Home Blog Page 556

দেব-দেবীর জন্য পরচুলা তৈরি করে মুসলমান প্রধান যে গ্রাম

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব হলেও দেব-দেবীর কেশসজ্জার জন্য পরচুলা তৈরির করেন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার কুলাই গ্রামের শেখপাড়ার মুসলমান বাসিন্দারা। বহু যুগ ধরে বংশপরম্পরায় তারা এই কাজ করছেন।
মুসলিম প্রধান এ গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দাই পরচুলা তৈরির সঙ্গে যুক্ত।
দুর্গাপুজোর সময় তো ব্যস্ততা থাকেই, পাশাপাশি সারা বছর বিভিন্ন মন্দিরে বিগ্রহের জন্য চুল সরবরাহ করেন গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি চামরও তৈরি করেন তারা।
তাদেরই একজন মালেকা বেগম। তার রোজনামচা বাঁধা, সকাল থেকেই একদিকে বাড়ির কাজ সামলানো আর অন্যদিকে স্বামী আর ছেলের সঙ্গে কাজে হাত লাগানো।
‘৩২ বছর হলো বিয়ে হয়ে এসেছি এই বাড়িতে। তখন থেকেই ঠাকুরের (দেব-দেবীর বিগ্রহের) জন্য চুল আর চামর বানানোর কাজ শুরু করেছি। আমার শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামীর সঙ্গে কাজ করতাম। এখন তো ছেলে, ছেলের বউও আমাদের সঙ্গে কাজ করে,’ বলেছিলেন মালেকা বেগম।
বারান্দার এক পাশে কাজ করে চলেছেন তার স্বামী এব্রাহিম মল্লিক। বললেন, ‘এই মরশুমে পরপর অনেক কাজের অর্ডার আসে। কিছুদিন আগেই জন্মাষ্টমীর জন্য গোপাল আর রাধারানির চুলের অর্ডার ছিল। তারপর পুজোর (দুর্গা পুজো) অর্ডার। এই ব্যস্ততা এখন চলবে।’
পাশের একটা ছোট ঘরে তার ছোট ছেলে মণিরুল মল্লিক এক মনে চামর তৈরির কাজ করে চলেছেন। মাঝে মাঝে এ কথোপকথনে যোগ দিচ্ছিলেন।
তিনি বলছিলেন, তাদের কাজ কীভাবে দিল্লি, মুম্বাই, রাজস্থানে যায়। তাদের কাজের সুনামের কথাও। বড় ছেলে বাজারে গিয়েছেন দুর্গাপূজার অর্ডারের কাজ দোকানে পৌঁছে দিতে।
গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত রুস্তম আলি ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী। কুলাইয়ে পরচুলা শিল্প যাদের হাত ধরে বিকশিত হয়েছে, প্রয়াত এই শিল্পী তাদের মধ্যে অন্যতম।
তার ছেলে শেখ মেহরাজ আলী জানিয়েছেন, প্রায় গোটা বছরই হিন্দু দেব-দেবীর জন্য কৃত্রিম কেশ তৈরির বায়না আসে।
‘এক একটা মরশুমে এক ধরনের অর্ডার আসে। দুর্গাপূজার আগে একটা মাস দেবীর পরচুলার কাজ হয়। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশে দেব-দেবীদের চুল যায়। তার আগে জন্মাষ্টমীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের অর্ডার থাকে। কালীপূজায় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বাইরে থেকে অর্ডার আসে,’ বলেছিলেন তিনি।
শেখ মেহরাজ আলী জানিয়েছেন, কুলাই গ্রামের শেখ পাড়ার বাসিন্দাদের সিংহভাগই পরচুলা তৈরি করেন।
মুসলিম প্রধান এই অঞ্চলে কাঁচা-পাকা মিলিয়ে প্রায় ৪০০-এর কাছাকাছি বাড়ি। গ্রামের কমপক্ষে ২৫০টা পরিবার সরাসরি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুরসহ একাধিক জেলাতে দেব-দেবীর পরচুলা তৈরি হয়।
‘কুলাই গ্রামে মুসলমান শিল্পীরা হিন্দু দেব-দেবীদের জন্য পরচুলা তৈরি করেন। এই স¤প্রীতি মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। মুসলমান শিল্পীরা যেভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে এই কাজ করেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটাই কুলাইকে অন্য জায়গাগুলোর চেয়ে আলাদা করে। রুস্তম আলী রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়াও কুলাইকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে,’ বলেছেন হাওড়ার বাসিন্দা সৌম্য গাঙ্গুলি।
‘বংশ পরম্পরায় এটাই আমাদের পেশা’
একসময় মূলত যাত্রাপালা এবং নাটকের জন্য পরচুলা তৈরি করতেন গ্রামের বাসিন্দারা। তবে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এদের অনেকেই শুধুমাত্র হিন্দু দেব-দেবীদের বিগ্রহের জন্য চুল তৈরি করেন। দেব-দেবীর বিগ্রহের কেশসজ্জা নিখুঁত করে তোলাই তাদের কাজ।
‘বাবা ঠাকুরের চুল তৈরি করতেন। তার কাছ থেকেই কাজ শিখেছি। উনি শিখিয়েছিলেন কীভাবে নিখুঁত করে সাজিয়ে তুলতে হয় গোপাল আর রাধারানির চুল। বিভিন্ন মাপের মূর্তির চুল তৈরি করতে হয়। তার ধরন আর সাজও আলাদা আলাদা,’ বলছিলেন এব্রাহিম শেখ।
‘আমি ৫০ বছর ধরে ঠাকুরের চুল বানাই। আমার ছেলেরাও একই কাজ করে। এটা বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। এই গ্রামের ঘরে ঘরে লোকেরা একই কাজ করে, উঁকি দিলেই দেখতে পাবেন।’
হাওড়ার পাঁচলা থানার অন্তর্গত কুলাইয়ের শেখপাড়ার অধিকাংশ বাসিন্দারাই বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে এই কাজ করে এসেছেন।
তিন প্রজন্ম ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মেজাফ্ফর শেখের পরিবার। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আমাদের খানদানি কাজ। আমার বাবা হামিদ শেখ, দাদা খোদাবক্ত দুজনেই পরচুলা বানাতেন। নামকরা শিল্পী ছিলেন তারা। এখন আমি বানাই। তবে, গত বাইশ-তেইশ বছর ধরে শুধু ঠাকুরের চুলই বানাই।’
‘আগে ঠাকুরের চুলের পাশাপাশি যাত্রাপালা আর নাটকের জন্যও পরচুলা তৈরি হতো। এখন তো যাত্রা তেমন হয় না। লকডাউনের পর থেকে নাটকের জন্য পরচুলার অর্ডারও আগের চেয়ে কম পাই। তাই পুরোটাই ঠাকুরের চুল তৈরির উপর নির্ভর করতে হয়।’
মথুরা, বৃন্দাবন, হরিদ্বার, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং ওড়িশা থেকে সবচেয়ে বেশি রাধা আর কৃষ্ণের কেশসজ্জার কাজের বায়না আসে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রুস্তম আলীর মেয়ে রমিশা বেগম বেশ গর্বের সুরেই বললেন, ‘এই পেশা আমাদের বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। বাবা নাম করা শিল্পী ছিলেন। ওকে দেখেই গ্রামের বহু ছেলে এই কাজকেই পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে। বাবার হাত ধরে অনেকে নিজের ব্যবসাও শুরু করেছে।’
রমিশা বেগমের ভাই এবং তাদের পরের প্রজন্ম এখন সেই পরম্পরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর এখন আমার ভাই আর তাদের ছেলেরা এই কাজ করছে। সারাটা বছরই কাজ থাকে তবে জন্মাষ্টমী আর পুজোর (দুর্গা পুজো) সময় সবচেয়ে বেশি কাজ আসে।’
বাড়ির বাইরে দাওয়ায় বসেছিলেন শেখ জাকির আলী।
তার কথায়, দুর্গাপূজার জন্য পরচুলার অর্ডার আসে মূলত জুলাই-আগস্ট মাস থেকে। মহালয়ার আগেই বেশিরভাগ অর্ডারের কাজ শেষ করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের বাইরের অর্ডার হলে আরও একটু আগে কাজ শেষ করি আমরা।’
স¤প্রীতির বার্তা
মুসলিম প্রধান এই গ্রাম সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির একটা বড় উদাহরণ।
মেজাফ্ফর শেখের কথায়, ‘আমরা দেবতা ভেবে কাজ করি। আমার কাছে যেমন আমার দেবতা, যার জন্য কাজ করছি তারও দেবতা। দেব-দেবীর মাথায় চড়ানো হবে যে চুল, সেই কাজ আমরা সম্মানের সঙ্গে করি। সাফসুতরো হয়ে তবে কাজে বসি।’
‘আমার বাপ-দাদার আমল থেকে হিন্দু-মুসলমানদের একসঙ্গে দেখে এসেছি। এখনও তাই-ই হচ্ছেৃমুসলমানরা দুর্গা ঠাকুরের চুল বানাচ্ছে, জরি দিয়ে শাড়ি বানাচ্ছে। আর সেটা তো আজ থেকে না, আমার বাবা-দাদার সময় থেকে হচ্ছে।’
তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা, ‘আমাদের মধ্যে ধর্ম নিয়ে বাছাবাছি নেই। জাতধর্ম নিয়ে রাজনীতিকরাই কাজ করে। আমরা করি না।’
‘প্রয়াত শিল্পী রুস্তম আলী সবসময় স¤প্রীতির বার্তা দিতেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, এখানে হিন্দু-মুসলিম নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তিনি এই পেশাকে সম্মান জানিয়েই পরচুলা তৈরি করেন। কুলাইয়ে এখন যে শিল্পীরা আছেন, তাঁরাও হিন্দু দেব-দেবীর প্রতি সম্মান জানিয়েই কাজ করেন,’ বলেছেন সৌম্য গাঙ্গুলি।
কীভাবে হয় এই কাজ?
সাধারণত পাট বা নাইলনের সুতো দিয়ে বিগ্রহের জন্য চুল তৈরি হয়। তবে কুলাই গ্রামে মূলত পরচুলা তৈরি হয় নাইলনের সুতো দিয়ে। প্রথমে সেগুলো ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর গুছিয়ে নিয়ে বিনুনি করা হয়। তারপর চুল তৈরির চূড়ান্ত কাজ করা হয়।
পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিনুনি পাকানোর কাজ মূলত নারীরাই করেন। এটাই পরচুলা তৈরির ক্ষেত্রে আসল কাজ।
কাঁচা মাল হয় সাধ্য মতো শিল্পীরা নিজেরা কিনে আনেন, বা বাড়ি এসে জোগান দিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। অর্ডারের ক্ষেত্রেও তাই।
আগে ডাকযোগের মাধ্যমে পরচুলা, চামর পাঠানো হতো। এখন হোলসেলার বা পাইকারি বিক্রেতারা বাড়ি এসে নিয়ে যান অথবা শিল্পীদের সঙ্গে কর্মরত কারিগরদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেরাই পৌঁছে দেন।
নারীদের ভূমিকা
মেজাফ্ফর শেখ ব্যাখ্যা করেছেন, পরচুলা তৈরির কাজ, বিশেষত দেব-দেবীর কেশসজ্জার জন্য যে চুল তৈরি হয় সেখানে বাড়ির মেয়েরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
‘মেয়েরা ছাড়া এই কাজ হওয়া সম্ভব নয়। নাইলনের ওই চুল আঁচড়ানো, তারপর বিনুনি পাকানো নিখুঁত কাজ ওটা মেয়েরা ছাড়া হবেই না। চামর তৈরির জন্যও নাইলনের সুতো পাকানো খুব ধৈর্যের কাজ,’ বলছিলেন তিনি।
এরপর একটু থেমে জানালেন, তার স্ত্রীও কাজে হাত লাগাতেন। মাস তিনেক হলো স্ত্রীকে হারিয়েছেন। যে ঘরে বসে এই কথাগুলো বলছিলেন তিনি, সেখানে বসে তার স্ত্রীও কাজ করতেন।
‘তিন মাস আগে একদিন সকালে গোসল করে কাজে বসেছিল। রাধারানি আর গোপালের চুল তৈরি করছিল। কাজ করতে করতেই হঠাৎ লুটিয়ে পড়ল। কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, কিন্তু সব শেষ।’
স্ত্রীর শেষ কাজগুলো, তার চশমা, একটা প্লাস্টিকের ঝুড়িতে সযতেœ গুছিয়ে রেখেছেন তিনি।
স্বজন হারানোর বেদনা তার নিত্য নৈমিত্তিক জীবনে ছাপ ফেলেছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালেন, ছেলে দর্জির কাজ করে। তাই তার একমাত্র আশা ভরসা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া নাতি।
স্কুল থেকে ফিরলে দাদুর পাশে বসে কাজ দেখে সে। ‘ছেলে তো এই কাজে এলো না। এখন একমাত্র ভরসা আমার এই নাতি। ওকে পাশে বসিয়ে দেখাই। নাতি যদি এই কাজে আসে তবেই আমাদের খানদানি কাজ এগোবে।’
কী বলছে নতুন প্রজন্ম
লকডাউনের প্রভাব এই শিল্পেও পড়েছে। মেজাফ্ফর শেখে বলেন, ‘লকডাউনের সময় অনেকদিন কাজ ছিল না। আমাদের আর পুঁজি কোথায়? খুব কষ্টে কাটিয়েছি। আরও একটা বিষয় হলো বাংলায় এই কাজের দাম পাই না। রাজ্যের বাইরে তবু দাম একটু ভালো।’
একই কথা জানিয়েছেন এব্রাহিম মল্লিক। তিনি বলেন, ‘ঠাকুরের চুল আর চামর বিভিন্ন সাইজের হয়। সাইজের উপর নির্ভর করে ৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা অব্দি চুলের মূল্য পাই। আর চামরের সাইজ এবং হ্যান্ডেলের উপর নির্ভর করেভ ৩৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকা অব্দি দাম পাই।’
‘অসুবিধা হয় না তা বলব না, কিন্তু পেট চলে যায়। খোদার মেহেরবানিতে একটু বুঝে সুঝে চললে সংসার চালিয়ে দেওয়া যায়। লকডাউনে ব্যবসা খুব মার খেয়েছে। এখন তার চেয়ে পরিস্থিতি ভালো,’ তিনি বলেন।
বাসিন্দাদের কেউ কেউ আবার উদ্বিগ্ন নতুন প্রজন্ম এই শিল্পকে কী তাদের পেশা করবে?
রমিশা বেগমের ইচ্ছা, ইংরেজি মাধ্যমে পড়া নাতিও এই একই পেশা বেছে নিক। যাতে বংশ পরম্পরায় চলে আসা এই শিল্প থমকে না যায়।
এই এলাকার একটা ঘরে দুই প্রজন্মের দুই কারিগর চামর তৈরির কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে একজন বছর ষোলোর শেখ আজিম। তার কথায়, ‘আমি অভাবের জন্য লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছি। গত চার বছর চামর বানানোর কাজ করছি। আমার ভালোই লাগে এই কাজ করতে।’
কুড়ির কোঠায় থাকা মণিরুল মল্লিকও কিন্তু নিজের পেশাতেই খুশি। কাজের ফাঁকে মোবাইলে হিন্দি সিরিয়াল দেখতে ভালবাসেন তিনি।
‘বাবা-দাদা যে কাজ করে এসেছেন, আমিও সেই কাজই করতে চাই। আমার ইচ্ছে অন্য রাজ্যে আরও বেশি করে কাজ পৌঁছে দেওয়ার যাতে সবাই কুলাইয়ের কথা জানতে পারে,’ তিনি বলেছিলেন।

প্রথমবারের মতো ক্যাসিনোর লাইসেন্স দিল আরব আমিরাত

প্রথমবারের মতো একটি ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানকে জুয়ার ব্যবসা করার লাইসেন্স দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উইন রিসোর্টস পেয়েছে এ লাইসেন্স।
শুক্রবার উইন রিসোর্টসের পক্ষ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্তির বিষয়টি জানানো হয়। ক্যাসিনো অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতে একটি রিসোর্ট নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছিল। এটি এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে খালিজ টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়ার লাইসেন্সের অনুমতি দেওয়ার জন্য গত বছর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জেনারেল কমার্শিয়াল গেমিং রেগুলেটরি অথরিটি’। এই অথরিটিই প্রথমবারের মতো লাইসেন্স জারি করলো।
এতে আরো বলা হয়, ৬২ হেক্টর এলাকাজুড়ে আরব উপসাগরে বিস্তৃত এই বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে।
এছাড়া লাস ভেগাস ভিত্তিক ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা রাস আল খাইমা অঞ্চলের উইন আল মারজান দ্বীপে একটি বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্র (রিসোর্ট) নির্মাণ করছে। সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হবে আরব আমিরাতের প্রথম ক্যাসিনো।
স¤প্রতি বেশকিছু উদার আইনগত সংস্কার এনেছে আরব আমিরাত। ধারণা করা হচ্ছে এর ফলে বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপ, এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে পর্যটক বাড়বে উপসাগরীয় দেশটিতে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এমজিএম রিসোর্টসও আবুধাবিতে তাদের একটি অবকাশকেন্দ্রে ক্যাসিনো লাইসেন্স দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে।

আদালত প্রাঙ্গণে সাবের হোসেনকে ডিম নিক্ষেপ

আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের নিরাপত্তা ভেঙে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেছে সেখানে উপস্থিত একদল মানুষ। একইসাথে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগানও দিতে দেখা যায় তাদের।

আদালতের বারান্দা থেকেও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী সাবের হোসেনের ওপর শারীরিকভাবে চড়াও হওয়ারও চেষ্টা করেন।

এদিন, বিএনপির কর্মী মৃত্যুর মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে।

সূত্র : বিবিসি

ইসরাইলকে শিগগির গাজা গণহত্যার মূল্য দিতে হবে : এরদোগান

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নাৎসি জার্মানির অ্যাডলফ হিটলারের সাথে তুলনা করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেন, শিগগির গাজায় চালানো এই গণহত্যার মূল্য ইসরাইলকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।

তিনি এক এক্সবার্তা বলেন, ইসরাইল গত এক বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে আসছে। তাকে এই গণহত্যার মূল্য অবশ্যই দিতে হবে। যেভাবে হিটলারকে মানবিক জোট থামিয়েছিল, নেতানিয়াহু এবং তার হত্যাকাণ্ডের নেটওয়ার্ক একইভাবে বন্ধ করা হবে।

এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই গণহত্যার দায় এড়াতে পারবে না জানিয়ে বলেন, যে বিশ্বে গাজা গণহত্যার জন্য কোনো হিসাব রাখা হবে না, সে বিশ্ব কখনো শান্তি পাবে না।

এরদোগান গাজা এবং লেবাননে সঙ্ঘাত বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার সমালোচনা করার পর বলেন, ইসরাইলের গণহত্যা, দখলদারিত্ব এবং আক্রমণের দীর্ঘস্থায়ী নীতির এখনই অবসান ঘটানো উচিত।

সূত্র : টাইমস অফ ইসরাইল

‘সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাই আমরা একই পরিবারের’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, সবাই আমরা একই পরিবারের। তাই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে কিছু থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘পূজাটা যেন নতুন বাংলাদেশের পূজা হয়। আমরা সবাই একটা পরিবারের মানুষ। কে হিন্দু কে বৌদ্ধ এটা নিয়ে কোনো বৈষম্য নয়।’

সোমবার (৭ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৪ উদযাপন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, ঈদে আনন্দ করব পূজায় ভয়ে থাকব এটা হয় না। পূজায় কেন ভয়ে থাকতে হবে। পুলিশ-আনসার দিয়ে পাহারা দিয়ে পূজাটাকে আনন্দময় করব।

তিনি আরো বলেন, পূজায় সবাই মিলে আনন্দ করতে চাই। সেজন্য সামাজিকভাবে পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। যেন সবাই আনন্দটা করতে পরি। যদি চেষ্টা করি তাহলে অবশ্যই ভালো একটা পূজা করতে পারব।

উপদেষ্টা আরো বলেন, মানুষের মধ্যে বৈষম্য ও বঞ্চনা এবং পুঞ্জিভূত ক্ষোভের ফলে আন্দোলন তুঙ্গে উঠেছিল। এ আন্দোলন ছিল ছাত্র-জনতার সর্বোপরি সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন। এ আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি হয় যাদের অধিকাংশই ছাত্র। কাজেই এ আন্দোলনের ফলে গঠিত অন্তর্বতী সরকার শুধু দায়িত্ব নয় বরং কর্তব্য বলে মনে করছে।

তিনি আন্দোলনে শহীদদের সংখ্যা সম্পর্কে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যে তালিকা করেছি ৮০০ থেকে ৯০০ বলা হচ্ছে, কিন্তু অন্যান্য হিসাবে দেখা যায় যে ১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। নিহতদের অধিকাংশই তরুণ।
সূত্র : ইউএনবি

বাংলাদেশ সফরে বাভুমার খেলা নিয়ে শঙ্কা

০

কনুইয়ের চোটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে থেকে ছিটকে গেছেন টেম্বা বাভুমা। শঙ্কা জেগেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তার খেলা নিয়েও।
বাংলাদেশ সফরে দুটি টেস্ট খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ২১ অক্টোবর মিরপুরে শুরু হবে প্রথমটি। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ শুরু ২ নভেম্বর, চট্টগ্রামে। আইরিশদের বিপক্ষে গত শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় চোট পান বাভুমা। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি ৩৫ রান করে। পরে ফিল্ডিংও করেননি দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। দেশে ফিরে চোট নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন বাভুমা। তখন হয়তো জানা যাবে কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।
বাভুমার অনুপস্থিতিতে আয়ারল্যান্ড সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দেবেন রাসি ফন ডার ডুসেন। এরই মধ্যে ২-০ তে এগিয়ে যাওয়া এই সিরিজে বিশ্রামে আছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এইডেন মার্করাম।
ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক বাভুমার কনুইয়ের চোট অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে ভারত সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সময়ে একই কনুইয়ে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। যার ফলে ইংল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে যান টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। পরে ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে মাঠে ফেরেন বাভুমা। তার নেতৃত্বে সেই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব হারান তিনি। এরপর থেকে বিভিন্ন চোটে নানা সময়ই মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে বাভুমাকে। ২০২৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি তিনি। ভারতের বিপক্ষে গত বছর বক্সিং ডে টেস্টে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে পড়েন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
পুরোপুরি সেরে না ওঠায় গত ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজে খেলতে পারেননি বাভুমা। চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে কেবল একটি সিরিজই পুরোপুরি খেলা হয়েছে তার, গত আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই টেস্ট।
চলতি চক্রে দক্ষিণ আফ্রিকার এখনও ছয়টি টেস্ট বাকি আছে; দুটি বাংলাদেশ সফরে এবং দুটি করে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে। আগামী জুনের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে তাদের কমপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ জিততে হবে।

কীভাবে ১৮০ রান করতে হয় জানে না বাংলাদেশ: অধিনায়ক শান্ত

০

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করা। পুরনো ক্রিকেট থেকে সরে এসে আধুনিক ক্রিকেট খেলা। সেই লক্ষ্যের শুরুটা হলো ভয়াবহ। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ মোটে ১২৭। যেই লক্ষ্য কিনা মাত্র ১১.৫ ওভারে ৭ উইকেট হাতে রেখে টপকে গেছে ভারত।
এমন হারের পর প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে। ব্যাটারদের সামর্থ্য নিয়ে। এই অবস্থায় ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানালেন, কীভাবে ১৮০ রান করতে হয় জানা নেই তার ব্যাটারদের। আর এর জন্য তিনি দায়টা চাপিয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটের ওপর।
শান্ত বলেন, ‘আমাদের সামর্থ্য আছে। সামর্থ্য অবশ্যই আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে দক্ষতা উন্নতির অনেক জায়গা আছে। কিন্তু এই উন্নতি কীভাবে হবে? আমি যদি গত ১০ বছর দেখি, আমরা এ রকমই ব্যাটিং করে যাচ্ছি। মাঝেমধ্যে হয়তো ভালো ব্যাটিং করি।’
কীভাবে ব্যাটিংয়ে উন্নতি আনা যায়, সেটা জানাতে গিয়ে নাজমুল বলেন, ‘এটার জন্য আমরা ঘরের মাঠে যখন অনুশীলন করি, তখন উইকেটের পরিবর্তনৃকিছু না কিছু একটা পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা যখন ঘরের মাঠে খেলি, তখন ১৪০-১৫০ রানের উইকেটই হয়। ব্যাটসম্যানরা ওই রানটা কীভাবে করতে হয়, সেটা জানে। কিন্তু আমরা জানি না কীভাবে ১৮০ করা যায়। ওই ধরনের উইকেট অনুশীলন করলে হয়তো আমাদের আরেকটু উন্নতি হবে। তবে আমি শুধু উইকেটের দোষ দেব না। এখানে মানসিক অনেক ব্যাপার থাকে।’
আগামী ৯ অক্টোবর সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেখানে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে শান্ত বলেন, ‘ঘুরে তো দাঁড়াতেই হবে। কীভাবে আমরা কামব্যাক করতে পারি, সেটা দেখতে হবে। আমার মনে হয়, আমাদের সবারই দায়িত্ব নিতে হবে।’

আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ ঘরে তুলল ব্রাজিল

০

ফিফা ফুটসাল বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। উজবেকিস্তানের সেই ফাইনালে অবশ্য শেষ হাসিটা হেসেছে ব্রাজিলই। আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে ২-১ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে ব্রাজিল। তাতে হেক্সা মিশনও পূর্ণ হয়েছে ব্রাজিলের।
ফুটবলে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন থমকে গেলেও বিচ সকারের পর এবার ফুটসালেও হেক্সা পূর্ণ করেছে ব্রাজিল। তাও আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রতিশোধ নিয়ে।
সবশেষ আসরে ব্রাজিলকে হারিয়েই ফাইনালে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। যদিও পরে সেখান থেকে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। এবারই ফাইনালে উঠে সেই শূন্য হাতেই ফিরতে হলো তাদের। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে সেমিতে হারার সেই প্রতিশোধ নিয়ে রাখল ব্রাজিল।
উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দের হুমো অ্যারেনায় হওয়া ফিফা ফুটসাল বিশ্বকাপের ফাইনালে ৪০ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখেছে ফুটবলপ্রেমীরা। যেখানে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় সেলেসাওরা। এদিন ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মার্সেনিওর বাড়ানো বল থেকে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান ফেরাও। খেলায় ফেরার চেষ্টা চালিয়ে উল্টো ১২ মিনিটে এসে আরেক গোল হজম করে বসে আর্জেন্টিনা। রাফা সান্তোসের গোলে ব্যবধান দ্বিগুন করে ব্রাজিল। ২-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রাজিলের রক্ষণের পরীক্ষা নিতে থাকে আর্জেন্টিনা। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা দলটির গোলরক্ষকও উঠে আসে আক্রমণে। খেলার শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক রোসার নেয়া শট ব্রাজিলের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল চলে যায় জালে। তবে তাতে ম্যাচের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফুটসালে নিজেদের হেক্সা মিশন পূরণ করে ব্রাজিল।

ভারতের ‘বি টিমের’ কাছেই নাজেহাল বাংলাদেশ

০

ভারতের ‘বি টিমের’ সঙ্গেই পেরে উঠল না বাংলাদেশ। দেশটির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশিরভাগ সদস্যই বাংলাদেশ সিরিজের স্কোয়াডে নেই। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে খেলছেন একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই হলো দুজন খেলোয়াড়ের অভিষেক। অথচ এই দলটির কাছে বাংলাদেশ হেরে গেল ৭ উইকেটে। বাংলাদেশের দেওয়া ১২৮ রানের লক্ষ্য ৪৯ বল হাতে রেখেই তাড়া করল স্বাগতিকরা।
গোয়ালিয়রের সিনদিয়া স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১৯.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১২৭ রান তুলতে সমর্থ হয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সর্বোচ্চ ৩৫ রান আসে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে। ২৭ রান করেন অধিনায়ক শান্ত। এই দুজন বাদে ২০-এর ঘর ছুঁতে পারেননি আর কোনো ব্যাটার।
ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট পান পেসার আর্শদীপ সিং ও স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলে ভারত। ওপেনার অভিষেক শর্মা ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে রান আউট হওয়ার আগে করেন ৭ বলে ১৬ রান। অন্য ওপেনার সঞ্জু স্যামসন এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দ্বিতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটিতে দলকে জয়ের দিকে অনেকটা এগিয়ে দেন। ২৯ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন সূর্যকুমার। অন্যদিকে মিরাজ তুলে নেন স্যামসনকে (২৯)।
পাঁচে নেমে হার্দিক পান্ডিয়া ১৬ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক ভারত। ৯ অক্টোবর দিল্লিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

বচ্চন পরিবার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য

০

জয়া বচ্চনকে নিয়ে বলিপাড়ায় আলোচনার শেষ নেই। তিনি নাকি বদমেজাজী, তার জন্য নাকি ভালো নেই ঐশ্বরিয়া-অভিষেক এ হেন হাজারো মন্তব্য কান পাতলেই শোনা যায়। তবে জানেন কি, একবার জয়াকে নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন সমাজবাদী পার্টিরই অন্যতম পরিচিত মুখ রাজনীতিবিদ অমর সিং। সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, শাশুড়ি মা ও শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে নাকি বিন্দুমাত্র বনিবনা হয় না জয়ার।
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন। তারা বিয়ে করেন ১৯৭৩ সালে। বিয়ের পরেই জয়া বচ্চন চলচ্চিত্র থেকে খানিক বিরতি নেন। পরিবার এবং সন্তানদের ঘিরেই তখন তার জীবন বলা চলে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, পরিবারের জন্য সিনেমা থেকে দূরে গেলেও শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক ছিল জয়ার। অমিতাভ বচ্চনের বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন একজন নামকরা হিন্দি কবি ছিলেন। তার মা তেজি বচ্চন। ‘দৈনিক ভাস্কর’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধুনা প্রয়াত এই রাজনীতিবিদ দাবি করেন, জয়ার কারণেই নাকি আলাদা বাড়িতে আজীবন থেকে গিয়েছেন অমিতাভের বাবা-মা। আগে অমিতাভের বাবা-মা অর্থাৎ হরিবংশ রাই বচ্চন ও তেজি বচন থাকতেন দিল্লিতে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছেলে অমিতাভের কাছে চলে আসেন তারা। প্রথমে সবাই একসঙ্গেই ছিলেন।
অমর সিং দাবি করেন, জয়া নাকি শ্বশুর-শাশুড়ির এই আচমকাই অনুপ্রবেশ মেনে নিতে পারেননি। বাধ্য হয়েই অমিতাভের বাংলো প্রতীক্ষাতে থাকতে শুরু করেন অমিতাভের বাবা-মা। অমিতাভের আর এক বাংলো ‘জলসা’তে সন্তানদের নিয়ে থাকা শুরু করেন জয়া। অমিতাভ যদিও জলসা নয়, বেছে নেন বাবা-মাকেই। থাকতে শুরু করেন প্রতীক্ষাতে।
হরিবংশ রাই বচ্চন তার আত্মজীবনীতে জয়ার পরিবারকে নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। জানিয়েছিলেন ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার পর জয়ার বাবা তরুণ কুমার ভাদুড়ির কাছ থেকে ঠিক কী শুনতে হয়েছিল তাকে। হরিবংশ জানান, বিয়ে সবে শেষ হয়েছে। কিছুটা মজার ছলেই তিনি তরুণ কুমারের কাছে গিয়ে বলেন, ‘এত সুন্দর জামাই পাওয়ার জন্য আপনাদের অভিনন্দন’। উত্তরে নাকি তরুণ কুমার বলেছিলেন, ‘আমাদের পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল।’