Home Blog Page 513

আ’লীগ সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে : তারেক রহমান

আওয়ামী লীগ সরকারের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, গণতন্ত্র, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে গেছে। নির্বাচনের নামে দেশের জনগণের সাথে তামাশা ও প্রসহন করেছে। বিরোধী দলের প্রতি দমন পীড়ন, মিথ্যা মামলা ও গুম করেছে। কাউকে ভোট দিতে দেয়নি।’

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘জোরপূর্বক ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে কাউকে ভোট দিতে দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার। দীর্ঘ ১৬ বছর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা মানুষের কথা বলার অধিকারকে হরণ করে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একছত্র অপশাসন কায়েম করেছিল। ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার ও খুনি আওয়ামী লীগের পতন ঘটানোর পর বাংলার মাটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রকাঠামোকে মেরামত করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনে আমরা ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।’

এর আগে নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন-বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান। এ সময় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির যুগ্মসম্পাদক মাহবুব মুর্শেদ জাপল ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুর রহমান পলাশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান আরো বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি অতীতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বেকারদের প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ, এদেশে রফতানি আয়ের প্রধান উৎস গামের্ন্টসের সূচনা ও কৃষি তথা কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বিএনপি সরকারের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, কলকারখানা স্থাপনপূর্বক বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু। এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজভী জর্জ, যুগ্মসম্পাদক আলী হাসান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, কালিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক স ম ওয়াহিদুজ্জামান মিলু, কালিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম সেলিম হোসেন, নড়াইল পৌর বিএনপির সভাপতি তেলায়েত হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফসিয়ার রহমানসহ অনেকে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রকাশ্যে নড়াইল জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭০৭ জন কাউন্সিলর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এ সম্মেলনে সভাপতি পদে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং জুলফিকার আলী মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে মনিরুল ইসলাম, শাহরিয়ার রিজভী জর্জ এবং কামরুল হাসান প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন টিপু সুলতান, খন্দকার এজাজুল হাসান বাবু, মাহবুব মুর্শেদ জাপল ও এস এম ফেরদৌস রহমান।

রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণে দীর্ঘ ১৬ বছরেও প্রকাশ্যে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই মিলে চেষ্টা করব : ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ সার্থক করতে ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই মিলে সবরকম চেষ্টা করব।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠকের প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি বলেন, প্রতিজ্ঞা করি আমরা যেন গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান না জানাই। যে কারণে তারা আত্মত্যাগ করেছিল সেটা যেন পরবর্তী সব প্রজন্ম মনে রাখে, তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে। তাদের আত্মত্যাগ সার্থক করার জন্য আমরা সবাই মিলে সবরকম চেষ্টা করব যেন সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি।

‘তারা এ ত্যাগ না করলে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকলেও জবাব খোঁজার আমাদের কোনো সুযোগ থাকত না। প্রশ্ন আমাদের মনে যতটুকু ছিল, বহু বছর ধরে ছিল, সুযোগ পাইনি। অসংখ্য ছাত্র-জনতা আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা সুযোগ পেয়েছি।’

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমরা ছোটখাটো একটা হাডুডু খেলার জন্য আইন বানাই। ফুটবল খেলা তো বটেই, এটা আন্তর্জাতিক খেলা। সে আইন আমরা মেনে চলি, মেনে চলি বলেই খেলাটা খেলা হয়, তামাশা হয় না। আইনগুলো এমনভাবে বানানো হয়েছে সবাই যেন উপভোগ করে। কিন্তু আমরা আমাদের দেশকে তামাশায় পরিণত করে ফেলেছি। আইন বলে কিছু নেই, নিয়ম বলে কিছু নেই। যারা আত্মত্যাগ করেছে তারা আমাদের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে, আমরা যেন সেসব আইনকানুন পাল্টে ফেলে নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত হই।

‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের শিল্পী প্রতুল মুখার্জি আর নেই

০

‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের প্রখ্যাত শিল্পী প্রতুল মুখার্জি মারা গেছেন। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

গেল সপ্তাহ থেকেই তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। গত জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাই স্নায়ু এবং নাক-কান ও গলার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা হয় তার।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দ্রুত তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে শিল্পীর ফুসফুসেও সংক্রমণ দেখা দেয়। দ্রুতই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।

তার গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় গান হলো- ‘আমি বাংলায় গান গাই’, ‘ডিঙ্গা ভাসাও সাগরে সাথী রে’। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও তার গানের গুণমুগ্ধ ছিলেন। মমতার তত্ত্বাবধানেই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল তাকে।

বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রতুল মুখার্জি। বাবা ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। শৈশব থেকেই গান লিখে তাতে সুর দিয়ে গাওয়ার ঝোঁক ছিল তার।

প্রতুল মুখার্জিকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনে তার গাওয়া ‘আমি বাংলায় গান গাই’। এছাড়া সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে তৈরি ‘গোঁসাইবাগানের ভূত’ ছবির নেপথ্য শিল্পী ছিলেন তিনি।

তার মতে, সৃষ্টির মুহূর্তে লেখক-শিল্পীকে একা হতে হয়। তারপর সেই সৃষ্টিকে যদি মানুষের সাথে মিলিয়ে দেয়া যায়, কেবল তাহলেই সেই একাকিত্বের সার্থকতা। সেই একক সাধনা তখন সকলের হয়ে ওঠে।’
সূত্র : ইউএনবি

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জন্মদিন আজ

০

অসংখ্য জনপ্রিয় বাউল গান ও গণসংগীতের রচয়িতা বাউল শাহ আব্দুল করিমের জন্মদিন আজ। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধল-আশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইব্রাহিম আলী ও মা নাইওরজান।

দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। শৈশব থেকেই একতারা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। জীবন কেটেছে সাদাসিধেভাবে। বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নেন কমর উদ্দিন, সাধক রসিদ উদ্দিন, শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের কাছ থেকে। এই বাউল স্বশরীরে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার গান ও সুরধারা কোটি কোটি তরুণসহ সকল স্তরের মানুষের মন ছুঁয়ে যায়।

কিংবদন্তিতুল্য এই শিল্পী ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর পর সর্বস্তরের বিশেষ করে সাধারণের কাছে আরো বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বাউল শাহ আব্দুল করিম।

শাহ আবদুল করিম বাংলার লোকজ সঙ্গীতের ধারাকে এগিয়ে এনেছেন সামনে। ভাটি অঞ্চলের সুখদুঃখ তুলে এনেছেন গানে। নারী-পুরুষের মনের কথা ছোট ছোট বাক্যে প্রকাশ করেছেন আকর্ষণীয় সুরে। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।

তিনি তার গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহের দর্শন থেকে। জীবিকা নির্বাহ করেছেন কৃষিকাজ করে। কিন্তু কোনোকিছু তাকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। অসংখ্য গণজাগরণের গানের রচয়িতা বাউল শাহ আব্দুল করিম অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন।

গানে-গানে অর্ধ শতাব্দীরও বেশী সময় লড়াই করেছেন ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে। এজন্য মৌলবাদীদের নানা লাঞ্চনারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ভাষার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মানুষকে প্রেরণা যোগায় শাহ আবদুল করিমের গান।

শাহ আবদুল করিম লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন ১৬০০’র বেশি গান। যেগুলো সাতটি বইয়ে গ্রন্থিত আছে। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধু ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। পেয়েছেন একুশে পদক।

শাকুর মজিদ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘ভাটির পুরুষ’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র। সুবচন নাট্য সংসদ করিমকে নিয়ে শাকুর মজিদের লেখা ‘মহাজনের নাও’ নাটকের প্রদর্শনী করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এছাড়াও ২০১৭ শাহ আবদুল করিমের জীবনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস লিখেন সাইমন জাকারিয়া। নাম কূলহারা কলঙ্কিনী।

বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের গানের মধ্যে দিয়ে তাকে খুঁজতে প্রতিদিন ভক্ত ও স্বজনরা গানের আসর বসান। তার গান গেয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা আর গানের মধ্যে তাকে বাঁচিয়ে রাখতেই সবার মাঝে তার গান ছড়িয়ে দিতে চান ভক্ত আশেকানরা। একইসাথে তার সুরধারাকে বিকৃতভাবে না গাওয়ার দাবিও তুলেছেন বাউলরা।

বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে/আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না/আমি কূলহারা কলঙ্কিনী/কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া কোন মেস্তরি নাও বানাইছে/কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু/বসন্ত বাতাসে সইগো/আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু/মহাজনে বানাইয়াছে ময়ুরপংখী নাও/আমি বাংলা মায়ের ছেলেসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা শাহ আব্দুল করিম না থাকলেও গানে আর সুরে তিনি আমাদের মাঝে রয়েছেন, অনন্তকাল থাকবেন।

একটি সাক্ষাৎকারে শাহ আবদুল করিম গাড়ি চলে না গানটি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বন্ধুর বাড়ি এ আত্মায়। গাড়িতে চড়ে আত্মশুদ্ধির সন্ধানে ছুটি। কিন্তু পাই না। রিপু থামিয়ে দেয়। একদিন হয়তো এই গাড়ি পুরোদমে থেমে যাবে। প্রকৃত মালিকের কাছে ধরা দেবে। এই করিমকে তখন মানুষ খুঁজে পাবে শুধুই গানে আর সুরে।

সূত্র : ইউএনবি

ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড

০

ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিক পাকিস্তানকে হতাশ করে শিরোপা ঘরে তুলেছে মিচেল সান্টনারের দল। একই সাথে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে সাড়লো সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি। যেন হমকি দিয়ে রাখলো অন্যদের।

শুক্রবার করাচিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। যেখানে ব্যাট করে ৪৯.৩ ওভারে ২৪২ রান করে পাকিস্তান। জবাবে ৪৫.২ ওভারে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় কিউইরা।

রান তাড়ায় তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি কিউইদের। দ্বিতীয় ওভারে উইল ইয়াংয়ের (৫) উইকেট হারালেও তিনে নামা কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন ডেভন কনওয়ে। দু’জনের জুটিতে আসে ৭১ রান।

উইলিয়ামসন সালমানের শিকার হয়ে ৪৯ বলে ৩৪ রানে থামলে ভাঙে জুটি। তবে কনওয়ে দলকে পৌঁছে দেন তিন অংকের ঘরে। ৭৪ বলে ৪৮ রান করে যখন ফেরেন কনওয়ে, কিউইদের সংগ্রহ তখন ২৪.২ ওভারে ১০৮।

জয় নিশ্চিতে বাকি কাজ সাড়েন ড্যারিল মিচেল ও টম লাথাম। তাদের ৮৭ রানের জুটি ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন পাকিস্তানকে। যদিও তাদের কেউ পারেননি জয় নিশ্চিত করে ফিরতে।

জয় থেকে ৪৮ রান দূরে থাকতে ৫৭ রানে আউট হন মিচেল। আর ৬৪ বলে ৫৬ রান করে লাথাম আউট হন জয় থেকে ১১ রান দূরে থাকতে। গ্লেন ফিলিপস ১৭ বলে ২০ রান তুলে নিশ্চিত করেন জয়। নাসিম শাহ নেন ২ উইকেট।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ফখর জামান ফেরেন মাত্র ১০ রানে, সৌদ শাকিলও পাননি রানের দেখা। তবে অন্যপ্রান্ত থেকে বাবর আজম চেষ্টা করেন হাল ধরার।

তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ৩৪ বলে ২৯ রান করে বাবর ফিরলে ৫৪ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় রিজওয়ান ও সালমান আগার ব্যাটে। এই জুটিতে যোগ হয় ৮৮ রান।

৭৬ বলে ৪৬ রান করে দলীয় ১৪২ রানে উইলিয়াম ও রোর্কের বলে রিজওয়ান আউট হলে ভাঙে এই জুটি। সালমানও ইনিংস বড় করতে পারেননি, ৬৫ বলে ৪৫ রান করে থামতে হয় তাকে।

এরপর খুশদিল শাহ ১৮ বলে ৭ রানে ফিরলেও তইয়্যব তাহির রাখেন ভালো ভূমিকা। দলকে দুই শ’ পার করান তিনি। ফেরেন ৩৩ বলে ৩৮ করে। এরপর ফাহিম আশরাফের ২১ বলে ২২ ও নাসিম শাহ ১৯ রানে আড়াই শ’র কাছাকাছি পৌঁছায় পাকিস্তান।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন ও রোর্কে। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন মিচেল ব্রেসওয়েল ও মিচেল স্যান্টনার।

দুবাই পৌঁছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

০

আসন্ন আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রয়ারি) দিবাগত রাতে ঢাকা ত্যাগ করে টাইগাররা।

এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক পাকিস্তান। তবে হাইব্রিড মডেলে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হবে টুর্নামেন্টটি।

সরকারের কাছ থেকে পাকিস্তান সফরের অনুমতি না পাওয়া আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নিজেদের ম্যাচগুলো খেলবে ভারত। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ভারত হওয়ায় দুবাই গেছে বাংলাদেশ। ২০ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যাত্রা শুরু করবে মিরাজ-সৌম্যরা।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ে আইসিসি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে পাকিস্তান শাহিনসের (পাকিস্তান এ) বিপক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ দু’ ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান যাবে টাইগাররা।

রাওয়ালপিন্ডিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ দল

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী অনিক, মেহেদি হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমন, নাসুম আহমেদ, তানজিদ হাসান, নাহিদ রানা।

সূত্র : বাসস

গণহত্যার ‘সত্যতা’ উদ্ঘাটিত হওয়ায় জাতিসঙ্ঘকে অভিনন্দন জামায়াতের

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন-এর তদন্ত প্রতিবেদনে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ‘সত্যতা’ উদ্ঘাটিত হওয়ায় হাইকমিশনকে আন্তরিক মুবারকবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিনন্দন জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে যে অমানবিক ও নির্মম গণহত্যা চালিয়েছে, তারই স্বীকৃতি পাওয়া গেল বিশ্ব সংস্থা জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন-এর তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে। খুনি ও খুনিদের মাস্টারমাইন্ডদের তথ্য ও পরিচয় এই তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছে জাতিসঙ্ঘ। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ‘সত্য’ উদ্ঘাটিত হওয়ায় আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশেই যে গত জুলাই-আগস্টে গণহত্যা সংঘঠিত হয়েছে তা জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন-এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হলো। এতে গোটা জাতি স্বস্তিবোধ করছে এবং অপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে আশান্বিত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে- খুনি শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেশে গণহত্যা সংঘটিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। খুনিদের মাস্টারমাইন্ড ও তার দোসরদের মাধ্যমেই দেশের নাগরিকদের ওপর অকথ্য জুলুম-নির্যাতন, গুম এবং বীভৎস ও লোমহর্ষক গণহত্যা চালানো হয়েছে। লাশ স্তুপ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আয়নাঘর বানিয়ে দেশের মানুষকে গুম ও পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মজলুমের পক্ষে নয়, বরঞ্চ মজলুম বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের এই রিপোর্ট গণহত্যার দলিল হয়ে থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে সকল গণহত্যাকারী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ মনে করে, গণহত্যার অপরাধে অপরাধী হিসেবে আওয়ামী লীগের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। এই জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের দাবির বিষয়টিও অন্তর্বর্তী সরকারকে বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।’-বিজ্ঞপ্তি

কেরু কোম্পানি চত্বরে আবারো বোমা, চরম আতঙ্ক গোটা এলাকা

আবারো দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (চিনিকল) প্রতিষ্ঠানের চত্বরে কালো টেপ মড়ানো বোমা দেখতে পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা এটি ককটেল বোমা হতে পারে।

এক দিনের ব্যবধানে আজ শনিবার বেলা ১২টার দিকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চত্বরে আবারো ককটেল বোমা পাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, শনিবার সকালে কেরু কোম্পানি চত্বরে ছাগল চড়াচ্ছিলেন এক যুবক। তিনি প্রথমে কালো টেপ মড়ানো বোমা সাদৃশ্য বস্তু দেখতে পেয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের জানায়। তবে প্রায় একইস্থান অর্থাৎ এক শ’ মিটার দূরেই একটি বোম পাওয়া গিয়েছিল। এরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে সতর্ক অবস্থানে আছেন তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির জেনারেল অফিস সংলগ্ন ক্লাবের পাশের ঝোড়ের মধ্যে লাল টেপ মড়ানো একটি বস্তু দেখতে পান কোম্পানির কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীরা। বোমা হতে পারে এই সন্দেহজনক হওয়ায় দ্রুত দর্শনা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পে খবর দেন তারা। এই নিয়ে দিনব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বোমা সদৃশ্য বস্তু সন্দেহে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এটিকে ঘিরে রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে রাত ৯টার দিকে রাজশাহী থেকে র‍্যাব-৫ এর ছয় সদস্যের একটি বোমা নিস্ক্রিয়দল ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটায়।

স্থানীয় ও প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মকরত কয়েকজন না প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানে সদ্য স্থগিত হয়ে যাওয়া শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কোনো পক্ষ এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দর্শনা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মুহম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, আবারো একই ধরনের কালো টেপ মোড়ানো বোমা সাদৃশ্য বস্তু পাওয়া গেছে। এটাও ককটেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ পূর্বের পাওয়া ককটেলের সাথে এটার হুবহু মিল হয়েছে। তবে আজকেরটা কালো টেপ মড়ানো। রাজশাহী র‍্যাবের বোমা নিস্ক্রিয় টিমকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গতবারের ঘটনায় কেরু কোম্পানি কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেছেন। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি।

সূত্র : ইউএনবি

ছাত্রদের দল গঠনে প্রাধান্য পাবে আন্তর্জাতিক যেসব মডেল

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে। কোনোটি টিকে আছে, কোনোটি হারিয়ে গেছে। এই দলগুলোর কোনোটি ডান, কোনোটি বামপন্থী আদর্শের। কোনো দল জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দেয়, আবার কোনোটি ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা ধর্মভিত্তিক আদর্শকে সামনে রেখে এগিয়েছে।

স্বাধীনতার পর নতুন যেসব দল গঠিত হয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দল হয়ে উঠেছে বিএনপি। দলটি এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায়ও গেছে।

এর বাইরে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেছে। তবে সেসব নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

তবে এটাও ঠিক, জাতীয় পার্টি নির্দিষ্ট কিছু আসনে তার ভোট ব্যাংক তৈরি করতে পেরেছে।

এর বাইরে আর যেসব নতুন দল গঠিত হয়েছে তার কোনোটিই সেভাবে ভোটের মাঠে সুবিধা করতে পারেনি, সারা দেশেও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়নি।

ফলে মোটাদাগে দেশের রাজনীতি মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি–– এই দুই ধারায় বিভক্ত।

এর মধ্যেই ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ছাত্রদের নতুন দল গঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সম্ভাব্য দলটির গঠনের সাথে যুক্ত নেতারা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন এই রাজনৈতিক দলের আদর্শ কী হবে? নেতৃত্বে কি শুধু তরুণরাই থাকবেন নাকি অভিজ্ঞদেরও জায়গা হবে? ধর্ম নিয়েই বা দলটির অবস্থান কেমন হবে?

‘সাম্য, ন্যায়বিচার, সুশাসনকে ঘিরে আমরা হবো মধ্যপন্থী দল’
ছাত্রদের নতুন দল গঠনের কাজটি তত্ত্বাবধান করছেন জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

তারা চান বাংলাদেশে বামপন্থী কিংবা ডানপন্থী রাজনীতির যে ধারা, ছাত্রদের নতুন দল যেন সেটার কোনোটির মধ্যেই না থাকে। এই অবস্থানকে তারা বলছেন মধ্যপন্থী অবস্থান।

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটি মধ্যমপন্থী রাজনীতির কথা বলছি। আমরা বাম-ডান এমন যে বিভাজন আছে সেগুলোতে ঢুকতে চাই না। আমরা বাংলাদেশ প্রশ্নে এক থাকতে চাই। ইসলামফোবিয়ার রাজনীতি অথবা উগ্র ইসলামপন্থী বা উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মধ্যেও আমরা নেই।’

এক্ষেত্রে দলটি জাতীয়তাবাদ, সেক্যুলার বা ধর্মভিত্তিক এ ধরনের কোনো আদর্শকেই সামনে রাখতে চায় না।

তাহলে দলটি কোন আদর্শ বা লক্ষ্যের কথা বলছে?

‘আমরা এখানে সাম্য, ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের কথা বলছি। এটাকেই হাইলাইট করতে চাই।’

‘একইসাথে একটা রাষ্ট্রে যে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বসবাস করে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে, সেই বহুত্ববাদকে স্বীকার করেই কিভাবে একটা এগ্রিমেন্টের মধ্য দিয়ে এগোনো যায় যেভাবে আমরা অভ্যুত্থানে এগিয়েছি, সেইটা হচ্ছে আমাদের মূল ফোকাস পয়েন্ট।’

‘আমরা ডানের দিকেও ঝুঁকবো না, বামের দিকেও ঝুঁকবো না। সাম্য, ন্যায়বিচার, সুশাসনকে ঘিরে আমরা হবো একটা মধ্যপন্থী দল যেন আমরা সব ধরনের মানুষকে ধারণ করতে পারি।’

বলছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাঙালি কিংবা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতি যেমন আছে, তেমনি ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলও আছে।

বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে দলীয় প্রচার এবং কৌশলে অনেকসময়ই ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে এক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা ধর্মভিত্তিক–– এরকম কোনো পরিচয়ে ঢুকতে চায় না ছাত্রদের সম্ভাব্য নতুন দল।

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা অধিকারের রাজনীতি, দায় ও দরদের রাজনীতি এগুলোকে সামনে নিয়ে আসবো যাতে এখানে নির্দিষ্ট কোনো মত বা ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে না ওঠে।’

‘এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে শুধু বাংলাদেশ, এই দেশের মানুষের অধিকার এবং রাষ্ট্র গঠনের কাজ। এখানে যেকোনো ধর্মের মানুষ, যেকোনো মতের মানুষ, যেকোনো আদর্শের মানুষ তার নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে।’

সফল হতে এরদোগান, ইমরান খান ও কেজরিওয়ালে নজর
আদর্শ যেটাই হোক, ছাত্রদের নতুন দল কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারবে সেটা আগে থেকে বোঝার উপায় নেই। তবে এটাও ঠিক গত ৪০ বছরে নতুন তৈরি হওয়া কোনো দল নির্বাচনী মাঠে সেভাবে সুবিধা করতে পারেনি।

তবে বাংলাদেশে না হলেও গত কয়েক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতায় আসার নজীর আছে।

যার মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তুরস্কের রজব তাইয়্যেব এরদোগানের একে পার্টি, পাকিস্তানের ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি।

সফলতার মন্ত্র খুঁজতে ছাত্ররাও নতুন এই তিনটি দলের কর্মসূচি, সাংগঠনিক কাঠামো ইত্যাদি যাচাই-বাছাই করছে।

জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এসব দল কিভাবে জনগণের কাছে জনপ্রিয় হতে পেরেছে সেগুলো খতিয়ে দেখছেন তারা।

‘এই পার্টিগুলো আসলে কীভাবে জনগণের কাছে গিয়েছে, জনগণের ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে তারা কোন ধরনের কৌশল নিয়েছে, তাদের গঠনতান্ত্রিক কাঠামোটা কেমন -এসব বিষয় আমরা স্টাডি করছি।’

‘আমরা বোঝার চেষ্টা করছি ওই অঞ্চলের তরুণদের বোঝার ক্ষেত্রে এবং রাজনীতি বোঝার ক্ষেত্রে তারা কী চিন্তা-ভাবনা নিয়ে এসেছে যেটা ওই দেশের লোকজন গ্রহণ করেছে এবং তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে শাসনক্ষমতার দায়িত্ব দিয়েছে।’

‘এখানে দেখবেন এরদোগানের পার্টি কিন্তু ফোকাস করেছে ইনসাফের ওপর। তার নামই হচ্ছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। যেটা আমরাও বলছি।’

‘আমরা ন্যায়বিচারের কথা বলছি, সুশাসনের কথা বলছি। অন্যদিকে ভারতের আম আদমি পার্টি দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে। দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম করেছে। আমরা সেগুলোও দেখছি,’ যোগ করেন আলী আহসান জুনায়েদ।

নেতৃত্বে কারা?
দলটির শীর্ষ পদে কে বসবেন সেটা এখনো প্রকাশ্য নয়। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এ পদে আসতে পারেন এমন গুঞ্জন প্রবল। সেক্ষেত্রে উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন তিনি।

তবে শীর্ষপদে যিনিই দায়িত্ব পান না কেন এটা নিশ্চিত যে তিনি হবেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া তরুণদেরই কেউ একজন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে দলটির পুরো নেতৃত্বের কাঠামোয় কি শুধু তরুণরাই থাকবে, নাকি অভিজ্ঞদেরও জায়গা হবে?

এক্ষেত্রে তরুণদের প্রাধান্য থাকলেও অভিজ্ঞদের দলের নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে স্থান দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যিবরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মুজমদার।

‘তরুণদের পাশাপাশি সিনিয়র সিটিজেনও অনেকে আছেন যারা আমাদের সাথে রাজনীতি করতে ইচ্ছুক। আমরা বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক ও সিভিল সোসাইটিভিত্তিক যারা আছেন কিংবা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন- এরকম মানুষদেরও আমরা আমাদের নতুন রাজনৈতিক দলে আনার প্রক্রিয়ায় আছি।’

‘যেমন আমাদের উপদেষ্টা প্যানেলে তরুণরা থাকবে, সিনিয়ররাও থাকবে। আবার দলের অন্যান্য কমিটিতেও তরুণদের পাশাপাশি সিনিয়ররাও থাকবেন।’

সব ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহেই আসবে ছাত্রদের নতুন দল। তবে এমন এক সময়ে নতুন দলটি আসতে যাচ্ছে যখন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

সেটা হলে খুব দ্রুতই নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে নতুন দলকে।

সেক্ষেত্রে শুরুতে দেশের সবগুলো সংসদীয় আসনে দলটি প্রার্থী দেবে কি-না বা সে সক্ষমতা আছে কি-না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও এখন সব আসনেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা বলছেন সম্ভাব্য নতুন দলের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

নাগরিক কমিটির নেতারা মনে করছেন, রাজনৈতিক যাত্রায় অভ্যুত্থানের পক্ষের দলগুলোকে তারা পাশে পাবেন। তবে কোনো জোটের অংশ হওয়া বা ভোটের আগে নির্বাচনী ঐক্য তৈরির চিন্তা আপাতত নেই। কারণ এককভাবেই বড় রাজনৈতিক দল হয়ে উঠতে চান তারা।

সূত্র : বিবিসি

রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিতকে না পুড়িয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া যেভাবে হলো

০

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থলে গড়ে তোলা রামমন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহন্ত সত্যেন্দ্র দাসকে হিন্দু ধর্মীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সাধারণ রীতিতে না পুড়িয়ে ‘জল সমাধি’ দেয়া হয়েছে।

গত বুধবার লখনউয়ের একটি হাসপাতালে ৮৫ বছর বয়সী সত্যেন্দ্র দাস মারা যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরযূ নদীতে তার লাশ ডুবিয়ে দেয়া হয়।

এদিন সত্যেন্দ্র দাসের দেহাবশেষ তার বাসভবন থেকে পালকিতে করে সরযু নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তুলসীদাস ঘাটে তাকে পানিতে সমাহিত করা হয়।

এর আগে, বিকেলে তার লাশ নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয়। শোভাযাত্রায় তার লাশ রথে নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করা হয়।

তার উত্তরসূরী প্রদীপ দাস ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, রামানন্দী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী দাসকে পানিতে সমাহিত করা হবে। এর প্রক্রিয়া হিসেবে তিনি বলেন, ‘দেহের সাথে ভারী পাথর বেঁধে মাঝ নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হয়।’

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় তিনি পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে যখন সরকার পুরো প্রাঙ্গণটির নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন তাকে অস্থায়ী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত করা হয়।

সূত্র : দ্য ‍প্রিন্ট