Home Blog Page 522

অস্ট্রেলিয়া বধে পাকিস্তানের একাদশে ৫ পেসার

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে আগামীকাল মাঠে নামছে পাকিস্তান। ম্যাচ শুরু সকাল সাড়ে ৯টায়। যেই ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তানে শুরু হবে অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়ের প্রথমেই বড় চমক দিয়েছে পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের জন্য একাদশ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। যেখানে জায়গা হয়েছে ৫ পেসারের।
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) হওয়া এ ম্যাচে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অভিষেক হতে যাচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ ইরফান খানের। সেই সঙ্গে পেস বিভাগে থাকছেন তিন অভিজ্ঞ তারকা- শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও তরুণ মোহাম্মদ হাসনাইন।
পাকিস্তানের মতো একাদশ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। আর এই সিরিজ দিয়েই বিশ্বকাপের পর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামছেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের একাদশ: সাইম আইয়ুব, আব্দুল্লাহ শফিক, বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান (অধিনায়ক), কামরান গুলাম, সালমান আলি আগা, ইরফান খান, শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও মোহাম্মদ হাসনাইন।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: ম্যাট শর্ট, জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক, স্টিভেন স্মিথ, মার্নাস লাবুশেন, জশ ইংলিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অ্যারন হার্ডি, শন অ্যাবট, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক ও অ্যাডাম জাম্পা।

২৪ বছর পর ঘরের মাঠে টেস্টে ধবলধোলাই ভারত

ভারতের হোয়াইটওয়াশ হওয়া ঠেকাতে দলটির সমর্থকরা তাকিয়ে ছিল ঋশভ পান্তের ব্যাটে। এই ব্যাটার আশাও দেখাচ্ছিলেন। তবে মধ্যাহ্নভোজের পর আর পারেননি। এই ব্যাটার ৬৪ রানে সাজঘরে ফেরার পরই লেখা হয়ে যায় ভারতে হোয়াইটওয়াশ।
বাকি ব্যাটাররা কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছেন। তবে তাতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানো যায়নি। ঘরের মাঠে ২৪ বছর পর টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ভারত। ভারতকে নিজেদের মাটিতে এই লজ্জা উপহার দিয়েছে সফরকারী নিউজিল্যান্ড।
আরে আগে ২০০০ সালে একমাত্র দল হিসেবে ভারতকে তাদেরই মাটিতে ধবলধোলাই করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেটি ছিল দুই ম্যাচের সিরিজ। তিন বা তার চেয়ে বেশি ম্যাচের সিরিজে এবারই প্রথম হোয়াইটওয়াশ হলো ভারত। যা দলটির ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ঘটনা।
আগেই সিরিজ খুইয়ে বসা ভারতকে শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে করতে হতো ১৪৭ রান। যেই লক্ষ্যে সুবিধা করতে পারেনি ভারত। ওয়াংখেড়ে লক্ষ্যটা আপাত দৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও উইকেট ততক্ষণে স্পিন স্বর্গে পরিণত হয়েছে।
সেই উইকেটে ভারতকে চেপে ধরেন কিউই বোলাররা। ২৯ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। এরপর ঋশভ পান্ত এসে পাল্টা আক্রমণ চালান কিউই বোলারদের ওপর। তার ব্যাটেই জয়ের স্বপ্ন দেখছিল দলটি। তবে মধ্যাহ্নভোজের পর পাল্টে যায় খেলা। ফের ভারতীয় ব্যাটারদের চেপে ধরেন কিউই বোলাররা।
পান্ত ৬৪ রানে থামার পর ওয়াশিংটন সুন্দর রবিচন্দ্রন অশ্বিন টিকতে পারেননি। আকাশ দীপ শূন্য রানে ফিরলে ১২১ রানে থামে ভারতের ইনিংস। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ জেতে ২৫ রানে। যেখানে কিউইদের হয়ে একাই ৬ উইকেট শিকার করেছেন আজাজ প্যাটেল। গ্লেন ফিলিপসের শিকার ৩ উইকেট।

শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উদযাপিত

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী শ্যামা (কালী) পূজা ও দীপাবলি আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে পূজামন্ডপগুলোতে ছিল দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কালীপূজা এবং পুষ্পাঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত শ্যামাপূজা বা কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। খবর বাসস।
হিন্দু পূরাণ মতে, কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালীপূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সব অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয় হয়। কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্য মা, তারা মা, চামুন্ডি, ভদ্রকালী, দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। কালীপূজা উপলক্ষে হিন্দু স¤প্রদায় সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্বালন করে স্বর্গীয় পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনদের স্মরণ করেন। এটিকে বলা হয় দীপাবলি।
জানা গেছে, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় শ্যামাপূজা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে সেখানে পূজা ছাড়াও দীপাবলি অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে সহস্র প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। এ ছাড়া রমনামন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, সবুজবাগ শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরান ঢাকার রাধাগোবিন্দ জিঁও ঠাকুরমন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান এবং তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, বাংলাবাজার এলাকার বিভিন্ন মন্ডপ ও মন্দিরে বৃহষ্পতিবার রাতে শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

বীরের বেশে নিজের দেশে ভালোবাসায় সিক্ত হলেন সাফজয়ীরা

দুই তলা বাস। খোলা ছাদ। বাসের ইস্পাতের গায়ে বড় করে লেখা ‘চ্যাম্পিয়ন’। খোলা ছাদে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি হাতে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। মাঝে-মধ্যেই এ ট্রফি হাতবদল হচ্ছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের উদ্দেশে ট্রফি উঁচিয়ে ধরছেন বীরের বেশে নিজের দেশে ফেরা সাবিনা খাতুনরা। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাফুফের দিকে যেতে যেতে পথের দুই ধারে এভাবেই অভিনন্দিত হয়েছেন নারী ফুটবলাররা। অভিনন্দনের জবাবও দিয়েছেন তারা কাক্সিক্ষত ট্রফি দেখিয়ে। অনুচ্চারে নারী ফুটবলাররা যেন বলছিলেন- দেখো, এটা তোমাদেরই জন্য নিয়ে এসেছি। গতকাল সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়তেই বিমানবন্দরে সংবাদকর্মীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। ভিআইপি গেটের পাশে চলে আসে নারী ফুটবলারদের বহনকারী বাস। এরপর থেকেই অপেক্ষা। আড়াইটায় চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা ঢাকায় পা রাখেন। বিমানবন্দরেই তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম। তার সঙ্গে ছিলেন বাফুফের আরও অনেকে। ফুলেল শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত হন সাবিনা, তহুরা, মনিকা, শামসুন্নাহার, আফিদা, ঋতুপর্ণারা। বিমানবন্দরেই সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনেক বছর ফুটবল হেঁটেছে অন্ধকার পথে। সেই পথে ফুটবলারদের খুঁজে পাওয়া ছিল বেশ মুশকিল। একসময় মুন্না-কায়সার-সাব্বিরদের দাপটে আড়ালে পড়ে যেত অন্য সব। তাদের দ্যুতিতে জ্বলমল করত দেশের ফুটবল। এরপর শুরু অন্ধকার যুগ। গত এক দশক ধরে সেই অন্ধকার থেকে ফুটবলকে আলোর পথে নিয়ে আসতে বড় ভূমিকা রেখেছেন নারী ফুটবলাররা। বয়সভিত্তিক দলগুলো একে একে নানা ট্রফি নিয়ে আসে। ফুটবলাররা ধীরে ধীরে বড় হয়েছেন, ট্রফির সংখ্যাও বেড়েছে। বেড়েছে আরও বড় টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ। বয়সভিত্তিক দলগুলোর খেলোয়াড়রা সিনিয়র দলে যোগ হতেই দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বড় শক্তি হয়ে ওঠেন তারা। ২০২২ সালে ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত দেশবাসীকে উপহার দেন সাবিনা খাতুনরা। ভারত, পাকিস্তান আর নেপালের মতো শক্তিগুলোকে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন তারা। চকচকে ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরেন। দুই বছর আগে সাবিনারা দেশে ফিরলে রাস্তার দুই ধারে উপচে পড়ে মানুষ। চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের দেখতে ভিড় জমায় তারা। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় রাজধানী ঢাকা। বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবনে যেতে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। কয়েকজন ফুটবলার উৎসব করতে করতে কিছুটা অসুস্থও হয়ে পড়েন। গতকাল আরও একটা ইতিহাস গড়া দল এলো বাংলাদেশে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার সেরা এক দল সাবিনারা। বাংলাদেশের ছেলেরা যা পারেননি কখনো, তাই করে দেখাল মেয়েদের দল। তবে এবার ২০২২ সালের মতো অতটা আগ্রহ দেখা গেল না। বিমানবন্দরের সামনে প্রধান সড়কে কয়েক শ ফুটবলপ্রেমী এসেছিলেন। তারা লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে অভিবাদন জানান নারী ফুটবলারদের। এরপর যানজট এড়াতে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বাফুফে ভবনের দিকে এগিয়ে যায় চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের বহনকারী বাস।
বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘এই শিরোপা বাংলাদেশের মানুষেরই। শিরোপা জেতাটা বড় কথা নয়, যে ধরনের ফুটবল মেয়েরা খেলেছে, সেটাই আনন্দের জায়গা।’ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের কণ্ঠে শোনা গেল ভবিষ্যতে আরও সাফল্য আনার দৃঢ়তা। তিনি বলেন, ‘আমরা এই শিরোপা জিততে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা দেশের মানুষের কাছে দোয়া চাই। যাতে এমন সাফল্য আরও উপহার দিতে পারি।’ বাংলাদেশের মেয়েরা একের পর এক সাফল্য বয়ে আনুক। কেটে যাক ফুটবলের সব অন্ধকার। সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের জন্য ১ কোটি টাকার বোনাস ঘোষণা করেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিসিবি দিচ্ছে ২০ লাখ টাকা। এ ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা সংবর্ধনা পাবে কাল।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দেশ থেকে চুরির অর্থ ফেরত নিয়ে আলোচনা

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে গতকাল সাক্ষাৎ করেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। সাক্ষাৎকালে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়া ভিসা কেন্দ্র ফিরিয়ে আনা এবং অনিয়মিত অভিবাসন রোধে আলোচনা করেন টনি বার্ক। তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে তাঁর সরকার আলোচনা শুরু করতে চায়।
এ সময় ড. ইউনূস অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রীকে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত অভিবাসন বাড়ানোর আহ্ববান জানান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত অভিবাসন বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশ পুনর্গঠনের কাজটি অনেক বড়। কারণ স্বৈরাচারী শাসন সমস্ত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে এবং অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। প্রত্যাশা মোকাবিলা করা সবচেয়ে কঠিন অংশ। কিন্তু মানুষ ধৈর্যশীল। আমাদের আবার কাঠামো তৈরি করতে হবে।
মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বিদায়ি সাক্ষাৎ : অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ি সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হেলেন লাফেভ। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার তেজগাঁও কার্যালয়ে তাদের এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠককালে একজন শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে লাফেভের দায়িত্ব পালন ও সেবার প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তার আন্তরিক প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি। জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন গণ অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণা করে হেলেন লাফেভ বলেন, ‘আমি ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে খুব গর্বিত’। সাক্ষাৎকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøঙ্কেনের একটি চিঠি অধ্যাপক ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করে হেলেন লাফেভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ ক্যাম্প থেকে উত্তর আমেরিকার দেশে পুনর্বাসন ত্বরান্বিত করছে। বৈঠকে আলোচনার এজেন্ডাভুক্ত ছিল বিচারিক সংস্কার, দক্ষিণ এশীয় বিদ্যুৎ সংযোগ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ, স্বৈরাচারী সরকার আমলে বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা, বেসামরিক আমলাতন্ত্রের সংস্কার এবং শ্রম সমস্যাসহ আরও বিভিন্ন বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে পরামর্শ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে অর্থ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে জানিয়ে লাফেভ বলেন, ‘চুরি করা টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন, কিন্তু এটা অসম্ভব নয়’। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এটি করব’। এ ছাড়া অন্তর্র্বতী সরকার বড় আকারে শ্রম সংস্কার করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা ঢাকা সফর করবেন বলেও জানিয়েছেন হেলেন লাফেভ।

জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আগুন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

জাতীয় পার্টি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সময় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ‘পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক অপতৎপরতা ও দেশবিরোধী চক্রান্তের’ প্রতিবাদে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র শ্রমিক জনতা’ ব্যানারে মশাল মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে জানান বক্তারা। তারা বলেন, রাজনৈতিক অতৎপরতা ও দেশবিরোধী চক্রান্ত এই দেশে হবে না। এরপর তারা জাতীয় পার্টির কার্যালয় ঘেরাও করতে বিজয়নগরে যান। সেখানে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ছাত্র-জনতার। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপরই জাতীয় পার্টিকে জাতীয় বেইমান আখ্যা দিয়ে রাজু ভাস্কর্য থেকে বিজয়নগরের উদ্দেশে মিছিলের ডাক দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আহŸায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুটি স্ট্যাটাস দেন হাসনাত। এতে তিনি জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ আনেন। সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, জাতীয় বেইমান এই জাতীয় পার্টি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিজয়নগরে আমাদের ভাইদের পিটিয়েছে, অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এবার এই জাতীয় বেইমানদের উৎখাত নিশ্চিত। কিছুক্ষণ পর আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, রাজু ভাস্কর্য থেকে সাড়ে ৭টায় মিছিল নিয়ে আমরা বিজয়নগর মুভ করব। জাতীয় বেইমানদের নিশ্চিহ্ন করতে হবে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় জড়ো হলে সেখানে জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিজয়নগর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভে তুলকালাম, সেনাবাহিনী ও পুলিশের গাড়িতে আগুন, দুই শ্রমিক গুলিবিদ্ধ

রাজধানীর মিরপুর-১৪ ও কাফরুল এলাকায় শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মৌসুমি গার্মেন্টের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপরই আশপাশের কারখানার শ্রমিকরাও বিক্ষোভ শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে গার্মেন্ট শ্রমিকদের সংঘর্ষে তুলকালাম কান্ড ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলিবর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ গার্মেন্ট শ্রমিকরা প্রথমে সেনাবাহিনী ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও পরে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গাড়িতে লাগা আগুন নেভান। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এতে আল আমিন হোসেন (১৭) ও মোছা. ঝুমা আক্তার (১৫) নামে দুই শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। গুলিবিদ্ধ দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ঝুমা আক্তারের ডান পায়ে ও আল আমিনের পিঠে গুলি লেগেছে। তারা দুজনই সেন্টেক্স ফ্যাশনস লিমিটেডের কর্মী। আহত আল আমিন জানান, বাড়ি ফেরার সময় মিরপুর-১৪ এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ঝুমার বড় বোন মর্জিনা বেগম জানান, তার বোনের পায়ে গুলি লেগেছে। সেন্টেক্স ফ্যাশনস লিমিটেডের শ্রমিক কবির হোসেন জানান, সংঘর্ষের একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি ছোড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়। আহত আল আমিনের বাবা আবদুর রহমান ও সহকর্মী লিপা আক্তার বলেন, সকালে গার্মেন্টকর্মীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এ অবস্থায় তাদের গার্মেন্ট শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়। পরে তারা গার্মেন্ট থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি ছোড়া শুরু করে। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে আল আমিন ও ঝুমা গুলিবিদ্ধ হন। কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম মোস্তফা জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি ভাঙচুরের পরে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্রমিকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গার্মেন্টের কয়েক শ শ্রমিক বিভিন্ন দাবিতে মিরপুর-১৪ নম্বর কচুক্ষেত সড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষ মিরপুর-১৪ নম্বর থেকে কচুক্ষেত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কের সঙ্গে সংযোগ সড়কগুলোর যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জানা গেছে, তিন দিন আগে মৌসুমি গার্মেন্টে এক নারী শ্রমিককে মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে একজন পুরুষ শ্রমিককেও মারধর করা হয়। গতকাল সকালে শ্রমিকরা কর্মস্থলে গিয়ে গার্মেন্ট বন্ধ দেখতে পান। এ ঘটনার বিচার দাবিতে ও গার্মেন্ট বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ শুরু করেন। সেন্টেক্স ফ্যাশনস লিমিটেডের শ্রমিকরা জানান, মৌসুমি গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ বুধবার রাতে হঠাৎ করেই কারখানা বন্ধ করে দেন। সেজন্য আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে আশপাশের সব কারখানাও ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। তখন সবাই একসঙ্গে রাস্তায় অবস্থান নেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে আল আমিন ও ঝুমা গুলিবিদ্ধ হন।

মার্কিন নির্বাচনের আগেই ইসরায়েলে পাল্টা হামলা: নির্দেশ খামেনির

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের দামামা চলছে। যেকোনো সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। এরইমধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনির নতুন নির্দেশ ঘিরে উত্তেজনার পারদ যেন আরও বাড়লো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনি ইসরায়েলে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে প্রতিশোধ নিতে ইরানজুড়ে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েল দাবি করে, ইরানে তাদের অভিযান সফল হয়েছে এবং তাদের যুদ্ধবিমানগুলো নিরাপদে দেশে ফিরেছে।
এই হামলায় অন্তত চার সেনা নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করে ইরান। যদিও প্রথম দিকে ইরান দাবি করে, ইসরায়েলের হামলায় তাদের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে পরবর্তী সময়ে খামেনি জানায়, ইসরায়েলি হামলায় ক্ষয়ক্ষতি অতিরঞ্জিত বা কম করে দেখানোর কিছু নেই।
হামলায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে খামেনির গত সোমবারের বৈঠকের পরেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের তিনজন কর্মকর্তা।
আলোচনায় খামেনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলি হামলার কোনো জবাব না দেওয়া মানে পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া। ইরানি কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরেই ইসরায়েলে হামলা চালানো হতে পারে।
তবে সূত্রের বরাত দিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন নির্বাচনের আগেই ইসরায়েলে হামলা হতে পারে।
সূত্রের বরাতে বুধবার অ্যাক্সিওস এবং সিএনএন জানিয়েছে, ইরান প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধের যে পরিকল্পনা করেছে তাতে ইসরায়েলে হামলা মার্কিন নির্বাচনের আগেই হতে পারে।
তবে গত সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ইরানকে পাল্টা হামলা না চালানোর আহŸান জানানো হয়।

বাংলাদেশের ‘সমালোচনা’ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট

বাংলাদেশের কঠোর সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে এমন দাবি করে বৃহস্পতিবার টুইটারে পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর হামলার কড়া নিন্দা জানাচ্ছি। যারা উচ্ছৃঙ্খল জনতার দ্বারা হামলা ও লুটের শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে।’
ট্রাম্প তার পোস্টে দাবি করেছেন যদি তিনি প্রেসিডেন্ট থাকতেন তাহলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটত না।
তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বে হিন্দুদের উপেক্ষা করেছেন।
এছাড়া ইউক্রেন থেকে শুরু করে ইসরায়েল এবং নিজেদের দক্ষিণ সীমান্তসহ সব জায়গায় বাইডেন-হ্যারিস ব্যর্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার চোখের সামনে এগুলো কখনও হতো না। কমলা হ্যারিস ও জো বাইডেন হিন্দুদের আমেরিকাসহ পুরো বিশ্বব্যাপী উপেক্ষা করেছেন। ইসরায়েল থেকে ইউক্রেন, আমাদের দক্ষিণ সীমান্তসহ সব জায়গায় তাদের অবস্থা যা-তা। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও শক্তিশালী করব এবং শক্তির মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনব।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘উগ্র বামপন্থিদের ধর্ম বিদ্বেষ থেকে আমরা আমেরিকান হিন্দুদের রক্ষা করব। আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করব। এছাড়া (নির্বাচিত হলে) আমার প্রশাসনের মাধ্যমে ভারত এবং ভালো বন্ধু নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শক্তিশালী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ব।’
গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের তোপের মুখে পড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর ভারত থেকে দাবি করা হয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
আগামী ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী কমালা হ্যারিসের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে গোটা অঞ্চলের শান্তি প্রায় বিপন্ন। নিকটতম বা দূরবর্তী কোনো প্রতিবেশীই ভারতের হাত থেকে নিরাপদ নয়।
ভারতের ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপে’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তান। ভারতের মনোবল এখন এতটাই বেড়েছে যে, তারা এসব কর্মকাণ্ডের কথা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। রাজনাথ সিং আরএসএসের কট্টর মুসলিমবিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী। মোদির মতো তাকেও চরমপন্হা ও মুসলিমবিরোধী মনোভাবের ভিত্তিতে ভারতের চরমপন্থি মহলে পছন্দের প্রার্থী হিসেবে দেখা হয়।
কাশ্মীরে ভারতীয় সন্ত্রাসবাদ বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেও কাশ্মীরিরা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ছাড়ছে না। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে ভারত সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের স্বতন্ত্র মর্যাদা পরিবর্তনের চেষ্টা করে।
সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর গত পাঁচ বছরে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি জনসংখ্যার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাটি গভর্নরের শাসনে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল। কিন্তু এ বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ বিজেপিকে পরাজিত করে তাদের পূর্ণ ঘৃণা প্রকাশ করেছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার অধিকৃত কাশ্মীরে ২০১৪ সালের পর এটিই ছিল প্রথম স্থানীয় নির্বাচন।
দশকের পর দশক ধরে লাখ লাখ সৈন্য কর্তৃক কাশ্মীরি জনগণের ওপর অমানবিক নৃশংসতা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসা ভারত সরকারের অপমানজনক পরাজয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো অঞ্চল কিছু সময়ের জন্য সন্ত্রাস, গুলি এবং জবরদখলের মাধ্যমে দখল করা যেতে পারে কিন্তু স্থায়ীভাবে জনগণের কণ্ঠরোধ করা যায় না। সা¤প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল কাশ্মীর বিরোধকে আরও একবার আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের শিরোনামের অংশ করে তুলেছে।
কাশ্মীরিরা আবারো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীকে বিচারের আওতায় এনেছে এবং তাদের রক্ত দিয়ে এই লড়াইয়ে একটি নতুন রঙ দিয়েছে। অন্যদিকে অধিকৃত কাশ্মীরের পর ভারতীয় সন্ত্রাসের শাখা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে কানাডায়ও ছড়িয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালের জুন মাসে কানাডায় শিখ স্বাধীনতা সংগ্রামী হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যা করা হয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সংসদীয় তদন্তের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ নিয়ে দীর্ঘ কথা বলেছেন
কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছিলেন, তখন সরকার এ তথ্যগুলো জনসমক্ষে আনতে পারত। তবে আন্তর্জাতিক নৈতিকতার কথা মাথায় রেখে আমরা এটা করিনি। বরং তাদের সন্ত্রাসের যাবতীয় প্রমাণ আমরা ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বকে দিয়েছি।
এ ঘটনায় কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর কানাডা সরকার ছয় ভারতীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে এবং তাদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
কানাডার পুলিশ প্রধান মাইক ডেভেহ্যাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, ভারত সরকারের এজেন্টরা কানাডায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত; যা স্থানীয় সমাজ ও নাগরিকদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের হাতে আসা তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়, ভারত সরকারের এজেন্টরা হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনায় জড়িত।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, কানাডায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং কনস্যুলেটগুলো তাদের পদের সুযোগ নিয়ে সরাসরি বা তাদের তথ্যদাতাদের মাধ্যমে গোপন কার্যকলাপে জড়িত ছিল। স্বেচ্ছায় বা জোর করে ভারত সরকারের জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছে। কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, খালিস্তান সমর্থকদের টার্গেট করতে অপরাধী চক্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
ভারতের সন্ত্রাসবাদ শুধু কানাডাতেই সীমাবদ্ধ নয়, গত মে মাসে মার্কিন এফআইএ এজেন্টরা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর নির্দেশে এক আমেরিকান শিখ নাগরিককে হত্যার ষড়যন্ত্র বানচাল করে দেয়।
নভেম্বরে মার্কিন আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গুরপতবন্ত নামে এক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করার জন্য এক ভারতীয় এজেন্ট নিখাল গুপ্তাকে এক লাখ ডলার দিয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহার এ সন্ত্রাসী দেশটির পর্দা উন্মোচন করেছে যা বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিশ্ব নেতৃত্বের স্বপ্নদ্রষ্টা মোদির জানা উচিত নেতৃত্ব বন্দুক, বিস্ফোরণ, হুমকি ও সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে আসে না, আসে শান্তির বাস্তব অভিব্যক্তি থেকে। মোদির ভারত আগেও বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি ছিল এবং আজও একটি বড় হুমকি হয়ে আছে।
বিশ্ব নেতাদের অবশ্যই এর পথ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যে কোনো সময় বিশ্ব শান্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে।