ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে জয় পেয়েছে বামপন্থি জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট (এনএফপি)। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থি জোট এনসেম্বল দ্বিতীয় হয়েছে এবং আরএনের অবস্থান তৃতীয়। তবে নির্বাচনে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দলই।
এজন্য দেশটির সরকার গঠনে এবার ঝুঁকতে হবে জোটের দিকে। এতেই বাঁধে বিপত্তি। মধ্যপন্থিদের সঙ্গে জোটবদ্ধ সরকার গড়তে চান না মধ্যপন্থি নেতা জন-লুক মেলশো। আবার প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও চান না মেলশোর মতো নেতার সঙ্গে সরকার গঠন করতে। যার জেরে জোট সরকার গঠনেও বেশ জটিলতা দেখা দিয়েছে দেশটিতে। এরই মধ্যে দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে একত্রিত করতে মঙ্গলবার ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে পৌঁছেন নবনির্বচিত আইনপ্রণেতারা।
প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ে আলোচনা শুরু করলে সেখানেও দেখা দেয় জটিলতা। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণেই প্রার্থী নির্বাচনেও উভয় সংকটে পড়েছে দলগুলো।
দেশটির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণায় দেখা গেছে, ফ্রান্সের পার্লামেন্টে ৫৭৭টি আসনের মধ্যে নিউ পপুলার ফ্রন্ট (এনএফপি) পেয়েছে ১৮২টি, ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থি জোট এনসেম্বল পেয়েছে ১৬৩টি এবং যারা ক্ষমতায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল সেই ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) ১৪৩টি আসনে জয় পেয়েছে। কিন্তু দেশটির ৫৭৭ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৮৯ আসন পায়নি কোনো দলই।
এজন্য জোট সরকার গঠন করা অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী জোট গঠনে সাধারণত অভ্যস্ত নয় ফ্রান্স। যা জার্মানি বা নেদারল্যান্ডসের মতো উত্তর ইউরোপীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে হয়ে থাকে।
এদিকে ম্যাক্রোঁর দলের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন সেজার্ন বলেছেন, তিনি মূলধারার দলগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত থাকলেও জন-লুক মেলশোর কট্টর-বাম ফ্রান্স আনবোড (এলএফআই) দলের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে চান না। বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্ড ফিলিপও কট্টর-বাম দলের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে রাজি নন। যেহেতু কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি সেহেতু যে দলই সরকার গঠন করুক না কেনো পার্লামেন্টে তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে। যা একেবারে অসম্ভব বিষয়।
ফ্রান্সের সংবিধান অনুসারে, ম্যাক্রোঁ কোনো দলকে সরকার গঠন করতে আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। তবে তিনি যাকেই বাছাই করেন না কেন তাকে জাতীয় পরিষদে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। ম্যাক্রোঁ সম্ভবত বামপন্থি জোট থেকে সোশ্যালিস্ট এবং গ্রিনস দলকে বাদ দিতে পারেন। ফ্রান্স আনবোড দলকেও হয়তো রাখবেন না। তিনি নিজেদের মধ্যপন্থি এনসেম্বল দলের সঙ্গে বামপন্থিদের নিয়ে জোট গঠন করতে পারেন বলেও ধারণা করছেন অনেকেই। আরেকটি সম্ভাবনা হলো টেকনোক্র্যাট সরকার।
যা দৈনন্দিন বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো তত্ত¡াবধান করবে না। তবে বামজোট কী ভাবছে সেটাই এখন গুরুত্ব পাবে ফ্রান্সের রাজনীতিতে। এরই মধ্যে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আটাল সোমবার সকালে ম্যাক্রোঁর কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে গ্যাব্রিয়েলের পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেন ম্যাক্রোঁ। দেশের এমন পরিস্থিতিতে আপাতত নিজ পদেই দায়িত্ব পালনের জন্য গ্যাব্রিয়েলকে আহŸান জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। এদিকে মঙ্গলবার ন্যাটো সম্মেলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।
এ ছাড়া আগামী ২৬ জুলাই অলিম্পিক গেমসের আয়োজন করতে যাচ্ছে প্যারিস। তবে এখনই বলা যাচ্ছে না যে, গ্যাব্রিয়েল আটালকে আর কতদিন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফ্রান্সের বিদায়ি অর্থমন্ত্রী ব্রæনো লে মায়ার সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, দেশ আকস্মিকভাবে আর্থিক সংকট এবং অর্থনৈতিক পতনের মুখোমুখি হতে পারে। কে হবেন প্রধানমন্ত্রী, কে হবেন প্রেসিডেন্ট, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে কে নেতৃত্ব দেবেন- এ নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। ফ্রান্সে যে এরকম পরিস্থিতি হতে পারে, তা ভোটের আগে পর্যন্ত অনুমান করতে পারেনি রাজনৈতিক মহল।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে অতি ডানপন্থিদের (ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিরা ছিলেন) দুর্দান্ত ফলাফল দেখে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন ম্যাক্রোঁ। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা ছিল, অতি ডানপন্থিদের ন্যাশনাল র্যালিই এবার ক্ষমতায় আসবে। প্রথম রাউন্ডের ভোটগ্রহণ পর্বেও সেই ইঙ্গিত মিললেও পরবর্তীতে তা ভুল প্রমাণিত হয়। উল্লেখ্য, ৩০ জুন দেশটির প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফার ভোট হয় ৭ জুলাই।
ফ্রান্সে জোট সরকার গঠনে জটিলতা
ভারতীয় সেনাদের সরাতে সম্মত পুতিন
দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মস্কো রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের প্রথম দিন ইউক্রেন যুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, রাশিয়ায় যে ভারতীয়রা আছেন, বাধ্য হয়েই তাদের অনেককে যুদ্ধে অংশ নিতে হয়েছে। পুতিন যেন যুদ্ধ থেকে ভারতীয়দের অব্যাহতি দেন সেই অনুরোধও জানান মোদি।
সূত্রের দাবি, পুতিন মোদির কথায় সাড়া দিয়েছেন। ভারতীয়দের রুশ সেনাবাহিনী থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তারা যাতে দেশে ফিরে যেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে উঠে আসে এই তথ্য।
সফরের প্রথম দিন সোমবার রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ইউক্রেন যুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় তাদের মধ্যে। এ সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহŸান জানান মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে না। ভারত জাতিসংঘ সনদ, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানায়। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো কিছুর সমাধান নেই। আলোচনা ও কূটনীতিই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাওয়ার পথ। এ সময় অসাধু ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে ভারতীয় নাগরিকদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এর পর থেকে টানা সেই যুদ্ধ চলছে। কর্মসূত্রে বহু ভারতীয় রাশিয়ায় বসবাস করেন। মোদির অভিযোগ, এমন বহু ভারতীয়কে বাধ্য হয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়েছে। যুদ্ধে কয়েকজন ভারতীয়র নিহত হওয়ার খবরও প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মোদির এই সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মোদির এই সফরকে ভালো চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। ইতোম
‘নতুন প্রেসিডেন্ট এলেও ইরানের কোনো পরিবর্তন হবে না’
সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে জিতে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হয়েছেন উদারপন্থী মাসুদ পেজেশকিয়ান।
তবে নতুন প্রেসিডেন্ট এলেও তার অধীনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল সোমবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ইরান যে পথে এগোচ্ছে বা তাদের যে নীতিগত অবস্থান, এই নির্বাচনের ফলে সেসবে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে বলে আমরা মনে করি না। কারণ দিনশেষে ইরানের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট নন, শেষ কথা বলেন সুপ্রিম লিডার।’
তবে নতুন প্রেসিডেন্ট যদি এই ধারণা ভুল প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাকে স্বাগত জানাবে বলে মন্তব্য করেন মিলার, ‘তবে নতুন প্রেসিডেন্ট যদি ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ সীমিত করতে পারেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারেন, তাহলে সেসব পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাব।’
মিলার যোগ করেন, ‘তবে এমন কিছু হবে বলে যে আমরা বিশ্বাস করি না, তা বলাই বাহুল্য।’
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই সাঈদ জালিলির সঙ্গে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে ৫৩.৭ শতাংশ ভোট নিয়ে ইরানের নবম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন পেজেশকিয়ান।
বিজেপি-৩, তৃণমূল-১ ছিল, এ বার কী হবে
রাজ্যের চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। ওই চার কেন্দ্র হল, নদিয়ার রানাঘাট দক্ষিণ, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা, কলকাতার মানিকতলা এবং উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে রানাঘাট, বাগদা, রায়গঞ্জ কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। আর মানিকতলায় তৃণমূল। কিন্তু বাগদা কেন্দ্রে জয়ী বিশ্বজিৎ দাস এবং রায়গঞ্জ কেন্দ্রে জয়ী কৃষ্ণ কল্যাণী পরে তৃণমূলে যোগ দেন। পদ্মপ্রার্থী হিসাবে রানাঘাটে জয়ী হওয়া মুকুটমণি অধিকারী লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দেন। এই তিন জনকেই লোকসভায় প্রার্থী করে তৃণমূল। বিশ্বজিৎ বনগাঁ, কৃষ্ণ রায়গঞ্জ এবং মুকুটমণি রানাঘাট কেন্দ্রে জোড়াফুলের প্রার্থী হন। তিন জনেই পরাজিত হন।
রাজ্যের চার বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন
লোকসভা ভোটের ফল বলছে রায়গঞ্জ, বাগদা এবং রানাঘাটÑ এই তিন কেন্দ্রেই এগিয়ে বিজেপি। মানিকতলায় এগিয়ে তৃণমূল। মানিকতলার প্রাক্তন বিধায়ক সাধন পান্ডে ২০২২ সালে মারা গেলেও আইনি জটিলতার কারণে ওই কেন্দ্রে এত দিন উপনির্বাচন হয়নি। চার কেন্দ্রেই লড়াই মূলত তৃণমূল এবং বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে। আজ এই চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিকে দিনভর নজর থাকবে।
অস্ট্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদী
দু’দিনের রাশিয়া সফর শেষ করে মঙ্গলবারই অস্ট্রিয়ায় পৌঁছেছেন মোদী। আজ মোদী দেখা করবেন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজ়ান্ডার ভ্যান দের বেলেন এবং চ্যান্সেলর কার্ল নেহামেরের সঙ্গে। গত ৪১ বছরের মধ্যে এই প্রথম ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রিয়ায় পা রাখতে চলেছেন। মোদীর এই অস্ট্রিয়া সফরের দিকে নজর থাকবে।
ফ্রান্সকে বিদায় করে ইউরোর ফাইনালে স্পেন
ইউরো শুরুর আগে এমবাপ্পে জানিয়েছিলেন তার অপূর্ণ ইচ্ছের কথা। বলেছিলেন ইউরো জিততে কতটা মুখিয়ে রয়েছেন তিনি। তবে তার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে সেমিফাইনালে এসে। স্পেনের বিপক্ষে দলকে জেতাতে পারেননি এমবাপ্পে। তার দল ফাইনালে উঠার ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে হেরে বসেছে ২-১ গোলে। অথচ, এদিন ম্যাচের প্রথম গোলটা ফ্রান্সকে পাইয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন এমবাপ্পেই।
ফাইনালে উঠার ম্যাচে এদিন ম্যাচের ৯ মিনিটেই ম্যাচে লিড নেয় ফ্রান্স। এমবাপ্পের বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন কালো মুয়ানি। তবে সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি স্পেন। ম্যাচের ২১ মিনিটে স্পেনের বিস্ময় বালক লামিলে ইয়ামাল গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। সেই গোলের রেশ না কাটতেই ফের গোল হজম করে বসে ফ্রান্স। এ দফায় স্পেনকে এগিয়ে নেন দানি ওলমো। ওখানেই শেষ ফ্রান্সের ইউরোর ফাইনালে উঠার স্বপ্ন।
এরপর প্রথমার্ধে আর ম্যাচে ফেরা হয়ে উঠেনি ফ্রান্সের। চেষ্টার কমতি ছিল না দ্বিতীয়ার্ধেও। তবে তাদের সব চেষ্টা এদিন দক্ষতার সঙ্গেই রুখে দিয়েছে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ। রক্ষণ সামলে ফরাসিদের রক্ষণে ঢুকে কঠিন পরীক্ষাও নিয়েছে স্পেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করার চেয়ে ফ্রান্সকে আটকানোতেই তাদের মনোযোগ ছিল বেশি। যার প্রমাণ মেলে দু’দলের আক্রমণের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেও। ম্যাচে যেখানে ৪টি আক্রমণ শানিয়েছে স্পেন। সেখানে ৮টি আক্রমণ ছিল ফ্রান্সের। তবে দিনশেষে গোলটাই পায়নি তারা।
দলীয় প্রচেষ্টা ছাড়াও এমবাপ্পে একক নৈপুণ্যেও বেশ কয়েকবার আক্রমণ শানিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কিছুতেই কিছু হয়নি। পাল্টা আক্রমণে এসে ৮১ মিনিটে শট নেয় ইয়ামাল। তবে তার সেই শট বার ঘেঁসে বাইরে চলে যায়। নয়তো ম্যাচটা তখনই শেষ হয়ে যেতে পারত। এরপর যদিও ৮৬ মিনিটে ম্যাচে সমতা টানার সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। দারুণ এক আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও সেটি নষ্ট করেন এমবাপ্পে। সেই সঙ্গে শেষ হয় ফ্রান্সের ইউরো যাত্রা।
স্পেনের ফাইনালের টিকিট কাটার ম্যাচে ইয়ামাল গড়েছেন এক রেকর্ড। ইউরোতে এখন ১৬ বছর বয়সে গোল করা একমাত্র ফুটবলার তিনি। পাশাপাশি এই গোলে ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন ইয়ামাল। এদিন তার বয়স চিল ১৬ বর ৩৬২দিন। এর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর ২৩৯ দিনে গোল করেছিলে ফুটবল সম্রাট পেলে।
আগামীকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে জয়ী দল স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আগামী ১৪ জুলাই রাত ১ টায়।
লারার সেই ইনিংস আজও অমলিন
ক্রিকেট বিশ্বে নান্দনিক পারফরম্যান্সে কিংবদন্তি হয়ে আছেন ব্রায়ান লারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই তারকা ক্রিকেট থেকে অবসরে গেলেও তার কিছু রেকর্ড এখনো অক্ষত আছে।
এখন থেকে ২০ বছর আগে ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অ্যান্টিগা রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে ৫৮২ বল খেলে ৪৩টি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৪০০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন লারা। তার সেই রেকর্ড আজও অক্ষত আছে।
টেস্টে এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮০ রান করেছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ম্যাথু হেডেন। তিনি ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই রান করেন।
১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭৫ রানের ইনিংস খেলেন লারা। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৭৪ রানের ইনিংস খেলেন শ্রীলংকান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন ক্যারিবিয়ান তারকা গ্যারি সোবার্স। তার সেই রেকর্ডটি ৩৬ বছর স্থায়ী ছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে দেন লারা।
টেস্ট ক্রিকেটের নতুন এক দিগন্তও উন্মোচিত হয়েছে লারার ব্যাটে। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছেন ৪০০ রান। ইংল্যান্ডের কোনো বোলার থামাতে পারেনি তাকে। লাঞ্চের আধঘণ্টা পর নিজেই থামার সিদ্ধান্ত নেন ব্রায়ান লারা। ৫ উইকেটে ৭৫১ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক। অপরাজিত ৪০০ রান, ৭৭৬ মিনিট, ৫৮২ বল, ৪৩টি চার, ৪টি ছয়- টেস্ট ইতিহাসের নতুন এক দ্বার খুলে দেয় এই পরিসংখ্যান।
টেস্টে এক ইনিংসে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪০০ রান করেছেন লারা। তবে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি আছে ৩০টি। এ তালিকায় নাম আছে-ম্যাথু হেডেন, মাহেলা জয়াবর্ধনে, গ্যারি সোবার্স, লর্ড হার্টন, সনাথ জয়সুরিয়া, হানিফ মোহাম্মদ, ওয়ালি হ্যামন্ড, ডেভিড ওয়ার্নার, মার্ক টেলর, ডোনাল্ড ব্রাডম্যান, গ্রাহাম গুচ, ক্রিস গেইল, মাইকেল ক্লার্ক, ইনজামাম-উল হক, অ্যান্ডি স্যান্ডহাম, বীরেন্দ্রর শেহবাগ, ইউনিস খান, কুমার সাঙ্গাকারা, হাশিম আমলা, বব সিম্পসন, জন এডরিচ, বব কোপার, করুন নায়ার, আজহার আলি, ব্রান্ডন ম্যাককালাম ও লরেন্স রো।
লারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৭ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ৫৩টি সেঞ্চুরি আর ১১১টি ফিফটির সাহায্যে অষ্টম সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৩৫৮ রান করেছেন। রেকর্ড সর্বোচ্চ ১০০টি সেঞ্চুরির সাহায্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪ হাজার ৩৫৭ রান করে শীর্ষে আছেন শচীন টেন্ডুলকার।
ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার বর্তমান বয়স ৫৫ বছর। ক্রিকেট থেকে অবসরে তিনি ক্রীড়া বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রাম কিংসের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ভারতের নতুন কোচ গৌতম গম্ভীর
ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে রাহুল দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন গৌতম গম্ভীর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাধ্যমে ভারতীয় দলের সঙ্গে দ্রাবিড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। অবশ্য এর বেশ আগে থেকেই নতুন কোচ খোঁজা শুরু করে দেয় ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিসিসিআই)।
গত আইপিএলের পর থেকেই গুঞ্জন ছিল, আইপিএলজয়ী কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মেন্টর গৌতম গম্ভীর হতে পারেন দ্রাবিড়ের উত্তরসূরি। অবশেষে সেটাই সত্যি হলো।
নতুন কোচ হিসেবে গম্ভীরের নাম ঘোষণা করে বিসিসিআই সচিব জয় শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ভারতের নতুন হেড কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি। আধুনিক দিনের ক্রিকেট দ্রতই বিকশিত হচ্ছে এবং গৌতম সেই পরিবর্তিত রূপটি কাছ থেকেই দেখেছেন। ক্যারিয়ারজুড়ে বিভিন্ন ভূমিকায় পারদর্শী হওয়ায় আমি আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে গৌতমই আদর্শ ব্যক্তি।’
এর আগে আজ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গম্ভীরের সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চলছে বিসিসিআই কর্তাদের। তা চূড়ান্ত হয়ে গেলেই প্রধান কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে বিসিসিআই। অবশেষে সব বিষয়ে একমত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিত-কোহলিদের দায়িত্ব নিলেন সাবেক এই ওপেনার।
গৌতম গম্ভীর ২০১১ সালে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের ওপেনার ছিলেন। তার নেতৃত্বে কলকাতা নাইট রাইডার্স দুইবার আইপিএল শিরোপা জিতে। আইপিএলের সবশেষ আসরে কলকাতার মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তৃতীয় শিরোপা উপহার দেন গম্ভীর।
এমন শিরোপা ভাগ্যের কারণেই তাকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী ছিল বিসিসিআই। যদিও গম্ভীরের অতীতে কোচিং করানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই। শুধু আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সে মেন্টরের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
অবশেষে গোল পেলেন মেসি, আর্জেন্টিনা ফাইনালে
লম্বা সময় ধরে ছন্দে নেই লিওনেল মেসি। এর পেছনে বড় কারণ ছিল চোট। পুরোপুরি ফিট না থাকা মেসি চলতি কোপা আমেরিকাতেও ছিলেন নির্বিষ। অবশেষে সেমিফাইনালে এসে প্রথম জালের দেখা পেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জালের দেখা পেয়ে যান মেসি। এঞ্জো ফার্নান্দেজের পাসে হালকা করে পা ছুঁইয়ে দিয়ে চলতি কোপায় নিজের প্রথম গোলটি আদায় করে নেন মেসি।
মেট লাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা নিজেদের রঙে রঙিন করতে পারতো কানাডা। তবে পরপর দুটি সুযোগ পেয়ে দুটিই হারায় কানাডিয়ানরা। ঠিক এই সুযোগটা লুফে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে পেয়ে গেছে জালের দেখা। জুলিয়ান আলভারেজের একমাত্র গোলে প্রথমার্ধে কানাডার বিপক্ষে এগিয়ে থাকে লিওনেল স্কালোনির দল। বিরতির পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন মেসি।
কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে বুধবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও কানাডা। পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার ধারে কাছেও নেই কানাডা। তবুও সেমিফাইনাল বলে কথা। একটু এদিক-ওদিক হলেই হয়ে যেতে পারে বিপদ। এমন ম্যাচে সর্বোচ্চটা দেওয়ার মিশনেই মাঠে নেমেছে দুদল।
তবে ম্যাচের শুরুর ১০ মিনিটে আর্জেন্টিনার চেয়ে বরং দাপট দেখিয়েছে কানাডাই। ম্যাচের প্রথম আক্রমণটাও আসে কানাডার পক্ষ থেকে। চতুর্থ মিনিটে প্রথম সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। সপ্তম মিনিটে আরেকবার আক্রমণে কানাডা। এবারও আর্জেন্টিনার ডি বক্সের বামপাশ থেকে ভুল শটে সুযোগ হারায় কানাডিয়ানরা।
৯০ মিনিটের খেলায় ২-০ গোলে হেরে যায় কানাডা, আর এতেই মেসি আরেকটা শিরোপা জয়ের দারপ্রান্তে দাড়িয়ে।
মায়ের পরিচয় জানতে চায় করণ জোহরের দুই সন্তান
পরিচালক হিসাবে তার সাফল্যের খতিয়ান নতুন করে দিতে হয় না। প্রযোজক হিসাবেও তৈরি করেছেন একাধিক মাইলফলক। পেশাগত ক্ষেত্রের বাইরে ব্যক্তিজীবনেও পরিপূর্ণতা পেতে চেয়েছিলেন করণ জোহর। কাজের বাইরে করণের জীবন আবর্তিত হয় দুই সন্তানকে ঘিরেই।
২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে বাবা হন বলিউডের এ পরিচালক। তার দুই সন্তান যশ আর রুহি জোহর। করণের মায়ের কাছেই বড় হচ্ছে দুজন। দাদির আদরে বেড়ে উঠলেও সন্তানদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় করণকে।
স¤প্রতি এক সাক্ষাৎকারে করণ জানান, সন্তানেরা এখন মাকে নিয়ে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। আর সেসব প্রশ্নের জবাব দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তাকে।
ভারতীয় সাংবাদিক ফায়ে ডি’সুজার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করণ জোহর বলেন, ‘আমাদের পরিবারকে আধুনিক পরিবার বলা যায়, যা সব পরিবারে খুব স্বাভাবিক, আমার পরিবারে সে রকমটা নয়। তাই প্রশ্ন আর সিচুয়েশনগুলোও সাধারণ নয়। আমার সন্তান যশ আর রুহি আমাকে প্রশ্ন করে, ‘আমরা কার পেটে জন্মেছি?’ ‘আমরা কেন দাদিকে মা বলি? আমাদের মা কোথায়?’ এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ কঠিন। আমি ওদের স্কুলের কাউন্সেলরের সাহায্য নিচ্ছি।’
এদিন সন্তানদের সঙ্গে খুনসুটি ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও কথা বলেন করণ জোহর। করণের ছেলে চিনি খেতে পছন্দ করে। এ নিয়ে মজা করে করণ বলেছিলেন, ‘যশ তোমার ওজন বাড়বে, তুমি মুটিয়ে যাবে।’ বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ হয় যশের। অভিমান করে করণের সঙ্গে। আর এ কারণে বেশ অনুশোচনা বোধ হয় করণের। তার কথায়, ‘আমি না বুঝেই ফ্যাট-শেমিং করে ফেলেছিলাম যশের। তার জন্য এখনো লজ্জা করে। যশ চিনি খেতে ভালোবাসে। বেশি চিনি খেলে ও মোটা হয়ে যাবে ভেবে বারবার বারণ করেছি, চেঁচিয়েছি। এটা ভুলে গিয়েছিলাম, ও ছোট বাচ্চা। সেই ঘটনার কথা ভাবলে এখনো লজ্জা করে।’
রাতে রহস্যময় পোস্টের পর দিনে মামলা করলেন ওমর সানী
মধ্যরাতে ফেসবুকে রহস্যময় স্ট্যাটাস দিয়ে দিনের বেলা মামলা করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের দর্শকপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে নায়ক নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওমর সানী জানান, রাতে যাকে হুমকি দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন তিনি। ওমর সানী বলেন, সকালে আমি কোর্টে ছিলাম। সেখান থেকে বাসায় ফিরছি।
মামলা ও হুমকির কারণ ব্যাখ্যা করে ওমর সানী বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে যে ব্যবসায় প্রতারণা করেছিল তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। একইসঙ্গে একজনকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলাম। তার নামেও মামলা দিয়েছি।
কত টাকা পাওনা ছিলেন, জবাবে নায়ক বললেন, টাকার পরিমাণ সামান্য। তবে যার কাছে পাই, তার যথেষ্ট সামর্থ্য আছে। চাইলে ১০ মিনিটে দিতে পারে। কিন্তু দিচ্ছে না। উল্টো হুমকির সুরে কথা বলছে। এটা নিয়ে আদালত পর্যন্ত আসতাম না। কিন্তু যখন হুমকির সুরে কথা বলল তখন মামলা করে দিয়ে এসেছি।
তবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন তাদের নাম বা পরিচয় বলতে চাননি এই নায়ক। শুধু বলেছেন, পরিচিতদের মাঝেই একজন।
সোমবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক রহস্যময় পোস্ট দেন ওমর সানী।। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজকে আমি কোর্টে যাচ্ছি, তোরে আমি…।’
এমন রহস্যময় স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই নেটিজেনরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্নে জর্জরিত করছেন। অনেকের প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন তিনি। কারও ওপর রেগেও যেতে দেখা গেছে জনপ্রিয় এ অভিনেতাকে।
নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রে দাপুটে অভিনেতা জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। ১৯৬৯ সালের ৬ মে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চলচ্চিত্রে অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে যিনি জয় করে নিয়েছেন কোটি দর্শক হৃদয়। পরিবারের উৎসাহ আর বাবার অনুপ্রেরণায় রুপালি দুনিয়ায় পথচলা শুরু করেন সানী। ১৯৯২ সালে নুর হোসেন বলাইর এই নিয়ে সংসার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র শিল্পে অভিষেক ঘটে। ১৯৯৪ সালে দিলীপ বিশ্বাসের ‘দোলা’ চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি।


