নিউইয়র্ক (ইউএনএ): বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য নিয়ে নিউইয়র্কে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘শারদীয় দুর্গোৎসব’ উদযাপিত হলো। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত পূজা মন্ডপগুলোতে ঢাক, কাঁসর, ঘণ্টা, শঙ্খ আর উলুর ধ্বনির মাধ্যমে পূজাকর্ম পালন করা হয়। শারদীয় উৎসবকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে যেমন আনন্দ উৎসব, তেমনই পূজা মন্ডপগুলোতে নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমাগম ঘটে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রং বে রং-এর নতুন নতুন পোষাক পড়ে পূজা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ফলে পূজামন্ডপগুলোএবং এর আশাপাশ এলাকায় ভিন্ন পরিবেশ বিরাজ করে। প্রতিদিনের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো পূজা অর্চনা, আরতী, দিনভর প্রসাদ বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে ‘শারদীয় দুর্গোৎসব’ অনুষ্ঠাগুলোতে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী ‘সেলিম-আলী’ ও ‘রুহুল-জাহিদ’ প্যানেলের প্রার্থীরা যোগ দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। এসময় তারা দোায়া কামনার পাশাপাশি ভোট প্রার্থনাও করেন। খবর ইউএনএ’র।
বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কয়ারে শারদীয় দুর্গাপূজা
এদিকে নিউইয়র্কের সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসাহ উদ্দীপনায় বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কয়ারে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হলো শারদীয় দুর্গাপূজা। ফলে ভিন্ন রূপ নিয়েছিল টাইমস স্কয়ার (৪৫ ও ৪৬ স্ট্রিটের মাঝে ব্রডওয়ের ওপর)। এ অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন ছিল বেঙ্গলী ক্লাব ইউএসএ ও হিন্দু কমিউনিটি অব নিউইয়র্ক। গত ৫ ও ৬ অক্টোবর যথাক্রমে শনি ও রোববার টাইমস স্কয়ারে দুর্গাপূজা, নবরাত্রি/দুসেরা উদযাপন করা হয়। টাইমস স্কয়ারে দু’দিনই মন্ডপ খোলা ছিল সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। শত শত প্রবাসী সপরিবারে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিতাংশু গুহ। অনুষ্ঠানে দুর্গোৎসবে দশ বিশিষ্ট প্রবাসী বাঙালীকে বিশেষ সম্মাণনা সম্মাননা জানানো হয়। তাঁরা হলেন ড. কালী প্রসাদ চৌধুরী, সুশীল সাহা, স্বপন চ্যাটার্জি, রথীন্দ্রনাথ রায়, রতন তালুকদার, কুমার বিশ্বজিত, ড. দেবাশীষ মৃধা, প্রবীর রয়, তাজুল ইমাম ও মনোরঞ্জন চক্রবর্তী (মরণোত্তর)। অনুষ্ঠানের প্রধান স্পন্সর আশা হোম কেয়ার সার্ভিস-এর কর্ণধার আকাশ রহমান ও এশা রহমান বলেন, আগামীতে এমন পূজায় তারা সবসময় পাশে থাকবেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার ও দীনেশ মজুমদার।
টাইমস স্কয়ারের দুর্গাপূজা সকালে তিথি মেনে পূজা হয়, অঞ্জলী চলে দুপুর পর্যন্ত। প্রসাদ বিতরণ, খিচুড়ি/লাবড়া সবই ছিলো। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ ছাড়াও কলকাতা ও প্রবাসের শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ছিলো দীপ চ্যাটার্জি’র লাইভ কনসার্ট। নিউইয়র্কেওর অনুপ দাশ ড্যান্স একাডেমির শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শারমিনা সিরাজ।
সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ ইউএসএ ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ১২ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত পূজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উডসাইডের দিব্যধাম সেবাশ্রম মন্দিরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্মকান্ড চলে। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলো বিজয়া দশমীতে ‘মহিলাদের সিদুঁর খেলা’। এই আয়োজনের উল্লেখযোগ্য কর্মকতা ছিলেন চেয়ারম্যান শ্রী প্রবীর কুমার রায়, সভাপতি প্রভাষ চন্দ রায়, মেম্বার সেক্রেটারী স্বপন ধর, সাধারণ সম্পাদক বিজয় বিশ্বাস, পূজা কমিটির আহŸায়ক ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর বিশ্বাস ও সদস্য সচিব নারায়ন দেবনাথ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, নিউইয়র্ক: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, নিউইয়র্ক উডসাইডের গুলশানট্যারেসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ৯ অক্টোবর বুবার থেকে ১২ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত এসব অনুষ্ঠান। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় পূজা পর্ব। অনুষ্ঠানমালা চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। এবারের পূজা সফল করায় পরিষদের সভাপতি বিকাশ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক নিত্যন্দন রায় সংশ্লিস্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পূজা সমিতি অব নিউইয়র্ক: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ পূজা সমিতি অব নিউইয়র্ক গত ১২ ও ১৩ অক্টোবর ফ্রেসমেডোর গুজরাটি সমাজ হলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পূজা পর্ব ছাড়াও অনুষ্ঠানমালার মধ্যে বেলা ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ছিলো অঞ্জলী, বেলা ২টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবারের পূজা সফল করায় সংশ্লিস্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সমিতির সভাপতি রনজিৎ পরকায়স্ত বিজু ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কে পাল।
ওম শক্তি মন্দির: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ওম শক্তি মন্দির ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ১২ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গনে পূজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পূজা অর্চনা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো: দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূষ্পাঞ্জলী, বেলা আড়াইটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মহাপ্রসাদ, সন্ধ্যা ৭টায় আরতি এবং রাত ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এবারের পূজা সফল করায় মন্দির কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ রায় ও সাধারণ সম্পাদক স্বরূপ সাহা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ ইউএসএ: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত সংঘ ইউএসএ সংগঠনের কার্যালয়ে ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ১২ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত পূজা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মঙ্গলবারের কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো দুর্গাষষ্ঠী, বুধবার ছিলো সপ্তমী, বৃহস্পতিবার ছিলো মহাষ্টমী ও সন্ধি পূজা, শুক্রবার ছিলো মহানবমী আর শনিবারের কর্মসূচী ছিলো দশমী।
এছাড়াও হরিচাঁদ গুরুচাঁদ আন্তর্জাতিক মতুয়া মিশন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ১২ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত সাউথ রিচমন্ড হীলের শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।
অপরদিকে হিন্দু মিলন মেলা নিউইয়র্ক, উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে সার্বজনীন দুর্গোৎসবের আয়োজন করে। ১২ অক্টোবর শনিবার থেকে ১৪ অক্টোবর সোমবার পর্যন্ত এখানে পূজা অনুষ্ঠান চলে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো: মহাষষ্টী ও মহাসপ্তমী, মহা অষ্টমী এবং মহানবমী ও বিজয়া দশমী। এই অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পী ছাড়াও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানমালা চলে। এই আয়োজনের উল্লেখযোগ্য কর্মকতা ছিলেন চেয়ারম্যান ডা. আশোক সাহা, প্রধান উপদেষ্ঠা গোপাল সাহা, সভাপতি আর পি দত্ত স্বপন, আহŸায়ক রঞ্জিত দেব, যুগ্ম আহŸায়ক ভবতোষ মিত্র, প্রধান সমন্বয়কারী সুমিতা বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক রূপক নন্দী ও সদস্য সচিব অসীম চন্দ্র দাস।
বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কয়ারে প্রথমবারের মতো শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন
বাবা সিদ্দিকী খুনের পর হাসপাতালে বলি তারকাদের ভিড়
বিনোদন ডেস্কঃ ভারতের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকী আততায়ীদের গুলিতে মারা গেছেন। গতকাল শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মুম্বাইয়ের খের নগরে নিজের ছেলের অফিসের সামনে বাবা সিদ্দিকীর ওপর গুলি চালায় তিন দুষ্কৃতকারী। এ সময় লীলাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে এসেছিলেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান, সঞ্জয় দত্ত, শিল্পা শেঠি, জাহির ইকবাল প্রমুখ।
এদিকে বাবা সিদ্দিকীর হত্যার খবর শোনামাত্রই শনিবার গভীর রাতে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ছুটে যান ভাইজান সালমান খান, অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি ও অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত।
মুম্বাই পুলিশ দ্রæত এ নেতার হত্যার তদন্তকাজ শুরু করছে। পুলিশ ভাবছে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সম্ভাব্য জড়িত থাকার বিষয়টিও।
বাবা সিদ্দিকী বলিউড অভিনেতা সালমান খানের খুব ঘনিষ্ঠ। সবসময় ভাইজানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শেয়ার করে নিতেন তিনি। এর আগে যখন লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন সালমান, তখনো পাশে ছিলেন বাবা সিদ্দিকী।
সালমান শনিবার হাজির হয়েছিলেন লীলাবতী হাসপাতালে। চোখমুখ থমথমে ছিল এ অভিনেতার। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল ভোরে বান্দ্রায় সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় দুই বন্দুকবাজ। মুম্বাই পুলিশের পেশ করা চার্জশিটে বলা হয়েছেÑ সালমান খানের বান্দ্রার বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ভিকি গুপ্তা ও সাগর পালের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছিলেন জেলবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই।
সালমান বিগত সময়ে একাধিকবার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগীদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন। এবং যেখানে বলা হয়েছে যে, নিহত গায়ক সিধু মুসেওয়ালার মতো তারও একই পরিণতি হবে। সালমান যখন থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন, তখন থেকেই অভিনেতার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সুরক্ষার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন বাবা সিদ্দিকী।
এদিকে পাপারাজ্জিদের অ্যাকাউন্ট থেকে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় শিল্পা শেঠি দৃশ্যত চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না। গাড়ির মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এ সময় স্বামী রাজ কুন্দ্রাকেও দেখা যায়Ñ এই কঠিন সময়ে স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে।
গোটা ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে রীতেশ দেশমুখ বলেন, ‘এই জঘন্য অপরাধের অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে’।
বান্দ্রা পশ্চিমের তিনবারের বিধায়ক বাবা সিদ্দিকী কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়ে চলতি বছরের ফেব্রæয়ারিতে অজিত পাওয়ারের এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তৃতীয় অভিযুক্ত পলাতক। পুলিশ সূত্রেই আরও জানা গিয়েছে যে, বাবা সিদ্দিকীকে ১৫ দিন আগে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যার পরে তার নিরাপত্তা ওয়াই ক্যাটাগরিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
আমরা সবসময় শয়তানের ওপর দোষ চাপিয়ে বাঁচতে চাই: তাসনিয়া ফারিণ
বিনোদন ডেস্কঃ বিনোদন জগতের ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। সাবলীল অভিনয় দিয়ে অল্প সময়েই হয়েছেন দর্শকপ্রিয়। নাটক ছাড়াও কাজ করেছেন একাধিক ওয়েব ফিল্মেও। এ ছাড়া কাজ করেছেন কলকাতার সিনেমাতেও। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব থাকেন এ অভিনেত্রী। সবসময় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন সম্পর্কে ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করে নেন তিনি। এবার আলোচনায় এলেন মানুষ ও শয়তানের তুলনা করে ।
গতকাল শনিবার (১২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট তাসনিয়া ফারিণ। সেখানে তিনি লিখেছেনÑআমরা সবসময় শয়তানের ওপর সব দোষ চাপিয়ে বাঁচতে চাই। অথচ মানুষ কিন্তু শয়তানের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ মানুষ তার অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখে না। আর যারা রাখেন, তাদের ওপর শয়তান কখনো আছর করতে পারে নাÑ আপনি কোন দলে?
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) একটি ওটিটি মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘চক্র’। সদ্য প্রকাশিত ওয়েব সিরিজ ‘চক্র’-এর সন্ধান দিয়েছেন এ অভিনেত্রী। এ স্ট্যাটাসটি যে অভিনেত্রীর কাজের প্রচারণা, সেটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। কেননা এমন মন্তব্যই সে কথা বলে।
সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এ সিরিজটি। আর এ সিরিজে কাজ করতে গিয়েও বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী ফারিণ। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেনÑ এ কাজটি করার সময় বেশ কিছু দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলাম। একপর্যায়ে মনে প্রশ্ন জাগেÑকাজটি করা আমার ঠিক হচ্ছে কিনা? এরপর অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে চক্র আসছে। এটাই আনন্দের। এ অভিনেত্রী বলেন, তবে কাজের অভিজ্ঞতা বলতে গেলে আমি বলবÑএ সিরিজের শুটিংয়ে আমাদের সবারই কমবেশি বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। যেমন আমরা যেখানে বা যেই হাউসটিতে শুটিং করি, সেখানে প্রথম যেদিন গিয়েছিলাম, সেদিনই আমার ভেতরে নেগেটিভ কিছু বিষয় উপলব্ধি হয়।
ফারিণ বলেন, শুটিং চলাকালীন আমি একবার কারণ ছাড়াই অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর আমাদের নির্মাতা ভিকি ভাইয়ার পা ভেঙে যায়। তারপর শুটিং চলাকালীন আমি প্রতিনিয়ত দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকি। তারপর আমাদের শুটিং ইউনিটের অনেকেই কারণ ছাড়া আমাদের সেট থেকে চলে যাচ্ছিলেন, যেটির ব্যাখ্যা আসলে আমরা এখনো পাইনি। তিনি বলেন, তাই শুটিংয়ের ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে এখন আর খুব বেশি কথা বলতে চাই না।
এ অভিনেত্রী বলেন, সবশেষ আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধÑ চক্র ওয়েব সিরিজটি দেখবেন। কারণ এ কাজটি আমরা অনেক পরিশ্রম করে করেছি, যা বোঝার জন্য অবশ্যই এটি দেখতে হবে। আশা করি হতাশ হবেন না।
‘চক্র’-এর প্রধান দুই চরিত্রে আছেন তাসনিয়া ফারিণ ও তৌসিফ মাহবুব। এতে আরও অভিনয় করেছেন শাহেদ আলী, মারশিয়া শাওন, একে আজাদ সেতু, মাসুদুল মাহমুদ রোহান প্রমুখ।
দুই যুগ পর বেতারে আঁখি আলমগীর
বিনোদন ডেস্কঃ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। স্টেজ শো ও টিভি অনুষ্ঠান নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। নতুন গানও করছেন নিয়মিত। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিল্পী হিসাবে নিবন্ধিত হন তিনি। কিন্তু নানা ব্যস্ততায় নিবন্ধিত শিল্পী হলেও বেতারে গান গাইতে পারেননি। একের পর এক প্লে-ব্যাক, স্টেজ শো ও অডিও অ্যালবাম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ডাক আসলেও বেতারে গান গাওয়া হয়ে উঠেনি।
এবার প্রায় দুই যুগ পর বেতারে ফের গাইলেন তিনি। সম্প্রতি বেতারে একটি গানের রেকর্ডিং সম্পন্ন করেছেন এ শিল্পী। গানের শিরোনাম ‘ভালোবেসে আর ভুল করব না’। লিখেছেন ফজলুল হক সিদ্দিকী ও সুর করেছেন মোহাম্মদ সাদেক আলী। এ প্রসঙ্গে আঁখি আলমগীর বলেন, ‘দুই যুগেরও বেশি সময় পর সম্প্রতি বেতারের জন্য গাইলাম। এই দীর্ঘ বিরতির জন্য বেতার কর্তৃপক্ষ দায়ী ছিলেন তা কিন্তু নয়। আবার আমিও দায়ী নই। স্টুডিওতে গিয়ে আমার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করেছে। কেন এত দিন গাইনি! মাঝে বেতার থেকে আমাকে কয়েকবার ডাকা হয়েছিল, সময় দিতে পারিনি। তারা হয়তো মনে করেছিলেন, আমি উৎসাহী নই। পরে আমিও যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব, সেটাও হয়ে ওঠেনি। এবার রেকর্ডিং দিতে গিয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টায় সম্পন্ন হয় কাজ। এরপরও আমি সাত-আট ঘণ্টা বেতারে ছিলাম-অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, আড্ডা হয়েছে। খুব দারুণ একটা সময় পার করেছি।’
এদিকে গানে এ শিল্পীর তিন দশক পূর্ণ হলো কিছুদিন আগে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে মানুষ চেনে, আমার গান ভালোবাসে, জাতীয়ভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছি, এগুলোই তো বড় পাওয়া।’
মালয়েশিয়ায় ভবনধসে বাংলাদেশির মৃত্যু
মালয়েশিয়ার মেলাকা রাজ্যে শুক্রবার ভবনধসে মারা গেছেন জিদান নামে এক বাংলাদেশি তরুণ প্রবাসী শ্রমিক। ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। কর্তৃপক্ষের বরাতে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে নির্মাণের কোন অনুমোদনই ছিল না সেই ভবনের। এমনকি এখনো শনাক্ত করা যায়নি প্রকৃত মালিককেও।
মেলাকা সিনিয়র এক্সকো ফর হাউজিং, লোকাল গভর্নমেন্ট, ড্রেনেজ, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, দাতুক রইস ইয়াসিন বলেছেন, ভবনটির মালিককে চিহ্নিত করা যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির তদন্তে দেখা গেছে যে তারা কোনো নির্মাণ আবেদন না করেই এসওপি লঙ্ঘন করেছে।
তার মতে, অবৈধ নির্মাণকাজ যাতে কর্তৃপক্ষের নজরে না পড়ে সেজন্য মালিকপক্ষ নির্মাণ এলাকা ঘিরে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
তিনি বলেন, ভবনটির পেছনে একটি অবৈধ অতিরিক্ত ভবন নির্মাণকালে এর সামনের ভবনটি পাইকারি সুপার মার্কেট ও বিক্রয় গ্যালারি হিসেবে কাজ করত। যে তথ্য পেয়েছি তা থেকে, আমরা এখনও বিল্ডিংয়ের মালিককে চিনি না। তাই কাউন্সিল (ঐতিহাসিক মেলাকা সিটি কাউন্সিল) অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।
শনিবার বিকেলে জালান বুকিত সেনজুয়াং-এ ধসে পড়া বিল্ডিং পরিদর্শন করার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কোন আবেদন প্রক্রিয়া নেই, আমি নিশ্চিত যে পুলিশ ভবনের ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিকেও চিহ্নিত করবে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ডিপার্টমেন্টের (জেবিপিএম) মেলাকা, আর সাইফুল ইসওয়ান্দি আর হাসান। পায়া রামপুট স্টেট অ্যাসেম্বলির একজন সদস্যও বলেছেন যে এমবিএমবিসহ রাজ্যের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ (পিবিটি) কঠোরভাবে নজরদারি চালিয়ে যাবে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।
থামলেন মাহমুদউল্লাহ, শেষ হলো পঞ্চরত্নের যুগ
শেষটা মনে রাখার মতো হলো বটে, তবে এমন করে মনে রাখতে চাননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চেয়েছিলেন টেস্টের মতো মাথা উঁচু করে বিদায় নিতে, মনে রাখার মতো কিছু উপহার দিতে। তবে হলো না তার কিছুই। নেই কোনো প্রাপ্তি, আছে কেবল আক্ষেপ-হাহাকার।
গতকাল কেমন এক ইতিহাসের অংশ হয়ে গেল বাংলাদেশ, যা কখনোই চায় না কেউ। মাহমুদউল্লাহর বিদায়ী ম্যাচের আবহ ভুলিয়ে ভারত আগে ব্যাট করে তুলল ৬ উইকেটে ২৯৭ রান, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
রান প্রসবা হায়দ্রাবাদে রান হবে জানাই ছিল। সেভাবেই প্রস্তুত ছিল দর্শক-সমর্থকেরা। তবে রানের এমন স্রোতে যে ভেসে যাবে বাংলাদেশ, তা হয়তো ভাবেনি কেউ। কেউ না ভাবলেও ঘটেছে তেমনই। সাঞ্জু স্যামসন ও সূর্য কুমার মিলে ‘মাহমুদউল্লাহর’ উপলক্ষটা করে দিলেন ভীষণ পীড়াদায়ক।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি খেলা সাবেক এই অধিনায়কের জন্য ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচটা জিততে চেয়েছিল দল। মাহমুদউল্লাহ নিজেও চেয়েছিলেন দলকে একটা জয় উপহার দিয়ে যেতে।
বিদায় বেলায় অবশ্য মাহমুদউল্লাহর জ্বলে উঠা নতুন কিছু নয়। ২০২১ সালে হারারেতে অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই সাদা পোষাকের ক্রিকেট ছেড়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। আজও তেমন কিছু হয়তো চেয়েছিলেন তিনি।
তবে এদিন আর তার ইচ্ছে পূরণ হয়নি। মাহমুদউল্লাহর প্রাপ্তি বলতে এই ম্যাচে একটা উইকেট। বল হাতে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্য কুমারকে ফেরান তিনি৷ যদিও নিজের দুই ওভারে দিয়েছেন ২৬ রান৷ ব্যাট হাতে যেতে পারেননি দুই অংকের ঘরে, থেমেছেন ৯ বলে ৮ রানে।
শেষ ম্যাচে না পারলেও মাহমুদউল্লাহ ক্যারিয়ার জুড়ে এমন কিছু করেছেন, যা তাকে মনে রাখতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে নিদাহাস ট্রফির সেই ছক্কাটা হয়ে থাকবে ট্রেড মার্ক।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাহমুদউল্লাহর অভিষেক হয় ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর। গতকাল শেষবার যখন মাঠে নামেন, তার মাঝে পেরিয়ে গেছে ১৭ বছর ৪১ দিন। সময়ের হিসাবে যা টি-টোয়েন্টিতে কোনো ক্রিকেটারের তৃতীয় দীর্ঘতম ক্যারিয়ার।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা দখলে রেখেই টি-টোয়েন্টি ছাড়ছেন মাহমুদউল্লাহ। সব দেশ মিলিয়ে যা তৃতীয় সেরা। সংখ্যায় ১৪১। উপরে কেবল রোহিত শর্মা (১৫৯) ও পল স্টার্লিং (১৪৭)।
এই সময়ে ২৩.৫০ গড়ে মাহমুদউল্লাহ রান করেন ২৪৪৪। যা দেশের জার্সিতে কোনো ক্রিকেটারের দ্বিতীয় সেরা রান। এই সময়ে তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১১৭.৩৪। ইনিংস সর্বোচ্চ করেন ৬৪* রান। সব মিলিয়ে ফিফটি সংখ্যা ৮টি।
বল হাতেও পরিসংখ্যান মন্দ নয়। আছে ৭.১৬ ইকোনমিতে ৪১ উইকেট। ১০ রানে ৩ উইকেট ইনিংস সেরা।
তাছাড়া দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও তার দখলে। ৭৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচসেরার দৌড়ে দেশের হয়ে দুইয়ে মাহমুদউল্লাহ। পাঁচবার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ১২ বার ম্যাচসেরা হয়ে শীর্ষে সাকিব।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ৪৯টি জয়ের অংশ ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যা দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্যারিয়ারে মোট ২৬ বার অপরাজিত ছিলেন রিয়াদ। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
অধিনায়ক হিসেবেও রেকর্ড করেছেন মাহমুদউল্লাহ। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ৩৯ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে দুইয়ে সাকিব আল হাসান। তবে ম্যাচ জয়ে দুজনেই সমানে সমান। তাদের নেতৃত্বে ১৬টি করে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
মাহমুদউল্লাহর এই থেমে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটা যুগ। পঞ্চরত্নের শেষ ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জার্সি তুলে রাখলেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশ নারী দল
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের চতুর্থ ও শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ।
এই হারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলো টাইগ্রেসরা। ৪ ম্যাচে একটি জয় ও দুটি হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানে আছে বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্টে একমাত্র জয়টি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পেয়েছিল বাংলাদেশ। স্কটিশদের ১৬ রানে হারিয়ে ১০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের দেখা পেয়েছিলো নিগার সুলতানার দল।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই ওপেনার দিলারা আকতারকে (০) হারায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় উইকেটে সাবধানে খেলে ৪৫ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন আরেক ওপেনার সাথী রানী ও সোবহানা মোস্তারি। একটি করে চার-ছক্কায় ৩০ বলে ১৯ রান করেন সাথী।
এরপর তৃতীয় উইকেট জুটি থেকেও দ্রুত রান পায়নি বাংলাদেশ। ৫৬ বলে ৪৫ রান যোগ করেন সোবহানা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা। চারটি বাউন্ডারিতে ৪৩ বলে ৩৮ রানে আউট হন সোবাহানা।
ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত রান তুলেছেন নিগার। তারপরও ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৬ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
দুটি চারে ৩৮ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন নিগার। দক্ষিণ আফ্রিকার মারিজান কাপ-অ্যানেরি ডারকসেন ও ননকুলুলেকো ম্লাবা একটি করে উইকেট নেন।
১০৭ রানের টার্গেটে ১৬ বল বাকি রেখেই স্পর্শ করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের পক্ষে তাজমিন ব্রিটস ৪২, অ্যানেকে বোশচে ২৫ ও ক্লো ট্রাইয়ন অপরাজিত ১৪ রান করেন। বাংলাদেশের লেগ স্পিনার ফাহিমা খাতুন ১৮ রানে দুটি ও পেসার রিতু মনি ২২ রানে ১ উইকেট নেন।
সূত্র : বাসস
রোনালদোর তিনে পর্তুগালের তিন
প্রায় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই বয়সেও অপ্রতিরোধ্য রোনালদো। এখনো ছুটছেন তিনি, তার সাথে ছুটছে তার দলও। নেশন্স লিগে টানা তিন ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছেন রোনালদো, আর তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে পর্তুগাল।
শনিবার উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছে রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। তাতে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের ১ নম্বর গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে পর্তুগাল।
এদিন বের্নার্দো সিলভা সফরকারীদের এগিয়ে নেয়ার পর ব্যবধান বাড়ান রোনালদো। পিওতর জেলেনস্কির গোলে স্বাগতিকরা নাটকীয়তার সম্ভাবনা জাগলেও, শেষ দিকে তাদের আত্মঘাতী গোলে তা আর হয়নি।
প্রথম দুই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া ও স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর শনিবার পর্তুগালের সামনে পড়ে পোল্যান্ড। যেখানে দুই দলেত ছাপিয়ে লড়াইটা ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও রবার্ট লেভানডফস্কির। যেখানে শেষ হাসি রোনালদোরই।
১০ম মিনিটেই জালের দেখা পেতে পারতেন রোনালদো। কিন্তু সেসময় তার শট ফিরে আসে পোস্টের উপরের বারে লেগে। এর মাঝে ২৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন সিলভা। ব্রুনো ফার্নান্দেজের অ্যাসিস্ট থেকে বুলেটগতির শটে গোল করেন তিনি।
৩৭তম মিনিটে দলকে ফের উল্লাসে ভাসান রোনালদো। গোলটির পেছনে বড় কৃতিত্ব আছে রাফায়েল লেয়াওয়ের। মাঝমাঠ থেকে দারুণ দক্ষতায় বল বের করে আনেন তিনি। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে জড়াতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি সিআর সেভেনকে।
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরের পর পোল্যান্ডের বিপক্ষে এটি তার প্রথম গোল। সময়ের হিসেবে ১৭ বছর পর। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে ২১৫ ম্যাচে এটা রোনালদোর ১৩৩তম গোল। ক্লাব ফুটবলসহ সংখ্যাটা ৯০৬।
প্রথমার্ধ শেষ হয় পর্তুগালের ২-০ তে এগিয়ে থেকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে ব্যবধান আরো বাড়ানোর পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে তিনি শট না নিয়ে ব্রুনোকে বল বাড়ালে সুযোগ হাতছাড়া হয়।
এর মাঝে পোল্যান্ড ৭৮ মিনিটে একটি গোল শোধ করে। গোলটি করেন ইন্টার মিলান মিডফিল্ডার পিওতর জেলিনস্কি। তাতে ম্যাচে ফেরাএ আশা দেখতে থাকে পোল্যান্ড। তবে ৮৮তম মিনিটে তাদের সব আশা শেষ হয়ে যায় নিজেদেরই ভুলে।
গোলমুখে প্রতিপক্ষের পায়ে বল যাওয়া আটকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই ঠেলে দেন ডিফেন্ডার ইয়ান বেদনারেক। তাতে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জয় পায় পর্তুগিজরা।
ইসরাইলের চাপ সত্ত্বেও জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষীরা লেবাননে থাকবে
জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী বলেছে, ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাদের অবস্থান ত্যাগ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা সত্ত্বেও শান্তিরক্ষীরা লেবাননে থাকবে।
লেবাননে জাতিসঙ্ঘ অন্তর্বর্তী বাহিনী বা ইউনিফিলের মুখপাত্র আন্দ্রেয়া টেনেন্টি শনিবার বলেছেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী শান্তিরক্ষীদের ‘ব্লু লাইন বরাবর অবস্থান থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত’ সরে যেতে বলেছে। তবে সেখানে থাকার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল।’
ব্লু লাইন হলো লেবানন এবং অধিকৃত অঞ্চলের মধ্যে সীমানা রেখার জন্য ব্যবহৃত শব্দ।
টেনেন্টি বলেন, ‘ইসরাইলের আক্রমণ দক্ষিণ লেবাননে তাদের অবস্থানের অনেক ক্ষতি করেছে। কাজ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে কারণ ঘাঁটির ভেতরেও অনেক ক্ষতি হয়েছে।’
টেনেন্টি সতর্ক করে বলেন, লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন খুব শিগগিরি একটি আঞ্চলিক সংঘর্ষে পরিণত হতে পারে যার প্রভাব হবে বিপর্যয়কর।’
আলাদা এক বিবৃতিতে ইউনিফিল বলেছে, শুক্রবার গভীর রাতে বন্দুকের গুলিতে একজন শান্তিরক্ষী আহত হওয়ার পাশাপাশি নাকোরায় তাদের সদর দফতর আবার আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে জানোন হয়েছে, গুলিবিদ্ধ ওই শান্তিরক্ষীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
সূত্র : প্রেস টিভি
৭ অক্টোবর হামলা : হিজবুল্লাহ-ইরানকে সাথে চেয়েছিল হামাস
চলমান যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে। যুদ্ধটি আরো আগেই শুরু হওয়ার ছিল। কিন্তু হামাস নেতারা এর পক্ষে ইরান ও হিজবুল্লাহর সহযোগিতা চাচ্ছিল। তাদের সাথে বোঝাপাড়া প্রলম্বিত হওয়ায় হামলাটা দেরিতে হয়েছে।
শনিবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক নানা সংবাদমাধ্যম এ জাতীয় তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেছে টাইমস অব ইসরাইল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, হামাস হামলাটি ৯/১১ ধরনে করতে চেয়েছিল। সেজন্য আরো দুই বছর আগ থেকে দলটি নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের পর্যায়ে একাধিক বৈঠক করেছে। ওসব বৈঠকে হামলার রসদ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। এছাড়া হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সাথেও নানা চিঠির আদান-প্রদান হয়েছিল।
শনিবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট বিস্তৃত ১০টি সভার কার্যবিবরণী বিশদ বিবরণ দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে খান ইউনিসের হামাস নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে একটি কম্পিউটারে বিষয়টি আবিষ্কৃত হয়েছিল।
টাইমস বলেছে, এই কম্পিউটার থেকে উদ্ধার করা তথ্যের মাধ্যমে নথিগুলোর সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পৃথক এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র : টাইমস অব ইসরাইল


