নিজের ভুলেই রিভলভার থেকে আচমকা গুলি বের হয়ে অঘটনের শিকার হন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তড়িঘড়ি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অনেকটা রক্তক্ষরণ হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয় অভিনেতাকে।
মঙ্গলবার ভোরবেলা পায়ে গুলি লেগে আহত হয়েছিলেন তিনি। তাকে মুম্বাইয়ের আন্ধেরির ক্রিটি কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচার করে তার পা থেকে গুলি বের করা হয়েছিল। চিকিৎসা নিয়ে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরেছেন।
পায়ে গুলি লাগা প্রসঙ্গে অভিনেতা জানিয়েছেন, ‘প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমার সঙ্গে কী হয়েছে। গুলি আমাকে গভীরভাবেই জখম করেছিল। তখন মনে হচ্ছিল আমার সঙ্গে এটা কী হলো। ঘটনাটি ঘটেছিল ভোর প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিট নাগাদ। ওই সময় আমি কলকাতায় যাব বলে বের হচ্ছিলাম। কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে আমার যাওয়ার কথা ছিল। আমি বন্দুক পরিষ্কার করতে গিয়েছিলাম, আর ভুলবশত ট্রিগার দাবিয়ে ফেলি।
আর তখন গুলি সোজা আমার পায়ে এসে লাগে। আমি তখন দেখি যে আমার পা থেকে রক্তের ফোয়ারা বের হচ্ছে। এত রক্ত দেখে ভয় পেয়ে গেছি। আমি এ ঘটনার সঙ্গে কাউকে জড়াতে চাইছিলাম না, আর না আমি কাউকে বিরক্ত করতে চাইছিলাম। তাই কিছু ভিডিও বানিয়ে আমি ডাক্তার আগারওয়ালকে পাঠিয়েছিলাম। আমি যখন হাসপাতালে গিয়েছিলাম, তখন ডাক্তার আগারওয়াল আমার সঙ্গে ছিলেন।’
গোবিন্দ আরও বলেছেন, ‘সকালে আপনি যখন তৈরি হন, তখন মনে হয়, সবকিছু ঠিকঠাক আছে। অন্যান্য দিনের মতো আমারও মনে হয়েছিল, সব ভালোই আছে। বাজে কোনো কিছু হতে পারে যে, তা মাথায় আসেনি। কিন্তু আমাদের সবার সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অন্য কারও সঙ্গে যেন না ঘটে। আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।’
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে, পুলিশ প্রশাসন, গণমাধ্যম ও আমার সব ভক্তকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, আপনাদের সবার প্রার্থনার জোরে আমি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছি। আমার জন্য যাঁরা যাঁরা প্রার্থনা করেছেন, তাঁদের আমি অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
ভুল করে নিজের পায়ে গুলি
বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ আজ
ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এই ম্যাচটি। সারা বছর দু’দলের এই ক্রিকেট যুদ্ধ দেখার অপেক্ষায় থাকে গোটা বিশ্ব। দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই ম্যাচটি মাঠে গড়াতে যাচ্ছে আজ।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বিকেল ৪ টায়।
এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের যাত্রা অবশ্য সুখকর হয়নি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। যা তাদের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে নিজেদেরে প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়েছে পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে তারা শ্রীলংকাকে হারিয়েছে ৩১ রানের ব্যবধানে। গ্রুপ এ তে পয়েন্ট টেবিলে পাকিস্তানের অবস্থান তৃতীয়।
এ ম্যাচে জয় পেলে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে পাকিস্তান। তবে ভারতের মেয়েদের বিপক্ষে পেরে উঠা খুব একটা সহজ হবে না তাদের জন্য। কেননা, প্রথম ম্যাচে হারলেও এই ফরম্যাটে বেশ শক্তিশালী ভারত। তাছাড়া সেমির অন্যতম দাবিদারও তারা। তাই জমজমাট এক ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে মেসির মায়ামি
এক ম্যাচ আগেই জোড়া গোল করে ইন্টার মায়ামিকে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম সাপোর্টারস শিল্ড শিরোপা জিতিয়েছেন লিওনেল মেসি। এবার তার দল আরও এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। টরন্টো এফসিকে ১-০ গোলে হারানোর পর এমএলএসের সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে মৌসুম শেষ করার পথে মায়ামি।
এমএলএসে আর এক ম্যাচ বাকি মেসির মায়ামির। যেখানে লিগের ইতিহাসে রেকর্ড পয়েন্ট ছুঁতে মায়ামির চায় ২ পয়েন্ট। অর্থাৎ রেকর্ড গড়তে শেষ ম্যাচে জিততে হবে মায়ামিকে। আর তা হলে তিন পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে থাকতে পারবে তারা। আর সেটি করতে শেষ ম্যাচে নিউ ইংল্যান্ডকে হারাতে হবে মায়ামির।
এমএলএসের সর্বোচ্চ পয়েন্ট রেকর্ডটাও আবার নিউ ইংল্যান্ডের। ২০২১ সালে এই রেকর্ড গড়েছিল তারা। এবার তাদের বিপক্ষেই রেকর্ড গড়ার হাতছানি মেসির দলের। তার আগে অবশ্য টরন্টোকে হারিয়ে কাজটা সহজ করে রেখেছে মায়ামি।
রোববারের ম্যাচে টরন্টো এফসির মাঠ থেকে ১-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে মায়ামি। এই জয়ে মায়ামির পয়েন্ট হয়েছে ৩৩ ম্যাচে ৭১। আগেই প্লে-অফ আর সাপোর্টার্স শিল্ডের শিরোপা নিশ্চিত করা মায়ামি অবশ্য আজ মেসির ওপর নির্ভর করে জেতেনি। ম্যাচের ৬১ মিনিটে মাঠে নামেন মেসি। এরপর অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে লুইস সুয়ারেজের দুর্দান্ত ক্রস ঊরু দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অসাধারণ ভলিতে জালে জড়ান কাম্পানা। মায়ামিকে নিয়ে যান রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে।
ভিয়ারিয়ালকে হারিয়ে বার্সার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে রিয়াল
চ্যাম্পিয়নস লিগে হারের ক্ষত মুছে লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-০ গোলের স্বস্তির জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাতে টেবিল টপার বার্সাকে ছুঁয়ে ফেলেছে তারা। দু’দলেরই এখন পয়েন্ট সমান ২১। যদিও রিয়ালের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে এই পয়েন্ট বার্সার।
নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে রিয়ালের জন্য ম্যাচটি ছিল নিজেদের ফিরে পাওয়ার। কেননা, কদিন আগে আতলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে পয়েন্ট খুয়ানোর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে লিঁলের বিপক্ষে হেরেছে তারা। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এ ম্যাচে জয়টা বড্ড বেশি জরুরি ছিল কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।
হতাশ করেনি আনচেলত্তির শিষ্যরা। ম্যাচের ১৪ মিনিটেই লিড নেয় রিয়াল। লোকা মদ্রিচের অ্যাসিস্ট থেকে দলকে এগিয়ে নেন ভালভার্দে। এরপর প্রথমার্ধে আর গোল না হলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় রিয়াল।
রিয়ালের আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমণে উঠে কঠিন পরীক্ষা নিলেও জালের দেখা পায়নি ভিয়ারিয়াল। উল্টো ম্যাচের ৭৩ মিনিটে ভালভার্দের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এ গোলের পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ভিয়ারিয়াল। ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল। তাতে বার্সাকেও ছুঁয়ে ফেলে তারা।
ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ, কি বলছে পরিসংখ্যান
ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ। গোয়ালিয়রে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। এই ম্যাচ নিয়ে দর্শক আগ্রহের কমতি নেই। ভারতের বিপক্ষে কেমন খেলতে পারে বাংলাদেশ; তা নিয়ে আছে আলোচনা। আর সেই আলোচনার আগে জেনে নেওয়া যাক ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান কি বলছে।
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে অবশ্য বেশ অস্বস্তিতেই পড়তে হবে বাংলাদেশি সমর্থকদের। কেননা, এই ফরম্যাটে যে মোট ১৪ বারের দেখায়ে কেবল একবারই জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ১৩ ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারত।
ভারতের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ
ভারতের বিপক্ষে একমাত্র জয়টি অবশ্য এসেছে ভারতের মাটিতেই। ২০১৯ সালে দিল্লিতে সেবার ভারতকে ৭ উইকেটে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে সেই সুখস্মৃতি নিয়েই আপাতত গোয়ালিয়রে নামতে হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। তবে এই পরিসংখ্যানটা আরও সমৃদ্ধ হতে পারত। যদি না বেশ কিছু ম্যাচে তীরে এসে তরী ডোবাত বাংলাদেশ।
২০১৬ সালে ব্যাঙ্গালুরু ট্রাজেডি এখনও পোড়ায় বাংলাদেশকে। সেবার মাত্র ১ রানের জন্য হেরেছিল বাংলাদেশ। নিদাহাস ট্রফিতেও অল্পের জন্য ভারতকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। সেবার শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশের নিশ্চিত জয় কেড়ে নেয় দিনেশ কার্তিক। ভারতকে হারানোর সুযোগ ছিল অ্যাডিলেডেও। যদিও শেষ পর্যন্ত ৫ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
আগের সব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তাই ভারতকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। তাছাড়া অন্যবারের তুলনায় ভারতের এই দলটি বেশ অনভিজ্ঞ। এই সুযোগটা তাই নিতেই পারে বাংলাদেশ। এখন দেখার অপেক্ষা গোয়ালিয়রে কেমন ক্রিকেট উপহার দেয় বাংলাদেশ।
টাকায় থাকছে না শেখ মুজিবের ছবি
শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি না রেখে ২০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা ও এক হাজার টাকার নোট নতুন করে বানানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান নকশা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে নেয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে চারটি নোট পুনরায় নকশা করা হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য নোটগুলোতেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে নতুন নোটের বিস্তারিত নকশা প্রস্তাব দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি অ্যান্ড ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটি এসব পরিবর্তনের মূল্যায়ন ও সুপারিশ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অ্যান্ড ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।
সাবেক শেখ হাসিনার সরকারের আমলে প্রচলিত সব নোট ও মুদ্রায়ই শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি আছে যা মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই টাকা থেকে ১ হাজার টাকার কাগজের নোটের সবগুলোতেই তার ছবি রয়েছে।
জ্যামাইকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হলো বাংলাদেশী মালিকানাধীন ‘ফালগুনী রেস্টুরেন্ট
নিউইয়র্ক (ইউএনএ): বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্বোধন হলো বাংলাদেশী মালিকানাধীন ‘ফালগুনী রেস্টুরেন্ট’। এ উপলক্ষ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় রেস্টুরেন্টটিতে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এসময় বিশেষ দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের খতিব ও ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ। পরে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে রেষ্টুরেন্টেটির অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এসময় একাধিকবার ফিতা কাটা হয়। এছাড়াও কাটা হয় কেক। এর আগে প্রবাসীদের অনেকেই রেষ্টুরেন্টটির মালিক পক্ষকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। খবর ইউএনএ’র।

১৬৯-২২ হিলসাইড এভিনিউ, জ্যামাইকা, নিউইয়র্ক ঠিকানায় ডাইন ইন, টেক আউট, ক্যাটারিং পার্টি হল, ফুড ডেলিভারি সার্ভিস সহ হালাল খাবারের নিশ্চয়তা নিয়ে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশীদের যৌথ মালিকানাধীন নতুন রেষ্টুরেন্ট ফাল্গুনী। প্রবাসী বাংলাদেশী ক্রেতাদের রুচিসম্মত খাবারের সমাহার নিয়ে সাজানো হয়েছে ফাল্গুনী রেস্টুরেন্ট।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিগত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফাল্গুনী রেস্টুরেন্ট পরিচালিত হবে হলে জানিয়েছেন রেস্টুরেন্টটির স্বত্বাধিকারী রায়হান, জুবায়ের, শিল্পী ও মঞ্জুর রহমান। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ রেষ্টুরেন্টটির সার্বিক সফলতা কামনা করে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

‘ফাল্গুনী রেস্টুরেন্টটি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে প্রবীণ প্রবাসী নাসির আলী খান পল, মূলধারার রাজনীতিক মোর্শেদ আলম, ফার্মাসিস্ট মোস্তাক আহমেদ, হাফেজ রফিকুল ইসলাম, মওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গণি, ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার আহসান হাবিব, প্রেসিডেন্টশিয়াল অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শেফ খলিলুর রহমান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট সৈয়দ আল আমীন রাসেল, সাবুল উদ্দিন, শেখ ইলিয়াস, রাব্বী সৈয়দ, নূরে আলম জিকু সব বিপু সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস বদলাতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নেমে গেছে বাংলাদেশ নারী দল। প্রতিপক্ষ তিন-তিনবার ফাইনাল খেলা মহা শক্তিধর ইংল্যান্ড। যাদের বিপক্ষে কখনো জয়ের রেকর্ড নেই বাঘিনীদের।
শনিবার শারজায় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। ইতোমধ্যে হয়েছে টস। যেখানে টসে হেরে আগে ফিল্ডিংয়ে টাইগ্রেসরা। একাদশে আছে এক পরিবর্তন। মুর্শিদার বদলে ফিরেছেন দিলারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক দশকের জয়খরা আগের ম্যাচেই কাটিয়েছে বাংলাদেশ। হারায় স্কটিশ নারীদের। এবার ইংলিশদের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারলে খুলে যেতে পারে সেমিফাইনালের দুয়ার।
যদিও তা মোটেও সহজ হবে না। ছয় বছর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা টাইগ্রেসরা এর আগে তিনবার দেখা হলেও জিততে পারেনি কখনো। জয় নেই থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে কোনো ফরম্যাটই।
এবার অবশ্য সেই পরিসংখ্যান খুব করেই বদলাতে চাইবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ
দিলারা আক্তার, সাথি রাণি, সোবহানা মোস্তারি, নিগার সুলতানা জ্যোতি, তাজ নাহার, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, রাবেয়া খাতুন, নাহিদা আক্তার ও মারফা আক্তার।
ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ও লুটেরাদের ভয়ের কারণ আছে : সীরাত মাহফিলে বক্তরা
জাতীয় সীরাত উদযাপন কমিটি কর্তৃক আয়োজিত সীরাতুন্নবী সা: মাহফিল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাঠে লাখ-লাখ নারী পুরুষের অংশগ্রহণে শনিবার (৫ অক্টোবর) সম্পন্ন হয়েছে।
বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা আবু তাহের জিহাদির সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিল দেশবরণ্য ওলামা-মাশায়েখগণ বক্তব্য রাখেন।
বক্তরা ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে এক কাতারে শামিল থাকার ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠিত সীরাতুন্নবী সা: মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, দখলদার, লুটেরাদের ভয়ের কারণ আছে। কারণ ইসলামে সন্ত্রাসের, চাঁদাবাজির, দুর্নীতির, লুটপাটের, দখলদারিত্বের কোনো সুযোগ নেই। এজন্যই অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হতে দেয়নি। এমনকি ইসলামী দলগুলোর মধ্যেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ইসলামী দলগুলো বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে শামিল হওয়া পথে রয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মানবতার মুক্তির জন্য মোহাম্মদ সা: আর্বিভুত হয়েছেন। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধানের নাম। আর সেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামী চায় এই আন্দোলনে দেশের সকল ইসলামী দল ঐক্যবদ্ধভাবে শামিল হোক। ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে নারীরা তাদের সামগ্রিক অধিকার পূর্ণ ভোগ করতে পারবে।
ভিন্ন ধর্মের স্বাধীনতা একমাত্র ইসলাম দিয়েছে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, অথচ ইসলাম বিদ্বেষীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে নারীদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হবে, ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ধর্ম পালনে বাঁধা দিবে, জোর করে মুসলমান করা হবে। কিন্তু এরাই আবার মহানবীকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে স্বীকার ও বিশ্বাস করে। মহানবী যদি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হন তাহলে তিনি যেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, সেই ইসলাম বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা হলে কিভাবে নারীর অধিকার ছিনিয়ে নিবে? কিভাবে ভিন্ন ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনে বাঁধা দেয়া হবে? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ইসলামই একমাত্র শান্তির ধর্ম। অপপ্রচার বন্ধ করে নূরুল ইসলাম বুলবুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শামিল হতে সকালের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, এদেশের তরুণেরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য বুকের রক্ত দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিদায়ী করেছে। হাসিনা বিদায়ী না হলে এদেশে স্বাধীনভাবে ইসলাম প্রচার করা যাইত না। আজকের এই সীরাত মাহফিলও করতে দেয়া হতে না। ছাত্রদের ইউ আর জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাসূল সা:- এর শিক্ষায় দেশ পরিচালনা করতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেই ইউ আর জাস্টিস প্রতিষ্ঠা হবে। যুব সমাজের যেভাবে দলে-দলে ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে এতে ইসলামের দুশমনদের অন্তর জ্বালা বেড়ে যাচ্ছে না জানি, ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়। আমরা বলছি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবেই, হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র মেরামতের কথা বলছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, রাষ্ট্র মেরামতে সীরাতকে সামনে রাখতে হবে। রাসূল সা:-এর সীরাতকে সামনে রাখলে এদেশে ঘরে ঘরে ওমরের (রা.) মতো মানুষ তৈরি হবে নয়ত সালমান এফ রহমানের মতো অমানুষ তৈরি হবে। ফাতেমার (রা.) মতো নারী তৈরি হবে নয়ত পলাতক খুনি হাসিনার মতো নির্লজ্জ বেহায়া নারী তৈরি হবে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ দিয়েছে এদেশের মানুষকে চোরের খনি আর জামায়াতে ইসলামী দিয়েছে শহীদ নিজামী, মুজাহিদ আর আল্লামা সাঈদীর মতো সোনার মানুষ দুর্নীতি মুক্ত পরিশুদ্ধ নেতা। জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কেউ দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি। আগামীতে পারবে না। তাই জামায়াতে ইসলামীর নেতত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে এদেশের জনগণ বিশ্বাস করে। জনগণের সেই বিশ্বাসের বর্হিপ্রকাশ শিগগিরই ঘটবে।
অনুষ্ঠিত সীরাতুন্নবী সা: মাহফিলে অন্যের মধ্যে আলোচনা পেশ করেন সাইয়েদ কামাল উদ্দিন আবদুল্লাহ জাফরি, শায়খ মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী, মাওলানা শাখায়াত হোসাইন রাজী, ড. মুফতি আবু ইউসুফ খান, ড. খলিলুর রহমান মাদানী, প্রফেসর ড. আব্দুস সামাদ, প্রফেসর ড. রফিকুর রহমান মাদানী, কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, মুহাদ্দিস মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মাওলানা ড. জাকারিয়া নুর, শায়েখ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা মুফতি আমির হামজা প্রমুখ ও ওলামা মাশায়েকগণ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
পাকিস্তান যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দু’দেশের সম্পর্কে কী প্রভাব পড়তে পারে?
প্রায় এক দশক পরে ভারতের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। এস জয়শঙ্কর সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দেবেন চলতি মাসের মাঝামাঝি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, ২০১৫ সালে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দিতে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন। তার কয়েক দিন পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকাই এক সফরে হাজির হয়েছিলেন লাহোরে।
এত দিন পরে আবারো ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে যাচ্ছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে জয়শঙ্করের এই সফর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি সাধনের প্রচেষ্টা কিনা।
জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘এই সফর এসসিও বৈঠকের জন্য, এর থেকে বেশি কিছু ভাবা উচিত না।’
বিশ্লেষকদের একাংশও মনে করছেন, ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সফর ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু এসসিওর দিক থেকে বিচার করলে আবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এই পাকিস্তান সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তান সফরে কী বার্তা দেবে ভারত?
নয়াদিল্লিতে অবজার্ভার রিসার্চ ফাউণ্ডেশনের বিদেশনীতি বিভাগের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হর্ষ ভি পন্থ বলেন, ‘পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। সেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসলে কারা রয়েছেন, সেটাও স্পষ্ট নয়। তাই পাকিস্তানের প্রশাসনের সাথে এখনই সরাসরি আলোচনা চালানোর কোনো কারণ ভারতের দিক থেকে নেই। তাই মনে হয় না যে এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো বড় পরিবর্তন আসবে।’
তবে তিনি এটাও বলছেন যে নয়াদিল্লি এটাও চায় না যে ভারতের ‘মিত্র দেশ’গুলোর মধ্যে এরকম একটা ধারণা সৃষ্টি হোক যে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রভাবে এসসিওর কাজকর্মে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
তার কথায়, ‘ভারত এটা চাইবে না যে এসসিওর অন্য সদস্য দেশগুলোর এরকম একটা ধারণা হোক যে ভারত তার বিদেশনীতিতে এসসিওর গুরুত্ব কম করে দিচ্ছে। দেখুন, যদি প্রধানমন্ত্রী নিজে পাকিস্তান যেতেন, সেটার একটা আলাদা বার্তা দেয়া হতো, তার একটা আলাদা গুরুত্ব বোঝা যেত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে যাচ্ছেন না, তার জায়গায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাচ্ছেন। এ থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে এখনই পাকিস্তানের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় জড়াতে রাজি নয় ভারত।’
তার বিশ্লেষণ, ‘আবার এস জয়শঙ্করের সফরের মাধ্যমে এই বার্তাটাও দেয়া হচ্ছে যে এসসিওর মতো বহু-দেশীয় মঞ্চে নিজের দায়িত্ব পালন করতেও প্রস্তুত ভারত।’
ওয়াশিংটন ডিসির উইলসন থিঙ্কট্যাঙ্কে দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানও মনে করেন যে জয়শঙ্করের এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এসসিওর জন্য।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যাণ্ডেলে (সাবেক টুইটার) লেখেন, এই সফরের সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি সাধনের সদিচ্ছার থেকেও সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) প্রতি ভারতের অঙ্গীকার প্রমাণ করে।
তবে তিনি আরো লেখেন, জয়শঙ্করের পাকিস্তান সফর যদিও ‘দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির থেকেও বহুপক্ষীয় কূটনীতিই বেশি, কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।’
তার ব্যাখ্যা, দীর্ঘদিন পরে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পাকিস্তানে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি লেখেন, ‘২০১৬ সালের পর এই প্রথম কোনো ভারতীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী পাকিস্তানে যাচ্ছেন।’
সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে ২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন রাজনাথ সিং।
অনেক দেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন সাবেক কূটনীতিক রাজিব ডোগরা। তিনি রাজনাথ সিংয়ের সাথে সেই পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন।
ডোগরা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর ভারতের দিক থেকে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, কিন্তু ‘পাকিস্তানের আচরণ সম্পর্কে কিছু বলা যায় না।’
রাজনাথ সিংয়ের ওই পাকিস্তান সফরের কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে পাকিস্তানের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলি খান রাজনাথের সাথে বেশ খারাপ আচরণ করেছিলেন।’
পাকিস্তানের আচরণের প্রসঙ্গে ডোগরা আরো উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টোর গত বছরের ভারত সফরের কথাও।
তিনি বলেন, ‘বিলাওয়াল ভুট্টো যখন এসেছিলেন, তখন তিনি যে বিবৃতি দিয়েছিলেন সেটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত ছিল না, তাই আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।’
জয়শঙ্করের মনোভাব কেমন হতে পারে?
গত বছর মে মাসে এসসিও বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই মনে করা হয়েছিল যে বিলাওয়াল ভুট্টোর সফর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি করতে পারে।
কিন্তু বৈঠকের ঠিক এক দিন পরই দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কড়া মন্তব্য প্রকাশ পায়।
এখন যখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানে যাচ্ছেন, তখন তিনি কেমন মনোভাব প্রকাশ করবেন?
এ বিষয়ে অধ্যাপক পন্থ বলেন, ‘তিনি এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে তো নয়। সেখানে ভারতের গঠনমূলক ভূমিকা পালনের ওপরে জোর দেবেন জয়শঙ্কর। তাই আমার মনে হয় না যে তিনি সেখানে পাকিস্তানের সাথে দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্যগুলো তুলে ধরবেন।’
তিনি আলো বলেন, ‘পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সাথে সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলে এস জয়শঙ্করের আগ্রাসী মনোভাব প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু আপনি যদি পাকিস্তান বাদে অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর কথা বলেন, তিনি সেক্ষেত্রে কিন্তু বিচক্ষণ কূটনীতিক। এর সব থেকে বড় উদাহরণ হলো মালদ্বীপ। একটা সময় যখন মালদ্বীপে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সমালোচনা হচ্ছিল এবং ব্যাপক টানাপোড়েন চলছিল, তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা নেতারা কোনো মন্তব্য করেননি। এর ফলে কয়েক মাস পর ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।’
সাবেক কূটনীতিক রাজিব ডোগরা অবশ্য মনে করেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্পর্কের উন্নতি করতে সফল হবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও নেতা। তিনি যখন পাকিস্তান সফরে যাবেন তখন তার মনোভাব এমনটাই হবে যে দু’দেশের সম্পর্কের ওপর জমে থাকা বরফ ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু বৈঠকটি এসসিওর, সেটাও মাথায় রাখতে হবে।’
বিশ্বের অন্যান্য দেশ এই সফরকে কী চোখে দেখবে?
বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বাস করেন এসসিও-ভুক্ত দেশগুলোতে। বিশ্বের জিডিপির ২০ শতাংশও এসসিও গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর। আবার বিশ্বের জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশও এই দেশগুলোতেই মজুত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এসসিও-ভুক্ত দেশগুলো কী করছে, তার দিকে নজর রাখে গোটা বিশ্ব। এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফরকে বিশ্বের অন্যান্য দেশ কী চোখে দেখতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক পন্থ বলেন, চীন বা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক যাই হোক না কেন, এসসিওতে নিজেদের ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরাই ভারতের লক্ষ্য। এই সফরের মাধ্যমে ভারতের একটা ভূমিকা স্পষ্ট যে এসসিওতে তারা পুরোপুরি অংশগ্রহণ করছে আর একটা ইতিবাচক অ্যাজেন্ডা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ভারত বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ভারত নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার নিজের শর্তে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের দিকে নজর দেবে।
‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি?
সাবেক কূটনীতিক কেপি ফ্যাবিয়ান এস জয়শঙ্করের এই সফরকে ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতিরই একটা অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নেইবারহুড ফার্স্ট পলিসি পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই মনে আছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মালদ্বীপে তিন দিন কাটিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করলেন। এটা ভালো লক্ষণ যে তিনি পাকিস্তানে যাচ্ছেন।’
তবে এই নীতি যে ‘পুনরুজ্জীবিত’ হচ্ছে, সে বিষয়ে পুরোপুরি একমত নন অধ্যাপক হর্ষ ভি পন্থ।
তিনি বলেন, ভারত তো সবসময়েই ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’নীতি নিয়ে চলেছে। তার কথায়, ‘প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আপনি দূরে থাকবেন কিভাবে? প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যাপারে ভারত কখনই নিজের দায়িত্ব এড়ায়নি, কিন্তু পাকিস্তান কখনই ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’নীতির অংশ ছিল না।
ভারত-পাকিস্তানের জন্য এসসিও কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
চীন, রাশিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল এমন চারটি মধ্য এশিয়ার দেশ- কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান একসাথে ২০০১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এসসিও গঠন করে।
তবে ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে সাংহাইয়ে একটি বৈঠকে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং তাজিকিস্তান সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা মোকাবেলায় একে অপরকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছিল।
ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে এসসিওর পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয় এবং ২০২৩ সালে ইরান এর সদস্য হয়। এখন নয়টি দেশ এসসিওর সদস্য।
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে।
যে দু’টি দেশ এসসিওর নেতৃত্ব দেয়, সেই রাশিয়া আর চীন- দু’দেশের সাথে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক আছে।
পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর কারণেও এসসিও পাকিস্তানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অঞ্চলে বাণিজ্য, সংযোগ এবং শক্তি খাতগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশা করে পাকিস্তান।
ভারতের জন্য এটি আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মঞ্চ, যেটি একদিকে প্রতিবেশীদের ও অন্য দিকে মধ্য এশিয়ার সাথে তাদের সংযোগ তৈরি করেছে।
অধ্যাপক পন্থ বলেন, ‘যেহেতু মধ্য এশিয়ার সাথে ভারতের সংযোগ সীমিত, তাই এসসিওর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে ভারতের উপস্থিতি ও ভূমিকা বজায় রাখা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
অধ্যাপক পন্থ বলেন, ‘তাই এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে বহুপক্ষীয় মঞ্চে ভারতের অংশগ্রহণ এবং কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত।’
সূত্র : বিবিসি


