তার নায়ক হওয়া নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল। বোন সুহানা খান এরই মধ্যে অভিনয়ে পা রেখেছেন। কবে তার বড়পর্দায় অভিষেক হয়, তা নিয়ে কৌতূহলের পারদ চড়ছিল। তবে শাহরুখ-পুত্র আরিয়ান খান সে পথে হাঁটলেন না। ক্যামেরার সামনে নয়, বরং পর্দার আড়ালে কাজের মধ্য দিয়ে বলিউডে অভিষেক হচ্ছে তার।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে নেটফ্লিক্স ইন্ডিয়া এক পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছে, আরিয়ান খানের পরিচালনায় বলিউডের রঙিন দুনিয়া অন্যভাবে ধরা দেবে এই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে।
সিরিজটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে নেটফ্লিক্স এবং শাহরুখ খানের রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট।
সিরিজের প্রেক্ষাপট, কীভাবে একজন আউটসাইডার বলিউডের চাকচিক্যে ভরা দুনিয়ায় নিজের জায়গা করে নেয়। এতে বেশ কয়েকজন বড় তারকার ক্যামিও দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮।
ছেলের নতুন সিরিজের ঘোষণা দিয়ে শাহরুখ খান সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আপনাদের জন্য নতুন একটি সিরিজ নিয়ে আসতে পেরে আমরা উচ্ছ¡সিত। এই সিরিজে সিনেমার দুনিয়াকে একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা যাবে। আর একজন আউটসাইডার হিসেবে সফল হতে কি করতে হয়, সেটাও এতে উঠে আসবে।
এর আগে নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘আর্চিস’ দিয়ে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় শাহরুখ-কন্যা সুহানার
বলিউড নিয়ে সিরিজ নির্মাণের ঘোষণা শাহরুখ-পুত্র আরিয়ানের
যুক্তরাষ্ট্র সামরিক তহবিল কমালে পরাজয়ের আশঙ্কা জেলেনস্কির
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফক্স নিউজকে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভকে সামরিক তহবিল কমিয়ে দিলে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে যাবে।
বুধবার (২০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘যদি তারা কমিয়ে দেয়, আমাদের শক্তি কমে যাবে – আমি মনে করি আমরা হারব’।
‘আমরা লড়াই করব। আমাদের উৎপাদন আছে, কিন্তু তা রাশিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। আমি মনে করি এটি নিরাপদ থাকার জন্য যথেষ্ট নয়’।
২০২২ সালে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে রাশিয়ান আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে কিয়েভকে জো বাইডেনের প্রশাসন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়ে আসছে। এসব সহায়তার বিরুদ্ধে বারবার আওয়াজ তুলেছেন নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প বারবার যুদ্ধ দ্রæত শেষ করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন, তবে কীভাবে তিনি তা করবেন তার বিশদ বিবরণ দেননি।
এই সপ্তাহে ট্রাম্পের মিত্ররা রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য ইউক্রেনকে মার্কিন সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে দেওয়ার বাইডেনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে, এই সিদ্ধান্তকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি বৃদ্ধির জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।
জেলেনস্কি ফক্সকে বলেছেন, ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘ঐক্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’।
তিনি আরো বলেন, ‘ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রভাবিত করতে পারেন, কারণ তিনি পুতিনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আর পুতিন ইচ্ছুক হয়ে এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারেন, তবে এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর অনেক বেশি নির্ভর করে। পুতিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দুর্বল’।
মুসলিম ও বাংলাদেশিদের হেয় করে বিজেপির নির্বাচনি প্রচারণা
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের নির্বাচনকে ঘিরে বার বার উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশিদের নাম। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির সব নেতা বলে আসছেন, ঝাড়খণ্ডে অনেক অনুপ্রবেশকারী মুসলিম বাংলাদেশি আছেন। যারা অবৈধভাবে সেখানে থাকছেন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন।
ঝাড়খণ্ডের এই নির্বাচনে কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের নিয়ে সর্বোচ্চ নির্লজ্জতা দেখিয়েছে বিজেপি। তারা নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি ভিডিও তৈরি করেছে।
এতে দেখা যাচ্ছে, ঝারখণ্ডের একটি সাজানো গোছানো বাড়িতে বসে খাবার খাচ্ছেন ঘরটির বাসিন্দারা। ওই সময় দরজায় কলিং বেল বেজে ওঠে। তখন বাড়ির এক লোক দরজা খোলার পর দেখতে পান মাথায় টুপি দেওয়া প্রাপ্ত বয়স্ক অনেক মানুষ, কিছু নারী ও অসংখ্য শিশু দাঁড়িয়ে আছে। তারা ওই বাড়িতে ঢুকে পড়ছে এবং বাড়িটি নোংরা করছে। ওই সময় বাড়ির ভেতর অনুপ্রবেশকারীদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এমন দৃশ্যও দেখানো হয়।
এরমাধ্যমে মূলত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বোঝানো হয়েছে। যাদের নোংরা হিসেবে বোঝানো হয়েছে। যারা বাংলাদেশ থেকে ঝাড়খণ্ডে গিয়ে সেখানকার পরিবেশ নষ্ট করছে।
ভিডিওটির শেষ দিকে দুই ব্যক্তিকে ওই বাড়ির লোককে বলতে শোনা যায়, আপনারা যে সরকারকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন তারাই এই অনুপ্রবেশকারীদের এনেছে। তাহলে কেন শুধুমাত্র তাদের বস্তিগুলো নোংরা থাকবে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বাড়িগুলোও নোংরা হওয়া দরকার। ভিডিওর শেষে এসব দূরীকরণে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভিডিওর মাধ্যমে মূলত মুসলিম এবং বাংলাদেশিদের হেয় করা হয়েছে। ভিডিওটি অত্যন্ত কূরুচিপূর্ণ হওয়ায় ভারতের নির্বাচন কমিশন এটি বিজেপির প্রচারণা থেকে বাদ দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে।
ইলন মাস্কের স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণ দেখতে হাজির ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইলন মাস্কের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সেই সম্পর্ক কতটা গভীর তা এবার আরও স্পষ্ট হয়েছে। মাস্কের মহাকাশ সংস্থা স্পেস এক্সের পরবর্তী প্রজন্মের রকেট স্টারশিপের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ দেখতে সশরীরে হাজির হয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ধনকুবের ইলন মাস্কের এ মহাকাশ সংস্থাটির টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের বোকা চিকা লঞ্চপ্যাড থেকে এ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন ট্রাম্প। এ সময় নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই ছিলেন মাস্ক।
এই স্টারশিপ মহাকাশে যাওয়ার পর আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে। এ সময় এটিকে আবার যথাযথভাবে লঞ্চপ্যাডে ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। এর আগে পঞ্চম দফার পরীক্ষার সময় প্রথমবার এ সাফল্য পেয়েছিল স্পেস এক্স। তবে পরে কারিগরি কারণে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে স্পেস এক্স।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, স্পেস এক্স পরে স্টারশিপ বুস্টারটি ধরার পরিকল্পনা বাদ দেয়। এটি সমুদ্রে পড়তে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটি মেক্সিকো উপসাগরে পড়েছে। এবারের এই পরীক্ষামূলক রকেট উৎক্ষেপণটি মহাকাশে প্রায় এক ঘণ্টা থাকার পর পৃথিবীতে ফিরে আসবে। যা ভারত মহাসাগরে পড়বে।
স্পেস এক্স জানিয়েছে, রকেটে কোনো নভোচারী ছিল না। তবে একটি কলা এতে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই স্টারশিপ নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে মাস্ক ও তার সংস্থা। তাদের প্রত্যাশা এই রকেটে করে একদিন মঙ্গলগ্রহ ও চাঁদে নভোচারী পাঠানো যাবে।
সেনাবাহিনী দিয়ে অবৈধ অভিবাসী তাড়াবেন ট্রাম্প
সামরিক বাহিনী দিয়ে অবৈধ অভিবাসী তাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি জারি করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের তাড়াতে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করার কথা জানিয়েছেন তিনি। সোমবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বতর্মান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে মেক্সিকোর সীমান্ত পেরিয়ে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। এ নিয়ে অনেক আগে থেকে চটে ছিলেন ট্রাম্প। সীমান্ত পেরোনো ঠেকাতে নিজের প্রথম মেয়াদে মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের কাজও শুরু করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রæতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ অভিবাসীমুক্ত করা।
ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে রক্ষণশীল একজন অধিকারকর্মী লিখেছিলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করার প্রকল্পে বাইডেন হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তা আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি জারি ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছেন ট্রাম্প। পরে ওই পোস্ট শেয়ার করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সত্যি।’
সরকারি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী বসবাস করছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা অন্তত ২ কোটি পরিবারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প আগামী ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজে শপথ গ্রহণ করবেন। তার আগেই নতুন প্রশাসন সাজানোর কাজে মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিবাসন বিষয়ে কট্টরপন্থি টম হোম্যানকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছেন। এছাড়া সোমবার ট্রাম্প তার পরিবহণমন্ত্রী হিসাবে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সাবেক প্রতিনিধি ও ফক্স বিজনেস নিউজের সঞ্চালক শন ডাফিকে মনোনীত করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবহণমন্ত্রী হিসাবে শন ডাফি যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ, গাড়ি, রেল, ট্রানজিট ও অন্যান্য পরিবহণ সংক্রান্ত বিষয় দেখভালের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ট্রাম্প সরকারের সব বড় অবকাঠামো নির্মাণ, হালনাগাদকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন ডাফি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর মার্কিন জনগণের উদ্দেশে শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘আপনাদেরকে আমি পরিবহণ খাতের সোনালি যুগে নিয়ে যেতে খুবই আগ্রহী।’ তবে বিশ্লেষকদের মতে, ডাফির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর উচ্চহার কমিয়ে ফেলা।
‘ইন্ডিয়া’ না ‘এনডিএ’? মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের মসনদে কে বসবে, চূড়ান্ত হবে বুধে, চলছে ভোটগ্রহণ
বুধবার মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট চলছে ঝাড়খণ্ডের ৮১টির মধ্যে ৩৮টি বিধানসভা আসনেও। আগামী শনিবার ভোটগণনা।
ভোটগ্রহণ শুরু দেশের দুই রাজ্যে। মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডে। এক দফাতেই ভোট হবে মরাঠাভূমে। অন্য দিকে, ঝাড়খণ্ডে শেষ দফার নির্বাচন। এনডিএ না কি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’, দুই রাজ্যের মসনদে কে বসবে, তা ঠিক হবে বুধেই। আগামী শনিবার ভোটগণনা। এই দুই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কী হতে চলেছে, সে দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
বুধবার মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট চলছে ঝাড়খণ্ডের ৮১টির মধ্যে ৩৮টি বিধানসভা আসনেও। গত ১৩ নভেম্বর বাংলার পড়শি রাজ্যের ৪৩ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এ বার মহারাষ্ট্রের ৪১৩৬ জন প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবেন ন’কোটি ৭০ লক্ষের বেশি মানুষ। মরাঠাভূমে মূল লড়াই বিজেপি-শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে)-এনসিপি (অজিত)-এর জোট ‘মহাজুটি’এবং কংগ্রেস-শিবসেনা (ইউবিটি)-এনসিপি (শরদ)-এর ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’র মধ্যে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দলও লড়াইয়ে রয়েছে। অনেকের মতে, এ বারের নির্বাচনে দুই শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তাই মহারাষ্ট্রের ভোটে এই সব আঞ্চলিক দল বড় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারে। অপর দিকে, ঝাড়খণ্ডেও ক্ষমতার দখলের লড়াইয়ে জোর টক্কর চলছে ‘ইন্ডিয়া’ এবং ‘এনডিএ’-র মধ্যে।
২০১৯-এর বিধানসভা ভোটে ঝাড়খণ্ডে প্রায় সাড়ে ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছিল জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডির ‘মহাগঠবন্ধন’। এ বারও তিন দল একসঙ্গে লড়ছে। সঙ্গে পেয়েছে বাম দল সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-কে। কিন্তু ২০১৯ সালের তুলনায় এ বারের চিত্রটা খানিক আলাদা। জমি কেলেঙ্কারি, দুর্নীতির পাশাপাশি ‘জমি জিহাদে’ মদত দেওয়ার অভিযোগে সরগরম ঝাড়খণ্ডের রাজনীতি। বিজেপি এবং তার শরিক দলের নেতারা বার বার প্রচারের গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন। নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ— প্রচারে গিয়ে ঝাঁজ বাড়িয়েছেন হেমন্ত সোরেনের সরকারের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে চম্পই সোরেনের দল বদলও ধাক্কা দিতে পারে ‘মহাগঠবন্ধন’কে, এমনই মত অনেকের। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশ নিয়েও দুই শিবিরেও মধ্যে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে পালা চলেছে।
মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন জোটের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা প্রধান একনাথ শিন্ডে (কোপরি-পাচপাখাড়ি), দুই উপমুখ্যমন্ত্রী, এনসিপির অজিত পওয়ার (বারামতী) এবং বিজেপির দেবেন্দ্র ফডণবীস (নাগপুর দক্ষিণ-পশ্চিম)। বিরোধী জোটের উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের পুত্র আদিত্য (ওরলি), প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নানা পাটোলে (সাকোলি) এবং শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি(এসপি)-র পরিষদীয় দলনেতা জিতেন্দ্র আওয়াড় (মুমব্রা-কালওয়া)।
ঝাড়খণ্ডে দ্বিতীয় দফার ভোটে ৫০০ জনের বেশি প্রার্থীর ভাগ্যনির্ধারণ হবে বুধবার। সেই তালিকায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (বরহেট), তাঁর স্ত্রী কল্পনা (গাঁডেয়), ভাই বসন্ত (দুমকা)। বিজেপির টিকিটে লড়ছেন দলের রাজ্য সভাপতি বাবুলাল মরান্ডি (ধনওয়ার) এবং প্রাক্তন জেএমএম বিধায়ক তথা বর্তমানে বিজেপি নেত্রী হেমন্তের বৌদি সীতা (জামতাড়া)।
‘ইন্ডিয়া’ না ‘এনডিএ’? মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের মসনদে কে বসবে, চূড়ান্ত হবে বুধে, চলছে ভোটগ্রহণ
বুধবার মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট চলছে ঝাড়খণ্ডের ৮১টির মধ্যে ৩৮টি বিধানসভা আসনেও। আগামী শনিবার ভোটগণনা।
ভোটগ্রহণ শুরু দেশের দুই রাজ্যে। মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডে। এক দফাতেই ভোট হবে মরাঠাভূমে। অন্য দিকে, ঝাড়খণ্ডে শেষ দফার নির্বাচন। এনডিএ না কি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’, দুই রাজ্যের মসনদে কে বসবে, তা ঠিক হবে বুধেই। আগামী শনিবার ভোটগণনা। এই দুই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কী হতে চলেছে, সে দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
বুধবার মহারাষ্ট্রের ২৮৮ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট চলছে ঝাড়খণ্ডের ৮১টির মধ্যে ৩৮টি বিধানসভা আসনেও। গত ১৩ নভেম্বর বাংলার পড়শি রাজ্যের ৪৩ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। এ বার মহারাষ্ট্রের ৪১৩৬ জন প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবেন ন’কোটি ৭০ লক্ষের বেশি মানুষ। মরাঠাভূমে মূল লড়াই বিজেপি-শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে)-এনসিপি (অজিত)-এর জোট ‘মহাজুটি’এবং কংগ্রেস-শিবসেনা (ইউবিটি)-এনসিপি (শরদ)-এর ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’র মধ্যে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দলও লড়াইয়ে রয়েছে। অনেকের মতে, এ বারের নির্বাচনে দুই শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তাই মহারাষ্ট্রের ভোটে এই সব আঞ্চলিক দল বড় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারে। অপর দিকে, ঝাড়খণ্ডেও ক্ষমতার দখলের লড়াইয়ে জোর টক্কর চলছে ‘ইন্ডিয়া’ এবং ‘এনডিএ’-র মধ্যে।
২০১৯-এর বিধানসভা ভোটে ঝাড়খণ্ডে প্রায় সাড়ে ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছিল জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডির ‘মহাগঠবন্ধন’। এ বারও তিন দল একসঙ্গে লড়ছে। সঙ্গে পেয়েছে বাম দল সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-কে। কিন্তু ২০১৯ সালের তুলনায় এ বারের চিত্রটা খানিক আলাদা। জমি কেলেঙ্কারি, দুর্নীতির পাশাপাশি ‘জমি জিহাদে’ মদত দেওয়ার অভিযোগে সরগরম ঝাড়খণ্ডের রাজনীতি। বিজেপি এবং তার শরিক দলের নেতারা বার বার প্রচারের গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন। নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ— প্রচারে গিয়ে ঝাঁজ বাড়িয়েছেন হেমন্ত সোরেনের সরকারের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে চম্পই সোরেনের দল বদলও ধাক্কা দিতে পারে ‘মহাগঠবন্ধন’কে, এমনই মত অনেকের। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশ নিয়েও দুই শিবিরেও মধ্যে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে পালা চলেছে।
মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন জোটের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা প্রধান একনাথ শিন্ডে (কোপরি-পাচপাখাড়ি), দুই উপমুখ্যমন্ত্রী, এনসিপির অজিত পওয়ার (বারামতী) এবং বিজেপির দেবেন্দ্র ফডণবীস (নাগপুর দক্ষিণ-পশ্চিম)। বিরোধী জোটের উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের পুত্র আদিত্য (ওরলি), প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নানা পাটোলে (সাকোলি) এবং শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি(এসপি)-র পরিষদীয় দলনেতা জিতেন্দ্র আওয়াড় (মুমব্রা-কালওয়া)।
ঝাড়খণ্ডে দ্বিতীয় দফার ভোটে ৫০০ জনের বেশি প্রার্থীর ভাগ্যনির্ধারণ হবে বুধবার। সেই তালিকায় রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (বরহেট), তাঁর স্ত্রী কল্পনা (গাঁডেয়), ভাই বসন্ত (দুমকা)। বিজেপির টিকিটে লড়ছেন দলের রাজ্য সভাপতি বাবুলাল মরান্ডি (ধনওয়ার) এবং প্রাক্তন জেএমএম বিধায়ক তথা বর্তমানে বিজেপি নেত্রী হেমন্তের বৌদি সীতা (জামতাড়া)।
‘বাংলায় বুলডোজ়ার চলবে না’! মন্দারমণির সৈকতে হোটেল ভাঙতে নিষেধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা
মন্দারমণি এবং সংলগ্ন এলাকার সৈকতে যে হোটেলগুলি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন, তা কার্যত নবান্নকে অন্ধকারে রেখেই করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
উত্তরপ্রদেশের মতো বুলডোজ়ার চলবে না বাংলায়। পূর্ব মেদিনীপুরের মন্দারমণি সৈকতে ‘বেআইনি’ হোটেল ভাঙার জন্য জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় মঙ্গলবার জানিয়ে দিলেন এ কথা।
জাতীয় পরিবেশ আদালতের (ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনাল) নির্দেশ মেনে আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে মন্দারমণির মোট ১৪৪টি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নোটিস জারি করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। তাতেই ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। মন্দারমণি এবং সংলগ্ন এলাকার সৈকতে যে হোটেলগুলি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন, তা কার্যত নবান্নকে অন্ধকারে রেখেই করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আর এতেই স্তম্ভিত মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, কোনও রকম বুলডোজ়ার চলবে না বাংলায়।
নবান্নের একটি সূত্র জানাচ্ছে, মুখ্যসচিবের সঙ্গে কোনও আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই এই নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আর সেই কারণেই ক্ষুব্ধ তিনি। প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশ-সহ বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে সা¤প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজ়ারের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট স¤প্রতি কড়া ভাষায় এই বুলডোজ়ার সংস্কৃতির নিন্দা করেছে। অতীতে মমতাও বিভিন্ন সময় যোগী আদিত্যনাথ, শিবরাজ সিংহ চৌহানদের বুলডোজ়ার সংস্কৃতির সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার মন্দারমণির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মুখ্যমন্ত্রী তাতে হস্তক্ষেপ করেন। জানান কোনও ভাবেই বুলডোজারের সংস্কৃতি বাংলায় কার্যকর হতে দেবেন না তিনি।
কিন্তু গোটা বিষয়টি যে হেতু আদালতের নির্দেশে হচ্ছে, সেখানে এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। নবান্নের ওই সূত্রের দাবি, জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এই কাজ করার আগে কেন নবান্নকে জানানো হল না। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিশেষ জনগোষ্ঠীর অভিযুক্তদের বাড়ি নির্বিচারে ভাঙা আর জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশে ‘উপকূল নিয়ন্ত্রণ বিধি’ (কোস্টাল রেগুলেশন অ্যাক্ট) মেনে পদক্ষেপ যে এক বিষয় নয়, মুখ্যমন্ত্রী সে সম্পর্কে সচেতন।
প্রসঙ্গত, গত ১১ নভেম্বর সিআরজেড (কোস্টাল রেগুলেটেড জ়োন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি)-র জেলা কমিটির তরফে মন্দারমণি এবং সংলগ্ন আরও চারটি মৌজায় ১৪৪টি হোটেল, লজ, রিসর্ট এবং হোম স্টে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০ নভেম্বরে মধ্যে ওই সব বেআইনি নির্মাণ ভেঙে জায়গা পরিষ্কার করতে হবে, নির্দেশ দেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২২ সালে এই বেআইনি হোটেলগুলি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় পরিবেশ আদালত। কারণ, হোটেল, রিসর্টগুলি ‘উপকূল নিয়ন্ত্রণ বিধি’ না মেনেই গড়ে উঠেছিল। এর মধ্যে শুধু দাদনপাত্রবাড়েই রয়েছে ৫০টি হোটেল, সংলগ্ন সোনামুইয়ে ৩৬টি, সিলামপুরে ২৭টি, মন্দারমণিতে ৩০টি হোটেল এবং দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর মৌজায় একটি লজ রয়েছে। এ সবই ভাঙা পড়ার কথা।
হতাশা নিয়ে বছর শেষ করল ব্রাজিল
ফুটবলে সময়টা ভালো যাচ্ছে না ব্রাজিলের। পুরো দলে একপ্রকার পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। কিন্তু এই হাওয়াবদল খুব একটা কাজে দিচ্ছে না। কোচ দরিভাল জুনিয়রের উড়ন্ত শুরুটাও অনেকটা মাটিতে নেমেছে।
চলতি বছর মহাদেশীয় আসরে শেষ চারেও যেতে পারেনি ব্রাজিল। হারতে হয়েছিল উরুগুয়ের কাছে। বছরের শেষ ম্যাচেও সেই একই প্রতিপক্ষের কাছে হতাশাজনক এক ড্র করেছে সেলেসাওরা।
অবশ্য পিছিয়ে থেকে ম্যাচে ফিরে আসাটাও ব্রাজিলের জন্য এই ম্যাচে কম প্রাপ্তির নয়। প্রথমার্ধে আক্রমণভাগে ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটের মাথায় গোল হজম করতে হয় তাদের। সেখান থেকেই অবশ্য ফিরে এসেছে তারা। দর্শনীয় দুই গোল অবশ্য চোখের সামনে দেখেছেন ভক্তরা। গোল পরিশোধের পর ব্রাজিলের চিরায়ত আক্রমণাত্মক ফুটবলও দেখা গেছে। কিন্তু ফরোয়ার্ড লাইনের দুর্বলতায় আরও একবার হতাশ হতে হয়েছে তাদের।
পুরো ৪৫ মিনিটে গোটা সাতেক শট। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলমুখে আছে কেবল এক শটই। সুযোগ এসেছিল বারবার। কিন্তু ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডরা একের পর এক সুযোগই মিস করে গেলেন পুরোটা সময় জুড়ে। প্রতিপক্ষ উরুগুয়ের ডিবক্সে একের পর এক বল রেখেছিলেন মিডফিল্ডাররা। সেটাকে কাজে লাগাতে পারেননি কেউই। রাফিনিয়া, ইগর হেসুস, ভিনিসিয়ুসরা মিস করেছেন একের পর এক সুযোগ।
উরুগুয়ে অবশ্য ব্যস্ত সময় পার করেছে রক্ষণে। ফেদে ভালভার্দের একমাত্র ফ্রি-কিক ছাড়া বলার মতো আক্রমণই ছিল না দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। লাতিনের দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াইটা প্রথমার্ধ শেষে থাকল গোলশূন্য। খেলা শেষ হলেও জয়ের দেখা পাইনি কোনো দল। ফলে হতাশা নিয়ে বছর শেষ করল ব্রাজিল।
পেরুর বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধের খেলায় খুব বেশি মুগ্ধ হওয়ার উপায় ছিল না। পুরো ৪৫ মিনিটে আক্রমণে ভীতি ছড়িয়েছে ঠিকই কিন্তু কোনো গোলের দেখা পাইনি। তবে প্রতিপক্ষ পেরুর গোলমুখে কার্যকরী শট একটাই নিতে পেরেছিল আর্জেন্টিনা। সেই খরা কাটল দ্বিতীয়ার্ধে এসে। ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে দারুণ এক চিপ করেন লিওনেল মেসি। ইনফর্ম স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ শূন্যে ভেসে করলেন দুর্দান্ত এক গোল।
তাতেই ডেডলক ভাঙলো আর্জেন্টিনার। ৫৫ মিনিটের সেই গোলেই বছরের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে জয় পেল আর্জেন্টিনা।
এল বোম্বান্বেরা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা যদিও শুরুটা খুব একটা ভালো করতে পারেনি। দলে একাধিক ইনজুরি সমস্যা নিয়েই খেলতে নেমেছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। যদিও মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগে নিজের পুরো শক্তিটাই পেয়েছিলেন লিওনেল স্কালোনি। সেটার সুযোগ অবশ্য নেওয়া হয়নি তাদের। বলার মতো সুযোগ এসেছিল একবারই।
ম্যাচের ২২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বক্সে বল পেয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। আতলেটিকো মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকারের শট পরে ফিরে আসে বারে লেগে। গোলের অতটা কাছে আর যাওয়াই হয়নি আর্জেন্টিনার। প্রথমার্ধে ৭৬ শতাংশ সময় বল পায়ে রাখলেও, গোলমুখে শট ছিল একটি। আর অন্তত গোটা ছয়েক শট তারা নিলেও সবই ছিল অফ-টার্গেট।
২০২৬ বিশ্বকাপের দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে এখন পর্যন্ত ১২ ম্যাচে ৮ জয় ও এক ড্রয়ে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল আর্জেন্টিনা।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ইস্যুতে অনড় পাকিস্তান, ভারতের অংশগ্রহণে আপত্তি
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে গিয়ে না খেলার কথা আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছে ভারতীয় বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই প্রসঙ্গে আরও একবার নিজেদের অনড় মনোভাব জানিয়ে দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে তারা। তবে হাইব্রিড মডেলে এখনও খেলতে চাইছে না দেশটি। ফলে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে সমস্যা ঝুলেই থাকল।
ভারতীয় বোর্ড চাইছে, এশিয়া কাপের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও অন্য দেশে ম্যাচ খেলতে। অর্থাৎ ‘হাইব্রিড মডেল’-এ খেলতে। তবে পাকিস্তান বোর্ড চায় সব ম্যাচ সে দেশেই হোক। এ দিন পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি বলেছেন, ‘যদি পাকিস্তানে দল পাঠানো নিয়ে ভারতের কোনও সমস্যা থাকে তা হলে আমাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুক। আমরা সেই সমস্যা মিটিয়ে দেব। পাকিস্তানে আসতে ভারতের কোনও সমস্যা থাকার কথা নয়।’
নাকভি জানিয়েছেন, ভারতের না আসার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চেয়ে আইসিসি-কে চিঠি পাঠিয়েছে পিসিবি। সেই চিঠির এখনও উত্তর পাননি তারা। বলেছেন, ‘আমরা সরাসরি আইসিসি-র সঙ্গে কথা বলছি। ওদের থেকে উত্তর চেয়েছি। এখনও সেটা পাইনি।’
জয় শাহ আইসিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলে তার সঙ্গে কি কথা বলবেন? নকভির উত্তর, ‘এ ভাবে হয় না। প্রতিটা বোর্ড স্বাধীন। তাদের নিজস্ব মত রয়েছে। আইসিসির উচিত নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাঁচিয়ে রাখা। কারণ ওরা সব দেশের প্রতিনিধি।’
রাজনীতি এবং ক্রিকেট একসঙ্গে না দেখার অনুরোধ আবারও করেছেন নকভি। বলেছেন, ‘খেলাধুলো এবং রাজনীতি দুটো আলাদা। আমি চাই না কোনও দেশ সেটাকে মিশিয়ে ফেলুক। আশা রাখছি ভারত আসবে পাকিস্তানে।’


