Home Blog Page 528

রামপুরা থেকে কন্ঠশিল্পী মনি কিশোরের লাশ উদ্ধার

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী মনি কিশোরের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর রামপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, কয়েকদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামপুরা টিভি সেন্টার রোডের ৩৩৫ নম্বর বাড়ি থেকে শিল্পী মনিরের লাশ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপুরা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন। তিনি বলেন, ৩৩৫ নম্বর বাড়ির একটি ফ্লাটে শিল্পী মনি একা থাকতেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি বাসা থেকে বের না হওয়ায় বাড়ির মালিক বিষয়টি সন্দেহ করে পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই।
ওসি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে। তিনি তিন-চারদিন আগে মারা গিয়েছেন। শুনেছি তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
মনি কিশোর পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। রেডিও, টিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হলেও গান গেয়েছেন অল্প। সিনেমায়ও তেমন গাননি। মূলত, অডিওতে চুটিয়ে কাজ করেছেন। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘কী ছিলে আমার’, ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’, ‘মুখে বলো ভালোবাসি’, ‘আমি মরে গেলে জানি তুমি’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তার সবচেয়ে শ্রোতাপ্রিয় গান ‘কী ছিলে আমার’ তাঁরই সুর করা, তারই লেখা। ২০টির মতো গান লিখেছেন ও সুর করেছেন মনি কিশোর।
প্রসঙ্গত, মনি কিশোর তার পোশাকি নাম। প্রকৃত নাম মনি মণ্ডল। কিশোর কুমারের ভক্ত ছিলেন বলে নামের সঙ্গে ‘কিশোর’ জুড়ে নিয়েছিলেন।

বিচ্ছেদের পথে হ্যারি মেগান

পদাধিকার হিসেবে যুবরাজ হ্যারি হলেন সাসেক্সের ডিউক এবং মেগান মার্কল হলেন ডাচেস অফ সাসেক্স। নিজের ৪০তম জন্মদিনের রাতটা স্ত্রীর সঙ্গে কাটানোর বদলে বন্ধুদের সঙ্গে হাইকিংয়ে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করেছেন প্রিন্স হ্যারি। তবে কি মেগান মার্কলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পথে তিনি? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
গুঞ্জনের মাঝেই তাদের পাবলিক রিলেশন প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পেশাগত দিক থেকে আলাদা আলাদা পথ বেছে নিয়েছেন হ্যারি ও মেগান। তবে তাদের বিচ্ছেদ হচ্ছে না। সাময়িকভাবে একসঙ্গে দেখা যাবে না তাদের। জনসমক্ষে খুব বেশি একসঙ্গে ধরা দেবেন না এ দম্পতি।
বিনোদন সংক্রান্ত অনলাইন সংবাদমাধ্যম রাডারঅনলাইন-এর খবর অনুযায়ী, ডিউক অফ সাসেক্স স¤প্রতি আফ্রিকার লেসোথোতে তার ৪০ তম জন্মদিন পালন করেন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে। যেখানে তার পরিবার উপস্থিত ছিল না। সাংবাদিকের নিশ্চিত ধারণা, হ্যারির এই কাজই প্রমাণ করে তার সঙ্গে মার্কলের সম্পর্কে চিড় ধরে গিয়েছে। রাজদম্পতি এতকাল বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যুগলেই যেতেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে তাদের একসঙ্গে আর জনতার মাঝে দেখা যাচ্ছে না।
স্টার ম্যাগাজিন লিখেছে, হ্যারি আফ্রিকা ছাড়াও নিউইয়র্কেও একলা গিয়েছিলেন। যেখানে তাকে বেশ হাসিখুশি এবং খোলামেলা লেগেছিল। পত্রিকার সূত্র জানিয়েছে, হ্যারি সাধারণ অতিথিদের সঙ্গে অত্যন্ত প্রাণখোলা ব্যবহার করেছেন। সেই পত্রিকারও মতে, হ্যারি এবং মেগান পরীক্ষামূলকভাবে সেপারেশনের পথে চলেছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন তাদের সম্পর্ক আর টেকার পথে যাবে না। ৪৩ বছর বয়সি মেগান মার্কলের অতি নিয়ন্ত্রণবাদী মনোভাবের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারছেন না যুবরাজ।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়াতে প্রিন্স আর্চি এবং প্রিন্সেস লিলিবেটের সঙ্গেই রয়েছেন মেগান মার্কল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নাকি স্বামীর সঙ্গে নিউ ইয়র্কে যেতে পারেনি মেগান। শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি আসন্ন নেটফ্লিক্সের শো এবং ব্র্যান্ডের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। যদিও হ্যারি ও মেগানের বন্ধুরা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন এখনও আদর্শ এবং সুখী দম্পতি হিসেবেই রয়েছেন দু’জনে। তবে পেশাগত দিক থেকে ভিন্ন রাস্তা বেছে নিয়েছেন তারা। হলিউডে হাত পাকাচ্ছেন মেগান। সঙ্গে চলছে তার ব্যবসায়িক প্রজেক্টও। হ্যারি এ দিকে ব্যস্ত পারিবারিক কাজকর্ম নিয়েই। যদিও এই গুজবের মধ্যে রাজপুত্র ও যুবরানি স¤প্রতি পর্তুগালে একটি খামারবাড়ি কিনেছেন। পর্তুগালে এই সম্পত্তি কেনার ফলে হ্যারি ও মেগান ইউরোপীয় ইউনিয়নের গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন।

শেখ রাসেলকে নিয়ে পোস্ট করে বিতর্কের মুখে শাওন

শেখ রাসেলের জন্মদিন নিয়ে আনন্দ কুটুম নামের একজনের একটি লেখা শুক্রবার নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন।
শাওনের পোস্টটিতে লেখা ছিল, ‘একটি মানুষ, একটি ছবি। যে আর কখনোই বড় হবে না। সময়ের নিষ্ঠুর নিয়মের কাছে তার বয়স বন্দি হয়ে গেছে। ৬০তম জন্মদিনে এসেও সে ছোট্ট বাবুটি হয়ে আছে। কোনো কিশোরী মেয়ে তার প্রেমে পড়েনি, তার জন্য লুকিয়ে লুকিয়ে চিঠি লেখেনি। কোন যুবতী মেয়ে তাকে পাবার আসায় ঘর ছাড়েনি। আবার তার রক্ত বীর্যেও কারও সৃষ্টি হয়নি। জন্মের এতোদিন পার হয়ে গেলেও সে শিশুই রয়ে গেছে।
তাকে নিয়ে কখনো যুবক কবিদের কবিতার আসর বসেনি। তাকে ভেবে কোন প্রৌঢ় নারী আফসোস করেনি। কেউ কোনদিন তাকে ‘আপনি’ বলে সম্মোধনও করেনি।
সময়ের নিষ্ঠুর থাবায় সেদিন যে ছেলেটির বয়স বন্দি হয়ে গিয়েছিল সেই পিচ্চি শেখ রাসেলের আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন বাবু। তুমি নেই, কিন্তু তুমি আছো। ’
শেষে শাওন লিখেছেন, ‘[অহহধহফড় কঁঃঁস তোমার এই লেখাটা যতবার পড়ি ততবারই চোখ ভিজে ওঠে।]
বিশেষ সংযোজন: এই পোস্টে যে ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়া দিবে সে ‘হাঊন আংকেল’। ’
‘আহারে’ নামক একটি অ্যালবামে তিনি লেখাটি শেয়ার করেছেন। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শাওনের ওই পোস্টে ৪৬ হাজার মানুষ রিয়েক্ট করেছেন। এর মধ্যে ‘হা হা’ রিয়েক্ট করেছেন ২৫ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী আর লাভ রিয়েক্ট রয়েছে ১০ হাজার।
স¤প্রতি ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবসও বাতিল করা হয়েছে। ১৯৬৪ সালের এদিন জন্ম হয়েছিল শেখ রাসেলের। দিবসটি বাতিলের পরই শেখ রাসেলকে নিয়ে পোস্টটি করেছেন শাওন।
শাওনের এই পোস্টের পর সাদিয়া মৌ নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মেহের আফরোজ শাওন শেখ রাসেলকে নিয়ে যে দরদ ভরা রচনা দিলেন, সেটা পড়ে মনে হলো খুব ভালোবাসা নিয়ে পোস্টটা দিয়েছেন। শেখ রাসেল অল্প বয়সে মারা যাওয়ায় সে খুবই হতাশ। জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাদে গুলি খেয়ে মারা যাওয়া ছোট্ট বাবুটার কথাটা কি সে ভাবেনা? বা ৭১ এর যুদ্ধে মারা যাওয়া কোনো শিশু? তাদেরও তো কখনো বয়স বাড়বে না, তারাও জীবনের কিছুই দেখেনি!’
ওই পোস্টের পর তসলিমা নাসরিন ও চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে শাওনের তোলা একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ লিখেছেন, শাওনের কাজকর্ম দেখে অনেকেই তাকে তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে রিলেট করে অনুমান করা শুরু করেছেন। আপনাদের অনুমান যে শুধুই অনুমান নয়, বরং সত্যি ঘটনা এটা হলো তার প্রমাণ! আরেকটি পোস্টে সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ লিখেছেন, বেশকিছু মানুষের সুশীলপনা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে কয়েকদিন যাবৎ, এদের ভেতর কেউ পত্রিকার সম্পাদক, কেউ আইনজীবী, কেউ বা বিনোদন দুনিয়ার কর্মী ইত্যাদি ইত্যাদি।
২০ ঘণ্টায় শাওনের পোস্টে ২৫ হাজারের বেশি ‘হা হা’ রিয়েক্ট থাকলেও ৫০টিরও কম কমেন্ট দেখা গেছে। এসব কমেন্টের একটিও তার বিরুদ্ধে যায়নি। এ নিয়ে মোস্তফা আহমদ নামের একজন লিখেছেন, তসলিমা নাসরিন তাও সমালোচনা সহ্য করতে পারে, পোস্ট করলে কমেন্ট বক্স ওপেন রাখে। দেশের ভিতরে শাওন সমালোচনাও নিতে পারে না, কমেন্ট বক্স বন্ধ করে পোস্ট করে ঘেউ ঘেউ করে!
এদিকে শাওনের ওই পোস্টের নিচে করা একটি কমেন্ট ফেসবুকে আলোড়ন তুলেছে। ওই কমেন্টের স্ক্রিনশট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তবে শাওনের পোস্টে সেই কমেন্টটি এই প্রতিবেদন তৈরির সময় (শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা) আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গোলাম সারওয়ার অনিক নামের একজন মন্তব্য করেছিলেন, ‘ছাদে হেলিকপ্টারে গুলি খাওয়া রিয়ার ব্যাপারেও আপনার এমন পোস্ট চাই।’
এ মন্তব্যের জবাবে শাওন লিখেছিলেন, ‘আপনার চাওয়া পূরণ করার দায়িত্ব নিয়ে আমি বসি নাই। আপনি অপরিচিত হয়ে অন্য একজনের পোস্টে এসে পকর পকর করা বন্ধ করেন। ধন্যবাদ।’

জাতীয় দলের কোচ হওয়া নিয়ে যা বললেন সালাউদ্দিন

বাংলাদেশে ক্রিকেট কোচের তালিকায় আলোচিত যেসব নাম রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম নাম হচ্ছে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বাংলাদেশ জাতীয় দলে সঙ্গে তাকে অনেকেই দেখতে চান। এ নিয়ে তিনি নিজেও একাধিকবার গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। এবার হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর আরও একবার জাতীয় দলে কাজ করা নিয়ে কথা বলেছেন সালাউদ্দিন।
শনিবার মিরপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে নিজের কোচ হওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন।
সালাউদ্দিন বলেন, ‘(কাজ করা) কেন হয়নি এই কারণগুলো আমি আগেও একবার বলেছি। আমার সঙ্গে কথা হচ্ছে (এখন)। দেখি কী হয়। একেবারে যে ইচ্ছে নেই, তা নয়। ইচ্ছে আছে। কিন্তু সবকিছুই তো…একটা জিনিস আপনাদের বুঝতে হবে আমি বোর্ডের কর্মী নই। আমি শেষ ১০ বা ১৫ বছর ধরে বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নই।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর আমার পেট চালাতে হয়েছে বাইরের অর্গানাইজেশনের সঙ্গে। কোনো কিছু আমার হুট করে ফেলা আসাও সম্ভব না। আমি যদি বোর্ডের কোচ হতাম, যখন বলতো তখনই আমি ঢুকে যেতে পারতাম। কিন্তু এখানে তো আমার অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়।’
সালাউদ্দিন বলেন, ‘কারণ তারা আমাকে এত বছর খাইয়েছে, পরিয়েছে। তাদেরকে তো আমি হুট করে ফেলে আসতে পারব না। সবকিছু একটা সময়ের ব্যাপার এবং চিন্তা-ভাবনার ব্যাপার। সবকিছু যেন সুন্দর হয়, এটা হলে সবার জন্যই ভালো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, সবকিছু যে অর্থনৈতিক ব্যাপার তা না। আমার একটা বাজে অভিজ্ঞতা কিন্তু আগে হয়েছে। আমি যখন সহকারী কোচ ছিলাম। সেটা হয়তো আমার মনের ভেতর এখনো আছে। যেহেতু আমি তখন সহকারী কোচ ছিলাম, হঠাৎ করে আমাকে কেউ জানে না, আমি বাসায় বসে টিভিতে দেখব বাচ্চা কোলে নিয়ে; সেটা তো আমাকে হিট করতেই পারে।’

আবারও মেসির হ্যাটট্রিক, ইতিহাস গড়ল মায়ামি

র্দীঘদিন ইনজুরিতে থাকার পর মাঠে নেমে দারুণ সময় পার করছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। চার দিন আগেই জাতীয় দলের হয়ে পেয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের দেখা। আর এবার সেই ছন্দ ধরে রাখলেন ক্লাবের হয়েও। মেজর লিগ সকারে নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন ৩৬ বছর বয়সী এই তারকা। তার এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভর করে নতুন রেকর্ড গড়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ঘরের মাঠ ফ্লোরিডার চেস স্টেডিয়ামে নিউ ইংল্যান্ডকে ৬-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মায়ামি।
দলের জয়ে হ্যাটট্রিকসহ মেসি করেছেন তিন গোল, সুয়ারেজ দুইটি ও বেঞ্জামিন ক্রিমাচি একটি করে গোল করেন। মায়ামি এমএলএসের রেগুলার সিজন শেষ করল ৩৪ ম্যাচে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে। ২২ জয়ের বিপরীতে চার হার ও ৮ ড্র। ২০২১ সালে রিভলিউশনের গড়া ৭৩ পয়েন্টের রেকর্ড ভাঙল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় মায়ামি। তবে, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় মিনিটেই লুসা লাঙ্গোনির গোলে লিড নেয় নিউ ইংল্যান্ড। প্রথম গোলের পর দ্বিতীয় গোল পেতেও সময় লাগেনি দলটির। ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে পড়ে মায়ামি। দুই গোল হজম করে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায় মেসিরা। তবে, এরপরই পাল্টে যায় ম্যাচের গতিপথ।
ম্যাচের ৪০ ও ৪৩ মিনিটে দারুণ দুটি গোলে দলকে সমতায় ফেরান উরুগুইয়ান তারকা লুইস সুয়ারেজ। তার জোড়া গোলে সমতায় ফেরে টাটা মার্টিনো শিষ্যরা। এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দুদল। অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় মায়ামি।
এবার স্কোরশিটে নাম তোলেন বেঞ্জামিন ক্রিমাচি। ৫৮তম মিনিটে তার গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মায়ামি। এরপর আর ম্যাচে সুযোগই পায়নি নিউ ইংল্যান্ড। তবে, ৭৮-৮৯; এই ১১ মিনিটেই তিন গোল করে দলের বড় জয় নিশ্চিতের পাশাপাশি হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মেসি। যার ফলে ৬-২ গোলের বড় জয় পায় ফ্লোরিডার ক্লাবটি।
মায়ামির হয়ে এটি মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক। মায়ামির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলও এখন ফুটবল জাদুজরের, ৩৩টি। এখানে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন জাতীয় দলের সারেব সতীর্থ গঞ্জালো হিগুয়েনকে। এ নিয়ে তিনটি ভিন্ন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২টি, আর্জেন্টিনার হয়ে ১১২টি ও মায়ামির হয়ে করেছেন ৩৩ গোল।

১০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-দ. আফ্রিকা টেস্ট

আগামী ২১ অক্টোবর মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। শনিবার (১৯ অক্টোবর) এই ম্যাচের টিকিটের মূল্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ম্যাচটির সর্বনিম্ন টিকিট মূল্য ১০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা। ম্যাচ শুরুর আগের দিন তথা রোববার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে মিরপুর স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেটের পাশে বুথ থেকে টিকিট ক্রয় করতে পারবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
প্রথম ম্যাচে ইস্টার্ন গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে দর্শদকের খরচ হবে মাত্র ১০০ টাকা। আর সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা খরচ হবে গ্রান্ডস্ট্যান্ডে বসে খেলা দেখতে। এছাড়া নর্থ ও সাউথ স্ট্যান্ডের টিকিটের মুল্য রাখা হয়েছে ২০০ টাকা। ক্লাব হাউস ৩০০ আর ভিআইপি স্ট্যান্ডে বসে খেলা দেখতে গুনতে হবে ৫০০ টাকা।
৯ বছর পর বাংলাদেশ সফর করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সর্বশেষ ২০১৫ সালের সফরে তিন সংস্করণের সিরিজ খেলেছিল প্রোটিয়ারা। টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারলেও সেবার ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। আর বৃষ্টিতে টেস্ট সিরিজের দুটি ম্যাচই ড্র হয়।

নিউইয়র্কে ২য় বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে লালন ও লোক উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ২য় বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে লালন ও লোক উৎসব। আগামী ২৬ অক্টোবর জ্যামাইকা মেরী লুইস একাডেমি হলে  ‘এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে, যেদিন হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জাতি, গোত্র নাহি রবে’—শ্লোগানে এই  উৎসবটি উদ্বোধন করবেন লোকসংগীতের  কিংবদন্তী শিল্পী নীনা হামিদ।

 গত ১৬ অক্টোবর লালন ফকিরের ১৩৪তম তিরোধান দিবসে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের ঘোষণা দেন লালন পরিষদ ইউএসএ-এর আহ্বায়ক মো. আব্দুল হামিদ।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মানবধর্মের অনুসারী, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব লালন ফকিরের দর্শন-চিন্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়াই উৎসবের লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে গান, নাচ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, চিত্রকলা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভিন্ন আঙ্গিকে লালনকে উপস্থাপন করা হবে।

উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও বিজ্ঞানী ড. নূরুন নবী, সংগীতশিল্পী তাজুল ইমাম, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক পৃষ্টপোষক সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক ও গোল্ডেন হোম কেয়ারের কর্ণধার শাহনেওয়াজ ও উৎসবের প্রধান উপদেষ্টা নুরুল আমিন বাবু।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রধান পৃষ্টপোষক শাহনেওয়াজ, আহ্বায়ক মো. আব্দুল হামিদ, কমরেড জাকির হোসেন,  সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লুৎফুন নাহার লতা , সংগীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী, মেলাল শাহ, সমন্বয়ক গোপাল সান্যাল, স্বীকৃতি বড়ুয়া ও সঞ্চালনা করেন মিডিয়া সমন্বয়কারী পিনাকী তালুকদার।

স্বৈরাচারের সুবিধাভোগীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার সরকারের সুবিধাভোগীরা ঘরে-বাইরে, প্রশাসনে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে চায়। ষড়যন্ত্রের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে না পারলে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের অর্জন বিপন্ন হবে। রাষ্ট্রকে জনগণের প্রত্যাশিত কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের দোসরদের বসিয়ে রেখে কোনো উপকার মিলবে না। মাফিয়াচক্র বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। তবে মানুষ বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। মাফিয়াচক্রের কবল থেকে বঞ্চিতরা অধিকার চায়। শহীদদের রক্তের দাগ এখনো শেষ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। সরকারের কিছু সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা রজতজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় জেডআরএফ’র ওভারসিজ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ডা: জুবাইদা রহমানও ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

তারেক রহমান নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে দেশে কৃষক-শ্রমিক-দিনমজুর এবং স্বল্প আয়ের মানুষ দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যে দিশেহারা। জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। সরকারকে বলবো- জিনিসপত্রের দাম কমাতে পদক্ষেপ নিন। সিন্ডিকেট ভেঙে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন। প্রয়োজনে উপদেষ্টা পরিষদের আকার বাড়ানো যেতে পারে।

তিনি রাষ্ট্রের সংস্কার নিয়ে বলেন, সংস্কার অনেক প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া। কখনো সময়সাপেক্ষ। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। জনগণের সাথে সংস্কার কাজ করলে সেটি সহজ হয়।

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘স্বৈরাচারের আমলে তাদের বিভিন্ন নেতাকর্মী দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি-জায়গা, দোকান ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দখল করেছিল। তারা সেগুলো পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়েছে। সেগুলো পুনরুদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব তেমনই রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের দায়িত্ব রয়েছে। সেজন্য সবাইকে স্বেচ্ছাসেবীর মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। আসুন আমরা প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রত্যেকে আমরা প্রত্যেকের তরে এই মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাই। আমি সবশেষে জুলাই-আগস্টে হতাহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আবার কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি।’

জেডআরএফ’র কার্যক্রম প্রসঙ্গে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। জেডআরএফ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে আপনারা বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করছেন এটি প্রশংসনীয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। জেডআরএফ’র কার্যক্রমকে আমি সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। স্বৈরাচার সরকারের পতন আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সারাদেশে জেডআরএফ’র স্বেচ্ছাসেবীরা অভাবনীয় কাজ করেছে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে স্বাধীন দেশে আমরা আছি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লব হয়েছে। নতুন প্রজন্ম রাজনীতি বিমুখ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে ছাত্র-জনতা কিন্তু মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। তারাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে লড়েছেন। আজকে তারাই রাজনীতিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে তাদেরকে দায়িত্ব বোধ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিচারের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা দেশকে ভালোবাসি।’

ড. মঈন খান বলেন, ‘বিএনপির হাল ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বেগম খালেদা জিয়া হাল ধরেছিলেন। তিনি নেতৃত্ব দিয়ে দলকে মানুষের কাছে নিয়ে যান। এই যে ত্যাগের ধারাবাহিকতা সেটি নতুন প্রজন্মকে মনে রাখা উচিৎ। জিয়াউর রহমান মাত্র চার বছরে দেশের যে পরিবর্তন এনেছিলেন পরবর্তী ৪০ বছরেও অন্যরা আনতে পারেনি। আজকে পরিবেশের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু জিয়াউর রহমানই তো প্রথম খাল খনন কর্মসূচি করেছিলেন। এটিই তো পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি। তিনি নতুন পরিচয় দিয়েছেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। যা একটি ফুলের বাগান। সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকেরা রয়েছেন। তিনি মনে করতেন বাংলাদেশের সকল ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ। সুতরাং দেশপ্রেমিক সবারই উচিৎ শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।’

ড. মঈন খান আরো বলেন, ‘বিএনপি লগি-বৈঠা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে। জেডআরএফ যার নামে হয়েছে তার কথা বলতে গেলে বলা শেষ হবে না। জেডআরএফ নিরলসভাবে দেশের গরিব-অসহায় মানুষকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই। আজকে জিয়াউর রহমানের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। তিনি কালুরঘাট বেতারেকন্দ্রে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জীবন বাজি রেখে সম্মুখসমরে যুদ্ধ করেছিলেন। যা দেশবাসীকে আরো বেশি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ উপাধি বীর উত্তম উপাধি লাভ করেন। তিনি উন্নয়ন-উৎপাদনের রাজনীতি শুরু করেন। কোটি কোটি মানুষের জীবন পদ্ধতি পরিবর্তন করে আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যান। জেডআরএফ শুধু ২৫ বছর নয়, দুইশত পঞ্চাশ বছর ধরে জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড তুলে ধরবে।

রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক এম. শাহীদুজ্জামান, রাষ্ট্রদূত এস এম রাশেদ আহমেদসহ নিহত ও আহত পরিবারের কয়েকজন।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, সাইফুল আলম নীরব, গোলাম সারওয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, ড. মো: আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ডা: হারুন আল রশিদ, ডা: মো: আব্দুস সালাম, ডা: শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ডা: শাহাদত হোসেন, ডা: মো: আনোয়ারুল হক, অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল সোহাগ, ড. আব্দুল করিম, ড. আবুল হাসনাত মো: শামীম, সাংবাদিক আব্দুল হাই শিকদার, কামাল উদ্দিন সবুজ, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আতিকুর রহমান রুমন, প্রকৌশলী মাহবুব আলম ও প্রকৌশলী আইয়ুব হোসেন মুকুলসহ অনেক ডাক্তার, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক ছবিরুল ইসলাম হাওলাদারের কুরআন তিলাওয়াতের পর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা: সৈয়দা তাজনিন ওয়ারিস সিমকী।

অনুষ্ঠানে গত জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ১০ জন নিহতের পরিবার এবং ১০ জন আহতকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। নিহতদের পরিচয় তুলে ধরেন ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ডা: পারভেজ রেজা কাকন এবং ডা: সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। আহতদের পরিচয় তুলে ধরেন ডা: সাজিদ ইমতিয়াজ উদ্দিন।

এরআগে সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, জেডআরএফের শামীমুর রহমান শামীম, ডা: পারভেজ রেজা কাকন, ডা: সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, ড. আবুল হাসনাত মো: শামীম, ডা: এ কে এম মাসুদ আখতার জীতু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষায় এই প্রতিষ্ঠাটি গড়ে তুলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্টও তিনি। জেডআরএফ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে স্বচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ স্লোগান নিয়ে গরীব এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে আসছে।

খালেদা জিয়ার বাসা বালুর ট্রাক দিয়ে অবরোধ : সাবেক ওসি রিমান্ডে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে ২০১৩ সালে বালুর ট্রাক রাখার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গুলশান থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বর্তমানে রফিকুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগে কর্মরত আছেন।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক রায়হানুল ইসলাম সৈকত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে ২০১৩ সালে বালু ও ময়লার ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় গত ৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য মো: শরীফুল ইসলাম গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না করে ২০১৪ সালে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রোসি কর্মসূচি দেয়া হয়। কর্মসূচিতে যেন খালেদা জিয়া যেতে না পারেন সেজন্য তার বাসার সামনে বালু ও ময়লার ট্রাক দিয়ে আটকে দেয়া হয়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নিষিদ্ধ পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করা হয়।

সূত্র : বাসস

গণমাধ্যমসহ আরও চার সংস্কার কমিশন গঠন

বিভিন্ন খাত সংস্কারে গণমাধ্যমসহ আরও ৪টি কমিশন গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনগুলোর প্রধান হিসাবে চারজনের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিশনের প্রধান জাতীয় অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ, গণমাধ্যম কমিশনের প্রধান কলামিস্ট কামাল আহমেদ, শ্রমিক অধিকার কমিশনে সুলতান উদ্দিন আহমেদ এবং নারীবিষয়ক কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হক। ৭-১০ দিনের মধ্যে কমিশন চারটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। এ সময় জানানো হয়, জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রত্যেক শহিদপরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, কমিশনপ্রধানদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৭-১০ দিনের মধ্যে সদস্য নির্বাচন করে নতুন চারটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে ভুয়া খবর বা ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাত সংস্কারে ছয়টি কমিশন গঠন করে। এগুলো হলো-সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মাহফুজ আলম বলেন, জুলাই-আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রত্যেক শহিদ পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে এ টাকা দেওয়া হবে। পরে যাচাই-বাছাই করে যদি আরও প্রয়োজন হয়, তাও দেওয়া হবে। তিনি জানান, জুলাই-আগস্টে যারা শহিদ হয়েছেন, শুধু তাদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। যারা আহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আহতদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আগামী সপ্তাহে একটি দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আহত কাউকে যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। যদি আরও বেশি হয়, আমরা তা করব। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আবারও স্পষ্ট করা হচ্ছে, আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে তাদের বিনা পয়সার চিকিৎসার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা পয়সা দিয়েছেন, সেটা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।