Home Blog Page 544

ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে যারা নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে তাদের ছাড় নেই : আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) মো: ময়নুল ইসলাম বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশিত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিষ্ঠুরতম কর্মকাণ্ড করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি শনিবার (২৬ অক্টোবর) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুর জেলা পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী ও আহত বীরদের সম্মানে উৎসর্গীকৃত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, পুলিশ মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা করেছিল। করোনাকালে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।

তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পুলিশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। আমরাও পুলিশে ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তনের সূচনা করেছি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আইজিপি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে আবু সাঈদ যেভাবে দাঁড়িয়েছেন তা আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত।

পুলিশপ্রধান বলেন, ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিটি মামলা অত্যন্ত গুরুত্বসহ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিষ্ঠুরতম কর্মকাণ্ড করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো: মজিদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তারা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম, শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম ও পরিবারের সদস্যরা, স্থানীয় ছাত্র সমন্বয়করা, নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক অনুদান দেয়া হয়।

এর আগে আইজিপি আজ সকালে রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হওয়া আবু সাঈদের বাড়িতে যান। তিনি আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। তিনি আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

পুলিশ প্রধান রংপুর জেলা পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বেলুন উড়িয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন।

সবশেষে আইজিপি রংপুর বিভাগের সকল পুলিশ ইউনিটের অফিসার ও ফোর্সের সাথে বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

সূত্র : ডিএমপি নিউজ

পীরগাছায় জামায়াতের হিন্দু শাখার কমিটি গঠন

রংপুরের পীরগাছায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ভবেশ চন্দ্র বর্মণ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওষুধ ব্যবসায়ী বিজন চন্দ্র দাসের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে উপজেলা জামায়াতের অফিসে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বার এ কমিটি ঘোষণা করেন।

এর আগে ইউনিয়ন জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইদ্রিস আলীর সঞ্চালনায় হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া কমিটির অন্যরা হলেন সহ-সভাপতি দেবী চৌধুরানী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তাপস চন্দ্র রায়, সহ-সম্পাদক কিসামত ঝিনিয়া, সনাতন সংঘের সভাপতি সুধা রঞ্জন বর্মণ ও অর্থ-সম্পাদক দেউতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক প্রভাষ চন্দ্র বর্মণ।

উল্লেখ্য, মত-বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোস্তাক আহমেদ, সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান, দফতর সম্পাদক জাকির হোসেন, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ভবেশ চন্দ্র বর্মণ, ইউনিয়ন জামায়াতের অর্থ-সম্পাদক হোসাইন আহমেদ প্রমুখ।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ : ২ দিনের সময় চেয়ে নিলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিশ্চিত করতে দু’দিনে সময় চেয়ে নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কয়েক শ’ মানুষ বিক্ষোভ করার প্রেক্ষাপটে এই সময় নেয়া হলো।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৪টা থেকে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে বঙ্গভবনে সামনে নিয়ে তারা বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গভবনের প্রবেশ মুখে সেনাবাহিনীর ব্যারিকেডের পেছনে অবস্থান নিয়ে আছে। আর তার সামনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

তাদের দাবি, রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘লোক’। তিনি শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ করেছেন। যার মাধ্যম শপথ ভঙ্গ করেছেন, রাষ্ট্রপতি থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

বিক্ষোভকারী আবদুল মঈন ভয়েস অফ আমেরিকার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নিজেই তার বক্তব্য নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি ৫ আগস্ট বলেছেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, সেটা তিনি গ্রহণ করেছেন। এখন তিনি একটি পত্রিকার সম্পাদককে বলেছেন শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই।’

এরআগে রাত ৮টা ২০ মিনিটে বঙ্গভবনের সামনের ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। বিক্ষোভকারীদের দমনে সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে পুলিশ। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে।

পুলিশ পক্ষে থেকে দাবি করা হয়, বিক্ষোভকারীদের হামলায় কয়েকজন পুলিশ আহত হয়।

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ভয়েস অফ আমেরিকার বলেন, ‘বিকাল ৪টা থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে কয়েক শতাধিক মানুষ বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা বঙ্গভবনে সামনের একটি রাস্তা বন্ধ করে দেন।’

তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে বঙ্গভবনে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে বিক্ষোভকারীদের হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।’

রাত সাড়ে ১১টায় বঙ্গভবনের সামনে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। তারা বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন যে আগামী দুই দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মাদ সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করবেন। অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবারের (২৪ অক্টোবর) মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ না করলে তারাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচিতে যাবেন।

সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনার জানেন রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধান। রাষ্ট্রপ্রধান যখন না থাকে, তাকে যখন অপসারণ করা হয়, তখন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির জায়গায় থাকেন স্পিকার। কিন্তু যখন স্পিকার থাকেন না তখন এই পদ শূন্য হয়ে যাবে।…ষড়যন্ত্রকারী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু পরবর্তী রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত হওয়ার আগে যদি এই রাষ্ট্রকে রাষ্ট্রপতিহীন করে ফেলি তাহলে বিদেশঅ শক্তিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তা হতে আমরা দেবো না।’

‘তাই আগামী দুই দিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার সবার সঙ্গে কথা বলে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করবো, যাকে নিয়ে কোনো বির্তক থাকবে না। তারপর সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করবো। এইজন্য আমাদেরকে দুই দিন সময় দেন’ বলেও যোগ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

সমন্বয়ক সারিজস আলম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাউকে বসানোর জন্য সবার সঙ্গে কথা বলতে হবে। এমন একজন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে হবে। এই জায়গায় আমরা যদি কৌশলের কাছে না জয়ী হয়ে ইমোশনের কাছে হেরে যায় তা দেশের জন্য ক্ষতি হবে।’

সর্বশেষ রাত ১২টা ১১ মিনিট এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহর ও সারজিস আলমের ২ দিনের সময় নেয়া পর বিক্ষোভকারীদের একাংশ চলে গেলেও অন্যরা বঙ্গভবনে সামনে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।

বিক্ষোভকারী রুবেল ভয়েস অফ আমেরিকারকে বলেন, ‘সময় কেন লাগবে। আরো কি রক্ত লাগবে নাকি? চুপ্পু (রাষ্ট্রপতির ডাক নাম) পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা বঙ্গভবন ছেড়ে যাবো না।’
সূত্র : ভিওএ

ব্যারিকেড ভেঙে বঙ্গভবনে প্রবেশের চেষ্টা, গুলিবিদ্ধ ২

রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে বিকেল থেকে বঙ্গভবনের সামনে অবস্থানের পর রাতে ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় পুলিশের গুলিতে এক শিক্ষার্থীসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া একজন সাউন্ড গ্রেনেডে আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন ফয়সাল আহম্মেদ বিশাল ও শফিকুল ইসলাম (৪৫)। সাউন্ড গ্রেনেডে আহত তরুণের নাম আরিফ (২০)। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্র গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গুলিবিদ্ধ ফয়সাল আহম্মেদ বিশাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এবং আরিফ সিদ্ধেশ্বরী কলেজের শিক্ষার্থী।

এর আগে বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চ, রক্তিম জুলাই, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার মঞ্চসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন বঙ্গভবনের রাস্তা আটকে সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিল। তাদের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে সরকার তাদের সাথে বুধবার বৈঠক করার আশ্বাস দিয়েছে, এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে একটি পক্ষ সেখান থেকে সরে যায়। কিন্তু আন্দোলনকারীদের একটি অংশকে রাত পর্যন্ত বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

এ সময় বঙ্গভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও সেনা সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেয়।

আন্দোলনকারীরা বঙ্গভবনের সামনের ব্যারিকেড ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ধাওয়া দেয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে গণজমায়েত করে রাষ্ট্রপতিকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পদচ্যুত করাসহ ৫ দফা দাবি জানানো হয়।

হিন্দুস্তান টাইমসের বর্ণনায় হাসিনার ‘আয়নাঘর’

শেখ হাসিনার আমলে বহুল আলোচিত ‌’আয়নাঘর’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছ ভারতের পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার জমানা ২০০৯ সালে শুরু হয়েছিল। ওই সময় থেকেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হতো। শাসকের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তুলে আনা হতো বলে খবর।

আয়নাঘর। এই শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক কথা। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই এনিয়ে নানা কথা উঠতে শুরু করেছে। বলা হয়, শেখ হাসিনা মূলত তার সমালোচকদের এই আয়নাঘরে রেখে দিতেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুসারে অনেককেই তুলে এনে গুম করে ফেলা হতো। তাদের লাশের সন্ধান মিলত না। অন্যদেরকে একটি গোপন মিলিটারি ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হতো। এটার নাম ছিল আয়নাঘর। মানে হাউজ অফ মিররস।

কাদের রাখা হতো এই আয়নাঘরে?
মূলত হাসিনার শাসনকালে যারা তার বিরুদ্ধে কথা বলতেন তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হতো। আইনজীবী থেকে পাহাড়ি নেতা, যারাই হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলতেন তাদেরকেই নিশানা করত তৎকালীন সরকার। এদিকে আচমকাই সেই প্রতিবাদীদের আর সন্ধান মিলত না। কার্যত উবে যেতেন তারা। তবে এবার সেই প্রতিবাদকারীদের আত্মীয়রা মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

বেলাল হোসেন। ২০১৩ সাল থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এবার তার ভাইঝি তাসনিম সিপ্রা জানিয়েছেন, আমরা যেটা চাইছি সেটা হলো একটা উত্তর। কী হয়েছিল সেটা জানতে চাইছি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে শিপ্রা জানিয়েছেন, এমন যেন মনে হচ্ছে কাকা কোনো দিন পৃথিবীতে ছিলেন না।

মাইকেল চাকমা। তিনি পাহাড়িদের অধিকারের দাবিতে লড়াই চালাতেন। গত অগস্ট মাসে একটি জঙ্গলে তাকে ছাড়া হয়েছিল। তার আগে চোখ বেঁধে তাকে হাঁটানো হয়। তিনি বলেছিলেন পাঁচ বছরে এই প্রথম আমি সূর্যের আলো দেখলাম। এমনকি তিনি বার বার পরীক্ষা করে দেখেন তিনি কি সূর্যের আলো দেখছেন নাকি সেটা অন্য কিছু।

এদিকে তার প্রশ্ন আমার দোষটা কি ছিল? আমি কী করেছি? আমার অপরাধটা কোথায়? আসলে সেই প্রশ্নের উত্তরটা মিলছে না কিছুতেই।

আবদুল্লাহ আমান আজমি নামে সেনাবাহিনীর এক সাবেক জেনারেল বলেছেন, আমি আকাশ, সূর্য, ঘাস, চাঁদ, গাছ কিছুই দেখিনি। গত অগস্ট মাসে তাকে মিলিটারি জেল থেকে ছাড়া হয়েছিল। আট বছর ধরে তাকে জেলের মধ্যে বন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছিল। তাকে অন্তত ৪১ হাজার বার চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল ওই সময়কালে।

হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মিথ্যাচার করেছেন : আসিফ নজরুল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুতে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন মিথ্যাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

সোমবার (২১ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘তার এই পদে থাকার যোগ্যতা আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উনি যদি তার বক্তব্যে অটল থাকেন তাহলে বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদে যাবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি। এটা হচ্ছে মিথ্যাচার এবং উনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল। কারণ উনি নিজেই ৫ আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটে পেছনে তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী উনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং উনি তা গ্রহণ করেছেন।’

‘হাসিনা আর রাজনীতি করার জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘আর রাজনীতি করার জন্য দেশে ফিরতে পারবেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে থাকা সমর্থকদের সরকারবিরোধী আন্দোলন করার জন্য উস্কানি দিচ্ছে। আমি তাদের বলতে চাই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য আর ফিরতে পারবেন না; শুধুমাত্র ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়ানোর জন্যই ফিরবেন।’
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যত পুলিশ মারা গিয়েছে এর দায় শেখ হাসিনার।
তিনি বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহŸান জানিয়েছিলাম কিন্তু তিনি তা না করে দেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার ওপর স্নাইপার দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে।’
‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনা তার সব নেতাকর্মী এবং পুলিশ বাহিনীকে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে কাউকে না জানিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যান। শেখ হাসিনার এ সিদ্ধান্তের কারণে সেদিন অনেক পুলিশ সদস্য মারা যায়। এ আন্দোলনে যত পুলিশ মারা গিয়েছে এর দায় শেখ হাসিনার,’ বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমি টাইম ম্যাগাজিনকে বলেছিলাম শেখ হাসিনা একজন সাইকোপ্যাথ ও রক্তচোষা, তাই প্রমাণিত হলো। আমরা প্রথমে নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই একটা আন্দোলন করছিলাম। সর্বপ্রথম সরকারের পেটোয়া বাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ করে। আমরা বারবার আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলেছি, কিন্তু তারা আমাদের বন্দুকের সামনে দাঁড় করিয়েছে। আপনারা দেখেছেন কীভাবে আমাদের গুম করা হয়েছে এবং তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা এখনো পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উস্কানিতে জনজীবন দুর্বিষহ করার চেষ্টা করছেন তাদের সাবধান করে দিতে চাই।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘গণমাধ্যমের মধ্য থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিতাড়িত করে জনগণের সামনে চিহ্নিত করতে হবে। কারণ আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম চাই। ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে না।’

মোদির রাশিয়া সফরের আগেই প্রশংসা পুতিনের

প্রশংসায় কখনো অস্বস্তি বাড়ে। আবার প্রশংসা কখনো বিশেষ অর্থবোধক হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে। ব্রিকস বৈঠক শুরু হওয়ার ঠিক আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দরাজ প্রশংসা করার পর এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এই মুহূর্তে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ওঠাপড়ার দিকে শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিম। এই তাকিয়ে থাকার মধ্যেও মিশ্র কূটনীতি রয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লিকে প্রয়োজন রাশিয়ার সঙ্গে দরকষাকষির জন্য। অন্যদিকে ভারত, রাশিয়ার কাছ থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অশোধিত তেল আমদানি করে চলায় রক্তচাপও বাড়ছে ওয়াশিংটনের।
এই আবহে পুতিনের মন্তব্য, ‘নরেন্দ্র মোদি আমাদের বন্ধু। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা তিনি বারবার উত্থাপন করেছেন আমাদের আলোচনার সময়। তার বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। আমরা তাকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’ সেই সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এ কথাও জানাতে ভোলেননি যে কবে এই যুদ্ধ শেষ হবে তার কোনও সময়সীমা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তার বক্তব্য, রাশিয়া চায় শান্তিপূর্ণ সমাধান, তবে দুর্ভাগ্যবশত ইউক্রেন তা চায় না। মোদির প্রশংসা করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করতেও ছাড়েননি পুতিন। তার কথায়, ‘নেটো আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে আমরাই শেষ কথা বলব। আমরাই জিতব। ইউক্রেন যুদ্ধে আমরাই টিকে থাকব।’
রাশিয়ার কাজান শহরে আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ব্রিকস সম্মেলন। ব্রিকস-এর মর্ম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘বন্ধু’ মোদীকে টেনে এনে পুতিন বলেছেন, ‘ব্রিকস গোষ্ঠীর লক্ষ্য পশ্চিমের শক্তির বিরোধিতা করা নয়। এই একই কথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছেন এবং তিনি ঠিকই বলেছেন। ব্রিকস পশ্চিম বিরোধী নয়, তবে অপশ্চিমী গোষ্ঠী। আগামী দিনে বিশ্বের বড় অংশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে ব্রিকস। এর কারণ, পশ্চিমের দেশগুলির তুলনায় এই গোষ্ঠীভূক্ত রাষ্ট্রগুলির বিপুল আয়তন এবং তাদের দ্রæততর আর্থিক বৃদ্ধি।’
এক মাসে আগেই ইউক্রেন সফর সেরে পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন মোদি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ভারতের ভূমিকার কথা উঠেছিল তখন। তারপরেই সমাজমাধ্যমে মোদি লিখেছেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা হয়েছে। সা¤প্রতিক ইউক্রেন সফরে গিয়ে আমার যা ধারণা হয়েছে, তাকে তা জানিয়েছি। দ্রæত, স্থায়ী এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের সমর্থন জানাতে ভারত প্রতিশ্রæতিবদ্ধ।’ শুধু তা-ই নয়, ভারত এবং রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোদি।
রাশিয়া সফরের মাস দেড়েক পর মোদি ইউক্রেনে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বার্তা তিনি স্পষ্ট করেনÑ ভারত শান্তির পক্ষে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ভাবে এই যুদ্ধ থামাতে মোদি সাহায্য করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ চলাকালীন ভারত কোনো পক্ষ নেয়নি। তবে নয়াদিল্লি মোটেই নিরপেক্ষ ছিল না। ভারত বরাবর শান্তির পক্ষে ছিল এবং তা-ই থাকবে।
নয়াদিল্লি-মস্কো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বলিউড সব সময়েই বড় ভূমিকা নিয়েছে। রাজ কাপুর থেকে মিঠুন চক্রবর্তী হয়ে শাহরুখ খানÑ ভারতের অন্যতম সেরা কূটনৈতিক দূতের কাজ করেছেন। সিনেমার বিষয়ে ব্রিকসের দেশগুলিকে রাশিয়া কোনো সুযোগ সুবিধা দেবে কিনা, সেই প্রশ্নের জবাবে পুতিন আজ বলেছেন, ‘আমাদের আলাদা টিভি চ্যানেল রয়েছে শুধুমাত্র ভারতীয় ফিল্ম দেখানোর জন্য। যদি ভারতের ফিল্ম নির্মাতারা আগ্রহী হন, আমরা রাশিয়ায় তাদের সিনেমার প্রচারের বিশেষ সুবিধা করে দেব। এই নিয়ে কথা হতেই পারে।’

মণিপুরে দফায় দফায় গোলাগুলি, থানায় হামলা

০

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা যেন থামছেই না ভারতের ‘সেভেন সিসস্টার্স’ নামে পরিচিত অন্যতম মণিপুর রাজ্যে। কিছুদিন পরপরই জাতিগত দাঙ্গায় উত্তাল হয়ে উঠে রাজ্যটি। শনিবারও ঘটেছে একই ঘটনা। হঠাৎই ভোর ৫টায় শুরু হয় সংঘাত। দফায় দফায় চলে গোলাগুলি।
একপর্যায়ে জিরিবাম জেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বোরোবেকরা থানায় চালানো হয় হামলা। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সন্দেহভাজন কুকি বিদ্রোহীরাই এ হামলা চালিয়েছে।
পুলিশ জানায়, খুব সকালে গুলি চালাতে শুরু করে হামলাকারীরা। এছাড়া সেখানকার একটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং বোমা হামলাও চালানো হয়েছে।
এছাড়াও সূত্র থেকে জানা যায়, থানার দেওয়াল ও দরজায় বুলেটের ছিদ্র দেখা গেছে। একটানা গোলাগুলির শব্দও শোনা যাচ্ছিল। হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী জোর অভিযান শুরু করেছে।
অন্যদিকে মণিপুরের পুলিশপ্রধান রাজীব সিং বলেন, জিরিবাম জেলাসহ কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি চলছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে জিরিবাম জেলায় মেইতে ও কুকি জনজাতির সংঘাতে পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন। মাসখানেক বিরতির পরে নতুন করে আবারও অশান্ত হলো মণিপুরের জিরিবাম জেলা।
শনিবার ভোর থেকে মেইতে ও কুকিদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় গোলাগুলি চলছে। মণিপুর হাইকোর্ট মেইতেদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিলে তার প্রতিবাদে ২০২৩ সালের ৩ মে জনজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব মণিপুর’ (এটিএসইউএম)-এর কর্মসূচি ঘিরে সেখানে অশান্তির সূত্রপাত হয়।
মণিপুরের আদি বাসিন্দা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে খ্রিষ্টানপ্রধান জনজাতি কুকি, জো’সহ কয়েকটি স¤প্রদায়ের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। রাজ্যটিতে শান্তি ফেরাতে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বিধায়কদের নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লিতে বৈঠকের আয়োজন করেছে।

দিল্লিতে বিস্ফোরণ, বিজেপিকে দুষছেন মুখ্যমন্ত্রী আতিশি

০

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) স্কুলের বাইরে রোববার সকালে একটি বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণের ফলে স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণে জন্য বিজেপিকে দুষছেন দিল্লির আম আদমি পার্টির (আপ) মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা।
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ দলের সদস্যরা ঘটনা স্থলে পৌঁছান। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) প্রাথমিক তদন্তে বলেছে, বিস্ফোরক উপাদানের সঙ্গে তাজা বোমার (টাইম বোমার মতো অনেকটা) মিল রয়েছে। তবে বোমাটির ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো।
বিস্ফোরণের সঙ্গে আপাতত সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সম্পর্ক নেই বলে মনে হচ্ছে। তবে সূত্রগুলো বলছে, এফএসএলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে দিল্লির রোহিণী জেলার প্রশান্ত বিহারে সিআরপিএফ স্কুলের বাইরে বিস্ফোরণ ঘটে। এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে দিল্লি পুলিশের সন্ত্রাস দমন ইউনিটের বিশেষ শাখা কাজ করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের দোকান ও রাখা গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাগ্যক্রমে এতে কেউ হতাহত হননি।
ঘটনাস্থলে অপরাধ দমন বিভাগের এফএসএল দল ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের পাশাপাশি জাতীয় তদন্তদলের (এনআইএ) সদস্যরাও কাজ করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা গার্ডের (এনএসজি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।
ভারতের সংবাদ সংস্থার (এএনআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণের জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আতিশি মারলেনা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, দিল্লির আইনশৃঙ্খলা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় শাসক বিজেপির। কিন্তু বিজেপি তা না করে দিল্লির নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব পালনে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি করছে। এই কারণে রোববার দিল্লির এই অবস্থা হয়েছে। দিল্লির আজকের অবস্থা মুম্বাইয়ের ১৯৯০-এর দশকের অপরাধজগতের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।