তারেক রহমানের অপেক্ষায় বিএনপি। কবে কখন তিনি দেশে ফিরবেন- সেই আশায় প্রহর গুনছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থক। দলীয় সূত্রগুলো বলছে- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্তটি নেবেন। তবে নেতা-কর্মীরা চান তিনি দ্রæতই দেশে ফিরে আসুন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দ্রæতই দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি যখনই মনে করবেন হি ক্যান কাম ব্যাক। আমরা অলরেডি দ্রæত চলে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি বীরের বেশেই ফ্যাসিবাদমুক্ত স্বদেশে ফিরবেন। দল আর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকই নন, সারা দেশের মানুষ তাঁর আগমনের অপেক্ষায় আছেন।’
জানা গেছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। তার মধ্যে একটি মামলা বাদী প্রত্যাহার করেছেন। অন্যগুলোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের অপেক্ষায়। সুচিকিৎসার্থে দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিছুদিনের মধ্যেই বিদেশে যাওয়ার কথা রয়েছে। লন্ডনের একটি অ্যাডভান্স হেলথ সেন্টারে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে। চেয়ারপারসন সেখানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে অবস্থান করতে পারেন।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁর কিছু মামলা-মোকদ্দমা এবং আইনি বিষয় আছে। এগুলো আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিরসন করতে চাই। তারপর আমার মনে হয় তিনি দেশে ফিরে আসার প্ল্যান-প্রোগ্রাম করবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অপেক্ষায় সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরে আসবেন।
বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, তারেক রহমান এই মাটির সন্তান। তিনি এখানে বড় হয়েছেন, লেখাপড়া করেছেন। তিনি অবশ্যই তাঁর নিজ দেশে ফিরে আসবেন। আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দেওয়া মিথ্যা মামলাগুলো আইনগতভাবে মোকাবিলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এর মধ্যে বেশ কিছু মিথ্যা মামলা এখন বাদীরাই প্রত্যাহার করে নিতে শুরু করেছেন। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। এই নিষেধাজ্ঞার জন্য যিনি আবেদন করেছিলেন, তিনি তার মামলা এরই মধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তথাকথিত একুশে আগস্টের মামলাসহ চারটি মামলায় তাঁকে দন্ড দেওয়া হয়েছে নিম্ন আদালত থেকে। এর মধ্যে দুর্নীতির মিথ্যা মামলাও আছে। সেগুলো আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় দেখছি। বিচার-বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নিচ্ছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন ইনশা আল্লাহ।
যে প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরবেন তারেক রহমান : তারেক রহমান দেশ ছাড়েন ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। যাবজ্জীবনসহ চার মামলায় তাঁকে দেওয়া হয় সাজা। তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় উচ্চ আদালত থেকে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ওইদিনই দেশের সব গণমাধ্যম তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার শুরু করে। তারেক রহমানের সম্মতি পেলে তাঁর সাজা স্থগিত চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে তারেক রহমানের সাজা স্থগিতের আবেদন করা হবে সরকারের কাছে। এ ধারা প্রয়োগ করেই বেগম খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তবে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, আইনি প্রক্রিয়ায়ই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। কবে নাগাদ ফিরবেন সে সিদ্ধান্তও তিনি নিজেই নেবেন। ব্যারিস্টার কায়সার বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কোনো পথে ফিরবেন না তারেক রহমান। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যে কারণে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব মামলার রায় হয়েছে, সেগুলো তিনি আইনগতভাবেই মোকাবিলা করবেন। যেগুলোর রায় হয়নি, সেগুলোর বিষয়ে আইনগতভাবে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্ধ-শতাধিক মামলা রয়েছে। ২০০৭ সালের তত্ত¡াবধায়ক সরকার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এসব মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৫টি মামলার বিচার শেষে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু মামলা স্থগিত রয়েছে। তাঁকে পলাতক দেখিয়ে এসব মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলে। দীর্ঘ ১৬ বছর সপরিবারে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
গত ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালন করেছে বিএনপি। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে তৎকালীন তত্ত¡াবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ভোররাতে তারেক রহমানকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। দিনের পর দিন রিমান্ডে নির্যাতন ও টানা ৫৫৪ দিন কারাবাসের পর সরকারের সাজানো সবকটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মুক্তি পান। এর পর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি চিকিৎসার্থে বিদেশে যান।
আইনি প্রক্রিয়ার পর দেশে ফিরবেন তারেক রহমান
নিরাপত্তা কার্যক্রম অবহিত করলেন সেনাপ্রধান
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সাক্ষাৎকালে সেনাবাহিনী প্রধান দেশের বর্তমান সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনী কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনী প্রধানকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য সেনাবাহিনী প্রধানকে ধন্যবাদ জানান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আজ নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তি?নি ২৭ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ওইদিন রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন ড. ইউনূস।
এর আগে গত ১২ আগস্ট রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সাকিব কেন কম বোলিং করেছেন, জানালেন শান্ত
চেন্নাই টেস্টে সাকিব আল হাসান মোটে ২১ ওভার বোলিং করেছেন। আঙুলে চোটের কারণে কম বোলিং করেছেন নাকি অন্যকিছু-সে বিষয় নিয়ে কৌতূহল ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারতের কাছে ২৮০ রানে হারের পর সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি জানিয়েছেন, সাকিবকে বোলিংয়ে দেরি করে আনা এবং কম ওভার করানোর সিদ্ধান্তটা ছিল তার নিজের।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেছেন, ‘প্রথম ইনিংসে সাকিব ভাইকে প্রয়োজনই পড়েনি। বিশেষ করে তিন পেস বোলার যেভাবে বল করছিল। মিরাজও ভালো বল করছিল। ফাস্ট বোলারদের দীর্ঘ সময় রাখার সিদ্ধান্তটা ছিল আমার। তাতে কিন্তু দ্রæত ৬ উইকেট নিতে পেরেছি।’
এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের উইকেটে প্রথম তিনদিন পেসাররাই সুবিধা পেয়েছিলেন। তাই প্রথম ইনিংসে ৫৩তম ওভারে বল করতে আসেন সাকিব। তার পর হাত ঘুরিয়েছেন মাত্র ৮ ওভার।
অথচ ভারত সিরিজের ঠিক আগে কাউন্টিতে সাকিব সারের হয়ে প্রথম ইনিংসে ৩৩.৫ ওভার বল করে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯.৩ ওভার বল করে নেন ৫ উইকেট। খরচ করেন ৯৬ রান।
‘খুব সাহসী প্রশ্ন, মাশাআল্লাহ’ বললেন শান্ত
চেন্নাই টেস্টে সাকিব আল হাসানের পারফরম্যান্স নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। ব্যাটে-বলে একেবারেই একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের মতো পারফর্ম করতে পারেননি। যে পিচে অশ্বিন-জাদেজারা ঘূর্ণিজাদুতে বাংলাদেশকে কাবু করেছেন, সেখানে দুই ইনিংসে একটি উইকেটও পাননি সাকিব।
ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে করেছেন সাকুল্যে ৫৭ রান। জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর দলে সাকিবের জায়গা নড়বরে হয়ে গেছে কিনা সেটা জানতে চাওয়া হয়েছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সে প্রশ্ন শুনে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় শান্ত বলেন, ‘খুব সাহসী প্রশ্ন, মাশাআল্লাহ।’
এরপর সাকিব ইস্যুতে শান্ত যোগ করেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে যেটা দেখি, শুধু সাকিব ভাই বলে বলছি না। আমি দেখি যে একজন খেলোয়াড় কতটুকু কষ্ট করছে এবং কামব্যাক করার জন্য যা যা দরকার, সে কাজগুলো করছে কি না, দলের প্রতি ইন্টেনশনটা কী রকম। এই জিনিসগুলো আমি মূলত খেয়াল রাখি। চেষ্টা করি, ওই ক্রিকেটার দলকে দেওয়ার জন্য কতটুকু প্রস্তুত, শতভাগ কি না। আমি সবার ক্ষেত্রেই বিষয়টা এভাবেই দেখি। সেটা হোক নাহিদ রানা কিংবা মুশফিক ভাই।’
এছাড়া চেন্নাই টেস্টে সাকিবের পারফরম্যান্স নিয়েও কিছু বলতে রাজি হননি শান্ত, ‘আমি কখনও নির্দিষ্ট কারও পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। কারণ খেলাটা দলীয় খেলা। পুরা দলের অবদানেই কিন্তু একটা ম্যাচ জেতা সম্ভব। সব মিলিয়ে আমরা সবাই মিলে যদি অবদান রাখতাম, ভালো কিছু হতো। তো আলাদা করতে ব্যক্তিগত কাউকে নিয়ে আমি চিন্তিত নই।’
প্রসঙ্গত, চেন্নাই টেস্টে ভারতের কাছে ২৮০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে পিছিয়ে থেকেই আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর কানপুরে পরের টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
চেন্নাই টেস্টে যেসব কীর্তি গড়লেন অশ্বিন
চেন্নাইয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার সদ্য শেষ হওয়া টেস্টে এক ইনিংসে সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৬ উইকেট শিকার করে অনন্য কীর্তি গড়লেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
ভারতের প্রথম ইনিংসে ১৪৪ রানে ৬ উইকেট পতনের পর আটে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩৩ বলে করেছেন ১১৩ রান করেন। এরপর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৮ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট।
একই টেস্টে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি ও বল হাতে ৫ বা তার বেশি উইকেট শিকারের কীর্তি চতুর্থবার গড়লেন অশ্বিন। এই কীর্তি দুবার আছে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান, ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্যারি সোবার্স, দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস ও পাকিস্তানের মুশতাক মোহাম্মদের। সর্বোচ্চ পাঁচবার আছে ইংলিশ কিংবদন্তি ইয়ান বোথামের।
১০১ টেস্ট খেলা অশ্বিন অবশ্য এই এক কীর্তিতেই থেমে থাকেননি। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিলেন এবারসহ ৭ বার। টেস্ট ইতিহাসে ম্যাচের শেষ বা চতুর্থ ইনিংসে ৭ বার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে শেন ওয়ার্ন আর মুত্তিয়া মুরালিধরনেরও। এর চেয়ে বেশি ১২ বার চতুর্থ ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি রঙ্গনা হেরাথের।
চতুর্থ ইনিংসের উইকেটে ভারতীয় একটি রেকর্ডও গড়েছেন অশ্বিন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ৯৯ উইকেট এখন অশ্বিনের। ৯৪ উইকেট নেওয়া অনিল কুম্বলে নেমে গেছেন ২ নম্বরে।
আবার পাঁচ উইকেটের একটি জায়গায় অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ওয়ার্নের পাশেও বসেছেন অশ্বিন। এই অফ স্পিনারের ইনিংসে পাঁচ উইকেট এখন ৩৭টি। টেস্টে ৭০৮ উইকেটের মালিক ওয়ার্নের ক্যারিয়ারেও ইনিংসে পাঁচ উইকেটের সংখ্যা ৩৭টিই। এজন্য ওয়ার্নকে ১৪৫ টেস্ট খেলতে হলেও অশ্বিনের হয়ে গেছে ১০১ ম্যাচেই।
টেস্টে একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়া সবচেয়ে বেশি বয়সি খেলোয়াড় এখন অশ্বিন, বয়স ৩৮ বছর ৫ দিন। আগের রেকর্ডটি ভারতের পলি উমরিগড়ের। ১৯৬২ সালে পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেটের যুগলবন্দি অর্জনের ম্যাচের দিন তার বয়স ছিল ৩৬ বছর ৭ দিন।
অশ্বিনের দ্বিতীয় একক কীর্তিটি ভেন্যুকেন্দ্রিক। টেস্টে একই ভেন্যুতে ২ বার ম্যাচে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলার অশ্বিন। এর আগে ২০২১ সালে এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৬ রান ও ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
পাল্টাপাল্টিতে উত্তপ্ত নিউইয়র্ক
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমনকে কেন্দ্র করে এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। বিএনপি ড. ইউনূসকে স্বাগত জানানোর কর্মসূচি দিয়েছে, আর আওয়ামী লীগ তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার কর্মসূচি নিয়েছে।
জানা গেছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক ঠিক হওয়ায় এক দিন আগেই নিউইয়র্কের উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. ইউনূসের এটাই প্রথম বিদেশ সফর। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর বক্তব্য রাখবেন। পরে ওই রাতেই তার ঢাকায় রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ড. ইউনূসকে ঘিরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তাদের কর্মসূচি সফল করতে কয়েক দফা প্রস্তুতি সভা করেছে। বিএনপির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে সরকার প্রধানের বিষয়ে বিরোধিতা করা দল বিএনপি এবার স্বাগত জানাবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। একই সঙ্গে বিচার চাইবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুন-গুম-নির্যাতন আর লুটপাটের। প্রধান উপদেষ্টাকে সাংগঠনিকভাবে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির এইচ চৌধুরী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে খুন-গুম-নির্যাতনের বিচার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের দিন জাতিসংঘের সামনে বিএনপি অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুন-গুম-নির্যাতন আর লুটপাটের বিচার চাইবে। যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা মাসুদ রানা জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের কাবাব কিংয়ে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বরের ওই সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসূচির দিন আওয়ামী লীগ কোনো বাধা দিলে প্রতিহত করা হবে।
জানা গেছে, মূল অনুষ্ঠান ছাড়াও ড. ইউনূসের সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধান সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া, ড. ইউনূসের সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি, বাহরাইনের ক্রাউন প্রিন্স হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফ, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøঙ্কেন ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খান, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক সামান্থা পাওয়ার, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হংবোসহ জাতিসংঘের আরও অনেক সংস্থার প্রধান ড. ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।
কমলার প্রতি পুতিনের সমর্থন, অস্বীকার করে যা বলল ক্রেমলিন
আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থন জানানোর খবরকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে ক্রেমলিন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ রোববার এক সাক্ষাৎকারে জানান, পুতিন কমলা হ্যারিসের প্রতি মস্কোর সমর্থন সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা নিছকই রসিকতা ছিল।
স্কাই নিউজ আরাবিয়াকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে লাভরভ বলেন, ‘সেটা ছিল নিছক একটা রসিকতা’।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের রসিকতা করার ভালো অনুভূতি আছে। তিনি প্রায়ই তার বক্তব্য এবং সাক্ষাৎকারের সময় মজা করেন’।
এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর ভ্লাদিভোস্টকে অনুষ্ঠিত ইস্ট ইকোনোমিক ফোরামে (ইইএফ) পুতিন বলেছিলেন, হ্যারিসের প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য বাইডেন তার সমর্থকদের আহŸান জানিয়েছেন। আমরাও তাই করব, আমরাও তাকে সমর্থন করব।
রুশ প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের সময় ওই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও পুতিন- উভয়কেই হাসতে দেখা যায়।
এ সময় কমলার হাসিকে ‘সংক্রামক’ উল্লেখ করে মজাচ্ছলে পুতিন বলেছিলেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় তাকেই বেশি পছন্দ করেন। পুতিনের এ মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউসও জানায় যে, পুতিনকে আসন্ন ৫ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের বিষয়ে মন্তব্য করা বন্ধ করা উচিত।
এ বিষয়ে লাভরভ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বা আগের নির্বাচনে আমাদের মনোভাবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কোনো পার্থক্য নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্র কুখ্যাত ‘ডিপ স্টেট’ দ্বারা শাসিত’।
তবে তিনি তার এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত লেবানন ত্যাগের নির্দেশ
লেবাননে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রততম সময়ের মধ্যে সংঘাতের মধ্যে থাকা দেশটির ভূখণ্ড ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রশাসন শনিবার এক বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা এখনও চালু থাকলেও সীমিত পরিসরে চলাচল করছে এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে এ সুযোগগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ নির্দেশনাটি এমন সময়ে এলো, যখন ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ও সংঘাত বেড়ে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত আমেরিকানদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য জোর দেওয়া হয়েছে।
সমপ্রতি ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত লড়াই ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত গাজার ওপর ইসরাইলি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই এ উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
এদিকে সমপ্রতি পেজার ও ওয়াকি-টকি বিস্ফোরণ হামলার প্রতিশোধে শনিবার রাত থেকে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট ছুড়েছে লেবাবনের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। মুহুর্মুহু রকেট হামলায় ইসরাইলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলা থেকে প্রাণে বাঁচতে লাখ লাখ ইসরাইলি আশ্রয় কেন্দ্রে পালিয়েছেন।
হিজবুল্লাহর এ হামলার পর ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের সব স্কুল ও সমুদ্র সৈকত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলেছে, রোববার স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে একযোগে প্রায় ২০টি প্রোজেক্টাইলের প্রবেশ শনাক্ত করা হয়েছে। এরপর সকাল ৬টার দিকে লেবানন থেকে আরও প্রায় ৮৫টি প্রোজেক্টাইল ছোড়া হয়েছে।
‘মানবতাবিরোধী অপরাধী’ ইসরাইলের বিচার চাইলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের‘ জন্য ইসরাইলি সরকারের সমালোচনা করেছেন স্পেনের অস্কারজয়ী অভিনেতা হ্যাভিয়ার ব্যারডেম। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের প্রতি এ অপরাধীকে বিচার করার আহŸান জানিয়েছেন।
শুক্রবার স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে ডোনস্টিয়া লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার নেওয়ার সময় ব্যারডেম এ আহŸান জানান।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ইসরাইলের বর্তমান সরকার সবচেয়ে চরমভাবে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ‘ সংঘটিত করে যাচ্ছে। পাশাপাশি তারা ‘আন্তর্জাতিক আইন‘ও লঙ্ঘন করতে সচেষ্ট।
হ্যাভিয়ার ব্যারডেম উল্লেখ করেন, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হওয়া হামলার জন্য ফিলিস্তিনিদের ওপর সমষ্টিগত শাস্তি দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়। সেই সঙ্গে গাজায় চালানো ইসরাইলি হামলাগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, ভয়াবহ এবং মানবতার জন্য বিপর্যস্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
স্প্যানিশ এ অভিনেতা আরও বলেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোকে ইসরাইলের প্রতি তাদের ‘অযৌক্তিক সমর্থন’ পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাছে দায়ীদের বিচার করার আহŸান জানান।
এদিকে প্রায় ১২ মাস ধরে চলা ইসরাইলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া প্রায় ৯৬ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে গাজায় চলমান অবরোধের কারণে খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
গাজায় ইসরাইলের এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া আইসিসির প্রসিকিউটর করিম খান গত মে মাসে আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের নামে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার অনুরোধ করেছেন।
তবে এ বিষয়ে আইসিসির তরফ থেকে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
দ্বিতীয় বিতর্কের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বিতর্কের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটন শহরের এক নির্বাচনি জনসভায় মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন প্রস্তাবিত বিতর্কটি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে আগাম নির্বাচন শুরু হয়েছে। তাই দ্বিতীয় বিতর্কের জন্য এটি খুব দেরি হয়ে গেছে।
রোববার বিবিসি ও রয়টার্সের পৃথক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
শনিবার কমলার প্রচারশিবির জানিয়েছে, তিনি ২৩ অক্টোবর তার রিপাবলিকান প্রতিদ্ব›দ্বী ট্রাম্পের সঙ্গে সিএনএনে বিতর্ক করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প জানিয়ে দেন যে, তিনি নভেম্বরের নির্বাচনের আগে কমলার সঙ্গে আর কোনো ধরনের বিতর্ক করবেন না।
কমলার প্রচারশিবিরের চেয়ার জেন ও’ম্যালি ডিলন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আরেকটি বিতর্ক করতে প্রস্তুত। ২৩ অক্টোবর একটি বিতর্কের জন্য সিএনএন তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তিনি তা গ্রহণ করেছেন। এ বিতর্কে রাজি হতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো ধরনের অসুবিধা থাকার কথা না। তবে ট্রাম্প এখনো তার আগের কথায়ই অটল রয়েছেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটাররা ৫ নভেম্বর ভোট দেওয়ার আগ পর্যন্ত কমলার সঙ্গে তার আর কোনো বিতর্ক হবে না। ট্রাম্প নর্থ ক্যারোলিনার উইলমিংটনে এক সমাবেশে নির্বাচনের সময় যে খুব কাছে এসে পড়েছে সেই বিষয়ের উল্লেখ করে তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আরেকটি বিতর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই ভোট শুরু হয়ে গেছে।’
নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত জুনে ট্রাম্পের সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিতর্ক হয়। যেখানে তিনি বাইডেনকে সমালোচনার মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। ফলে চাপের মুখে পড়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন বাইডেন। তার স্থানে ডেমোক্র্যাটদের নতুন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পান কমলা হ্যারিস। ১০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিতর্কে অংশ নেন ট্রাম্প। কিন্তু এবার আর তিনি সুবিধা করে উঠতে পারেননি। কমলা তাকে প্রতিটি বিষয়ে কড়া জবাব দিয়েছেন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে সেই বিতর্কে কমলা জিতেছেন।


