Home Blog Page 535

চেন্নাইয়ে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসের পরই চেন্নাই টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায় অনেকটাই। হার অবধারিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। তবুও ‘যদি-কিন্তু’র অপেক্ষায় ছিল সমর্থকরা। অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে যদি অবিশ্বাস্য কিছু ঘটে যায়!

অবশ্য জিততে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো সাকিব-শান্তদের। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের পাঁচ শতাধিক রান তাড়া করে এখন পর্যন্ত জেতেনি কোনো দল। বাংলাদেশকে তাই নতুন ইতিহাস গড়তেই হতো।

তবে টাইগাররা পারেনি তেমন কিছু করতে। এম চিদারম্বর স্টেডিয়ামে ৫১৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় গুটিয়ে গেছে ২৩৪ রানেই। ২৮১ রানের বিশাল জয় পেয়েছে ভারত। একই সাথে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা।

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া টেস্টে টসে হেরে আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রান করে ভারত। শতক হাঁকান রাবিন্দ্র জাদেযা ও রবিচন্দ্রন আশ্বিন। বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। জবাবে মাত্র ১৪৯ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ, কেউ পায়নি ফিফটিও।

২২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ৪ উইকেটে আরো ২৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এবার জোড়া শতক হাঁকান ঋষভ পন্থ ও শুভমান গিল। তখন জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় তখন ৫১৫ রান।

ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ফলে বাংলাদেশকে অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হতো। চেন্নাইয়ের মাঠে যা অনেকটাই অসম্ভব।

পারবে না জেনেও অনেকটা চেষ্টা চালায় টাইগাররা। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে তুলে ১৫৮ রান। জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ৩৫৭ রান। তবে রোববার চতুর্থ দিনে মাত্র ৭৭ রান তুলেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিনের খেলার শুরুতে সাকিব আল হাসান ব্যাট করছিলেন ৫ রানে। তার সাথে চতুর্থ দিনে আরো ২১ রান যোগ করতেই শেষ হয় সাকিবের ইনিংস। ২৬ রান করে ফেরেন আশ্বিনের শিকার হয়ে। তার বিদায়েই দিনে প্রথম উইকেটের দেখা পায় ভারত।

লিটন দাসও ফিরেছেন এর পরপরই। থিতু হওয়ার আগেই জাদেযার শিকার হয়েছেন তিনি। ১০ বলে ১ রান এসেছে তার ব্যাটে। ৬ উইকেট হারিয়ে লেজ বেরিয়ে আসে বাংলাদেশের। তবে আগের দিন ফিফটি করা নাজমুল শান্ত একাই লড়াই অব্যাহত রাখেন।

২২২ রানের মাথায় অবশ্য আর পারেননি শান্ত। ১২৭ বলে ৮২ রান করে থামেন তিনি। জাদেযার শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। তার আগে মেহেদী মিরাজও ফেরেন মাত্র ৮ রানে। তিনি শিকার আশ্বিনের। বাকিদের কেউ আর দুই অঙ্কের যেতে পারেননি।

৮৮ রানে ৬ উইকেট নেন আশ্বিন। ৩ উইকেট নিয়েছেন জাদেযা।

আগামী মাসে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ড. জাকির নায়েক

আগামী মাসে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ড. জাকির নায়েক। তিনি সেখানে লাহোর, করাচি এবং ইসলামাবাদে লেকচার দেবেন।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ড. জাকির নায়েক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৫ অক্টোবর করাচি সফরের মধ্যে দিয়ে তার সফর শুরু করবেন এবং ২০ অক্টোবর ইসলামাবাদ সফরের মধ্য দিয়ে তার সফর শেষ করবেন। তার সঙ্গে সফরে থাকবেন তার ছেলে ড. ফারিক নায়েক, যিনি একজন ইসলামী চিন্তাবিদ এবং তিনিও এই সব শহরে লেকচার দেবেন।
ড. নায়েক আরও জানিয়েছেন, করাচির অনুষ্ঠানটি বাগে-ক্বাইদে অনুষ্ঠিত হবে, যা কায়েদে-আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমাধির বিপরীতে অবস্থিত। ৫ অক্টোবর করাচিতে তার লেকচারের বিষয় হবে ‘আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য’ এবং পরদিন ড. ফারিক নায়েকের বক্তব্য থাকবে ‘ক্যা কুরআন কো সমঝ কার পড় না জারুরি হ্যায়? (কুরআন বুঝে পড়া কি জরুরি?)।
ড. নায়েক লাহোর ও ইসলামাবাদের জন্য তার পাবলিক লেকচারের সূচি জানিয়েছেনÑ করাচিতে ৫ ও ৬ অক্টোবর, লাহোরে ১২ ও ১৩ অক্টোবর এবং ইসলামাবাদে ১৯ ও ২০ অক্টোবর।
ড. জাকির নায়েকের পাকিস্তানে আগমনের খবর তার অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, অনেকেই সামাজিকমাধ্যমে তাদের আনন্দ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ড. নায়েক মালয়েশিয়ায় বাস করছেন।
স¤প্রতি, ড. নায়েক একটি পাকিস্তানি ইউটিউবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কেন তিনি পাকিস্তানের পরিবর্তে মালয়েশিয়ায় বসবাসের স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি দ্রæত জনপ্রিয়তা লাভ করে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পায়।
সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি কেন পাকিস্তানকে বেছে নেননি? জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমার জন্য পাকিস্তানে যাওয়া সহজ হত। আমি আগে পাকিস্তান সফর করেছি এবং সেখানে আমার অনেক সমর্থক আছেন।
ইসলামী একটি নীতির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, শরিয়া আমাদেরকে কম ক্ষতি গ্রহণ করতে শিখায়, যাতে বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। যদি আমি পাকিস্তানে চলে যেতাম, ভারত আমাকে আইএসআই এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করত এবং মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার চেষ্টা করত, যা ইসলাম প্রচারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করত।

জাতিসংঘে ৫০ বছর পূর্তির মধ্যমণি অধ্যাপক ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানকালে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে সাইড লাইনে এই দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হতে পারে। তবে জাতিসংঘ সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব স্টেট) অ্যান্টনি বিøংকেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। সদস্য হওয়ার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশেষ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখবেন। জাতিসংঘে উপস্থিত সব সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ মিশন আশা করছে ৫০টি দেশের সরকারপ্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা এ ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন সেটা নিশ্চিত। জাতিসংঘে বাংলাদেশ আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে এত বেশি সরকারপ্রধান বা তাদের প্রতিনিধি অতীতে যোগ দেননি। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি থাকবেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতিসংঘে অবস্থানকালে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন ড. ইউনূস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউইয়র্ক আসছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি অধিবেশনে ২৭ সেপ্টেম্বর বক্তৃতা করবেন। প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসাবে আসছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ; সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসাবে ২০ জনের একটি প্রতিনিধিদল আসছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতও অল্পসংখ্যক প্রতিনিধিদল নিয়ে কোনো সরকারপ্রধান জাতিসংঘে আসেননি।
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়ে সাইড লাইনে বিশ্বের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. ইউনূস। এর মধ্যে রয়েছেন বাহরাইনের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী সালমান বিন হামাদ বিন ইসা আল খলিফা, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøংকেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডিসহ জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সংস্থার প্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা সফর শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন।

জাতিসঙ্ঘ বাংলাদেশে সংস্কার ও বন্যা পুনর্বাসন ব্যবস্থায় সহযোগিতা দেবে

ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের পুনর্গঠন শুরু করার প্রেক্ষিতে জাতিসঙ্ঘ বাংলাদেশে পুলিশ ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারসহ ব্যাপক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদান করবে।

বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের প্রধান গুয়েন লুইস রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) এখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সময় এই আশ্বাস দেন।

বৈঠকে তারা সংস্কার, দুর্নীতি, বন্যা, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-আগস্ট মাসে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে তদন্ত নিয়ে আলোচনা করেন।

গুইন লুইস অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গৃহীত সংস্কার উদ্যোগের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে বিপ্লব-পরবর্তী প্রশাসনের প্রধান হিসেবে ‘অসাধারণ ভূমিকা নেয়ার জন্য’ ধন্যবাদ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন সমগ্র জাতির জন্য ‘সর্বাধিক ঐক্যের মুহূর্ত’ এবং তার সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে প্রত্যেকের জন্য ‘একটি নজির স্থাপন করা’।

তিনি বলেন, ‘এখন অর্থনীতি সংস্কার এবং প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সঠিক পথে নিয়ে আসার লক্ষ্যে দেশের জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ।’

গুয়েন লুইস পুলিশ প্রশাসনসহ নিরাপত্তা বাহিনীতে সংস্কারের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার পুলিশ বাহিনীর সংস্কারকে তার অগ্রাধিকারের শীর্ষে রেখেছে।

তিনি বলেন, সরকার একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা দেশে হয়রানি ও দুর্নীতি কমিয়ে আনবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের জন্য একটি কমিশনও গঠন করেছে যাতে অবাধে ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

লুইস বলেন, জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল ইতোমধ্যে জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও তাণ্ডবের বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন এজেন্সি, ডব্লিউএইচও এবং আইএলও আন্দোলনকালে আহতদের ও তাণ্ডবের ঘটনার দ্বারা যারা মর্মাহত হয়েছে তাদেরকে সাহায্য করার উপায় খুঁজছে।

জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক বলেন, জাতিসঙ্ঘ দেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য ৪ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১৮ মিলিয়ন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ বন্যাদুর্গতদের জন্য বিভিন্ন সংস্থা ও দাতব্য সংস্থার সহায়তা কর্মসূচি সমন্বয় করছে।

অধ্যাপক ইউনূস দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যার জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করতে জাতিসঙ্ঘের সহায়তা চেয়েছেন।

তারা পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন। লুইস তিন পার্বত্য জেলায় জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলো যেসব সেবামূলক কাজ করেছে তার রূপরেখা তুলে ধরেন।

প্রফেসর ইউনূস ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা শিশুদের একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়তে জাতিসঙ্ঘের সাহায্য কামনা করে বলেছেন, ‘এখানে ক্ষুব্ধ তরুণদের একটি পুরো প্রজন্ম বেড়ে উঠছে।’

সূত্র : বাসস

ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ রফতানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো: মাহমুদুল হাসান।

আজ রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আমদানি-রফতানির কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক বরাবর ওই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সেখানে নোটিশ পাওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তা না হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, ইলিশ মাছ একটি সামুদ্রিক মাছ। এই ইলিশ মাছ বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাওয়া যায়। এই ইলিশ মাছ যখন সমুদ্র থেকে নদীতে বিশেষ করে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে আসে, তখন এই ইলিশ মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে উঠে। এই কারণে সামুদ্রিক ইলিশের চেয়ে পদ্মার ইলিশ অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু।

নোটিশে আরো বলা হয়েছে, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিশাল ও বিস্তৃত সমুদ্রসীমা রয়েছে। ভারতের জলসীমায় ব্যাপকভাবে ইলিশ উৎপাদন হয়। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে ভারতের ইলিশ মাছ আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু ভারত মূলত বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ইলিশ আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশে ভারতীয় এজেন্টরা ও মাছ রফতানিকারকরা সারা বছর ধরে পদ্মা নদীর ইলিশ মাছ মজুদ করে রাখে। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে পদ্মা নদীর সব ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি করে। ক্ষেত্রবিশেষে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাচার করে। বাংলাদেশের পদ্মা নদীর সব ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি ও পাচার হওয়ার কারণে বাংলাদেশের জনগণ বাজারে গিয়ে পদ্মার নদীর ইলিশ পায় না। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের জনগণকে সামুদ্রিক ইলিশ খেতে হয়, যা পদ্মার ইলিশের মতো সুস্বাদু নয়।

বাংলাদেশের রফতানি নীতি ২০২১-২৪ অনুযায়ী ইলিশ মাছ মুক্তভাবে রফতানি যোগ্য কোনো মাছ নয়। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতে ইলিশ মাছ রফতানির অনুমতি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে।

আরো দুই মামলায় গ্রেফতার মেনন, ইনু ও মামুন

রাজধানীর তেজগাঁও থানার পৃথক দুই হত্যা মামলায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালত তাদের গ্রেফতার দেখান। এর মধ্যে রমিজ উদ্দিন আহমদ ও তাহিদুল ইসলাম হত্যা মামলা রয়েছে।

আজ সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের এই দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেন। আদালত এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তেজগাঁও থানাধীন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে গত ৪ আগস্ট রমিজ উদ্দিন আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা এ কে এম রকিবুল হাসান শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাহিদুল ইসলাম একই এলাকায় এই আন্দোলনে যান। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন তার ভাই তারিকুল ইসলাম।

সূত্র : বাসস

আরেক মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দীপু মনি, পলক, রুপা ও শাকিল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রমিজ উদ্দিন আহমদকে হত্যার অভিযোগে তেজগাঁও থানার মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালত তাদের গ্রেফতার দেখান।

আজ সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি করেন।

শুনানি শেষে আদালত এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ৪ আগস্ট তেজগাঁও থানাধীন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গিয়ে রমিজ উদ্দিন আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এ ঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর নিহতের পিতা এ কে এম রকিবুল হাসান শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সূত্র : বাসস

সব সরকারি কর্মচারীকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পদের হিসাব দিতে হবে

সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পদের হিসাব দিতে হবে। তবে আগামী বছর থেকে প্রতি বছরের সম্পদের হিসাব ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দিতে হবে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সরকারি কর্মচারীদের সম্পত্তির হিসাব জমাদান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো: মোখলেস উর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি আরো বলেন, সিলগালা খামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ হিসাব জমা দিতে হবে। ভুল তথ্য থাকলে ১৯৭৯ বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে। সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে।

সচিব বলেন, সম্পদের বিবরণী অতিগোপনীয় বিধায় এ ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন প্রযোজ্য হবে না।

দিসানায়েককে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনুরা কুমার দিসানায়েককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন আজ রোববার এই ঘোষণা দেয়। আগামীকাল সোমবার তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।

বাম ঘরানার ৫৫ বছর বয়স্ক পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট জোটের প্রার্থী ৪২.৩১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে কমিশন জানিয়েছে।
বিরোধী দলের নেতা সাজিদ প্রেমাদাসা ৩২.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। আর বর্তমান প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংগে পেয়েছেন ১৭.২৭ শতাংশ ভোট।

প্রেসিডেন্ট এখন পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার না করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী সাবরে বলেন, এটা পষ্কিার যে দিসানায়েক জয়ী হয়েছেন।

শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এই প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় রাউন্ড ভোট গণনা করে প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী নির্ধারণ করা হলো। কোনো প্রার্থীই প্রদত্ত ভোটের ৫০ ভাগ না পাওয়ায় দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট গণনা করা হয়।

নতুন প্রেসিডেন্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া তিনি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রয়াস চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সূত্র : আল জাজিরা এবং অন্যান্য

ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আ’লীগের বড় দোসর : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, এখনো আপনারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের রেখেছেন কেন? এরা আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় দোসর। আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাসী-গুণ্ডাদের বানিয়েছিল জনপ্রতিনিধি। অবিলম্বে তাদেরকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের শাস্তির দাবি এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলীর দিদারের হত্যার প্রতিবাদে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ১৬ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা কে কোথায় ছিল তা আপনাদের অজানা ছিল না। যেভাবে পেরেছেন তুলে এনে আয়না ঘরে আটকে রেখেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কে কোথায় আত্মগোপনে রয়েছে এখন কেন তাদের খুঁজে বের করছেন না। এ সময় পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে না আসার বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৮ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকার। এছাড়া ১৭ লাখ কোটি টাকা এমপি মন্ত্রীরা বিদেশে পাচার করেছে। বিচারপতি মানিক নিজেই ৭০ লাখ টাকা নিয়ে ভারতে পালাতে যেয়ে ধরা খেয়েছেন। এমপি মন্ত্রীরা কত টাকা হাতিয়েছেন তা মানিকের কর্মকাণ্ডেই ফুটে উঠেছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, কিন্তু তার দোসররা যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সেদিকে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণসমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি’র খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে গণসমাবেশ পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল।