Home Blog Page 551

মামলা হলেই গ্রেফতার নয়, তদন্তে দোষী হলেই ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, মামলা হলেই গ্রেফতার নয়, আগে তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলেই কেবল তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) হেডকোয়ার্টারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কাউট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ইউনিট লিডার শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর নামে প্রতিষ্ঠিত ‘স্কাউটার শহীদ মীর মুগ্ধ ভবন’ ও তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় উৎসর্গীকৃত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রবেশ তোরণ উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আগে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করতো, ১০ জনের নাম দিতো আর ৫০ জন দিতো বেনামী।
এখন কিন্তু পুলিশ মামলা করছে না। মামলা করছে সাধারণ জনগণ।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছে তারা সবাই শহীদ। শুধু মুগ্ধ নয়, যারা শাহাদতবরণ করেছেন, তাদের সবার জন্য আপনারা দোয়া করবেন যেন তারা শহীদের মর্যাদা পায়।’

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সরকার করবে। যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বিদেশে পাঠাতে হয়, সে ব্যবস্থাও সরকার করবে। তাদের চিকিৎসার জন্য বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনা হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আহত ও অসুস্থদের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘বিগত সরকারের নেতা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা অপরাধী তাদের বেশির ভাগই ৫ থেকে ৭ আগস্টের মধ্যে পালিয়ে গেছে। আর যাতে নতুন করে পালাতে না পারে সেজন্য সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেজন্য এখন পালানোটা তাদের জন্য বেশ দুরূহ হয়ে গেছে। আর এখন পালাতে গেলে শুধু পুলিশ ও বিজিবি নয়, সাধারণ জনগণই তাদের ধরিয়ে দিচ্ছে।’
উপদেষ্টা এসময় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অপরাধীদের ধরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সেলিম মো: জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো: ময়নুল ইসলাম। এসময় শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, বড়ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত ও মুগ্ধর জমজ ভাই স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা পরে এপিবিএন মসজিদে স্কাউটার শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর আত্মার মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

সূত্র : বাসস

এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বারবিকিউ পার্টি সম্পন্ন

এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যাগে কুইন্স ব্রীজ পার্কে বারবিকিউ পার্টি অনুষ্ঠিত হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। সোসাইটির উক্ত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সদস্য তাদের পরিবারের সদস্যরা ও কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত  ছিলেন। এর মধ্যে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বিয়ানীবাজার সমিতির উপদেষ্টা কিনু চৌধুরী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বশির খান, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন দেওয়ান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

IMG 5857


এছাড়া আরোও উপস্থিত  ছিলেন এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি মো. সোহেল আহমদ, সহ সভাপতি কয়েছ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিন, উপদেষ্টা এমাদ চৌধুরী, চৌধুরী সালেহ, আব্দুর রহমান, দেওয়ান সাহেদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ এমদাদ রহমান তরফদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হক চৌধুরী, সদস্য ফয়সল আহমেদ, মো. সোলেমান, নুরুল হক, মো. হোসেন আহমেদ, জহিরুল হক চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহনুর কুরাইশি, মনসুর আহমদ চৌধুরী, আব্দুল খালেক,  কামাল আহমেদ, আল-আমিন, সৈয়দ মুহিবুর রহমান, ডা. মাহবুবুর রহমান (মিশু), ডা. দিলরুবা চৌধুরী মিসবাহ আহমেদ, নুরুল হক, হাবিব আহমেদ, কামরান হোসেন পিন্টু, মোহাম্মদ কাদের, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জামাল আহমেদ, সুরুক মিয়া সিতারা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

image 123650291

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিন জানান, আমরা অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠানটিকরতে পেরেছি। বৃষ্টির দিনেও বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত করে তোলে। এর আগে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবিকিউ পার্টির অনুষ্ঠান বাতিল করা হলেও ৩০ সেপ্টেম্বর পুন:নির্ধারণ করা হয়। এরপরও  স্বল্প সময়ের নোটিশে প্রায় চার শতাধিক মানুষে সেখানে উপস্থিত হোন। খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি একে অপরের সাথে সৌহার্দ্য বিনিময় করেন। সেই সাথে আনন্দে মেতে উঠেন অতিথিরা।

মহা ধুমধামে বিয়ে করলেন রশিদ খান

জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু রশিদ খানের। বিয়ে করেছেন তিনি। তিন ভাই ও ভাগ্নেকে সাথে নিয়ে একই সাথে জমকালো আয়োজনে ধুমধাম করে সেরেছেন আনুষ্ঠানিকতা। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটার।

বৃহস্পতিবার রাজধানী কাবুলে পশতুন রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন রশিদ। হোটেল ইম্পেরিয়াল কন্টিনেন্টালে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি। তবে একা নয়, একই সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন রশিদের তিন ভাই ও ভাগ্নে।

রশিদের বিয়ে নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে কৌতূহলের শেষ ছিল না। প্রবল আগ্রহে এই স্পিন জাদুকরের বিয়ের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। ‘বিশ্বকাপ না জিতে বিয়ে করবেন না’ বলে মন্তব্য করে সেই আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দেন রশিদ।

অবশেষে সেসবের ইতি ঘটল। বিশ্বকাপ না জিতলেও বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন আফগানিস্তানের এই মহাতারকা। তবে একা নয়, তিন ভাই ও ভাগ্নেকে নিয়ে এক আয়োজনেই সেরেছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। তবে তাদের কারো স্ত্রীদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ছবিও পাওয়া যায়নি তাদের।

রশিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নবী, মুজিব উর রহমান, আজমত উল্লাহ ওমরজাই, নজিবউল্লাহ জাদরান, রহমত শাহ, ফজলহক ফারুকি।

ছিলেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ আশরাফ, বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নসিব খানসহ আরো অনেকে।

বিয়ে উপলক্ষে পুরো হোটেলটিতে আলোকসজ্জা করা হয়। দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয় চারদিক। ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা। একটি ভিডিওতে অস্ত্র হাতে তালেবানদের দেখা গেছে পাহারা দিতে।

ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ৭৮৮

গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ফিলিস্তিন-ইসরাইল সঙ্ঘাতে নিহতের সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৯৬ হাজার ৭৯৪ জন আহত হয়েছে।

এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় ৯৯ জন নিহত ও ১৬৯ জন আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থার (ইউএনআরডাব্লুএ) কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে বলেন, গত দুই দিনে গাজায় তিনটি ইউএনআরডাব্লুএ স্কুল আক্রান্ত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ২১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘স্কুলগুলোতে ২০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কিছু স্কুলে একাধিকবার হামলা হয়েছে।’

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ১৪০টিরও বেশি ইউএনআরডব্লিউএ স্কুল হামলার শিকার হয়েছে বলে জানান তিনি।

লাজারিনি আরো বলেন, আগে স্কুলগুলো ছিল শিক্ষার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এখন তা অনেকের জন্য নরকে পরিণত হয়েছে। স্কুলকে কেউ সামরিক উদ্দেশে ব্যবহার করতে পারবে না। স্কুলগুলো কোনো টার্গেট নয়। এ বিষয়টি যুদ্ধের মৌলিক নিয়ম, যা স্পষ্টভাবে এখানে উপেক্ষা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামলা চালায় হামাস। এ সময় প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হয়। বন্দী করে নেয়া হয় ২৫০ জনকে।

সূত্র : ইউএনবি

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র ৭ দিনের রিমান্ডে

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপ হত্যা মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদারের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক সৈয়দ ইমরুল সাহেদ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসাইন তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর তেজগাঁও থানার কারওরান বাজার এলাকায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপকে (২১) গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৪ আগস্ট গুলিতে নিহত হন রূপ। এ ঘটনায় তার বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করা হয়।

হিজবুত তাহরীর মিডিয়া সমন্বয়কারী গ্রেফতার

নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীরের গণমাধ্যমবিষয়ক সমন্বয়কারী ইমতিয়াজ সেলিমকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপি মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার তালেবুর রহমান।

তিনি জানান, গ্রেফতার সেলিমের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। এছাড়া পল্লবী ও খিলগাঁও থানায়ও আরো দু’টি মামলা রয়েছে। এর বাইরে তার বিরুদ্ধে আরো তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তালেবুর রহমান বলেন, গ্রেফতার সেলিমকে আদালতে পাঠানো হবে।

দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা সংগঠনটি ফের আলোচনায় আসে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর।

সরকার পতনের আন্দোলনেও তারা অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক ইমতিয়াজ সেলিম।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ইসরাইলের জন্য ‘ন্যূনতম শাস্তি’ বললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

ইসরাইলের উপর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি আরো বলেন, এই হামলা ইরানের ন্যায্য অধিকার। আর এটি ইসরাইলের জন্য ন্যূনতম শাস্তি।

লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রধান সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাত উপলক্ষে এবং ইসরাইলে ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা তুফান অভিযানের প্রথম বার্ষিকীকে সামনে রেখে আজ তেহরানে ইমাম খোমেনী রহ. মুসাল্লায় জুমার নামাজের ইমামতি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ইরান তার দায়িত্ব পালনে বিলম্ব বা তাড়াহুড়ো করবে না। একইসাথে তিনি মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আয়াতুল্লাহ খোমেনি বলেন, বিভক্তি সৃষ্টি করা শত্রুদের নীতি। কুরআন অনুসারে, মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হলে তারা শত্রুদের পরাস্ত করতে পারে। সেজন্য ইরানি জাতির শত্রু ইরাকি জাতির শত্রু। লেবাননের জাতিরও একই শত্রু। একই শত্রু মিশরীয় জাতির। মোটকথা আমাদের সকলের শত্রু একই।

আল-আকসা তুফান অভিযানের কথা উল্লেখ করে ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই অভিযান একটি আইনি ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনিরা সঠিক ছিল।

হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে স্মরণ করে আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, হাসান নাসরুল্লাহ আমার ভাই। তিনি আমার প্রিয় এবং আমার গর্ব। ইসলামী বিশ্বের প্রিয় মুখ তিনি। এই অঞ্চলের জাতিগুলোর মাঝে তিনি দারুণ বাগ্মী ভাষী। তিনি ছিলেন লেবাননের উজ্জ্বল রত্ন।

খোমেনি বলেন, ‘আমি তেহরানে জুমার নামাজে সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং সবাইকে কিছু বিষয় জানানো প্রয়োজন মনে করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রিয় ভাইয়ের শাহাদাতে আমরা সবাই খুবই শোকাহত। এটি লেবাননের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তবে আমাদের শোকের অর্থ হতাশা, যন্ত্রণা নয়। বরং এটি প্রাণবন্ত, শিক্ষণীয়, প্রেরণাদায়ক এবং আশাব্যঞ্জক।

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, যদিও নাসরাল্লাহর দেহ এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। তবে তার প্রকৃত ব্যক্তিত্ব, তার আত্মা, তার পথ এবং তার অভিব্যক্তিপূর্ণ কণ্ঠ এখনো আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে। চিরকাল আমাদের সাথে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, হাসান নারুল্লাহ ছিলেন অত্যাচারী এবং শিকারী দানবদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের উচ্চ পতাকা। তিনি একজন বাগ্মী কণ্ঠ এবং নিপীড়িতদের সাহসী রক্ষক। তিনি ছিলেন যোদ্ধা ও অধিকারপ্রার্থীদের উৎসাহ ও বীরত্বের উৎস। তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব লেবানন, ইরান ও আরব দেশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন তার শাহাদাত এই প্রভাবকে আরো বাড়িয়ে দেবে।

তিনি বলেন, এই খুতবাটির শ্রোতা সমগ্র ইসলামী বিশ্ব। তবে এটি বিশেষভাবে লেবানন ও ফিলিস্তিনের প্রিয় জাতিকে সম্বোধন করা হয়েছে।

এ সময় এই অঞ্চলে যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা এবং পশ্চাদপদতার প্রধান কারণ হিসেবে জায়নবাদী শাসনের অস্তিত্বকে চিহ্নিত করেছেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদের দরজা স্থানীয় সকাল সাড়ে ৫টা থেকে খুলে দেয়া হয়। কারণ মরহুম হিজবুল্লাহ নেতা সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ এবং আইআরজিসি জেনারেল আব্বাস নীলফোরোশানের স্মরণ অনুষ্ঠান সাড়ে ১০টায় তেহরানে শুরু হয়।

সূত্র : মেহের নিউজ এজেন্সি

আমরা দল-ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন মানব না : জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দল ও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন মানব না। রাজনীতিতে কোনো ব্রাহ্মণ নীতি চলবে না।’

তিনি শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকালে ছাত্রআন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমাদের কোনো বিভাজন নেই। যত বিভাজন তা আমরা পায়ের নিচে ফেলে দিয়েছি। আর জাতিকে ভাগ করার সুযোগ দেব না। জাতিকে তারাই ভাগ করে যারা দেশের দুশমন। দলের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে আর ভাগ করার সুযোগ দেয়া হবে না। এক্ষেত্রে আমরা আপসহীন।’

জাতির সাথে সেবক হয়ে গাদ্দারি করলে কি পরিণতি হয় তা থেকে শিক্ষা নিতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতির সাথে গাদ্দারি করলে, তাদের সেবক হয়ে মালিক বনে গেলে কি পরিণতি হয় তা থেকে আমি, আমরা এবং জাতিকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আর কোনো স্বৈরাচার সরকার আসবে না, যারা ক্ষমতায় থাকাবস্থায় জনগণকে তাদের টাকায় কেনা বুলেট ছোড়ার দুঃসাহস করবে। এমন কোনো নতুন সন্ত্রাসী সরকার দেখতে চাই না।’

কোনো দুর্বৃত্তকে আদালতের চেয়ারে আর দেখতে চাই না এমন মন্তব্য করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা বিচারের আমানত রক্ষা করতে পারবে তাদের বিচারক হিসেবে চাই। যারা মুখের দিকে তাকিয়ে কোনো বিচার করবে না। নীতি, নৈতিকতা ও সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে রায় দেবেন। বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকতে হবে, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হতে হবে সঠিক।’

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্বীকৃতি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা দলীয় ভিত্তিতে শহীদদের বিভক্তি চাই না। তারা আমাদের মর্যাদার পাত্র। পাঠ্যপুস্তক কারিকুলামে আগামী দিনের নাগরিকরা যেন জানে তাদের মুগ্ধ, সাঈদ, রিয়ারা ছিল।’

এসময় তিনি প্রত্যেক শহীদ পরিবারের সদস্যদের একজনকে সরকারি চাকরি দেয়ার দাবি জানান।

মতবিনিময় সভার শুরুতে জামায়াতের আমির শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন।

মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহা. জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির খায়রুল হাসান, সহকারী সেক্রেটারি হোসেন আলী, মজলিসের শূরা সদস্য আফজাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবী প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে বিতর্কিত ৩০৭ ভোট বাতিল

 নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে সদস্যপদ নবায়ন এবং নতুন সদস্য পদ গ্রহনের শেষ সময় গত ৩০ জুন ছিল। এই সময়ের মধ্যে যারা সদস্য হয়েছেন তারাই আগামী ২৭ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে সোসাইটির মোট ভোটার সংখ্যা ১৮,৬০০ প্রকাশের পর ২৮২ জন ভোটার নিয়ে আপত্তি তোলেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারি সেলিম-আলী পরিষদ। ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন আরও ৩০৭ ভোটার সংযোজন দেখিয়ে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। এতে তীব্র আপত্তি তোলেন আতাউর রহমান সেলিম ও মোহাম্মদ আলী। তারা লিখিতভাবে বাংলাদেশ সোসাইটি ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ৩০৭ ভোট তালিকা থেকে বাদ দেবার দাবি জানান। এ প্রেক্ষিতে সোসাইটির কার্যকরি কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ড ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার যৌথ সভায় মিলিত হয়। সেখানে আলোচনার পর যৌথ কমিটি ৩০৭ ভোট বাতিলের ঘোষণা দেয়। নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশের ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, এটি হবে সোসাইটির তৃতীয় সংশোধিত ভোটার তালিকা।
এ ব্যাপারে সোসাটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী ইতিহাসে একটি কলংকজনক অধ্যায় রচিত হলো। এর আগে ২টি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন তৃতীয়টি প্রকাশিত হবে। গত ৩০ জুন ভোটার হবার শেষ সীমা পার হয়। এরপর ২৮২ ভোট যোগ করে বর্তমান কার্যকরি কমিটি। এর প্রতিবাদে ২৮ আগষ্ট নির্বাচন কমিশন ও কার্যকরি কমিটিকে চিঠি দেই। তার জবাব পাইনি। ১৮ সেপ্টেম্বর ৩০৭ জন নতুন ভোটার দেখিয়ে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর প্রতিবাদ করে আমরা আবার চিঠি লিখি। এর প্রেক্ষিতেই গত বৃহস্পতিবার যৌথ কমিটি এই ৩০৭ ভোট বাতিল করে। তবে ২৮২ ভোটের বাপারে তারা কোন জবাব দেন নি।
মোহাম্মদ আলী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠূ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সবার সহযোগিতা দাবি করছি। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সোসাইটির ভাবমূর্তি রক্ষা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া বলেন, আপত্তিকৃত ৩০৭ ভোট বাতিল করেছে যৌথ কমিটি। যাদের ভোট বাতিল করা হয়েছে তারা চাঁদা ফেরত দাবি করলে ফেরত দেয়া হবে। নইলে তা সংঠনের তহবিলে জমা থাকবে। আর ২৮২ ভোটের বিষয়টি যৌথ কমিটি সার্বিক বিবেচনায় বাতিল করেন নি। তবে এ কথা র্নিদ্বিধিায় বলতে পারি, তারা সোসাইটির জেনুইন সদস্য ও বাংলাদেশি কমিউনিটিরই মানুষ। তারা প্রকাশিত প্রথম লিস্ট থেকেই ভোটার হিসেবে গণ্য হয়েছেন। সবারই মনে রাখতে হবে এই সংগঠনটি আমাদের। এ সংগঠন নিয়ে বাংলাদেশী কমিিউনিটি গর্বিত। আসুন সবাই মিলে একটি সুন্দর ও দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান করি। নির্বাচিত নতুন নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতা করুন। যৌথ কমিটির সভায় সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দীন দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সহ অধিকাংশ সদস্য উপস্তিত ছিলেন। ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের মধ্যে উপস্তিত ছিলেন আব্দুল আজিজ, আখতার হোসেন, আজিমুর রহমান বোরহান, আব্দুল হাসিম হাসনু, মফিজুল ইসলাম, শাহজাহান সিরাজী, খোকন মোশাররফ, কামাল পাশা বাবুল, ওয়াসী চৌধুরী ও জহির মোল্লা।

প্রয়োজনে জামায়াতের সাথে এক হয়ে কাজ করব : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, প্রয়োজন হলে জামায়াতের সাথে এক হয়ে কাজ করব।

বুধবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলীতে নিহত দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক আবু তাহের মো: তুরাবের পরিবারের সাথে সিলেটের যতরপরুরে সাক্ষাতকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে তার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং নিহতদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন। একইসাথে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, মানবতার স্বার্থে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় কাজ করবে। নির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সময় নেবে, এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে জামায়াতের সাথে এক হয়ে কাজ করব। শেখ হাসিনার প্রেতাত্মারা এখনো রয়ে গেছে। মানুষ এখনো মুক্তি পায়নি। আমরা চাই জুলুম-নির্যাতন থেকে মানুষ মুক্তি পাক।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই নগরীর কোর্ট পয়েন্টে (বর্তমান শহীদ সাংবাদিক তুরাব চত্বরে) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলীতে নিহত হন দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার এ টি এম তুরাব।