অক্ষয় কুমার, বলিউডের ‘খিলাড়ি’। হিন্দি চলচ্চিত্রজগতে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেতাদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে তার নাম। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বলিপাড়ায় রয়েছেন তিনি। ঝুলিতে হিট যেমন রয়েছে, ফ্লপের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এত বছরের অভিনয় জীবনে কোনও দিন ৮ ঘণ্টার বেশি তিনি শুটিং করেননি, কখনও নড়চড় হয়নি এই নিয়মের। কিন্তু এবার আসন্ন ছবি ‘সরফিরা’র জন্য সেই নিয়ম ভাঙতে হল অক্ষয়কে।
তার নিয়মানুবর্তিতার প্রশংসা করেন বড় বড় পরিচালকরা। সময়ের বিষয়ে ভীষণ সচেতন। নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘণ্টা আগেই সেটে পৌঁছে যান কিন্তু, নির্ধারিত সময়ের এক মিনিটও বেশি তাকে সেটে ধরে রাখা সম্ভব নয়। গত কয়েক বছরে একের পর এক শুধু ব্যর্থতাই দেখেছেন অক্ষয়। এবার রাধিকা মদনের সঙ্গে জুটি বেঁধে তাকে দেখা যাবে ‘সরফিরা’ ছবিতে। এটি তামিল ছবি ‘সুরারাই পট্টোরু’-র রিমেক।
ছবির পরিচালক সুধা কোঙ্গরা প্রসাদ জানান, প্রথম সকলেই ভয়ে ছিলেন তাকে আট ঘণ্টার বেশি সময় শুটিং করতে বলবেন কীভাবে, তা ভেবে। যদিও পরে নিজেই রাজি হন অভিনেতা। সে কারণে কৃতজ্ঞ সুধা।
পরিচালকের কথায়, “আসলে অক্ষয় তার প্রতিটা ছবি একদম সময়ে শেষ করেন। উনি প্রথমদিনই আমাকে বলে দিয়েছিলেন, শুটিং চলাকালীন একজন সহকারীর মতো থাকবেন। ওই আট ঘণ্টা সেট থেকে কোথাও বের হন না তিনি। তবে সময় শেষ হয়ে গেলে তাকে খুঁজেও পাওয়া যায় না।”
শুটিং শেষের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সুধা বলেন, “শেষ কিছু অংশের শুটিং বাকি ছিল। যদিও অক্ষয় স্যারের অংশের সমস্ত শুটিং হয়ে গিয়েছিল। চিত্রনাট্যের খাতিরে মনে হয়েছিল তাকে প্রয়োজন হতে পারে। তাই তাকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তিনি সময়ে কাজ শেষ করেছেন বাড়তি সময় দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা পঞ্চগণিতে শুট করছিলাম। সেদিনই তার মুম্বাই ফিরে যাওয়ার কথা। আমরা সবাই ভেবেছিলাম তিনি ফিরে গিয়েছেন। তেমনই জানিয়েছিলেন অক্ষয়। কিন্তু পরদিন সকাল হতেই সেটে একদম সময়ে হাজির।” এই প্রথমবার নিয়ম ভাঙলেন অক্ষয়। সকলেই ভেবেছিলেন বেজায় চটে যাবেন অভিনেতা। কিন্তু আসলে তিনি যে পেশাদার- এর দ্বারা সে প্রমাণই দিলেন।
নিজের তৈরি নিয়ম ভাঙলেন অক্ষয়
সালমান খানের ‘গায়ে হলুদ’, কৌতূহলী নেটিজেনরা!
চলতি বছর মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে ভারতের অন্যতম ধনী মুকেশ অম্বানী-নীতা আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির বিয়ের অনুষ্ঠান। বিদেশ থেকে নামি এবং দামি তারকারা এসে একের পর এক অনুষ্ঠানে নাচ-গান করছেন, কোনোটা দেশে কোনটা আবার বিদেশে। আগামী ১২ জুলাই গাঁটছড়া বাঁধছেন অনন্ত আম্বানি ও তার ছোটবেলার বন্ধু রাধিকা মার্চেন্ট। ৮ জুলাই হয়ে গেল তাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানেও দেখা গেছে বলিউডের একাধিক তারকাকে। কিন্তু সব থেকে বেশি নজর পড়ল যার উপর, তিনি বলিউড ভাইজান সালমান খান।
স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কালো পাঠান কুর্তা আর ঢোলা পাজামা পরেই এসেছিলেন ‘সিকান্দার’ সালমান। সেই সময় তার ছবিও তোলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। ভিতরে অবশ্য তাদের প্রবেশ নিষেধ ছিল। কিন্তু সালমান যখন বেরিয়ে আসেন, দেখা যায় একেবারে হলুদে মাখামাখি তিনি। এমনকি তার কালো কুর্তা কখন বদলেও ফেলেছেন! হলুদ কুর্তা পরে নিজের সাদা গাড়িতে চড়ে ফিরে যান তিনি।
কিন্তু এটুকুই তো সব নয়, সালমানের গায়ে হলুদের ছোঁয়া বলে কথা। বলিউডের গায়ে বিয়ের হলুদ পড়তেই হইহই শুরু হয়েছে অনলাইন মাধ্যমে। এক সংবাদমাধ্যমের পক্ষে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা হয়েছে সালমানের হলুদ মেখে বেরিয়ে যাওয়ার ভিডিও। সেই পোস্টেই ভক্তরা লিখতে শুরু করেছেন, এই ভাবে গায়ে হলুদ মেখে বেরিয়েছেন, এই বার যদি সত্যিই সালমানের একটা ‘হিল্লে’ হয়ে যায়!
তবে শুধু সালমান নন, রণবীর সিংকেও প্রায় একই রকম পোশাকে হলুদে মাখামাখি অবস্থায় বের হতে দেখা যায়।
বিলবোর্ডে স্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা!
স্ত্রীকে খুশি করতে জন্মদিনে দারুণ একটি সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করলেন স্বামী। সাধারণত বিলবোর্ড কোনো কমার্শিয়াল কাজেই ব্যবহার করা হয়। তবে তিনি চেয়েছেন স্ত্রীর জন্মদিনে ভিন্ন কিছু করতে। যে কারণে রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনের ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি বড় বিলবোর্ডে স্ত্রীর বেশ কিছু ছবি দিয়ে জন্মদিনের উপহার দিয়েছেন।
এমন কাণ্ড ঘটালেন সদ্য বিবাহিত অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকের স্বামী আজমান নাসির। স্বামীর কাছ থেকে এমন সারপ্রাইজ পেয়ে উচ্ছ¡সিত অভিনেত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু ছবিতে দেখা মিলল সেই চিত্র। যেখানে বিলবোর্ডে চমকের ছবি ও তার সামনে জন্মদিনের কেক দেখা গেছে। এ সময় তার স্বামী নাসিরও পাশে ছিলেন।
চমককে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন তিনি। যে কারণে এবার স্ত্রীকে খুশি করতে জন্মদিনে দারুণ একটি সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করলেন অভিনেত্রীর স্বামী।
বিয়ের পর থেকেই স্বামীকে নিয়ে বেশ আলোচনায় রয়েছেন তিনি। গত মাসে ৯ টাকা দেনমোহর ও ৯০০ টাকার শাড়িতে সাদামাটাভাবে বিয়ে করেছেন তারা।
পেশায় ব্যবসায়ী চমকের স্বামী আজমান নাসির সবার কাছে অনুরোধ করেছেন, তার অতীত টেনে চমকের সম্মানহানি করা বন্ধ হোক। তাদের সুখে-শান্তিতে সংসার করতে দেওয়া হোক।
২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়তে পারে প্রায় ৬ জনে ১ জন ধনকুবের
২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়তে পারে মার্কিন ডলারে সম্পদ থাকা প্রায় ৬ জনে একজন ধনকুবের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানসহ অন্যান্য দেশে এই ধনকুবেরদের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে বুধবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে।
‘দ্য ইউবিএস গেøাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৪’ এর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে ডলারে সম্পদ থাকা ধনকুবেরদের সংখ্যা এবছর ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়াবে ২,৫৪২৪৬৪ জনে, আগের বছরে যা ছিল ৩,০৬১,৫৫৩ জন।
নেদারল্যান্ডসেও ধনকুবেরের সংখ্যা আগের বছরের ১,২৩১৬২৫ জন থেকে ৪ শতাংশ কমে ১,১৭৯৩২৮ জনে দাঁড়াবে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইউবিএস গেøাবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পল ডেনোভান বলেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে ধনকুবেরদের চলে যাওয়া এই বাস্তবতারই কিছুটা প্রতিফলন ঘটাচ্ছে যে, বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক ধনকুবেরের এই দেশটি থেকে এখন তাদের চলে যাওয়ার পরিসংখ্যান ‘অস্বাভবিকভাবে বেড়ে গেছে’।
ডেনোভানের মতে, যুক্তরাজ্য তাদের অ-আবাসিক (নন-ডোম) ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এর কিছু প্রভাব পড়েছে। এ ব্যবস্থায় সম্পদশালী মানুষেরা বিশেষত, বিদেশি যারা যুক্তরাজ্যে বাস করে তারা বৈদেশিক আয়ের ওপর কর এড়াতে পারত। এ সুবিধা না থাকায় এখন ভিনদেশি ধনকুবেররা এখন কম কর কোথায় দেওয়া যায় সেসব জায়গাই খোঁজ করবে।
যুক্তরাজ্য বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করের দেশ। ধনবান মানুষ, যাদের বছরে আয় ১২৫,১৪০ পাউন্ডের বেশি তাদেরকে ৪৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। এর মানে, আয়ের প্রায় অর্ধেকই সরকারকে দিতে হয়। এমনকী যুক্তরাজ্যের অধিবাসী না হওয়ার পরও সেদেশে আয়ের ওপর সরকারকে কর দেওয়ার নিয়ম চালু আছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।
স¤প্রতি কয়েকবছরে যুক্তরাজ্য সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপরেও কর চালু করেছে। এই করও দিতে হয় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত। তার ওপর এবছরের নির্বাচনে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির জয় ধনকুবেরদের দেশ ত্যাগ আরও উস্কে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক সরকারের নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও দলটির বিভিন্ন খাতে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা ধনীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেবার পার্টি ধনীদের নিশানা করে কিছু খাতে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি স্কুলগুলোতেও কর চালু করা এবং যুক্তরাজ্যের অস্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য করের ফাঁকফোকর বন্ধ করা।
তবে করের বিষয়টি ছাড়াও ব্রেক্সিট ও ইউক্রেইন সংঘাতের মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ ও সম্পদ সংরক্ষণের নিরাপদ স্থান হিসেবে দেশটির আবেদন কমাচ্ছে। ফলে ধনকুবেরদের অনেকেই যুক্তরাজ্য ছেড়ে আরও স্থিতিশীল দেশে স্থানান্তরিত হতে চাইছে।
‘দ্য ইউবিএস গেøাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট’ আনুমানিক হিসাব দিয়ে বলেছে, ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডলারে সম্পদ থাকা ধনকুবেরদের মোট সংখ্যা ১৬ শতাংশ বাড়বে। জার্মানিতে বাড়বে ১৪ শতাংশ, ফ্রান্সে ১৬ শতাংশ, জাপানে ২৮ শতাংশ, স্পেনে ১২ শতাংশ এবং ইতালিতে বাড়বে ৯ শতাংশ।
ইউনূসের মামলা ‘শ্রম আইন অপব্যবহারের’ উদাহরণ হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
ম্যাথু মিলার বলছেন, আইনের অপব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা তৈরি হলে তা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলাগুলো বাংলাদেশে শ্রম আইন অপব্যবহারের উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার হতে পারে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ইউনূসের মামলার বিষয়ে এক প্রশ্নে এ মন্তব্য করেন মুখপাত্র ম্যাথু মিলার।
ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ইউনূসের বিষয়ে, তার বিরুদ্ধে করা মামলার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
“অনেক দিন ধরে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছি যে, এই মামলাগুলো ড. ইউনূসকে হয়রানি ও ভীতিপ্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের শ্রম আইন অপব্যবহার হিসাবে উদাহরণ হতে পারে।”
গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন এবং কর্মীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা চলছে।
এর মধ্যে শ্রম আইন লঙ্ঘনের এক মামলায় জানুয়ারির শুরুতে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আপিলে চলার মধ্যে ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস। এর মধ্যে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গত ১২ জুন মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
আগামী ১৫ জুলাই এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ থাকার মধ্যে অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করেছেন অধ্যাপক ইউনূস।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, “শ্রম ও দুর্নীতিবিরোধী আইনের অপব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা তৈরি হলে তা আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমিয়ে দিতে পারে বলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসাবে আমরা উদ্বিগ্ন।”
বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার সহায়তার ঘোষণা চীনের
বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বুধবার বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এ তথ্য জানান।
হাছান মাহমুদ বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হবে বলে চীনের প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চীনের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে জাতির পিতার চীন সফর এবং এরপর শেখ হাসিনার ছয়বার চীন সফরের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত মূল্য দেয়। পৃথিবীর যে কয়েকটি দেশে চীন সবচেয়ে বেশি প্রকৌশল সহায়তা দেয়, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
হাছান মাহমুদ জানান, আগামী বছর বাংলাদেশ ও চীনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্যদের বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের যে বাণিজ্য ঘাটতি আছে, তা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে চীনের প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানির কথা বলেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা যে আম আমদানি করতে যাচ্ছেন সেটি বলেছেন, কাঁঠাল ও পেয়ারা এ দুটি ফলও আমদানির বিষয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, ওষুধ, সিরামিকসহ অন্যান্য পণ্যও যাতে আমদানি হয়, তার ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বারোপ করেছেন। তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, বৈঠকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং মানবতার কল্যাণে দুই দেশ এক সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে দুই প্রধানমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক করার বিষয়ে সহায়তায় আগ্রহ প্রকাশ করেন চীনের প্রধানমন্ত্রী।
হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বঙ্গবন্ধু শিল্প পার্কে চীনা বিনিয়োগ আহŸান করেছেন। একইসঙ্গে চীনের জন্য আলাদা একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণের জায়গা বরাদ্দ রাখার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ব্রিকসে যোগদান বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেকোনো ফরম্যাটে, অর্থাৎ ব্রিকস যেভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়, সেভাবেই বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্তির কথা বলেছেন। চীন এক্ষেত্রে সমর্থন করবে বলে জানিয়েছে।
হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন যেসব সুবিধা পাচ্ছে, সেগুলো যাতে ২০৩২, অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে চীনের সহায়তা কামনা করেছেন। এ বিষয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
অসুস্থ মেয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী আগেভাগেই বেইজিং থেকে ফিরছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় কাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশের পথে যাত্রা করার কথা ছিল। অসুস্থ মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ঢাকায় সময় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের আগে আজ বুধবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন।
আজ বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরত যাওয়ার কথা ছিল ১১ জুলাই। সেটি না হয়ে প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় আজ রাত ১০টায় বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। এতে কিন্তু তাঁর আনুষ্ঠানিক যে কর্মসূচি, সেটির বিন্দুমাত্র হেরফের হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার কারণ ব্যাখ্যা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটির কারণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর কন্যা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবিøউএইচও) আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বেইজিং সফরের কথা ছিল। অসুস্থতার কারণে তিনি বেইজিং আসতে পারেননি। আমরা যেদিন বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা করি, সেদিন সকালবেলা হঠাৎ করে তিনি (সায়মা ওয়াজেদ) অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তিনি আসতে পারেননি। তিনি এখনো অসুস্থ। কাজেই প্রধানমন্ত্রী সফর সংক্ষিপ্ত করে নয়, ওনার এখানে (বেইজিং) রাত যাপন করার কথা ছিল। এখন তিনি সেটা না করে মা হিসেবে অসুস্থ মেয়েকে সময় দেওয়ার জন্য চলে যাচ্ছেন।’
বৃহস্পতিবারও সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার ও উচ্চ আদালত কর্তৃক ২০১৮ সালে জারিকৃত পরিপত্র বাতিলের প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবারও সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার আগে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) কর্মসূচি হিসেবে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবে। সড়ক ও রেলপথগুলো এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে। আমরা নির্বাহী বিভাগকে বলতে চাই, অতি দ্রুত আমাদের দাবিটি মেনে নেন, যাতে আমরা পড়ার টেবিলে বসতে পারি।
আসিফ আরো বলেন, ২০১৮ সালে যে পরিপত্র দেয়া হয়েছিল হাইকোর্ট সেটি বাতিল করেছে। আমরা এই আইনের প্রক্রিয়ায় হাইকোর্টের বারান্দায় যেতে চাই না। আমরা আমাদের রুটিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। যতদিন না আমাদের দাবি মেনে নেয়া হবে ততদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমাদের যে এক দফা দাবি জানিয়েছি সে ব্যাপারে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য আসতে হবে। একটি কমিশন গঠন করে এই কোটা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে জড়ো হবেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিল নিয়ে শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মৎস্য ভবন, মিন্টু রোড, কাটাবন, চানখারপুল অবরোধ করবেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এর আগে, আজ বেলা সাড়ে ১১টায় শাহবাগসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবরোধ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরে বিকেল ৫টার দিকে সব জায়গা থেকে অবরোধ তুলে শাহবাগে জমায়েত হন শিক্ষার্থীরা। পরে সন্ধ্যায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটিতে সভাপতি মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নয়ন
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ছয় সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল ও দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে নুরুল ইসলাম সোহেলকে। মঙ্গলবার সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বলা হয়, পরে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হবে।
আব্দুল মোনায়েম মুন্না সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ১১ মাস কারাগারে ছিলেন। এর আগে ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তৃণমূল থেকে ওঠে আসা মুন্না মাঠের নেতা হিসাবে নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। নুরুল ইসলাম নয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ক্লিন ইমেজের এ নেতাও ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি সব আন্দোলনে তিনিও রাজপথে ছিলেন।
মুন্না ও নয়ন যুগান্তরের কাছে অভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের ওপর আস্থা রেখে যে নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন-তার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
ক্ষোভ, হেভিওয়েটদের রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা : নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি পদে ‘অতি মূল্যায়নে’ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংগঠনের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ নেতাদের রাজনীতি করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।
যুবদলের সাবেক একাধিক সহসভাপতি যুগান্তরকে জানান, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য ও দক্ষদের রাখা হয়েছে। যে কারণে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু বাকি চার পদে যাদের রাখা হয়েছে সেই পদের জন্য তারা ততটা যোগ্য নন। এ চার নেতা অতীতে যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে থাকলেও তাদের নেই কোনো নিজস্ব কর্মীবাহিনী। অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন নেতা থাকলেও সিনিয়র সহসভাপতি, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক ও দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের কেন রাখা হয়েছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
সাবেক নেতারা জানান, বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি হিসাবে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন পল। ওই কমিটিতে তার আগে ১৬ জন সহসভাপতি ছিলেন। এর মধ্যে মামুন হাসানের মতো রাজপথের নেতাকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এখন পলের নিচে সাবেক সহসভাপতি যারা ছিলেন তারা কেউ রাজনীতি করতে চাইবেন না। তাছাড়া কোনো কারণে সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান সিনিয়র সহসভাপতি। আগের কমিটিতে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বে থাকা পল কিভাবে সারা দেশ সামলাবেন? আর ১৬ জন সাবেক সহসভাপতিকে রাজনীতি করার জন্য কোথায় জায়গা দেওয়া হবে?
একইভাবে বিল্লাল হোসেন তারেককে প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এই নেতা আগের কমিটিতে ১২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার আগে শফিকুল ইসলাম মিল্টন (১১ মাস ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন), গোলাম মাওলা শাহীন, আনোয়ারুল হক রয়েল, কামাল আনোয়ারের মতো হেভিওয়েট নেতা ছিলেন, তাদের কোথায় পদ দেওয়া হবে? এ ছাড়া আগের কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। অথচ আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের বিরুদ্ধে সাড়ে তিনশ মামলা রয়েছে, তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি।
একইভাবে আগের কমিটির হেভিওয়েট নেতা সাঈদ ইকবাল টিটু, আসাদুজ্জামান পলাশ, আব্দুল করিম সরকার, মহানগর দক্ষিণের খন্দকার এনামুল হক এনামসহ আরও অন্তত ৩০ জন নেতা আছেন, তাদের কীভাবে মূল্যায়ন করবে-এমন প্রশ্ন নেতাকর্মীদের।
যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় দুই নেতার মূল্যায়ন জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিটি ভালো হয়েছে। তবে আন্দোলনের কথা চিন্তা করে কমিটি দিয়েছে বলে মনে হয়নি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকিদের আন্দোলনে কি ভূমিকা ছিল তা বিচার-বিশ্লেষণ করা উচিত ছিল। বেশ কয়েকজন রাজপথের ভালো নেতা ছিলেন, তারা যথাযথ মূল্যায়ন পাননি। এসব নেতা ক্ষোভ নিয়ে রাজনীতিবিমুখ হলে তৃণমূলে খারাপ বার্তা যায়। এতে সংগঠন দুর্বল হয়। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে এখন দরকার সাহসী ও যার কর্মীবাহিনী আছে সেসব নেতা।
নয়াপল্টনে আনন্দ মিছিল : এদিন বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদলের নতুন কমিটির নেতারা গেলে তাদের স্বাগত জানান বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। পরে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির প্রমুখ। এতে নতুন কমিটির নেতারাসহ সাবেক কয়েকজন নেতাও ছিলেন।
বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রেসিডেন্ট শি’র
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উন্নয়নের দিকে বাংলাদেশের যাত্রার প্রতি তার অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।
বুধবার বিকালে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই আশ্বাস দেন।
এ সময় চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চীন বাংলাদেশকে চারটি উপায়ে- অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ, রেয়াতি ঋণ ও বাণিজ্যিক ঋণ দিয়ে সাহায্য করবে।’
দুই নেতার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে অবহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
ড. হাছান জানান, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত সফল আলোচনা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তার জন্য কিভাবে চার ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে- সে ব্যাপারে দুই দেশের কারিগরি কমিটি একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, চীন থেকে একটি কারিগরি কমিটি শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।
ড. হাছান জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা বিষয়টি উত্থাপনের আগেই চীনের প্রেসিডেন্ট ইস্যুটি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন।
শি জিনপিং বলেন, ‘আমরা মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করব।’
চীনের প্রেসিডেন্ট মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের আবেদন জানালে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা বাংলাদেশে ক্রমাগত আরও বিনিয়োগ করতে চাই।


