ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক ধরে রাখতে চাই। মঙ্গলবার তৃতীয় দফা নরেন্দ্র মোদি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন উপলক্ষ্যে এনডিটিভিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
জয়শঙ্কর বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চাই। প্রতিবেশীরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যা ঘটেছে, সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চাই। তাদের সঙ্গে আমাদের মধ্যে ভালো বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে; আমাদের জনগণের সঙ্গে তাদের জনগণের সম্পর্কও ভালো। আমরা সম্পর্কটা এভাবেই ধরে রাখতে চাই।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তারপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। প্রাথমিকভাবে তিনি অল্প সময় ভারতে থাকবেন বলে আশা করা হলেও এখন তিনি অন্য কোনো দেশে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে সফল হননি।
এর আগে গত মাসে ভারতীয় পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, শেখ হাসিনা খুব স্বল্প নোটিশে দিল্লি আসার অনুমতি চেয়েছিলেন।
এদিকে ভারতের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অর্ন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবাই ইসলামপন্থি, বিএনপিপন্থি। ইসলামপন্থিরা এই দেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করবে। আর বাংলাদেশ শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ। এসব ধারণা থেকে ভারতকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশও অন্য প্রতিবেশীর মতো একটি প্রতিবেশী দেশ।
তবে শেখ হাসিনার প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার প্রত্যর্পণ না চাওয়া পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্কের আপস প্রতিরোধে তাকে অবশ্যই নীরব থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘যদি ভারত তাকে রাখতে চায়, যতক্ষণ না বাংলাদেশ তাকে ফেরত চায়, শর্ত হবে-তাকে চুপ থাকতে হবে।’
বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে চাই,এনডিটিভিকে জয়শঙ্কর
ঠিক সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে, অমিত শাহের মন্তব্যে জল্পনা, জাতগণনা নিয়ে কি সুর নরম কেন্দ্রের?
অতীতে জাতগণনার সম্ভাবনা খারিজ করতে দেখা গিয়েছে শাসক শিবিরকে। কিন্তু কার্যত প্রথম বার শাহ সেই সম্ভাবনা যে উড়িয়ে দিলেন না, তার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।
জনগণনার সঙ্গে জাতগণনার দাবি তুলে সরব সরকারের জোটসঙ্গী জেডিইউ ও টিডিপি। জাতগণনা প্রসঙ্গে সুর নরম করেছে আরএসএস-ও। এই আবহে আজ তৃতীয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের একশো দিনের মাথায় কার্যত প্রথম বার জাতগণনার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিলেন না কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানালেন, ঠিক সময়ে এ নিয়ে জানানো হবে।
অতীতে জাতগণনার সম্ভাবনা খারিজ করতে দেখা গিয়েছে শাসক শিবিরকে। কিন্তু কার্যত আজ প্রথম বার শাহ সেই সম্ভাবনা যে উড়িয়ে দিলেন না, তার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা। প্রথমত, বিরোধীরা দেশে জাতগণনার পক্ষে সমর্থনের চোরাস্রোত তৈরি করতে পেরেছেন। যে স্রোতের প্রতিকূলে গেলে জনসমর্থনে ধস নামতে পারে। দ্বিতীয়ত জাতগণনার পক্ষে শরিকি চাপও বাড়ছে। গতকাল সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বিহারের ধাঁচে দেশে জাতগণনার দাবি তুলেছেন জেডিইউয়ের কার্যনির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝা। বিহারের অপর দুই শরিক জিতনরাম মাঝি বা চিরাগ পাসোয়ানের দলও জাতগণনার পক্ষে আগেই সওয়াল করেছে। জাতগণনার পক্ষে প্রকাশ্যে সরব হয়েছে এনডিএ-র বড় শরিক টিডিপিও। তৃতীয় কারণ হল, আরএসএস এ বিষয়ে স¤প্রতি অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। দিনকয়েক আগে আরএসএসের মুখপাত্র সুনীল অম্বেকর বলেন, ‘‘জনকল্যাণের লক্ষ্যে জাতগণনার তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। কিন্তু সেই তথ্য যেন রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের জন্য ব্যবহার না হয়। ’’
রাজনীতিকদের মতে, আরএসএসের পরিবর্তিত মনোভাবের প্রভাব পড়েছে বিজেপিতে। আজ শাহের বক্তব্য থেকেই তা স্পষ্ট। তিনি আজ প্রথমে বলেন, ‘‘দেশ জুড়ে খুব দ্রæত জনগণনার কাজ শুরু হয়ে যাবে।’’ আর জাতগণনা প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘জনগণনার বিষয়ে যখন ঘোষণা হবে, তখন সব জানানো হবে।’’ রাজনীতিকদের মতে, জাতগণনা সরাসরি হবেই এ কথা না বললেও, তিনি বিষয়টি উড়িয়ে দেননি। যদিও সরকারের কাছে সমস্যা হল, জাতগণনা হলে সম্ভবত স্পষ্ট হয়ে যাবে যে এ দেশে জনসংখ্যার পঞ্চাশ শতাংশের বেশি ওবিসি। সেই অনুপাতে সংরক্ষণ করতে হলে উচ্চ বর্ণের (জেনারেল) জন্য সংরক্ষণের সুবিধা কাটছাঁট করতে হবে।
তৃতীয় মোদী সরকারের প্রথম একশো দিনে আর যে বিষয়টি নিয়ে শাসক শিবির আতান্তরে, তা হল মণিপুরের পরিস্থিতি। আজ শাহ দাবি করেন, ‘‘মণিপুরের সঙ্গে মায়ানমারের সীমান্ত খোলা থাকায় জঙ্গি আনাগোনা বড় সমস্যা। গত একশো দিনে মণিপুর-মায়ানমার সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া বসানো হয়েছে।’’ যুযুধান কুকি ও মেইতেই গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান। অমিতের আশা, দ্রত সমাধানসূত্র পাওয়া যাবে। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, ‘‘স্বঘোষিত চাণক্যের (অমিত শাহ) কথা অনুযায়ী সব যদি ঠিক থাকে, তা হলে কেন গত বছর মে মাসের পর থেকে আর সেখানে যাননি প্রধানমন্ত্রী?
জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা ভোটের প্রথম দফায় কড়া নিরাপত্তা, গণতন্ত্রের উৎসবকে শক্তিশালী করার বার্তা মোদীর
প্রথম দফা নির্বাচনের কারণে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে উপত্যকা। বিগত কয়েক দিন ধরে বার বার জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরে। সেই কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা সাজিয়েছে প্রশাসন।
সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হল জম্মু ও কাশ্মীরে। বুধবার প্রথম দফার ২৪ আসনে ভোটগ্রহণ। এক দশক পরে জম্মু ও কাশ্মীরে আবার বিধানসভা ভোট হচ্ছে। তবে ২০১৪-র মতো পূর্ণ রাজ্য নয়, ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে বিশেষ মর্যাদা খোয়ানোর পাশাপাশি রাজ্যের তকমাও হারিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। ফলে এই বিগত ১০ বছরে অনেক কিছু পাল্টে গিয়েছে উপত্যকার রাজনীতিতে। বুধবারের ভোটগ্রহণ পর্বে সকলকে যোগ দেওয়ার আহŸান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় তিনি লেখেন, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীরের বিধাসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় নির্বাচনী এলাকার সকলকে বিপুল সংখ্যক ভোট দিতে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার আহŸান জানাচ্ছি।’’
নির্বাচনের কারণে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে উপত্যকা। বিগত কয়েক দিন ধরে বার বার জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরে। সেই কথা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা সাজিয়েছে প্রশাসন। সশস্ত্র আধা সামরিক বাহিনী (সিএপিএফ) থেকে শুরু করে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশÑ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সাজানো হয়েছে বহু স্তরে। নির্বাচম কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফায় ভোটার সংখ্যা ২৩ লক্ষ ২৭ হাজার ৫৮০ জন। সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে বদ্ধ পরিকর কমিশনও। একই সঙ্গে ভোটদানে সর্বাধিক ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় তারা। সেই মতো একাধিক পদক্ষেপও করেছে কমিশন এবং পুলিশ। যেখানে যেখানে ভোট, সেই সব এলাকায় চলছে রুটমার্চও।
জম্মু-কাশ্মীরে তিন দফা নির্বাচনের বুধবারই প্রথম দিন। প্রথম দফায় মোট ২৪ আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে জম্মুতে আটটি এবং কাশ্মীরে ১৬ আসন রয়েছে। প্রথম দফায় ২১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কুলগামের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ ইউসুফ। ডুরুতে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে গুলাম আহমেদ মিরকে। এ ছাড়াও, ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের সাকিনা ইতু, পিডিপির সারতাজ মাদনি, ইলতিজা মুফতি-সহ আরও অনেকের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ। পুলওয়ামা, ডোডা, অনন্তনাগ, শ্রীগুফওয়াড়ার মতো কেন্দ্রের দিকেও নজর রয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় ২৬ আসনে এবং ১ সেপ্টেম্বর তৃতীয় তথা শেষ দফায় ৪০ আসনে ভোটগ্রহণ হবে জম্মু ও কাশ্মীরে। গণনা আগামী ৮ অক্টোবর।
শনিতে আমেরিকায় মোদীর কূটনীতি-যাত্রা, রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশনের পাশাপাশি যোগ দেবেন কোয়াডে
অতীতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্কে যাওয়াটা নিছকই একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে সেই রুটিন অনুষ্ঠান থেকে সরে এসে আমেরিকা সফরে এক কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করেছিলেন মোদী।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিন দিনের আমেরিকা সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় বক্তৃতা করার পাশাপাশি চতুর্দেশীয় অক্ষ ‘কোয়াড’-এর শীর্ষবৈঠক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও অনাবাসী ভারতীয়দের সভায় যোগ দেবেন তিনি। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এ কথা জানানো হয়েছে।
অতীতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্কে যাওয়াটা নিছকই একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে সেই রুটিন অনুষ্ঠান থেকে সরে এসে আমেরিকা সফরে এক কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করেছিলেন মোদী। সেখানকার ভারতীয় সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সে বারই প্রথম বার সম্মেলনের আয়োজন হয়েছিল।
এ বার প্রবাসী ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার জন সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে খবর। ঘটনাচক্রে, এ বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অন্যতম প্রার্থী ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস। ২২ তারিখ ‘মোদী অ্যান্ড ইউএস প্রোগ্রেস টুগেদার’Ñ এই বিষয়ক সম্মেলন হবে নিউ ইয়র্কে। প্রসঙ্গত, নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরেই হয় সাধারণ সভা।
আগামী ২১-২৩ সেপ্টেম্বরের আমেরিকার সফরে মোদীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ডেলাওয়ারের উইলমিংটনে চতুর্দেশীয় অক্ষ বা ‘কোয়াড’-এর শীর্ষবৈঠক। ভারত ছাড়াও আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া এই সামরিক অক্ষের শরিক। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘ দিন ধরেই চিনের আগ্রাসী নীতির বিরোধিতা করে আসছে কোয়াড। যে ভাবে ওই অঞ্চলে প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে চিন, তাতে বাকি দেশগুলির বাণিজ্যনীতি প্রভাবিত হচ্ছে।
চিনের এই তৎপরতায় ওই অঞ্চলের দেশগুলির নিরাপত্তা নিয়েও একটা শঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ চিন সাগরের প্রায় ১৩ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের বলে দাবি করেছে চিন। শুধু তাই নয়, ব্রæনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, তাইওয়ান এবং ভিয়েতনামে জলসীমা লঙ্ঘন করে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে সেনাঘাঁটি তৈরি করছে চিন। যা খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করছে কোয়াড গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই ২০১৭-য় গড়ে তোলা হয়েছিল কোয়াড। যদিও ইউক্রেন এবং গাজ়ায় সঙ্ঘাতের আবহে কোয়াডের তৎপরতা কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে সা¤প্রতিককালে।
মোদীর জন্মদিনে অভিষেক সকালে শুভেচ্ছা জানালেও রাত পর্যন্ত মমতা নীরব, জল্পনা তৃণমূলের অন্দরে
একাধিক অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে পোস্ট করে মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও মোদীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালেই তাঁকে সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও তৃণমূলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে কোনও শুভেচ্ছাবার্তা ‘পোস্ট’ হয়নি। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের অন্দরেই।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২১ মিনিটে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান অভিষেক। তৃণমূলের সেনাপতি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আপনার সুস্বাস্থ্য এবং আনন্দ কামনা করি।’ কিন্তু রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মমতা তাঁর এক্স হ্যান্ডল থেকে মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কোনও পোস্ট করেননি। মঙ্গলবার সাতসকালে মমতা কেবল একটিই পোস্ট করেছিলেন এক্স হ্যান্ডলেÑ বিশ্বকর্মা পুজোর শুভেচ্ছা। মুখ্যমন্ত্রী সেটি পোস্ট করেছিলেন সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে।
একাধিক অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মোদীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন, কেরলের সিপিএম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। কংগ্রেসনেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও মোদীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত মমতা কোনও পোস্ট করেননি। শুধু এক্স হ্যান্ডল নয়, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকেও মোদীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে কোনও পোস্ট করেননি মমতা।
যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সৌজন্য থাকাটাই দস্তুর। অতীতে মোদীর জন্মদিনে মমতা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আবার মোদীও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মমতার জন্মদিনে। কিন্তু এ বার অভিষেক শুভেচ্ছা জানালেও মমতা কেন কোনও পোস্ট করলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তৃণমূল নেতাদের ঘরোয়া আলোচনায়। দলের এক প্রথম সারির নেতার কথায়, ‘‘এই ধরনের ঘটনাকে রাজনীতিতে ‘বার্তা’ হিসাবে ধরা হয়। তেমন কোনও বিষয় কি না বোঝা মুশকিল।’’ তবে তৃণমূলের অনেকেই অন্য দিকটা দেখতে চাইছেন। তাঁরা অভিষেকের শুভেচ্ছা জানানো এবং মমতার শুভেচ্ছা না-জানানোকে পাশাপাশি দেখতে চাইছেন। তবে তৃণমূলের অনেক নেতারই বক্তব্য, ‘‘এটাকে এত জটিল করে দেখা ঠিক নয়।’’
নিউইয়র্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব নর্থ আমেরিকা ইন্ক এর জমজমাট বনভোজন
নিউইয়র্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব নর্থ আমেরিকা ইন্ক এর বার্ষিক বনভোজন গত ২৫ আগষ্ট রবিবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি সবুজ ছাঁয়াঘেরা ও মনমুগ্ধকর স্থান লং আইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কের ডিয়ার রেঞ্জ প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন ব্যুরো থেকে আগত প্রবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী ও প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক লোকের সমাগমে বনভোজন স্থানটি যেন একটি মিনি বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে বনভোজন স্থানটি হয়ে উঠে উৎসবমূখর ও প্রাণের স্পন্দনে হৃদতায় ভরপুর। বনভোজনে আসা আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব একে অন্যের হৃদতার এ অনন্য বন্ধন লক্ষ্য করা যায় এবং উচ্ছ¡াস আনন্দে সবাই যেন একাকার হয়ে যায়। এক কথায় বনভোজন স্থানটি যেন একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বনভোজনে ২০২৪ উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি অব নর্থ আমেরিকা ইন্কের প্রধান উপদেষ্টা জনাব সাবেক সাংসদ সহিদুর রহমান, আহবায়ক মোহাম্মদ শাহ মোয়াজ্জ্বেম, প্রধান সমন্বয়কারী আইয়ুব চৌধুরী হারুন, সমন্বয়কারী প্রফেসর নোয়াব মিয়া, মোঃ রহিজ উদ্দিন, সদস্য সচিব শাহীনুর রহমান সানী, মো: আনার খান, বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন তালুকদার (স্বপন) ও সাধারণ সম্পাদক সাকিরুল ইসলাম খান সাকির, যুগ্ম আহŸায়ক মো: নাছিম হাসান, যুগ্ম সদস্য সচিব মো: আরিফ মিয়া ও রেজাই-ই-রাব্বি মো: তুহিন মিয়া ও মো: মারুফুল হক চৌধুরী, আসমা জাহান কলিসহ কমিউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
তাছাড়াও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা হাজী আবু মূসা খাঁন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জনাব ফখরুল আলম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সোসাইটি এর সাবেক সভাপতি ও বিশিস্ট ব্যবসায়ী শফি উদ্দিন কামাল, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও বিশিষ্ট লেখক রাজু আহমেদ মোবারক, ল’অফিস অব সারভেজ এন্ড প্যারেজ এর প্যারালিগাল মোহাম্মদ আলী, মার্কস হোম কেয়ারের স্বত্ত¡াধিকারী আমির হোসেন কামাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সোসাইটি অব ইউএসএ ইনকের সভাপতি আয়েজ মো: রানা, সাবেক সভাপতি সেলিম পাঠান, আব্দুল হাকিম, এইচ.এম ইকবাল, বৃহত্তর কুমিল্লা সোসাইটির সহ সভাপতি তৈমুর রেজা, কসবা উপজেলা সোসাইটির সভাতি মো: ফরহাদ উদ্দিন ও সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক, নূরুল আনোয়ার, মুতাহের বক্স চৌধুরী, ডিউকসহ আরো অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বনভোজনে বিশেষ সহযোগিতা করেছেন জনাব মঈন চৌধুরী এটর্নী এট ল, শাহ নেওযাজ (সিইওএনওয়াই ইন্সুরেন্স), শাহীনুর রহমান সানি (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী), গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া (সিইও প্রভিডেন্ট এসেটস মো: সরফরাজ (সিইও, ত্রিসপি ফ্রাইভ চিকেন), মো: আলমগীর (সিউও বিডিঅটো রিপেয়ার্স এন্ড কমিশন), শফি উদ্দিন কামাল, মো: আমির হোসেন কামাল, মোহাম্মদ আলী, আবিদুর রহমান আবিদ, আফরোজা আক্তার, জান্নাতুল মহিমা, কুইন্স ফার্নিচার এন্ড ম্যাটরেস ইনক, সারোয়ার খান বাবু, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক, দেলোয়ার হোসেন শিপন, মো: আশরাফুল আলম জঙ্গি, বাংলা মোবাইল এন্ড ট্রাভেলস ও স্মার্ট টেক ও বিলকিস খনম।
এবারের বনভোজন ছিল বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও বিনোদনমূলক ইভেন্টে ভরপুর। ছোট বড় বালক-বালিকাদের দৌড় প্রতিযোগিতা। মহিলাদের আকর্ষনীয় বালিশ প্রতিযোগিতা, যেমন খুশি তেমন সাজো। এবারে বালিশ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মিসেস অর্থি বেগম, দ্বিতীয় স্থান মিসেস লিলি চৌধুরী এবং তৃতীয় স্থান লিপি আক্তার। বনভোজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। প্রায় ১৫টি পুরুস্কার এবারে র্যাফেল ড্র তে। র্যাফের ড্র এর প্রথম পুরস্কার ছিল স্বর্ণ অলংস্কার। প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন মিসেস তানজিয়া চৌধুরী। র্যাফেল ড্র খেলাটি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনা পূর্ণ ও আনন্দঘন। র্যাফেল ড্র খেলা পরিচালনা করেন আহŸায়ক, মোহাম্মদ শাহ মোয়াজ্জেন, মো: নাসিম হাসান, শাহীনুর রহমান সানী, সাকিরুল ইসলাম খান, আরিফ মিয়া, তুহিন মিয়া ও মো: মারুফুল হক চৌধুরী, রেজা-ই-রাব্বি ও মো: ছাদেক।
এবারের বনভোজনে সকলের নাস্তা ও দুপুরের খাবার জ্যাকশন হাইটস্ এর নবান্ন রেষ্টুরেন্ট থেকে নেওয়া হয়েছিল। নবান্ন রেষ্টুরেন্টের সুস্বাদু খাবার খেয়ে বনভোজনে উপস্থিত সকল অতিথিবৃন্দ ভূয়শী প্রশংসা করেন। তাছাড়ও বিকেলে ঝালমুড়ি, চা এবং আইসক্রিম দিয়ে অতিথিবৃন্দদেরকে আপ্যায়ন করা হয়।এক কথায় বলতে গেলে এবারের বনভোজনটি ছিল কমিউনিটির শ্রেষ্ঠ বনভোজন।
বাংলাদেশের বন্যার্তদের জন্য নিউইয়র্কে বিএএনবির তহবিল সংগ্রহ
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক ১৩তে বসবাসরত বাংলাদেশী কমুনিটি সংগঠন বাংলাদেশী এলায়েন্স অফ নর্থইস্ট ব্রনক্স (বিএএনবি) স¤প্রতি বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে তহবিল সংগ্রহের আয়োজন করে। মরিস পার্ক মদিনা মসজিদ প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই উদ্যোগে অনেক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। বিশেষত বাঙালি কমিউনিটি ছাড়াও পাকিস্তানী, আরব এবং আফ্রিকান মুসল্লিরা মুক্তহস্তে দান করেন। পরে সংগ্রহনকৃত অনুদান মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা) পার্কচেস্টার চ্যাপ্টারে প্রদান করা হয়। মুনা তাদের মানবিক শাখা নাহারের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ এবং পূর্ণবাসন কর্মসূচিতে এই অনুদান ব্যয় করবে। বিএএনবির প্রেসিডেন্ট মামুন আলী সংগ্রহনকৃত অর্থ মুনার নর্থ জোনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের কাছে হস্তান্তর করেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএএনবি উপদেষ্টা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এজাজ হোসাইন, উপদেষ্টা জিয়াউস শামস চৌধুরী, উপদেষ্টা আনোয়ারুল হক, পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ইমতিয়াজ চৌধুরী এবং মুস্তাফিজুর চৌধুরী।
নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পিপল আপ’র প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট ওয়াচ পার্টি : মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারবোধ জাগ্রত করতে এই আয়োজন, স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ
নিউইয়র্কের জ্যাকস হাইটস এর জাইভার্সিটি প্লাজায় প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট পার্টি হয়েছে। বিশালাকার এলইডি মনিটরে বাংলাদেশি ছাড়াও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট দেখার ওই আয়োজন করে রাজনৈতিক প্লাটফরম পিপল ইউনাইটেড ফর প্রোগ্রেস।
এবিসি চ্যানেলে ডিবেট শুরুর আগে দেয়া বক্তব্যে পিপল আপ এর প্রেসিডেন্স স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বোধ জাগ্রত করতে উৎসবমুখর পরিবেশে এই ডিবেট ওয়াচ পার্টিরআয়োজন। এই আয়োজনে এলইডি মনিটরে পিপল আপ এর বিভিন্ন কর্মতৎপরতাও তুলে ধরা হয়।
ডিবেট ওয়াচ পার্টিতে যোগ দেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর প্রখ্যাত গণতান্ত্রিক রাজনীতিক জেসিকা রামোস ও স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা। তারা উপস্থিত কয়েকশত মানুষের সঙ্গে বসে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট উপভোগ করেন। প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন, গণমানুষের স্বার্থে এই ডিবেট ওয়াচ পার্টির আয়োজন করে পিপল আপ প্রেসিডেন্স স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ বরাবরের মতোই তার রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসাধারণত্ব উপস্থাপন করেছেন। এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির কুইন্স কাউন্টি কমিটি মেম্বার পদে নির্বাচিত নেতার দূরদর্শী রাজনৈতিক পদক্ষেপ। প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট ওয়াচ পার্টিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের জাতিসংঘে আগমনের প্রতিবাদে জেএফকে এয়ারপোর্ট ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি
জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমনের প্রতিবাদে জেএফকে এয়ারপোর্ট এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন। ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন পার্টি হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে ২২ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর ২টায় জেএফকে বিমানবন্দরে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতিসংঘের সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা জানান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান মিয়া, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বাবু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা সোলায়মান আলী, আব্দুল হামিদ, আশরাফ উদ্দিন, সাহানারা রহমান, এ কে এম তারিকুল হায়দার চৌধুরী, শাহনাজ মমতাজ, এইচ এম ইকবাল, সৈয়দ কিবরিয়া জামান, প্রকৌশলী বাহার খন্দকার সবুজ, পান্না, খান শওকত, যুবলীগ নেতা সেবুল মিয়া প্রমুখ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ও ৩০ লাখ শহিদের রক্তে রঞ্জিত অর্জিত স্বাধীনতা অস্বীকার করে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে অসাংবিধানিক ভাবে জোরপূর্বক অন্তর্বর্তীকালীন দখলদার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস দেশে নৈরাজ্য ও পৈশাচিক হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকালও (১২ সেপ্টেম্বর) ৫ জনকে গ্রেফতার করে দু’জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ড. ইউনূস এযাবত পাঁচ হাজারের অধিক পুলিশ/ছাত্র/সংখ্যালঘু/সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হত্যা এবং আনুমানিক দশ হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে বা মামলা দায়ের করেছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। অনির্বাচিত অবৈধ দখলদার সরকারের দমন নীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে দেশে আইন বিচার বলে কিছুই নেই।
পশ্চিমা দেশগুলোর মত ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণ বিচ্ছিন্ন সর্বোচ্চ ব্যাংক সুদের সফল ব্যবসায়ীদের একজন। দেশ পরিচালনায় কোন ধরনের দক্ষতা তার নেই। নিজেই বলেছেন ছাত্ররা তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তাই স্বাভাবিকভাবে জনগণের নিকট তার কোন দায়বদ্ধতা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের প্রচলিত নিয়ম আইন ভঙ্গ করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষকদের ছাত্রদের দ্বারা পদত্যাগে বাধ্য করার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুমহে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অবস্থা আরও করুণ। ডিসিরা পর্যন্ত সচিবালয়ে ব্যায়াম করা শুরু করেছে। যা স্বাধীনতার ৫৩ বছরে ঘটেনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে জনগণের ম্যান্ডেট না নিয়ে অবৈধভাবে ছাত্রদের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করার যে কোন মানদন্ডে আইনগত বৈধতা নেই। দেশে হাজার হাজার শহিদের রক্তের উপর পা দিয়ে অবৈধ প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করা সমীচীন হবে না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছি। যদি অবৈধ প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আসেন তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ ২২ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর ২টায় জেএফকে বিমানবন্দরে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতিসংঘের সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অবৈধ সরকারের অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক, গণহত্যা ও দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
নিউইয়র্কে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত
৭১’র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার ভিত্তিমূলে সার্বক্ষণিক অবস্থান নেয়ার প্রত্যয় উচ্চারিত হয়েছে নিউইয়র্কে। এসময় ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের চেতনায় উজ্জীবিত সমাজ ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রাখা এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতকে ধারণ করে রাষ্ট্রচিন্তাকে বেগবান করার অঙ্গিকার করা হয়।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় ৮ সেপ্টেম্বর রোববার বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত চলা সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসীরা এমন সংকল্প ব্যাক্ত করেন। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী, শহীদ পরিবারের সন্তান, সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহণ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন নবী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধ রথিন্দ্র নাথ রায় ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী তাজুল ইমাম এই কর্মসূচী আহবান করেন। অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের সাথে বিপুল সংখ্যক শিশু কিশোর লাল সবুজের পতাকা হাতে অংশ নেয়। এসময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে “ তুমি কে, আমি কে? বাঙালী, বাঙালী” “মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, রাজাকারের ঠাঁই নাই” “তুই রাজাকার, তুই রাজাকার” প্রভৃতি শ্লোগান লিখা প্ল্যাকার্ড শোভা পায়। ডাইভারসিটি প্লাজার খোলা চত্বরে বিকালে জাতীয় পতাকাকে বেষ্টন করে এবং হাতে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা অবস্থান নেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী তাজুল ইমাম, এ্যানী ফেরদৌসের নেতৃত্বে বিপার শিল্পীরা, দিনাত জাহান মুন্নি, মাহবুব, লুৎফুন নাহার লতা, জলি কর, মুমু আনসারী, অর্ঘ্য সারথীর সহ উপস্থিত শিল্পীদের সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনে মুখরিত হয়ে উঠে জ্যাকসন হাইটস। লুৎফুন নাহার লতার কন্ঠে সৈয়দ সামছুল হকের কালজয়ী কবিতা “নুরুলদীনের সারাজীবন” আবৃত্তি উপস্থিত সবাইকে আপ্লুত করে।
একে একে আবৃত্তি করেন সাবিনা নিরু, মঞ্জুর কাদের, শুক্লা রায়সহ আরো অনেকে। অঙ্গীকারনামা পাঠ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সংগঠক মিথুন আহম্মেদ। সহযোগীতায় ছিলেন গোপাল স্যানাল।
মিনহাজ আহম্মেদের পরিচালনায় দুই ঘন্টার এই অনুষ্ঠানে সমবেত কন্ঠে কয়েকবার জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। শিল্পীরা একে একে জয় বাংলা বাংলার জয়, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবোরে, শোন একটি মুজিবরের কন্ঠে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠ- সহ বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।


