Home Blog Page 538

‘ফোনে আপা আপা বলা’ আ. লীগকর্মী তানভীর বহিষ্কার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগ জ্যাকসন হাইটস ইউনিট কমিটি-এর সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর কায়সারকে।
তিনি গত ১২ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের পর তার সেই অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি রফিকুর রহমান মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) একটি লিখিত আদেশে মো. তানভীর কায়সারকে বহিষ্কার করা হয়। উক্ত বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয় বার বার সতর্ক করা সত্তে¡ও তানভীর কায়সার দলের নীতি, আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় তাকে দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রফিকুর রহমান জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের পর তানভীর কায়সার সেই অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হেয় করেছেন। একজন দলীয় কর্মী হয়ে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি দলে থাকার কোন অধিকার নেই। তাই গত সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে তানভীরের ফেসবুক একাউন্টের প্রোফাইল বন্ধ রয়েছে। ফোনালাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ওই নেতাদের সাথে তিনি আন্দোলন করবেন। কিন্তু তিনি নিজেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের হাতে ‘নির্যাতিত’ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তানভীর কায়সার ২০১৯ সালের ৪ জুন লস অ্যাঞ্জেলস হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকেন। তার ভিসাটি ছিল ভ্রমণ ভিসা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের কিছুদিন পরই দাবি করেন যে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে নির্যাতন করেছে। এজন্য তিনি নিজের নিরাপত্তা চান। পরে ২০২০ সালের ৭ মে দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এরপর ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলেও জানা গেছে।
ফোনালাপ ফাঁসে ভাইরাল হওয়া তানভীরের জন্ম ১৯৮৯ সালের ৭ ডিসেম্বর। তার বাবা সোলেমান কায়সার এবং মা নিলুফার ইয়াসমিন। তার স্ত্রীর নাম রুকাইয়া আযাদ। তবে এই তানভীর আওয়ামী লীগের কোন দায়িত্বে আছেন, কোন সূত্রে শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন, সেটি এখনো জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে শেখ হাসিনার সঙ্গে অনেকেরই কথোপকথনের অডিও ফাঁস হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করছেন। তবে এসব কল রেকর্ড কীভাবে ফাঁস হচ্ছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তানভীরের ফোনালাপ কীভাবে ফাঁস হলো এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ প্রবাসীদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: তারেক রহমান

নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ: সংস্কার কার্যক্রমের পথ ধরে নির্বাচনি রোডম্যাপে উঠবে দেশ * অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ফ্যাসিজমের অনেক প্রেতাত্মা আছে, দ্রত সরাতে হবে -মির্জা ফখরুল
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না-এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হাজারো শহিদের রক্তের বিনিময়ে লাখো কোটি জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। এ সরকারের কোনো কোনো কার্যক্রম সবার কাছে হয়তো সাফল্য হিসাবে বিবেচিত নাও হতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এ সরকারের ব্যর্থতা হবে আমাদের সবার ব্যর্থতা। বাংলাদেশের পক্ষের গণতন্ত্রকামী জনগণের ব্যর্থতা। তাই সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। দেশ-বিদেশ থেকে নানারকমের উসকানিতেও জনগণ সরকারকে ব্যর্থ হতে দেবে না। তবে সরকার যাতে নিজেরাই নিজেদের ব্যর্থতার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি তিনি বক্তব্য দেন। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মাফিয়াচক্রের বেনিফিশিয়ারি অপশক্তি প্রশাসনের অভ্যন্তরে থেকে কিংবা রাজনীতির ছদ্মাবরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অন্যায়, অনিয়ম আর অরাজকতার বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণে মাফিয়াচক্রের প্রধান দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে মাফিয়া শাসন-শোষণের অবসান ঘটেছে। পতিত স্বৈরাচারের পলায়নের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক-মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পথে প্রধান বাধা দূর হয়েছে। তবে বাধা দূর হলেও মাফিয়াচক্রের রেখে যাওয়া ১৫ বছরের জঞ্জাল দূর হয়নি। এ জঞ্জাল দূর করে ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে। তবে মাফিয়াচক্রের প্রধান হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও এ চক্রের বেনিফিশিয়ারি অপশক্তি প্রশাসনের অভ্যন্তরে থেকে কিংবা রাজনীতির ছদ্মাবরণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব সংস্কার কার্যক্রমের প্রথম ও প্রধান টার্গেট হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কিংবা যে কোনো দেশেই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকার অবশ্যই জনগণের সরকার। তাই জনগণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে, রাখবে। তবে কোনো একপর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জবাবদিহিও কিন্তু নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এজন্যই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত জবাবদিহিমূলক সরকার এবং সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া দরকার। কারণ, জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া সংস্কার কার্যক্রমের প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া উন্নয়ন-গণতন্ত্র কিংবা সংস্কার কোনোটিই টেকসই ও কার্যকর হয় না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যেক ভোটারের ভোট প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করে ভোটারদের কাক্সিক্ষত প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
সরকার এজেন্ডা সেটিংয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে না পারলে গণ-অভুত্থানের সাফল্য ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্রকারী চক্র নানা সুযোগ গ্রহণ করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এর কিছু আলামত ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেজন্য বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন জনপ্রশাসনের সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্ষম ও উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার ইতোমধ্যেই বেশকিছু ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
তারেক রহমান প্রত্যাশা করেন, সংস্কার কার্যক্রমের পথ ধরে নির্বাচনি রোডম্যাপে উঠবে দেশ। সুতরাং, আসুন আমরা সবাই কাজের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস, ভালোবাসা অর্জন করি। জনগণের সঙ্গে থাকি। জনগণকে সঙ্গে রাখি।
নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কেউ যদি মনে করেন, একটি উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আরও নতুন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন রয়েছে, তাতেও দোষের কিছু নেই। কারণ, শেষ পর্যন্ত জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তারা কাকে সমর্থন জানাবে কিংবা কাকে সমর্থন দেবে না। এ কারণেই বিএনপি বারবার জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছে। বিএনপি মনে করে, একমাত্র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই রাষ্ট্র-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সঙ্গে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশীদারত্ব তৈরি হয়।
গণ-অভ্যুত্থান কিংবা সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে রাজনীতির মাঠে নানারকম কথা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এটি একটি স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য রীতি। প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবেন, এটিই স্বাভাবিক। এ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে বিশ্বাস করি, ফৌজদারি অপরাধের বিচার যেমন বিচারিক আদালতে হয়, ঠিক তেমনই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক আচরণের বিচার হয় জনগণের আদালতে।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যাত্রাপথে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে হয়তো আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতার পরিবর্তন মানে শুধুই রাষ্ট্রক্ষমতার হাতবদল নয়। ক্ষমতার পরিবর্তন মানে রাষ্ট্র ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মনে রাখা প্রয়োজন-রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আচার-আচরণেও গুণগত পরিবর্তন জরুরি। সুতরাং কোনো প্রলোভন কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজের নেতৃত্বদানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখুন। ছাত্র-জনতার কাক্সিক্ষত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার এ যাত্রাপথে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে হয়তো আরও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আরও কিছু পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে সেই পথ সন্ত্রাস-সংঘর্ষ-প্রতিশোধ কিংবা প্রতিহিংসার নয়। সেই পথ হবে ধৈর্য, সহনশীল ও সমঝোতার। রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির দেওয়া ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র-রাজনীতি এবং রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম সংস্কারের লক্ষ্যে ২০২৩ সালেই বাংলাদেশের পক্ষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তবে ঘোষিত ৩১ দফাই শেষ কথা নয়। বিএনপি মনে করে, রাষ্ট্র কিংবা রাজনীতি-সব ক্ষেত্রেই সংস্কার কার্যক্রম একটি ধারাবাহিক ও চলমান প্রক্রিয়া। সুতরাং, রাষ্ট্র ও রাজনীতি সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির আরও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন-পরিমার্জনকেও বিএনপি স্বাগত জানায়।
সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ফ্যাসিজমের অনেক প্রেতাত্মা অবস্থান করছে। তারা এখনো ছাত্র-জনতার বিজয়কে ব্যর্থ করতে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের দ্রæত চেয়ার থেকে সড়াতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি, তা যেন হেলায় হেলায় ফেলে না দিই। সরকারের কাছে আন্দোলনে প্রত্যেক আহত, পঙ্গু ও শহিদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নানা সংস্কারের কথা বলছেন। কিন্তু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সরকারকে অনুরোধ করতে চাই, অবিলম্বে ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি সংসদে পাঠাবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি ১৬ বছর আন্দোলন করে এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। আমাদের সাবধান-সতর্ক থাকতে হবে। বিজয় এখনো হয়নি। বিজয় ছিনিয়ে নিতে হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভির আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন-নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, গাজীপুর জেলার ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা জেলার নিপুণ রায় চৌধুরী, গাজীপুর মহানগরের শওকত হোসেন সরকার, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজিব আহসান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, জাসাসের হেলাল খান, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, তাইফুল ইসলাম টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, নাজিমউদ্দিন আলম, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

কমলা মার্কিন রাজনীতি উত্তপ্ত করছেন : ট্রাম্প

রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্ব›দ্বী কমলা হ্যারিসকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। দ্বিতীয়বারের মতো হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর ট্রাম্প কমলা হ্যারিসকে কমরেড অভিহিত করে অভিযোগ করেছেন যে, কমলা কমিউনিস্ট বামপন্থি ভাষ্য প্রচার করছেন। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছেন কমলা। সোমবার সকালে যখন ট্রাম্প ফ্লোরিডার গলফ কোর্সে ছিলেন। সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সেখানে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা একজন সন্দেহভাজনকে আটক করেন। নাম তার রায়ান রাথ। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার কাছে একটি একে-৪৭ রাইফেল পাওয়া যায়। রাথকে অবৈধ অস্ত্র রাখার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে তার রাইফেল থেকে কোনো গুলি চালানো হয়নি। ট্রাম্প জানান, এভাবে বারবার তাঁর ওপরে আক্রমণের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, অজানা স্থান থেকে লাখ লাখ মানুষকে আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া একটি অপরাধ। আমাদের সীমান্ত বন্ধ করতে হবে এবং সন্ত্রাসী, অপরাধী ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের অনতিবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে শহর ও গ্রাম থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। হামলার চেষ্টার খবরে বিশেষ ভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পের প্রতিদ্ব›দ্বী তথা যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন- ‘আমি খুশি যে ট্রাম্প সুস্থ এবং সুরক্ষিত রয়েছেন’।
ট্রাম্পকে হত্যা করতে গলফ মাঠের কাছে ঝোপে ১২ ঘণ্টা ওতপেতে ছিলেন বন্দুকধারী : ফ্লোরিডার পাম বিচ এলাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর দ্বিতীয়বারের মতো হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প তাঁর নিজের গলফ ক্লাবে বন্ধু স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন। এমন সময় সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারী প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দক্ষতায় ট্রাম্পকে দ্রæত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় রবিবার দুপুরে ট্রাম্প যখন পাম বিচ ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাবে খেলছিলেন, তখন সিক্রেট সার্ভিসের একজন সদস্য গলফ মাঠের পাশে ঝোপের ভিতরে একটি বন্দুকের নল লক্ষ্য করেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানে দুটি ডিজিটাল ক্যামেরা, একটি কালো প্লাস্টিকের ব্যাগ ও আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। বন্দুকটি প্রায় ৪৪০ গজ দূরে থেকে গুলি করতে সক্ষম হলেও, সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা দ্রæত পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গলফ খেলার সময় তিনি কাছাকাছি চার থেকে পাঁচটি গুলির শব্দ শুনেছিলেন। এই ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিস চারটি গুলি ছোড়ে, কিন্তু সন্দেহভাজন বন্দুকধারী পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সন্দেহভাজনের গাড়ি শনাক্ত করা হয় এবং তাকে ফ্লোরিডার মার্টিন এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ৫৮ বছর বয়সী রায়ান ওয়েসলি রুথের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, রুথ দীর্ঘ সময় ধরে গলফ মাঠের পাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তার সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করার আগেই সেখানে অবস্থান করছিলেন। এই হত্যাচেষ্টার ঘটনা ট্রাম্পের চলমান নির্বাচনি প্রচারের সময়কালে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অতীতে রুথের ইউক্রেনে যুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথা জানা যায়। যদিও বয়সের কারণে তাকে সেই যুদ্ধে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবু তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা বারবার বলেছিলেন। এর আগেও রুথ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ২০২২ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার বাড়িতে একটি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পাম বিচের স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ ট্রাম্পের জীবন আরও একবার গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছিল। সিক্রেট সার্ভিসের তৎপরতায় সাবেক প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয়বারের মতো হত্যাচেষ্টার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন, তবে এই ঘটনা ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মানতেই হলো মমতাকে

ওদের (জুনিয়র ডাক্তারদের) চারটে দাবির মধ্যে প্রথমটা (ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত) সিবিআইয়ের হাতে। ওদের বাকি চারটে দাবি আমরা মেনে নিয়েছি
ঢাকা ডেস্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর : আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বিচার চেয়ে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের ‘দাবি’ কার্যত মেনে নিলেন মমতা ব্যানার্জি। পুলিশের কমিশনার ভিনীত গোয়েল, ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেবাশিস হালদার এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা কৌস্তভ নায়েককে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। গতকাল বিকালেই কলকাতা পুলিশ কমিশনার ভিনীত গোয়েলকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে মনোজ কুমার বর্মাকে। গোয়েলকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রধান পদে নিয়োজিত করা হয়েছে।
অভিষেক গুপ্তাকে উত্তর কলকাতার ডেপুটি কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের প্রধান করা হয়েছে। কৌস্তভ নায়েককে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ ইনস্টিটিউটের নির্দেশক পদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেবাশিস হালদারকে সরিয়ে গণ স্বাস্থ্য বিভাগের অফিসার ও স্পেশাল ডিউটি পদে আনা হয়েছে।
এই তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদার বলেন, এ পদক্ষেপ আমাদের দাবির ন্যায্যতাকে প্রমাণ করে।
তবে কলকাতা থেকে ডিডাবিøউ বাংলার সাংবাদিক স্যমন্তক ঘোষ জানান, পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে ভিনীত গোয়েলকে সরিয়ে যে পদ দেওয়া হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত সম্মানজনক। সূত্র জানিয়েছে, তিনি এই পদটিই চেয়েছিলেন। স্পেশাল টাস্ক ফোর্স খুবই এলিট ফোর্স। কলকতা পুলিশে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ বলে পরিচিত।
বিবিসি জানায়, সোমবার দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি মেনে প্রশাসনিক রদবদলের প্রতিশ্রæতি দেন মমতা ব্যানার্জি। আর গতকাল তা বাস্তবায়ন করেন।
সোমবার গভীর রাতে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘ওদের (জুনিয়র ডাক্তারদের) চারটে দাবির মধ্যে প্রথমটা (ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত) সিবিআইয়ের হাতে। ওদের বাকি চারটে দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা, ডিসি নর্থকেও সরানো হয়েছে। আমি ওদের কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।
‘নমনীয়’ রাজ্য সরকার : জুনিয়র চিকিৎসকদের টানা আন্দোলন, সেখানে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনসহ সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠনের সমর্থন এবং বিপুল পরিমাণে নাগরিক সমাজের শামিল হওয়ার ফলে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার সে কথা মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে তাদের অভিমত, দাবি মেনে রদবদলের প্রতিশ্রতির কিন্তু রাজনৈতিক দিকও আছে। এর মধ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বল আশ্বাস দেন আন্দোলনরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে না রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, সোমবারের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল পুরো দেশ। একাধিকবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা হলেও তা বিফল হয়েছে। গত সপ্তাহে যে তিনবার নবান্নে বৈঠকের প্রস্তাব এসেছিল তার প্রত্যেকবারই মুখ্যমন্ত্রী জুনিয়র ডাক্তারদের জন্য অপেক্ষা করেছেন বলে জানানো হয়েছিল। আন্দোলনকারীরা এ বৈঠক সরাসরি স¤প্রচারের দাবিতে অনড় থাকায় বৈঠক হয়নি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক খেল বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিখা মুখার্জি বলেন, ‘এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে আসার মতোই এটাও রাজনীতির একটা কৌশল।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী অন্য একটা দিক উল্লেখ করেছেন।

দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা

দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন আতিশি মারলেনা। গতকাল অরবিন্দ কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর আম আদমি পার্টি সর্বসম্মতিক্রমে ৪২ বছরের আতিশিকে বিধায়ক দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচিত করে। গত রবিবার কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনতার রায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। দিল্লির আবগারি নীতির দুর্নীতির কারণে কেজরিওয়ালকে দুর্নীতি দমনে সংস্থা সিবিআই গ্রেপ্তার করেছিল। গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট তাকে জামিন দেন।

লেবাননে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ইসরাইল দায়ী: হিজবুল্লাহ

লেবাননে ভয়াবহ পেজার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা এ পর্যন্ত আট। আহত হয়েছেন ২ হাজার ৭৫০ জন।
হিজবুল্লাহ বলছে, সব তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পর আমরা বুঝতে পেরেছি যে, এ নৃশংস বিস্ফোণের জন্য ইসরাইল দায়ী।
এ সময় হিজবুল্লাহ জানায়, ফিলিস্তিনকে তারা সহায়তা করে যাবে। আর লেবাননে ইসরাইলের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এ বিস্ফোরণে দেশটিতে অবস্থিত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোজতবা আমানিও আহত হয়েছেন। তিনি একটি পেজার ব্যবহার করতেন। দূতাবাস বলছে, রাষ্ট্রদূতের অবস্থা গুরুতর নয়।
লেবানন সরকারের এক মুখপাত্র এ বিস্ফোরণের জন্য সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করে বলেন, এটি লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। দেশটির তথ্যমন্ত্রীও ‘ইসরাইলি আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো বিবৃতি দেয়নি ইসরাইল।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করেছেন।
গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ৩টায় প্রিটোরিয়া বাংলাদেশ হাইকমিশনের অডিটিরিয়ামে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. কাজী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় কুরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ শেখ মাসিদ।
দোয়া মাহফিলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন মাওলানা ইয়াকুব ক্বাসেমী, রাসূল (সা.) আদর্শ ও গুণাবলী নিয়ে আলোচনা করেন ইসলামিক ফোরাম অব আফ্রিকার সভাপতি মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, প্রবীণ কমিউনিটি নেতা সৈয়দ মকসুদ মওলা, বিএনপি নেতা কেএম আখতারুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রবীণ কমিউনিটি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেরাজ মিয়া, বিএনপি নেতা মমিনুল হক মমিন, নেক মানির প্রধান নির্বাহী কাজী ফরহাদ কামাল, ইসলামিক ফোরামের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি ইব্রাহিম আহমেদ, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, ইমরান আলী বাবুল, জহিরুল আলম তরুণ, ওমর ফারুক, সোয়াজিল্যান্ড বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ইসলামিক ফোরামের নেতা আব্দুল মতিন, শরীফ উদ্দিন, আমানত উল্ল্যাহ ফারুক, নিজাম উদ্দিন, শাহেদ মাহমুদ, সোয়াজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাফর ইমাম রিয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
আরও উপস্থিত ছিলেন- যমুনা টিভির আফ্রিকা প্রতিনিধি নুরুল আলম, শাপলা টিভির সিও নোমান মাহমুদ, আফ্রো বাংলার বার্তা সম্পাদক আব্দুল মনিম মুন্না, হাইকমিশনের কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

লেবাননে পেজার বিস্ফোরণে আহত ইরানের রাষ্ট্রদূত

লেবাননে ভয়াবহ পেজার বিস্ফোরণে দেশটিতে অবস্থিত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোজতবা আমানিও আহত হয়েছেন। তিনি একটি পেজার ব্যবহার করতেন।
দূতাবাস বলছে, রাষ্ট্রদূতের অবস্থা গুরুতর নয়।
লেবাননে ওই বিস্ফোরণে আটজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও দুই হাজার ৭৫০ জন। নিহতের মধ্যে আট বছরের এক শিশুও রয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরাস আবিয়াদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশজুড়ে পেজার বিস্ফোরণে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
লেবানন সরকারের এক মুখপাত্র এ বিস্ফোরণের জন্য সরাসরি ইসরাইলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, পেজার বিস্ফোরণের জন্য ইসরাইল দায়ী। এটি লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
রয়টার্সের তিমুর আজহারি জানান, লেবাননের তথ্যমন্ত্রীও ‘ইসরাইলি আগ্রাসনের’ নিন্দা জানিয়েছেন।
হিজবুল্লাহ বলছে, লেবাননজুড়ে গোষ্ঠীটির সদস্যদের ব্যবহৃত যোগাযোগ ডিভাইস (পেজার) একযোগে বিস্ফোরণে এক মেয়ে ও তাদের দুই যোদ্ধা নিহত ও বহু লোক আহত হয়েছে। তারা বলছে, এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি ইসরাইলের হাত আছে।
এ ঘটনায় এখনও কোনো বিবৃতি দেয়নি ইসরাইল।

নববধূকে বাড়িতে এনে যে কাণ্ড ঘটালেন বর

টিভিএস অ্যাপাচি মোটরসাইকেল এবং তিন লাখ রুপির যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় এক নববধূকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন বর। সোমবার এ ঘটনা ঘটে ভারতের উত্তর প্রদেশের আমরোহা এলাকায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশের আমরোহা এলাকায় এক নববধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। যৌতুক হিসেবে একটি টিভিএস অ্যাপাচি মোটরসাইকেল ও তিন লাখ রুপি না দেওয়ায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, দুই বছর আগে আমরোহার বাসিন্দা মীনা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন বাইখেদা গ্রামের তরুণ সুন্দর। তখন থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্রতি যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন তিনি। এ নিয়ে আগেও কয়েকবার নববধূকে মারধর করেন স্বামী।
বিয়ের পর থেকেই সোহারকায় বাবার বাড়িতে থাকতেন নববধূ মীনা। নববধূর পরিবারের একজন সদস্য বলেন, সুন্দর প্রত্যেক দিন তার শ্বশুরবাড়িতে আসতেন এবং সেখানে খাবার খেতেন। রোববার রাতেও শ্বশুরবাড়িতে যান সুন্দর এবং নববধূকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি।
বাড়িতে আনার পরপরই নববধূর সঙ্গে যৌতুক নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন সুন্দর। একপর্যায়ে নববধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা টেলিফোনে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশকে জানান। এ সময় ওই নববধূর পরিবারের সদস্যরা থানায় হাজির হয়ে সুন্দরকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
নববধূর বাবা বিজয় খাদক বানসি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুন্দর, তার মা, বোন এবং অন্য চারজনের নামে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। আমরোহা পুলিশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেছেন, নববধূর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা নিয়েছে।
পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

৫০ জনকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর পর স্বামী বললেন

ফ্রান্সের আদালতে হাজির হয়ে ৭১ বছর বয়সি দমিনিক পেলিকত বললেন, ‘আমি ধর্ষক’। অভিযোগ, ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নিজের স্ত্রী জিসেল পেলিকতকে নেশাগ্রস্ত করে যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন দমিনিক এবং আরও প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি। অবশেষে নিজের অপরাধ মেনে নিয়েই আদালতে ওই স্বীকারোক্তি দেন দমিনিক।
আদালতে অভিযুক্ত ৫০ জনের দিকে ইঙ্গিত করে পেলিকত বলেন, ‘এই রুমে অন্য সবার মতো আমিও ধর্ষক। তারা সবাই জানত। এটা তার (জিসেল) প্রাপ্য ছিল না।’
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জিসেলকে দুশ্চিন্তার জন্য ওষুধ দিতেন দমিনিক। সে ওষুধের প্রভাবে যখন জিসেল নিস্তেজ হয়ে পড়তেন, তখন নানাভাবে তার ওপর যৌন সহিংসতা চালাতেন দমিনিক। একটা সময় অনলাইনে পরিচয় হওয়া ব্যক্তিদের দিয়েও স্ত্রীকে ধর্ষণ করিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ফ্রান্সের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। সামাজিক নানা সংগঠন জিসেলের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ন্যায়বিচার পেতে আইনি লড়াইয়ে সহায়তা করছে।