Home Blog Page 577

শেষ মুহূর্তেও প্রত্যাশিত কেনাবেচা নেই


ঈদের বাকি মাত্র এক সপ্তাহ। এই সময়ে মানুষের ব্যস্ততা থাকে শপিংমলগুলোতে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। ক্রেতা কম থাকায় শপিংমলেও নেই জমজমাট ব্যস্ততা। বিক্রেতারা দিনের অধিকাংশ সময় অলস সময় পার করছেন। দিনের নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টা বেচাকেনা হলেও তাতে সন্তুষ্ট নন তারা। বিক্রেতারা বলছেন, এই বছর ঈদের আগে বিক্রি কমেছে অর্ধেক। ক্রেতারা দরদাম করলেও কিনছেন কম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে পোশাকের মার্কেটে।
পোশাকের জন্য ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় মার্কেট মৌচাক। শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ সবার সব ধরনের পোশাকই পাওয়া যায় এখানকার মার্কেটগুলোতে।
পাঞ্জাবির জন্য মৌচাকের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ব্যাপক সুনামও রয়েছে। তবে ক্রেতা খরায় বসে বসে সময় পার করছেন সেখানকার দোকানিরা। তুলি নামের একটি দোকানের বিক্রেতা মো. রিফাত। তার দোকানে ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৭ হাজার টাকা দামের পর্যন্ত পাঞ্জাবি রয়েছে। তবে চাহিদা সবচেয়ে বেশি ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি। তিনি জানান, চলতি বছরের মতো আর কখনো ঈদের বাজার এত মন্দা ছিল না। গত বছরো এরচেয়ে বিক্রি অনেক বেশি ছিল। এবার পুরো মার্কেটেই ক্রেতা কম। রোজার শেষ ১০ দিনেও বেচাবিক্রি প্রত্যাশিত না। রিফাত বলেন, আমরা এখন সবচেয়ে কম লাভে বিক্রি করছি। আগের রোজার চেয়ে এবার ৬০ শতাংশ বিক্রি কমেছে।
আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স থেকে অনেকে জাকাতের পাঞ্জাবিও কিনতে আসে। তবে এ বছর সেই ক্রেতার সংখ্যাও কমেছে বলে জানান রিফাত। যারা কিনতে আসছে তারা আগের চেয়ে পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। রিফাত বলেন, আগে যে জাকাতের জন্য ১০০ থেকে ১৫০ পিস পাঞ্জাবি কিনতো সে এখন ৩০ থেকে ৫০ পিস কিনে। কারণ মানুষের কাছে টাকা নাই।
মৌচাক মার্কেটের স্বরলিপি ফ্যাশনে বাচ্চাদের ফ্রক, পার্টিফ্রক, কটনফ্রক, গাউনসহ বাহারি পোশাক বিক্রি হয়। তবে বাচ্চাদের পোশাকের দোকানের ভিড়ও আগের চেয়ে কমেছে অনেক। স্বরলিপি ফ্যাশনের মো. আজাদ বলেন, এখন মানুষ কেনাকাটা না করতে পারলে বাঁচে। মানুষের হাতে টাকা নাই। ঈদের আগে বেচাকেনা মন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সারাদিন দোকানে ৪-৫ জন কর্মচারী কাজ করে। সে হিসেবে যে বিক্রি হওয়ার কথা তা হয় না। আগের বছরের চেয়ে অর্ধেক কমছে বিক্রি। দামে বনিবনা না হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় বলেও জানান এই বিক্রেতা। মৌচাক মার্কেটের আলিফ শাড়ি বিতানে এক হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা দাম পর্যন্ত বিভিন্ন শাড়ি রয়েছে। দোকানের বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম বলেন, এবারের ব্যবসা একেবারে ভিন্ন। অর্থনৈতিকভাবে মানুষ চাপে আছে। আমরা টেনশনে আছি ঈদের আগে পার্টিকে (পাওনাদার) টাকা দিতে পারবো কি না। আমাদের ব্যবসা না থাকলেও তাদের টাকা শোধ করতে হবে। যেখানে অন্যদিনে ২০ রোজার পর আমরা দৈনিক এক-দেড় লাখ টাকার শাড়ি বিক্রি করতাম এখন সেখানে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে না। ঈদের মৌসুমে এটা কোনো বিক্রির মধ্যেই পড়ে না।
মৌচাকের ফরচুন শপিংমলেও ক্রেতার আনাগোনা কম। গল্প আর আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন বিক্রেতারা। ফ্যাশন জিক নামের দোকানে ছেলেদের পাঞ্জাবি, প্যান্ট, শার্ট ও টি-শার্ট বিক্রি হয়। ক্রেতা না থাকায় সেখানেও অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা। ফ্যাশন জিক-এর বিক্রেতা পিপলু বলেন, বিকালে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা একটু চাপ থাকে। আর ইফতারের পর দুই ঘণ্টা একটু চাপ থাকে। এ ছাড়া মার্কেটে ক্রেতা তেমন থাকে না। ফরচুনের বড়গাছিয়া দোকানের মো. সিকান্দার বলেন, এবার নিত্যপণ্যের দাম বেশি। মানুষ কীভাবে ঈদের পোশাক কিনবে। আপনি নিজেই দেখেন মার্কেটে কোনো মানুষ নাই। আমরা বসে আছি। আর অন্য বছর এই সময়ে দম ফেলার সময় থাকে না।
মৌচাকের এসব মার্কেটের চেয়ে ঢাকার অভিজাত শপিংমল বসুন্ধরা সিটিতে ক্রেতাদের আনাগোনা কিছুটা বেশি। তবে ঈদের হিসেবে তা বেশি নয় বলে জানান এখানকার বিক্রেতারা। শিশুদের পোশাক থেকে শুরু করে পাঞ্জাবি, ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, নারীদের ড্রেস, শাড়িসহ নামি-দামি ব্র্যান্ডের সব পোশাকই পাওয়া যায় এখানে। তবে হাতেগোনা কয়েকটা নামকরা ব্রান্ডের বাইরে বেশির ভাগেই ক্রেতার সমাগম কম। এখানকার বিক্রেতারাও জানিয়েছেন ঈদের আগে বিক্রি কম হওয়ার কথা। তারা বলছেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখ ঘিরে প্রত্যাশিত বিক্রির চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বিক্রি কম হচ্ছে এখন। মধ্যবিত্ত শ্রেণির যে ক্রেতা বসুন্ধরা সিটিতে আসতো তারা আসা কমিয়ে দিয়েছেন। যারা আসছেন তাদের বাজেটের মধ্যে পোশাক কিনতে পারছেন না। তাই তারা ঘুরে ঘুরে দেখে চলে যাচ্ছেন। বসুন্ধরা সিটির নেক্সাস দোকানের ইনচার্জ ডালিম সিকদার জানিয়েছেন, এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে না। মার্কেটে ক্রেতার চাপ কম। বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে অর্ধেকে নেমেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব এখন মার্কেটে বোঝা যাচ্ছে। পোশাকের দামও নানা কারণে বেশি। আগে যে পোশাক ২ হাজার টাকা বিক্রি করতাম তা এখন ২৬০০ টাকা দাম। কিন্তু ক্রেতাদের তো আয় বাড়ে নাই। সব জায়গায় একই অবস্থা। নিউমার্কেটে আমাদের দোকান আছে। সেখানেও বেচাকেনা নাই।
মেয়েদের সব ধরনের পোশাক বিক্রি হয় বসুন্ধরার ভেইল নামের দোকানে। সেখানকার বিক্রেতা মো. সবুজ বলেন, রোজার শেষের ১০ দিন দম ফেলার সময় পেতাম না আগে। আর এখন নিরিবিলি। মানুষের কাছে শপিং করার জন্য যে টাকা দরকার সেটা নাই। তাই মার্কেটেও ক্রেতা নাই। অন্য সময়ে আমরা একটা জামা ২৫০০ টাকা বিক্রি করতাম। এখন তা ১৮০০ টাকাতে হলেও বিক্রি করছি। কারণ ঈদের আগে পাওনাদারের টাকা শোধ করতে হবে। তাই কমে হলেও বিক্রি করছি। তারপরও অনেক পণ্য এখনো দোকানে সাজানো। বিক্রি হচ্ছে না। জেন্টেল পার্কের শিপলু বলেন, মার্কেটে ক্রেতা কম দেখা যাচ্ছে। অনেকের মার্কেটে এসে কেনার সময়ও নেই। কিছু ক্রেতা অনলাইনেও শিফট হয়েছে।
ধানমণ্ডিতে অবস্থিত রাপা প্লাজা গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। দোকাগুলোয় বিরাজ করছে সুনশান পরিবেশ। ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন দোকানিরা। তারা নিজেরাই জামা-কাপড় বের করে দেখছেন, আবার রেখে দিচ্ছেন। কয়েকটি দোকানে দু’চার জন ক্রেতা থাকলেও তারা দেখে শুনে ফিরে যাচ্ছেন। এখানকার বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ডিজাইনের ও মানের পোশাক সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছেন। পাঞ্জাবি থেকে শুরু করে প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, শিশুদের ড্রেস, নারীদের থ্রি-পিস, শাড়িসহ বিভিন্ন পোশাক শোভা পাচ্ছে দোকানগুলোতে। এসব দোকানে দর্শনার্থীদের ভিড় ও বেচাকেনা অনেক কম। মূলত পোশাকের অতিরিক্ত দামের কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের দাম বেড়েছে। যেটি অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাই বিক্রি কমে গেছে।
রাপা প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত রেডিমেড পণ্যের দোকান ক্যাথেই’র স্বত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন বলেন, বেচাকেনা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। আজকে ২২ রমজান, ২০ রমজান থেকে দেখছি মার্কেটে কাস্টমার নেই বললেই চলে। ৪ তারিখ থেকে মনে হয় না মার্কেটে এই লোকগুলো থাকবে। গত বছরের তুলনায় এই বছরে ৪০ শতাংশ বেচাকেনা কম হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ভালো রেসপন্স পাচ্ছি না। শুধু শুক্র-শনিবারে কাস্টমার হয়েছে। মানুষের মধ্যে ঈদের কোনো আমেজ নাই। পোশাকের দাম যাই হোক, কাস্টমার তিনভাগের একভাগ দাম বলে। সবাইকেই তো বাঁচতে হবে, আমাদের তো কিছু প্রোফিট করতে হবে। ঈদের জন্য ব্যবসায়ীরা বসে ছিলেন, এখন বেচাকেনা না হলে আমার মনে হয় না কোনো ব্যবসায়ী টিকতে পারবে।
ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট ও প্যান্টের দোকান বিগ সেলের পরিচালক আজগর আলী বলেন, আমার ১২টা দোকান ছিল। করোনার কারণে বন্ধ হতে হতে এখন মাত্র একটা দোকান আছে। এখন বাজে সাড়ে তিনটা, কেবল একটা পোশাক বিক্রি করে বিসমিল্লাহ করেছি। মানুষের খাদ্য কিনতেই তো অনেক টাকা যাচ্ছে। এই মার্কেটে উচ্চবিত্তের থেকে মধ্যবিত্তের আনাগোনা বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই কাটছাঁট করে চলছে। যেখানে দুই কেজি কিনতো সেখানে এক কেজি কিনছে। আগে অনেকে গিফট দিতো, এখন সেটাও কমায় দিছে। যেটা না হইলেই না, শুধু সেইটাই কেনে। তিনি বলেন, এই দোকানে আগে ৫ জন লোক থাকতো, এখন আমরা ২ জন আছি। গত ঈদে আমি একটা পিচ্চি রাখছিলাম, এবার ওকে আমি রাখিনি। কারণ আমি জানি ওকে রাখলে বেতন দিতে পারবো না।
রাপা প্লাজার তিনতলায় অবস্থিত মেসার্স মোল্লা সিল্কের স্বত্বাধিকারী মো. শফিউল ইসলাম বলেন, দুই মাস হলো এই মার্কেটে দোকান দিয়েছি। আমাদের সেল নাই বললেই চলে, একদমই ভালো না। রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকে। শুধু বিদ্যুৎ বিল গুণতে হচ্ছে। ঈদের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। কিন্তু মার্কেটে কোনো কাস্টমার নেই। সব দোকানেই একই অবস্থা।
মহিলাদের থ্রি-পিসসহ যাবতীয় পণ্যের দোকান সিন্ডনের সেলসম্যান লিটন বলেন, কাস্টমার অনেক কম। যেমন বেচাকেনা হওয়ার কথা তুলনামূলকভাবে খুব কম। আমাদের তো রেডিমেড আইটেম না, এসব আইটেম যাদের কেনার তারা অনেক আগেই কিনে ফেলেছে। এখন বেচাকেনা নেই বললেই চলে। সন্ধ্যার পরে কিছু কাস্টমার আসে, গিফটের জন্য কিনছে।
টপ টু বটম দোকানের পরিচালক সোহেল হোসেন বলেন, গত রমজান থেকে এবারে তেমন কাস্টমার জমেনি। টুকটাক সেল দিচ্ছি। ঈদের কোনো আমেজ নেই। আজ ২২ রমজান, গত বছর শেষ ১০ দিনে যা সেল হয়েছিল এবার তার ৫০ শতাংশও হয়নি।
এন এম মার্টের স্বত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদ জনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে এবার আশানুরূপ কোনো সেল হচ্ছে না। গত বছরে যে পরিমাণ সেল ছিল এবার তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বাগদানের আংটি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে বের হয়েছিলেন জয় ফক্স

যুক্তরাজ্যের উইভেনহো শহরের ভেতর দিয়ে যে নদীটি বয়ে গেছে, তারই পাশের এক গ্রামে থাকতেন জয় ফক্স। ২০ বছরে বয়সে তাঁর বাগ্দান হয়েছিল। কোনো কারণে বিয়েটা ভেঙে যায়। ভাঙা বিয়ে আর ভাঙা হৃদয় নিয়ে জয় ঠিক করলেন, বিশ্ব ঘুরে দেখবেন। ১৯৫৬ সালের জানুয়ারিতে বেরিয়ে পড়লেন। তার আগে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ পাননি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহেই কেটে গেছে এক দশক। তবে মায়ের মুখে মিসর, চীন আর ভারতের বিভিন্ন গল্প শুনেছিলেন। বড় ভাই অ্যালানের কাছে শুনেছিলেন ভেনিস শহরের কথা। এসব গল্পের জায়গা তিনি নিজের চোখে ঘুরে দেখতে চেয়েছেন। জয়ের বাবা ছিলেন রয়্যাল স্কটসের বাদ্যদলের প্রধান বাদক। সেই সূত্রেই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন মা আর ভাই।
কীভাবে প্রথমবার ঘর থেকে বের হলেন জয়? সে এক গল্প। শোনা যাক জয়ের মুখ থেকেই, ‘প্রথমে বাগ্দানের আংটি বিক্রি করলাম। আমার গ্রাম থেকে ডোভারে গেলাম। তারপর ট্রেনে করে ঘুরলাম ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড আর ইতালি। সেই শুরু। এখন আমার বয়স ৮৯। এখনো আমি বিশ্বের নানা প্রান্ত ঘুরে দেখতে চাই। ঠিক প্রথম দিনের মতোই।’
ইতালিতে গিয়ে জয়ের লুইজি নামের এক লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। দুজন মিলে ঘুরলেন পোর্টোফিনো, রাপালো, মিলান ও আরও অনেক শহর। জয়কে নিয়ে বিশ্বের সব গির্জা ঘুরে ঘুরে দেখতে চেয়েছিলেন লুইজি। কিন্তু জয়ই বিদায় নিলেন। ফিরে আসলেন নিজের গ্রামে। বাড়িতে ফিরে নিজেকে মনে হলো নতুন এক মানুষ। বেশ ফুরফুরে লাগল। কিছুদিন পর হাতে এল লুইজির পাঠানো তাঁদের যুগল ছবি। ভাঙা বিয়ের কষ্ট বিভিন্ন শহরে ঘুরতে ঘুরতে বিলিয়ে এসেছেন, ভুলেও গেছেন।
জয়ের পরিবার একসময় ইংল্যান্ড থেকে কানাডায় চলে গেল। জয়ের জন্য বিষয়টা হলো দারুণ আনন্দের। কানাডা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন জয়। ঘুরতে ঘুরতেই আরও এক পুরুষের সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনিও ঘুরে বেড়ান। খুব অল্প সময়ের পরিচয়ে তাঁকে বিয়ে করলেন জয়। সংসার পাতলেন। তিন সন্তানের মা হলেন। আর সঙ্গী, সন্তান নিয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।
জয় বলেন, ‘আমার জীবনসঙ্গী আমাকে প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে বলেছেন। তার সঙ্গে আমি অনেক নদী আর জলপ্রপাত দেখেছি। যুক্তরাষ্ট্র, মোনাকো, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কুক আইল্যান্ডের নানা প্রান্ত ঘুরেছি।’ একে একে সন্তানেরা বড় হলো। তাঁদের আলাদা সংসার হলো। এর ফাঁকে ফাঁকেও একা একা ঘুরেছেন জয়। একা ঘুরে বেড়ানোর মতো আনন্দ তিনি আর কিছুতেই পান না।
নিজের ৬৫তম জন্মদিনে জয় একাই গেলেন স্কটল্যান্ডে, যেখানে তাঁর জন্ম। যখন তাঁর তিন বছর বয়স, স্কটল্যান্ড থেকে যুক্তরাজ্যে চলে এসেছিল তাঁর পরিবার। রয়্যাল স্কটস অব এডিনবার্গের ব্যারাকে যান জয়। একসময় এখানেই থাকতেন তাঁরা। খুঁজে বের করেন নিজের জন্মস্থান। সেখানে খানিকক্ষণ কাটান। জয় বলেন, ‘আমি আমাদের বাসাটার দিকে তাকিয়ে আছি। সন্ধ্যা নামল। এমন সময় কোত্থেকে যেন এক বংশীবাদক বের হয়ে এল। সে বাঁশিতে বিলাপের সুর তুলতে লাগল। আমার ভেতর যে কী হয়ে গেল, কোনো ভাষায় তা বর্ণনা করা সম্ভব না। স্কটল্যান্ড সব সময়ই আমার প্রিয় দেশ। কেননা, সেখানেই আমার জন্ম।’
২০১৫ সালে মারা যান জয়ের জীবনসঙ্গী। আবারও একা হয়ে পড়েন জয়। ৮০ বছর বয়সে একাই একটা ব্যাগ নিয়ে ঘুরতে বের হলেন ইউরোপে। ৮৪তম জন্মদিন জয়ের সঙ্গী হয়েছিল মেরু জ্যোতি (নর্দান লাইটস), তখন তিনি ছিলেন নরওয়ে। নিউজিল্যান্ডে গিয়ে একটা গাড়ি ভাড়া করেছিলেন। সেই গাড়িতে ঘুরেছেন সারা দেশ। একটা মোটরবোটে করে ডলফিনের সঙ্গে নদীতে ঘুরেছিলেন। সেটি তাঁর বিশ্বভ্রমণের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
জয় বলেন, ‘পানি আমি ভীষণ ভয় পাই। কিন্তু ইতিমধ্যে টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। সেটা উশুল করতেই নামলাম। ওহ, পুরোটা সময় আমি নিজের কণ্ঠনালি উজাড় করে দিয়ে চিৎকার করেছি। সে কী উত্তেজনা! ডলফিনরা মোটরবোটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছে। আমাকে ধরে ফেলতে চাচ্ছে। আমি শাঁই শাঁই করে বাতাস কেটে এগিয়ে যাচ্ছি। ভাগ্যিস, ভয়কে জয় করে পানিতে নেমেছিলাম!’
জয় জানান, তাঁর কোনো ‘ট্যুরিস্ট অ্যাকটিভিটি’ ভালো লাগে না। বরং তিনি এমন সবকিছু দেখতে চান, করতে চান, যা তাঁর হৃদয়ে গেঁথে থাকে। নিজের সঙ্গ ভালোবাসেন। এখনো নিজে মোড়ের দোকানে গিয়ে স্যান্ডউইচ আর কফি অর্ডার করে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামা দেখেন। এখন তাঁর বয়স ৮৯। পরের জন্মদিনে আবার তিনি ফিরতে চান আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে, ইতালির লেক কোমোয়, যেখানে বন্ধুত্ব হয়েছিল লুইজির সঙ্গে।

লাচ্ছা সেমাইয়ে দুই স্বাদ

ঈদের দিন লাচ্ছা সেমাই দিয়ে বানানো যায় নানা রকমের পদ। ঝাল ও মিষ্টি দুটি স্বাদই দেওয়া যাবে।

লাচ্ছা সেমাই কাবাব
উপকরণ
লাচ্ছা সেমাই ১ প্যাকেট, পনির আধা কাপ, গাজরকুচি ২ টেবিল চামচ, মটরশুঁটি ২ টেবিল চামচ, লাল ক্যাপসিকাম ২ টেবিল চামচ, সবুজ ক্যাপসিকাম ২ টেবিল চামচ, হলুদ ক্যাপসিকাম ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, কাঁচা মরিচের কুচি ২ টেবিল চামচ, ধনেপাতার কুচি ২ টেবিল চামচ, ডিম ২টি, লবণ পরিমাণমতো, কাবাব মসলা ১ চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, ঘি ১ টেবিল চামচ, তেল ভাজার জন্য।
প্রণালি
লাচ্ছা সেমাই ঘি দিয়ে অল্প ভেজে উঠিয়ে রাখতে হবে। এবার তেল বাদে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। লাচ্ছা সেমাই দিয়ে মাখিয়ে কাবাবের আকারে গড়ে নিন। গরম ডুবোতেলে ভেজে সস দিয়ে পরিবেশন করুন।

04 2

দুধ ও লাচ্ছার রাবড়ি
উপকরণ
দুধ ২ লিটার, লাচ্ছা সেমাই দেড় কাপ, চিনি ১ কাপ বা পরিমাণমতো, এলাচির গুঁড়া ১ চা-চামচ, জাফরান সামান্য, পেস্তা ও কাঠবাদামকুচি ৩ টেবিল চামচ।
প্রণালি
বড় কড়াইয়ে দুধ নিন। ফুটে উঠলে ৩ কাপ দুধ উঠিয়ে রাখতে হবে। বাকি দুধে জ্বাল দিতে থাকুন। সর পড়লে কড়াইয়ের এক পাশে উঠিয়ে রাখতে হবে। এভাবে সর উঠিয়ে রাখতে থাকুন। যখন অল্প দুধ থাকবে, তখন এলাচির গুঁড়া ও আধা কাপ চিনি দিয়ে দিন। নাড়াচাড়া করে ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিন। পাতিলের পাশে রাখা সরের স্তর খুন্তির সাহায্যে চেঁছে উঠিয়ে নিন। দুধের সঙ্গে মিলিয়ে রাখতে হবে। লাচ্ছা সেমাই গ্রাইন্ডারে গুঁড়া করে নিন। দুধ ও চিনির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। চুলায় দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। ঘন দুধের সঙ্গে পেস্তা, বাদাম ও জাফরান দিয়ে দিন। ফুটে উঠলে চুলা থেকে নামিয়ে পরিবেশন করুন। পাত্রে ঢেলে পেস্তাবাদাম ছিটিয়ে দিন। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।

ঈদের নতুন রেসিপি, রাঁধুন দই কাতলা

ঈদের দিন দুপুরে বা রাতের বিশেষ আয়োজনে মাছের পদ রাখতে পারেন। নিয়মিত রান্নার বাইরে একটু ভিন্নভাবেই নাহয় রাঁধলেন মাছ। রান্নার কারণে চেনা মাছের স্বাদেও বদল আনা যাবে। তেমন একটি রেসিপি দিয়েছেন ফারাহ্ সুবর্ণা
দই কাতলা
উপকরণ: কাতলা মাছ ৫ টুকরা, টক দই আধা কাপ, ময়দা আধা চা-চামচ, পেঁয়াজবাটা ৩ চা-চামচ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা আধা চা-চামচ, কাজুবাদামবাটা ১ চা-চামচ, পোস্তদানাবাটা আধা চা-চামচ, কাঁচা মরিচবাটা ১ চা-চামচ, ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ, জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া ১ চামচের ৩ ভাগের ১ ভাগ, তেজপাতা ২টি, আস্ত কাঁচা মরিচ ৪ থেকে ৫টি, চিনি ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল আধা কাপ, ঘি ২ চা-চামচ।
রান্নার পর দই কাতলাছবি: কবির হোসেন
প্রণালি: লবণ আর অল্প তেলে মাছ মেখে রাখুন। প্যান বা কড়াই ভালোভাবে গরম করে নিন। বাকি তেলে মাছ হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন। তেলে তেজপাতা ফোড়ন দিন। বাটা পেঁয়াজ দিয়ে ভাজুন। ভাজা হলে তাতে টক দই, ময়দা, গরমমসলার গুঁড়া আর ঘি বাদে বাকি সব মসলা দিয়ে দিন। ভালোভাবে কষাতে হবে। কষানো হয়ে গেলে তাতে ১ কাপ পানি দিন। এবার টক দইয়ের সঙ্গে ময়দা মিশিয়ে ঝোলে ঢেলে দিন। ভালোমতো নাড়ুন। ঝোল ফুটে উঠলে ভাজা মাছ, গরমমসলার গুঁড়া আর ঘি দিয়ে ৭ থেকে ৮ মিনিট রান্না করে নিন। ঝোল ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নিতে হবে। চাইলে কিশমিশ ব্যবহার করতে পারেন।

সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মোস্তাফিজ

দিল্লিক্যাপিটালস ছেড়ে মোস্তাফিজুর রহমানের নতুন ঠিকানা এখন চেন্নাই সুপার কিংস। তবে গেল আসরের মতো এবারও দিল্লিক্যাপিটালসের ডাগআউটে আছেন সৌরভ গাঙ্গুলী।
রোববার দুদলের লড়াইয়ে সাবেক দলের সতীর্থদের সঙ্গে দেখা হলো মোস্তাফিজের। সেই সঙ্গে দেখা হলো সৌরভের সঙ্গেও। এ সময় দুজনকেই হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গেছে। যদিও তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে জানা যায়নি।
তবে ক্ষণিকের সাক্ষাতের সেই মুহূর্ত দুজনই যে বেশ উপভোগ করেছেন, তাদের হাসিতে তা ধরা পড়ল। চেন্নাইয়ের অফিশিয়াল পেজে মোস্তাফিজদের ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ভালো থেকো বন্ধু।
আইপিএলে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে চেন্নাই। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের টানা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। উদ্বোধনী ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা।
এর পরের ম্যাচেও দুই উইকেট নেন। তবে গত পরশু চেন্নাইয়ের হারের দিনে খরুচে ছিলেন ফিজ। বিশাখাপত্তমে চার ওভারে ৪৭ রান দিয়েছেন তিনি। নিয়েছেন মাত্র এক উইকেট। চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠ চিপকে আগের দুই ম্যাচে কার্যকর ফিজকে এদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
একটি ওয়াইড ও দুটি নো দেওয়ার পাশাপাশি তিনি হজম করেছেন ছয়টি চার ও একটি ছক্কা। দিল্লিক্যাপিটালসের বিপক্ষে এমন বাজে বোলিংয়ের খেসারত চেন্নাইকে দিতে হলো ২০ রানে হেরে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মুমিনুল

জাতীয় দলের হয়ে শুধু টেস্ট খেলার কারণে লাল বলের ঘরোয়া ক্রিকেট ন্যাশনাল লিগের নিয়মিত মুখ মুমিনুল হক। এই লিগে তাকে কোন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন মুমিনুল হক। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ধারে কাছে নেই ঘরোয়া ক্রিকেটের মান।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুমিনুল জানান, ঘরোয়া ক্রিকেটের মান ভালো না হওয়ায় নতুন কেউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসলে তাদের ভুগতে হয়।
মুমিনুল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টেস্টের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের কতটুকু মান। একই লেভেলের আছে কি? উত্তর আমিও জানি, আপনিও জানেন, সকলেই জানে। আমি অনেকগুলো আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলেছি, চর্চার ভেতরে থাকি, ম্যাচ পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হয় বুঝি। কিন্তু একজন জুনিয়রের জন্য অনেক কঠিন।’
বোর্ড বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই চিন্তা করছে বলে মত মুমিনুলের। এমনকি বর্তমান ঘরোয়া কাঠামোয় লিস্ট ‘এ’ ম্যাচের চেয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ অর্থাৎ ঘরোয়া টেস্ট বেশি হয় বলেও মত দেন তিনি। এছাড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই সিরিজে দল হিসেবে ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও স্বীকার করেন। ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে তিনি দিতে চান না কোন অজুহাত।
চট্টগ্রাম টেস্টে আর কোন আশা নেই বলেও সরল বাক্যে বলে দিয়েছেন মুমিনুল। তবে উইকেট সহজ ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি, ‘এখান থেকে ব্যাক করা অনেক কঠিন। আমরা যে রানটা এখন করেছি (৭ উইকেটে ২৬৮) এই রানটা ৪ উইকেটে করলে, জিনিসটা একটু ভিন্ন হতে পারতো। উইকেট সহজ ছিল। অনেকেই সেট হয়ে আউট হয়েছি।’

হ্যাটট্রিক করে রেকর্ডবুকে তৃষ্ণা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে হেরে গেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। টানা দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গতকাল দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে ৫৮ রানে। তবে এ ম্যাচে বড় প্রাপ্তি পেসার ফারিহা তৃষ্ণার হ্যাটট্রিক।
গতকাল অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের ইনিংসে বিশতম ওভারে বোলিং করতে গিয়ে চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে তৃষ্ণা শিকার করেন এলিস পেরি, সোফি মলিনেক্স এবং বেথ মুনির উইকেট। এতেই রেকর্ডবুকে স্থান করে নেন তৃষ্ণা। এর আগে ২০২২ সালে এশিয়া কাপের ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তৃতীয় বোলার হিসেবে একাধিক হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন তৃষ্ণা। এর আগে এ কীর্তি আছে কেবল হংকংয়ের ক্যারি চ্যান ও উগান্ডার কন্সি এউকোর।

‘উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’-র ব্রংক্স শাখার প্রথম সম্মেলন ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’-র ব্রংক্স, নিউইয়র্ক শাখার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গত ২৪ মার্চ।

01 2

ব্রংক্স এলাকার একটি ব্যাংকুয়েট হলে ‘উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’-র ব্রংক্স শাখার প্রথম সম্মেলন ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্রক্স শাখা আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ক্ল্যারা রোজারীও আগত অতিথি-দর্শক-শ্রোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘মানুষের অধিকার আদায়, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ বিনির্মাণে আলোরবর্তিকার ভূমিকা পালন করে চলেছে উদীচী। একটি বক্তৃতা দিয়ে মানুষকে যতটা উজ্জীবিত করা যায় তার চেয়ে অনেক বেশী উজ্জীবনি শক্তিরয়েছে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের। একমাত্র সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে মনোজগতে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব’।

02

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট মাকসুদা আখতার লাইলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশের সদস্য সুব্রতা রায়, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সহসভাপতি শরাফ সরকার, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক আলীম উদ্দীন বক্তব্য রাখেন।

উদীচী ব্রক্স শাখার প্রথম আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউইয়র্কের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, আশীষ রায়, সাধারণ সম্পাদক, উদীচী জামাইকা শাখা; এ্যানিফেরদৌস, পরিচালক, বিপা; ইব্রাহিম চৌধুরী, সম্পাদক, প্রথমআলো উত্তর আমেরিকা; জাকির হোসেন বাচ্চু, সহসভাপতি, প্রগ্রেসিভ ফোরাম; কাসেম আলী, সহসভাপতি, উদীচী যুক্তরাষ্ট্র; সাগর লোহানী, সম্পাদক, বাঙালীয়ানা; গণজাগরণ মঞ্চ শাহবাগের অন্যতম উদ্যোক্তা সৈয়দ জাকির আহমেদ রনী; সৃজনোলজি, নিউইয়র্কের পরিচালক সেমন্তি ওয়াহেদ। বক্তারা উদীচীর নবগঠিত শাখার সর্বৈব সাফল্য কামনা করেন।

03

আলোচনা সভায়সভাপতিত্ব করেন উদীচী ব্রক্স শাখার আহ্বায়ক ক্ল্যারা রোজারীও।

এ পর্যায়ে তিন সদস্য বিশিষ্টবিষয় নির্ধারণী কমিটি পরবর্তী শাখা কমিটি গঠনের নিমিত্ত নতুন পরিচালনা কমিটির নাম মনোনয়নের জন্যে সভায় মিলিত হলে দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীবৃন্দ বেশ কয়েকটি গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর নিউইয়র্কের সুপরিচিত সঙ্গীতশিল্পী তাহমিনা শহীদ জীবনমুখী গান, ফাতেমাতুজ জোহরা আবৃত্তি এবং সুব্রতা রায় রবীন্দ্র ও গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন।

05

সন্ধ্যার এ আয়োজনের সবশেষেতিন সদস্য বিশিষ্ট বিষয় নির্ধারণী কমিটির পক্ষে কল্লোল দাশ নতুন কমিটির নাম প্রস্তাব করেন এবং উপস্থিত উদীচী সদস্যদের করতালির মধ্য দিয়ে তা গৃহীত হয়।

ক্ল্যারা রোজারীওকে সভাপতি ও কাবির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক ক’রে গঠিত বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ব্রংক্স শাখার নতুন কমিটির অপরাপর সদস্যরা হচ্ছেন, সহসভাপতি:কল্লোল দাশ ও বেবী মজুমদার; সহ-সাধারণ সম্পাদক:মো. এবাদুল হক চৌধুরী ও আশিকি ঘোষ অভি; সাংগঠনিক সম্পাদক:ফাতেমাতুজ জোহরা; সাংস্কৃতিক সম্পাদক:তাহমিনা শহীদ; নির্বাহী সদস্য:ডা. সুপ্রভাত রায়, তাপসী সাহা, বদরুল চৌধুরী, মোশারফ হোসেন, যামিনী বর্মন, নন্দিতা সরকার, রোকন উদ্দীন, নাজলা ডায়াস ও প্রজ্ঞা দাশ।

06

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সহসভাপতি শরাফ সরকার নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

সংগঠনের নতুন সভাপতি ক্ল্যারা রোজারীও সম্মেলন সফল করবার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠনে সহযোগিতা করায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্রংক্সের প্রগতিশীল মানুষ যারা একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনেভূমিকা রাখতে চান তাদের যুক্ত করে উদীচী ব্রংক্স শাখা উত্তরোত্তর উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে, এ আমাদের প্রত্যয়’। তিনি সম্মেলনে সকলের অংশগ্রহণের জন্যে সকলকে ধন্যবাদ জানান।

সামগ্রিক অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন কাবির হোসাইন।

৮ম বর্ষে পদার্পণ এবং সিবিএন টিভির উদ্বোধন : উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসায় সিক্ত প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা

ফরিদা ইয়াসমীনঃ নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির উচ্ছ্বাস আনন্দ এবং ব্যতিক্রমের আতিশয্যে ভরপুর ছিল প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ৮ম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠান এবং সিবিএন টিভির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সিটি অফিসের কর্মকর্তা সংবাদপত্রসেবী, সম্পাদক, সাংবাদিক, লেখকসহ অগ্রসর জনসমাজের মেলা বসেছিল উডসাইডের গুলশান টেরেসে। কথায়, প্রতিশ্রুতিতে এবং কর্মে ভিন্ন ধারার অনুষ্ঠানে ঋদ্ধ হয়েছেন আগত সকল অতিথি।

1 4

পবিত্র রমজান এবং কর্মদিবসের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সময়মতো অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিথিরা। ২৭ মার্চ বুধবার বিকেল সারে চারটার দিকেই সিটি অফিসের কর্মকর্তাদের আগমন শুরু হয়। সিটি মেয়র আসার জন্য আগাম নিরাপত্তা টিমও যথাস্থানে অবস্থান গ্রহণ করে। বিপত্তি বাঁধে ওজন পার্কে পুলিশের হাতে একজন বাংলাদেশি তরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ফলে সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামকে ভিন্ন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়।
বিকেল ঠিক সাড়ে পাঁচটায় প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার লেখক, সাংবাদিক রহমান মাহবুবের আমন্ত্রণে পত্রিকাটির সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী ও নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল হক মঞ্চে উপস্থিত হন। এসময় মেয়র অফিসের এথনিক ও কমিউনিটি মিডিয়া বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক হোজে বয়েনা, মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার, কারেকশন অফিসারদের সাংগঠনিক প্রধান কাজী হাসান, লেখক সাংবাদিক হাসান ফেরদৌসকে নিয়ে প্রথম পর্বের আলোচনা শুরু হয়।  

1 2

মীর বাশার তাঁর বক্তৃতায় বলেন, প্রথম আলো নিউইয়র্কে কমিউনিটির কথা বলে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের নতুন সহযোগী সংগঠন হিসেবে সিবিএন টিভি একইভাবে সবাইকে নিয়ে কাজ করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সিটি অফিসের এথনিক মিডিয়া বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক হোজে বয়েনা বলেছেন শুরু থেকেই প্রথম আলোর সাথে সিটি অফিসের কার্যকর যোগাযোগ রয়েছে। যেকোনো কাজে, কমিউনিটির যে কোন প্রয়োজনে প্রথম আলো যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সিটি অফিস থেকেও এ পত্রিকার জন্য একই প্রতিক্রিয়ায় আমরা সাড়া দিয়ে থাকি। এ পত্রিকাটির মাধ্যমে এবং তাদের সিবিএন টিভির সাথে  নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রশংসার এবং সিটি অফিস সর্বতোভাবে এ প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেখক সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস বলেছেন, ” ৮ বছর আগে প্রথম আলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু করেছিল, কঠিন পরিশ্রম এবং প্রথম আলোর ভাবমূর্তি ধারণ করে তাদের এগিয়ে চলা অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

1 11

অনুষ্ঠানে একপর্যায়ে যুক্ত হন নিউজার্সি রাজ্যের একমাত্র বাংলাদেশি নির্বাচিত প্রতিনিধি কাউন্সিলউওম্যান শিফা উদ্দিন। প্রথম আলো পত্রিকার বিন্যাসের শাড়ীর সাজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রথম আলো পরিবারের নারী লেখক ও সাংবাদিকদের কাজকর্মের প্রশংসা করে শিফা উদ্দিন বলেছেন, ব্যতিক্রমী কাজের মাধ্যমে প্রথম আলো নারীদের সম্পৃক্ত করে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অগ্রযাত্রায় এ এক তাৎপর্যপূর্ণ কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, তাঁর বক্তৃতায় পত্রিকার প্রকাশনা থেকে শুরু করে নিউইয়র্কে এর এগিয়ে চলার নানা বাঁধা বিপত্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি ঢাকা প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক তাঁর পিতৃসম মতিউর রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। ইব্রাহীম চৌধুরী বলেন, প্রথম আলো যেমন করে কমিউনিটিকে নিয়ে, কমিউনিটির জন্য কাজ করেছে। একইভাবে সবাইকে, সকলের সহযোগিতা নিয়ে সিবিএন টিভিও গড়ে তুলে হবে। তিনি প্রথম আলো পত্রিকার কাণ্ডারি হিসেবে সহকর্মী মনজুরুল হকের নিরলস কাজের প্রশংসা করেন। মনজুরুল হক তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, প্রথম আলো পত্রিকার জন্য কাজ করতে গিয়ে তিনি নিজের সন্তান জন্মের দিনক্ষণের কথাও জানাননি। কাজকে এভাবেই প্রাধান্য দেয়ার চর্চার মাধ্যমে পত্রিকাটির এগিয়ে চলা এবং সিবিএন টিভিও একইভাবে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

1 13

অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি পর্যায়ে ইব্রাহীম চৌধুরী সিবিএন টিভির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন  ঘোষণা করেন এবং দর্শকদের স্ক্রিনে টিভির প্রামাণ্য অনুষ্ঠান দেখানো হয়। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার দুইজন সকর্মিকে তাদের কাজের জন্য সম্মাননা জানানো হয়। এরমধ্যে একজন হচ্ছেন পত্রিকাটির সাহিত্য সম্পাদক এইচবি রিতা এবং অন্যজন হচ্ছেন রিপোর্টার রুদ্র মাসুদ। তাদের নাম ঘোষণা করেন কবি রওশন হাসান এবং ফার্মাসিস্ট, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি সুমাইয়া চৌধুরী।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্মানজনক ‘কবিতার এক পাতা’ র সম্পাদক ফারুক ফয়সল তাঁর বক্তৃতায় পত্রিকাটির যাত্রাপথ তুলে ধরেন এবং নানা কঠিন বাস্তবতার মধ্যে এ পত্রিকাটির সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও কবিতার উৎকর্ষতায় ভূমিকা রাখতে পারছেন বলে জানালেন।    
প্রথম আলো নারী লেখক সাংবাদিকদের মধ্যে রওশন হক তাঁর বক্তৃতায় বলেন, নিউইয়র্কে প্রথম আলো প্রকাশিত হওয়ার পর এখানকার অনেকেই নিজেদের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছেন। লেখক হওয়া বা সাংবাদিক হওয়ার জন্য ভালোবেসে সবাই এক প্লাটফর্মে যুক্ত থাকতে পারছেন। তিনি বলেছেন, মান যাই হোক সবাই মুক্তভাবে এ পত্রিকার মাধ্যমে লেখালেখি করে নিজেদের উৎকর্ষ অর্জনে সক্ষম হচ্ছেন এবং এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে  
প্রথম আল উত্তর আমেরিকার লেখক সাংবাদিক এবং ‘টক অব দ্যা উইক’ অনুষ্ঠানের সংগঠকদের মধ্যে সোহানা নাজনীন, ফরিদা ইয়াসমীন এবং রোকেয়া দীপা বলেছেন, তারা নির্ভয়ে কাজ করার সাহস পেয়েছেন প্রথম আলোর মাধ্যমে এবং নিজেদের যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে পেরেছেন। প্রথম আলো তাদের জন্য একটি ভালোবাসার প্লাটফর্ম বলে তারা উল্লেখ করেন। লেখক সাংবাদিক শেলী জামান খান, ভায়লা সালিনা, রুপা খানম, বিলকিস সুমি, সেমু আফরোজা, বদরুন নাহার, ইসমত হানিফা, কান্তা কাবির, মনীষা তৃষা তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেছেন, প্রথম আলো দূর দেশে দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে কাজ করছে এবং এ পত্রিকাকে তারা ভালোবাসার প্লাটফর্ম হিসেবে দেখে থাকেন।
   কুইন্স ডেমোক্র্যাট পার্টির ডিসট্রিক্ট লিডার এট লার্জ অ্যাটর্নী মঈন চৌধুরী বলেছেন, প্রথম আলো পত্রিকার পাশে ছিলেন সব সময়। এখন সিবিএন টিভি করে কমিউনিটিকে সংবাদমাধ্যম হিসেবে তারা যে সার্ভিস প্রদান করবে, তাঁর পাশে তিনি থাকবেন বলে উল্লেখ করেন মঈন চৌধুরী।
নারী সংগঠক সালমা ফেরদৌস বলেছেন, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা নারীদের নিয়ে কাজ করে নিউইয়র্কে ব্যতিক্রম সৃষ্টি করেছে। সিবিএন টিভিও একইভাবে নারীদের প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

1 8

প্রবীণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ প্রথম আলো পত্রিকার ৮ম বর্ষে পদার্পণে আশীর্বাদ প্রদান করেন। অপর প্রবীণ সম্পাদক নাজমুল আহসান বলেছেন, কমিউনিটি নির্মাণে সংবাদপত্রই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। প্রথম আলোর মতো সিবিএন টিভিও একই প্রত্যয় নিয়ে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। টাইম টিভির সিইও এবং বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের সহযোগী সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার পাশে আছেন বলে উল্লেখ করেন। অন্যান্য পত্রিকা সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোল্ডেন এজ হোমকেয়ারের সিইও এবং আজকাল পত্রিকার সম্পাদক শাহনেওয়াজ, প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, নবযুগ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর, মুক্তচিন্তা সম্পাদক ফরিদ আলম, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, নিউইয়র্ক সময় পত্রিকার সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকু এবং প্রধান সম্পাদক দর্পন কবির, শওকত রচি, শামসুন নাহার নিম্মি, এনামুল হক, জলি রহমান, সাংবাদিক ফিরোজ কবির,রিমন ইসলাম,ড:বিলকিস দোলা, মোস্তফা অনীক রাজ প্রমুখ।
বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন এক লাইন গান গেয়ে প্রথম আলোর প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা জানান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবং কথা বলেছেন শোটাইম মিউজিকের আলমগীর খান আলম, মঈনুল হক চৌধুরী হেলাল, সেকিল চৌধুরী,তোফায়েল চৌধুরী, রওশন জাহান, জন সংগঠক সৈয়দ ফজলুর রহমান, লায়ন আহসান হাবীব, জাকির হোসেন, কবি স্বপ্ন কুমার, কবি মাসুম আহমেদ, সৈয়দ উতবা, মিয়া মোহাম্মদ আছকির, লেখক ফজলুর রহমান চৌধুরী, আব্দুল হাই, মোহাম্মদ কে আহমদ, ঊষা রহমান, ডেইজী, মাহবুব চৌধুরী, অ্যাটর্নি খায়রুল বাশার, ইমাম  কাজী কাইয়্যুম , মোহাম্মদ নাসির শিকদার, ঝর্না চৌধুরী, শামসুদ্দিন বশির, রানু ফেরদৌস,আব্দুল কাইয়ুম, আহমেদ হোসেন, ডাঃ এম হাসান, বেনজীর শিকদার,  জাহিদা আলম, আমানউদ্দৌলা, মুকুল হক, আজাদ উদ্দিন, মামুনুর রশীদ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, ফারমিছ আখতার, তাজউদ্দিন আহমেদ, মনিজা রহমান, জয়তূর্য চৌধুরী, এডভোকেট জয় আচার্য, এডভোকেট শামীম আহমেদ সিদ্দিকী, ফরিদা ইয়াসমীন, প্রতীক রহমান, ফটো সাংবাদিক সানাউল হক, আমজাদ হোসেন, জুলহাস কবির, মোহাম্মদ দিপু, অনির্বাণ খন্দকার, এমবি তুষার, রেজাউল করিম রাজু, এম এইচ পাহলভি, সানজিদা উর্মী, সানজিদা আখতার, সিপিএ আবু নাসের, রিনা শাহা, মোহাম্মদ কে আহমেদ, সুজন মিয়া প্রমুখ।
ইমাম কাজী কাইয়্যুমের বক্তব্য রাখেন এবং ইফতারের জন্য আজান দেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। ইফতার ও নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠান শেষে অনেকেই বলেছেন, এমন স্বতঃস্ফূর্ত অনুষ্ঠানে তারা কমই উপস্থিত হতে পারেন। সতর্ক ভাবে অসতর্ক অনুষ্ঠান বিন্যাসে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ৮ম বর্ষে পদার্পণ এবং সিবিএন টিভির যাত্রা লগ্ন অনেকের কাছেই স্মরণীয় থাকবে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।  
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা ৮ম বর্ষে পদার্পণ এবং সিবিএন টিভির উদ্বোধন উপলক্ষে ১১২ পৃষ্ঠার একটি পৃথক ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করেছে এসেনসিয়াল হোম কেয়ার, রাজু ল’ ফার্ম এবং আব্রাহাম ল’ গ্রুপ। এছাড়া পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং পৃষ্ঠপোষকসহ সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পত্রিকাটির সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী।  

সংবাদপত্রের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সম্মানে এ জেড এম গ্রুপের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠান

সম্পাদক ও সাংবাদিকদের হাতে দ্য বে ওয়েভ ও জয় বাংলাদেশ
এর দ্বিতীয় সংখ্যা তুলে দিলেন আবু জাফর মাহমুদ

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সম্মানে  ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানে ইংরেজি সাময়িকী দ্য বে ওয়েভ  ও বাংলা সাময়িকী জয় বাংলাদেশ এর দ্বিতীয় সংখ্যার প্রকাশনা উদ্বোধন করা হয়েছে। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটস এর শেফস মহল রেস্তোরায় ওই ইফতার অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা সংবাদপত্রের সম্পাদক, ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দ্য বে ওয়েভ ও জয় বাংলাদেশ সম্পাদক গ্লোবাল পিস অ্যামব্যাসেডর স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ সম্পাদক সাংবাদিকদের নজিরবিহীন আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটির সংবাদপত্রের প্রকাশক, সম্পাদক, টেলিভিশনের সত্ত¦াধিকারী, সাংবাদিক আমরা সবাই একটি পরিবার। বহুদিন ধরে আমরা আমাদের অভিযাত্রা অব্যাহত রেখেছি। যারা অনেক আগেই এই যাত্রা শুরু করে অন্যান্যদের জন্য পথ তৈরি করেছেন, অনুপ্রাণিত করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা এখন একই সংগ্রামে হাতে হাত ধরে এগোচ্ছি। এটিই আমাদের সমাজ শক্তি। আমাদের কমিউনিটিকে সেবা দিচ্ছি ও আমেরিকার সেবায় অংশ নিয়েছি।

20240328 190429

অনুষ্ঠানে অনেকের মধ্যে সাপ্তাহিক ঠিকানা সম্পাদক এম এম শাহীন, পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, টাইম টিভি’র সত্তাধিকারী আবু তাহের, লেখক সাংবাদিক আনোয়ার হোসেইন মনজু, চ্যানেল আই এর ব্যুরো প্রধান রাশেদ আহমেদ, এমসি টিভির সত্তাধিকারী কাজী শামসুল হক, দেশ সম্পাদক মিজানুর রহমান, জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, হককথা সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন, এনওয়াই কাগজের প্রদায়ক সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদার, চ্যানেল টিটির সত্তাধিকারী শিবলী চৌধুরি কায়েস, সাংবাদিক অভিক সানোয়ার রহমান মোহাম্মদ হোসেন দিপু, কানু দত্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদক ও সাংবাদিকবৃন্দ স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদের সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রশংসা করে বলেন, তিনি বহু আগেই অসাধারণ এক কলমসৈনিকের সাক্ষর রেখেছেন। নতুন দুটি পত্রিকার মাধ্যমে তিনি মানব সেবা ও জীবন সংগ্রামের এক নতুন ধারার সূচনা করলেন।

20240328 183916

“স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসকে এক করে দেখা যাবে না”
স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ মহান স্বাধীনতা দিবস স্মরণে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবসকে এক করে দেখা যাবে না। দুই দিবসের বক্তব্য দুই রকম। প্রেরণা দুই রকম, ভুমিকাও দুই রকম।   ২৫শে মার্চ আমাদের বাধ্য করেছিল ২৬ মার্চ জন্ম দিতে। আমরা জন্মগতভাবেই ছিলাম পাকিস্তানী। পাকিস্তান আমাদের দেশ ছিল। যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমাদের ওপর আক্রমন করলো, সেই আক্রমণ ছিল যুদ্ধের আক্রমণ। ধ্বংসের আক্রমন। গোটা জাতির ওপর লক্ষ্য ঠিক রেখেই আক্রমণটা করা হয়। যাতে বাঙালি জাতিকে নির্মূল করে ফেলা যায়। এর মোকাবিলায় আমাদের সশ্রস্ত্র শক্তির পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। এটা কোনো রাজনীতি নয়, এটা কোনো সাহিত্য চর্চা নয়। এই যুদ্ধ ছিল বেঁচে থাকার যুদ্ধ। এই যুদ্ধ আমাদের প্রতিরোধ যুদ্ধ। এই প্রতিরোধ যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় মুুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো।

20240328 185425

প্রতিরোধ যুদ্ধটি ছিল পুরোপুরিভাবে সামরিক যুদ্ধ। রাজনীতিবিদরা তখন সিদ্ধান্তহীন ছিলেন, আমরা গোটা জাতিই তখন সিদ্ধন্তহীন ও কিংকর্তব্যবিমুঢ় ছিলাম। সেদিনের ক্যাপ্টেন রফিক ইপিআর-এ তার কমা-ারকে হত্যা করে এসে যুদ্ধে অংশ নিলেন। তিনি তার সিনিয়র হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমানকে খুঁজে নিয়ে চট্টগ্রামে এ কে খান সাহেবের সঙ্গে বৈঠক করে বেঙ্গল রেজিমেন্টের তরফ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন। এর মধ্য দিয়েই আসলো আমাদের সশস্ত্র যুদ্ধের প্রেরণা।  

20240328 191719

আমরা গর্বিত আমাদের সেই বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, পুলিশ, আনসারের এর প্রতি। সেদিন তারা আমাদের যুদ্ধের পথ রচনা করেছেন, জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে গেছেন, প্রতিরোধ যুদ্ধ সৃষ্টি করেছেন। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

দোয়া ও মোনাজাত করেন জহ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টারের খতিব মাওলানা আব্দুস সাদিক।