Home Blog Page 584

ক্ষমতার দিবাস্বপ্ন দেখছে বিএনপি : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ক্ষমতার দিবাস্বপ্ন দেখছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসে দিবাস্বপ্নে বিভোর। বিদেশে আওয়ামী লীগের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। বিএনপির প্রভু আছে। যারা তাদের স্বার্থের পক্ষে ওকালতি করে। আমাদের বন্ধুরা একাত্তরের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো বিদেশী বন্ধু কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু বিএনপির প্রভুরা যখন নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করেছিল তখন আমাদের বন্ধুরা নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ়ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল।
গতকাল বিকেলে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধের কথা নেই, বঙ্গবন্ধুর কথা নেই। এরা পাকিস্তানের দালাল। বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ভুয়া। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এই সমাবেশ। এখানে মুক্তিযোদ্ধা হাতে গুনলে কয়েকজনকে পাবেন। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাস করে না, তারা কখনো মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না। এরা দালাল। এই দালালদের বিরোধিতার কারণেই ২৫ মার্চ গণহত্যার স্বীকৃতি এবং পাকিস্তান থেকে ক্ষতিপূরণ পাইনি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এ দেশে অবস্থান করা পাকিস্তানি নাগরিকরা দেশের বোঝা হয়ে আছে। পাকিস্তান কথা দিয়েও তাদের নাগরিকদের ফেরত নেয়নি। একাত্তরে গণহত্যার জন্য পাকিস্তান একটিবারও দুঃখ প্রকাশ করেনি। পাকিস্তানের কোনো সরকারি লোক একাত্তরে যুদ্ধাপরাধীর জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশের কাছে এযাবৎ ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। সেই পাকিস্তানের যারা দালালি করে তারা আমাদের স্বাধীনতার শত্রু। বিএনপি পাকিস্তানের দালালি করে এরা আমাদের শত্রু। এরা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের দালালে বাংলাদেশ ভরে গেছে। ২৫ মার্চ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে হলে এই দালালদের প্রতিহত ও পরাজিত করতে হবে।
এ সময় ওবায়দুল কাদের বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চান, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় ছিলেন? কোথায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন? কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন? বিএনপি মহাসচিবকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ফখরুল সাহেব আপনিও রিজভীর মতো মাথা গরম করবেন না। বেশি কথা বললে হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দেবো- বিএনপি নেতারা ভারতীয় পণ্য কে কিভাবে ব্যবহার করে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

কমিউনিটিতে সাড়া ফেলেছে খলিল বিরিয়ানির সেহরি পার্টি

গত শনিবার ২৩ মার্চ রাতে অনুষ্ঠিত হলো কমিউনিটিতে সাড়া জাগানো শেফ খলিলের সেহরী পার্টি। ব্রঙ্কসের খলিল বিরিয়ানি হাউজের ফুড কোর্টের সুপরিসর রুমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এই স্পেশাল সেহরির আয়োজন করা হয়। প্রেসিডেন্ট বাইডেন পদক এবং বৃটিশ কারী অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত সেফ খলিলুর রহমান রাত জেগে নিজ হাতে রোজাদারদের সেবা দিতে সেহরী প্রস্তুত করেন। ওপেন বাফেটের সেহরী খাবারে নানা ধরনের বৈচিত্রময় খাবারের আয়োজন ছিলো। ইলিশ মাছ ভুনা থেকে কয়েক পদের মাছের তরকারী, গরু-খাসি ভুনা, সাদা ভাত, পোলাও, নান রুটি, কলা, দুধ, নানা রকমের ফল, মিস্টি ইত্যাদি। ছিলো চা, কফি সহ নানা আয়োজন।

রেস্তোরাঁর দেয়ালে টাঙানো ঘড়িতে তখন রাত দুটো। অথচ সন্ধ্যায় ইফতারের সময়ের যেমন জমজমাট অবস্থা থাকে, তেমনই দেখা গেল ব্রঙ্কসের খলিল ফুড কোর্টে। নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে রীতিমতো গমগম করছিল সুপরিসর রেস্তোরাঁটি। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মতো। কুইন্স, নর্থ ব্রঙ্কস সহ নানা এলাকার মানুষ ছুটে এসেছিলেন খলিলের সেহরি পার্টির মজাদার খাবার উপভোগ করার জন্য।

মিডিয়াকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, নবযুগ সম্পাদক সাহাব উদ্দীন সাগর, সাংবাদিক শাহেদ আলম, সাংবাদিক দিদার চৌধুরী, ইউএস নিউজ অন লাইন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসন সেলিম, ফটো সাংবাদিক এমবি তুষার, টাইম টিভির ব্রডকাস্ট ইঞ্জিনিয়ার সামিউল ইসলাম, তার সহধর্মিনি আশরাফি পলক প্রমুখ।

কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন স্বপরিবারে এডভোকেট এন মজুমদার, সিপিএ জাকির চৌধুরী, বাফার প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন, বিবিএ সাধারণ সম্পাদক এ ইসলাম মামুন, কমিউনিটি নেতা মোজাফফর হোসেন, কামরুজ্জামান বাবু, যুবলীগ নেতা জামাল হোসাইন, সুমন চৌধুরী, স্বপন তালুকদার, কারেকসন অফিসার কাজী রাশিদুল হাসান, জাসদ নেতা নুরে আলম জিকু সহ আরো অনেকে।
কুইন্স থেকে এসেছিলেন শো টাইম মিউজিকের আলমগীর খান আলম, রিয়েলটর নুরুল আজিম, আহসান হাবীব সহ অন্যান্যরা।

শেফ খলিল জানান, আজকে সেহরী পার্টিতে যে অভাবনীয় সারা পেয়েছি তাতে আমি অভিভুত। আমি আগামীতেও আরো সেহেরী পার্টির আয়োজন করতে চাই। আগামীর এমনি আয়োজনে তিনি কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি কামনা করেন। মধ্যরাত থেকে ভোরের আজান অবধি অতিথিরা চুটিয়ে আড্ডা দেন এই সেহরি পার্টিতে।

মালয়েশিয়ায় সরাসরি পাসপোর্ট পেলেন দেড় হাজার প্রবাসী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সরাসরি পাসপোর্ট পেলেন দেড় হাজার প্রবাসী। শনি ও রোববার দেশটির ছুটির দিনে হাইকমিশনের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। দেশটিতে চলমান অবৈধদের বৈধকরণ, রিক্যালিব্রেশন ২.০ প্রক্রিয়ার আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে বৈধকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে সেইলক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে দ্রুত পাসপোর্ট ডেলিভারির নির্দেশনা দিয়ে আসছে হাইকমিশন।

হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের প্রথম সচিব মিয়া মোহাম্মাদ কেয়াম উদ্দিন জানান, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসানের নির্দেশে ছুটির দিনেও পাসপোর্ট সেবার পাশাপাশি অন্যান্য সেবা চালু রয়েছে। শুধু পাসপোর্ট বিতরণই নয়, যাদের পাসপোর্ট আবেদনে তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে, দুদিনে এরকম প্রায় সাড়ে ৪শ’র অধিক আবেদনকারীদের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।

হাইকমিশন সূত্র জানায়, দেড় হাজার পাসপোর্টসহ সরাসরি ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৮০ হাজার পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ দেশটির জোহর প্রদেশে অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ থেকে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাসপোর্ট বিতরণ ও কন্স্যুলার সেবা প্রদান করা হবে। সেক্ষেত্রে ২৫ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

মালয়েশিয়া থেকে ফিরে এলেন আড়াই হাজার বাংলাদেশি

প্রত্যাবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আড়াই হাজারের বেশি বাংলাদেশি। চলতি মাসে শুরু হওয়া অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৫৩০ অবৈধ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। গত ১ মার্চ দেশটিতে অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি চালু হওয়ার পর ২০ দিনে এই বাংলাদেশিরা জরিমানা দিয়ে দেশে ফিরেছেন।

বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা ও মালয়েশিয়া গেজেটের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় গত ২০ দিনে ১১ হাজার ৯৪৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি আছেন ২ হাজার ৫৩০ জন।

দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক রুসলিন জুসোহ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৮২৪ জন নথিবিহীন অভিবাসী নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। নিবন্ধনকৃতদের মধ্যে ১২ হাজার ৪৯৫ জন পুরুষ, ৩ হাজার ৭২৮ জন নারী, ৩১০ জন তরুণ এবং ২৯১ জন তরুণী রয়েছেন।

রুসলিন বলেন, কর্মসূচিতে অবৈধ অভিবাসীদের সর্বোচ্চ সংখ্যক নিবন্ধন করেছেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। ৭ হাজার ৭৮২ জন ইন্দোনেশীয় দেশে ফেরত যেতে নিবন্ধন করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ২ হাজার ৫৩০ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এরপরই ভারতের ২ হাজার ৪৫৪ জন এবং পাকিস্তানের এক হাজার ৬১৭ জন নাগরিক।

রুসলিন বলেন, বাংলাদেশিদের মধ্যে অন্তত ৯৪ জন তাদের নিয়োগকর্তার মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন। তাদের সবাইকে চাকরির নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই কর্মীদের কাউকে আটক করা হয়নি। অভিবাসন বিভাগ তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা দিয়েছে। কারণ তারা অভিবাসন আইনে কোনো অপরাধ করেননি। নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশি এই কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে জানিয়েছেন রুসলিন জুসোহ।

যুক্তরাষ্ট্রে এনএসইবি’র সদস্য হ‌চ্ছেন বাংলা‌দে‌শি ওসমান সিদ্দিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন বোর্ড (এনএসইবি) বা জাতীয় নিরাপত্তা শিক্ষা বোর্ডের সদস্য হিসেবে দেশ‌টির প্রে‌সি‌ডেন্ট জো বাইডেনের মনোনয়ন পেয়েছেন একজন বাংলাদেশি মার্কিন নাগরিক। শুক্রবার (২২ মার্চ) হোয়াইট হাউজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এম. ওসমান সিদ্দিক বিশিষ্ট বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ উপাচার্য মরহুম অধ্যাপক ড. এম ওসমান গণির সন্তান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের ভাই।
২২ মার্চ হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতি থেকে ওসমান সিদ্দিকের মনোনয়নের তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা শিক্ষা বোর্ডের সদস্য হওয়ার জন্য দেশ‌টির প্রে‌সি‌ডেন্ট জে বাইডেনের পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি মার্কিন রাজনীতিবিদ এম ওসমান সিদ্দিক। শুক্রবার (২২ মার্চ) হোয়াইট হাউজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওসমান সি‌দ্দিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের ভাই।
হোয়াইট হাউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ সদস্যের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন বোর্ড (এনএসইবি) ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন প্রোগ্রামের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও তদারকি প্রদান করে থাকে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন প্রোগ্রাম ডেভিড এল. বোরেন স্কলারশিপ ও ফেলোশিপসহ একাধিক ফেলোশিপ এবং পুরষ্কার দিয়ে থাকে। এর উদ্দেশ্য হলো বিদেশি সংস্কৃতি ও ভাষাকে কার্যকরভাবে বোঝার এবং যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো।
এনএসইবি মূলত অলাভজনক সংস্থার বিশেষজ্ঞ ও একাডেমিয়া থেকে যারা জাতীয় নিরাপত্তা শিক্ষা কর্মসূচিতে মূল্যবান সহায়তা প্রদান করে তারাসহ রাষ্ট্রপতির নিয়োগপ্রাপ্ত ছয় সদস্য নিয়ে গঠিত।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী এম. ওসমান সিদ্দিক হলেন প্রথম আমেরিকান মুসলমান ও বাংলাদেশি আমেরিকান যিনি ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ফিজি, নাউরু, টঙ্গা ও টুভ্যালুতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও চিফ অব মিশন ছিলেন।
আমেরিকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করার স্বপ্নপূরণ ও সুযোগ অন্বেষণের লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ফরচুন ম্যাগাজিনের তালিকাভুক্ত ৫০০ কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর তিনি হয়ে ওঠেন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা ও গর্বিত আমেরিকান নাগরিক। সিদ্দিক তার স্ত্রীর সঙ্গে ভার্জিনিয়াতে বাস করেন। সেখানকার জনসমাজের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিপি।এসএম

নিউ ইয়র্কের কন্স্যুলার সেবা নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন বাংলাদেশ সোসাইটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিউ ইয়র্কে কন্স্যুলার সেবার মান নিয়ে এবার প্রকাশ্যে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন ভাঙলেন বাংলাদেশ সোসাইটি। গত রোববার (২৪ মার্চ) কুইন্সের তিব্বতিয়ান কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ সোসাইটি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মেদ রব মিয়া ওরফে আব্দুর রব কনস্যুলার সেবা প্রদানে কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদার দায়িত্বহীনতার কথা জনগণের সামনে তুলে ধরেন।
আব্দুর রব অভিযোগ করে বলেন, অতীতে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হতো, কিন্তু নতুন কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা দায়িত্বে আসার পর অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কর্মজীবী প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর্মদিবসে কাজ বন্ধ করে সেবা নিতে কনস্যুলেটে যেতে পারেন না। অতীতে এ জন্য কনস্যুলার সেবা প্রদানে কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রংকসে ছুটির দিনে মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প স্থাপন করতো। শতশত মানুষ সেবা নিতেন। বাংলাদেশিদের ট্যাক্সের অর্থে কনস্যুলেট পরিচালিত হয়। পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট, নো ভিসা ইস্যুসহ নানা কনস্যুলার সেবা দেয়া তাদের দায়িত্ব। জেনারেল নাজমুল হুদা দায়িত্বে আসার পর কেন তা বন্ধ হয়ে গেছে প্রবাসীরা কেউ জানেন না।
আব্দুর রব বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি একাধিকবার তার সাথে দেখা করে কনস্যুলার সেবা প্রদানের আহ্বান জানায়। তিনি সহায়তার হাত বাড়াননি। সভাপতি রব মিয়া যখন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন ইফতার পার্টিতে উপস্থিত কনস্যুলেটের কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ তার বক্তব্য শুনছিলেন। তিনি কিছু বলার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সে সুযোগ আর পাননি।
এ বিষয়টি প্রকাশের পর নিউইয়র্কস্থ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদার নিউ ইয়র্কের বাংলা গণমাধ্যমকে বলেন, সভাপতি রব মিয়া জনসন্মুখে সঠিক বক্তব্য তুলে ধরেন নি। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে কথা বলেছেন। আমি তাকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলেছি, একই শহরের ভেতর মোবইল টিম পাঠিয়ে কনস্যুলার সেবা প্রদানে ঢাকা থেকে আসা অডিট টিম আপত্তি তুলেছে। এ ধরনের কনস্যুলার ক্যাম্প স্থাপনে অর্থ খরচের ব্যাপার থাকে। এতেই অডিট টিমের আপত্তি। নিউইয়র্ক সিটির বাইরে, যেমন বাফেলো, আটলান্টিক সিটি, বোস্টন বা কানেকটিকাটে ক্যাম্প স্থাপনে তাদের কোনো বাধা নেই। অতীতে তো সিটির ভেতর বিভিন্ন এলাকায় হয়েছে। এখন বন্ধ করলেন কেন? জবাবে নাজমুল হুদা বলেন, অডিট ডিপার্টমেন্টের আপত্তির কারণেই। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা অডিট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা পেলে সিটির বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল টিম পাঠিয়ে কনস্যুলার সেবা আমরা দিতে পারবো।

বিপি।এসএম

পাকিস্তান ক্ষমা না চাইলে সুসম্পর্ক হবে না

একাত্তরের পঁচিশে মার্চ, রাত দশটা। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন। বারোজনের একটি পরিবার প্ল্যাটফরমে পৌঁছে দেখল একটু আগেই উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনটা চলে গেছে। ওটাই ছিল শেষ ট্রেন, আর কোনো ট্রেন নেই। পরিবারটি বিপদে পড়ল। ট্রেন নেই, ঘরে ফিরে যাওয়ার মতো কোনো যানবাহনও স্টেশনে নেই। স্টেশনে যারা ছিলেন, ছোটাছুটি করে যে যেদিকে পারেন পালিয়ে যাচ্ছেন। শহরে পাকিস্তান আর্মি নেমেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সবাই আতঙ্কিত।
স্টেশন মাস্টার বারোজনের পরিবারটিকে একটি ওয়েটিং রুম খুলে দিয়ে বললেন সেখানেই রাতটা কাটিয়ে দিতে। তিনি সাবধান করে দিয়ে বললেন ‘কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। খবর পেলাম আর্মি এদিকেই আসছে। যাই হোক, আমি আমার অফিস ঘরেই থাকব।’
ভয়াল রাতে কমলাপুরে
এরপরেই শুরু হয়ে গেল পাকিস্তানি হানাদারদের তাণ্ডব। ট্রাক থেকে নেমেই সৈন্যরা যাকে যেখানে পেল সেখানেই গুলি করে মারল। স্টেশন মাস্টারও রেহাই পেলেন না। তাকে তার অফিস ঘরেই গুলি করে হত্যা করা হলো। বারোজনের পরিবারটি আলো নিভিয়ে ওয়েটিং রুমে দরজা বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকায় তারা বেঁচে গেল। কিন্তু জানালার ফাঁক দিয়ে দেখল কিভাবে নিরস্ত্র নিরীহ মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে।
২৭ মার্চ সকাল ৮টায় কারফিউ উঠে যাওয়া পর্যন্ত পরিবারটি ওয়েটিং রুমে আটকে ছিল। তাদেরই একজন শাহানা পারভীন ‘ভয়াল রাতে কমলাপুর স্টেশনে’ শীর্ষক এক নিবন্ধে ২৫-২৬ মার্চের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। নিবন্ধটি প্রকাশিত হয় ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রাঙ্গণ’-এর চতুর্থ বর্ষ চতুর্থ সংখ্যায় (জানুয়ারি-মার্চ ২০০৮)।
শাহানা পারভীন তার নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, তারা প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ওয়েটিং রুমের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন। এ সময় এক মিনিটের জন্যও গোলাগুলি থামেনি। গোলাগুলির শব্দের সঙ্গে শোনা গেছে মানুষের আর্তচিৎকার। স্টেশনের প্ল্যাটফরমে রক্তের স্রোত। মৃতদেহগুলোর পা ধরে টেনে নিয়ে মালগাড়ির ওয়াগনে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। সব দোকানপাট ভেঙে তছনছ করা হয়। প্ল্যাটফরমের সবখানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ, বালি দিয়ে ঢেকে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
হানাদারদের নৃশংসতা
কমলাপুর স্টেশনে দুই রাত একদিনে বহু প্রাণহানির কথা শাহানা পারভীন বললেও কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন সে তথ্য দিতে পারেননি। অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে সেটা সম্ভবও নয়। কিন্তু অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীর কাছে যা শুনেছি তা ভয়াবহ। কমলাপুর স্টেশন থেকে উত্তরে মুগদা পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশে এবং দক্ষিণে গোপীবাগ রেলগেট পর্যন্ত শত শত বস্তি ও কাঁচাঘর ছিল। দক্ষিণ কমলাপুরেও বড় বস্তি ছিল। এগুলোর একটিও হানাদারদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি। পাকিস্তানি সৈন্যরা সবকটি বস্তি ও কাঁচাঘরে আগুন দিয়েছে। ঘরের ভেতরে যারা ছিল, তারা পুড়ে মরেছে, যারা বাইরে আসার চেষ্টা করেছিল, তাদের গুলি করে মারা হয়েছে।
কমলাপুর স্টেশনের ছাদ থেকে সৈন্যরা ভারী মেশিনগান দিয়ে গোপীবাগ রেলগেটের দিকে অবিরাম গুলি ছুড়েছে, এতেও বহু লোক মারা যান। ২৭ মার্চ সকালে কারফিউ উঠে যাওয়ার পর গোপীবাগ রেলগেট সংলগ্ন জামে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে অনেক গুলিবিদ্ধ লাশ দেখা গেছে। হানাদাররা মসজিদকেও রেহাই দেয়নি।
কমলাপুর স্টেশন এবং এর আশপাশের বস্তি এলাকায় সেই দুই রাত একদিনে কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন? কমলাপুর, মুগদা ও গোপীবাগ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা যারা সে সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন, যারা প্রত্যক্ষদর্শী, তারা সবাই একমত যে, সে সময় ওই এলাকায় অন্তত পাঁচ হাজার লোক নিহত হন।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে যে গণহত্যা শুরু করেছিল, তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এ অপারেশন দুই দিন ধরে চলেছিল সমগ্র ঢাকা মহানগরীতে। কমলাপুর স্টেশন ছাড়াও এ অপারেশনের প্রথম টার্গেট ছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানায় ইপিআর হেডকোয়ার্টার্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
পিলখানা, রাজারবাগে প্রতিরোধ
উল্লিখিত তিনটি স্থানে একই সময়ে হামলা শুরু করা হয়। তবে রাজারবাগে পুলিশ বাহিনী ও পিলখানায় ইপিআরের বাঙালি সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং অনেকক্ষণ হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। গুলি বিনিময়ে বেশ কিছুসংখ্যক বাঙালি পুলিশ ও ইপিআর সৈনিক শহিদ হন। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হানাদার বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতিও কম ছিল না। রাজারবাগে এক পর্যায়ে বাঙালি পুলিশরা পিছু হটে গেলে হানাদাররা পুলিশের সবকটি ব্যারাক ও ছাউনি পুড়িয়ে দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একইসঙ্গে ছাত্রাবাস ও শিক্ষকদের আবাসিক ভবনে আক্রমণ শুরু হয়। জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, রোকেয়া হল এবং শিক্ষকদের কয়েকটি আবাসিক ভবন ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। ছাত্রাবাসগুলোতে যারা অবস্থান করছিলেন, তাদের কেউ বাঁচতে পারেননি। কিছুসংখ্যক শিক্ষককে তাদের বাড়িতে গিয়ে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়। তাদের একজন অধ্যাপক জি সি দেব। ধারণা করা যায়, হানাদাররা শিক্ষকদের তালিকা নিয়ে এসেছিল এবং এ তালিকা তৈরি করেছিল পাকিস্তানিদের এদেশীয় এজেন্টরা। মধুর ক্যান্টিনের মধুদাও এ তালিকায় ছিলেন। তার বাড়িতে গিয়ে তাকে সৈন্যরা হত্যা করে। নিউমার্কেটের পশ্চিম দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের দোতলা ছাত্রাবাস ছিল। সেখানেও পঁচিশের রাতেই সৈন্যরা প্রতিটি কক্ষে ঢুকে ছাত্রদের গুলি করে মারে।
পঁচিশে মার্চ রাতে ও পরদিন সকালে ঢাকা শহরে যত বস্তি ও কাঁচাবাজার ছিল, সবকটিতে আগুন দেয় পাকিস্তানি সৈন্যরা। বস্তিবাসী আগুনে পুড়ে মরেছে অথবা ঘর থেকে বের হলে গুলি খেয়েছে। কাঁচাবাজারগুলোতে রাতেও কিছু লোক থাকে। আগুনে তারাও দগ্ধ হয়েছে পণ্যসামগ্রীর সঙ্গে। পঁচিশে মার্চ ক্র্যাকডাউনের সময় বহু লোক রাস্তায় ছিলেন; রিকশায় অথবা যানবাহনে অথবা হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের মধ্যে কমসংখ্যকই বাঁচতে পেরেছেন।
ওরা কত মানুষ মেরেছে
একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে ২৭ মার্চ সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩২ ঘণ্টায় হানাদার বাহিনী ঢাকা নগরীতে কত মানুষকে হত্যা করেছে, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। দখলদার পাকিস্তানি সরকার কোনো হিসাব দেয়নি, পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকারও এ নিয়ে কোনো হিসাব বা জরিপ করেছে বলে জানি না।
তবে ভয়াবহ ওই দুদিনে ঢাকা নগরীতে নিহত মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে আমার নিজের পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও জরিপ রয়েছে। ওই সময়ে আমি ঢাকা শহরের গোপীবাগে নিজ বাসভবনে ছিলাম। কমলাপুর গোপীবাগের কাছেই। কাজেই নিজের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মনে করি কমলাপুর, মুগদা ও গোপীবাগ এলাকায় ২৫-২৬ মার্চে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজার। ঢাকার একটি এলাকাতেই যদি পাঁচ হাজার প্রাণহানি হয়, তাহলে পুরো নগরীতে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেই সময়ে? এক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর হিসাবনিকাশ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
কমলাপুর স্টেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ এবং বিভিন্ন রাস্তা ছাড়াও বস্তিগুলোতেই প্রাণহানি বেশি হয়েছিল। বেশিরভাগ বস্তি ও বাজার পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রয়াত ট্রাস্টি স্থপতি রবিউল হুসাইন গণহত্যা নিয়ে কিছু কাজ করেছিলেন। তিনি এবং আরও অনেকে আমাকে বলেছিলেন, ২৫-২৬ মার্চ ঢাকায় গণহত্যায় প্রাণহানির সংখ্যা কমপক্ষে ২০ হাজার। ৩২ ঘণ্টার বিরতিহীন গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে আমিও নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ঢাকায় সেই দুদিনে প্রাণহানি ২০ হাজারের কম হবে না। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করতে পারেন, তাহলে স্বাগত জানাব। ঢাকায় মার্চের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছাড়াও একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর নিয়াজির আত্মসমর্পণ পর্যন্ত হানাদার বাহিনী সারা দেশে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়েছিল। সরকারিভাবে একাত্তরে গণহত্যার মোট প্রাণহানি ৩০ লাখ বলা হয়েছে এবং সেটাই স্বীকৃত। গণহত্যা ছাড়াও পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের এদেশীয় সহচররা নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধও করেছে।
পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে
পাকিস্তানিরা পরাজয় মেনে নিয়ে মাথা নিচু করে এদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বমানচিত্রে স্থান পেয়েছে। স্বাধীনতার ৫২ বছর পূর্ণ হয়ে ৫৩ বছর হতে চলেছে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার একাত্তরে গণহত্যার জন্য এখনো বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চায়নি। পাকিস্তান যে অপরাধ এখানে করে গেছে, বাংলাদেশের জনগণ তা ভুলে যায়নি, কখনো ভুলবে না।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা-‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’। কিন্তু এ নীতি পাকিস্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। পাকিস্তান যতদিন ক্ষমা না চাইবে, ততদিন সেই দেশ আমাদের ‘শত্রুরাষ্ট্র’ হিসাবেই থাকবে। দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও সুসম্পর্ক কখনোই হবে না, সুসম্পর্ক রাখার প্রশ্নই আসে না।
লেখকঃ চপল বাশার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, লেখক

রোজার আধ্যাত্মিক উপকারিতা

রোজার ফজিলত ও উপকারিতা অনেক। হাদিসে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বুখারি শরিফে বর্ণিত এক হাদিসে আছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোজা ঢালস্বরূপ। সুতরাং রোজা অবস্থায় যেন অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকে এবং অজ্ঞ মূর্খের মতো কোনো কাজ না করে। কেউ যদি তার সঙ্গে ঝগড়া-ফ্যাসাদ করতে চায়, অথবা গালি দেয়, তবে সে যেন দুবার বলে, আমি রোজাদার। ওই সত্তার শপথ যার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ, অবশ্যই রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশাকের ঘ্রাণের চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট। সে আমারই জন্য পানাহার এবং কাম প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করে। রোজা আমারই জন্য, তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে ১০ গুণ। অপর হাদিসে আছে। হজরত সাহল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, জান্নাতের মধ্যে রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে, এ দরজা দিয়ে কেবলমাত্র কেয়ামতের দিন রোজাদার লোকেরা প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে, রোজাদার লোকেরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে, সামনে অগ্রসর হবে, তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে না পারে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, রোজা এবং কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আমার রব! আমি তাকে দিনের বেলা পানাহার ও যৌনক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন এদের সুপারিশ কবুল করা হবে, (মিশকাত) রোজার মধ্যে অনেক উপকারিতা নিহিত আছে। এগুলো সম্বন্ধে হাকিমুল উম্মত হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) ‘আহকামে ইসলাম আকল কি নজর মে’ নামক গ্রন্থে দীর্ঘ আলোকপাত করেছেন। তার মধ্য থেকে কতিপয় বিষয় নিম্নে উল্লেখ করা হলো। ১. রোজা দ্বারা প্রবৃত্তির ওপর আকলের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ এর দ্বারা মানুষের পাশবিক শক্তি অবদমিত হয় এবং রুহানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। কেননা ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে মানুষের জৈবিক ও পাশবিক ইচ্ছা হ্রাস পায়। এতে মনুষত্ব জাগ্রত হয় এবং অন্তর বিগলিত হয় মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের প্রতি কৃতজ্ঞতায়। ২. রোজার দ্বারা মানুষের অন্তরে আল্লাহতায়ালার ভয়ভীতি এবং তাকওয়ার গুণ সৃষ্টি হয়। এ কারণে আল্লাহতায়ালা বলেছেন : যাতে তোমরা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে সক্ষম হও। ৩. রোজার দ্বারা মানুষের স্বভাবে নম্রতা ও বিনয় সৃষ্টি হয় এবং মানব মনে আল্লাহর আজমত ও মহানত্বের ধারণা জাগ্রত হয়। ৪. মানুষের চিন্তা-চেতনা ও দূরদর্শিতা আরও প্রখর হয়। ৫. রোজার দ্বারা মানব মনে এমন এক নুরানি শক্তি সৃষ্টি হয়, যার দ্বারা মানুষ সৃষ্টির এবং বস্তুর গূঢ় রহস্য সম্বন্ধে অবগত হতে সক্ষম হয়। ৬. রোজার বরকতে মানুষ ফিরিস্তা চরিত্রের কাছাকাছি পৌঁছতে সক্ষম হয়। ৭. রোজার বরকতে মানুষের মধ্যে পরস্পরের ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। কেননা যে ব্যক্তি কোনো দিনও ক্ষুধার্ত ও পিপাসিত থাকেনি, সে কখনো ক্ষুধার্ত মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারে না। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি যখন রোজা রাখে এবং উপবাস থাকে, তখন সে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে, যারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে, তারা যে কত দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করছে, আর তখনই অনাহারকৃষ্ট মানুষের প্রতি তার অন্তরে সহানুভূতির উদ্রেক হয়। ৮. রোজা পালন করা আল্লাহর প্রতি গভীর মহব্বতের অন্যতম নিদর্শন। কেননা কারও প্রতি মহব্বত জন্মালে, তাকে লাভ করার জন্য প্রয়োজনে প্রেমিক পানাহার বর্জন করে এবং সবকিছুকে ভুলে যায়। ঠিক তেমনিভাবে রোজাদার ব্যক্তি ও আল্লাহর মহব্বতে দিওয়ানা হয়ে সবকিছু ছেড়ে দেয়, এমনকি পানাহার পর্যন্ত ভুলে যায়। তাই রোজা হলো আল্লাহর মহব্বতের অন্যতম নিদর্শন। ৯. রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ। কেননা একজন রোজাদার ব্যক্তিকে শয়তান কখনোই পরাস্ত করতে পারে না। মানুষের ভিতরে প্রবেশ করার সব কুপ্রবৃত্তির যেসব দরজা রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, তথা নিস্তেজ হয়ে যায়। কোনো প্রকারের চাহিদা থাকে না।
যার ফলে শয়তান প্রবেশের কোনো সুযোগ পায় না। যেন সে মানুষটি শয়তানের কাছে দুর্ভেদ্য প্রাচীরে রক্ষিত। যেমন ফেরেশতার কোনো চাহিদা নেই, তাকে ধোঁকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই রোজা প্রতিটি মানুষকে সফল অন্যায়, অশ্লীল ও গুনাহর কাজ থেকে রক্ষা করে। ১০. রোজার দ্বারা মানুষের শারীরিক সুস্থতা হাসিল হয়। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতে, প্রত্যেক মানুষের জন্য বছরে কয়েকদিন উপবাস থাকা আবশ্যক। তাদের মধ্যে স্বল্প খাদ্য গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। সুফি-সাধকদের মতে, হৃদয়ের স্বচ্ছতা হাসিলে স্বল্প খাদ্য গ্রহণের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। রোজা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর কারণে শরীরে চর্বি জমতে পারে না। পক্ষান্তরে মাত্রাতিরিক্ত পানাহারের ফলে শরীরে অধিকাংশ রোগব্যাধি সৃষ্টি হয়ে থাকে। আল্লাহপাক আমাদের পবিত্র রমজানুল মোবারকের সবগুলো রোজা সুস্থভাবে সুন্দরভাবে রাখার তৌফিক দান করুন, আমিন।
লেখক : মুফতি রুহুল আমিন কাসেমী, ইমাম ও খতিব, কাওলার বাজার জামে মসজিদ, দক্ষিণখান, ঢাকা

হে মহান স্বাধীনতা শুধু তোমারই জন্য

দেখতে দেখতে আমরা ৫৪তম স্বাধীনতা দিবসে পা দিলাম। স্বাধীনতা এক আরাধ্য সম্পদ; মানবসন্তানের জন্মের মতো। যাদের আত্মমর্যাদাবোধ আছে, যারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়, তাদের কাছে স্বাধীনতার চাইতে বড় কোনো সম্পদ নেই। তাই বলা হয়, স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়, কে বাঁচিতে চায়? পৃথিবীর বহু দেশ আলোচনার টেবিলে কথাবার্তা বলে স্বাধীন হয়েছে, অনেক উপনিবেশ একটা সময় পাততাড়ি গুটিয়ে নিজ দেশে চলে গেছে। ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনেও অনেকটা তেমনই হয়েছিল। ভারতবর্ষ যে ব্রিটিশকে নির্বিবাদে থাকতে দেবে না, সেজন্য হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান অনেকেই ব্রিটিশের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ ব্রিটিশ বেনিয়ারা একটা সময় বিনা রক্তপাতে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এটাই নিয়ম। এমনই হয়। পৃথিবীর খুব একটা বেশি দেশ নেই যারা সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাদের মুক্তির সূর্য ছিনিয়ে এনেছে। আর আমাদের মতো এত অল্প সময়ে অত রক্ত খুব কম দেশই বিসর্জন দিতে পেরেছে। তাই আমাদের স্বাধীনতা কোনো ছেলের হাতের মোয়া নয়, বুকের রক্তের দামে কেনা। এ দেশের আপামর জনসাধারণ বড় বেশি কষ্ট করেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করতে।
স্বাধীনতার এই ৫৩ বছরে আমাদের শান্তি সুস্থিতি অগ্রগতি যতটা হওয়ার ছিল হয়তো ততটা অর্জন করতে পারিনি। কিন্তু জাতীয় উন্নয়ন তেমন হয়নি এমনটা কোনোভাবেই বলা বা ভাবার সুযোগ নেই। আমাদের ১ কোটির ওপর মানুষ বিদেশবিভুঁইয়ে বাস করে, যার ৩৬ থেকে ৪০ লাখই সৌদি আরবে। তারা গঙ্গার পানির স্রোতের চাইতেও দ্রæতগতিতে অর্থ-সম্পদ পাঠিয়ে দেশ বিনির্মাণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদিও তাদের এই ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন কখনো কোনো সময়ই হয়নি। আমরা স্বাধীন না হলে আজও পাকিস্তানের পদানত থাকলে ১ কোটি বা তার ঊর্ধ্বে কর্মসংস্থানে বিদেশে যাওয়া তো দূরের কথা, পাকিস্তানের কাঠামোয় আমরা ১ লাখ পাসপোর্ট পেতাম কি না তা নিয়ে এক বিরাট সন্দেহ। তাই স্বাধীনতা স্বাধীনতাই। এর কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আরও কিছুদিন বেঁচে থাকলে স্বাভাবিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটলে দেশ আরও অনেক উন্নত হতো এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কোনো চারাগাছ একবার বুনে তা তুলে ফেললে যেমন হয় আমরা তেমনি আঘাত পেয়েছি। দেশটার গতি একেবারে রহিত হয়ে পড়েছিল অনেক বছর। যারা স্বাধীনতা চায়নি অথবা স্বাধীনতা নিয়ে যাদের কোনো আগ্রহ ছিল না, যারা জুতজাত মতো পাকিস্তানি হিসেবেই থাকতে চেয়েছে তারা দেশটাকে চালাতে গিয়ে ক্ষতি ছাড়া তেমন লাভ করেনি। এ কথা স্বীকার করতেই হবে, প্রায় ২১-২২ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা বোন শেখ হাসিনার হাতে নেতৃত্ব কর্তৃত্ব এসে অবশ্য অবশ্যই একটা জাতীয় গতি পেয়েছে। এটা না বলে উপায় নেই যে, নেত্রীর আশপাশে খুব বেশি দক্ষ যোগ্য নেতা-কর্মী নেই। তার চারদিকে অনেক বেশি অদক্ষ লোকজনের সমাহার। জানি না তার শ্বাস নিতে কেমন লাগে, কোনো কষ্ট হয় কি না? তারপরও দেশ আশাতীত সাফল্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। তবে একটা দুর্ভাগ্যের বিষয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যে পরিমাণ চারিত্রিক গুণে আত্মমর্যাদায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে যতটা ঊর্ধ্বে উঠেছিলাম, এখন সেখান থেকে প্রায় একেবারে নিচে পড়ে গেছি। এখন মানুষজনের তেমন আত্মমর্যাদাবোধ নেই বা কমে গেছে। সামাজিকতা হারিয়ে গেছে, সাধারণ মানুষের মর্যাদা নেই। সরকারি কর্মচারী বা প্রশাসন সেবক না হয়ে মালিকের স্থান দখল করেছে। আমরা পাকিস্তানি ধনী ২২ পরিবারের হাত থেকে মুক্তির জন্য জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনে নতুন ২২ হাজার বা আরও বেশি পরিবারের হাতে দেশটাকে তুলে দিয়েছি। ১৬ বা ১৮ কোটি মানুষ দেশের ১০ ভাগ সম্পদের মালিক। আর এই ২২ হাজার বা তারও বেশি পরিবার পুরো দেশীয় সম্পদের ৯০ ভাগের মালিক। দেশের শাসনব্যবস্থাও সত্যিকার অর্থে অতটা স্বচ্ছ নয়। নির্বাচনি ব্যবস্থা বলতে গেলে একেবারেই ভেঙে পড়েছে। মানুষের সম্মতির মূল্য অনেক কমে গেছে। যে যাই বলুন, দালানকোঠা, রাস্তাঘাট, বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য যতই হোক সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর। এখনো বাংলাদেশের কৃষি জাতীয় উৎপাদনের শতকরা ৬০-৭০ ভাগ। কিন্তু সে কৃষির খুব একটা মর্যাদা নেই। কৃষির সঙ্গে জড়িতরা মারাত্মক অস্বস্তিতে। কোনো কিছু উৎপাদন করে কারও পর্তা পড়ে না। যা লাভ অনেকটাই মধ্যস্বত্বভোগীদের। প্রকৃত কৃষকের মাথায় হাত। ধান উৎপন্ন করতে যে খরচ পড়ে কারও খরচ ওঠে না। আগে ধানের খড়ের কোনো মূল্য ছিল না। এখন সেটা অমূল্য হওয়ায় যারা ধান উৎপন্ন করে, তাদের কিছুটা পুষিয়ে যায়। তা না হলে কত জমি পতিত থাকত বলে-কয়ে শেষ করা যাবে না। আর বিপণনব্যবস্থাও যুগোপযোগী নয়। রাস্তাঘাট অনেক হয়েছে, যেখানে সেখানে যাওয়া যায়। কিন্তু সেখানেও ঘ্যাগের ওপর বিষফোড়ার মতো নতুন রাস্তা বানালে তার রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। নতুন রাস্তা বানাতে সবারই আগ্রহ। কারণ সেখানে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবারই কমিশন বেশি। রক্ষণাবেক্ষণের তেমন কমিশন নেই। এসব কিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে আমরা সুইজারল্যান্ডের চেয়েও শান্তির স্বস্তির দেশে পরিণত হতাম।
এত রক্ত দিয়ে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে সে দেশের প্রতি দেশবাসীর আরও দেশপ্রেম থাকার কথা। বিশেষ করে যারা দেশের কর্মে নিয়োজিত তাদের দেশপ্রেম কেন যেন অনেকটাই শূন্যের কোঠায়। এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কেমন যেন আমি বাঁচলেই হলো, অন্যের মান-মর্যাদা, অন্যের জীবিকা এসব নিয়ে কারও কোনো চেতনা নেই, আগ্রহ নেই। অন্যের ভালোকে ভালো বলার লোকের বড় বেশি অভাব, সত্যকে স্বীকার করতে কেন যেন সবার মধ্যে একটা অনীহা, দুর্বলতা। এসব থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আমাদের দেশ সত্যিই সোনার দেশ হতো।
স্বাধীনতার এই মহান দিনে কত কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা, গ্রামে গ্রামে শত সহস্র সাধারণ মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা। কত মা তার আদরের সন্তান যুদ্ধে পাঠিয়ে আর ফিরে পায়নি, কত নববধূ তার স্বামী হারিয়েছে, কত সোনার সংসার ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। যেহেতু এখনো বেঁচে আছি তাই কত মানুষ কত অভিযোগ নিয়ে আসে। একসময় যে মানুষটা আশ্রয় দিয়েছে আজ তারই আশ্রয় নেই। চেষ্টা করি পাশে দাঁড়াবার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তেমন কিছু করতে পারি না। তখন বুকটা ভারী হয়ে আসে। এটাই বোধহয় বেঁচে থাকার জ্বালা। বেঁচে থাকায় আনন্দ যেমন আছে, জ্বালাও তো আছে। তাই সব সময় মনে হয় যদি আরেকটু ভালো থাকতে পারতাম। যে কজন মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছে তারা যদি সম্মানে থাকতে পারত, দেশের সাধারণ মানুষ যদি আরেকটু ভালো থাকত তাহলে কতই না ভালো হতো।
বহুদিন ভাবছিলাম কাদেরিয়া বাহিনীর একটা জাদুঘর করা যায় কি না। কাদেরিয়া বাহিনী জাদুঘর করতে কারও আগ্রহের কোনো অভাব নেই। একসময় টাঙ্গাইল কোর্ট বিল্ডিংয়ের পাশে ছোট্ট জায়গাটির কথা চিন্তা করেছিলাম। চার-পাঁচ বছর এমন কেউ নেই যে যাকে চিঠিপত্র দিইনি। নির্বাসিত জীবনে সদরঘাটে বাস করলেও আমি তেমন হাটঘাট চিনি না জানি না। শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোন শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছিলাম। চিঠির সাত দিনের মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোন হাসিনা কাদেরিয়া বাহিনীর বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পণের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কাদেরিয়া বাহিনী জাদুঘর নির্মাণের লক্ষ্যে জমি বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন। মাননীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী দারুণ আগ্রহী হওয়ার পরও মন্ত্রণালয়কে তেমন নাড়াতে চাড়াতে পারেননি। তবু ৩০ মার্চ জায়গাটি দেখতে মাননীয় মন্ত্রী আসবেন। সেজন্য যাকে যাকে বলা দরকার বলার চেষ্টা করছি। যদি সম্ভব হয় সেই যুব বয়সে মুক্তিযুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধুর এক কথায় সব অস্ত্র পিতার পায়ের কাছে বিছিয়ে দিয়েছিলাম, যে কোনোভাবেই হোক তাঁর কন্যা, বোন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি যদি কাদেরিয়া বাহিনী জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তাহলে এই বয়সে কাদেরিয়া বাহিনীর জন্য সেটা হবে এক পরম সৌভাগ্য ও সম্মানের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোনের সঙ্গে এ নিয়ে কদিনের মধ্যেই কথা বলব, তিনি যদি সময় দিতে পারেন।
মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র টাঙ্গাইলেই ছত্রী বাহিনী অবতরণ করেছিল। তাও কাদেরিয়া বাহিনীর নির্বাচিত জায়গায়। যে ছত্রী বাহিনী ঢাকা দখলে ব্যাপক ভূমিকা রেখে ছিল সেই ছত্রী বাহিনী অবতরণ স্থান চিহ্নিত করা বা কোনো স্মৃতিচিহ্ন করা হয়েছে। সে জায়গা দেখতে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আসবেন। ব্যাপারটা হঠাৎই শুনলাম। এখন কোথায় কী হয় অনেক কিছুই জানি না। ছত্রীসেনা অবতরণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ভুক্তার কোনো জায়গা। আসলে ভুক্তায় ছত্রীসেনা অবতরণ করেনি। ছত্রীসেনা অবতরণের প্রথম স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল ঘাটাইলের গৌরাঙ্গীর চক। প্রায় তিন-চার মাইল লম্বা-পাশে দিঘলকান্দির উত্তর-পশ্চিম গৌরাঙ্গীর দক্ষিণে বিশাল খোলা মাঠ। শুধু অসুবিধা ছিল সেখান থেকে গাড়িঘোড়া, ভারী যানবাহন সড়কে আনার কতটা কী হবে। ৬-৭ ডিসেম্বর জায়গাটা চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে ৯ তারিখ টাঙ্গাইলের দিকে এগিয়ে শোলাকুড়া-বাংড়ার উত্তরে চকসহ ইছাপুর, রাজাবাড়ি নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। কিন্তু বাতাসের কারণে শোলাকুড়া, ইছাপুর থেকে কিছুটা সরে সহদেবপুর ইউনিয়নের পাঠন্দ, মহেলা, চিনামুড়া, চামুরিয়া, পুংলীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ছত্রীসেনা ছড়িয়ে পড়েছিল। কেন্দ্রবিন্দু কোথাও ধরা হলে পুংলী, মহেলা, চিনামুড়া, চামুরিয়া এসব জায়গা হয়। কিন্তু কোনোমতেই ভুক্তা নয়। ভুক্তা তো বিচ্ছিন্নভাবে ১-২টা গাড়ি ছিটকে পড়েছিল। সেখানে এক বা দুজন সৈন্যও মারা গিয়েছিল। শুনেছি, দুই-তিন বছর আগে কে একজন কর্নেল বা মেজর এসেছিল। তিনি তো মুক্তিযুদ্ধের সময় শিশু ছিলেন। তিনি তেমন কী জানবেন। আর এও শুনেছি, ওইসব এলাকায় গিয়ে দু-চারজনকে জিজ্ঞেস করে কারও মুখে যা শুনেছিল তাই তিনি চিহ্নিত করেছেন বা তার মনে হয়েছে এ জায়গাই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে কেন যেন ইদানীং সত্যিকার ইতিহাস রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে না। যে কোনোভাবেই হোক ১৬ ডিসেম্বর নিয়াজির গুহায় একমাত্র বাঙালি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম। কিন্তু নানাভাবে শুধু আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ভালো। কিন্তু এতে যদি ইতিহাস বিকৃত হয়, দেশ ও জাতির গৌরব মুছে যায় তেমন কাজ করা মোটেই উচিত নয়। আমাকে বাদ দিলে আমাকে মুছে ফেললে সে তো শুধু ভারতীয় বাহিনীর ঢাকা বিজয় হবে। সেখানে বাঙালির, বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে? এজন্যই বলছি, ছত্রীসেনা অবতরণের জায়গা চিহ্নিতকরণে কোনো কিছুই জানতাম না। সেদিন ২০ মার্চ হঠাৎই এক ভদ্রলোক সখীপুরে গিয়ে হাজির, ‘ছত্রীসেনা অবতরণের জায়গা চিহ্নিত হবে। আপনাকে যেতে হবে। আপনি না গেলে আমরা কষ্ট পাব। মাননীয় মন্ত্রী আসবেন তাই আপনি যাবেন।’ তিনি কে তাও বুঝলাম না, তিনি কীভাবে বলছেন তাও জানলাম না। মাঝে একবার কালিহাতীর ইউএনও ফোন করেছিলেন। ওই একই কথা। কীভাবে কী হলো কিছুই জানি না। সে ভদ্রলোকও বললেন, ‘আমার আগেই স্থান নির্ধারণ হয়েছে। আমিও এর কিছুই জানি না।’ জানেন না ভালো কথা। যেহেতু এখনো বেঁচে আছি যাইহোক মুক্তিযুদ্ধে আগাগোড়া ছিলাম। তাই এখনকার তরুণ-তুর্কিরা এখনকার নেতারা সামান্য হলেও কিছুটা তো জিজ্ঞেস করতে পারতেন। সেটাই ভালো ছিল।
লেখক : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীরউত্তম, রাজনীতিক

মৃতদেহের ওপর চলছে ইসরাইলি ট্যাংক

ইসরাইলের অমানবীয় অত্যাচারে দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে গাজা পরিস্থিতি। এতদিন চুপ থেকে গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছে বিশ্ব। অবশেষে অবরুদ্ধ অঞ্চলটির সমর্থনে এগিয়ে এলো ইউরোপের চার দেশ।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্মীকৃতি দিয়ে সম্মত হয়েছে মাল্টা, আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং স্লোভানিয়া। কিন্তু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর এমন সমর্থনকে মেনে নিতে পারছে না ইসরাইল। এবার ইউরোপের এই চার দেশকে হুঁশিয়ারি দিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কার্টজ। তার মতে, যে দেশগুলো ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র হিসেবে স্মীকৃতি দেবে তারা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে। সোমবার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে ক্ষিপ্ত হয়ে এ বার্তা লিখেন তিনি। রয়টার্স।
ইইউ’র শীর্ষ সম্মেলনে গত শুক্রবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্মীকৃতি দেওয়ার কথা জানায় চার দেশ। তাদের মতে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই ‘শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জন’ সম্ভব হবে। সম্মেলনে যৌথ বিবৃতিতে চার দেশ জানায়, ‘আমরা একসঙ্গে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছি। পরিস্থিতি যখন ঠিক হবে তখন এ বিষয়ে আমরা ইতিবাচক অবদান রাখব।’ তাদের সেই বার্তার প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কার্টজ লিখেছেন, ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার পর একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছে এই বার্তাই পাঠায় যে, ইসরাইলিদের উপর হত্যাকারী সন্ত্রাসী হামলা ফিলিস্তিনিদের প্রতি রাজনৈতিক মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে গাজায় তাৎক্ষণিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে।
রাশিয়া এবং চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি পূর্ববর্তী পাঠ্য ভেটো করার পরে এ প্রস্তাবটি সামনে আসে। রাফাহ এবং গাজা উপত্যকার অন্যান্য অংশে ইসরাইলি বিমান হামলায় কয়েকডজন লোক নিহত হওয়ার পরে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ভেটোর আলোচনা হয়। নতুন পাঠ্যটিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসের জন্য ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি করে এবং একটি স্থায়ী টেকসই যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যায়।’
এর আগে রোববার উত্তর গাজায় ত্রাণের সাহায্য পৌঁছাতে বাধা দেয় ইসরাইল বাহিনী। এমন পরিস্থিতি গাজার শিশুদের আরও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছে সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেভিয়ের জুবার্ট বলেন, ‘শিশুরা ইতোমধ্যেই অনাহারে এবং রোগে মারা যাচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ গতিতে, যা রেকর্ড। আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের কাছ থেকে দৃঢ় এবং অবিলম্বে কূটনীতির মাধ্যমে এমন প্রস্তাবকে পালটে দিতে হবে। সেটি হবে আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে।’
এদিকে আল শিফা থেকে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিদের দাবি, ইসরাইলি ট্যাংক এবং সাঁজোয়া বুলডোজার কমপক্ষে চারটি মৃতদেহ এবং অ্যাম্বুলেন্সের ওপর দিয়ে চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তীব্র গোলাগুলির কারণে তাদের মেডিকেল টিমের সদস্যরা সেখানে আটকা পড়েছেন। অন্যদিকে গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আল-আমাল এবং নাসের হাসপাতাল ঘিরে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। হাসপাতালগুলোর আশপাশে আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে তারা।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে তীব্র গোলাগুলি এবং বোমা হামলার মধ্যেই আল-আমাল এবং নাসের হাসপাতালের তাদের এক কর্মী নিহত এবং একজন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আল-আমাল হাসপাতাল সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসরাইল। কিন্তু সেখানে হাসপাতাল কর্মী ও রোগীদের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত লোকজনও আশ্রয় নিয়েছে। এমনকি লোকজনকে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করতে ইসরাইল স্মোক বোমা ছুড়ছে।
এদিকে হামাস পরিচালিত মিডিয়া অফিস বলছে, আল শিফা হাসপাতালে গত সাত দিন ধরে চলা অভিযানে পাঁচ ফিলিস্তিনি চিকিৎসককে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩২,৩৩৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৭৪,৬৯৪ জন আহত হয়েছে।