Home Blog Page 513

খালেদা জিয়ার বাসা বালুর ট্রাক দিয়ে অবরোধ : সাবেক ওসি রিমান্ডে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে ২০১৩ সালে বালুর ট্রাক রাখার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গুলশান থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বর্তমানে রফিকুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগে কর্মরত আছেন।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক রায়হানুল ইসলাম সৈকত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে ২০১৩ সালে বালু ও ময়লার ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় গত ৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য মো: শরীফুল ইসলাম গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না করে ২০১৪ সালে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রোসি কর্মসূচি দেয়া হয়। কর্মসূচিতে যেন খালেদা জিয়া যেতে না পারেন সেজন্য তার বাসার সামনে বালু ও ময়লার ট্রাক দিয়ে আটকে দেয়া হয়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করা হয়।

সূত্র : বাসস

গণমাধ্যমসহ আরও চার সংস্কার কমিশন গঠন

বিভিন্ন খাত সংস্কারে গণমাধ্যমসহ আরও ৪টি কমিশন গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনগুলোর প্রধান হিসাবে চারজনের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিশনের প্রধান জাতীয় অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ, গণমাধ্যম কমিশনের প্রধান কলামিস্ট কামাল আহমেদ, শ্রমিক অধিকার কমিশনে সুলতান উদ্দিন আহমেদ এবং নারীবিষয়ক কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক। ৭-১০ দিনের মধ্যে কমিশন চারটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। এ সময় জানানো হয়, জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রত্যেক শহিদপরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, কমিশনপ্রধানদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৭-১০ দিনের মধ্যে সদস্য নির্বাচন করে নতুন চারটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে ভুয়া খবর বা ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাত সংস্কারে ছয়টি কমিশন গঠন করে। এগুলো হলো-সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মাহফুজ আলম বলেন, জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রত্যেক শহিদ পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে এ টাকা দেওয়া হবে। পরে যাচাই-বাছাই করে যদি আরও প্রয়োজন হয়, তাও দেওয়া হবে। তিনি জানান, জুলাই-আগস্টে যারা শহিদ হয়েছেন, শুধু তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। যারা আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আহতদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আগামী সপ্তাহে একটি দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আহত কাউকে যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। যদি আরও বেশি হয়, আমরা তা করব। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আবারও স্পষ্ট করা হচ্ছে, আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে তাদের বিনা পয়সার চিকিৎসার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা পয়সা দিয়েছেন, সেটা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব: আইন উপদেষ্টা

২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে বলে জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে বন্দি বিনিময় চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই চুক্তি ভারত মানলে তাদের শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। এই চুক্তি সঠিকভাবে মানলে তারা শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য।
ঢালাও মামলার বিষয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, বিগত সরকারের সহযোগিতায় হতো গায়েবি মামলা। এগুলো পুলিশ করত। মামলাগুলো তৎকালীন বিরোধীদলের লোকদের বিরুদ্ধে হতো। এখন হচ্ছে ঢালাও মামলা। যারা পূর্বে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল তারাই এই মামলা করছে। এই মামলাগুলোতে যাতে নিরাপরাধ লোক শাস্তি না পান সে বিষয়ে কাজ করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে ড. নজরুল বলেন, বর্তমান সরকার আগ বাড়িয়ে কিছু করবে না। তবে তাদের নিষিদ্ধ করার দাবি বড় হয়ে উঠেছে। জনপ্রত্যাশা তৈরি হলে নিষিদ্ধ করা হবে। তারা অতীতে কি কাজ করেছে তা সব গণমাধ্যমে এসেছে। দেশবাসী দেখেছে।
নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য শিগগিরই সার্চ কমিটি গঠিত হবে বলে জানান তিনি।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আমরা পুরোটাই বাতিল করার প্রক্রিয়ায় আছি। মানুষ এই নামগুলোই শুনতে পারে না।
সাকিব আল হাসানের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাকিবের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটার বাংলাদেশে আর আসে নাই। কিন্তু যখন আন্দোলন চলে মানুষ মরছে সাকিব তখন পোস্ট দিলো সে কোথাও এনজয় করছে এমন।
তিনি বলেন, এয়ারপোর্টে গেলে প্রবাসীদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করা হতো আগে। আমার স্বপ্ন ছিল তাদের ভিআইপি সুবিধা দেবো। আমি উদ্যোগ নিয়েছি তাদের জন্য আলাদা একটা লাউঞ্জ হবে। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এটা হবে।

ভারতের উপর কানাডা নিষেধাজ্ঞা জারি করলে কোন দেশের বেশি ক্ষতি হবে

কানাডা ও ভারতের মধ্যে যে সঙ্কট দেখা গেছে তার শেষটা ঠিক কোথায়, তা অনুমান করা সহজ নয়। আগামী বছরের অক্টোবর মাসে কানাডায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। জাস্টিন ট্রুডো যদি আবারো নির্বাচনে জেতেন, তাহলে ভারত সম্পর্কে তার অবস্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কমই রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি জানিয়েছিলেন, ভারতের সাথে ও দেশের বর্তমান সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কাছে বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। তার মধ্যে একটা হলো, ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শিখ নেতারাও ভারতের উপর প্রতিবন্ধকতা বা নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি তুলছেন। এই তালিকায় থাকা নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জগমিত সিং, যার সমর্থন নিয়ে জাস্টিন ট্রুডোর সরকার প্রায় চার বছর ধরে চলেছিল।

সেপ্টেম্বর মাসে জাস্টিন ট্রুডোর সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন জগমিত সিং। তবে ভারতের সাথে কানাডার উত্তেজনা বাড়ার পর আবারো জাস্টিন ট্রুডোর সাথে দেখা যাচ্ছে তাকে।

চলতি সপ্তাহের সোমবার একটা সাংবাদিক সম্মেলনে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতা না করার জন্য ভারত সরকারকে দায়ী করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

এদিকে, খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যা মামলায় কানাডার অবস্থান নিয়ে ভারতও ব্যাপক ক্ষুব্ধ। দিল্লিতে কানাডিয়ান মিশন থেকে ছয়জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে ভারত এবং কানাডা থেকে হাইকমিশনারসহ অন্যান্য কূটনীতিকদেরও প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে কানাডার পাল্টা দাবি, ছয়জন ভারতীয় কূটনীতিককে তাদের পক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কে যে চরম অবনতি ঘটেছে এই বিষয়টা বেশ স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন হলো এই আবহে কানাডা যদি ভারতের বিরুদ্ধে সত্যিই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে কে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

দুই দেশের সম্পর্ক কতটা গভীর
দুই দেশের বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন এমন অনেকের মতে, ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কের চেয়েও ভারত-কানাডার সম্পর্ক এই মুহূর্তে বেশি খারাপ।

মার্কিন থিংক ট্যাংক ‘দ্য উইলসন সেন্টার’-এর দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানও মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে কানাডার সাথে ভারতের সম্পর্ক ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের চেয়েও খারাপ।

তবে ভারতের স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্স বিশেষজ্ঞ ব্রহ্মা চেলানি তেমনটা মনে করেন না।

বৃহস্পতিবার ইংরেজি নিউজ চ্যানেল ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র এক অনুষ্ঠানে চেলানিকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে ভারত ও কানাডার মধ্যে সম্পর্ক ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের চেয়ে খারাপ হয়েছে। কানাডা ও ভারতের সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এখনো অনেকটাই গভীর। ভারত ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য ক্রমশ বাড়ছে। কানাডার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কিন্তু এমন কিছুই নেই।’

‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউট’-এর সিনিয়র ফেলো তনভি মদন। কানাডার সাথে ভারতের সম্পর্ক যে ভারত-পাকিস্তানের সমীকরণের চাইতেও বেশি খারাপ, সেটা মানতে তিনিও নারাজ।

ব্রহ্মা চেলানির মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুনরায় পোস্ট করে তানভি মদন লিখেছেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে কেউ একজন যৌক্তিকভাবে এই তত্ত্ব খারিজ করেছেন যে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের চেয়েও বেশি খারাপ হয়েছে ভারত-কানাডার সম্পর্ক। ১০ লাখ ভারতীয় পাকিস্তানে বসবাস করেন না। পাকিস্তানের পেনশন তহবিল ভারতে বিনিয়োগ করছে না এবং পাকিস্তান-ভারত বাণিজ্য গত এক দশকে ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়নি।’

কানাডিয়ান পেনশন ফান্ডের ভারতে বিনিয়োগ
ভারত থেকে লাখ লাখ পড়ুয়া কানাডায় শিক্ষা লাভের জন্য যান। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের নথি অনুসারে, ভারতের দুই লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ওই দেশে পড়াশোনা করছেন। ১৮ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ কানাডার নাগরিক এবং ১০ লাখ ভারতীয় ওই দেশে বসবাস করেন।

প্রসঙ্গত, কানাডা সেই দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় বাস করেন। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয়দের কাছে কানাডা একটা গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মাঝে উত্তেজনা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপর।

অন্যদিকে, এটাও উল্লেখযোগ্য যে ভারতীয় পড়ুয়ারা সে দেশে শিক্ষাগ্রহণের জন্য যাওয়ার ফলে কানাডা আর্থিকভাবে উপকৃত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে কানাডা যদি ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে যে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, সেটা ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কানাডিয়ান পেনশন ফান্ডের কোটি কোটি ডলার ভারতে বিনিয়োগ করা হয়। কানাডিয়ান পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড এবং সে দেশের অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট সাত হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

ভারত উদীয়মান অর্থনীতির দেশ এবং এমনটা আশা করা হয় যে কানাডিয়ান পেনশন ফান্ডের ওই বিনিয়োগ এখনই বন্ধ হবে না।

অন্যদিকে, ভারতে কানাডার ৬০০টিরও বেশি সংস্থার উপস্থিতি রয়েছে। ১০০০-এরও বেশি কানাডিয়ান সংস্থা সক্রিয়ভাবে ভারতের সাথে ব্যবসা করছে।

কানাডায় ভারতীয় সংস্থাগুলো তথ্যপ্রযুক্তি, সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইস্পাত, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ব্যাংকিং সেক্টরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

ব্যবসায়িক সম্পর্কের নিরিখে কার পাল্লা ভারী
ভারত প্রধানত কানাডায় রত্ন, গয়না, মূল্যবান পাথর, ওষুধ, তৈরি পোশাক, জৈব রাসায়নিক এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য রফতানি করে থাকে। আর কানাডা থেকে ডাল, নিউজপ্রিন্ট, কাঠের মণ্ড, অ্যাসবেস্টস, পটাশ, লোহার স্ক্র্যাপ, তামা, খনিজ এবং শিল্প রাসায়নিক আমদানি করা হয় ভারতে।

ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেশন এজেন্সি (ইনভেস্ট ইন্ডিয়া) অনুসারে, ভারতে বিদেশী বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে কানাডার স্থান রয়েছে ১৮ নম্বরে।

২০২০-২০২১ থেকে ২০২২-২০২৩ পর্যন্ত ভারতে কানাডার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৩১ কোটি ডলার। যদিও কানাডার এই বিনিয়োগ ভারতের মোট এফডিআইয়ের মাত্র অর্ধ শতাংশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারত সরকারের এক সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, ‘কানাডার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে এই মুহূর্তে আমরা উদ্বিগ্ন নই। কানাডার সাথে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য খুব একটা বড় নয়। কানাডার পেনশন ফান্ডের যে অর্থ ভারতে বিনিয়োগ করা হয় তা রিটার্নের উপর ভিত্তি করে। ভারত ভালো রিটার্ন পাচ্ছে। তাই আমরা এটা নিয়েও চিন্তিত নই।’

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কানাডা ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮৪০ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মেরি এনজি সোমবার বলেন, ‘আমি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমাদের সরকার ভারতের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রকৃত সমস্যা কি প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো
আগস্ট মাসে কানাডা ভারতে ২৭.৯০ কোটি ডলার অর্থমূল্যের রফতানি করেছিল এবং ভারত থেকে আমদানি করেছিল ৩২.৪ কোটি ডলারের। এই সংখ্যা গত বছরের অগাস্ট মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।

অজয় বিসারিয়া ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কানাডায় ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন। ইংরেজি পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এর কোনো প্রভাব পড়বে। ভারতের সমস্যা ট্রুডো, কানাডা নয়। দুই দেশই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে বাণিজ্য, ভিসা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকা উচিৎ নয়।’

২০২২ সালের মার্চ মাসে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে চুক্তি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। গত বছর পর্যন্ত এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নয় দফা আলোচনা হলেও এখন সমস্ত আলাপ-আলোচনা বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে বিষয়টা শুধুমাত্র ব্যবসা নিয়েই নয়। গণতন্ত্রে নির্বাচনে জেতার জন্য বেশি ভোটের প্রয়োজন হয় এবং ভোট ব্যাংকের রাজনীতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভাবাবেগের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়।

২০২১ এর পরিসংখ্যান বলছে, কানাডার জনসংখ্যার ২.১ শতাংশ শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত। ২০০১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত, গত ২০ বছরে কানাডায় শিখ জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষা, ক্যারিয়ার, চাকরির মতো কারণে পাঞ্জাব থেকে কানাডায় পাড়ি দিয়েছেন।

কানাডায় বসবাসরত শিখ জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভারে বাস করে। শিখ ভোটব্যাংককে মাথায় রেখে এই সমস্ত এলাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো তার রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে কানাডায় খালিস্তান সমর্থকদের পক্ষে কথা বলছেন।

প্রসঙ্গত, জগমিত সিংয়ের দল নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থন নিয়েই চলছিল ট্রুডোর সরকার। সেপ্টেম্বর মাসে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তবে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলেও সংসদে আস্থা প্রস্তাবে জয় লাভ করতে সক্ষম হন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো।

২০২৫ সালের অক্টোবরে কানাডায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং জাস্টিন ট্রুডো চান কানাডায় বসবাসকারী শিখ সম্প্রদায় তাকে সমর্থন করুক। সূত্র : বিবিসি

ছুটি বাড়ল ঈদ-পূজার

আগামী বছর ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং দুর্গাপূজায় দুই দিন ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আগামী বছরের (২০২৫ সাল) জন্য সরকারি এ ছুটির তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১২ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির সিদ্ধান্ত হয়।
জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ১২ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। এর মধ্যে পাঁচ দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। তালিকা অনুযায়ী দুই ঈদে একদিন করে সাধারণ ছুটি থাকবে। ঈদের আগে পরে মিলিয়ে বাকি দিনগুলো নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে বিজয়া দশমীর দিন। তার আগে নবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। বর্তমানে ঈদের ছুটি তিন দিন ও দুর্গাপূজার ছুটি একদিন। তবে কোনো কোনো বছর নির্বাহী আদেশে ঈদের ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। এই বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্তমান সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি এক দিন বাড়িয়েছিল। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব করে, যা গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পায়।

হামাস প্রধান ইয়াহয়িাকে হত্যা, বাইডনে বললনে ‘শুভ দিন’

চলমান উত্তজেনার মধ্যে এবার হামাস প্রধান ইয়াহয়িা সনিওয়ারকে হত্যা করছেে ইসরাইল। যার প্রশংসা করছেনে র্মাকনি প্রসেডিন্টে জো বাইডনে। বৃহস্পতবিার হামাস নতোর মৃত্যুর দনিকে ‘বশ্বিরে জন্য শুভ দনি’ হসিবেওে উল্লখ্যে করছেনে বাইডনে। সইে সঙ্গে জানয়িছে,ে ইয়াহয়িা নহিতরে ফলে গাজা যুদ্ধবরিতি ও জম্মিি চুক্তরি একটি মূল বাধা এখন সরে গছে।ে
এদকিে র্বতমান ভাইস প্রসেডিন্টে ও আসন্ন র্মাকনি নর্বিাচনে প্রসেডিন্টে র্প্রাথী কমলা হ্যারসি হামাস প্রধানরে মৃত্যু নয়িে বলছেনে, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালরে হামলার মাস্টারমাইন্ডকে ইসরাইলরে এ হত্যা ‘অবশষেে গাজা যুদ্ধরে অবসান’ করার একটি সুযোগ তরৈি করে দয়িছে।ে
এ ব্যাপারে এক লখিতি ববিৃততিে প্রসেডিন্টে বাইডনে ইসরাইলকে সর্মথন জানয়িে বলনে, ‘এটি ইসরাইলরে জন্য, র্মাকনি যুক্তরাষ্ট্ররে জন্য এবং বশ্বিরে জন্য একটি ভাল দনি।’ সইে সঙ্গে বাইডনে জানান, তনিি খুব শীঘ্রই ইসরাইলরে প্রধানমন্ত্রী বনেঞ্জামনি নতোনয়িাহুকে একটি অভনিন্দন র্বাতা পাঠাবনে। এবং জম্মিদিরে মুক্তি ও এই যুদ্ধ একবোরে শষে করার জন্য উপযুক্ত পথ নয়িে আলোচনা করবনে।
বাইডনে আরও বলনে, ‘গাজায় হামাসকে ক্ষমতায় না রাখার সুযোগ তরৈি হয়ছে।ে একটি রাজনতৈকি মীমাংসার মাধ্যমে ইসরাইলি ও ফলিস্তিনিদিরে জন্য একটি ভাল ভবষ্যিৎ প্রদান করা যাব।ে কনেনা, ইয়াহয়িা সনিওয়ার এতদনি সইে সব লক্ষ্য র্অজনরে পথে এক অপ্রতরিোধ্য বাধা ছলি। সইে বাধা আর নইে। কন্তিু আমাদরে সামনে অনকে কাজ বাকি আছ।ে’
এদকিে ইয়াহয়িার মৃত্যুর পর ফলিস্তিনিে মৃত্যু বন্ধ করার আহŸান জানয়িছেনে কমলা হ্যারসি। তার মত,ে ‘এই মুর্হূতটি আমাদরে গাজার যুদ্ধ শষে করার সুযোগ দয়ে। এর অবসান হওয়া উচতি যাতে ইসরাইল নরিাপদ থাক,ে জম্মিদিরে মুক্তি দওেয়া হয়, গাজার র্দুভােগ শষে হয় এবং ফলিস্তিনিি জনগণ তাদরে র্মযাদা, নরিাপত্তা, স্বাধীনতা এবং আত্মনয়িন্ত্রণরে অধকিার উপলব্ধি করতে পার।ে’

তিন দেশে হামলায় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাটাকিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল সকালের দিকে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। একই দিনে ইয়েমেনে অত্যাধুনিক বোমারু বিমান বি-৫২ থেকে হুতিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক মাস ধরে লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত চলছে; এর মাঝেই ইয়েমেনে এ হামলা চালাল মার্কিন সামরিক বাহিনী। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সিরিয়া, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অন্যতম মিত্রশক্তি হিসেবে পরিচিত। ১ অক্টোবর ইসরায়েলে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এ ছাড়া প্রায় প্রতিদিন ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলি ভূখ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের লাবোউনে গ্রামে নিজেদের পতাকা উত্তোলন করেছে ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইসরায়েলের সেনারা। ভিডিওতে পতাকা উত্তোলনের সময় ইসরায়েলি সেনাদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। ওই ফুটেজে এক সেনা হাত মুঠো করে উচ্ছ¡াস প্রকাশ এবং পতাকা উত্তোলন উদ্যাপন করেন। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনারা হয়তো প্রতীকীভাবে তাদের উপস্থিতি এবং শক্তির জানান দিতে চেয়েছে। খবরে বলা হয়, একটি স্মৃতিস্তম্ভে এ ঘটনা ঘটানো হয়, যেটি ২০০৬ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের সমাপ্তির স্মারক হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল। খবরে এও আশঙ্কা করা হয়, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকা সীমান্ত এলাকার উত্তেজনা আরও বাড়াবে। এদিকে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধারা জানায়, ইসরায়েল-অধিকৃত শেবা ফার্মের লেবানন-সিরিয়া সীমান্তবরাবর আল-সাদানায় ইসরায়েলি সেনাদের সমাবেশ লক্ষ্য করে এক দফা হামলা চালিয়েছে তারা।
ইরানের হুঁশিয়ারি : ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান হোসেন সালামি আবারও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল যদি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় তবে দেশটিকে আবার জবাব দেওয়া হবে। গতকাল বিপ্লবী গার্ডসের জেনারেল আব্বাস নিলফোরুশানের জানাজায় অংশ নিয়ে হোসেন সালামি এ হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, ‘আপনারা (ইসরায়েল) যদি ভুল করে ফেলেন এবং এ অঞ্চলে বা ইরানে আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালান, তবে আমরা আবারও যন্ত্রণাদায়ক হামলা চালাব।’ আরেক খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, হিজবুল্লাহর নৌশক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। তাদের হাতে ইসরায়েলে হামলা চালানো সম্ভব নেভাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ একটি গোপন নৌ ইউনিট তৈরি করেছে। তবে আইডিএফ তাদের সক্ষমতার কিছু অংশ ধ্বংস করেছে। এর পরও তাদের অত্যাধুনিক সক্ষমতা রয়ে গেছে। তাদের কাছে উপকূলে অভিযান ও জাহাজে হামলা চালানোর মতো অস্ত্র রয়েছে। এ ছাড়া হিজবুল্লাহর উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, হুতিদের ব্যবহৃত নৌ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখে পশ্চিমা অনেক গোয়েন্দা সংস্থা অবাক হয়েছে। এটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্ষমতা রয়েছে; যা ব্যাপক উচ্চতা থেকে তীক্ষè কোণে জাহাজের ওপর নেমে আসে। ফলে নেভাল আয়রন ডোম দিয়ে এর মোকাবিলা করা নতুন চ্যালেঞ্জ।

অর্জুনের সঙ্গে বিচ্ছেদের জল্পনায় মালাইকা

বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা ও আরবাজ খানের ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষ হওয়ার পর অর্জুন কাপুরের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক শুরু করেছিলেন অভিনেত্রী। তবে, স¤প্রতি শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবস্থা নাকি বেশ নাজুক। গুঞ্জন উঠেছে, অর্জুন-মালাইকার সম্পর্কে নাকি তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি ঘটেছে, যা তাদের সম্পর্কের ছন্দপতনের কারণ হতে পারে।
বাবার মৃত্যুর পর জীবনের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। কিন্তু অর্জুনের সঙ্গে বিচ্ছেদ সম্পর্কে কখনওই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মালাইকা। তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলার আগ্রহ দেখাননি অর্জুনও।
স¤প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আমার জীবনে যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি তা নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই। ওই সিদ্ধান্তগুলো আমার জীবনের রূপরেখা তৈরি করেছে। যা কিছু ঘটছে এবং যে ভাবে সবটা আমার চলার রাস্তায় এসেছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
মালাইকা ও অর্জুনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, সম্পর্ক ভাঙলেও, নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখবেন এই তারকা জুটি। সেই সূত্রের কথায়, ‘তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটা স্থায়ী হল না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাদের মধ্যে কোনো তিক্ততা তৈরি হয়েছে। তারা সব সময় পরস্পরকে শ্রদ্ধা করেছেন এবং সব সময় পাশে থেকেছেন। সম্পর্কে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়টিকেই ওঁরা সব সময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

ইমরানের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্য, ২০ বছর পর মুখ খুলেন মল্লিকা

দুই যুগ আগে মুক্তি পেয়েছিল বক্স অফিসে সফলতা পাওয়া ছবি ‘মার্ডার’। এই সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিলেন ইমরান হাশমি এবং মল্লিকা শেরাওয়াত। পরিচালনা করেছিলেন অনুরাগ বসু এবং প্রযোজনা করেছিলেন মুকেশ ভাট। মুক্তির পর সিনেমাটির রসায়ন এবং অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা তীব্র হয়।
তবে এরপর আর কোনও চলচ্চিত্রে জুটি বাঁধা তো দূর, একসঙ্গে কাজও করেননি তারা। বরং তিক্ত থেকে তিক্ততর হয় দুজনের সম্পর্ক। প্রকাশ্যেও একে অপরের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করতে দেখা গেছে তাদের। তবে সেসব বিবাদ মিটেছে বলেই মনে হচ্ছে এখন।
২০ বছর পর প্রযোজক আনন্দ পণ্ডিতের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে মুখোমুখি দেখা হতেই পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেন ইমরান ও মল্লিকা। পাপারাজ্জিদের সামনে হাসিমুখে পোজও দেন তারা, সঙ্গে চলে সামান্য খুনসুটি।
এবার এক সাক্ষাৎকারে তাদের দীর্ঘ বছরের ঝামেলার মূল কারণ ফাঁস করলেন মল্লিকা শেরাওয়াত।
ইমরান হাশমির সঙ্গে তার ঝগড়ার প্রসঙ্গে মল্লিকা বলেন, ‘সেই সময় আমাদের দু’জনেরই বয়স অল্প। অল্পতেই মাথা গরম হয়ে যেত, দুজনেরই ইগো ছিল অনেকটাই। সঙ্গে বোকাও ছিলাম আমরা। এবং সেই সুযোগটাই নেয় ইন্ডাস্ট্রির অনেক মানুষ। আসলে এখানে কুমন্ত্রণা দেওয়া মানুষের অভাব নেই সেটাই হয়েছিল আমাদের ক্ষেত্রে। ’
সামান্য থেমে ইমরানের বিষয়ে মল্লিকা ফের বলে ওঠেন, ‘মানুষ হিসাবে ইমরান অসাধারণ খুব ভদ্র। মার্ডার সিনেমার শুটিংয়ে আমার সঙ্গে সেই সব ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ও নিজের চূড়ান্ত ভদ্রতাবোধ দেখিয়েছিল আমার বিন্দুমাত্র অস্বস্তি হতে দেয়নি। সেই সিনেমার পর থেকে আজ পর্যন্ত অভিনেতা হিসেবে নিজেকে যেভাবে ভেঙেচুরে গড়েছে ইমরান এক কথায় তা অবিশ্বাস্য।’
ভবিষ্যতে ফের একসঙ্গে জুটি বাঁধতে চান জানিয়ে মল্লিকা আরও বলেন, ‘আমি তো ভীষণভাবে চাই ইমরানের সঙ্গে জুটি বেঁধে ফের একবার পর্দায় আসতে। এরকম সুযোগের অপেক্ষায় আছি। দেখা যাক।’ উল্লেখ্য, মল্লিকাকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘ভিকি-বিদ্যা কা বো ওয়ালা ভিডিও’ সিনেমায়। সদ্যই মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। বেশ লম্বা সময় পর পর্দায় হাজির হলেন অভিনেত্রী।

টাকা না দিলে বাবার থেকেও খারাপ হাল হবে সালমানের, বিষ্ণোই গ্যাং

ফের সালমান খানকে হুমকি দিয়ে চিঠি দিয়েছে প্রভাবশালী গ্যাং বিষ্ণোই। মুম্বাই ট্রাফিক পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপে সালমানকে হত্যা করার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে এই গোষ্ঠিটি। এই হুমকি পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ।
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, বৃহস্পতিবার মুম্বাই ট্র্যাফিক পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বরে হুমকি-চিঠিটি পাঠানো হয়। চিঠিতে লেখা হয়, সালমান খানের পরিণতি বাবা সিদ্দিকির চেয়েও খারাপ হবে। বিষয়টি হালকা ভাবে নেবেন না। যদি সালমান খান বেঁচে থাকতে চান আর লরেন্স বিষ্ণোইর সঙ্গে শত্রুতার অবসান চান, তবে তাকে ৫ কোটি টাকা দিতে হবে। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারির সুরে ওই বার্তায় লেখা হয়েছে, যদি টাকা না দেওয়া হয়, তবে সালমান খানের অবস্থা বাবা সিদ্দিকির চেয়েও খারাপ হবে।
কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ রয়েছে সালমানের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার প্রতিশোধস্বরূপই বিষ্ণোই দল তাকে একাধিকবার প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছে। কয়েক মাস আগে সালমানের বাড়ির সামনে কয়েক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার নেপথ্যেও বিষ্ণোই গোষ্ঠীর হাত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। অন্যদিকে, গত ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের নিকটবর্তী বান্দ্রায় এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকে তার দপ্তরের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করেছে।
মুম্বাই পুলিশ জানায়, এই খুনের পিছনেও রয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই দলের হাত। বাবার সঙ্গে বরাবরই সুসম্পর্ক ছিল সালমানের। তার জন্যই শাহরুখ খানের সঙ্গে ফের মিটমাট হয়েছিল সালমানের। বিভিন্ন সমস্যায় বলিউড পাড়ায় প্রায়ই মুশকিল আসানের ভূমিকা পালন করে এসেছেন বাবা। প্রতি বছর ইফতারে পার্টির আয়োজন করতেন সাবেক এই কংগ্রেস নেতা বাবা। বলিউডের চাঁদের হাট বসত সেই পার্টিতে।
গত এপ্রিল মাসে সালমান খানের বাড়িতে গুলি বর্ষণের ঘটনায় মূলচক্রকারী লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের শার্পশুটা সুখাকে আটক করে পুলিশ। বহুদিন ধরে পুলিশের চোখের আড়ালে গা ঢাকা দিয়েছিলেন শুটার শুখা। এএনআই সংস্থার থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার অবশেষে হরিয়ানার পানিপথ থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মুম্বাইয়ে।
সালমানের বাড়ি গ্যালাক্সিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় স¤প্রতি সালমানের বয়ান রেকর্ড করেছে মুম্বাই পুলিশ। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে পুলিশের সঙ্গে কথা হয় সালমানের। শুধু সালমানই নয়, এই ঘটনায় সালমানের ভাই আরবাজেরও বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা যায়।