আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল হক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত মাহমুদুর রহমান আত্মসমর্পণ করলে এই আদেশ দেয়া হয়।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবো: এদিন সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে এ মামলায় আত্মসমর্পণ করতে বিশাল মিছিল নিয়ে আদালতে আসেন মাহমুদুর রহমান। তবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বাধায় মিছিল আদালত প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারেনি। এজলাসে যাওয়ার আগে মাহমুদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের আইনে যেটা আছে, সেই আইন অনুযায়ী আমি আত্মসমর্পণ করবো। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমার লড়াই অব্যাহত রাখবো। যদিও এই মামলা সর্ব মিথ্যা এবং একটা উদ্ভট ব্যাপার। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নিজেদের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে হবে। মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য আমি এসেছি।
মাহমুদুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও জয়নুল আবেদীন মেসবাহ। তারা আদালতকে জানান, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাহমুদুর রহমানকে সাজা দেয়া হয়েছে। তিনি একজন বিপ্লবী সাংবাদিক নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট থেকে পড়াশোনা করেছেন। একসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন, বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আদালতে জামিন নেবেন না। দেশে এখন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। তিনি দেশে এসেই আত্মসমর্পণ করলেন। আমরা কারাগারে তার ডিভিশন চাই। শুনানি শেষে আদালত মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে ও আইনানুযায়ী ডিভিশন দেয়ার আদেশ দেন। এরপর বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেয়া হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেসবাহ সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলার কথিত ভিকটিম জয়ের সঙ্গে রায় প্রদানকারী বিচারকের ছবিই প্রমাণ করে এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া ছিল ষড়যন্ত্রের অংশ। মাহমুদুর রহমানকে দমানোর জন্য কাল্পনিক অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাজা দেয়া হয়। আমরা কারাগারে যাওয়ার আদেশের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলেই মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল করবো। আশা করছি শিগগিরই তিনি কারামুক্ত হবেন। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর সকালে তুরস্ক থেকে দেশে ফেরেন মাহমুদুর রহমান।
একই মামলায় শফিক রেহমানের সাজা স্থগিত: একই মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। রোববার শফিক রেহমানের আইনজীবী শেখ সাকিল আহমেদ রিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের আলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে শফিক রেহমানের সাজা স্থগিতের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাজা স্থগিতের বিষয়ে দাখিল করা আবেদন এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের মতামতের আলোকে দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের ধারা ৪০১(১)- এ দেয়া ক্ষমতাবলে ওই মামলায় তাদের দণ্ডাদেশ আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হলো।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার মামলায় গত বছরের ১৭ই আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালত মাহমুদুর রহমান ও সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ ৫ জনের পৃথক দুই ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন- জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, রিজভী আহমেদ সিজার ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।
আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাসের কারাভোগ করতে হবে। এ ছাড়া একই আইনে ১২০-খ ধারায় (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন।
আত্মসমর্পণের পর কারাগারে মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমানের সাজা স্থগিত
পলকের তেলেসমাতিতে স্ত্রী কনিকাও হাজার কোটির মালিক
ঢাকা ডেস্কঃ জুনায়েদ আহমেদ পলক একক ক্ষমতার নাম। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দুইবারের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে পলকের বিরুদ্ধে। আইসিটি খাতের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে একাই বাগিয়ে নিতেন ১৫ শতাংশ কমিশন। এসব অনিয়মের অর্থে দেশে বিদেশে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এত এত অভিযোগ অনুসন্ধান করতেও সময় লাগবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যত দ্রত সম্ভব এই অনুসন্ধান প্রতিবেদন কমিশনের কাছে জমা দেয়া হবে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সখ্য ছিল পলকের। সেই প্রভাব খাটিয়ে সরকারের আইসিটি বিভাগ একক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন তিনি। যেকোনো প্রকল্প থেকে মোটা অংকের কমিশন যেতো পলকের পকেটে। বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি, এসপায়ার টু ইনোভেটেড (এ টু আই) প্রকল্প, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, হাইটেক পার্ক, আইটি পার্ক, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয় শেখ হাসিনা সরকারের আমলে। বড় বাজেটের এসব প্রকল্প থেকেই মূলত অবৈধ খাত বের করতেন পলক। সূত্র আরও জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আইসিটি বিভাগে এরই মধ্যে চিঠি দিয়েছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধান সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও দুবাইয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের তথ্যও পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে। তবে এসব পাচারকৃত অর্থের এখনো হদিস মেলাতে পারেনি দুদক। তাই বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বরাবর পলক ও তার পরিবারের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। বিশেষত আইসিটি খাতে নানা অনিয়মের তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর বড় একটা অভিযোগ হলো বিদেশে অর্থ পাচার। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আমরা বিএফআইইউ’র মাধ্যমে ৫টি দেশে চিঠি পাঠিয়েছি।
তিনি আরও জানান, বিএফআইইউ’র কাছে পাঠানো চিঠিতে পলক ও তার স্ত্রীর নামে কোন কোন দেশে সম্পদ রয়েছে সেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংকের তথ্যও জানতে চাওয়া হয় চিঠিতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-৩ আসনের সাবেক এমপি পলকের গ্রামের বাড়ি সিংড়া উপজেলায়। সেখানে তেমন কোনো সম্পদ নেই বললেই চলে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়িটিও খুব সাদামাটা। তবে পলকের স্ত্রী আরিফা জেসমিন কণিকার নামে ও বেনামে অনেক সম্পদের তথ্য রয়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডি, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৮টি ফ্ল্যাটের তথ্য পেয়েছে দুদক। এ ছাড়া পূর্বাচলেও একাধিক প্লট রয়েছে বলে সংস্থাটির কাছে তথ্য রয়েছে। তবে এসব স্থাবর সম্পদের মালিকানা ও নথিপত্র নির্ণয় করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুদক।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, পলক ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ও বেনামে থাকা সম্পদের তথ্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, সিটি করপোরেশন, রাউজকসহ সব দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব চিঠির উত্তর পেলেই আমরা অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে চলে যাবো। কারণ একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সব ধরনের নথি পর্যালোচনা করা লাগে। তাহলে একটি সুন্দর প্রতিবেদন করা সম্ভব।
নির্বাচনী হলফনামায় যা ছিল পলকের
নির্বাচনী হলফনামায় পলক জানিয়েছিলেন, ১৫ শতক কৃষিজমি, ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকা এবং ৬০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার। এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে করেন নির্বাচন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হয়ে আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা। তাই জয়ের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পান পলক।
২০০৮ সালে নাটোরের সিংড়া উপজেলা থেকে জুনাইদ আহমেদ পলক প্রথমবার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর পলকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও জয়ের সুপারিশে সব অভিযোগ থেকে বেঁচে যান তিনি। ফলে ৩ মেয়াদে অনেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর চেয়ার বদল হলেও পলক একই পদে থেকে যান। সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামায় দেয়া তথ্যমতে, পলকের গেল ৫ বছরে সম্পদ ও আয় বাড়ে অস্বাভাবিক হারে। নিজের অবৈধ আয়ের অর্থ বৈধ করতে স্ত্রীকে বানিয়েছেন উদ্যোক্তা। তার স্ত্রীর নামে সিংড়ায় রয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ বিঘা জমি।
অনুসন্ধানের বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, ১৩ই আগস্ট দুদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। বর্তমানে একজন কর্মকর্তার অধীনে একটি টিম এই অনুসন্ধান পরিচালনা করছে।
আইসিটির সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন পলক
সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে এমন প্রভাব খাটিয়ে আইসিটি বিভাগের সব কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন পলক। তার হাত ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক ও ইউটিউব পেজও দখলে ছিল। সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর পছন্দের লোক দিয়ে চালানো হতো এসব পেজ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলটি গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বন্ধ ছিল। এগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাতে। পেজ এবং চ্যানেলগুলোর অ্যাডমিন (নিয়ন্ত্রক) পলকের মনোনীত ব্যক্তিরা ছিলেন। তারাই পেজগুলো বন্ধ রেখেছেন।
আইসিটি বিভাগ সূত্র জানায়, বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতো ঢাকা লাইভ নামের একটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল মার্কেটিং টিম। পাশাপাশি আইসিটি বিভাগের নানা আয়োজন সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের কাজও পেতো এই প্রতিষ্ঠানটি। এর সবকিছু এককভাবে তদারকি করতেন জুনাইদ আহমেদ পলক।
অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সমপ্রতি ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল সচল করা হয়েছে। গতকাল পেজটি ঘুরে দেখা যায়, নাহিদ ইসলামের বিগত চারদিনের কার্যক্রম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের ৩১শে অক্টোবরের পর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো পোস্ট নেই তাতে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিটি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর লোকজনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় মাঝের অনেক পোস্টই এখন পেজে নেই। ফেসবুক পেজে নিয়মিত কার্যক্রম প্রকাশ করা হতো। সেগুলো ডিলিট করে দেয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বন্যার জন্য নেপালকে দুষলেন মমতা
পশ্চিমবঙ্গে (বাংলা) বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নেপালকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। ‘ম্যান মেড বন্যার’ তত্ত¡ খাঁড়া করেছেন।
রোববার উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে বিকালে দমদম বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘দক্ষিণবঙ্গের ‘দামোদর ভ্যালি করপোরেশনের’ (ডিভিসি) পানিতে যেমন ভেসেছে, উত্তরবঙ্গে নেপাল থেকে কোশী নদীর পানি ছেড়েছে। ৫ লাখ কিউসেক টন পানি ছেড়েছে। ওই পানি বিহার হয়ে বাংলায় ঢুকছে।’
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য ডিভিসির ছাড়া পানিকে দায়ী করেছিলেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তিনি বলেন, ‘একদিকে সঙ্কোচ নদীর পানি কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার বিধ্বস্ত, অন্যদিকে, নেপালের পানি বিহার হয়ে ঢুকছে, ফলে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।’
ফরাক্কা ব্যারেজ ড্রেজিং না করায় এখন বাংলার এ পরিস্থিতি বলে তোপ দাগেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আজকে ২০ বছর হয়ে গিয়েছে। ড্রেজিং করে না। ফরাক্কা যদি পানিটা রাখতে পারত, তাহলে বাংলায় এ পরিস্থিতি তৈরি হত না। তবে ড্রেজিং করলে রাখতে পারত, তাহলে মালদহ, সুতি, ফরাক্কায় বন্যা হত না। কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেটা করেনি। ফরাক্কা ব্যারেজ দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র দেখে। আগে ওরা ১২০ কিলোমিটার দেখভাল করত। এখন সেটা ২০ কিলোমিটার দেখে। কিছুই করে না।’
আলিপুরদুয়ার আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমবে, আগামী দু’তিন দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গে। আগামী ২ অক্টোবর থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পঙ, জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। মহালয়া দিনে দক্ষিণবঙ্গে হালকা মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা, ভারি বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। উত্তরবঙ্গে উত্তরের জেলাগুলিতে মহালয়া দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা বাড়বে। যেহেতু বৃষ্টি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে উত্তরবঙ্গে, তাই নতুন করে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকছেই।
ইতিমধ্যেই ফুলাহারে জলে প্লাবিত রতুয়া, মানিকচক। গঙ্গার জলে গত দেড় মাস ধরে প্লাবিত ভূতনি। মহানন্দার জলে ডুবে রয়েছে ইংরেজবাজারও। ফলে মালদহের দুর্দশা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। – সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যম
লেবাননজুড়ে ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলায় নিহত আরও ১০৫
হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যার পরও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। দেশটির এ হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ১০৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ। সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের অবিরাম হামলার কারণে আরও একটি রক্তাক্ত দিনের স্বাক্ষী হয়েছে লেবানন। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, নিরলস ইসরাইলি বোমাবর্ষণে সারাদেশে কমপক্ষে ১০৫ জন নিহত এবং আরও ৩৫৯ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ সিডনের কাছে আইন আল-দেলবে একটি হামলায় দুটি আবাসিক ভবনকে সম্পূর্ণ গুড়িয়ে গেছে এবং এতে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ঘটনাস্থলে আশ্রয় নেওয়া অনেক বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
লেবাননের বেশ কিছু রাজনীতিবিদ এই হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
কিন্তু ইসরাইল বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। তবে লেবাননের কর্মকর্তারা বলেছেন, দক্ষিণ লেবানন, বেকা, বালবেক-হারমেল গভর্নরেট এবং বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে বাড়িঘরের পাশাপাশি অন্যান্য ভবনগুলোতে হামলা করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার ভোররাতে স্থানীয় মিডিয়া আউটলেটগুলো বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে কোলা ব্রিজ এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলার খবর দিয়েছে। গত বছর সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে শহর সীমানার মধ্যে এটিই ইসরাইলের প্রথম আক্রমণ এবং সম্ভবত এটিকে সংঘাতের আরেক ধাপ বৃদ্ধি হিসাবে দেখা হবে।
লেবাননের রাজধানীকে আগে ইসরাইলি আক্রমণ থেকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসাবে দেখা হতো। তবে সরাসরি বৈরুত শহরে বোমা হামলার ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে দেশের অন্যান্য অংশের মতো বর্তমানে রাজধানী শহরও ইসরাইলি হামলার অধীনে রয়েছে। হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এর আগে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরাইল হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহকে বিমান হামলায় হত্যা করে। আর রোববার ইসরাইলি সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর সিনিয়র রাজনৈতিক কর্মকর্তা শেখ নাবিল কাউককেও হত্যা করেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ইসরাইলের এ হামলার কারণে লেবানন থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ সিরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
সংস্থাটির প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্দি এক এক্স পোস্টে জানান, হামলার কারণে লেবাননের অভ্যন্তরেও দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। লেবানন ও সিরিয়া সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।
বাংলাদেশ সফরে আসছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আগামী ৪ অক্টোবর বাংলাদেশে আসছেন। এর আগে তিনি পাকিস্তান সফর করবেন সেখান থেকে বাংলাদেশে আসবেন। সব কিছু ঠিক থাকলে সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্রে জানা গেছে।
তবে আশা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উন্নয়ন কৌশলের অবস্থান আরও গভীর করবে এবং পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগীতা প্রসারিত করবে যা, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ ও একটি অভিন্ন কল্যাণকর রাষ্ট্র নির্মাণে কাজ করতে চাইবে।
বাংলাদেশের পট পরিবর্তনের পর গত ১৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম খুব দ্রæত বাংলাদেশ সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে ফোন করে এই ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ান ইসলামিক ইউথ মুভমেন্ট (এবিআইএম) এর সভাপতি থাকাকালীন সময়ে ১৯৮১ সালে ছাত্র শিবিরের জাতীয় কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং ওই সময়ে প্রথম তিনি বাংলাদেশ সফর করেন।
হুদায়দায় হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা আনসারুল্লাহর
ইয়েমেনের হুদায়দা বন্দরে ইসরাইলি বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে আনসারুল্লাহ।
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীটির মিডিয়া সেলের উপপ্রধান নাসরেদ্দিন আমের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ইসরাইলি শত্রুর নতুন আগ্রাসনের জন্য আমরা আল্লাহর সাহায্যে জবাব দেবো, ইন শা আল্লাহ’।
রোববার হুদায়দা বন্দর নগরীতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় ইসরাইলের বর্বর বাহিনী। এ হামলার পরই আমের তার এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় ওই প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেন।
ইসরাইলি আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে আনসারুল্লাহ নেতা বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল এবং রাস ইসা এবং হুদায়দা বন্দরগুলোর তেল মজুতকরা গুদামগুলো খালি করা হয়েছিল’।
নাসরেদ্দিন আমের এ সময় জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসরাইলের এ ধরনের আক্রমণ ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী তাদের ফিলিস্তিনপন্থি অভিযান চালিয়ে যাবে’।
এর আগে, ইসরাইলি বাহিনী রোববার বিকালে ইয়েমেনের উপকূলীয় শহর হুদায়দায় বিমান হামলা চালায়। তবে তারা এখন আনসারুল্লাহর শক্ত প্রতিক্রিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।
আল-মায়াদিন জানিয়েছে, ইসরাইলি আক্রমণকারীরা একটি বেসামরিক বন্দর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘হুদায়দা বন্দরে তেলের ট্যাংকগুলোতে আগুন লেগেছে এবং হামলার ফলে ঘন ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে’।
নাসরেদ্দিন আমের আরও বলেন, ‘ইসরাইলি শত্রু যে আনন্দে বিভোর হয়েছে, তা তাদের জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে আনবে এবং তারা অবশ্যই এর ফল ভোগ করবে’।
স¤প্রতি ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইলের ওপর তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে। যার প্রেক্ষিতে ইসরাইলও ইয়েমেনে পাল্টা আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং হামলা চালিয়েছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
নাসরুল্লাহ হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বোমা ফেলেছে ইসরায়েল: মার্কিন সিনেটর
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা সাইয়েদ হাসান নাসরাল্লাহ হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েল যে বোমা ব্যবহার করে, তা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি গাইডেড অস্ত্র। ইসরায়েল ৯০০ কেজি ওজনের ‘মার্ক ৮৪’ সিরিজের এ বোমা ব্যবহার করেছে। এ কথা বলেছেন একজন মার্কিন সিনেটর। রোববার মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস এয়ারল্যান্ড সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মার্ক কেলি এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এই হত্যাকাণ্ডকে অসংখ্য ভুক্তভোগীর জন্য ন্যায়বিচারের একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। এসব ভুক্তভোগীর মধ্যে হাজার হাজার আমেরিকান, ইসরায়েলি ও লেবাননের বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসির।
বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে শুক্রবার হামলায় নিহত হন হাসান নাসরুল্লাহ। তাঁকে হত্যার ইসরায়েলি দাবির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে হিজবুল্লাহ, হামাস, ইয়েমেনের হুতি ও যেকোনো ইরান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার সমর্থন করে।
ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে মার্ক কেলি বলেন, তারা গাইডেড অস্ত্রের ব্যবহার দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে এসব অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। প্রসঙ্গত, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে।
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এক বছর ধরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত লড়াই চলছে। এতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন উভয় দেশের লাখ লাখ মানুষ। হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা হামাসের সমর্থনে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা তা থামাবে না। দুটি সংগঠনই ইরানসমর্থিত।
হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে কয়েক দশক ধরে সংঘাত চলছে। ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালালে তার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৮২ সালে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি গঠিত হয়। সেই সময় ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য বেশ কিছু লেবানিজ দল গঠিত হয়, যার একটি ছিল শিয়া মুসলিম স¤প্রদায়ের হিজবুল্লাহ। আলজাজিরা বলছে, হিজবুল্লাহ ছিল মুসলিম নেতাদের মস্তিষ্কপ্রসূত।
বর্তমানে হিজবুল্লাহকে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী অস্ত্রধারী রাষ্ট্রবহির্ভূত সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের অস্ত্রাগারে আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার রকেট রয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের হিসাবে, হিজবুল্লাহর কাছে ১৫-২০ কিলোমিটার পাল্লার ৪০ হাজার গ্র্যাড-টাইপ মিসাইল রয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনটির কাছে ৮০ হাজার দূরপাল্লার মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম রয়েছে, যার পরিসর ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল)। এ ছাড়া তাদের কাছে প্রায় ৩০ হাজার জেলজাল আর্টিলারি রকেট বা ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার পাল্লা ২০০-৩০০ কিলোমিটার। হিজবুল্লাহর অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার এই অস্ত্র দক্ষিণ ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম।
হাসান নাসারুল্লাহর মৃত্যুর পর হিজবুল্লাহ, ইরান কী করবে?
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসারুল্লাহর মৃত্যু ‘প্রতিশোধহীন’ যাবে না। একই সাথে তিনি পাঁচ দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।
ইরান একই সাথে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভা জরুরি ভিত্তিতে ডাকার আহবান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নাসারুল্লাহর মৃত্যুকে ‘ঐতিহাসিক মোড় ঘুরানো ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ন্যায়বিচারমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আন্ত:সীমান্ত লড়াই অব্যাহত আছে।
হিজবুল্লাহ এখন কী করবে
একের পর এক আঘাতে জর্জরিত হিজবুল্লাহ। পেজার ও ওয়াকি-টকি বিস্ফোরণের অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনায় এর যোগাযোগ কাঠামো এবং বিমান হামলায় এর অস্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মেদ আল-বাশা বলেছেন: “হাসান নাসারুল্লাহকে হারানোর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়বে, গোষ্ঠীটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বল্প মেয়াদে এর রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলকে পরিবর্তন করবে।
তবে ইসরায়েল বিরোধী এই সংগঠনটি হুট করে ক্ষান্ত দেবে এমন প্রত্যাশা কিংবা ইসরায়েলের চাওয়া অনুযায়ী শান্তির পথে আসবে তা সম্ভবত হবে না।
হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যেই লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির এখনো হাজার হাজার যোদ্ধা আছে।
এদের অনেকেরই সিরিয়া যুদ্ধে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা আছে এবং তারা প্রতিশোধ নেয়ার দাবি করেছে।
সংগঠনটির এখনো যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যার অনেকগুলোই দূরপাল্লার। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মতো অস্ত্র আছে, যা তেল আবিব ও অন্য শহরগুলোতে পৌঁছাতে পারে।
নিজেরা আরও ধ্বংসের লক্ষ্যে পরিণত হওয়া বা নিশ্চিহ্ন হওয়ার আগে সেগুলো ব্যবহারের জন্য গোষ্ঠীটির ভেতরে চাপ বাড়ছে।
ইরান কী করবে?
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড হিজবুল্লাহর মতো ইরানের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। দেশটি ইতোমধ্যেই পাঁচ দিনের শোক ঘোষণা করেছে।
এছাড়া দেশটি তাদের নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনিকেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গোপন জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে।
তেহরানের গেস্ট হাউজে ইসমাইল হানিয়ার অপমানজনক হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ ইরান এখনো নিতে পারেনি।
পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের বেশ কিছু সশস্ত্র সহযোগী গোষ্ঠী আছে। যেটি তথাকথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’।
হিজবুল্লাহর মতো ইয়েমেনে এর আছে হুতি এবং ইরাক আর সিরিয়ায় আছে কয়েকটি গোষ্ঠী। ইরান এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলে এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে হামলা করতে বলতে পারে।
কিন্তু যেই পদক্ষেপই ইরান নিক না কেন সেটি হবে যুদ্ধের জন্য বন্দুকে চাপ দেওয়ার মতো, যাতে তারা জয়ের খুব একটা আশা করতে পারে না।
ইসরায়েল কী করবে?
এই হত্যাকাণ্ডের (হাসান নাসারুল্লাহর) আগে কারও কোন সন্দেহ থাকলেও এখন আর নেই।
যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২টি রাষ্ট্র একুশ দিনের যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে সে অনুযায়ী সামরিক অভিযান বন্ধ করার কোন লক্ষ্য পরিষ্কারভাবেই ইসরায়েলের নেই।
তাদের সামরিক বাহিনী মনে করে হিজবুল্লাহ এখন ব্যাকফুটে। সুতরাং ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি পুরোপুরি না যাওয়া পর্যন্ত তারা আরও আক্রমণ চালাতে চায়।
হিজবুল্লাহর আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা কম। এটা দেখা খুব একটা সহজ হবে না যে কীভাবে ইসরায়েল স্থল অভিযানে সৈন্য না পাঠিয়ে হিজবুল্লাহর আক্রমণের হুমকি দূর করে তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করে।
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স অবশ্য সীমান্তের কাছে তাদের পদাতিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের ফুটেজ প্রকাশ করেছে।
তবে সবশেষ যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহ আঠারো বছর সময় ব্যয় করে পরবর্তী যুদ্ধের পর প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
মৃত্যুর আগে সবশেষ বক্তৃতায় নাসারুল্লাহ তার অনুসারীদের বলেছেন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অনুপ্রবেশ তার ভাষায় হবে ‘একটি ঐতিহাসিক সুযোগ’।
আইডিএফের জন্য লেবাননে যাওয়া সহজ হবে কিন্তু গাজার মতো বেরিয়ে আসতে হলে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সোমবার থেকে ফের কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসকরা
সোমবার থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র চিকিৎসকরা। ওই দিন সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে জুনিয়র চিকিৎসকরা টানা ৪১ দিন কর্মবিরতি পালন করে।
এরমধ্যে শুক্রবার রাতে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একদল লোক হামলা চালায় চিকিৎসকদের উপর। এর জেরে সোমবার থেকে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছেন তারা।
সাগর দত্ত মেডিকেলে হামলার প্রতিবাদে নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার রাত থেকেই শুরু হয় কর্মবিরতি। এই নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা হয় রাজ্য পুলিশের। কিন্তু এরপরও কোনো সমাধান আসেনি।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা জানান, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের রায় তাদের সন্তোষজনক না হলে ওইদিন বিকেল পাঁচটা থেকে সব সরকারি মেডিকেল কলেজে পূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করবেন তারা। এমন ঘোষণায় কার্যত মমতা ব্যানার্জির সরকারকে ডেডলাইন দিয়ে দিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
আন্দোলনরত প্রতিনিধিরা হুঁশিয়ারি দেন, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে সোমবার রাজ্য সরকার কী বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং শীর্ষ আদালত কী বলে তা দেখার পরই তারা বিকেল থেকে কর্মবিরতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রতিনিধিদের দাবি, রাজ্য সরকারকে লিখিত প্রতিশ্রæতি দিতে হবে। এইসঙ্গে হাসপাতালে ইলেক্ট্রনিক্স ডিসপ্লে বোর্ডে শূন্য শয্যার সংখ্যা, রোগীর শারীরিক অবস্থা জানানোর ব্যবস্থার করতে হবে। এর ফলে চিকিৎসক এবং রোগীর পরিবারের ভুল বোঝাবুঝি কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রায় সব দাবি মেনে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তায় ১২ হাজার পুলিশ নিয়োগ, প্রত্যেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা বসানো, প্যানিক বাটানের ব্যবস্থাসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে এত কিছুর মধ্যেই দুর্গাপূজার ঠিক আগে পূর্ণ কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এমনটা ঘটলে আউটডোর, ইনডোর, এমনকি জরুরি বিভাগেও রোগীরা সেবা পাবেন না।
সুফি মুসলিমদের জন্য ভ্যাটিকেনের মতো হচ্ছে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র
আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা বলেছেন, সুফি স¤প্রদায়ের অন্তর্গত বেকতাশিকে মুসলমানদের জন্য রাজধানী তিরানায় একটি সার্বভৌম ক্ষুদ্ররাষ্ট্র গঠন করতে চান তিনি। যেটা অনেকটা ভ্যাটিকান সিটির মতো।
শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন জার্মানভিত্তিক সংবাদসংস্থা ডয়চে ভেলে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার এই পরিকল্পনার কথা জানান। এডি রামা জানান, রাজধানী তিরানার ২৭ একর জায়গা জুড়ে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে তার সরকার। এই রাষ্ট্রের নিজস্ব সীমানা, পাসপোর্ট ও প্রশাসন থাকবে।
এডি রামা আরো জানান, ইতালির রাজধানী রোমে অবস্থিত ভ্যাটিকান সিটির আদলে এটি প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার নাম হবে ‘দ্য সভরেন স্টেট অফ বেকতাশি অর্ডার’৷
এদিকে এই উদ্যোগের কোনো ‘নেতিবাচক প্রভাব’ সমাজে পড়বে না বলে মনে করে আলবেনিয়ার বাসিন্দারা। আবার অনেক বেকতাশিরা তার এই চাওয়াকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ সংশয় প্রকাশও করেছেন। এছাড়া বেকতাশিদের নেতা এডমন্ড ব্রাহিমাজ মনে করেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্বে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও শান্তি বাড়বে।
এক বিবৃতিতে এই বেকতাশি নেতা বলেন, ‘বেকতাশি জনগণ শান্তি, সহিষ্ণুতা ও ধর্মীয় স¤প্রীতির কারণে সমাদৃত। ভ্যাটিকানের মতো সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে তা আমাদের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কাজের জন্য সহায়ক হবে।’
আলবেনিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় স¤প্রীতি ও সহিষ্ণুতার জন্য বেশ পরিচিত। এখানে খুব কাছাকাছি দূরত্বেই গির্জা ও মসজিদের উপস্থিতি চোখে পরে। দক্ষিণ ইউরোপের দেশটিতে আন্তঃধর্মীয় বিয়েকেও বেশ সাদরে গ্রহণ করা হয়।
২০২৩ সালের আদমশুমারি অনুসারে আলবেনিয়ার জনসংখ্যা ২৪ লাখ যার মধ্যে অর্ধেকই মুসলিম ধর্মের অনুসারী। মুসলিম জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই সুন্নি মতাদর্শের অনুসারী, যার মধ্যে আনুমানিক ১০ শতাংশ মুসলিম বেকতাশি স¤প্রদায়ের৷ বাকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোমান ক্যাথলিক ও অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী রয়েছেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে অটোম্যান সাম্রাজ্যের সময় সুফিবাদ ও বেকতাশি আদর্শ বিকশিত হয় বলে প্রচলিত রয়েছে।


