রাজ্য বিজেপির নতুন মুখপাত্র হয়ে আসছেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা রাধিকা। কর্মসূত্রে বাংলার বাইরে থাকলেও রাজ্যের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান। সেই সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যশালী দুই পরিবারের প্রতিনিধি তিনি।
রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য সদ্য রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন। তিনি তো বটেই, তাঁর দলে থাকা পদ্মশিবিরের বাকি মুখপাত্রেরাও মূলত রাজনীতিক এবং সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন। সেই দলে এ বার এসেছেন নতুন এক সদস্যা। রামের দলের সেই রাধিকার পরিচয়Ñ তিনি পিতৃকুল, মাতৃকুল দু’দিক থেকেই বনেদি রক্ত বহন করছেন। এক দিকে মুর্শিদাবাদের জমিদার বংশের পরিচয়। অন্য দিকে, জাহাজ ব্যবসায়ীর বনেদিয়ানা।
পুরো নাম রাধিকা ভট্টাচার্য শাহ। বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যে যখন দিলীপ ঘোষ সভাপতি। বেশ কয়েক বছর আগে দিলীপের হাত থেকে পতাকা নিলেও সদ্য দায়িত্ব পেলেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডার থেকে। বাংলার অন্যতম মুখপাত্র হলেন রাধিকা। রাজনীতি নয়, পেশায় কর্পোরেট জগতের আন্তর্জাতিক বিষয়ের পরামর্শদাতা। কাজ করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জেও। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রামীণ শিক্ষা নিয়ে কাজ করেন নিজস্ব বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে।
তাঁকে রাজ্যের অন্যতম মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়ার পরে আনন্দবাজার অনলাইনকে রাধিকা বলেছেন, ‘‘আমি সারাজীবন অনেক কাজ করেছি। মানুষের সেবা করেছি। এখন আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাজের সঙ্গেও যুক্ত হতে চাই। সেই কারণেই রাজনীতির আঙিনায়।’’ পারিবারিক পরিচয় নিয়ে যে তিনি গর্বিত, তা তাঁর কথায় কথায় স্পষ্ট। মূলত মুম্বইয়ের বাসিন্দা হলেও তিনি এখন বাংলার মুখপাত্র। তাই সম্ভবত রাধিকা বারে বারে বোঝাতে চাইলেন, বাংলাই তাঁর মূল। বললেন, ‘‘আমি এমন দু’টি পরিবারের সদস্য, যাদের কথা ‘বংশপরিচয়’ নামের বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।’’ সেই সূত্রেই রাধিকা জানালেন, তাঁর পিতামহ ছিলেন জমিদার। রায়সাহেব নগেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য মুর্শিদাবাদের নবাব বাহাদুরের জায়গির পেয়েছিলেন। নগেন্দ্রকুমার বহরমপুরের উল্লেখযোগ্য জমিদারও ছিলেন।
ইতিহাস বলছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১৩ সালে আইন বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন নগেন্দ্রকুমার। ১৯৩৪ সালে ‘রায়সাহেব’ উপাধি পাওয়া নগেন্দ্রকুমার বহরমপুর পুরসভার কমিশনার ছিলেন ১৯৩২ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি নির্দল প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্য। শুধু পিতামহ নন, রাধিকার ঠাকুরমার বাবা কেদারনাথ চৌধুরিও ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পেয়েছিলেন। রাধিকা বলেন, ‘‘এখন বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার বামোইয়ের জমিদার ছিলেন বাবার মাতামহ। তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা এবং সেশন কোর্টের বিচারপতি হয়েছিলেন ১৯০১ সালে।’’
এ তো গেল পিতৃকুল। রাধিকার মাতৃকুলও কম যায় না। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মায়ের বাবা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার বালিগঞ্জে এখনও প্রাসাদোপম বাড়ি রয়েছে। তাঁর বাবা সন্তোষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ও বড় জাহাজ ব্যবসায়ী ছিলেন। বিজ়নেস টাইকুন বলতে পারেন। শিপিং ম্যাগনেট বলা হত। আমি দীর্ঘদিন বিদেশেও ছিলাম। কিন্তু যেখানেই থাকি না কেন, বাংলার মাটির সঙ্গে আমার যোগ গভীর।’’ বৈবাহিক সূত্রেও বড় পরিচয়ের অধিকারী রাধিকা। স্বামী প্রকাশ শাহ জাপান, ভেনেজ়ুয়েলায় ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। মূলত গুজরাতের বাসিন্দা প্রকাশ রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধিও ছিলেন দীর্ঘসময়। দেশে-বিদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তবে অবসরের পরে স্ত্রী রাধিকার সঙ্গে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকলেও রাজনীতির সঙ্গে প্রকাশের কোনও সম্পর্ক নেই। জানালেন স্ত্রী রাধিকাই।
লোকসভা নির্বাচনের আগে আগেই দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্য বিজেপির। কলকাতায় আসার কথা দু’এক দিনের মধ্যেই। তার পরে বিজেপির সাংবাদিক বৈঠকে বা চ্যানেলের সান্ধ্য বিতর্কে দেখা যেতে পারে ‘নবাগতা’ রাধিকাকে। এত দিন বাংলার বাইরে থেকে রাজ্য রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে অসুবিধা হবে না? রাধিকার জবাব, ‘‘বাংলার বাইরে আবার কী! যেখানেই থাকি বাংলার সঙ্গেই থাকি। এখানকার রাজনীতির কথাও রোজ জানি, শুনি। আর বিজেপি তো শুধু বাংলার কথা বলে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন বিশ্বের নেতা। তিনি নতুন ভারত গড়ছেন। সেই কথাই তো বলব।’’একই সঙ্গে রাধিকা জানান বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি তো বটেই, তিনি গুজরাতি, মরাঠি, পাঞ্জাবি এবং উর্দুতেও অনর্গল কথা বলতে পারেন।
কিন্তু রাধিকার মতো ‘হাই প্রোফাইল’ মুখপাত্র রাজ্য বিজেপির জন্য? দলের এক রাজ্য নেতা বলেন, ‘‘আসলে নতুন বিজেপির সব কিছুই নতুন। এখন রাজ্য কমিটি থেকে মোর্চা নেতৃত্বÑ সর্বত্রই চিকিৎসক, অধ্যাপক, আইনজীবীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই ছাপ রয়েছে দলের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থিতালিকাতেও।’’ এই প্রসঙ্গে রাধিকা বলেন, ‘‘বিজেপি যে সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে, তা তো মানতেই হবে। আমাদের প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো মানুষ।’’
রাজ্যে তৃণমূল ইদানীং বিজেপিকে ‘জমিদারের দল’ বলে উল্লেখ করে। এ বার খোদ জমিদার বংশের কন্যা দলের মুখপাত্র! এর জবাবও তো দিতে হবে? রাধিকা জানালেন, তিনি তৈরি। বললেন, ‘‘জমিদার মানেই খারাপ নাকি! সবেতেই খারাপ-ভাল রয়েছে। তা ছাড়া কে কী বললেন, তাতে যে কিছু আসে-যায় না, সেটা দেশকে বুঝিয়ে দিয়েছেন মোদীজি। ওঁকে কম আক্রমণ করা হয়েছে? কিন্তু দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য থেকে কি সরানো গিয়েছে মোদীজিকে?’’
রামের দলে রাধিকা, চমক লোকসভা ভোটের মুখে! রাজ্য বিজেপির নতুন ‘মুখ’ জমিদার বংশের দুহিতা
মোদী, মমতার সভায় ভিড়ে টেক্কা দিতে লড়াই উত্তরে
মুখ্যমন্ত্রীর সভা হবে মাথাভাঙার গুমানির হাটে। তৃণমূলের দাবি, মাথাভাঙা বিধানসভার মধ্যে থাকা প্রতিটি অঞ্চল থেকে সেখানে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যেতে হবে।
রাত পোহালেই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা কোচবিহারে। আর একই দিনের ওই সভায় লোক জমায়েতে কে কাকে টেক্কা দেবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধীর জোর লড়াই।
দুই শিবিরের সূত্রেই জানা গিয়েছে, সভাস্থলে যত বেশি সংখ্যক কর্মী-সমর্থক হাজির করতে অঞ্চলে অঞ্চলে কার্যত ‘হুইপ’ জারি করা হয়েছে। কোনও অঞ্চল থেকে এক হাজার, কোথাও দেড় হাজার, কোথাও থেকে আবার দুই হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সে ভাবেই বাস-গাড়িও জোগাড় করা হচ্ছে।
তৃণমূল অবশ্য দাবি করেছে, বিজেপি প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য অসম থেকেও লোক নিয়ে আসবে। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী এর আগে কোচবিহারে এসে যা-যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার কোনওটি পূরণ করতে পারেননি। তাই প্রধানমন্ত্রীর সভায় লোক হবে না। সে জন্য অসম থেকে লোক নিয়ে এসে মাঠ ভরাবে বিজেপি। আর আমরা একটি বিধানসভা এলাকার মানুষকে নিয়েই সভা করব।” বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি সুকুমার রায় পাল্টা বলেন, “আসলে তৃণমূল বুঝে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় লোক হবে না। আর প্রধানমন্ত্রীর সভায় লোকে ভাসবে। সে জন্য এমন কথা বলছে।” বৃহস্পতিবার কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুরের পরে ওই সভায় তাঁর যোগ দেওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ‘স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ’ (এসপিজি)-এর নিরাপত্তাকর্মীরা কোচবিহারে পৌছে মাঠ পরিদর্শন করেছেন। রাজ্য পুলিশের এডিজি অজয় নন্দও পৌঁছেছেন জেলায়।
দলীয় সূত্রে খবর, ওই সভায় এক লক্ষ দশ হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি। তাতে কোচবিহারে বিজেপির দখলে থাকা নাটাবাড়ি, মাথাভাঙা, শীতলখুচি বিধানসভা থেকে কুড়ি হাজার করে কর্মী-সমর্থক জমায়েতের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিজেপির দখলে থাকা কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ থেকেও পনেরো হাজার করে কর্মী-সমর্থক জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দিনহাটা ও সিতাই থেকে আরও কুড়ি হাজার জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আলিপুরদুয়ার থেকে চল্লিশ হাজার কর্মী-সমর্থক আনা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রায় প্রত্যেক অঞ্চল থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে সভাস্থলে নিয়ে যেতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সভা হবে মাথাভাঙার গুমানির হাটে। তৃণমূলের দাবি, মাথাভাঙা বিধানসভার মধ্যে থাকা প্রতিটি অঞ্চল থেকে সেখানে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যেতে হবে। সব মিলিয়ে পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাথাভাঙা বিধানসভার লাগোয়া এলাকা থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর সভায় লোক নিয়ে যাওয়া হবে। অভিজিৎ বলেন, “একাধিক বিধানসভায় সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেকটি সভায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ থাকবেন।”
আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’র স্বাধীনতা দিবস পালন : ‘সংবাদকর্মীদের পেশার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান’
আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন ও ইফতার মাহফিলে আলোচনায় বক্তারা সংবাদকর্মীদের নিজেদের পেশার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন। তারা বলেন,সারা বিশ্বেই সাংবাদিকতা পেশা একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশে তো বটেই,বাক-স্বাধীনতার দেশ-এই আমেরিকাতেও সাংবাদিকরা নানা প্রতিকুলতার মধ্যে পড়েছেন। নিউইয়র্কের বাংলা কমিউনিটি সাংবাদিকতাও নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন। এই অবস্থায় সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ঐক্যের মাধ্যমে এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিকল্প নেই।
২৬ মার্চ মঙ্গলবার জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্য-সদস্যা ছাড়াও সিনিয়র সাংবাদিক এবং কমিউনিটি লিডার এবং এক্টিভিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল হক। মঞ্চে উপবিষ্ট থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রব মিয়া,বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ড.আবু জাফর মাহমুদ, সিটি মেয়রের দক্ষিন এশিয়া বিষযক এডভাইজার ফাহাদ সোলায়মান,বিশিষ্ট রিয়েলটর নূরুল আজিম, স্মার্ট স্টাফিং’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও দুলাল বেহেদু, নিউইয়র্ক সময়’র সম্পদক জাকারিয়া মাসুদ, নিউইয়র্ক সময়’র প্রধান সম্পাদক দর্পণ কবীর, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট লায়ন আহসান হাবিব।
ইফতারপূর্ব দোয়ায় স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা এবং দেশ ও প্রবাসের সকলের মঙ্গলের জন্যে মোনাজাত পরিচালনা করেন জ্যাকসন হাইটস্থ আবু হুরায়রা মসজিদের ইমাম মাওলানা ফায়েক উদ্দিন। তিনিসহ মাওলানা ফখরুল ইসলাম মাসুম মোনাজাতের পূর্বে রোজার গুরুত্ব ও পালনীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
ইফতারের পরে আয়োজিত বক্তব্য পর্বে আলোচকগণ উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরদের আত্মত্যাগে পাওয়া বাংলাদেশে এখনও বহু বিষয়ে পরাধীনতা রয়ে গেছে। এসময় দেশ গঠনে ও কমিউনিটির উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচকগণ তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর আলোচনায় অংশ নেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নিউইয়র্ক সময়’র প্রধান সম্পাদক দর্পণ কবীর,জন্মভুমি সম্পাদক রতন তালুকদার, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, বিশিষ্ট সাংবাদিক সাঈদ তারেক, খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও খবরডটকমের সম্পাদক মো: মশিউর রহমান মজুমদার,বাংলাদেশি পোস্টাল এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ফারুক হোসেন মজুমদার, আটাব’র প্রেসিডেন্ট ও কর্ণফুলি ট্রাভেল্স’র কর্ণধার সেলিম হারুন, স্টার ফার্নিচারের কর্ণধার রকি আলিয়ান, হাসান জিলানী,লায়ন এফইএমডি রকি প্রমুখ।
ইফতার মাহফিলে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে উপস্থিত হয়েছিলেন সানম্যান এক্সপ্রেসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসুদ রানা তপন, আটাব’র সেক্রেটারী ও স্কাই ট্রাভেলসের কর্ণধার মাসুদ মোরশেদ, আটাব’র কোষাধ্যক্ষ ও ট্রাভেলসের কর্ণধার শামসুদ্দিন বশির, এ্যাংকর ট্রাভেলসের কর্ণধার এএস মাইনুদ্দিন পিন্টু,মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান,এবি টিভির আবীর আলমগীর,কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মাকসুদুল হক চৌধুরী,শোটাইমের কর্ণধার আলমগীর খান আলম, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুর রশিদ বাবু, বক্সার সেলিম প্রমূখ।
আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা খবর ডটকমের সম্পাদক শওকত ওসমান রচি,হক কথা সম্পাদক এবিএম সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক রিমন ইসলাম, প্রেসক্লাবের সদস্য সীমা সুস্মিতা, মাই টিভি’র মল্লিকা খান মুনা, আব্দুল হামিদ,পাপিয়া বেগম, স্যামুয়েল স্টিফেন পিনারু,এস এম সরোয়ার হোসেন,অভিজিৎ রায়, সিবিএন টিভি ইউএস’র সিইও মাহমুদুল হাসান পাহলভি, তাপস সাহা, সাংবাদিক আদিত্য শাহীন, সাঈদ আলম, এবি টিভির সাবু প্রমুখ।
নিউইয়র্কে ‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল
নিউইয়র্কে ‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন’র উদ্যোগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ মার্চ বুধবার জ্যাকসন হাইটসের মামা’স পার্টি হলে এ অনুষ্ঠান হয়।
এই ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ, গেষ্ট অব অনার ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অপর সদস্য মিজানুর রহমান ভূইয়া (মিল্টন) এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কেন্দ্রীয় জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান ও বিএনপি নেত্রী রিটা রহমান। প্রথম পর্বে ইফতার মাহফিলে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা মওলানা ইব্রাহীম। যৌথভাবে এই পর্ব পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ও মোশাররফ হোসেন সবুজ।
ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোশাররফ হোসেন সবুজ। উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মশিউর রহমান, খন্দকার ফরহাদ, মোহাম্মদ সুরুজ্জামান ও মোহাম্মদ সেলিমকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সাবেক ছাত্রনেতা ডা. আব্দুস সবুর, এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, আনোয়ার হোসেন, কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, ফিরোজ আহমেদ, আব্দুস সবুর, সৈয়দ আকিকুর রহমান ফরুক, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার শেখ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ বাতেন, যুবদল নেতা শাহ আলম, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুল হক চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, যুক্তরাষ্ট্র জিয়া পরিষদের সদস্য সচিব জাকির হাওলাদার, সাবেক ছাত্রনেতা জীবন শফিক, ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম মিরর, মোহাম্মদ জসিম মৃধা, কাজি মনির হোসেন, রাশেদ রহমান, সোহেল আহমেদ, মোহাম্মদ মাসুদ, মোহাম্মদনাজমুল হোসাইন মুন্সী, আজিজুল বারী তিতাস, হুমায়ুন কবীর, মিল্টন হোসেন, মোহাম্মদ শেখ সিদ্দিক, মাস্টার মুসতাক আহম্মদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীরোত্তম) এর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতায় বিশেষ দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় জিয়ার অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপি-ই দেশপ্রেমিক দল। বক্তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে আরো শক্তিশালী করে শেখ হাসিনা সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার আনেন্দালন জোরদার করার আহ্বান জানান।
অবশেষে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিলেন ট্রাম্প
নিউইয়র্ক জালিয়াতি মামলায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার বন্ড দিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্পদ বাজেয়াপ্ত এড়াতে এ পদক্ষেপ নিলেন তিনি। সোমবার তিনি এ অর্থ জমা দেন।
এর আগে সেই মামলায় ট্রাম্পকে ৪৬৪ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু সেই শর্ত পরিশোধে সামর্থ্য ছিল না ট্রাম্পের।
পরে প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের মধ্যে ট্রাম্পকে ১৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার আদেশ দেন আপিল আদালত। সেই অর্থই এবার পরিশোধ করলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের অর্থ পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী আলিনা হাব্বা।
এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের আইনজীবী আলিনা হাব্বা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বন্ডের অর্থ দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প তার আপিলের অধিকার প্রমাণ করতে এবং এই অন্যায় রায়কে বাতিল করতে উন্মুখ। বিবিসি।
তুরস্কে নাইট ক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৯
তুরস্কের ইস্তান্বুলের একটি নাইট ক্লাবে আগুন লেগে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন মানুষ।
মঙ্গলবার দিনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই সময় নাইট ক্লাবটি খোলা ছিল না। সেখান সংস্কার কাজ চলছিল।
ইস্তান্বুলের গায়রেত্তেপেতে অবস্থিত নাইট ক্লাবটি একটি ১৬ তলা আবাসিক ভবনের বেজমেন্টে ছিল।
প্রদেশটির গভর্নর দাভুত গুল জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যারা নিহত হয়েছেন তারা সংস্কার কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুনে দগ্ধ অন্তত একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইস্তান্বুলের গভর্নর অফিস।
ঘরে আগুন দেখে বের হয়ে গেল সবাই, পুড়ে মরলেন বৃদ্ধা মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে ইস্তান্বুল ফায়ার বিভাগের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দমকলকর্মীরা একাধিক ফায়ার ইঞ্জিন নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়া ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ভবনটির পাশে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স।
ওই সময় অন্তত একজন ব্যক্তিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে নিয়ে আসতে দেখা যায়।
ইস্তান্বুলের মেয়র ইকরিম ইমামগোলো এক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোক জানিয়ে বলেছেন, যারা পরিবার-পরিজনকে হারিয়েছেন তাদের ওপর আল্লাহ দয়া করুক। যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি আমি।
মেয়র ইমামগোলো জানিয়েছেন, ভবনটির নিরাপত্তা নিরূপণে এখন সেখানে কাজ চলছে।
প্রাথমিকভাবে এই অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়। পরবর্তীতে জানানো হয় ভয়াবহ এ অগ্নি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কিনা এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ খরচ করেছে পৌনে তিন হাজার কোটি টাকা
বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২ কোটি ৭৬ লাখ ৭৮ হাজার ১২০ টাকা ব্যয় করেছে আওয়ামী লীগ। আজ সোমবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আওয়ামী লীগের জমা দেওয়া হিসাবে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলটির ব্যয় ছিল ১ কোটি ৫ লাখ টাকা।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থীদের জন্য কত ব্যয় করতে পারবে, তা আইনে নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। কোনো দলের প্রার্থী ২০০ জনের বেশি হলে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্রার্থীর সংখ্যা ১০০ জনের বেশি, তবে ২০০ জনের কম হলে ব্যয় করতে পারবে ৩ কোটি টাকা।
আবার কোনো দলের প্রার্থীর সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ হলে, সেই দল দেড় কোটি টাকা এবং প্রার্থীর সংখ্যা ৫০ জনের কম হলে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন ২৬৬ জন।
ভোট শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দলের ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিতে হয়। গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী জমা দেয়।
ব্যয় বিবরণী জমা দিয়ে নির্বাচন ভবনে জাফর উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ের সীমা ছিল। তার থেকে ব্যয় কম হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোট নির্বাচনী ব্যয় ২ কোটি ৭৬ লাখ ৭৮ হাজার ১২০ টাকা। প্রার্থীরা নিজ থেকে ব্যয় করেন। তাই দলের ব্যয় কম হয়। পুরো ব্যয়টা দলীয় হয় না। পোস্টার, জনসভা, প্রচার ইত্যাদি খাতে ব্যয় হয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয় জমা দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য নুরুল আলম, অর্থ পরিকল্পনা উপকমিটির সদস্য জাফরুল শাহরিয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের খোলা চিঠি প্রদান
বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বুয়েটের ড. এম এ রশীদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চিঠি পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা।
চিঠিতে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে লেখেন, আমরা করোনার সেই বিপদ মুহূর্তে বানিয়েছি লো কস্ট ভ্যান্টিলেটর, ক্লিন সিটির আশায় পরিত্যক্ত মাস্ক থেকে বানাচ্ছি কনক্রিট, আরো খুঁজছি বিদ্যুতের সহজ উপায়, বানাচ্ছি আর্টিফিশিয়াল আর্মস, সার্জিক্যাল টুলস। পদ্মা সেতুর নির্মাণে আমাদের বুয়েট শিক্ষক এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের অবদান অনবদ্য। শুধু দেশেই না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্য দেশের দলগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা ছিনিয়ে আনছি বিজয়। আপনি নিঃশর্তভাবে আমাদের অর্থসহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন এসব গবেষণা খাতে।
প্রধানমন্ত্রীকে অভিভাবক সম্বোধন করে তারা বলেন, আমরা নিজেদের মেধা ও শ্রমের সবটুকু দিয়ে বিজ্ঞানের অবাক করা দুনিয়ার একটা অংশের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে দেখতে চাই। আমরা ত্রাসের রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝি না, আমরা শুধু দেশকে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে জানি। নিজেদের কাজ দিয়ে তা আমরা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর। আপনি মানবকল্যাণবতী, আমাদের সবার অভিভাবক, আপনি দেশের অভিভাবক। আমরা জানি দেশের কোথাও কোনো দুঃখজনক পরিস্থিতি চললে, দেশের কোথাও সঙ্কট চললে, আপনার হৃদয়ে গভীর রক্তক্ষরণ হয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, আশির দশকে স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে এই দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর মধ্যে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে ক্ষমতার নেতিবাচক দিকগুলোই প্রত্যক্ষ করেছি। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মাঝে সূচনা ঘটছে আধিপত্য, দাপট, র্যাগিং, শিক্ষকদের অপমান, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থী নিপীড়ন, খুনোখুনিতে মেতে ওঠার মতো ঘটনা এবং এর ব্যাপ্তি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে এর চরমতম মূল্য হিসেবে আমরা আমাদের কেমিকৌশল ৯৯ এর সাবেকুন্নাহার মনি আপু, যন্ত্রকৌশল ০৯ এর আরিফ রায়হান দ্বীপ ভাই এবং সর্বশেষ তড়িৎকৌম্প ১৭ এর আবরার ফাহাদ ভাইকে হারিয়েছি। শুধুমাত্র আবরার ফাহাদ ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডই নয়, এর পূর্ববর্তীতেও অসংখ্য শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের দ্বারা কিংবা ছাত্ররাজনৈতিক দাপটের দ্বারা অমানুষিকভাবে নিপীড়িত হওয়ার ঘটনা রযেছে, যা আমাদের বুয়েটের র্যাগিং স্টোরি আর্কাইভে সারি সারি আকারে লিপিবদ্ধ আছে।
খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আরো লেখেন, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বরাবরই একটি নিরাপদ এবং সুপ্ত ক্যাম্পাস চেয়ে এসেছে, যেখানে ক্ষমতাচর্চার লোভ লালসার শিকলে আবারো জিম্মি হয়ে যাবে না সবার নিরাপত্তা, শিক্ষাঙ্গনের উপযুক্ত পরিবেশ। সুপ্ত নেতৃত্ব এবং নৈতিকতা বিকাশের সব উপাদান ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির উপস্থিতি ব্যতীতও গত কয়েক বছরে উপস্থিত ছিল এবং এতে সুস্থ নেতৃত্বের চর্চার শিক্ষার্থীরা তাদের উপযুক্ত পরিবেশ পেয়েছে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক ফেস্টিভ্যাল আয়োজন, প্রতিটি ডিপার্টেমেন্টের নিজস্ব সহশিক্ষাকার্যক্রম এবং অ্যাকাডেমিক অর্গানাইজেশন, সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ, বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে আনন্দের সাথে সম্পন্ন হচ্ছে। আবাসিক হল এবং ক্যাম্পাসে কোনো রকম রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ক্ষমতাচর্চা ব্যতীত বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সভা-সেমিনার আয়োজন, জাতীয় সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জনসহ, ক্যাম্পাসের ভিতরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবেই আয়োজিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমান বুয়েটে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ থাকায় নিজ নিজ প্রকৌশল ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণামুখী কাজে মনোনিবেশ করতে অনুপ্রাণিত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি রাজনীতিবিহীন নিরাপদ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য সারা দেশব্যাপী জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত এবং সমাদৃত হয়েছে। রাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসের গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের এই সব সফলতা আমাদের জানান দেয়, আমরা আমাদের বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি ব্যতীতও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য যে প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন নেতৃত্ব গঠন এবং বিকাশ প্রয়োজন, তা করতে পারি, স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে আমরা নিরন্তর কাজ করে যেতে পারি।
তারা বলেন, আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের ব্যাপারে যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। তাই দেশের যেকোনো স্থানের ন্যায় আমাদের ক্যাম্পাসকে আমরা অবশ্যই যেকোনো প্রকারের সন্ত্রাস, মৌলবাদ বা নিষিদ্ধ গোষ্ঠী থেকে নিরাপদ রাখতে সর্বদা তৎপর। সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে অনেক মহল থেকেই বলা হচ্ছে যে, ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ মৌলবাদী বা সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম বিদ্যমান এবং এর ফলশ্রুতিতেই তারা বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির চর্চার পক্ষে যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আপনাকে নির্দ্বিধায় বলতে চাই, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি যেকোনো মুহূর্তে এসব নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যেকোনো কার্যকলাপ ক্যাম্পাসে চলমান দেখি শিগগিরই তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব এবং প্রশাসনকে অবহিত করব। এমনকি ভবিষ্যতে যদি ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেটার বিরুদ্ধেও আমাদের অবস্থান দৃঢ়।
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, চার বছর আগে আপনার দৃঢ় এবং দ্রুত হস্তক্ষেপে আমরা নতুন করে এই ক্যাম্পাসে বাঁচতে শিখেছি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই ছোট্ট একটা চাওয়ার কারণে আমরা প্রতিনিয়ত পাচ্ছি হুমকি, হচ্ছি লাঞ্ছিত, অপদস্থ। আমরা, আমাদের ছোট ভাই বোনেরা আরো একবার সেই অন্ধকার দিনগুলোর সাক্ষী হতে চাই না। আমাদের ভিসি মহোদয় এবং আমাদের সব শিক্ষকের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা জানি তারা তাদের সন্তানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় সর্বদা সচেষ্ট আছেন এবং থাকবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে সবিনয়ে অনুরোধ আপনি আমাদের পাশে দাঁড়ান। আপনি সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন, আমরা জানি এই দুর্দিনে আপনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না।
আইনের শাসন পাচ্ছি না কোথাও: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
কোথাও আইনের শাসন পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত প্রাঙ্গণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, মানুষ বিশ্বাস করে এটাতে, তারা এটাতে এগিয়ে এসেছে। দেশ-বিদেশের মানুষ এটাতে বিশ্বাস করছে। এটা মনে হয়েছে, এতে মানুষের মঙ্গল হবে। মানুষের মঙ্গলের জন্য আমরা করি। সেজন্য দেশ-বিদেশের নেতারা এটা জানতে চায়, বুঝতে চায়, কর্মীরা বুঝতে চায়, দেশে প্রয়োগ করতে চায়। সেজন্য নানা দেশে যাই। এই যে নানা দেশে যেতে হয় এটা শুধু নিজের ফুর্তির জন্য যাওয়া তো না, এটা তাদের নেহাত আগ্রহ, যেহেতু তারা করছেন।
‘আমার মাঝে মাঝে দুঃখ হয় এটা নিয়ে, সারা দুনিয়া বাংলাদেশ থেকে শিখতে চায়। আমাদের গৌরব বোধ করার কথা। তা না করে আমরা এমন কাজ করছি, যেন একটা পাপের কাজ করে ফেলেছি।
এমন অনুভূতি হওয়ার তো কোনো কারণ ছিল না। আমরা চাই, দেশের মানুষ আনন্দ পাক যে, আমরা জাতি হিসেবে গর্ব করতে পারি। সারা দুনিয়ার সামনে এমন সব জিনিস নিয়ে এসেছি, তারা আমাদের কাছ থেকে জানার জন্য, বোঝার জন্য সেটা তাদের দেশে করার জন্য, সেটা উন্নত দেশ হোক, অনুন্নত দেশ হোক কোনো পার্থক্য নেই, সবাই চায় আমাদের কাছ থেকে শিখতে। যে জিনিস সারা দুনিয়া শিখতে চায়, তাদের তো আমরা বাধ্য করছি না! উৎসাহ নিয়ে তারা আসছে। সেই সুযোগটা আমরা দেবো না কেন?’
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূস বলেন, ‘আপনাদের কাছে এটাই অনুরোধ, দেশের মানুষের কাছেও জিজ্ঞেস করেন আমরা সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারছি না কেন? কোথায় বাধা আমাদের? সেই জিনিসটা জানার জন্য। আমরা যেহেতু এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পেরেছি যে, মানুষ আমাদের কাছে শিখতে চায়। দেশ-বিদেশে, সারা দুনিয়ার এই মাথা থেকে ওই মাথা পর্যন্ত শিখতে চায় এবং সেটাতে তাদের জাতির মঙ্গল হচ্ছে বলে তারা মনে করে।
‘আমরা বলছি যে, বর্তমানে যেভাবে আমরা অগ্রসর হচ্ছি, সারা দুনিয়া অগ্রসর হচ্ছে। তাতে দুনিয়া সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে, শেষ হয়ে যাবে। বিনষ্ট হয়ে যাবে। সেটা থেকে উদ্ধারের একটা রাস্তা আমরা তৈরি করছি। সেই জন্য মানুষের এত আগ্রহ। তারা বিশ্বাস করছেন যে, এই রাস্তা করলে সারা দুনিয়া উদ্ধার পাবে। যে জন্য আমরা তিন শূন্যের পৃথিবীর কথা বলে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে কী একটা তিন শূন্য, কিন্তু মানুষ মনে করছে এটাতেই আমাদের মুক্তি। কাজেই মুক্তির পথ হিসেবে তারা মনে করছে।’
তিনি আরও বলেন, দুনিয়াতে পুঁজিবাদের কথা হয়েছে, কমিউনিজমের কথা হয়েছে- হচ্ছে, এখনো হচ্ছে। আমরা তো ওই রকম কোনো মতবাদ প্রচার করছি না! আমি শুধু বলছি, আপনি ইচ্ছা করলেই কাজটা করতে পারেন। করলে দুনিয়ার মঙ্গল হবে। আমরা এই বালা-মুসিবত থেকে পৃথিবীর যে বালা মুসিবত, আমি তো নিজের বালা-মুসিবতের কথা বললাম, দেশের বালা-মুসিবতের কথা বললাম, পৃথিবীর একটা বালা-মুসিবত আমাদের চারদিকে ঘিরে আছে, সেই বালা-মুসিবত থেকেও আমাদের উদ্ধার করতে হবে এবং সেটা করার পথে আমরা কিছুটা আলোর নির্দেশনা দিতে পারছি যে, এই পথে গেলে আমরা সেই মুক্তিটা পাবো। সেই পথে অগ্রসর হচ্ছি। কিন্তু পদে পদে আমরা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছি।
বাধাপ্রাপ্ত কেন হচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, ‘সেটা আপনারা বিচার করেন। আমরা কী ব্যাখ্যা দেবো বলেন?’
দেশের বালা-মুসিবত কী এ সমন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা তো রোজ লিখছেন সেটা কী, আমাকে বলতে বলছেন কেন? বালা-মুসিবত হচ্ছে মানুষ যেভাবে বাঁচতে চায়, যেভাবে থাকতে চায়, সেভাবে থাকতে পারছে না। আইনের শাসন বলে যে একটা জিনিস, সেটা আমরা পাচ্ছি না কোথাও। রোজ আপনারা লিখছেন সেগুলো। আমরা আপনাদের কাছ থেকে তো শিখছি, বুঝে নিচ্ছি।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমার অনুরোধ, এই রমজান মাসে আমরা সবাই মিলে নিজেদের দিকে তাকাই। আমরা নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে পারছি কিনা? আমরা যেটা করতে চাচ্ছিলাম, সেটা করতে পারছি কিনা? না করতে পারলে কীভাবে আমরা প্রতিবাদ জানাবো। কীভাবে আমাদের কথাগুলো আমরা শোনাতে পারবো, সেই শোনাবার পথ আমরা বের করি। পথ আমাদের বের করতেই হবে। এটা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
আপনি এক মাস আগে বলেছিলেন, ছবি তুলে রাখার জন্য। আজ আদালত আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিলেন। আপনি ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কিনা? জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, এখনো তো বিচার শুরু হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমি যে কথাটা আগে বলেছি, আবারো বলছি, এইটার থেকে আপনিও মুক্তি পাবেন না, দেশের কোনো মানুষ মুক্তি পাবে না। এটার কথা বলতে হবে, আমার কী ভূমিকা ছিল সেখানে? এই যে উনার হেনস্তাটা হলো, আমি কি হেনস্তা মনে করেছিলাম? আমি কি প্রতিবাদ করেছিলাম? যদি মানুষ হেনস্তা মনে করে থাকে। আর যদি মনেই করে থাকে যে হেনস্তা হয়নি, তাহলে তো ভিন্ন কথা। কিন্তু এর জবাব সবাইকে দিতে হবে একদিন।’
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে
এদিকে, দুদকের মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন। আগামী ২রা মে মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন গতকাল এ অভিযোগপত্র আমলে নেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজল। অপরদিকে ড. ইউনূসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। পরে মামুন সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলি করা হয়েছে। আগামী ২রা মে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।
ড. ইউনূস ছাড়া অন্য যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন তারা হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী ও জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে কামরুল হাসানের নাম তদন্তের পর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাকি ব্যক্তিদের নাম এজাহারে ছিল।
এর আগে ড. ইউনূস গতকাল দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে আদালতে হাজির হন। এই মামলায় গত ৩রা মার্চ আদালত থেকে জামিন পান ড. ইউনূস।
গত ১লা ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা এই মামলায় ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।
শেষ মুহূর্তেও প্রত্যাশিত কেনাবেচা নেই
ঈদের বাকি মাত্র এক সপ্তাহ। এই সময়ে মানুষের ব্যস্ততা থাকে শপিংমলগুলোতে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। ক্রেতা কম থাকায় শপিংমলেও নেই জমজমাট ব্যস্ততা। বিক্রেতারা দিনের অধিকাংশ সময় অলস সময় পার করছেন। দিনের নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা বেচাকেনা হলেও তাতে সন্তুষ্ট নন তারা। বিক্রেতারা বলছেন, এই বছর ঈদের আগে বিক্রি কমেছে অর্ধেক। ক্রেতারা দরদাম করলেও কিনছেন কম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে পোশাকের মার্কেটে।
পোশাকের জন্য ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় মার্কেট মৌচাক। শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ সবার সব ধরনের পোশাকই পাওয়া যায় এখানকার মার্কেটগুলোতে।
পাঞ্জাবির জন্য মৌচাকের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ব্যাপক সুনামও রয়েছে। তবে ক্রেতা খরায় বসে বসে সময় পার করছেন সেখানকার দোকানিরা। তুলি নামের একটি দোকানের বিক্রেতা মো. রিফাত। তার দোকানে ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৭ হাজার টাকা দামের পর্যন্ত পাঞ্জাবি রয়েছে। তবে চাহিদা সবচেয়ে বেশি ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি। তিনি জানান, চলতি বছরের মতো আর কখনো ঈদের বাজার এত মন্দা ছিল না। গত বছরো এরচেয়ে বিক্রি অনেক বেশি ছিল। এবার পুরো মার্কেটেই ক্রেতা কম। রোজার শেষ ১০ দিনেও বেচাবিক্রি প্রত্যাশিত না। রিফাত বলেন, আমরা এখন সবচেয়ে কম লাভে বিক্রি করছি। আগের রোজার চেয়ে এবার ৬০ শতাংশ বিক্রি কমেছে।
আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স থেকে অনেকে জাকাতের পাঞ্জাবিও কিনতে আসে। তবে এ বছর সেই ক্রেতার সংখ্যাও কমেছে বলে জানান রিফাত। যারা কিনতে আসছে তারা আগের চেয়ে পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। রিফাত বলেন, আগে যে জাকাতের জন্য ১০০ থেকে ১৫০ পিস পাঞ্জাবি কিনতো সে এখন ৩০ থেকে ৫০ পিস কিনে। কারণ মানুষের কাছে টাকা নাই।
মৌচাক মার্কেটের স্বরলিপি ফ্যাশনে বাচ্চাদের ফ্রক, পার্টিফ্রক, কটনফ্রক, গাউনসহ বাহারি পোশাক বিক্রি হয়। তবে বাচ্চাদের পোশাকের দোকানের ভিড়ও আগের চেয়ে কমেছে অনেক। স্বরলিপি ফ্যাশনের মো. আজাদ বলেন, এখন মানুষ কেনাকাটা না করতে পারলে বাঁচে। মানুষের হাতে টাকা নাই। ঈদের আগে বেচাকেনা মন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সারাদিন দোকানে ৪-৫ জন কর্মচারী কাজ করে। সে হিসেবে যে বিক্রি হওয়ার কথা তা হয় না। আগের বছরের চেয়ে অর্ধেক কমছে বিক্রি। দামে বনিবনা না হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় বলেও জানান এই বিক্রেতা। মৌচাক মার্কেটের আলিফ শাড়ি বিতানে এক হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা দাম পর্যন্ত বিভিন্ন শাড়ি রয়েছে। দোকানের বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, এবারের ব্যবসা একেবারে ভিন্ন। অর্থনৈতিকভাবে মানুষ চাপে আছে। আমরা টেনশনে আছি ঈদের আগে পার্টিকে (পাওনাদার) টাকা দিতে পারবো কি না। আমাদের ব্যবসা না থাকলেও তাদের টাকা শোধ করতে হবে। যেখানে অন্যদিনে ২০ রোজার পর আমরা দৈনিক এক-দেড় লাখ টাকার শাড়ি বিক্রি করতাম এখন সেখানে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে না। ঈদের মৌসুমে এটা কোনো বিক্রির মধ্যেই পড়ে না।
মৌচাকের ফরচুন শপিংমলেও ক্রেতার আনাগোনা কম। গল্প আর আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারা। ফ্যাশন জিক নামের দোকানে ছেলেদের পাঞ্জাবি, প্যান্ট, শার্ট ও টি-শার্ট বিক্রি হয়। ক্রেতা না থাকায় সেখানেও অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা। ফ্যাশন জিক-এর বিক্রেতা পিপলু বলেন, বিকালে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা একটু চাপ থাকে। আর ইফতারের পর দুই ঘণ্টা একটু চাপ থাকে। এ ছাড়া মার্কেটে ক্রেতা তেমন থাকে না। ফরচুনের বড়গাছিয়া দোকানের মো. সিকান্দার বলেন, এবার নিত্যপণ্যের দাম বেশি। মানুষ কীভাবে ঈদের পোশাক কিনবে। আপনি নিজেই দেখেন মার্কেটে কোনো মানুষ নাই। আমরা বসে আছি। আর অন্য বছর এই সময়ে দম ফেলার সময় থাকে না।
মৌচাকের এসব মার্কেটের চেয়ে ঢাকার অভিজাত শপিংমল বসুন্ধরা সিটিতে ক্রেতাদের আনাগোনা কিছুটা বেশি। তবে ঈদের হিসেবে তা বেশি নয় বলে জানান এখানকার বিক্রেতারা। শিশুদের পোশাক থেকে শুরু করে পাঞ্জাবি, ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, নারীদের ড্রেস, শাড়িসহ নামি-দামি ব্র্যান্ডের সব পোশাকই পাওয়া যায় এখানে। তবে হাতেগোনা কয়েকটা নামকরা ব্রান্ডের বাইরে বেশির ভাগেই ক্রেতার সমাগম কম। এখানকার বিক্রেতারাও জানিয়েছেন ঈদের আগে বিক্রি কম হওয়ার কথা। তারা বলছেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখ ঘিরে প্রত্যাশিত বিক্রির চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বিক্রি কম হচ্ছে এখন। মধ্যবিত্ত শ্রেণির যে ক্রেতা বসুন্ধরা সিটিতে আসতো তারা আসা কমিয়ে দিয়েছেন। যারা আসছেন তাদের বাজেটের মধ্যে পোশাক কিনতে পারছেন না। তাই তারা ঘুরে ঘুরে দেখে চলে যাচ্ছেন। বসুন্ধরা সিটির নেক্সাস দোকানের ইনচার্জ ডালিম সিকদার জানিয়েছেন, এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে না। মার্কেটে ক্রেতার চাপ কম। বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে অর্ধেকে নেমেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব এখন মার্কেটে বোঝা যাচ্ছে। পোশাকের দামও নানা কারণে বেশি। আগে যে পোশাক ২ হাজার টাকা বিক্রি করতাম তা এখন ২৬০০ টাকা দাম। কিন্তু ক্রেতাদের তো আয় বাড়ে নাই। সব জায়গায় একই অবস্থা। নিউমার্কেটে আমাদের দোকান আছে। সেখানেও বেচাকেনা নাই।
মেয়েদের সব ধরনের পোশাক বিক্রি হয় বসুন্ধরার ভেইল নামের দোকানে। সেখানকার বিক্রেতা মো. সবুজ বলেন, রোজার শেষের ১০ দিন দম ফেলার সময় পেতাম না আগে। আর এখন নিরিবিলি। মানুষের কাছে শপিং করার জন্য যে টাকা দরকার সেটা নাই। তাই মার্কেটেও ক্রেতা নাই। অন্য সময়ে আমরা একটা জামা ২৫০০ টাকা বিক্রি করতাম। এখন তা ১৮০০ টাকাতে হলেও বিক্রি করছি। কারণ ঈদের আগে পাওনাদারের টাকা শোধ করতে হবে। তাই কমে হলেও বিক্রি করছি। তারপরও অনেক পণ্য এখনো দোকানে সাজানো। বিক্রি হচ্ছে না। জেন্টেল পার্কের শিপলু বলেন, মার্কেটে ক্রেতা কম দেখা যাচ্ছে। অনেকের মার্কেটে এসে কেনার সময়ও নেই। কিছু ক্রেতা অনলাইনেও শিফট হয়েছে।
ধানমণ্ডিতে অবস্থিত রাপা প্লাজা গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। দোকাগুলোয় বিরাজ করছে সুনশান পরিবেশ। ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন দোকানিরা। তারা নিজেরাই জামা-কাপড় বের করে দেখছেন, আবার রেখে দিচ্ছেন। কয়েকটি দোকানে দু’চার জন ক্রেতা থাকলেও তারা দেখে শুনে ফিরে যাচ্ছেন। এখানকার বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ডিজাইনের ও মানের পোশাক সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন। পাঞ্জাবি থেকে শুরু করে প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, শিশুদের ড্রেস, নারীদের থ্রি-পিস, শাড়িসহ বিভিন্ন পোশাক শোভা পাচ্ছে দোকানগুলোতে। এসব দোকানে দর্শনার্থীদের ভিড় ও বেচাকেনা অনেক কম। মূলত পোশাকের অতিরিক্ত দামের কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের দাম বেড়েছে। যেটি অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাই বিক্রি কমে গেছে।
রাপা প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত রেডিমেড পণ্যের দোকান ক্যাথেই’র স্বত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন বলেন, বেচাকেনা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। আজকে ২২ রমজান, ২০ রমজান থেকে দেখছি মার্কেটে কাস্টমার নেই বললেই চলে। ৪ তারিখ থেকে মনে হয় না মার্কেটে এই লোকগুলো থাকবে। গত বছরের তুলনায় এই বছরে ৪০ শতাংশ বেচাকেনা কম হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ভালো রেসপন্স পাচ্ছি না। শুধু শুক্র-শনিবারে কাস্টমার হয়েছে। মানুষের মধ্যে ঈদের কোনো আমেজ নাই। পোশাকের দাম যাই হোক, কাস্টমার তিনভাগের একভাগ দাম বলে। সবাইকেই তো বাঁচতে হবে, আমাদের তো কিছু প্রোফিট করতে হবে। ঈদের জন্য ব্যবসায়ীরা বসে ছিলেন, এখন বেচাকেনা না হলে আমার মনে হয় না কোনো ব্যবসায়ী টিকতে পারবে।
ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্টের দোকান বিগ সেলের পরিচালক আজগর আলী বলেন, আমার ১২টা দোকান ছিল। করোনার কারণে বন্ধ হতে হতে এখন মাত্র একটা দোকান আছে। এখন বাজে সাড়ে তিনটা, কেবল একটা পোশাক বিক্রি করে বিসমিল্লাহ করেছি। মানুষের খাদ্য কিনতেই তো অনেক টাকা যাচ্ছে। এই মার্কেটে উচ্চবিত্তের থেকে মধ্যবিত্তের আনাগোনা বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই কাটছাঁট করে চলছে। যেখানে দুই কেজি কিনতো সেখানে এক কেজি কিনছে। আগে অনেকে গিফট দিতো, এখন সেটাও কমায় দিছে। যেটা না হইলেই না, শুধু সেইটাই কেনে। তিনি বলেন, এই দোকানে আগে ৫ জন লোক থাকতো, এখন আমরা ২ জন আছি। গত ঈদে আমি একটা পিচ্চি রাখছিলাম, এবার ওকে আমি রাখিনি। কারণ আমি জানি ওকে রাখলে বেতন দিতে পারবো না।
রাপা প্লাজার তিনতলায় অবস্থিত মেসার্স মোল্লা সিল্কের স্বত্বাধিকারী মো. শফিউল ইসলাম বলেন, দুই মাস হলো এই মার্কেটে দোকান দিয়েছি। আমাদের সেল নাই বললেই চলে, একদমই ভালো না। রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকে। শুধু বিদ্যুৎ বিল গুণতে হচ্ছে। ঈদের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু মার্কেটে কোনো কাস্টমার নেই। সব দোকানেই একই অবস্থা।
মহিলাদের থ্রি-পিসসহ যাবতীয় পণ্যের দোকান সিন্ডনের সেলসম্যান লিটন বলেন, কাস্টমার অনেক কম। যেমন বেচাকেনা হওয়ার কথা তুলনামূলকভাবে খুব কম। আমাদের তো রেডিমেড আইটেম না, এসব আইটেম যাদের কেনার তারা অনেক আগেই কিনে ফেলেছে। এখন বেচাকেনা নেই বললেই চলে। সন্ধ্যার পরে কিছু কাস্টমার আসে, গিফটের জন্য কিনছে।
টপ টু বটম দোকানের পরিচালক সোহেল হোসেন বলেন, গত রমজান থেকে এবারে তেমন কাস্টমার জমেনি। টুকটাক সেল দিচ্ছি। ঈদের কোনো আমেজ নেই। আজ ২২ রমজান, গত বছর শেষ ১০ দিনে যা সেল হয়েছিল এবার তার ৫০ শতাংশও হয়নি।
এন এম মার্টের স্বত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদ জনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে এবার আশানুরূপ কোনো সেল হচ্ছে না। গত বছরে যে পরিমাণ সেল ছিল এবার তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।


