Home Blog Page 559

পাকিস্তান যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দু’দেশের সম্পর্কে কী প্রভাব পড়তে পারে?

প্রায় এক দশক পরে ভারতের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। এস জয়শঙ্কর সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দেবেন চলতি মাসের মাঝামাঝি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, ২০১৫ সালে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ‘হার্ট অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দিতে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন। তার কয়েক দিন পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকাই এক সফরে হাজির হয়েছিলেন লাহোরে।

এত দিন পরে আবারো ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে জয়শঙ্করের এই সফর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি সাধনের প্রচেষ্টা কিনা।

জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘এই সফর এসসিও বৈঠকের জন্য, এর থেকে বেশি কিছু ভাবা উচিত না।’

বিশ্লেষকদের একাংশও মনে করছেন, ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সফর ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু এসসিওর দিক থেকে বিচার করলে আবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এই পাকিস্তান সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তান সফরে কী বার্তা দেবে ভারত?
নয়াদিল্লিতে অবজার্ভার রিসার্চ ফাউণ্ডেশনের বিদেশনীতি বিভাগের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হর্ষ ভি পন্থ বলেন, ‘পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। সেখানে ক্ষমতার কেন্দ্রে আসলে কারা রয়েছেন, সেটাও স্পষ্ট নয়। তাই পাকিস্তানের প্রশাসনের সাথে এখনই সরাসরি আলোচনা চালানোর কোনো কারণ ভারতের দিক থেকে নেই। তাই মনে হয় না যে এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো বড় পরিবর্তন আসবে।’

তবে তিনি এটাও বলছেন যে নয়াদিল্লি এটাও চায় না যে ভারতের ‘মিত্র দেশ’গুলোর মধ্যে এরকম একটা ধারণা সৃষ্টি হোক যে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্বের প্রভাবে এসসিওর কাজকর্মে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

তার কথায়, ‘ভারত এটা চাইবে না যে এসসিওর অন্য সদস্য দেশগুলোর এরকম একটা ধারণা হোক যে ভারত তার বিদেশনীতিতে এসসিওর গুরুত্ব কম করে দিচ্ছে। দেখুন, যদি প্রধানমন্ত্রী নিজে পাকিস্তান যেতেন, সেটার একটা আলাদা বার্তা দেয়া হতো, তার একটা আলাদা গুরুত্ব বোঝা যেত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নিজে যাচ্ছেন না, তার জায়গায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাচ্ছেন। এ থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়ে এখনই পাকিস্তানের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় জড়াতে রাজি নয় ভারত।’

তার বিশ্লেষণ, ‘আবার এস জয়শঙ্করের সফরের মাধ্যমে এই বার্তাটাও দেয়া হচ্ছে যে এসসিওর মতো বহু-দেশীয় মঞ্চে নিজের দায়িত্ব পালন করতেও প্রস্তুত ভারত।’

ওয়াশিংটন ডিসির উইলসন থিঙ্কট্যাঙ্কে দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানও মনে করেন যে জয়শঙ্করের এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এসসিওর জন্য।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যাণ্ডেলে (সাবেক টুইটার) লেখেন, এই সফরের সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি সাধনের সদিচ্ছার থেকেও সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) প্রতি ভারতের অঙ্গীকার প্রমাণ করে।

তবে তিনি আরো লেখেন, জয়শঙ্করের পাকিস্তান সফর যদিও ‘দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির থেকেও বহুপক্ষীয় কূটনীতিই বেশি, কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।’

তার ব্যাখ্যা, দীর্ঘদিন পরে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পাকিস্তানে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি লেখেন, ‘২০১৬ সালের পর এই প্রথম কোনো ভারতীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী পাকিস্তানে যাচ্ছেন।’

সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে ২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন রাজনাথ সিং।

অনেক দেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন সাবেক কূটনীতিক রাজিব ডোগরা। তিনি রাজনাথ সিংয়ের সাথে সেই পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন।

ডোগরা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর ভারতের দিক থেকে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, কিন্তু ‘পাকিস্তানের আচরণ সম্পর্কে কিছু বলা যায় না।’

রাজনাথ সিংয়ের ওই পাকিস্তান সফরের কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘সেই সময়ে পাকিস্তানের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলি খান রাজনাথের সাথে বেশ খারাপ আচরণ করেছিলেন।’

পাকিস্তানের আচরণের প্রসঙ্গে ডোগরা আরো উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টোর গত বছরের ভারত সফরের কথাও।

তিনি বলেন, ‘বিলাওয়াল ভুট্টো যখন এসেছিলেন, তখন তিনি যে বিবৃতি দিয়েছিলেন সেটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত ছিল না, তাই আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।’

জয়শঙ্করের মনোভাব কেমন হতে পারে?
গত বছর মে মাসে এসসিও বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই মনে করা হয়েছিল যে বিলাওয়াল ভুট্টোর সফর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি করতে পারে।

কিন্তু বৈঠকের ঠিক এক দিন পরই দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কড়া মন্তব্য প্রকাশ পায়।

এখন যখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানে যাচ্ছেন, তখন তিনি কেমন মনোভাব প্রকাশ করবেন?

এ বিষয়ে অধ্যাপক পন্থ বলেন, ‘তিনি এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে তো নয়। সেখানে ভারতের গঠনমূলক ভূমিকা পালনের ওপরে জোর দেবেন জয়শঙ্কর। তাই আমার মনে হয় না যে তিনি সেখানে পাকিস্তানের সাথে দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্যগুলো তুলে ধরবেন।’

তিনি আলো বলেন, ‘পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সাথে সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলে এস জয়শঙ্করের আগ্রাসী মনোভাব প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু আপনি যদি পাকিস্তান বাদে অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর কথা বলেন, তিনি সেক্ষেত্রে কিন্তু বিচক্ষণ কূটনীতিক। এর সব থেকে বড় উদাহরণ হলো মালদ্বীপ। একটা সময় যখন মালদ্বীপে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সমালোচনা হচ্ছিল এবং ব্যাপক টানাপোড়েন চলছিল, তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা নেতারা কোনো মন্তব্য করেননি। এর ফলে কয়েক মাস পর ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।’

সাবেক কূটনীতিক রাজিব ডোগরা অবশ্য মনে করেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্পর্কের উন্নতি করতে সফল হবেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও নেতা। তিনি যখন পাকিস্তান সফরে যাবেন তখন তার মনোভাব এমনটাই হবে যে দু’দেশের সম্পর্কের ওপর জমে থাকা বরফ ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু বৈঠকটি এসসিওর, সেটাও মাথায় রাখতে হবে।’

বিশ্বের অন্যান্য দেশ এই সফরকে কী চোখে দেখবে?
বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বাস করেন এসসিও-ভুক্ত দেশগুলোতে। বিশ্বের জিডিপির ২০ শতাংশও এসসিও গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর। আবার বিশ্বের জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশও এই দেশগুলোতেই মজুত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এসসিও-ভুক্ত দেশগুলো কী করছে, তার দিকে নজর রাখে গোটা বিশ্ব। এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফরকে বিশ্বের অন্যান্য দেশ কী চোখে দেখতে পারে?

এই প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক পন্থ বলেন, চীন বা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক যাই হোক না কেন, এসসিওতে নিজেদের ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরাই ভারতের লক্ষ্য। এই সফরের মাধ্যমে ভারতের একটা ভূমিকা স্পষ্ট যে এসসিওতে তারা পুরোপুরি অংশগ্রহণ করছে আর একটা ইতিবাচক অ্যাজেন্ডা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভারত বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, ভারত নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার নিজের শর্তে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের দিকে নজর দেবে।

‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি?
সাবেক কূটনীতিক কেপি ফ্যাবিয়ান এস জয়শঙ্করের এই সফরকে ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতিরই একটা অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নেইবারহুড ফার্স্ট পলিসি পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই মনে আছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মালদ্বীপে তিন দিন কাটিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করলেন। এটা ভালো লক্ষণ যে তিনি পাকিস্তানে যাচ্ছেন।’

তবে এই নীতি যে ‘পুনরুজ্জীবিত’ হচ্ছে, সে বিষয়ে পুরোপুরি একমত নন অধ্যাপক হর্ষ ভি পন্থ।

তিনি বলেন, ভারত তো সবসময়েই ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’নীতি নিয়ে চলেছে। তার কথায়, ‘প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আপনি দূরে থাকবেন কিভাবে? প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যাপারে ভারত কখনই নিজের দায়িত্ব এড়ায়নি, কিন্তু পাকিস্তান কখনই ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’নীতির অংশ ছিল না।

ভারত-পাকিস্তানের জন্য এসসিও কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
চীন, রাশিয়া এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল এমন চারটি মধ্য এশিয়ার দেশ- কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান একসাথে ২০০১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এসসিও গঠন করে।

তবে ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে সাংহাইয়ে একটি বৈঠকে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং তাজিকিস্তান সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা মোকাবেলায় একে অপরকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছিল।

ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে এসসিওর পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয় এবং ২০২৩ সালে ইরান এর সদস্য হয়। এখন নয়টি দেশ এসসিওর সদস্য।

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে।

যে দু’টি দেশ এসসিওর নেতৃত্ব দেয়, সেই রাশিয়া আর চীন- দু’দেশের সাথে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক আছে।

পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর কারণেও এসসিও পাকিস্তানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই অঞ্চলে বাণিজ্য, সংযোগ এবং শক্তি খাতগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশা করে পাকিস্তান।

ভারতের জন্য এটি আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মঞ্চ, যেটি একদিকে প্রতিবেশীদের ও অন্য দিকে মধ্য এশিয়ার সাথে তাদের সংযোগ তৈরি করেছে।

অধ্যাপক পন্থ বলেন, ‘যেহেতু মধ্য এশিয়ার সাথে ভারতের সংযোগ সীমিত, তাই এসসিওর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে ভারতের উপস্থিতি ও ভূমিকা বজায় রাখা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক পন্থ বলেন, ‘তাই এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে বহুপক্ষীয় মঞ্চে ভারতের অংশগ্রহণ এবং কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত।’
সূত্র : বিবিসি

সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে তালিবানকে বাদ দিলো রাশিয়া

সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে তালিবানকে বাদ দিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (৫ অক্টোবর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

রুশ বার্তাসংস্থা তাস জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জুলাইয়ে বলেছিলেন, রাশিয়া আফগানিস্তানের তালেবানকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে।

২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে রাশিয়া ধীরে ধীরে তালেবানের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। কারণ মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ২০ বছরের যুদ্ধের পর সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও সংগঠনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ায় নিষিদ্ধ।

কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানকে দেশের বৈধ নেতৃত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তার রাষ্ট্রদূতদের গ্রহণ করেছে।

রাশিয়া ২০০৩ সালে তালেবানকে তার সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় যুক্ত করেছে। এটিকে সরিয়ে দেয়া আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

তালেবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি মস্কোতে এক বক্তৃতায় বলেছেন, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর তালিকা থেকে আগের বিদ্রোহীদের সরিয়ে দেয়ার জন্য একটি স্বাগত পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে রাশিয়ান ফেডারেশনের উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মন্তব্যের প্রশংসা করি এবং শিগগিরই আরো কার্যকর পদক্ষেপ দেখার আশা করি।

শুক্রবার পৃথক মন্তব্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, মস্কো বর্তমান আফগান সরকারের সাথে ব্যবহারিক সংলাপ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে নিশ্চিত।

সূত্র : মস্কো টাইমস রয়টার্স

সরকারের কাছে রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ চেয়েছি : জামায়াত আমির

আগামী ৯ অক্টোবর রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী রোডম্যাপসহ সার্বিক বিষয় জাতির সামনে তুলে ধরবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, আপনাদের (মিডিয়া) মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রস্তাবনাগুলো উন্মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ। দিনক্ষণ ঠিক থাকলে ওই দিন আমরা আমাদের চিন্তা-ভাবনা জাতির সামনে তুলে ধরবো যে, এই মুহুর্তে কি কি সংস্কার প্রয়োজন, কোন কোন প্রতিষ্ঠানের কীভাবে সংস্কার প্রয়োজন। সরকারের কাছে সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

শনিবার বিকেলে যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক শেষে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের, আ ন ম শামসুল ইসলাম ও সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন।

জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। কিন্তু গত সাড়ে ১৫ বছর আপনারা বিবেক অনুযায়ী কাজ করতে পারেননি। বাধ্য করা হয়েছে সমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য, সরকারকে অবৈধ সুবিধা দেয়ার জন্য মিথ্যা বানোয়াট বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশনে বাধ্য করা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু, আমরা অতীত নিয়ে ঘাটতে চাই না। আমরা দেশবাসীকে সাথে নিয়ে সকলের সহযোগীতায় দেশটা সামনের দিকে আগাক, সেই জায়গাটায় আমরা অবদান রাখতে চাচ্ছি। এজন্য অতীতে যা হয়েছে আমরা তা পেছনে ফেলে দিলাম। তবে, যারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত, যারা মানুষ খুন করেছে, গুম করেছে, লুটপাট করেছে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, আয়নাঘর তৈরি করেছে, ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে-তাদের বিচার দাবি করছি। তবে, আমাদের ওপর যে জুলুম করা হয়েছে, তাদের ওপর সেই জুলুম করা হোক চাই না। আমরা চাই ন্যায় বিচারের মাধ্যমে সবাই যেন তাদের অপরাধের পাওনাটা বুঝে পায়।

শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আজকে এসেছিলাম দেশ ও জাতির প্রয়োজনে। এই সরকার একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা দেশ শাসনের জন্য আসেননি। দেশ শাসনের সুষ্ঠু পথ বিনির্মানের জন্য এসেছে। গত পরপর তিনটি নির্বাচনে জাতি যেভাবে বঞ্চিত ছিল, জাতির সামনে একটি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়া। এজন্য তাদের কিছু মৌলিক বিষয়ে সংস্কার করতেই হবে। কি কি মৌলিক বিষয়ে তারা সংস্কার করবেন, সেই ব্যাপারে আমরা কথা বলেছি।

প্রধান উপদেষ্টার সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে জনগণ ও বর্তমান সরকার পারস্পরিক সম্পর্কের আলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত হতে পারে এবং সকল ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতিকে আরো ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে-সেই বিষয়গুলো নিয়ে এখানে (বৈঠক) কথাবার্তা হয়েছে। আমরা আশা করছি, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো ধরনের পক্ষ-বিপক্ষের মানসিকতা না নিয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে তারা দেশকে একটা ভাল জায়গায় নিয়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে সক্ষম হবেন। এক্ষেত্রে আমরা আশা করছি যে, এই সময়টা না দীর্ঘ হবে। শুরু থেকেই আমরা বলে আসছিলাম, সংস্কারের জন্য সরকারকে আমরা যৌক্তিক সময় দিতে চাই। সেই যৌক্তিক সময়টা কী হবে-এ নিয়ে অচিরেই আমরা কাজ করবো এবং সেটাও আপনাদের সামনে চলে আসবে।আশা করছি খুব দেরি হবে না।

জামায়াত আমির বলেন, আগামী দিনে বৈষম্যহীন ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করছি। যেখানে কোনো দল বা ধর্মের কারণে কেউ জুলুমের শিকার হবে না। ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।

আসন্ন দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বলেছি, সরকারের সাথে জনগণের পার্টনারশিপ লাগবে, তাদের সাথে জনগণের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণ যদি এক সাথে কাজ করে তাহলে আশা করছি হিন্দু ভাই-বোনেরা সুন্দরভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারবে।

কী কী সংস্কারের প্রস্তাব দেয়া হলো বৈঠকে জানতে চাইলে জামায়াত আমির বলেন, এ ব্যাপারে আমরা মুখ খুলবো আগামী ৯ অক্টোবর। সেই পর্যন্ত আপনারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের কাছে দু’টি রোডম্যাপ চেয়েছি। একটি নির্বাচনী আরেকটি সংস্কারের রোডম্যাপ। সংস্কারটা সফল হলে নির্বাচনটা সফল হবে। এজন্য দু’টি বিষয়ের ওপর আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। তাদের সাথে আমাদের আরো ডায়লগ হবে এবং অচিরেই এ বিষয়টি তারাও প্রকাশ করবেন আমরাও প্রকাশ করবো। এটা খুব দেরি হবে না আশা করছি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে বলেছি, আপনাদের প্রতি জনগণের অনেক বেশি প্রত্যাশা। এ প্রত্যাশার সময়টা টেনে আপনারা লম্ব করবেন না। যৌক্তিক সময়ের সম্মানটা রক্ষা করবেন। উনারা দ্বিমত পোষণ করেন নাই। আশা করি এখানে কোনো সঙ্কট তৈরি হবে না।

প্রধান উপদেষ্টার সাথে সংলাপে যেসব বিষয় তুলে ধরেছে বিএনপি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে নির্বাচনই এক নম্বর প্রায়রিটি বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সংলাপ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে প্রবেশ করে ছয় সদস্যের বিএনপি প্রতিনিধি দল।

বৈঠক শেষে বের হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো জনগণের দাবি। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনকে এক নম্বর প্রায়রিটি থাকবে বলে জানিয়েছেন।’

প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরা বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে যারা আওয়ামী লীগ ও স্বৈরাচারের দোসর রয়েছে তাদেরকে অনতিবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে। আমরা বলেছি, জেলা প্রশাসনে যারা অভিযুক্ত ও নিয়োগপ্রাপ্ত সেগুলোর নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক কিছু নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে দু’একজন আছেন যারা এই বিপ্লবের স্পৃহাকে থামাতে চান, তাদেরকে সরানোর বিষয়ে কথা বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘যারা ১৫ বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত, তাদের নিরপেক্ষতার সাথে পদোন্নতি দিতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিচারবিভাগ বিশেষ করে হাইকোর্ট যারা নিয়োগ পেয়েছে, সব দলীয় বিবেচনায় – এদের ব্যাপারে কথা বলেছি। দলকানা বিচারকদের অপসারণের কথা বলেছি, নতুন করে পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) নিয়োগ করার কথা বলেছি।’

দুর্নীতি, খুন ও হত্যা মামলায় যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তাদেরকে জামিন দেয়া হচ্ছে এবিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল। ‘সেইসাথে আওয়ামী লীগের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সাজানো মিথ্যা মামলায় রয়েছে তা প্রত্যাহার চেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে সে নানা মিথ্যা গুজব ক্যাম্পেইন করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সাথে কথা বলতে বলেছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কথা বলবে বলে জানিয়েছে। পাহাড়ে কারা অশান্তি করার পাঁয়তারা করতেছে, তাদের নজরে আনার কথা বলেছি। তাদেরকে গ্রেফতার করা হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।‘

ইরানের যেসব স্থাপনায় হামলা করতে ইসরাইলকে নিষেধ করলেন বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইরান তেল আবিবে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল কিভাবে প্রতিশোধ নেবে, ওই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এক্ষেত্রে আমি ইরানের তেল স্থাপনায় হামলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছি।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের দৈনিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই কথা জানান।

বাইডেন বলেন, যদি আমি তাদের জায়গায় থাকতাম, তাহলে আমি তেল স্থাপনায় আঘাত করার চেয়ে অন্য বিকল্পের কথাই বেশি ভাবতাম।’

ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে ইসরাইলি স্ট্রাইকের ধারণা আলোচনায় থাকার কথা বলার একদিন পরেই বাইডেনের সর্বশেষ মন্তব্য এসেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহে হঠাৎ ধাক্কা লাগার আশঙ্কার মধ্যে তেলের দাম বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানি হামলার বিষয়ে ইসরাইল যদিও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। কিন্তু তারা শেষমেষ এই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেবেই।

সূত্র : টাইমস অফ ইসরাইল

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম গ্রেফতার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শনিবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক।

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। রোববার (৬ অক্টোবর) রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আবুল কালাম আজাদ ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি একই কার্যালয়ের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার আগে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

মামলা হলেই গ্রেফতার নয়, তদন্তে দোষী হলেই ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, মামলা হলেই গ্রেফতার নয়, আগে তদন্ত হবে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলেই কেবল তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) হেডকোয়ার্টারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কাউট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ইউনিট লিডার শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর নামে প্রতিষ্ঠিত ‘স্কাউটার শহীদ মীর মুগ্ধ ভবন’ ও তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় উৎসর্গীকৃত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রবেশ তোরণ উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আগে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করতো, ১০ জনের নাম দিতো আর ৫০ জন দিতো বেনামী।
এখন কিন্তু পুলিশ মামলা করছে না। মামলা করছে সাধারণ জনগণ।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছে তারা সবাই শহীদ। শুধু মুগ্ধ নয়, যারা শাহাদতবরণ করেছেন, তাদের সবার জন্য আপনারা দোয়া করবেন যেন তারা শহীদের মর্যাদা পায়।’

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সরকার করবে। যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বিদেশে পাঠাতে হয়, সে ব্যবস্থাও সরকার করবে। তাদের চিকিৎসার জন্য বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনা হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আহত ও অসুস্থদের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘বিগত সরকারের নেতা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা অপরাধী তাদের বেশির ভাগই ৫ থেকে ৭ আগস্টের মধ্যে পালিয়ে গেছে। আর যাতে নতুন করে পালাতে না পারে সেজন্য সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেজন্য এখন পালানোটা তাদের জন্য বেশ দুরূহ হয়ে গেছে। আর এখন পালাতে গেলে শুধু পুলিশ ও বিজিবি নয়, সাধারণ জনগণই তাদের ধরিয়ে দিচ্ছে।’
উপদেষ্টা এসময় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অপরাধীদের ধরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সেলিম মো: জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো: ময়নুল ইসলাম। এসময় শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, বড়ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত ও মুগ্ধর জমজ ভাই স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা পরে এপিবিএন মসজিদে স্কাউটার শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর আত্মার মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

সূত্র : বাসস

এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির বারবিকিউ পার্টি সম্পন্ন

এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যাগে কুইন্স ব্রীজ পার্কে বারবিকিউ পার্টি অনুষ্ঠিত হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। সোসাইটির উক্ত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সদস্য তাদের পরিবারের সদস্যরা ও কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত  ছিলেন। এর মধ্যে জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বিয়ানীবাজার সমিতির উপদেষ্টা কিনু চৌধুরী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বশির খান, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী মহিউদ্দিন দেওয়ান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী।

IMG 5857


এছাড়া আরোও উপস্থিত  ছিলেন এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি মো. সোহেল আহমদ, সহ সভাপতি কয়েছ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিন, উপদেষ্টা এমাদ চৌধুরী, চৌধুরী সালেহ, আব্দুর রহমান, দেওয়ান সাহেদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ এমদাদ রহমান তরফদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হক চৌধুরী, সদস্য ফয়সল আহমেদ, মো. সোলেমান, নুরুল হক, মো. হোসেন আহমেদ, জহিরুল হক চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শাহনুর কুরাইশি, মনসুর আহমদ চৌধুরী, আব্দুল খালেক,  কামাল আহমেদ, আল-আমিন, সৈয়দ মুহিবুর রহমান, ডা. মাহবুবুর রহমান (মিশু), ডা. দিলরুবা চৌধুরী মিসবাহ আহমেদ, নুরুল হক, হাবিব আহমেদ, কামরান হোসেন পিন্টু, মোহাম্মদ কাদের, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জামাল আহমেদ, সুরুক মিয়া সিতারা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

image 123650291

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিন জানান, আমরা অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠানটিকরতে পেরেছি। বৃষ্টির দিনেও বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত করে তোলে। এর আগে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবিকিউ পার্টির অনুষ্ঠান বাতিল করা হলেও ৩০ সেপ্টেম্বর পুন:নির্ধারণ করা হয়। এরপরও  স্বল্প সময়ের নোটিশে প্রায় চার শতাধিক মানুষে সেখানে উপস্থিত হোন। খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি একে অপরের সাথে সৌহার্দ্য বিনিময় করেন। সেই সাথে আনন্দে মেতে উঠেন অতিথিরা।

মহা ধুমধামে বিয়ে করলেন রশিদ খান

০

জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু রশিদ খানের। বিয়ে করেছেন তিনি। তিন ভাই ও ভাগ্নেকে সাথে নিয়ে একই সাথে জমকালো আয়োজনে ধুমধাম করে সেরেছেন আনুষ্ঠানিকতা। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের অনেক ক্রিকেটার।

বৃহস্পতিবার রাজধানী কাবুলে পশতুন রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন রশিদ। হোটেল ইম্পেরিয়াল কন্টিনেন্টালে গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি। তবে একা নয়, একই সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন রশিদের তিন ভাই ও ভাগ্নে।

রশিদের বিয়ে নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে কৌতূহলের শেষ ছিল না। প্রবল আগ্রহে এই স্পিন জাদুকরের বিয়ের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। ‘বিশ্বকাপ না জিতে বিয়ে করবেন না’ বলে মন্তব্য করে সেই আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দেন রশিদ।

অবশেষে সেসবের ইতি ঘটল। বিশ্বকাপ না জিতলেও বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন আফগানিস্তানের এই মহাতারকা। তবে একা নয়, তিন ভাই ও ভাগ্নেকে নিয়ে এক আয়োজনেই সেরেছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। তবে তাদের কারো স্ত্রীদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ছবিও পাওয়া যায়নি তাদের।

রশিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ নবী, মুজিব উর রহমান, আজমত উল্লাহ ওমরজাই, নজিবউল্লাহ জাদরান, রহমত শাহ, ফজলহক ফারুকি।

ছিলেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ আশরাফ, বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নসিব খানসহ আরো অনেকে।

বিয়ে উপলক্ষে পুরো হোটেলটিতে আলোকসজ্জা করা হয়। দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয় চারদিক। ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা। একটি ভিডিওতে অস্ত্র হাতে তালেবানদের দেখা গেছে পাহারা দিতে।

ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ৭৮৮

গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ফিলিস্তিন-ইসরাইল সঙ্ঘাতে নিহতের সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৯৬ হাজার ৭৯৪ জন আহত হয়েছে।

এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় ৯৯ জন নিহত ও ১৬৯ জন আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থার (ইউএনআরডাব্লুএ) কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে বলেন, গত দুই দিনে গাজায় তিনটি ইউএনআরডাব্লুএ স্কুল আক্রান্ত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ২১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘স্কুলগুলোতে ২০ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কিছু স্কুলে একাধিকবার হামলা হয়েছে।’

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ১৪০টিরও বেশি ইউএনআরডব্লিউএ স্কুল হামলার শিকার হয়েছে বলে জানান তিনি।

লাজারিনি আরো বলেন, আগে স্কুলগুলো ছিল শিক্ষার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এখন তা অনেকের জন্য নরকে পরিণত হয়েছে। স্কুলকে কেউ সামরিক উদ্দেশে ব্যবহার করতে পারবে না। স্কুলগুলো কোনো টার্গেট নয়। এ বিষয়টি যুদ্ধের মৌলিক নিয়ম, যা স্পষ্টভাবে এখানে উপেক্ষা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামলা চালায় হামাস। এ সময় প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হয়। বন্দী করে নেয়া হয় ২৫০ জনকে।

সূত্র : ইউএনবি