Home Blog Page 554

তাঁতিবাজারে মণ্ডপে আহতদের দেখতে গেলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

তাঁতিবাজারে পূজা মণ্ডপে আহতদের দেখতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ। একই সময়ে তিনি ১৭ নম্বর তাঁতিবাজার পূজা কমিটি থেকে আয়োজিত মণ্ডপটিও পরিদর্শন করেন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাঁতিবাজারের পূজামণ্ডপটি তাৎক্ষণিক-ভাবে দেখতে যান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। এ সময় তিনি মণ্ডপে অবস্থানরত বিভিন্ন দর্শনার্থী এবং পূজারিদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়-কালে হাসান আরিফ বলেন, আজ সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অষ্টমী উদযাপন করেছেন৷ শনিবার আরও বেশি উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী উদযাপন করবেন। শারদীয় দুর্গোৎসবের বাকি দিনগুলো নির্বিঘ্নে উদযাপিত করুন। পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে অধিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও পূজা মণ্ডপগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কাজেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে উৎসব পালন করুন। তাঁতিবাজারে পূজামণ্ডপটি পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আহতদের দেখতে মিটফোর্ড হাসপাতালে যান৷ তখন তিনি আহত এবং তাদের পরিবার-পরিজনসহ কর্তব্যরত ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেন৷ আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনো প্রকার অবহেলা করা না হয় সেজন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দেশনা দেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূজা চলাকালে ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত মন্দিরে আচমকা পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু ছুঁড়ে মারে৷ তবে তা বিস্ফোরিত হয়নি। দুর্বৃত্তদের ধরার চেষ্টা করার সময় ঝন্টু (৪৫), সাগর (৩৮), মো. খোকন (৩৫) এবং বৃত্ত (২৬) নামে ৪ জন আহত হন। আহতদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারেক রহমান এই আন্দোলনের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড : দুদু

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন তারেক রহমান। কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যা করা দরকার সবই করেছেন তিনি। এটা যদি কাউকে ব্যাখ্যা করে বোঝাতে হয়, তাহলে একটু অসুবিধা আছে। বিগত ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনা বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। আর তারেক রহমান বিচক্ষণতার সঙ্গে বিএনপিকে রক্ষা করেছে— মন্তব্য করেন শামসুজ্জামান দুদু।

শনিবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন আয়োজিত প্রতীকী প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দুদু বলেন, এক মাসে কিছু হয় না। একটা সন্তান জন্ম দিতেও নয় মাস লাগে। এক মাসে যদি কোনো সন্তান আনতে হয় সেটা হয় মৃত। ১৬টি বছর এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। ১৬টি বছর এদেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক গুম ও নিখোঁজ হয়েছে। ১৬টি বছর জেল খেটেছে। এক মাসের আন্দোলনের কথা সব বিবেচনায় যদি এনে থাকেন সেটা ঠিক হয়নি। এজন্য যত তাড়াতাড়ি নির্বাচন করা সম্ভব হবে তত তাড়াতাড়ি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। যত তাড়াতাড়ি নির্বাচন করা সম্ভব হবে, তত তাড়াতাড়ি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনায় তার উপযুক্ততা প্রমাণ করতে পারবে। এটাই আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সেদিকেই আমি সরকারকে আহ্বান করি। কারণ, এই সরকার আমাদের সরকার। এই সরকার ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। সেজন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

নির্বাচন যত পিছিয়ে যাবে সংকট তত তীব্র হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের কাছে খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা করি না। ছোট্ট একটি প্রত্যাশা আছে। দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ড. মুহাম্মদ ইউনুস জ্ঞান গরিমা এবং কর্মের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন ব্যক্তি। তিনি নির্বাচন কবে হবে এই কথাটা যতদিন জাতিকে জানাতে না পারবেন ততদিন নানান বিতর্ক তৈরি হবে। এই বিতর্ক সৃষ্টিতে সরকারের ভূমিকা থাক এটা আমরা প্রত্যাশা এবং পছন্দ করি না।

তিনি বলেন, বাজারে আগুন লেগে গেছে। দ্রব্যমূল্য এতটাই বেড়েছে যে মানুষ অস্বস্তিতে পড়েছে। নতুন সরকার আসার পরে এই অবস্থা হবে সেটা কেউ প্রত্যাশা করে নাই। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জিনিসপত্রের দাম কমবে। সংস্কার সরকার করবে সে সংস্কার পরবর্তী সরকার সংসদে এসে অনুমোদন করবে। দুদু বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিলেমিশে চলাটাই এ সরকারের সাফল্যের একটি কারণ হতে পারে। দূরত্ব বাড়লে দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতার জন্য বিপদ হতে পারে। সরকার অনতিবিলম্বে কতদিনের মধ্যে নির্বাচন প্রত্যাশা করে এটি যত তাড়াতাড়ি তারা বলবে।

প্রতীকী সমাবেশে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক এম জাহাঙ্গীর আলম সভাপতিত্ব করেন এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোফাজ্জেল হোসেন হৃদয় সঞ্চালনা করেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপাসন উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জেড খান মো. রিয়াজউদদীন নসু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রিন্সিপাল শাহ মুহাম্মদ নেছারুল হক।

পূজার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করছি : ফারুক-ই-আজম

সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক।

শুক্রবার চট্টগ্রামের পটিয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে পৌরসদরের সুচক্রদণ্ডী মিলন মন্দিরে পূজার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক বলেন, এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আমরা একে অন্যের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করি। এখানে আমাদের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন রয়েছে তা অন্য কোন দেশে নেই। সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সবাই দিন-রাত কাজ করছি। দেশের সকল পূজামণ্ডপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করছে।’

এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘এ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ধারা রয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে।’

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দুর্গাপূজা দেখতে এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপে যেতাম। বর্তমানে পূজাকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে আপনাদের পাশে প্রতিদিন আছি, সবসময় আছি, প্রতি ঘণ্টায় আছি, প্রতি মিনিটে আছি ও প্রতি সেকেন্ডে আছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো গুজবে কান দেবেন না। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করবেন।’

পরে উপদেষ্টা পটিয়া পৌরসদরের রামকৃষ্ণ মিশন ও কালি বাড়ি মন্দির পরিদর্শন করেন, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে কুশল বিনিময় ও পূজার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দীন ভূঞা জনি, থানার ওসি আবু জায়েদ মো: নাজমুন নুর, কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত, জেলা পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ পালিত, জেলা পূজা কমিটির সদস্য ও পটিয়া উপজেলা পূজা মনিটরিং কমিটির সমন্বয়ক পুলক কান্তি চৌধুরী, আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সঞ্জয় দে, যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ ধর বাপন, জুয়েল চৌধুরী, মান্না দেব, সাজু কুমার দেব, সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী, সোমা চৌধুরী, সীমা গোস্বামী, শোভন রায়, সঞ্জয় রক্ষিত, জয় দে প্রমুখ।
সূত্র : বাসস

বিকেলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছেন ড. ইউনূস

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজা পরিদর্শন করতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ শনিবার বিকেল ৩টায় তিনি যাবেন। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ গণমাধ্যমকে জানান, প্রধান উপদেষ্টা আজ (শনিবার) বিকেল ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে যাবেন।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে এসএসএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

১০ দফা সংস্কার প্রস্তাব, আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় জামায়াত

আইন, বিচার, সংসদ, নির্বাচনব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের সংস্কারে অর্ন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে জামায়াতে ইসল্লামী। প্রস্তাবে বল্লা হয়েছে-রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারা, সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা চালু, কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত, ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে হবে। দলটি প্রস্তাবে আরও বলেছে, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী ২ বছরের জন্য ৩৫ বছর ও পরবর্তী বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি চাকরিতে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে। বিচার বহির্ভূত সব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসল্লামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এ সময় জামায়াতে ইসল্লামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মূলত তাদের সংস্কার প্রস্তাব ৪১ দফা, সেটা বিস্তারিত। এখন তারা সংক্ষেপে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এই মুহূর্তে অর্ন্তর্বর্তী সরকারের জন্য যেগুলো প্রাধান্য দেওয়া দরকার, সেগুলো দিয়েছেন। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে বাকিগুলো দেখবে।
এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অর্ন্তর্বর্তী সরকার সবকটি সংস্কার করে দিলে নির্বাচিত সরকার এসে কী করবে। আমরা নির্বাচিত সরকারকেও পরীক্ষা করতে চাই। যখন আমরা বিরোধী দলে থাকি, আমাদের কণ্ঠ-আওয়াজ হয় এক রকমের, আর সরকারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে যাই। তাই আমিসহ আমাদের সবাইকে পরীক্ষা করতে চাই। আমরা আগের জায়গাতেই আছি, নাকি এত বড় একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদেরও মানসিকতার কিছু পরিবর্তন হয়েছে, সেটা আমরা একটু দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যান। ৮ আগস্ট গঠিত হয় অর্ন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ করার জন্য নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার ব্যতীত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে না।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সেক্টর সংস্কারের জন্য ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন নায়েব আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। আইন ও বিচার সংস্কারের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের কার্যকর ব্যবস্থা, আইন মন্ত্রণালয় থেকে আল্লাদা করে সুপ্রিমকোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ ও সব কালো আইন বাতিল করতে হবে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা, নিন্ম আদালতের যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, সব ফৌজদারি মামল্লা তদন্তের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
সংসদবিষয়ক সংস্কারে দলটির প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য হলো-সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করা, সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের উল্লেখযোগ্য হলো-জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা চালু, কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত, ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল, কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরি ছাড়ার কমপক্ষে ৩ বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল, নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন ও সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খল্লা সংস্কারের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের ক্ষেত্রে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত পুলিশ আইন পরিবর্তন এবং পুলিশের জন্য একটি পলিসি গাইডল্লাইন তৈরি, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ রাখা যাবে না তথা সর্বপ্রকার দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, পুলিশের মধ্যে মারণাস্ত্রের ব্যবহার বাতিল, রিমান্ড চল্লাকালে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে আসামিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং মহিল্লা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের অভিভাবকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
র‌্যাববিষয়ক সংস্কারে বল্লা হয়েছে-গত সাড়ে ১৫ বছর যারা র‌্যাবে কাজ করেছেন তাদেরকে নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদেরকে পুনরায় র‌্যাবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। জনপ্রশাসন সংস্কারে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে করা, চাকরির আবেদনে সব ক্ষেত্রে বয়সসীমার বৈষম্য নিরসন করা, সব সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি নিরোধকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে করে কেউ দুর্নীতি করার সুযোগ না পায়-এজন্য প্রয়োজনীয় মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা, চাকরিতে বিরাজমান আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করা।
দুর্নীতি সংস্কারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া, বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উপযুক্ত বিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনসংস্কার, জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবে বল্লা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার বিধান সংযুক্ত এবং একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারার বিধান করা। শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কারে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে উচ্চমাধ্যমিক হিসাবে বলবৎ রাখা, অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা, পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক সংস্কারে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চীন, নেপাল, ভারত ও বাংল্লাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করা, অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত সব চুক্তি রিভিউ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি রিভিউ কমিশন গঠন করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কারে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-ইসল্লামিক ফাউন্ডেশন বাংল্লাদেশকে রাষ্ট্রের কল্যাণে অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোল্লা এবং হজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন-নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মাওল্লানা আনম শামসুল ইসল্লাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওল্লানা এটিএম মাছুম, মাওল্লানা রফিকুল ইসল্লাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও মাওল্লানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসল্লাম বুলবুল, উত্তরের আমির জনাব সেলিম উদ্দিন, ইসল্লামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসল্লাম প্রমুখ।

২৬ দিন পরই যুক্তরাষ্ট্রে ভোট এগিয়ে কমলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ২৬ দিন বাকি। ৫ নভেম্বরের এই ভোট যুদ্ধকে সামনে রেখে প্রধান দুই প্রতিদ্ব›দ্বী ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন শেষ সময়ের দৌড়ঝাঁপ করে চলেছেন। এমন অবস্থায় ক্ষণে ক্ষণে পাল্টে যাচ্ছে জনমত জরিপের হিসাব-নিকাশ। কখনো দুজনের অবস্থান সমানে সমান, আবার কখনো অল্প আগেপিছে থাকছে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, এএফপি, আলজাজিরা। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবারের খবর অনুযায়ী, ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ব্যবধান আরও কমে ৩% দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত নতুন জরিপে হ্যারিসের জনসমর্থন ৪৬% এবং ট্রাম্পের জনসমর্থন ৪৩% দেখা গেছে। এই কাছাকাছি অবস্থান আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প ২০-২৩ সেপ্টেম্বরের রয়টার্স/ইপসোস জরিপে হ্যারিসের চেয়ে ৬% পেছনে ছিলেন। তাকে এবার ভোটাররা বেশি সমর্থন দিয়েছে বেশ কিছু অর্থনৈতিক বিষয়ের কারণে। তাছাড়া, দেশে থাকা অবৈধ অভিবাসীরা অপরাধের দিকে ঝোঁকে বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছিলেন, সে কারণেও কিছু ভোটার তাঁর দিকে চলে গিয়ে থাকতে পারে।
জরিপে ভোটাররা দেশের অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকেই ওপরে রেখেছে। ৪৪% ভোটারই বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট নিয়ে ট্রাম্প সঠিক কথা বলেছেন। আর হ্যারিস এ বিষয়ে ভালো করেছেন বলে মত দেয় ৩৮% ভোটার। আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্টকে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর মধ্যে যেটি মোকাবিলা করতে হবে তার মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ৭০% ভোটার। চাকরি, কর এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে সঠিক ব্যবস্থাপনার দিক থেকে ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পাচ্ছেন বেশি। যদিও ধনী এবং সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে ফারাকের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ৪২% ভোটার হ্যারিসকেই বেশি ভালো মনে করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের অপরাধের দিকে ঝোঁক আছে, এ প্রসঙ্গে নতুন জরিপে ৫৩% ভোটার ট্রাম্পের বক্তব্যকেই সমর্থন করেছে। আর সমর্থন করেনি ৪১%। অথচ এই একই প্রশ্নে গত মে মাসে ভোটারদের মধ্যে খুব কম ব্যবধান দেখা গিয়েছিল। ট্রাম্পের কথা সমর্থন করেছিল ৪৫% ভোটার। আর সমর্থন করেনি ৪৬% ভোটার।
হ্যারিস গত জুলাইয়ে নির্বাচনি দৌড়ে শামিল হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের চেয়ে জনসমর্থনে এগিয়েই থেকেছেন। তবে সর্বসা¤প্রতিক জরিপে নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা যাদের সবচেয়ে বেশি, এমন ভোটারদের মধ্যে হ্যারিসকে ট্রাম্পের চেয়ে ২% এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। হ্যারিস পেয়েছেন ৪৭% সমর্থন আর ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৫% সমর্থন।
ভোটাররা ট্রাম্পের তুলনায় হ্যারিসকে মানসিকভাবে বেশি শক্ত-সমর্থ বলে মনে করে। নতুন জরিপে দেখা গেছে, ৫৫% ভোটারই বলেছে, হ্যারিস মানসিকভাবে চৌকশ এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। আর ট্রাম্পের ক্ষেত্রে একই মত পোষণ করেছে ৪৬% ভোটার।

নেতানিয়াহু-বাইডেন ফোনালাপে ইরানে হামলার বিষয়ে আলোচনা

ইসরাইলের অভ্যন্তরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে করণীয় ঠিক করতে ছক কষছে তেল আবিব। ইরানে কেমন পরিসরে হামলা হবে, সেটা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ইসরাইল।
তারই ধারাবাহিকতায় ইরানে হামলার বিষয়ে বুধবার ফোনালাপে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরমধ্যে যে কোনো পরিস্থিতিতে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অটুট সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন বাইডেন। বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এই দুই নেতার মধ্যে ৩০ মিনিট কথা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৫০ দিনের মাথায় দুবার ফোনে কথা বললেন বাইডেন-নেতানিয়াহু।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এই ফোনালাপে যোগ দেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি তার অটুট প্রতিশ্রæতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাইডেন। তিনি ১ অক্টোবর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর নিন্দা করেছেন।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাইডেন বেসামরিকদের ক্ষতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। বিশেষ করে বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যেখানে ইসরাইল মূলত হিজবুল্লাহর দাহিয়েহ এলাকায় বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারিন জাঁ-পিয়েরে দুই শীর্ষনেতার এই আলাপকে প্রত্যক্ষ ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও ইরানে হামলা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বাইডেন এবং হ্যারিসের এই ফোনালাপ যখন চলছে, ঠিক তখনই ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানে ইসরাইলের পাল্টা হামলা প্রাণঘাতী, নির্ভুল এবং বিস্ময়কর হবে।
জাঁ-পিয়েরে বলেন, বাইডেন ও নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
এদিকে বুধবারের পরে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদিও ইসরাইলি বাহিনীর বর্তমানে লেবাননের অভ্যন্তরে সীমিত স্থল অনুপ্রবেশকে সমর্থন করে, তবে তারা চায় না যে তারা লেবাননের গভীরে প্রসারিত হোক বা ইসরাইলের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হয়ে উঠুক।
ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনায় অনেক ধারণা করছেন ইরানের পরমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইসরাইল। তবে বাইডেন এর আগে জানিয়েছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কোনো কেন্দ্র হামলায় সমর্থন নেই তার।

মালয়েশিয়ায় ১৭ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের কোটা ভারুতে ১৭ বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করেছে অভিবাসন বিভাগ। বাংলাদেশি ছাড়াও আটক করা হয়েছে আরও ১৩ অভিবাসীকে।
বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম দি সান ডেইলি এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুই দিনের অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার কেলান্তান ইমিগ্রেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর (ব্যবস্থাপনা) নিক আখতারুল হক নিক আবদুল রন এক বিবৃতিতে জানান, এই অভিযানে কোটা ভারু শহরের আশেপাশের সুপারমার্কেট, জালান কুয়ালা ক্রাইয়ে দোকান এবং কাম্পুং সেবারাং পাসির মাস সালোরে লোহার কাজের ওয়ার্কশপ, পাসির পুতেহ, কাম্পুং পারমাটাং সুংকাইয়ের বেশ কয়েকটি বাড়ি এবং রেস্তোরাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বাংলাদেশের ১৭, পাকিস্তানের ২, মিয়ানমার ১, ভারতের ১, থাইল্যান্ডের ৪ পুরুষ ও ৫ নারীকে আটক করা হয়। আরও তদন্তের জন্য তানাহ মেরাহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটকদের রাখা হয়েছে।
রাজ্যে বিদেশীদের উপস্থিতি বা আইন ভঙ্গকারী বিদেশিদের জড়িত কোনও কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য জনসাধারণকে এগিয়ে আসার আহŸান জানান নিক আখতারুল হক।
এ ছাড়াও অবৈধ অভিবাসীকে আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জয়শঙ্করের ইসলামাবাদ সফরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে মুখ খুলল পাকিস্তান

০

৯ বছর পর পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ভারতের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সফরে পাক-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলতে পারে, এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। এছাড়া গণমাধ্যমের আগ্রহও ছিল অনেক। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অবশ্য এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন আগেই। এবার সেটা নিয়ে মুখ খুলেছে পাকিস্তান।
কারণ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে ইসলামাবাদে আসছেন এস জয়শঙ্কর। তার বাইরে আলাদা করে পাক-ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।
এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন।
জয়শঙ্করের ইসলামাবাদ সফর নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ বলেন, ‘গত ৫ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলেছেন সেটা আরেকবার মনে করিয়ে দিতে চাই। তিনি পরিস্কার বলেছেন, এসসিও বৈঠকে যোগ দেওয়াটাই তার পাকিস্তান সফরের একমাত্র উদ্দেশ্য। পাকিস্তান-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন না তিনি। আমার মনে হয়, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথাতেই সব কিছু স্পষ্ট। নতুন করে আর কিছু বলার নেই।’
এর আগে শনিবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এস জয়শঙ্কর বলেছেন, এই সফরে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠান। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে সেখানে যাচ্ছি না আমি।
আগামী ১৫ এবং ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে হবে এসসিও সম্মেলন। সেখানে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জয়শঙ্কর।
গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভারতকে কাশ্মীর ইস্যুতে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ওই সময় পালটা জবাব দিয়েছিলেন জয়শঙ্করও। তার পর প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি পাকিস্তানে এসসিও সামিট বয়কট করবে ভারত? তবে এসসিওর অন্য সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি করতে চায় না বলেই সামিটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আগের জায়গাতেই থাকবে অনুমান বিশ্লেষকদের।

এবারের পূজায় কলকাতা মাতাবে যে ৩ সিনেমা

০

শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মামলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে গতকাল মুক্তি পেয়েছে তিন সিনেমা। সিনেমাগুলোতে দেখা গেছে জনপ্রিয় সব অভিনয়শিল্পীদের। তাই তো ছবিগুলোকে ঘিরে সিমেনাপ্রেমিকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা।
সৃজিতের ‘টেক্কা’
এবার পূজার অন্যতম প্রতীক্ষিত ছবি হলো ‘টেক্কা’। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারস প্রযোজিত ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে রয়েছেন দেব, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও রুক্মিণী মৈত্র।
বেশ অনেক দিন পর আবারও একটি থ্রিলার অ্যাকশন ছবিতে দেখা যাবে দেবকে। নিজের চাকরি ফেরত পেতে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ইকলাখ ওরফে দেব। ট্রেলারেই উত্তেজনা বাড়িয়েছে ‘টেক্কা’, মুক্তির পর থেকেই দর্শক-সমালোচকের প্রশংসা পাচ্ছে সিনেমাটি। আর কিছুদিন পরে বোঝা যাবে বক্স অফিসে অন্য সিনেমাগুলোকে টেক্কা দিতে পেরেছে কি না সিনেমাটি।
পথিকৃতের ‘শাস্ত্রী’
এবার বক্স অফিসে মুখোমুখি থাকছেন মিঠুন চক্রবর্তী ও দেব। দীর্ঘদিন পর দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ‘মহাগুরু’।
‘শাস্ত্রী’ হয়ে ফিরেছেন মিঠুন। ছবির গল্প অনুযায়ী, খুবই জ্যোতিষ বিশ্বাসী মিঠুনের চরিত্রটি। একসময় নানা ঘটনার পর ছা-পোষা মধ্যবিত্ত থেকে শাস্ত্রী হয়ে ওঠেন তিনি।
ছবিতে মিঠুন দেবশ্রী ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সোহম চক্রবর্তী। পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ছবিটি প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন সুরিন্দর ফিল্মস এবং সোহমস এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ সলিউশনস।
নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ‘বহুরূপী’
গত বছর থেকে পূজায় ছবি মুক্তি দিচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা উইন্ডোজ প্রোডাকশন। গত বছরের আলোচিত ‘রক্তবীজ’-এর পর এবার তাদের পরিবেশনা ‘বহুরূপী’। দীর্ঘদিন পর পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ও করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
এই সিনেমাটিতে রয়েছেন কৌশানী মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায় এবং ঋতাভরী চক্রবর্তী। ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে ছবিতে। এ ছবিটিও মুক্তির পর প্রশংসিত হচ্ছে।