Home Blog Page 569

শহিদের বিলাসবহুল ভ্রমণতালিকা ফাঁস, যা বললেন মীরা

আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বলিউড অভিনেতা শহিদ কাপুরের ভ্রমণের পরিকল্পনা ফাঁস হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। তালিকায় একের পর এক বড় দেশের নাম। শীতের দেশ থেকে মরু শহরÑ বাদ নেই কোনোটাই। তার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই শিরোনামে শাহিদ। চোখ কপালে উঠেছে অনুরাগীদের। বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ছোঁয়া মিলেছে তালিকার প্রতি ছত্রে।
ঘটনা নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি শহিদের তরফে। তবে অভিনেতার স্ত্রী মীরা রাজপুত বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সামাজিক মাধ্যমে।
তিনি লেখেন, “আপনার থেকেও ইন্টারনেট যখন আপনার স্বামীর ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে পড়ে”। পাশাপাশি, শহিদের উদ্দেশে তার প্রশ্নÑ “তোমার এই বন্ধুর সঙ্গে কখন আলাপ করাবে?”
ভ্রমণতালিকায় মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন ২৩ এপ্রিল। দিল্লিতে একদিন কাটিয়ে ২৫ এপ্রিল টোকিও রওনা দেবেন অভিনেতা। জাপানের রাজধানী থেকে ২৭ এপ্রিল সোজা সিডনি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। সিডনিতে দুদিনের বিরতির পরে নিউইয়র্ক শহরে পাড়ি দেবেন ৩০ এপ্রিল। সেখানে টানা চার দিন থাকবেন শহিদ। আগামী মাসে অর্থাৎ মে মাসের ৫ তারিখে প্যারিসে পৌঁছবেন তিনি। প্যারিস থেকে ৮ মে রওনা দেবেন ইস্তানবুলে। চার দিন পর ১২ মে পৌঁছবেন মরু শহর আবুধাবিতে। তার পরে ১৬ মে ফিরবেন মুম্বাই শহরে।
যদিও কাজের সূত্রে এই বিদেশযাত্রা, নাকি নিছক ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পনা, সে প্রসঙ্গে কোনো তথ্য মেলেনি এখনো।

নিউ ইয়র্কে সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক বাংলা চলচ্চিত্র উৎসব

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে উপমহাদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৯৩তম জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে নিউ ইয়র্কের জ্যমাইকা পারফরমিং আর্টস সেন্টারে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চিত্রনায়ক ও সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ।

suchitra sen NY 03


শনিবার সকাল ১১টা থেকে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক, নায়িকা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা একসঙ্গে বসে বিভিন্ন ছবি উপভোগ করেন। দুই দিনের এ উৎসবে বিনামূল্যে দেখানো হবে বাংলাদেশ ও ভারতের ৩৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে জানা গেছে। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করেন সুচিত্রা সেন মেমোরিয়াল, ইউএসএ নামের একটি সংগঠন।
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের পাবনা জেলার মেয়ে সুচিত্রা সেনের বাংলা চলচ্চিত্রের অবদানকে পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিতে তাঁর ৯৩তম জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। বাঙালি সংস্কৃতি এবং চলচ্চিত্রের জন্য সুচিত্রা সেনের অবদানকে নতুন প্রজন্মের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মুল উদ্দেশ্য। ভারত ও বাংলাদেশেসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ৪০৯টি ছবি অনুষ্ঠানে প্রদর্শনের জন্য জমা পড়লেও তার মধ্যে থেকে বিচারকমণ্ডলীর মাধ্যমে ৩৯টি ছবি প্রদর্শনের জন্য বাছাই করেন। এ উৎসবে কোনো প্রবেশ মুল্য নেই বলে জানান আয়োজকরা।
২০ এপ্রিলের এ উৎসবে চিত্রনায়ক ও সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ ছাড়াও চঞ্চল চৌধুরী, বাঁধন, জয়, ভারতের ঋতুপর্ণা সেন, রেশমি মিত্রসহ শতাধিক চিত্রনায়ক নায়িকা, পরিচালকসহ সিনেমাপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।

suchitra sen NY 02


উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল ছিলো সুচিত্রা সেনের জন্মদিন। ১৯৩১ সালের এই দিনে পাবনা জেলায় জন্ম নেন তিনি। নয় ভাইবোনের মধ্যে সুচিত্রা ছিলেন পঞ্চম। বাড়ির ছোটরা ডাকতেন রাঙাদি বলে। মা-বাবা নাম রেখেছিলেন রমা। পরিচালক সুকুমার দাশগুপ্তের সহকারী নীতীশ রায় তা বদলে রাখেন সুচিত্রা। কিন্তু পাবনার মহাকালী পাঠশালায় খাতায় কলমে তাঁর নাম ছিল কৃষ্ণা দাশগুপ্ত। মহাকালী পাঠশালায় পড়ালেখা শেষ করে সুচিত্রা সেন স্থানীয় পাবনা বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন।
উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া সুচিত্রা সেন ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের ক’মাস আগে বাবা করুণাময় পাবনার বাড়ি-ঘর, চাকরি সবকিছু ফেলে সপরিবারে ভারত চলে যান।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা দেয়া হয় না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি’র কোন নেতা কিংবা কর্মীর বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক মামলা দেয়া হয় না। তাদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো গাড়ি পোড়ানো, পুলিশ এবং জনগণের ওপর হামলাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মামলা। এই সমস্ত মামলায় তারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা বিচারাধীন আছে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চিটাগাং উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ১৪তম আন্তর্জাতিক উইমেন এসএমই এক্সপো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানিসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অপরাধে গ্রেপ্তার হয়। বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ও রিজভী সাহেবরা গ্রেপ্তারের যে হিসাব দিচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যুক্ত যারা প্রতিদিন গ্রেপ্তার হচ্ছে, পুলিশের খাতায় যারা অপরাধী, তাদেরকে বিএনপির কর্মী বলে দাবি করছে। বিএনপি নেতাদের কথায় সেটাই মনে হচ্ছে।

সরকার চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে আছে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ড. হাছান বলেন, আমরা চোরাবালির ওপর দাঁড়িয়ে আছি, এটা গত ১৫ বছর ধরে শুনতে পাচ্ছি। চোরাবালিটা এত শক্ত যে, তাদেরকে আরো বহু বছর অপেক্ষা করতে হবে।

বিএনপি নিজের দলটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য গতানুগতিক কিছু কর্মসূচি পালন করে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গাড়ি যখন বসে যায় তখন সেটির ব্যাটারি মাঝেমধ্যে স্টার্টে রাখতে হয়। বিএনপিও পুরনো গাড়ির মত বসে গেছে। বসে যাওয়াতে তারা গাড়ি স্টার্টে রাখার জন্য মাঝেমধ্যে দলটাকে স্টার্ট দেয় এবং সেজন্য কিছু গতানুগতিক কর্মসূচি পালন করে।

এর আগে ১৪তম আন্তর্জাতিক উইম্যান এসএমই এক্সপো’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামর সন্তান ড. হাছান নিয়মিত এ আয়োজনের জন্য চিটাগাং উইমেন চেম্বারের প্রশংসা করেন। চেম্বারের সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী, এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম, শামীমা হারুন লুবনা এমপি প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অতিথিদের সাথে নিয়ে মন্ত্রী এক্সপো’র বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। সূত্র : বাসস

তীব্র দাবদাহে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরো ৭ দিন বন্ধ ঘোষণা

তীব্র দাবদাহে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা বিবেচনায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরো সাত দিন ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সরকারি-বেসরকারি কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ থাকবে। তবে এরপর যেহেতু শুক্র-শনিবার রয়েছে তাই বন্ধ থাকবে টানা সাত দিন। আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে পুনরায় ক্লাশ শুরু হবে।

শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরসহ (মাউশি) স্ব স্ব দফতরগুলোর পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর, গ্রীষ্মকালীন অবকাশসহ বেশ কয়েকটি ছুটির সমন্বয়ে ২৬ দিন পর রোববার (২১ এপ্রিল) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ছিল। সারাদেশে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলে বরং আরো ছুটি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন অভিভাবকরা। সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকার ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দিলো।

মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ ও আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা জারির পরিপ্রেক্ষিতে মাউশি অধিদফতরের আওতাধীন সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্বনির্ধারিত ছুটি শেষে ২১ এপ্রিল খোলার পরিবর্তে আগামী ২৮ এপ্রিল যথারীতি খুলবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে একই ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান তাপপ্রবাহে শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় ২১ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশুকল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয়সমূহ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকবে।

ক্ষাপঞ্জি প্রকাশ করে। এ বছর প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ১০ মার্চ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায় এবং ১১ মার্চ থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুটি শুরুর কথা ছিল। তবে শিখন ঘাটতি পূরণে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৫ দিন ছুটি কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়।

এতে পবিত্র রমজানের শুরুতে প্রায় দুই সপ্তাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চালু ছিল। রমজানের প্রথম ১০ দিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইভাবে সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও মাদরাসায়ও ছুটি কমিয়ে রমজানের শুরুর দিকে প্রায় দুই সপ্তাহ ক্লাস চালু রাখে সরকার।

২৬ দিনের দীর্ঘ ছুটি শেষে রোববার থেকে পুরোদমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা (হিট অ্যালার্ট) জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এতে বলা হয়েছে, দেশের ওপর দিয়ে চলমান তাপপ্রবাহ শুক্রবার থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।

তীব্র গরমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলেন অভিভাবকরা। তারা তাপপ্রবাহের মধ্যে স্কুল না খোলার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সরকার তাতে সাড়া দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার একদিন আগেই ছুটি আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলো।

মোস্তাফিজ একজন দারুণ মানুষ: পাথিরানা

বাংলাদেশ-শ্রীলংকা দ্বৈরথ এখন ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া কাপের পর থেকে এ দুই প্রতিদ্ব›দ্বীর ম্যাচ মানেই যেন বাড়তি উন্মাদনা। বাংলাদেশের মাটিতে সর্বশেষ সিরিজেও তেমন চিত্র দেখা গেছে। দুই দেশের দুই তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানা ও মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএলে খেলছেন একই দলের হয়ে।
স¤প্রতি নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন চেন্নাই সুপার কিংসের লংকান তরুণ পেসার।
চেন্নাইয়ের গেল আসরের শিরোপাজয়ী দলের সদস্য মাথিশা পাথিরানা। ধোনির দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল লংকান এই পেসারের। অন্যদিকে গেল ডিসেম্বরের নিলামে হলুদ শিবিরে নাম লেখান মোস্তাফিজুর রহমান। যদিও নিজের বাজে ফর্মের কারণে একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে অনেকটা অনিশ্চয়তা ছিল টাইগার এ পেসারের। অবশ্য আসরের শুরুতে পাথিরানার ইনজুরি কিছুটা সৌভাগ্য বয়ে এনেছিল তার জন্য।
হলুদ জার্সিতে অভিষেকের সুযোগটা এসে যায় উদ্বোধনী ম্যাচেই। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অভিষেক ম্যাচেই ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়ে দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন ফিজ। চোট সারিয়ে পাথিরানা দলে ফিরলেও ছিটকে যাননি ফিজ। বরং দুই পেসারে বোলিংয়ে শক্তি বেড়েছে চেন্নাইয়ের।
স¤প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন চেন্নাইয়ের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। পাথিরানার সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন অধিনায়ক ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ও শিভাম দুবে। অনুষ্ঠানে মোস্তাফিজের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয় পাথিরানাকে। জবাবে লংকান এই পেসার জানান, মোস্তাফিজকে কাছ থেকে দেখার পর ভালো মানুষ মনে হয়েছে তার।
পাথিরানা বলেন, চেন্নাই দলে আসার আগে আমি তাকে চিনতাম না। আমি তার সঙ্গে কখনো কথা বলিনি। এখানে আসার পর এবং তাকে চেনার পর আমার মনে হচ্ছে সে দারুণ একজন মানুষ।

জাতীয় পতাকার নকশাকার শিব নারায়ণ দাস মারা গেছেন

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অন্যতম নকশাকার, জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাস মারা গেছেন। আজ শুক্রবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিজি হাসপাতাল) কেবিন বøকের আইসিইউতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি এক ছেলে ও স্ত্রী রেখে গেছেন।
শিব নারায়ণ দাশের একমাত্র ছেলে অর্ণব আদিত্য দাশ তার ফেসবুকে জানিয়েছেন, তার বাবা সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে মারা গেছেন। তিনি তার বাবার জন্য সবাইকে প্রার্থনা করতে বলেছেন। জাতীয় পতাকার সবুজ জমিনে বাংলাদেশের যে হলুদ মানচিত্রটি ছিল, তা অঙ্কন করেছিলেন শিব নারায়ণ দাশ।
গতকাল তার ছেলে অর্ণব আদিত্য জানিয়েছিলেন, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তার বাবা শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে গতকাল রাতে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
অর্ণব আদিত্য বলেন, ‘বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে বা সেই সময় প্রথম জাতীয় পতাকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত যারা বেঁচে আছেন, তারা এই পতাকার নকশাকার হিসেবে আমার বাবার নাম বলেছেন। তবে বাবা সব সময় বলতেন, দেশের মানুষের প্রয়োজনে তিনি তখন দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই এটা নিয়ে প্রচার চাইতেন না। কে স্বীকৃতি দিল না দিল তা নিয়েও মাথা ঘামাতেন না। অসুস্থ থাকার সময়ও এ নিয়ে তিনি কিছু বলেননি।’
২০২৩ সালে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রনেতা হাসানুল হক ইনু, কাজী আরেফ আহমেদ, শিব নারায়ণ দাশসহ ২২ জন পতাকার নকশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দিয়ে কামরুল হাসানের ডিজাইন করা লাল-সবুজের পতাকাটিই বাংলাদেশের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশের স্ত্রী গীতশ্রী চৌধুরীও বীর মুক্তিযোদ্ধা। শিব নারায়ণ দাশের বাবা সতীশ চন্দ্র দাশকে ছেলে মুক্তিযুদ্ধে গেছে এই অপরাধে পাকিস্তানি হানাদাররা গুলি করে মেরে ফেলে।
অর্ণব আদিত্য আগে বেসরকারি এয়ারলাইনসে কাজ করতেন। দুর্ঘটনায় কাজটি আর করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি ফ্রিল্যান্সিং করছেন। তিনি প্রথম গতকাল বলেছিলেন, তাদের বাড়ি বিক্রমপুরে। তবে তার দাদার কাজের সূত্রে তারা কুমিল্লায় স্থায়ী হন। শিব নারায়ণ দাশ রাজনীতি এবং লেখালেখি করে গেছেন সারা জীবন। নিভৃতে থাকতে পছন্দ করতেন।
এর আগে সরকার থেকে শিব নারায়ণ দাশের চিকিৎসার জন্য দুই লাখ টাকা পেয়েছিলেন উল্লেখ করে অর্ণব আদিত্য বলেন, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারে হুট করে চিকিৎসা বাবদ লাখ লাখ টাকা খরচ করা বেশ কঠিন। বাবার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় বিভিন্ন সময় বন্ধু–স্বজনেরা এগিয়ে এসেছেন।’
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে ছাত্রদের পক্ষে পতাকা উড়িয়েছিলেন ছাত্রনেতা তৎকালীন ডাকসুর ভিপি আ স ম আবদুর রবসহ অন্য নেতারা। দেশ স্বাধীনের আগে এই পতাকার নকশাকারদের অন্যতম ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশ।
শিব নারায়ণ দাসের মৃত্যুতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এক শোক বার্তা দেন। জাতীয় পতাকার অন্যতম নকশাকার, জাসদের এই নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তারা।

৮৭ হাজার টাকার মদ নেন পরীমণি : পার্সেল না দেয়ায় চালান তাণ্ডব

নায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়েছেন আদালত। একই সাথে পরীমণি ও জুনায়েদকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছে।
ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম গতকাল এই আদেশ দেন। সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকার সিজেএম আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: সাহাদাত হোসেন।
পিবিআই প্রতিবেদনে বলা হয়, বোট ক্লাবে সেই রাতে ৮৭ হাজার টাকার মদ নেন নায়িকা পরীমণি, পার্সেল না দেয়ায় তাণ্ডব চালান। ক্লাবে তাদের খাওয়া দুই বোতল বøু লেবেলের দাম ও পার্সেলে নেয়া দুই বোতল ওয়াইনের দাম পরিশোধ না করেই তারা ক্লাব থেকে চলে যান। এই চারটি বোতলের দাম ৮৭ হাজার ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া ক্লাবের বারের ভেতরে গøাস, অ্যাশট্রে, বোতল ভাঙচুর করায় আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মামলার ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী তুহিন সিদ্দিকী অমির সাথে জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে মাঝে মধ্যে ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ হতো এবং একে অপরের বাসায় আসা যাতায়াত ছিল। ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমণির অনুরোধে অমিসহ তারা চারজন অমির কালো রঙের জিপ গাড়িতে করে রাত ১২টা ২২ মিনিটে ঢাকা বোট ক্লাবে আসেন। গাড়ির পেছনে পরীমণির সাদা রঙের খালি জিপগাড়ি বোট ক্লাবে প্রবেশ করে।
ক্লাবের দোতলায় উঠে প্রথমে পরীমণি ও ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি বারের সামনে থাকা টয়লেট ব্যবহার শেষে বারের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং টিভির সামনের টেবিলে বসেন। টেবিলে সাক্ষী অমিও বসেন। সৌজন্যের খাতিরে অমি তাদেরকে স্ন্যাক্স জাতীয় খাবার নিজ খরচে পরিবেশন করে আপ্যায়ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরীমণি একটি এক লিটারের বøু-লেবেল মদের বোতল অর্ডার করেন।
পরীমণি ও তার সাথে থাকা জিম ও বনি নিমিষেই সেই বোতলের অ্যালকোহল পান করে বোতল খালি করে ফেলেন এবং অনুরূপ আরেকটি বোতলের অর্ডার করেন। তারা ওই বোতলের আংশিক মদ পান করেন। একপর্যায়ে তাদের ২-৩ টেবিল পেছনে বোট ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাছির উদ্দিন মাহমুদকে আরো দুজন ব্যক্তির সাথে বসা দেখতে পান অমি। তখন অমি পরীমণিকে নিয়ে নাছির মাহমুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং পুনরায় তাদের টেবিলে এসে বসে মদ্যপানসহ গল্পগুজব করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর ড্রিংকস শেষে পরীমণি ওয়েটারকে আরো এক লিটারের তিনটি বøু লেবেল মদের বোতলসহ দুই বোতল ওয়াইন পার্সেল দেয়ার জন্য অর্ডার করেন।
ওয়েটার তখন পরীমণিকে দুই বোতল ওয়াইন পার্সেল দিলেও বøু লেবেল মদের বোতল স্টকে না থাকায় পার্সেল দিতে পারেননি। কিন্তু পরীমণি জোর করে ওই বোতল নিতে চান এবং টেবিলে হট্টগোল করতে থাকেন। তখন পরীমণি বনিকে থাপ্পড় মেরে বলেন, ‘আমাকে দেখে কি মাতাল মনে হয়?’ পরীমণির সাথে থাকা জিম তাকে শান্ত করতে গেলে তাকেও পরীমণি থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে পরীমণি খুবই উত্তেজিত হয়ে টেবিলের ওপর থাকা গøাস, অ্যাশট্রে, বোতল ফ্লোরে এ দিক-ও দিক ছুড়তে থাকেন। তখন নাছির মাহমুদ ক্লাবের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পরীমণিকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এতে পরীমণি আরো ক্ষেপে গিয়ে একটি অ্যাশট্রে নিয়ে তার দিকে ছুড়ে মারেন। যা তার ডান কানের ওপরে মাথায় লাগে।
তখন জিম তেড়ে এসে বাদি নাছির মাহমুদকে গালমন্দ করতে করতে ২-৩টা কিলঘুষি মারেন। এরপর আবারো পরীমণি বারের ভেতরে যত্রতত্র গøাস ছুড়ে ভাঙচুর করতে থাকেন। একটি গøাস নাছির মাহমুদের বুকে লাগলে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন। তখন নাছির মাহমুদ বোট ক্লাব ত্যাগ করে চলে যান।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো: মনির হোসেন বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর থেকে সচেতনতার সাথে কাজ করেছি। বাদির অভিযোগের বিষয়ে নিবিড় তদন্ত করে এ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছি। ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী আছে, মেডিক্যাল রিপোর্ট আছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদি হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন, পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জুনায়েদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নাসিরকে মারধর করার অভিযোগের সত্যতা তদন্তে পেয়েছে পিবিআই। অপর দিকে পরীমণির ছোড়া মদের গøাসে নাসিরের আঘাত লাগার ঘটনার সত্যতাও পেয়েছে।

বিএনপির চিন্তাধারা ছিল দেশকে পরনির্ভরশীল করা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যারা বারবার ক্ষমতায় এসেছে, তারা এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিএনপির চিন্তাধারা ছিল দেশকে পরনির্ভরশীল করা।
গতকাল দুপুরে শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২০২৪ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি যখন সরকার গঠন করলাম, তখন দেখলাম ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি। তখন রিজার্ভ মানিও তেমন ছিল না। এশিয়াতে তখন খাদ্য মন্দা। আমাদের লক্ষ্য ছিল, আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলব না। নিজের ফসল নিজে উৎপাদন করব। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সব সময় বলতেন- আমরা কারও কাছে ভিক্ষা চাইব না, কারণ ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। আমরা মানসম্মান নিয়েই বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। সেই আদর্শে আমরা দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি।
গতকাল সকাল ১০টায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আবদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম উদ্দিন। এ ছাড়া দেশের ডেইরি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি ইমরান হোসেন এবং পোলট্র্রি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) যুগ্ম আহŸায়ক মশিউর রহমান। প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে গতকাল থেকে শুরু হয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেশব্যাপী ৬৪টি জেলার ৪৬৬টি উপজেলায় এ প্রদর্শনী একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব প্রদর্শনীতে স্ব স্ব উপজেলা থেকে উন্নত জাতের এবং অধিক উৎপাদনশীল জাতের গবাদিপশু যেমন- গাভী, বাছুর, ষাঁড়, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, দুম্বা, কবুতর, শৌখিন পাখি, পোষা প্রাণী এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
কৃষি গবেষণা ও উৎপাদনে সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন অন্তত বলতে পারি, মাছ-ভাতের অভাবটা নাই, ডাল-ভাতেরও অভাব নাই। তবে মানুষের চাহিদা এখন মাংস। তিনি বলেন,?আমাদের আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, যেমন খালেদা জিয়া ঘোষণা দিল যে দেশের মানুষকে ডাল-ভাত খাওয়াবে। সেই ডাল-ভাত খাওয়াতেও কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর ২০০৭ সালে আসল তত্ত¡াবধায়ক সরকার। ফখরুদ্দীন প্রধান উপদেষ্টা, ইয়াজউদ্দিন রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান মইনউদ্দিন। মইনউদ্দিন আবার ঘোষণা দিলেন আলু খাওয়ার জন্য। হাজার পদের আলুর নানা রকমের তালিকা তৈরি করা হলো এবং তার আবার প্রদর্শনী হলো। বেশ উন্নত হোটেলে। মানুষ ভাত পাচ্ছে না তাতে কী! আলু খাবে। তিনি বলেন, কেউ আমাদের ডাল-ভাত খাওয়াতে চাইল, কেউ আমাদের আলু খাওয়াতে চাইল, মাছে-ভাতে বাঙালি আমরা; মাছ-ভাত পেলেই তো যথেষ্ট। সেটাই তো আমরা চাই। সেটাই তো আমাদের লক্ষ্য। কাজেই আমরা সেদিকে দৃষ্টি দিয়েছি। এখন অন্তত বলতে পারি, মাছ-ভাতের অভাবটা নাই, ডাল-ভাতেরও অভাব নাই। তবে মানুষের চাহিদা এখন মাংস। শেখ হাসিনা আরও বলেন, অনেক হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ গবেষকরা গবেষণা করে করে সেগুলো কিন্তু আজকে উৎপাদন করছেন। আমরা আমাদের অনেক প্রায় বিলুপ্ত মাছ আবার ফিরে পাচ্ছি। গবেষণা ছাড়া কোনো দেশ এগিয়ে আসতে পারে না, এটাই হলো বড় কথা। তাছাড়া মুরগির ক্ষেত্রেও গবেষণা করে করে বিভিন্ন ধরনের পাখি এখন উৎপাদন হচ্ছে। শুধু ডিমই না, মাংসও এখন মানুষ খেতে পারছে। বাংলাদেশ এখন মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এত খাল-বিল, নদী-নালার দেশ আমরা। আমাদের দেশের মানুষের কেন আমিষের কষ্ট হবে! খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সমুদ্রসম্পদ আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। আজকে এই সমুদ্রসম্পদ আমাদের কাজে লাগানোর জন্য আমরা সুনীল অর্থনীতি ঘোষণা দিয়েছি। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, গভীর সমুদ্রের সম্পদ এখনো আমরা আহরণ করতে পারিনি। আসলে উদ্যোক্তাও পাওয়া যাচ্ছে না, এটা হলো বাস্তবতা। তবে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে আমরা এখন কিন্তু স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ উৎপাদন আমরা আরও বাড়াতে চাই।
দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, এখন দেখি জিনিসের দাম নিয়ে চিন্তিত, পিঁয়াজের দাম বাড়ল কেন? আমাদের কিন্তু ৯০ ভাগ পিঁয়াজই আনতে হতো ভারত থেকে, সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিলাম। ভোজ্য তেল ৯০ ভাগ আনতে হয় বিদেশ থেকে। কেন আনতে হবে? নিজের দেশে আমরা তো উৎপাদন বাড়াতে পারি। তবে এবার সুখবর হলো, আমাদের গবেষণার মধ্য দিয়ে সরিষার উন্নত জাত নিয়ে আসা হয়েছে। আজকে আমাদের সরিষা উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তিনি বলেন, সরিষার তেল হচ্ছে, যেটা হার্টের জন্য সব থেকে নিরাপদ। সেই সঙ্গে আমাদের চালের তুষ থেকে যে তেলটা হয়, সেটা হচ্ছে। তিলের তেল, আমরা আরও বহুমুখী করতে পারি বা করার সে সুযোগ আরও আছে। আমরা এখন করেও যাচ্ছি।
গভীর সমুদ্রসম্পদ আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা দুঃখজনক, বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করলেও এখনো সমুদ্রসম্পদ আহরণ করতে সক্ষম হয়নি। বাস্তবতা হলো এই সেক্টরে উদ্যোক্তা পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য খাদ্য নিরাপত্তা, তারপর পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। কৃষিতে আরও গবেষণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের হামলা, যা বলল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘সামরিক অভিযান’ চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তারা।
সিএনএনের বরাত দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, এ হামলা বিশ্বের জন্য অতিবিপজ্জনক। এর ফলে ওই অঞ্চলটি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরাইল বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বাইডেন প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আঘাত (ইরানে) আসছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছিল যে, হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।
এদিকে ইসরাইল শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে ইরানে ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালিয়েছে বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা, এবিসি নিউজসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম। তবে এমন খবরের পর তেহরান বলছে, তারা বেশ তিনটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং দেশটিতে ‘এখনো কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ হয়নি।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের মহাকাশ সংস্থার মুখপাত্র হোসেইন দালিরিয়ান বলেছেন, এয়ার ডিফেন্সের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। আপাতত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নেই।
বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, ইরানের ইসফাহান শহরের কাছে অবস্থিত শেখারি সেনা বিমানঘাঁটির কাছে ‘তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ’ শোনা গেছে।
এর আগে ইরান ইসরাইলে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করার পর ইসরাইল সতর্ক করেছিল যে, তারা পাল্টা আঘাত করবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এবিসি এবং সিবিএস নিউজ জানায়, ইসরাইল ইরানে হামলা চালিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইসফাহানের কাছে বিস্ফোরণের পর ইরানের কয়েকটি শহরে আকাশ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মোদি আবার নাকি রাহুল? ভাগ্য নির্ধারণ করবে ৫ ইস্যু

ভারতের লোকসভা নির্বাচন আজ থেকে শুরু হয়েছে। সাত দফায় বিশ্বের বৃহৎ এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোট শেষে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ৪ জুন।
এই নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ৯৬ কোটি ৯০ লক্ষ।ভারতের এবারের ভোটারদের মধ্যে ৪৯ কোটি ৭০ লাখ পুরুষ এবং ৪৭ কোটি ১০ লক্ষ নারী।
প্রথমবার ভোট দেবেন, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮-১৯ বছর, এমন ভোটার ১ কোটি ৮০ লক্ষ।
প্রবীণ ভোটার, যাদের বয়স ৮৫ থেকে ৯৯ বছর, এরকম ৮২ লাখ মানুষের নাম আছে ভোটার তালিকায়।
নিরাপত্তা আর ভোটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণেই নানা দফায় ভোট করানো হচ্ছে।
ভারতীয় ভোটাররা কিসের ভিত্তিতে এবার ভোট দেবেন? নরেন্দ্র মোদির তুরুপের তাস কী হবে? নতুন গড়ে তোলা বিশালাকার রাম মন্দির? অর্থনীতি, কর্মসংস্থানের চিন্তা বা কল্যাণকারী প্রকল্পগুলোর ওপরে ভিত্তি করেই কি ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন? নাকি জাত আর ধর্মের ভিত্তিতে ভোট দেবেন তারা?
রাম মন্দির
মনে করা হচ্ছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর অযোধ্যায় গড়ে ওঠা হিন্দুদের ভগবান রামের মন্দিরটি এবারের নির্বাচনী দৌড়ে নরেন্দ্র মোদিকে কিছুটা ঐশ্বরিক সহায়তা দিতে পারে।
হিন্দুত্ববাদীরা ১৯৯২ সালে যে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দিয়েছিল, সেই জায়গাতেই গড়ে উঠেছে এই মন্দিরটি। সেই ঘটনার পরে যে দাঙ্গা বেঁধেছিল, নিহত হয়েছিলেন প্রায় দুহাজার মানুষ।
এবছর জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ওই মন্দিরটির উদ্বোধন করেন।
সেই অনুষ্ঠান টিভিতে সরাসরি স¤প্রচারিত হয়েছিল। স্কুল, কলেজ আর বেশিরভাগ অফিসও সেদিন ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে মানুষ ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা দেখতে পারেন।
অর্থনীতি
ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ ‘২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশ’ হিসাবে গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, তা কি ভোটারদের মনে কোনো দাগ ফেলতে পারবে?
বিশ্বের সবথেকে দ্রæত বাড়তে থাকা অর্থনীতির দেশ ভারত। দেশটির জিডিপি এখন সাড়ে তিন লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার। গত বছর যুক্তরাজ্যকে টপকিয়ে বিশ্বের পঞ্চম সবথেকে বড় অর্থনীতি হয়ে উঠেছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি হয়তো পৌঁছিয়ে যাবে সাত লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারে। আর সেটা সম্ভব হলে জাপান এবং জার্মানিকেও পেরিয়ে যাবে ভারতের অর্থনীতি। তাদের আগে থাকবে মাত্র দুটি দেশ – যুক্তরাষ্ট্র আর চীন।
তবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ফল হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অর্থনৈতিক অসাম্য চোখে পড়ার মতো। বৈশ্বিক জনপ্রতি আয়ের দিক থেকে হিসাব করলে ভারতের স্থান ১৪০ নম্বরে। দেশটির তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষ দিনে ১৭৯ ভারতীয় টাকারও কম আয় করেন। যদিও সরকারি নথিতে বলা হয় যে ‘চরম দারিদ্র্য’ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
কর্মসংস্থান
অনেক ভোটারের মাথাতেই কর্মসংস্থান বিষয়টা থাকবে। তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে থেকে ৭০-৮০ লাখ জন প্রতিবছর চাকরির বাজারে প্রবেশ করে থাকেন। কিন্তু আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ কোনও কাজ জোটাতে পারেন না।
সা¤প্রতিক সরকারি তথ্য অবশ্য বলছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা কমছে এবং শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন যে নতুন সৃষ্টি হওয়া বেশিরভাগ কাজই খুব কম বেতনের চাকরি।
মানুষ যে সঙ্কটে আছেন, তার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায় যখন দেখা যায় যে লাখ লাখ মানুষ সরকারের গ্রামীণ রোজগার প্রকল্পে নাম লেখাচ্ছেন। ওই প্রকল্পে কাজ করলে প্রতিদিন প্রায় আড়াইশো ভারতীয় টাকা পাওয়া যায়। আবার কয়েক হাজার মানুষ যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলিতেও কাজ করতে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন।
নির্বাচনি বণ্ড
নির্বাচনের অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনতে যে নির্বাচনি বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, স¤প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সেটিকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কারা ওই নির্বাচনী বণ্ড কিনেছে আর কোন দল কত অর্থ পেয়েছে, সেই তথ্যও প্রকাশ করার জন্য সরকারি ব্যাংক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
সেই তথ্য সামনে আসতেই দেখা যায় যে নির্বাচনি বণ্ড থেকে সবথেকে লাভবান হয়েছে বিজেপি। দলটি ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যে ১২ শো কোটি ভারতীয় টাকার নির্বাচনি বণ্ড বিক্রি হয়েছিল, তার অর্ধেকই পেয়েছিল বিজেপি।
নানা কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের মুখে পড়া অনেক সংস্থাই নির্বাচনি বণ্ডের মাধ্যমে বিজেপিকে অর্থ যুগিয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। বিরোধী দলগুলি নির্বাচনী বণ্ডের ব্যবস্থাকে ‘ভারতের ইতিহাসে সবথেকে বড় দুর্নীতি’ বলে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করে যে এজেন্সিগুলিকে দিয়ে তোলাবাজি করানো হয়েছে। তবে সরকারের মন্ত্রীরা অবশ্য সেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কল্যাণমুখী প্রকল্প
ভারতের কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো পরিমাণ দেখলে বিস্মিত হতে হয়। নরেন্দ্র মোদির সরকার দাবি করে যে তারা প্রায় ৯০ কোটি গরীব মানুষকে সহায়তা দেওয়ার জন্য কয়েক লক্ষ কোটি ভারতীয় টাকা খরচ করেছে। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও কল্যাণমুখী প্রকল্পে প্রচুর অর্থায়ন করে থাকেন।
কিন্তু ওই বিনামূল্যের এক বস্তা চাল বা টয়লেট বানানোর জন্য অর্থ সহায়তা কি একটি দলকে ভোট এনে দেবে? বিশ্লেষকরা অবশ্য বলেন যে এধরণের প্রকল্প হয়তো ভোট পেতে সহায়তা করে, কিন্তু তা একমাত্র ফ্যাক্টর না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি।