Home Blog Page 529

বাংলো বিক্রি করে নতুন গাড়ি কিনলেন কঙ্গনা

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মুম্বাইয়ের বান্দ্রার পালি হিল এলাকায় ভারতীয় মুদ্রায় ২০ কোটি টাকায় বাংলোটি কিনেছিলেন।
৩০৭৫ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত বাংলোটিতে ৫৬৫ বর্গফুট পার্কিং স্পেস ছিল। সেই বাংলোটি তিনি ৩২ কোটিতে বিক্রি করে দিয়েছেন।
আর সেই বাংলো বিক্রি করেই কঙ্গনা রানাওয়াত কিনেছেন বিলাসবহুল একটি গাড়ি। তার সেই রেঞ্জ রোভার গাড়ির দাম ৩ কোটি টাকা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন গাড়ির সঙ্গে ছবি তুলে তা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। সেই ছবিতে অভিনেত্রীর পরনে ছিল একটি সাদা সালোয়ার কামিজ। নতুন গাড়ির জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অনেকেই।
যে প্রতিষ্ঠান থেকে কঙ্গনা ল্যান্ড রোভার কিনেছেন, তারা কঙ্গনার ছবিগুলো পোস্ট করে লিখেছে- ‘বলিউডের কুইন, মিস কঙ্গনা রানাওয়াতকে তার নতুন রেঞ্জ রোভার রাইডের জন্য অভিনন্দন! রূপালী পর্দায় রাজত্ব করা থেকে শুরু করে সব কিছুতে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। আপনি সব সময় সব সমস্যায় মুখ খুলেছেন। এই পাওয়ার হাউসটি এর চেয়ে কোনো অংশে কম যোগ্য নয়। আপনার মতোই সাহসী এবং নির্ভীকভাবে পথ চলার জন্য আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে থাকুন।’
প্রসঙ্গত, বর্তমানে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) থেকে প্রশংসাপত্র না পাওয়ায় কঙ্গনার পরিচালিত ছবি ইমার্জেন্সি মুক্তি পিছিয়ে গেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জীবনী অবলম্বনে নির্মিত এ ছবিটি চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। এই ছবিতে কঙ্গনা ছাড়াও অভিনয় করেছেন শ্রেয়াস তলপড়ে, অনুপম খের, মহিমা চৌধুরী ও মিলিন্দ সোমন।

দাদাসাহেব ফালকে পাচ্ছেন মিঠুন, বাঁধভাঙা উচ্ছাসে ভাসছে টালিউড

বলিউড-টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী চলতি বছরের শুরুর দিকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানের পর এবার তার ঝুলিতে এলো দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। আজ ৩০ সেপ্টেম্বর সেই কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
এ কথা ছড়িয়ে পড়তেই বাঁধভাঙা উচ্ছ¡াসে ভাসছে টালিউড। টিভি ৯ বাংলাকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, পরমব্রতরা।
মিঠুন চক্রবর্তী দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেতেই যে প্রতিক্রিয়া জানালেন টালিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীরাÑ
এদিন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এ বিষয়ে জানান, ‘ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। এই সম্মান, এই পুরস্কার মিঠুন দার প্রাপ্য। আমাদের কাছে দাদা অনুপ্রেরণা। স¤প্রতি আমি মিঠুন দার কাবুলিওয়ালা দেখে খুব কেঁদেছি। উনি আমাদের দেশের গর্ব।’ প্রসঙ্গত ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন।
এদিন মহাগুরুর আরেক সহ-অভিনেতা তথা আজকের বার্থডে বয় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও ভীষণ খুশি এই খবরে। তার জন্মদিনের দিনই এমন সুখবর আসায় তিনি জানান, ‘এ মুহূর্তটাকে আমাদের উচিত সবার উদযাপন করা। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওর ভীষণ বড় ভক্ত। যে মানুষটা ডিস্কো ড্যান্সার থেকে তাহাদের কথা করতে পারে, সে আমার কাছে অনুপ্রেরণা। এত বছর ধরে নিজের অভিনয়ের গুণে তিনি তার এই জায়গা তৈরি করেছেন। দেশের অন্যতম সেরা অভিনেতা তিনি। দাদাকে আমার প্রণাম।’
রুদ্রনীল ঘোষের কথায় মিঠুন চক্রবর্তী যে সম্মান পেয়েছেন, সেটা খুব কমসংখ্যক অভিনেতাই তার জীবনে পান বা তাদের ভাগ্যে থাকে। তার কাছে এটা দারুণ খুশির খবর। একই সুর শোনা গেল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের গলাতেও। তার কথায়Ñ ‘যেদিন থেকে সিনেমা বুঝতে শিখেছি, জ্ঞান হয়েছে দাদার কাজ দেখেছি। উনি এখনো সেই একই উদ্যম নিয়েই কাজ করেন।’
মিঠুন চক্রবর্তী নিজে এদিন এ পুরস্কার পেয়ে এএসআইকে জানিয়েছেন, তিনি ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না বলার মতো। বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন। এত বড় সম্মান পেয়ে তিনি না পারছেন হাসতে, না পারছেন কাঁদতে। এই পুরস্কার তিনি তার পরিবার এবং ভক্তদের উৎসর্গ করেছেন।

সাকিবের ‘বিদায়ী’ টেস্ট সিরিজের সূচি জানাল বিসিবি

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠের টেস্ট সিরিজ দিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন সাকিব আল হাসান। যদিও দেশে ফিরে এই সিরিজে আদৌ ‘নিরাপত্তা’ শঙ্কায় থাকা সাকিবের খেলা হবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সাকিবের ‘বিদায়ী’ টেস্ট সিরিজের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো সূচিতে বলা হয়, ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে দক্ষিণ আফ্রিকা দল।
১৮-২০ অক্টোবর মিরপুরে অনুশীলন করবে সফরকারীরা। ২১ অক্টোবর মিরপুরে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২৯ অক্টোবর।
প্রসঙ্গত, নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সিরিজে প্রোটিয়াদের খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। তবে বাংলাদেশ সফর করা দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের প্রতিনিধিদল সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট হওয়ায় সিরিজে অংশ নিচ্ছে তারা। এর পরপরই সিরিজের চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করল বিসিবি।

ম্যাচ বাঁচাতে বাংলাদেশের পরিকল্পনার কথা জানালেন মিরাজ

ব্যাকফুটে থেকেই কানপুর টেস্টের চতুর্থ দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। এদিন শেষবেলায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৬ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। ভারতের চেয়ে এখনো ২৬ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই কানপুর টেস্ট থেকে বাংলাদেশ ছিটকে পড়েছে বলেই মনে করছেন। তবে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ তেমনটা ভাবছেন না। চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মিরাজ বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে কিন্তু সবই সম্ভব। আমরা যে হেরে গিয়েছি তেমন কিন্তু নয়। আমার মনে হয়, আমরা যদি ওপর (টপ অর্ডার) থেকে ভালো একটি জুটি গড়তে পারি, একটি সেশন যদি ব্যাটসম্যানরা দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করতে পারি, অবশ্যই আমাদের জন্য ইতিবাচক কিছু হবে।’
দলকে আপাতত নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই প্রধান লক্ষ্য জানিয়ে মিরাজ যোগ করেন, ‘জেতার জন্য খেলতে গেলে তো আরও সময় দরকার। এক দিন সময় আছে। আমরা ব্যাটিং করে টার্গেট দেব, এরপর আবার ওদের ১০ উইকেট নিতে হবে, এটা অনেক পরের ব্যাপার। আমাদের জন্য জেতার চিন্তা না করে আগে নিজেদের নিরাপদ করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
শেষ দিনে বাংলাদেশের জন্য ব্যাটিংই টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মনে করেন এই অলরাউন্ডার, ‘আমরা চেষ্টা করব, আমাদের ব্যাটসম্যান যারা আছেন, কালকের দিনে যেন আমরা দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে পারি।’

পাকিস্তানের কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে যা বললেন জাদেজা

বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান কানপুর টেস্টে খালিদ আহমেদকে আউট করার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ইমরান খানকে ছাড়িয়ে গেলেন রবিন্দ্র জাদেজা। ভারতীয় এই তারকা অলরাউন্ডার টেস্টে তিন হাজার রানের পাশাপাশি ৩০০ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
রবিন্দ্র জাদেজা ক্যারিয়ারের ৭৪তম টেস্টে এ নজির গড়েছেন। তার আগে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান ৭৫তম টেস্টে এই কীর্তি গড়েছিলেন।
ভারতীয়দের মধ্যে টেস্টে ৩০০ উইকেট এবং তিন হাজার রান সংগ্রহের তালিকায় আছেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক অধিনায়ক কপিল দেব ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। কপিল দেব ৮৩তম টেস্টে আর বর্তমান তারকা ক্রিকেটার রবিন্দ্রন অশ্বিন ৮৮তম টেস্টে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
টেস্টে ৩০০ উইকেটের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটে ২২০ আর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫৪টি উইকেট শিকার করেন ৩৫ বছর বয়সি রবিন্দ্র জাদেজা।
সোমবার চতুর্থ দিনের খেলা শেষে মাইলফলক স্পর্শ করা প্রসঙ্গে জাদেজা বলেন, এটি আমার জন্য বিশেষ অর্জন। আমি ১০ বছর ধরে টেস্ট ম্যাচ খেলে এই মাইলফলকে পৌঁছেছি। এজন্য আমি নিজেকে নিয়ে গর্বিত বোধ করছি।

এবার ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পেল নৌ ও বিমান বাহিনী

শুধু সেনাবাহিনী নয়, সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) সব কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এবার এ প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে সশস্ত্র বাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও এর ওপরের সমপদমর্যাদার কর্মকর্তা) এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী হচ্ছে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী; যা সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত।

‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী দুই মাসের (৬০ দিন) জন্য এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ ক্ষমতা সারাদেশে প্রয়োগ করতে পারবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারী কার্যবিধির, ১৮৯৮’ এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির দিনে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। ওইদিনই বিলুপ্ত হয় মন্ত্রিসভা। পরদিন ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর গত ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চরম আকার ধারণ করলে গত ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। আন্দোলন ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে ছাত্র-জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে অনেক পুলিশ সদস্যও হতাহত হন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় থানা, লুট করা হয় অস্ত্র। ৫ আগস্টের পর থানা ছেড়ে কর্মবিরতিতে যায় সারাদেশের পুলিশ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে।

পরে কাজে যোগদানের জন্য পুলিশকে সময় বেঁধে দেয় সরকার। তবে এখনো অনেক পুলিশ সদস্য যোগ দেননি। পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারেনি থানাগুলো। এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয়া হয়।

জয়, পুতুল ও ববির ব্যাংক হিসাব জব্দ

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং তার বোন শেখ রেহেনার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই), সিআরআই–ইয়ং বাংলা প্রজেক্ট এবং সাবেক মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর অ্যাকাউন্টও জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

সজীব ওয়াজেদ ও সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের ব্যক্তিগত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাক‌বে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পরবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার এ সময় বাড়ানো হবে।

লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে তাদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেয়া হয়েছে।

যা‌দের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়ে‌ছে তা‌দের হিসাব সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি তথ্য বিএফআইইউতে পাঠানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।

সজীব ওয়াজেদ জয় সিআরআইর চেয়ারম্যান। পুতুল ভাইস চেয়ারম্যান। আর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ববি। শেখ পরিবারের বাইরে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আছেন সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। দলীয় বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও জনমত গঠনে ২০১০ সালে দৃশ্যমান হয় সিআরআই।

২০১৪ সালে ‘ইয়াং বাংলা’ নামে অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। সিআরআইর তত্ত্বাবধানে কয়েক বছর ধরে যুব উদ্যোক্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে চালু করা হয় ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’। আর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে ‘জয় বাংলা কনসার্ট’ হয়ে আসছিল। সম্প্রতি ৮ জন সাংবাদিককে সিআরআই থেকে টাকা দেওয়ার একটি তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

একটি নতুন জাতির স্বপ্ন দেখছেন অধ্যাপক ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই-আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তার জীবনের গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার আভাস দিয়েছেন।

মার্কিন পাবলিক ব্রডকাস্টিং সংস্থা এনপিআর সোমবার অধ্যাপক ইউনূসের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে।

স্বৈরাচারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগস্টের শুরুতে ভারতে পালিয়ে যান যখন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী তার নেতৃত্ব ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষে চাকরির কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করে দলে দলে তার বাসভবনে ঢুকে পড়ে।

ইউনূস গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে যোগদান করার প্রেক্ষিতে প্যারিসে আবস্থানকালে প্রায় ৫,০০০ মাইল দূর থেকে এসব ঘটনা দেখছিলেন। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি তখন অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশে সম্ভাব্য কারাবাসের ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন।

কিন্তু গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার কয়েক ঘণ্টা পর ইউনূসের কাছে একটি ফোন কল আসে। তাকে অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়। তিনি গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক সিটিতে এনপিআর-এর মর্নিং এডিশনে বলেছিলেন, এটি ছিল ‘ঘটনার খুব অদ্ভুত পরিবর্তন’।

২০০৬ সালের নোবেল বিজয়ী, ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করার উপায় হিসাবে স্বল্প আয়ের লোকদের জন্য ছোট ঋণের ব্যবস্থা চালুর পথিকৃৎ হিসাবে পরিচিত। তিনি যখন বাংলাদেশে আইনি ঝামেলায় জর্জরিত, তখন বারাক ওবামা থেকে শুরু করে জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন পর্যন্ত বিশ্ব নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।

ইউনূস জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা করার পরে এনপিআর-এর মিশেল মার্টিনের সাথে আলাপচারিতায় বসেছিলেন।

সাক্ষাৎকারটি স্পষ্টতার জন্য কিছুটা সম্পাদনা করা হয়েছে

মিশেল মার্টিন : গত গ্রীষ্মে যখন আমরা কথা বলেছিলাম আপনি দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন ছিলেন এবং এখন আপনি বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এসব কিছুই ঘটনার পালাবদল। নিজেকে এই অবস্থানে পেয়ে অবাক হচ্ছেন কি?

মুহাম্মদ ইউনূস : ঘটনার খুবই অদ্ভুত পালাবদল। আমি প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে শপথ নেওয়ার আগে আমি প্যারিসে ছিলাম, আমি দেখার চেষ্টা করছিলাম যে আমি ফিরে যাব কি-না, আমাকে গ্রেফতার করা হবে, কারণ তিনি আমার ওপর রাগান্বিত হবেন এবং আমাকে জেলে পাঠাবেন। তাই ভাবছিলাম ফিরতে দেরি করব। আর হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে একটা ফোন পেলাম যে তিনি (শেখ হাসিনা) এখন চলে গেছেন। আমরা চাই আপনি সরকার প্রধান হন। এটি একটি বড় চমক ছিল।

মার্টিন : আপনি যখন ফোনটি পেয়েছিলেন তখন আপনার মনে কী হয়েছিল?

ইউনূস : দেশ পরিচালনায় আমার আদৌ যুক্ত হওয়া উচিত কি-না। এটা খুবই কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কিন্তু যখন ছাত্ররা আমাকে ডেকে ব্যাখ্যা করল যে পরিস্থিতি কী, অবশেষে আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, তোমরা এর জন্য জীবন দিয়েছ। তোমরা যদি জীবন দিতে পার, তবে আমি আমার সকল অন্যান্য বিবেচনা বাদ দিতে পারি। আমি তোমাদের সেবা করতে পারি। আমি এটা করব।’

মার্টিন : এবং আপনি যখন বলেন যে আপনি জীবন দিয়েছেন আপনি অতিরঞ্জিত করেননি এবং এটি কোন রূপক নয়।

ইউনূস : না, এটা কোনো রূপক নয়। মানুষ মারা যায়। প্রায় এক হাজার যুবক মারা গেল, বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে বুলেটে বুক পেতে দিলো। আক্ষরিক অর্থে, যুবকরা এসে আত্মাহুতি দিয়েছে। তারা যখন বিক্ষোভে যোগ দিতে তাদের বাড়ি থেকে বের হচ্ছিল, তারা তাদের বাবা-মাকে বিদায় জানাচ্ছিল। তারা তাদের ভাইবোনদের বিদায় বলছে; ‘আমি হয়তো ফিরে আসব না।’ এটাই সেই চেতনা যার মধ্যে পুরো ব্যাপারটা ঘটেছে। এবং অবশেষে, এটি এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন কারণ পুরো জনতা তার বাড়ির দিকে আসছিল।

মার্টিন : একদিকে, এসব বিক্ষোভ আন্দোলনে খুবই অজনপ্রিয় কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার প্রস্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল। সেইসব বিশৃঙ্খলতার প্রথম দিনগুলোতে, আহমদিয়া ও হিন্দুদের ওপর হামলা হয়েছিল। এ সব ঘটনার কিছু অংশ ছিল শেখ হাসিনার দলের প্রতি তাদের আনুগত্যের কারণে। এর কিছু ঘটনা কেবলমাত্র সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ বলে মনে হয়েছে। সেসব ঘটনাও কমে গেছে। কিন্তু তারপর থেকে, আরো হামলা হয়েছে, এইবার সুফি মাজারে। আমাদের প্রতিবেদন অনুসারে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ২০ টিরও বেশি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, উত্তেজিত জনতার হাতে হত্যা হয়েছে। কেন এমন হচ্ছে?

ইউনূস : জনগণ বিপ্লবের মেজাজে আছে। সুতরাং এটি একটি বিপ্লবী পরিস্থিতি। তাদের অনেককে হত্যা করা হয়েছে। তাই তারা এমন লোকদের খুঁজছে যারা তাদের সহকর্মীদের মৃত্যু ঘটিয়েছে। তাই জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলের অনুসারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছিল। আপনি যখন বলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হচ্ছে, সেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায় শেখ হসিনার সাথে যুক্ত ছিল। সুতরাং আপনি পার্থক্য করতে পারবেন না যে, তারা শেখ হাসিনার অনুসারী হওয়ার কারণে তাদের ওপর হামলা হয়েছে নাকি তারা হিন্দু বলে তাদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু তাদের ওপর হামলা হয়েছে, এটা নিশ্চিত। কিন্তু তারপর আমরা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করি। আমি সবাইকে বলতে থাকি যে, আমাদের মতভেদ থাকতে পারে। এর মানে এই নয় যে, আমাদের একে অপরকে আক্রমণ করতে হবে।

মার্টিন: আপনি কি মনে করেন যে আপনি জনগণকে প্রতিশোধের পরিবর্তে সংস্কারের দিকে মনোনিবেশ করার পথে ফিরিয়ে আনতে পারেন?

ইউনূস : প্রতিশোধের সময় মাত্র কয়েক সপ্তাহ ছিল। কিন্তু তারপর স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে শুরু করে। তাই আমরা দেশ চালাচ্ছি। কিন্তু বিক্ষোভ আছে, প্রতিশোধমূলক বিক্ষোভ নয়। বেশিরভাগ বিক্ষোভ তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে, তাদের চাকরির দাবিতে, যাদেরকে সরকার আগে বরখাস্ত করেছিল।

তাই তারা বলেছিল, অতীতের সরকার আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে এবং আমরা বিনা কারণে আমাদের চাকরি হারিয়েছি। কারণ আমরা অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাই বঞ্চিতরা সবাই তাদের দাবি মেটানোর চেষ্টা করছে। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। দেখুন এগুলো আপনাদের ১৫ বছরের ক্ষোভ। আমরা ১৫ দিনের মধ্যে এটি সমাধান করতে পারি না। আমাদের কিছু সময় দিন যাতে আমরা ফিরে যেতে পারি। আপনারা একটি খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন এবং আমাদের এটি এমনভাবে সমাধান করতে হবে যাতে এটি পদ্ধতিগতভাবে সম্পন্ন হয়।

মার্টিন : সময়ের কথা বলছি, সেনাবাহিনী আপনা পেছনে রয়েছে। সামরিক নেতারা বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ১৮ মাস শাসন করতে হবে। বিরোধী দলগুলো তা চায় না। তারা নভেম্বরে নির্বাচন চেয়েছিল। আপনার যা করতে হবে তা করার জন্য কি ১৮ মাস যথেষ্ট সময় আছে?

ইউনূস : জনগণ এই সংখ্যাগুলো বিবেচনা করছে না। কত মাস, কত বছর তাদের প্রয়োজন মনে হয়। কেউ কেউ বলে যে এটি দ্রুত করা উচিত, কারণ আপনি যদি দীর্ঘায়িত করেন আপনি অজনপ্রিয় হবেন এবং সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। কেউ কেউ বলেন যে না, আপনাকে সংস্কার শেষ করতে হবে। সুতরাং আপনি দীর্ঘ সময় ধরে থাকুন। কারণ আমরা সবকিছু ঠিক না করে বাংলাদেশ ২.০-এ যেতে চাই না। তাই এই নিয়ে বিতর্ক চলছে।

মার্টিন : আপনি জানেন, আপনি প্রায় সুশীল সমাজের মতো করে সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের কথা বলছেন।

ইউনূস : সংস্করণ ২-এর অর্থ ঠিক এটাই। আমরা পুরনো স্টাইলে ফিরে যেতে চাই না। তাহলে এত জীবন দেওয়ার মানে কী? এর কোনো মানে নেই কারণ আমরা যা করেছি, সবকিছু ধ্বংস করেছি। তাই একটি নতুন দেশ নির্মাণ আমাদের শুরু করতে হবে।

মার্টিন : আপনি জানেন, এটি চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু এটি উত্তেজনাপূর্ণ, তাই না?

ইউনূস : এটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। আপনি নেতিবাচক দিক দেখছেন। আমি এটাকে খুবই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখি। আমি বলেছিলাম এই জাতি সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছে। এসব মানুষ, দেশ একটি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ, আমাদের পরিবর্তন দরকার।

মার্টিন : আপনি ৮৪ বছর বয়সী। আমি জানি না যে, আপনি কখনো নিজেকে সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ভেবেছেন কি-না। আপনি কি মনে করেন যে, আপনি বাংলাদেশকে সেই দেশে পরিণত হতে দেখবেন যা আপনি আশা করেন, আপনার জীবদ্দশায়?

ইউনূস : সব কিছু নয়। তবে আমি খুব খুশি হব, এটি হওয়ার পথে। প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক আছে। নীতি সঠিক। তরুণেরা বিশ্বকে পরিবর্তন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে তারা দেশের মধ্যে এবং বিশ্বব্যাপী ভূমিকা পালন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বললে, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী। তবে আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে। আমি সবসময় তরুণদের গুরুত্ব দেই কারণ তারাই ভবিষ্যৎ গড়বে এবং যেভাবেই হোক তাদের নেতৃত্বের অবস্থানে থাকা উচিত। কারণ তাদের উত্তরাধিকারসূত্রে এই গ্রহে থাকতে হবে। আপনি উল্লেখ করেছেন যে আমি ৮৪ বছর বয়সী। আমার সামনে দীর্ঘ সময় নেই, তাদের সামনে পুরো জীবন রয়েছে।

সূত্র : বাসস

ঢাবি ভিসির সাথে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে তারা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাপানের স্থপতি তাদাও আন্দো পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে একটি ‘শিশু গ্রন্থাগার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এই গ্রন্থাগারে জাপান ও বাংলাদেশের শিশু সাহিত্যিকদের পুস্তক ও শিল্পকর্ম স্থান পাবে। জাপানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে বিরাজমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করার লক্ষ্যে এই ‘শিশু গ্রন্থাগার’ প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সহযোগিতা কামনা করেন।
ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান জাপানের রাষ্ট্রদূতকে এ বিষয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি বলেন, জাপানের আইসিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে মেধাবী ও দক্ষ মানবসম্পদ নিতে আগ্রহী। এখাতে তিনি জাপানি ভাষায় পারদর্শী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ প্রদানের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এসময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চলমান যৌথ সহযোগিতামূলক শিক্ষা ও গবেষণাকার্যক্রম আরো গতিশীল করার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি।

জামায়াত কোনো ব্যর্থ নির্বাচন চাচ্ছে না : ডা: শফিক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা দু’টি রোডম্যাপ চেয়েছি। একটা সংস্কারের জন্য, অপরটি নির্বাচনের জন্য। প্রথমটা যদি সফল না হয় তাহলে দ্বিতীয়টি ব্যর্থ হবে। আমরা কোনো ব্যর্থ নির্বাচন চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি একটা সফল নির্বাচন এবং তা দ্রæততম সময়ের মধ্যে হতে হবে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর ডাকাতের ছুরিকাঘাতে নিহত সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করের বেতকায় গত শনিবার রাত ১০টায় তার পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির এ কথা বলেন।
এর আগে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, যে ডাকাতদল এই ঘটনার সাথে জড়িত তারা এক মাস আগে জামিনে বের হয়েছে। এরপর তারা বিশাল একটি দুর্ঘটনা ঘটাল। এ রকম আরো অনেকেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। সরকারকে এগুলো দেখতে হবে। দেশের মানুষের স্বার্থে যা করা দরকার তার সবই করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি আইন আমরা হাতে তুলে নেবো না। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। কে ষড়যন্ত্র করছে, না করছে এটা বড় কথা নয়। জাতি কিন্তু এখন ঐক্যবদ্ধ ও মজবুত স্থানে রয়েছে। গোটা যুবসমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তারা গণহত্যা করেছে। নৈতিক দিক থেকে তারা পরাজিত হয়েছেন। এখন তাদেরই মূল্যায়ন করতে হবে যে তারা রাজনীতি করার কোনো অধিকার রাখে কি না।
ডা: শফিক বলেন, দেশের জন্য জীবন দেয়ার সৌভাগ্য সবার হয় না। তিনি (তানজিম সারোয়ার নির্জন) সেনাবাহিনীতে জেনে শুনেই গিয়েছিলেন। এটা জীবনমৃত্যুর বিষয় এবং সেটা দেশ রক্ষার বিষয়। এটা জেনেই তিনি সেখানে গিয়েছিল, আলহামদুলিল্লাহ। তার মা-বাবাকে মহান আল্লাহ এ রকম একটা সন্তান দিয়ে ধন্য করেছেন। আমরা ওনাদেরকে গর্বিত করতে এখানে আসিনি, আমরা এসেছি নিজেরা গর্বিত হতে।
তিনি আরো বলেন, এলাকার মানুষের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা তাদের (বাবা-মা) বুকটা ভরে রাখবেন। আপনারা তাদের খোঁজখবর নেবেন, আমরাও যতটুকু পারি পাশে থাকব।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আমেরিকায় বলেছেন, এই আন্দোলন ছিল একেবারেই পরিকল্পিত। আমি ওনার বক্তব্যের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করব না। আমি শুধু বলব, আমার জানা মতে, এই আন্দোলন ছিল ছাত্রদের অধিকার রক্ষার ব্যাপার। সেই অধিকারটা অন্য কিছু ছিল না।
নির্জনের পরিবারের সাথে তিনি দীর্ঘসময় কথা বলে তার বাবা ছারওয়ার জাহান দেলোয়ার, মা শাহনাজ খান ও বড় বোন তাসনুভা সারোয়ার সূচিকে সাথে নিয়ে দোয়া করেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, জেলা সেক্রেটারি হুমায়ুন কবীর, সহকারী সেক্রেটারি হোসনী মোবারক বাবুলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা জেলা দক্ষিণ : ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে টেকসই ও অর্থবহ বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। গতকাল ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি অডিটোরিয়ামে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা দক্ষিণ আয়োজিত মজলিসে শূরার অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি এ বি এম কামাল হোসাইনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল মান্নান।