Home Blog Page 575

অটিস্টিক শিশুদের অধিকার, মর্যাদা এবং মঙ্গল নিশ্চিতকরণে সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রদূত মুহিত

নিউ ইয়র্ক: জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালনকালে অটিস্টিক শিশুদের অধিকার, মর্যাদা এবং মঙ্গল নিশ্চিতকরণে সচেতনতা বাড়াতে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মুহিত।

বাংলাদেশ, ঘানা, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, কাতার ও জাম্বিয়া যৌথভাবে, অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই ইভেন্টের আয়োজন করে। এই ইভেন্টেটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকালে অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং বিকালের দ্বিতীয় পর্বে অটিস্টিক শিশুদের চিত্রকলা ও ফ্যাশন সামগ্রী নিয়ে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত ম্যানুয়েল এল. ল্যাগডেমিও যৌথভাবে ফিতা কেটে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

আলোচনা অনুষ্ঠানে, বিশ্বে অটিজমের প্রবনতা বৃদ্ধিতে অটিস্টিক শিশু ও তাদের পরিবার যে সকল প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে তা মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি ১০০ জনে ১ জনের অটিজম সনাক্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তাদের সার্বিক মঙ্গল নিশ্চিতকরণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রচেষ্টা বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরে বাংলাদেশ।

এছাড়াও, ২০১১ সালের “অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার ও ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার” বিষয়ক ঢাকা ঘোষণার উল্লেখ করে বাংলাদেশ জানায় বিশ্বের মোট অটিজমে সনাক্ত মানুষের ১৫ শতাংশ দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করে এবং এই অঞ্চলে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমূহ অগ্রগতি হয়েছে। এক্ষেত্রে যারা স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে অটিস্টিক শিশুদের সেবা প্রদান করছে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে, তাঁদের অনন্য ভূমিকার বিষয়টি বাংলাদেশ সামনে নিয়ে আসে। ঢাকা ঘোষণা এবং তদ্‌পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের অন্তর্ভুক্তি, অংশগ্রহণ ও কমিউনিটি ভিত্তিক সেবা প্রদানে,  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও বাংলাদেশ উল্লেখ করে।

বিশ্বে বিশেষত উন্নয়নশীল দেশসমূহে অটিস্টিক শিশুদের সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা, সহযোগিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতকরণে বিদ্যমান ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে, অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহবান জানায় বাংলাদেশ।  

আলোচনা পর্বের পর অটিস্টিক শিশুদের চিত্রকলা ও ফ্যাশন সামগ্রী নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীতে কূটনীতিবিদ, স্বতঃপ্রনোদিত অটিজম বিষয়ক কর্মী, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অটিস্টিক শিশুসহ বিপুল সংখ্যক দর্শক অংশগ্রহণ করেন।

নিউ জার্সিতে কৃষ্ণাঙ্গ ভাড়া করে হত্যার হুমকিতে আতঙ্কিত বাংলাদেশি পরিবার

ইমা এলিস/ নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে এসে স্ত্রীসহ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশি এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ অব্যাহত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট বার্লিন পুলিশের ‘ধরিয়ে দিন’ তালিকাভুক্ত বাংলাদেশি যুবক গৌরব সাঞ্জারি। স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও জামিন পাওয়া গৌরবের বিরুদ্ধে নিউ জার্সি সুপরিয়র আদালত থেকে ৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পুলিশের হাতে পুনঃ গ্রেপ্তারের ভয়ে প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশে পালিয়ে যায় গৌরব।

বাংলাদেশে বসেই স্ত্রী ও তার পরিবারকে অব্যাহত হত্যার হুমকির পাশাপাশি ভয়ানক কল্পকাহিনী সাজিয়ে গণমাধ্যমকে বোকা বানাচ্ছেন। তিনি অজ্ঞাত (নম্বর বিহীন) ফোন নম্বর ব্যবহার করে নিউ জার্সির ওয়েস্ট বার্লিন পুলিশকেও হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গৌরব সাঞ্জারি বাংলদেশে গিয়ে কিছু বেসরকারি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাম্প্রতি তার স্ত্রী কনিকা মজুমদার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগে বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায় একটি মানবপাচার চক্র। এমনকি দেহ ব্যবসায়ও বাধ্য করা হয় তাকে। একপর্যায়ে মুক্তিপণ হিসেবে দেশে থাকা পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে ওই চক্রটি।
গৌরব সাঞ্জারির এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে তার স্ত্রী কনিকা মজুমদার  এ প্রতিনিধিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যৌনকর্ম পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে কখনই পুলিশের কাছে কিংবা আমাকেও জানায়নি এ ধরনের অভিযোগের কথা। উল্টো অভিযোগ করে গৌরবের স্ত্রী বলেন, পাইলস অপারেশনের এক্স-রে ও কোলনোস্কোপির ছবি দেখিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বলে বেড়াচ্ছেন। এসব করে গৌরব আমাকে এবং আমার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্নই করেননি, কলঙ্কিতও করেছেন। তার এসব বক্তব্যকে সম্পূর্ন কাল্পনিক, বাস্তবের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
কনিকা মজুমদার আরও বলেন, নিউ জার্সির ক্যামডেন সুপরিয়র আদালত থেকে গত ১৬ নভেম্বর ২০২৩ সালে ৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে (মামলা নম্বর-২২০০৪৪৫৫)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পলাতক একজন দাগী আসামিকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। পালিয়ে থেকে তিনি ই-মেইলে কৃষ্ণাঙ্গদের ভাড়া করে পরিবারের সব সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। তার হুমকির ফলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আতঙ্কে দিন পার করছেন কনিকার পরিবার। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ ডিপার্টমেন্টেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

কনিকা আরও বলেন, গৌরব সাঞ্জারির দেশের বাড়ি চট্টগ্রামের জুবলি রোডে। বাবা শিবু শীল একজন লোহালক্কড় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে নিউ জার্সি স্টেটের ক্যামডেন কাউন্টি ফ্যামিলি কোর্টের চূড়ান্ত আদেশের শুনানিতে নানা অজুহাত দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকছেন। এর ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়াও গৌরবের বিরুদ্ধে নিউ জার্সি সুপরিয়র আদালত থেকে বিভিন্ন অভিযোগে ১৬ নভেম্বর ২০২৩ আরও ৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ক্যামডেন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিসও গৌরব সাঞ্জারির বিরুদ্ধে প্রাক-অভিযোগ শুনানির দিন ধার্য করেন। গৌরব প্রাক-অভিযোগ শুনানির দিনেও অনুপস্থিত ছিলেন। তাই, ক্যামডেন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস থেকেও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বর্তমানে গৌরব যুক্তরাষ্ট্রে একজন পলাতক আসামি। আমেরিকান মার্শাল অফিস এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তা্রের জন্য ‘রেড এলার্ট জারি’ করা হয়।

গৌরব প্রতিদিন বিভিন্ন নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে ফোন করে কনিকার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং তার বন্ধুদের হুমকি দেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার যেমন ডিজিএফআই, এনএসআই নামও ব্যবহার করছেন ফোন করার সময়। ফোন করেই বলেন ‘হ্যালো আমি ডিজিএফআই, এনএসআই অফিস থেকে বলছি।’

কনিকা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমার পরিবারকে হেয় করতে গৌরবের বাবা শিবু শীল চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি আমিসহ পরিবারের সদস্যদের নামে একটি মানব পাচার মামলা করেন। এ মামলার অভিযোগ খুবই হাস্যকর। মামলাটি মানব পাচার আইনে হলেও অভিযোগ করা হয়েছে যৌন নির্যাতনের।
এছাড়াও গৌরব তার ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে আমার দুলাভাইকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি আমার পরিবারের সদস্যদের অপরিচিতদের ফোন ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা করার ভয় দেখাচ্ছেন। স্বজনদের মেয়েদের কিডন্যাপ করার হুমকি দিচ্ছেন।

কনিকার বড় বোন শিল্পী মজুমদার বলেন, গৌরব আমার পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয় কাগজপত্র ও কিছু ডলার নিয়ে  যায়। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বড় ভাইয়ের স্ত্রীর (প্রণিতা মজুমদার) বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা ফৌজদারি মামলা করে তার কপি ঢাকার আমেরিকান দূতাবাসে পাঠিয়েছেন।
গৌরবের বাবা বাদী হয়ে চট্রগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট কোর্টে কনিকার বড় ভাইয়ের স্ত্রী, তার বড় ভাইকে আসামি করে আরেকটি ফৌজদারি মামলা করেন। এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ছেলে গৌরব সাঞ্জারি কোথায় আছেন তিনি জানেন না।

কনিকার বড় ভাই রাজিব মজুমদার বলেন, গৌরব বেশ কয়েকটি মামলা দিয়ে দেশে আমার পরিবারকে হয়রানি করছে। ভুয়া মামলা্র কাগজ দেখিয়ে আমার স্ত্রী সন্তানের যুক্তরাষ্ট্রে আসার ভিসা বাতিল করার সব বন্দোবস্ত সে করেছে। দেশে আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

কনিকার মা বীণা মজুমদার বলেন, আমেরিকায় যা ঘটেছে এর জন্য দেশে আমার ছেলে পরিবারকে জীবন নাশের হুমকিসহ ছোট নাতি নাতনিরা কেন তার খেশারত দেবে। তাদের ভবিষ্যৎ জীবনটাকে নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। আমি এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তসহ আমেরিকা থেকে পলাতক আসামীর গ্রেপ্তার দাবি করছি।
২০১৮ সালের নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় ফেরার সময় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিউইয়র্কগামী একটি ট্রানজিট (সংযোগ) স্থলে প্রথম দেখা হয় গৌরব-কনিকার। এরপর দীর্ঘদিনের পারিবারিক আলোচনার মধ্যে উভয়ের সম্মতিতে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। নিয়ম অনুসারে কনিকার স্বামী গৌরব সাঞ্জারির অভিবাসন ভিসা নিয়ে আমেরিকায় চলে আসেন।
কিছুদিন দাম্পত্য জীবন ভালই ছিল। গ্রীন পাবার পর থেকেই সংসারে কলহ শুরু হয়। প্রথমে বাজে আচরণ করতে থাকেন। অশ্লীল ভাষায় গালিগাল শুরু করেন কনিকাকে। এক পর্যায়ে দিন দিন এর মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে। মারধর করা শুরু করেন। অত্যাচারের মাত্রা সীমার বাইরে চলে যায়।
২০২২ সালের ২৪ জুলাই কনিকাকে বেদম মারধর করেন। গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুইদিন পর গৌরব সাঞ্জারি জেল থেকে জামিন নিয়ে বের হন। নিউ ইয়র্কে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে যান।

ধর্মান্তরিত হয়েছেন বিশ্বের যেসব তারকা

বিশ্বজুড়ে গত কয়েক দশকে সংস্কৃতি জগতের অনেক তারকাই ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। হলিউড কিংবা বলিউড হোক, পরিবেশ পরিস্থিতি ও দর্শনগত কারণে তাদের এ ধর্মান্তর হওয়া। এক্ষেত্রে তারা কোন ধর্ম থেকে এসেছেন সেটা মুখ্য নয়। শুধু জানিয়ে দিচ্ছি-কারা এই তারকা।
জেনিফার গ্রাউত : আমেরিকান কণ্ঠশিল্পী জেনিফার গ্রাউত। ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষণা করতে করতে তিনি এ ধর্মের ভক্ত হয়ে যান ও তা গ্রহণ করে এর অনুসারী হন। ২০১৩ সালে ‘আরব গট ট্যালেন্ট’-এর ফাইনালিস্ট হয়েছিলেন তিনি। আরবি গানেই তিনি তার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
টিয়ারা জ্যাকুলিনা : ১৯৮৮ সালে মালয়েশিয়ান সিনেমায় অভিষেক হয়েছিল টিয়ারা জ্যাকুলিনার। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বেয়ন্ড রেঙ্গুন’ ছিল তার সুপারহিট সিনেমা। ২০০৪-এর পর আর সিনেমায় অভিনয় করেননি তিনি। ১৯৯৩ সালে অভিনেতা মানি মোহসিনকে বিয়ে করতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এই তারকা। পরে অবশ্য তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়িও হয়।
দিপিকা কক্কর : ভারতীয় অভিনেত্রী দিপিকা কক্কর ২০১৮ সালে সহ-অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহীমকে বিয়ে করতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম ধারণ করেন দিপিকা ইব্রাহীম ফাইজা। মূলত তিনি টিভি অভিনেত্রী হিসাবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন।
রাখি সাওয়ান্ত : ভারতীয় মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী রাখি সাওয়ান্ত মুসলিম হন ২০২২ সালে। তার প্রথম স্বামী নন-রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান রিতেশের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর আদিল খান দুররানিকে বিয়ে করতে ধর্মান্তরিত হন। পরে তার নাম হয় ফাতিমা দুররানি।
এ.আর. রহমান : ভারতের বিখ্যাত সংগীত তারকা এ.আর. রহমানের পূর্ব নাম ছিল এ.এস. দিলিপ কুমার মুধালিয়া। ১৯৮৯ সালে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপরই নিজের নাম রাখলেন আল্লা রাখা রহমান, যা সংক্ষেপে এ.আর. রহমান।
কবির সুমন : ১৯৯২ সালে ডেইব্যু অ্যালবাম তোমাকে চাই দিয়ে সংগীতশিল্পী হিসাবে দুই বাংলায় পরিচিতি পান কলকাতার সুমন চট্টোপাধ্যায়। ২০০০ সালে বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে বিয়ে করতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। পরে তার নাম হয় কবির সুমন। বসে আঁকো, ইচ্ছে হলো, গানঅলা, ঘুমাও বাউন্ডুলে, চাইছি তোমার বন্ধুতা, নিষিদ্ধ ইশতেহার তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অ্যালবাম।
শর্মিলা ঠাকুর : ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেট তারকা মনসুর আলী খানকে বিয়ে করে ১৯৬৮ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। এরপরই তার নাম হয় আয়েশা সুলতানা। ৫০টিরও বেশি সিনেমার এই অভিনেত্রীর ছেলে সাইফ আলী খান, মেয়ে সোহা আলী খানও বলিউডে প্রতিষ্ঠিত। আরেক মেয়ে সাবা আলী খান মনোযোগী হন ব্যবসায়।
মাইকেল জ্যাকসন : পাশ্চাত্যের কিংবদন্তি পপতারকা মাইকেল জ্যাকসন ২০০৮ সালে ৫০ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মিকাইল নাম ধারণ করেন। সে সময় দি সান পত্রিকা জানিয়েছিল টুপি ও জুব্বা পরে আরব শেখদের মতো কুরআন হাতে নিয়ে ইমামের সামনে বসেছিলেন। পরের বছর ২৫ জুন তার মৃত্যু হয়। এ কিংবদন্তি শিল্পীর উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে- গট টু বি দেয়ার, বেন, মিউজিক অ্যান্ড মি, থ্রিলার, ব্যাড, ডেঞ্জারাস প্রভৃতি।
জেনেট জ্যাকসন : মাইকেল জ্যাকসনের বোন আমেরিকান কণ্ঠশিল্পী জেনেট জ্যাকসন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ২০১২ সালে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিলিয়নেয়ার উইসাম আল মানাকে বিয়ে করে মুসলমান হন। কিন্তু তার নামটি বিখ্যাত হয়ে যাওয়ায় সে নাম আর পরিবর্তন করেননি তিনি। তার উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে-ড্রিম স্ট্রিট, অল ফর ইউ, ডিসিপ্লিন, আনব্রেকেবল প্রভৃতি।
ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনী : শোলে সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে প্রেমে হাবুডুবু খান ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনী। তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বাদসাধে হিন্দু প্রথা। ধর্মেন্দ্রকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ধর্মান্তরিত হতে হবে। তারা যৌথ সিদ্ধান্তে ১৯৭৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন। ধর্মেন্দ্র হয়ে যান দিলওয়ার খান এবং হেমা মালিনী হন আয়েশা।
অমৃতা সিং : ৮০-৯০ দশকের সাড়া জাগানো অভিনেত্রী অমৃতা সিং ১৯৯১ সালে সাইফ আলী খানকে বিয়ে করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মার্দ, চামেলি কি শাদি, খুদগার্জ, আয়না, বেতাব প্রভৃতি সিনেমা দিয়ে তারকায় পরিণত হয়েছিলেন অমৃতা সিং। সাইফের চেয়ে ১২ বছরের বড় অমৃতা। তাদের ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে সারা আলি খান ও ছেলে ইব্রাহিম আলি খান।
আয়শা তাকিয়া : মিশ্র সংস্কৃতিতে জন্ম হওয়া ও বেড়ে ওঠা আয়শার বাবা ছিলেন গুজরাটি হিন্দু, মা ছিলেন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। বলিউডে আত্মপ্রকাশের আগে মডেল হিসাবে সুনাম কুড়িয়েছেন। টারজান, সালাম-ই-ইশক, ওয়ান্টেড, নো স্মোকিং তার অভিনীত আলোচিত সিনেমা। ২৩ বছর বয়সে ২০০৯ সালে ফারহান আজমীকে বিয়ে করার সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বিয়ের পরই তিনি অভিনয় জগৎকে বিদায় জানান।
মমতা কুলকার্নি : ভারতের সুন্দরী অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নি ‘ঘটক’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০১৩ সালে ভিকি গোস্বামীকে বিয়ে করার সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালে ভিকি একটি মাদক চোরাচালান মামলায় ২৫ বছরের সাজা পান। আরব আমিরাতের ওই মামলার শাস্তি কমানোর জন্য ভিকি আগেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০১২ সালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
শন ও’কনর : আইরিশ কণ্ঠশিল্পী শিনাড ও’ কনর ১৯৯০ সালে বিখ্যাত হয়েছিলেন ‘নাথিং কম্পেয়ার্স টু ইউ’ গানটির জন্য। নিছক ধর্মবিশ্বাসের কারণে ধর্মান্তরিত হন ২০১৮ সালে। আর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেই তিনি মুসলিম নাম ধারণ করেন। তিনি তার নাম রাখেন শুহাদা সাদাকাত। এরপরই তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে একের পর এক ইসলামি কনটেন্ট আপলোড দিতে থাকেন।
লিল জন : আমেরিকার বিখ্যাত র‌্যাপার লিল জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এ বছর। ১৬ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের কিং ফাহাদ মসজিদের এক বিশাল জমায়েতের সামনে প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে জর্জিয়ার আটলান্টায় জন্ম নেওয়া এ র‌্যাপার ২০১০ সালে একক অ্যালবাম ‘ক্রাঙ্ক রক’-এর মাধ্যমে পশ্চিমা সংগীত জগতে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

বলিউডে ঈদযুদ্ধ , অজয় বনাম অক্ষয়

পা ভেঙেছে, তাতে কী! শুটিং তো আর বন্ধ থাকবে না। ‘শো মাস্ট গো অন’-এমন ব্রতই মানেন বলিউড খিলাড়িখ্যাত অভিনেতা অক্ষয় কুমার। সেটার প্রমাণ আরও একবার দেখিয়েছেন। ভাঙা পা নিয়েই অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। ‘বড়ে মিয়া ছোটে মিয়া’ নামে তার অভিনীত একটি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে ঈদ উপলক্ষ্যে। সময়মতো যাতে প্রযোজক এটি মুক্তি দিতে পারেন, তাই রীতিমতো পায়ের চোট নিয়েই শুটিং করেছিলেন। আলি আব্বাস জাফর পরিচালিত এ সিনেমার একটি অ্যাকশন দৃশ্য শুটিং করতে গিয়েই পা ভেঙে ফেলেন অক্ষয় কুমার। আর ভাঙা পা নিয়ে বাকি শুটিং শেষ করেছেন। সিনেমায় অক্ষয় কুমারের সঙ্গে প্যারালাল চরিত্রে রয়েছেন টাইগার শ্রফ। তাদের নায়িকা সাবেক বিশ্বসুন্দরী মানসী চিল্লার। আগামী ১০ এপ্রিল ঈদ উপলক্ষ্যে এটি মুক্তি পাবে।
এদিকে একই সময় ঈদ উপলক্ষ্যে মুক্তি পাবে অজয় দেবগন অভিনীত ‘ময়দান’। সিনেমাটি ফুটবল কোচ সৈয়দ আবদুল রহিমের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। এই মুহূর্তে অজয় দেবগনের জীবনে এক ‘অন্য মুহূর্ত’ বলা চলে। বর্তমানে সিনেমা হলে চলছে তার অভিনীত সিনেমা ‘শয়তান’। বক্স অফিসে যে সিনেমার আয় নজরকাড়া। এবার আসছেন ময়দান নিয়ে। এটি নিয়েও যে বক্স অফিস দখলে রাখবেন সেটা অনেকটা আন্দাজ করা যায়। এর অবশ্য কারণও আছে। গত কয়েক বছর ধরে অক্ষয়ের বাজার ভালো যাচ্ছে না। সেটা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু এতে যে অজয় বাগড়া দেবেন সেটা নিশ্চিত। কারণ ব্যাক টু ব্যাক হিটের অপেক্ষায় তিনি। তাই তো অক্ষয় ‘ভাঙা পা’ নিয়েই চালিয়ে গেছেন শুটিং। যদি দর্শকের সহানুভূতি পাওয়া যায়! তাই টাইগারকে সঙ্গে নিয়ে জমিয়ে এই প্রচার করছেন নিজের সিনেমার। অন্যদিকে অজয়ও বসে নেই। যেখানেই যাচ্ছেন ‘শয়তান’র পাশাপাশি ‘ময়দান’কেও তুলে ধরছেন।

ঈদে এবারও নতুন চমক নিয়ে আসছেন ড. মাহফুজুর রহমান

প্রতি বছর ঈদেই এটিএন বাংলা চ্যানেলের ঈদ আয়োজনে এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের একক গানের অনুষ্ঠান থাকে। তার গান দর্শকদের কাছে যেন অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তিনি বাংলা গানের পাশাপাশি গাইবেন হিন্দি গানও।
২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে তার গাওয়া গান নিয়ে একক সংগীতানুষ্ঠান। এবার একটি নয়, দুটি গানের আয়োজন নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি।
এটিএন বাংলায় ঈদের দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে একক সংগীতানুষ্ঠান ‘তুমি শুধু আমারই থেকো’। অনুষ্ঠানে রয়েছে মোট ১০টি গান। অ্যালবামের গানগুলোতে সুরারোপ করেছেন মান্নান মোহাম্মদ ও রাজেশ ঘোষ। বাংলা গানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকছে জনপ্রিয় কয়েকটি গজল। অ্যালবামে রয়েছে আমায় ভালোবাসো না, তোমার চোখ দুটি, তুমি যে শুধু আমার, যাবে যদি চলে যাও এবং বুকের মাঝে রাখবো শিরোনামের গান। গজলের মধ্যে রয়েছে মেরে মিতুয়া, ম্যায় জিস দিন, জানে কাহা, ম্যায় সায়ের তো নেহি এবং চিটঠি আয়ি হ্যায়।
ঈদের পর দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে সংগীতানুষ্ঠান ‘লেকে পেহেলা পেহেলা পেয়ার’। একক এবং ডুয়েট হিন্দি গান দিয়ে সাজানো হয়েছে এই অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে থাকছে দিল কিয়া কারে, মেরে মেহেবুব, রাজাকো রানি সে পেয়ার, লেকে পেহেলা পেহেলা পেয়ার, বারিস মে তু, তুহি এ মুঝকো বাতাদে, ধীরে ধীরে সে, হামকো হামিসে, ম্যায় জিস দিন ভুলাদু এবং মিলে হো তুম হামকো শিরোনামের গান। ডুয়েট গানগুলোতে ড. মাহফুজুর রহমানের সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন সামিয়া জাহান, নীলিমা, ভাবনা আহমেদ ও মারিয়া চৌধুরী।
উল্লেখ্য, এটিএন বাংলার পাশাপাশি এবারের ঈদেও এটিএন নিউজে প্রচার হবে ড. মাহফুজুর রহমানের একক সংগীতানুষ্ঠান ‘দু চোখে শুধু তুমি’।

ঈদে হানিফ সংকেতের নাটক ‘আলোকিত অন্ধকার’,

প্রতি ঈদেই বর্ণাঢ্য ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র পাশাপাশি একটি নাটক নির্মাণ করেন নন্দিত নির্মাতা হানিফ সংকেত। এবারের ঈদে তার নাটকের নাম ‘আলোকিত অন্ধকার’।
নাটকে বিষয়বস্তু সম্পর্কে হানিফ সংকেত জানান, বাবা-মা, সন্তান, পুত্রবধূ মিলে অত্যন্ত সুখী একটি পরিবার। পুত্রবধূর যেমন শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সবার সাথে চমৎকার সম্পর্ক, তেমনি পুত্রবধূকেও শ্বশুর বাড়ির সবাই নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে। আর এই হাসি-আনন্দের মধ্যেই ঘটে বিপর্যয়, নেমে আসে আলোকিত পরিবারে অন্ধকার। এইসব নিয়েই গড়ে উঠেছে ‘আলোকিত অন্ধকার’ নাটকের কাহিনি।
নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, ডলি জহুর, মীর সাব্বির, তারিন জাহান, শুভাশিস ভৌমিক, সাবেরী আলম, নূরে কাঞ্চন, সুর্বনা মজুমদারসহ অনেকে।
নাটকের সূচনা সংগীতের কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। সুর করেছেন হানিফ সংকেত, সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদি, কণ্ঠ দিয়েছেন অয়ন চাকলাদার।
উল্লেখ্য, ঈদের নাটকের ভিড়ে সবাইকে সব চ্যানেলে একাধিকবার দেখা গেলেও ঈদের দিন হানিফ সংকেতের নাটক দেখা যায় শুধু এটিএন বাংলায়। কারণ প্রতি বছর দুই ঈদে দু’টি নাটক নির্মাণ করেন তিনি এবং সেটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে শুধু এটিএন বাংলাতেই প্রচারিত হয়ে আসছে।
এটিএন বাংলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দিন সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে প্রচার হবে ‘আলোকিত অন্ধকার’ নাটকটি।

মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো

আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির চেয়ে এখনো এগিয়ে রয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি, ভিডিও, ফটো শেয়ারিংয়ে ইনস্টাগ্রামে সর্বাধিক ফলোয়ার রোনালদোর। ফলোয়ারের তালিকায় আর্জেন্টাইন তারকার চেয়ে একধাপ এগিয়ে পর্তুগিজ তারকা।
ফোর্বস ইন্ডিয়ার মতে ইনস্টাগ্রামে রোনালদোর ফলোয়ার সংখ্যা ৬২৭ মিলিয়ন আর মেসির ফলোয়ার ৫০২ মিলিয়ন।
৩৯ বছর বয়সি রোনালদো বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে যাই পোস্ট করেন তার ভক্তদের মন ছুঁয়ে যায়।
অন্যদিকে ৩৬ বছর বয়সি বার্সেলোনার সাবেক তারকা ক্রিকেটার লিওনেল মেসি পিএসজি ছেড়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছেন। মেসি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তিনি প্রায় সময় তার পরিবারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। তার সেই ছবি, ভিডিও ভক্তদের নজর কাড়ে। ইনস্টাগ্রামে বিশ্বব্যাপী তার কোটি কোটি সক্রিয় ভক্ত রয়েছে।

চট্টগ্রাম টেস্টে ‘সাকিব প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেলেছে’ বলছেন শান্ত

প্রায় ১ বছর পর শ্রীলংকার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ফেরেন সাকিব আল হাসান। তবে প্রত্যাবর্তনের টেস্টে আশানুরূপ পারফরম্যান্স হয়নি তার।
দুই ইনিংসে ব্যাট করে ৫১ রান করার পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেন ৪ উইকেট। বিশ্বসেরা একজন অলরাউন্ডারের কাছ থেকে পাওয়া এমন পারফরম্যান্সের পরও তার ভূঁয়সী প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
আজ চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘তিনি অনেক দিন খেলার পর মনেই হয়নি যে তার বয়স ৩৭ বছর। প্রায় ১ বছর পরে খেলছেন। যতটুকু মনে পড়ে, প্রথম ইনিংসে ৩৭ ওভার বোলিং করেছেন। ৩টা উইকেটও নিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংটা যেভাবে করলেন। যতটুকু আশা করেছিলাম, সেটার চেয়ে বেশি পেয়েছি তার কাছ থেকে।’
টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ৬৭তম ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। চট্টগ্রাম টেস্টে যে একাদশ নিয়ে বাংলাদেশ খেলে, সেখানে সাকিবের ম্যাচ সংখ্যাই বেশি। সাকিবের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকলে দলের উপকার হয় বলে মনে করেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে এমন অভিজ্ঞ প্লেয়ার থাকলে অবশ্যই অনেক উপকার হয়। মাঠে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ফিডব্যাকও দিয়েছেন। আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।’
শান্ত আরও বলেন, ‘সাকিব ভাইয়ের টেস্ট খেলার ব্যাপারে আমরা আগে থেকেই জানতাম যে তিনি দ্বিতীয় টেস্টে খেলবেন। হ্যাঁ, অবশ্যই আগে থেকে জানতে পারলে ভালো হবে দলের জন্য। আমি আশা করব যে আগে থেকেই জানতে পারব। তখন স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে।’

সৌদি সুন্দরীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বলল মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ

মাত্র এক সপ্তাহ আগেই একজন সৌদি সুন্দরীর মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যোগদান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে একাধিক বিশ্ব গণমাধ্যম। দাবি করা হয়েছিল, রুমি আলকাহতানি নামে ২৭ বছর বয়সী ওই সুন্দরী পেশায় একজন মডেল। অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে তার। ইনস্টাগ্রামে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে তার ১০ লাখ অনুসারী রয়েছে। গত ২৫ মার্চ মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ এবারের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেছে বলেও দাবি করা হয়েছিল।
তবে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এবারের প্রতিযোগিতায় সৌদি সুন্দরীর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রকাশিত খবরটি পুরোপুরি মিথ্যা। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য তারা সৌদি আরবে এবার কোনো বাছাই প্রক্রিয়াই পরিচালনা করেনি তারা। তবে এ বিষয়ে দেশটিতে একটি ‘কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া’ চলছে বলে উল্লেখ করেছে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ।
মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে খবরটি জানিয়েছে আল-আরাবিয়া ও খালিজ টাইমস। মিস ইউনিভার্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব এখনো এই বছর অংশগ্রহণের বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে নেই। বর্তমানে আমরা একটি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেন দেশটির একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রদানের জন্য যোগ্য এবং প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জাতীয় পরিচালক নিয়োগ করা হয়। এটি চূড়ান্ত এবং আমাদের অনুমোদন কমিটি দ্বারা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব আমাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় যোগদানের সুযোগ পাবে না।
আলকাহতানির মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যোগদানের বিষয় গণমাধ্যমগুলোর মাতামাতি শুরু হয়েছিল মূলত তাঁরই একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের সূত্র ধরে। ইনস্টাগ্রামে আরবি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে আলকাহতানি লিখেছিলেন, ২০২৪ সালের মিস ইউনিভার্সে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা হাতে একটি ছবিও জুড়ে দেন রিয়াদে জন্ম নেওয়া আলকাহতানি। ছবিতে তিনি একটি ঝলমলে গাউন, মাথায় মুকুট এবং ‘মিস ইউনিভার্স সৌদি আরব’ লেখা স্যাস পরে ছিলেন। তবে আল-আরাবিয়া দাবি করেছে, ইনস্টাগ্রামে এমন ঘোষণার পর আলকাহতানির সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। তবে ওই সুন্দরীর কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রযোজকের কাছে ধর্ষণ থেকে বেঁচে ফেরার গল্প শোনালেন ইন্দ্রানী

টালিউডের অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার। শতাধিক জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। এই সফল অভিনেত্রীও হয়েছেন যৌন নির্যাতনের শিকার। ২০ বছর বয়সে ধর্ষণের ভয়াবহ একটি ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। সেই বিষয়ে দীর্ঘদিন পর মুখ খুললেন ইন্দ্রানী।
জীবনের শুরুতেই বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদারকে। দক্ষতার জোরে মাত্র ২০ বছর বয়সে কাজ পেয়েছিলেন মুম্বাইয়ের একটি সিনেমায়। প্রযোজক ছিলেন মুম্বাইয়েরই একজন।
এ ছবিতে কাজ পেয়ে উচ্ছ¡সিত ছিলেন ইন্দ্রানী; কিন্তু এটিই যে তার জীবনে কালো অন্ধকারের ছাপ এঁকে দেবে তা বুঝতে পারেননি তিনি।
ইন্দ্রানী বলেন, ‘সিনেমায় অনেক নামিদামি শিল্পী ছিলেন। শুটিং হয়েছিল মুম্বাইয়ে। প্রথম লটে আমার মা গিয়েছিলেন সঙ্গে। দ্বিতীয় লটের শুটিং হবে বলে আমার টিকিট কাটা হলো সকালের ফ্লাইটে। কিন্তু বাবারটা কাটা হলো বিকালে। আমি বুঝে উঠতে পারিনি কেন? প্রথমবার আমাদের রাখা হয়েছিল কম দামি একটা হোটেলে। কিন্তু দ্বিতীয়বারের শুটিংয়ের জন্য ঠিক হলো ফাইভস্টার হোটেলে।’
তিনি বলেন, আমি পৌঁছালাম হোটেলে। সেদিন আমার কোনো কাজ নেই। তখন নতুন নতুন মোবাইল ফোন উঠেছে। হঠাৎ আমার রুমে ফোন এলো প্রডিউসার আমার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। আমি তো ঘাবড়ে গেলাম। তিনি কেন রুমে আসবেন! আমি তখনই আমার ডিরেক্টরকে ফোন করলাম। উনি আমাকে অভয় দিলেন, কিছু হবে না।’
ইন্দ্রানীর ভাষায়, ‘প্রডিউসার রুমে এলেন, কথা বলতে বলতে একপর্যায় উনি আমার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলেন। আমি বাঁধা দিলে তিনি জোরপূর্বক আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে লাগলেন। এর পর উনার ফোনে একটি কল এলো। ফোনটি করেছিলেন উনার স্ত্রী। ফোনটি ধরতে ধরতে আমি বুদ্ধি করে দরজার লক খুলে দিলাম। তার স্ত্রীকে ভয়েস শোনানোর জন্য কাশতে শুরু করলাম। এভাবে একটি অন্ধকার পৃথিবী থেকে যেন বেঁচে ফিরলাম।’
তিনি বলেন, ‘পরে অন্যান্য জায়গাতে ওই প্রডিউসারের সঙ্গে দেখা হয়েছে; কিন্তু উনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে কথা বলতে পারেনি। আমি উনার নাম বলতে চাই না। আর বলাটা উচিতও হবে না। উনি এখন প্রয়াত। তবে ওই কালো অভিজ্ঞতা আমার জীবনে কনফিডেন্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছিল। কারণ উনি আমাকে বলেছিলেনÑ আমি কখনো ভালো কাজ পাব না। পরে আমি আমার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছিÑ মানুষ সব পারে।’