কাঠ নিয়ে এসে তাদের ওপর পিটুনি শুরু করেন। রাস্তার অপর প্রান্ত থেকে আরো লোকজন এসে গণপিটুনির সাথে যুক্ত হলে বিক্ষোভকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। সংগঠনটির সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট বাতিলের প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়ালে বিএনপি ও জামায়াতের ক্যাডাররা হামলা চালায়। এতে তাদের অনেকে আহত হন। যার মধ্যে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ৫ আগস্টের পর প্রথমবারের মতো স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পক্ষে ঢাকায় কেউ মিছিল করতে নেমেছিল; কিন্তু আশপাশে থাকা লোকজন হাতের কাছে যা পেয়েছিলো বাঁশ, কাঠ, রস বিক্রি করা হকারদের কাছ থেকে আখ নিয়ে তাদের গণপিটুনি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
শাহবাগে অবরোধ আউটসোর্সিং কর্মীদের
চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কর্মীরা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শাহবাগে এসে রাস্তা অবরোধের কারণে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে সরকারি ছুটির দিনেও বেসরকারি অফিসগামী মানুষসহ রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সরকারের আশ্বাসে প্রায় ৭ ঘণ্টা পর বিকাল ৫টার দিকে আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে চলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে ১৫ দিনের মধ্যে দাবির সুরাহা করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।
আন্দোলনকারী নেতারা বলেন, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর, অধিদপ্তরের সব প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং প্রকল্পে কর্মরতদের চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। যে কোনো সময় তাদের চাকরি চলে যেতে পারে। কাজ না করলে তারা বেতনও পান না। কোনো ঈদে বোনাস দেওয়া হয় না। কেউ কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চাকরিচ্যুত করে, নয়তো বেশি বেশি ওভারটাইম করিয়ে শাস্তি দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে সারা দেশ থেকে আউটসোর্সিং কর্মীরা একদফা দাবি বাস্তবায়নে শাহবাগে জড়ো হয়েছেন। দাবি না মানলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে কয়েক হাজার কর্মচারী সকাল ১০টার দিকে শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। তারা রাস্তার সব পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে শাহবাগসহ আশপাশের সব সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বেসরকারি চাকরিজীবী, গণপরিবহণের যাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল (বারডেম), ঢাকা মেডিকেলসহ আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। রাস্তা বন্ধের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী রিকশা, সিএনজি অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনকেও রাস্তা ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। বিকাল ৫টার পর আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে চলে গেলে যান চলাচল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মিরপুর থেকে ঢাকা মেডিকেলে আসা উম্মে সালমা জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ। শনিবার ছুটির দিন রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় বারডেমের উদ্দেশে আসেন। কিন্তু শাহবাগে রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা কাওরান বাজারেই নেমে যেতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, কয়েকদিন পর পর রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষরা সব থেকে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।
পল্টনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রুহুল আমিন বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে ঠিকমতো এলেও শাহবাগ মোড়ে এসে আটকা পড়েন। ২০ মিনিটের মতো অপেক্ষার পর গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যাত্রা শুরু করেন। তার মতে, মানুষের আন্দোলন করার অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে অন্যের অধিকার কেন ক্ষুণœ করা হবে? স্ত্রীকে নিয়ে বিএসএমএমইউতে এসেছেন খুলনার হোসেন। তিনি বলেন, রাস্তা বন্ধের কারণে পল্টন থেকে রিকশায় উলটো রাস্তায় কিছুটা এসে বাকি পথ হেঁটে হাসপাতালে যান। কেউ যেন রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করতে না পারে, সেজন্য সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।
আব্দুর রাকিব সনেট নামে এক সংগঠক বলেন, জনগণের সেবা প্রদানের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এটি আউটসোর্সিং নীতিমালা ২০১৮-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা একটি কালো আইন। এই কালো আইনের দ্বারা সরকার এবং কর্মরতদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো টেন্ডার ব্যবসার মাধ্যমে মূল্যবান অর্থ আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। জনবল সরবরাহের নামে তারা কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই সরকারি অর্থ অপচয় না করে আউটসোর্সিং নীতিমালা বাতিল এবং এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করে রাজস্বভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
আরেক সংগঠক দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাজস্বকরণে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে না। প্রতি মাসে যে পরিমাণ টাকা ঠিকাদারকে দেওয়া হচ্ছে, তা বন্ধ হলেই সরকারের সঞ্চয় হবে, যার আসল ও লভ্যাংশ থেকে রাজস্বকৃতদের অতিরিক্ত যাবতীয় ব্যয় বহন করা সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে এলেও সরকারের পক্ষ থেকে সুরাহা না করায় তারা রাজপথে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি মিছিল নিয়ে আউটসোর্সিং কর্মীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা মোড়ের সব পয়েন্ট বন্ধ করে অবরোধ শুরু করেন। রাস্তা বন্ধের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, মৎস্যভবন, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, বাংলামোটরসহ আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা ‘স্বাধীন বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘ছাত্র-জনতার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘দাসপ্রথা বিলুপ্ত চাই’ ইত্যাদি বিভিন্ন স্লোগান দেন।
দেখা যায়, শাহবাগের চারপাশে লোহার ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ঘিরে রাখে পুলিশ। কোনো ধরনের ঝামেলা না করে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে বলেন। এর মধ্যে দুপুরের দিকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানকার কর্মকর্তারা দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। দেখা যায়, বিকালের দিকে এক সমন্বয়ক মাইকে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে কর্মকর্তারা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে ১৫ দিনের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। ঘোষণার পর ধীরে ধীরে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ছেড়ে চলে যান।
শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, সকাল থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কর্মীরা চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শাহবাগ এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করলে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকাল ৫টার দিকে তারা রাস্তা ছেড়ে চলে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নির্বাচন কমিশন গঠনে দ্রুতই সার্চ কমিটি: মাহফুজ আলম
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে দ্রত সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। নির্বাচন কমিশনার কারা হবেন-তা এই কমিটি ঠিক করবে। কমিশনাররা এসেই নির্বাচনের পরবর্তী কাজ শুরু করবেন। তবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সবকিছু গঠিত হবে।
শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। এদিন অংশীজনদের সঙ্গে চলমান সংলাপের অংশ হিসাবে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মাহফুজ আলম বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য দ্রæতই সার্চ কমিটি গঠিত হবে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই এটি গঠিত হবে। বিধি অনুযায়ী সার্চ কমিটিতে ৬ সদস্য থাকার কথা। বিধিমালা অনুযায়ী যা যা করার দরকার করা হবে। ইলেকশন কমিশন পুনর্গঠন পরবর্তীতে কবে কীভাবে ইলেকশন হবে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা থেকে শুরু করে প্রসিডিউর অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সমান্তরালে কমিশনগুলো কাজ করে যাবে।
তিনি বলেন, অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নেয়। রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন নিয়েই বেশি কথা হয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং আর্থিক অপরাধ ও গণহত্যার বিচার কার্যক্রম নিয়ে কথা হয়েছে। ১৪ দলের যারা আওয়ামী লীগের হাত শক্তিশালী করেছে, গণহত্যায় সহযোগিতা করেছে, তাদের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি কী হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কথা বলেছে।
এছাড়া গার্মেন্টস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংলাপে আবারও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কথা এসেছে। তাদের শরিক দলগুলোকেও নিষিদ্ধ করার দাবি এসেছে। অনেকে বলেছে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪’-এই তিনটি সংসদ নির্বাচন অবৈধভাবে হয়েছে।
এটাকে কীভাবে অবৈধ ঘোষণা করা যায়-এ বিষয়ে তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। গণপরিষদের বিষয়েও একটি দল কথা বলেছে। প্রধান উপদেষ্টা সরকারের জায়গায় থেকে তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গার্মেন্টস পরিস্থিতি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সংস্কার সমান্তরালে চলবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আলম বলেন, সার্চ কমিটি ঠিক করবে, ইলেকশন কমিশনার কারা হবেন। গত তিনটি নির্বাচনে তরুণরা ভোট দিতে পারেননি। বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাসহ অনেকগুলো প্রক্রিয়া রয়েছে। সেগুলো সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত ইলেকশন কমিশন এসব ঠিক করবেন।
এরপর দেখবেন সবকিছু রোডম্যাপ অনুযায়ী চলছে। এটা অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেই হবে। তিনি বলেন, সার্চ কমিটি ও ইলেকশন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা কোনো আতাত হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অবস্থান বজায় থাকবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা তিনটি ইলেকশনে অংশ নিয়েছে, এদের ব্যাপারে অনেক আগেই অবস্থান আছে, তারা অবৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিকভাবে অংশগ্রহণে অবশ্যই বাধা তৈরি করবে। এ বাধাটা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।
এটার আইনি দিক আছে, প্রশাসনিক দিক আছে, আপনারা অচিরেই দেখতে পাবেন। আর যখন নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে তখন এগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল নিষিদ্ধ বা শরিক অনেকগুলো দল আছে যেমন জাতীয় পার্টিকে ডাকছি না এখন।
তারা (জাতীয় পার্টি) কিন্তু নীরবে সমর্থন করে গেছে এবং অবৈধ নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরও আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। সরকার একা কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবে।
৫ আগস্টের পরে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশ ছাড়ার বিষয়ে কাদের সহযোগিতা ছিল-এমন প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। কেন, কীভাবে আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলেন তা নিয়ে সরকার তদন্ত করছে। একটা বিষয় স্পষ্ট তা হলো ৫-৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না।
প্রায় এক সপ্তাহের মতো পুলিশ ধর্মঘটে ছিল, ফলে অনেক ক্ষেত্রে শুনছেন যে লোকটা পালাচ্ছেন, কিন্তু পুলিশ দিয়ে ধরতে হবে, সেই জায়গায় ওই সময় একটা গ্যাপ ছিল। কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল তাদের গ্রেফতার করা, এখনো চেষ্টা করছি যারা বাংলাদেশে আছেন তাদের গ্রেফতার করতে। তারা কীভাবে পালাল তা নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।
৫ আগস্ট পদত্যাগের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে পালানোর বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের বিষয়ে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে-এমন প্রশ্নে শফিকুল আলম বলেন, ওই সময় তো আমাদের সরকার ছিল না। তবে আমরা সামগ্রিকভাবে সব বিষয় নিয়ে তদন্ত করছি।
একাধিক রাজনৈতিক দলগুলো উপদেষ্টা পরিষদের কলেবর বৃদ্ধি ও বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকার কী ভাবছে- এমন প্রশ্নে উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব এসেছে। প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তিনি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে সবাইকে অবহিত করবেন।
সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বললেন চীনের প্রেসিডেন্ট
তাইওয়ানের চারপাশে বৃহৎ আকারের সামরিক মহড়ার পর এবার সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বললেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
গত সপ্তাহে তিনি এই আহŸান জানান বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। খবর এএফপির।
পিপলস লিবারেশন আর্মি রকেট ফোর্সের একটি ব্রিগেড পরিদর্শনের সময় গত বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেন। খবর চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত স¤প্রচারকারী সিসিটিভির।
তাইওয়ানের চারপাশে চীনের সেনাবাহিনীর বৃহৎ আকারের সামরিক মহড়ার কয়েকদিন পর জিনপিংয়ের এই আহŸান সামনে এলো।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, সামরিক বাহিনীকে বিস্তৃতভাবে প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করা উচিত এবং নিশ্চিত করা উচিত যে, সেনাদের কঠিন যুদ্ধের সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি বলেন, সেনাদের অবশ্যই তাদের কৌশলগত দক্ষতা এবং যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। চীন তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ হিসাবে দাবি করে থাকে এবং সা¤প্রতিক বছরগুলোতে স্বশাসিত এই দ্বীপের চারপাশে বেইজিং তার শক্তি প্রদর্শন ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।
চীনের কমিউনিস্ট নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, তারা তাইওয়ানকে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগ করতেও দ্বিধা করবেন না।
উল্লেখ্য, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, এটিকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং।
১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা দখল করার পর তাইওয়ান দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং। এরপর থেকে তাইওয়ান নিজস্ব সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।


