ইসরাইলের অমানবীয় অত্যাচারে দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে গাজা পরিস্থিতি। এতদিন চুপ থেকে গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছে বিশ্ব। অবশেষে অবরুদ্ধ অঞ্চলটির সমর্থনে এগিয়ে এলো ইউরোপের চার দেশ।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্মীকৃতি দিয়ে সম্মত হয়েছে মাল্টা, আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং স্লোভানিয়া। কিন্তু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর এমন সমর্থনকে মেনে নিতে পারছে না ইসরাইল। এবার ইউরোপের এই চার দেশকে হুঁশিয়ারি দিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কার্টজ। তার মতে, যে দেশগুলো ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র হিসেবে স্মীকৃতি দেবে তারা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে। সোমবার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে ক্ষিপ্ত হয়ে এ বার্তা লিখেন তিনি। রয়টার্স।
ইইউ’র শীর্ষ সম্মেলনে গত শুক্রবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্মীকৃতি দেওয়ার কথা জানায় চার দেশ। তাদের মতে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই ‘শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জন’ সম্ভব হবে। সম্মেলনে যৌথ বিবৃতিতে চার দেশ জানায়, ‘আমরা একসঙ্গে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছি। পরিস্থিতি যখন ঠিক হবে তখন এ বিষয়ে আমরা ইতিবাচক অবদান রাখব।’ তাদের সেই বার্তার প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কার্টজ লিখেছেন, ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার পর একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছে এই বার্তাই পাঠায় যে, ইসরাইলিদের উপর হত্যাকারী সন্ত্রাসী হামলা ফিলিস্তিনিদের প্রতি রাজনৈতিক মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে গাজায় তাৎক্ষণিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে।
রাশিয়া এবং চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি পূর্ববর্তী পাঠ্য ভেটো করার পরে এ প্রস্তাবটি সামনে আসে। রাফাহ এবং গাজা উপত্যকার অন্যান্য অংশে ইসরাইলি বিমান হামলায় কয়েকডজন লোক নিহত হওয়ার পরে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ভেটোর আলোচনা হয়। নতুন পাঠ্যটিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসের জন্য ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি করে এবং একটি স্থায়ী টেকসই যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যায়।’
এর আগে রোববার উত্তর গাজায় ত্রাণের সাহায্য পৌঁছাতে বাধা দেয় ইসরাইল বাহিনী। এমন পরিস্থিতি গাজার শিশুদের আরও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছে সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেভিয়ের জুবার্ট বলেন, ‘শিশুরা ইতোমধ্যেই অনাহারে এবং রোগে মারা যাচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ গতিতে, যা রেকর্ড। আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের কাছ থেকে দৃঢ় এবং অবিলম্বে কূটনীতির মাধ্যমে এমন প্রস্তাবকে পালটে দিতে হবে। সেটি হবে আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে।’
এদিকে আল শিফা থেকে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিদের দাবি, ইসরাইলি ট্যাংক এবং সাঁজোয়া বুলডোজার কমপক্ষে চারটি মৃতদেহ এবং অ্যাম্বুলেন্সের ওপর দিয়ে চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তীব্র গোলাগুলির কারণে তাদের মেডিকেল টিমের সদস্যরা সেখানে আটকা পড়েছেন। অন্যদিকে গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আল-আমাল এবং নাসের হাসপাতাল ঘিরে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। হাসপাতালগুলোর আশপাশে আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে তারা।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে তীব্র গোলাগুলি এবং বোমা হামলার মধ্যেই আল-আমাল এবং নাসের হাসপাতালের তাদের এক কর্মী নিহত এবং একজন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আল-আমাল হাসপাতাল সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসরাইল। কিন্তু সেখানে হাসপাতাল কর্মী ও রোগীদের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত লোকজনও আশ্রয় নিয়েছে। এমনকি লোকজনকে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করতে ইসরাইল স্মোক বোমা ছুড়ছে।
এদিকে হামাস পরিচালিত মিডিয়া অফিস বলছে, আল শিফা হাসপাতালে গত সাত দিন ধরে চলা অভিযানে পাঁচ ফিলিস্তিনি চিকিৎসককে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩২,৩৩৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৭৪,৬৯৪ জন আহত হয়েছে।
মৃতদেহের ওপর চলছে ইসরাইলি ট্যাংক
শ্বাসকষ্টের রোগীরা যেভাবে রোজা রাখবেন
রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে শ্বাসকষ্টের রোগীদের রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। ইনহেলার শ্বাসকষ্টের রোগীর জন্য এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা রোগী শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে টেনে নেয় এবং ওষুধ শ্বাসনালিতে পৌঁছায়। অনেকে মনে করেন, ইনহেলার হাঁপানির সর্বশেষ চিকিৎসা। ইনহেলার একবার ব্যবহার করলে পরে শ্বাসকষ্টের পরিমাণ কমানোর জন্য আর অন্য কোনো ওষুধ কাজে আসে না। তাদের জেনে রাখা ভালো, শ্বাসকষ্টের প্রথম চিকিৎসাই হচ্ছে ইনহেলার, শেষ চিকিৎসা নয়।
এখন অবশ্য অনেক ডিভাইস পাওয়া যায়। তা ব্যবহার করে হাঁপানি রোগী রোজা রাখতে পারেন। সালবিউটামল ইনহেলার ইফতারের সময় দুই পাফ, সেহরির সময় দুই পাফ নিতে পারেন। এটা নিলে লম্বা সময় ধরে ভালো থাকা যায়।
রোজা রাখা অবস্থায় কেউ যদি ইনহেলার নেয়, তবে রোজা ভাঙবে না। কারণ ইনহেলার খাদ্যের পরিপূরক নয়। ইসলামিক স্কলাররা এ বিষয়ে স্পষ্ট বলেছেন, এটা সহজেই রোজা রেখে নেওয়া যাবে। তারপরও যদি কেউ না নিতে চান তবে সেহরি এবং ইফতারের সময় দুই পাফ করে নিতে হবে। এখন বিভিন্ন জেনথিন গ্রæপের ওষুধ আছে, যেমন-ইউনিকনটেন, কনটেন (একটা ২০০ মিলিগ্রামের ওষুধ), ইফতার করে একটা, সেহেরির পর একটা খাওয়া যায়। তাহলে পুরো সময়টাই শ্বাসকষ্ট মুক্ত থাকা যায়। রাতে শোয়ার সময় মন্টিলুকাস ১০ মিলিগ্রাম ওষুধ খেলে খুব সহজেই রোজা রাখা যায়।
কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো অ্যালার্জিতে ভরা। যেমন-গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ। অনেক হাঁপানি রোগী আছেন, যাদের এসবের প্রতি অ্যালার্জি আছে। এগুলো তাকে এড়িয়ে চলতে হবে। শ্বাসকষ্টের রোগী যদি খুব পেট ভরে খায়, তবে দম নিতে সমস্যা হয়। সুস্থভাবে রোজা যেন রাখতে পারেন, সে জন্য কিছু নিয়মকানুন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। মূল লক্ষ্য, সব কিছুর মধ্যে ভারসাম্য করে চলতে হবে, পরিমিতি বোধ থাকতে হবে। রোজা পরিমিতি বোধের শিক্ষা দেয়। সেটাকে কাজে লাগাতে হবে।
লেখক :অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি., শ্যামলী, ঢাকা।
অন্তঃসত্তা নারী কোন অবস্থায় রোজা রাখবেন, কোন অবস্থায় পারবেন না
একটি শিশুর স্বাস্থ্য, তার ওজন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ অধিকাংশই বেড়ে ওঠে শিশুটি যখন মাতৃগর্ভে থাকে।
অন্তঃসত্ত¡া নারী যদি খাবার না খায় তা হলে গর্ভের শিশুটি পুষ্টি ঠিকভাবে পায় না, তখন সেই শিশুটির বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
গর্ভের সময় একজন নারীর দ্বিগুণ পরিমাণে খাবার ও ক্যালরি দরকার পড়ে। কারণ গর্ভের শিশুটি মায়ের থেকেই পুষ্টি পেয়ে থাকে এবং তার বেড়ে ওঠা নির্ভর করে মায়ের ভালো থাকার ওপর।
ইসলামী বিধানে অন্তঃসত্ত¡া মায়েদের রোজা রাখার ব্যাপারে শিথিলতা রয়েছে। কারণ গর্ভবতী অবস্থায় একজন মা যদি রোজা রাখেন, তা হলে দীর্ঘক্ষণ তাকে না খেয়ে থাকতে হয়, তখন তার প্রভাব শিশুটির ওপর পড়তে পারে।
তবুও মায়ের শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তিনি রোজা রাখতে পারবেন কী পারবেন না।
যদি অন্তঃসত্ত¡া নারী ও গর্ভস্থ শিশু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে, তাহলে মা রোজা রাখতে পারবেন প্রথম তিন মাস। তবে অনেকের বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা যায়। যেমন বেশি বমি হয়। এ সময় রোজা না রাখাই ভালো। যদি রোজা রাখেন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রাখতে হবে।
অন্তঃসত্ত¡া অবস্থায় শেষ তিন মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেমনভাবে প্রথম তিন মাস গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ সময় অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে এবং যত্ন নিতে হবে। শিশু যেন গর্ভে ঠিকভাবে বেড়ে ওঠে সে ব্যাপারে পরিবারের সবাইকে সহায়তা করতে হবে। যদি অন্তঃসত্তা নারী রোজা রাখতেই চান, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখবেন।
গর্ভকালীন সময়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে বেশি করে এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম করা যাবে না। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টুকুতে পানি খেতে হবে, সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
রোজা রাখার সময় বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- তলপেট ব্যথা করে অথবা গর্ভের শিশুটি কম নাড়াচাড়া করে। মাথাব্যথা অথবা মাথা ঝিমঝিম করা এসব সমস্যা হলে দ্রæত চিকিৎসক এর পরামর্শ নিতে হবে। একজন অন্তঃসত্তা তার নিজের শরীরে অন্য একটি জীবনকে ধারণ করছেন। তাই সেই জীবনের দায়িত্ব মায়ের ওপর চলে আসে এবং সে জন্য মাকে সহায়তা করতে হবে পরিবারের সবাইকে সামাজিকভাবে মানসিকভাবে সবাইকে সহায়তা করতে হবে।
উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, হৃদযন্ত্রের সমস্যার মতো স্বাস্থ্য জটিলতা থাকলে এ সময় গর্ভবতী নারীদের রোজা না রাখাই ভালো।
পরিশেষে বলতে চাই একটি শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই সেই শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার দায়িত্ব অবশ্যই সমাজের এবং পরিবারের দায়বদ্ধতা আছে সবার,তাই গর্ভকালীন মা ও শিশুর যতœ নেওয়া সবারই প্রয়োজন।
লেখক: আয়েশা আক্তার, উপ পরিচালক, ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল।
ইফতারে বা ঈদের দিন অতিথি আপ্যায়নে মটরশুঁটির পরোটা ও সেমাই রাবরি
ইফতারে বা ঈদের দিন অতিথি আপ্যায়ন বা নিজেদের খাবার জন্যই বানানো হয় নানা রকমের নাশতা। ঝাল ও মিষ্টি দুই রকমের পদই থাকতে পারে সে আয়োজনে।
মটরশুঁটির পরোটা
মটরশুঁটি পুরের উপকরণ: মটরশুঁটি ২ কাপ, কাঁচা মরিচ নিজের স্বাদমতো, আদা সামান্য, কালিজিরা ১ চা-চামচ, টালা জিরা সিকি চা-চামচ, তেল ৩ টেবিল চামচ।
প্রণালি: মটরশুঁটি, আদা ও কাঁচা মরিচ একসঙ্গে বেন্ড করে নিতে হবে। প্যানে তেল গরম করে নিন। কালিজিরার ফোড়ন দিয়ে দিন। এবার বেন্ড করা মটরশুঁটি দিয়ে নাড়তে থাকুন। নাড়তে নাড়তে পানি টেনে এলে টালা জিরা দিন। সামান্য নেড়েচেড়ে ভালো করে মিশিয়ে নামিয়ে নিন।
পরোটার ডোয়ের উপকরণ: ময়দা ৩ কাপ, তেল ৩ টেবিল চামচ, পানি ১ কাপ, লবণ স্বাদমতো, তেল ভাজার জন্য সামান্য।
প্রণালি: ময়দায় লবণ ও তেল দিয়ে শুকনা করে মাখিয়ে ঝুরঝুরে করে নিন। এবার একটু একটু করে পানি দিয়ে খুব ভালো করে ময়দা মাখিয়ে নিন। শক্ত খামির হবে। ৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার এই ময়দা ১০ ভাগ করুন। মটরশুঁটির পুরও সমান ১০ ভাগ করুন। একেকটি ময়দার গোলায় একেকটি মটরশুঁটির পুর ভরে নিন। হালকা হাতে গোল করে পরোটার মতো করে বেলে নিন। ফ্রাইংপ্যানে সামান্য তেল দিয়ে পরোটা ভেজে নিন। রায়তা বা সালাদ দিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।
সেমাই রাবরি
উপকরণ: সেমাই ১ প্যাকেট, চিনি ১ কাপ, ঘি সিকি কাপ, ফুটন্ত গরম পানি ১ কাপ, এলাচি ২-৩টি, দারুচিনি ছোট ২ টুকরা, বাদামকুচি স্বাদমতো, লবণ সিকি চা-চামচ।
প্রণালি: প্রথমে সেমাই ভেঙে ছোট ছোট করে ঝুরঝুরে করে নিন। এবার চুলায় প্যান বসিয়ে তাতে ঘি গরম করে নিন। এরপর এলাচি, দারুচিনি দিয়ে নাড়ুন। ভাজা গন্ধ বের হলে সেমাই দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। তারপর এতে ফোটানো গরম পানি অল্প অল্প করে মেশান। পানি টেনে এলে চিনি দিয়ে বারবার নাড়তে হবে। সেমাইয়ের পানি শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন। সেমাই ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত কয়েকবার নাড়ুন যেন ঝরঝরে হয়।
রাবড়ির উপকরণ: দুধ ২ লিটার, গুঁড়া দুধ ১ কাপ, পোলাও চালের গুঁড়া ২ চা-চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, এলাচিগুঁড়া সিকি চা-চামচ।
প্রণালি: হাঁড়িতে দুধ নিয়ে চুলায় বসান। দুধে ফুটে উঠলে নেড়েচেড়ে জ্বাল দিন। দুধ ঘন হয়ে অর্ধেক হয়ে এলে গুঁড়া দুধ ও চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। থেমে থেমে নাড়ুন, যেন দুধে সর পড়ে, এই সর কিছুক্ষণ পরপর হাঁড়ি থেকে সরিয়ে রাখুন। কাজটি অনেকবার করতে হবে। দুধ শুকিয়ে আরও অর্ধেক হয়ে এলে চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে দিন এবং এলাচিগুঁড়া দিন। রাবরি থকথকে হয়ে এলে নামিয়ে নিন। এবার পরিবেশন পাত্রে রান্না করে রাখা সেমাই একটু চেপে চেপে বসিয়ে দিন। এর ওপর রাবরি ঢেলে ছড়িয়ে দিন। ওপরে বাদামকুচি দিয়ে বা নিজের পছন্দমতো উপকরণ সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
ইফতারের শুরুতে দুটি পানীয় আপনাকে দেবে প্রশান্তি
গরম এসে গেছে, ঈদও দোরগোড়ায়। ঈদের দিন বা ইফতারের সময় বাড়িতে অতিথি এলে শুরুতেই দিতে পারেন এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয়।
ভার্জিন মোহিতো
উপকরণ: স্বচ্ছ কোমল পানীয় বা সোডা ওয়াটার ২৫০ মিলিগ্রাম, লেবু পাতলা গোল করে কেটে নেওয়া অর্ধেক, পুদিনাপাতা ১০-১২টি, চিনি ২ টেবিল চামচ, বরফকুচি ২ কাপ ও বিট লবণ এক চিমটি।
প্রণালি: ১ টেবিল চামচ পানিতে ২ টেবিল চামচ চিনি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। মোটামুটি ঘন করে সিরাপ বানিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। লম্বা ধাঁচের গ্লাসে লেবু, পুদিনা ও বিট লবণ নিয়ে নিন। হালকাভাবে থেঁতলে নিন, যেন তেতো না হয়ে যায়। এরপর এতে চিনির সিরাপ ও বরফ দিয়ে দিন। ওপর থেকে স্বচ্ছ কোমল পানীয় বা সোডা ওয়াটার ঢেলে একটু নেড়ে নিন। এখন আপনার পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
বোরহানি
উপকরণ: দই ২ কাপ, পানি ১ কাপ, শর্ষেবাটা ২ চা-চামচ, পুদিনাপাতা বাটা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচবাটা ১ চা-চামচ, টালা জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ, মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, চিনি ১ টেবিল চামচ, লবণ আধা চা-চামচ, বিট লবণ ১ চা-চামচ ও চিলি সস ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: দইসহ সব উপকরণ একসঙ্গে বেন্ডারে বেন্ড করে নিন। রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠান্ডা করে নিন। পরিবেশনের আগে বের করে গ্লাসে ঢেলে দিন।
ইফতারে চিয়া সিড দিয়ে তৈরি ৩ খাবার
চিয়া বীজ দিয়ে তৈরি স্মুদি
সারাদিন রোজা রাখার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আবার দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে শরীরে নানা রকম সমস্যাও দেখা দেয়। এ কারণে রোজা ভাঙার সময় শুধু পানি না খেয়ে তার বদলে চিয়া বীজ ভেজানো পানি খেতে পারেন। পুষ্টিবিদরা বলছেন, পানির ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে চিয়া। এই বীজে ফাইবারের পরিমাণও বেশি। অনেক ক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি রাখতে পারে চিয়া। এ ছাড়াও নানা রকম ভিটামিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ়, জ়িঙ্ক, আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় বেশ কিছু খনিজ রয়েছে চিয়া বীজে।
ইফতারে চিয়া বীজ দিয়ে বানাতে পারেন কয়েক ধরনের খাবার। যেমন-
চিয়া পুডিং: গরুর দুধ বা যে কোনও ধরনের দুধের মধ্যে ভেজানো চিয়া বীজ, মধু বা মেপ্ল সিরাপ মিশিয়ে সারা রাত ফ্রিজে রেখে দিন। পরের দিন সকালে বিভিন্ন রকম ফল,বাদাম কিংবা বীজ মিশিয়ে খেতে পারেন।
স্মুদি বা ফলের রস : ফলের রস বা স্মুদির পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যেতে পারে চিয়া মেশালে। চিয়ার মধ্যে থাকা ফাইবার এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজের জোগান দেয়। আলাদা করে খেতে ভাল না লাগলে এভাবে খেতে পারেন চিয়া বীজ।
বেকিং : বাড়িতে তৈরি কেক, মাফিন, পাউরুটির মধ্যে ব্যবহার করাই যায় চিয়া। যারা ‘এগলেস’ কেক খান, তারা কেকের মিশ্রণে ডিমের বদলে পানিতে ভিজিয়ে রাখা চিয়া ব্যবহার করতেই পারেন।
স্বাধীনতা আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, একটা বড় ভূমিকা ছিল। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই একদিন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে এখানেই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে নানাভাবে বাঁধার চেষ্টা করা হয়েছে। কালাকানুন চালু করে এর যে স্বাধীনতাটুকু, এমনকি ইংরেজ আমলে চালু ছিল সেটাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপকদের লেখা ও মতামত প্রকাশের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। অন্যদিকে আবার চেষ্টা করা হয়েছে, তাদের প্রলুব্ধ করার। শুধু দেশি সরকার নয়, বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোও বিশেষ তৎপরতা দেখিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি সৃষ্টির জন্য; সেই শ্রেণি এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরও গড়ে উঠছিল। দুর্বলচিত্ত ও লোভী মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিশ্চয়ই ছিলেন। কিন্তু তবু, বিচ্যুতি সত্তে¡ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ভূমিকা ছিল জনসাধারণের, অর্থাৎ বাংলাদেশের পক্ষে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পাকিস্তানবাদী ছিলেন তারা চুপ করে ছিলেন না, তাদের পেছনে সরকারের সমর্থন ও সহায়তা ছিল, কিন্তু তবু তাদের কাজ দেশের ওপর বড় কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি, বরং বিরূপ প্রতিক্রিয়ারই সৃষ্টি করেছে। ইংরেজরা বিশ্ববিদ্যালয়কে অবিশ্বাস করত, পাকিস্তানিরা আরও বেশি করত-সংগত কারণেই। অবিশ্বাস করত বলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে তাদের কোনো উৎসাহ ছিল না। চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হলো শহর থেকে অনেক দূরে পাহাড়ের মধ্যে। সাভারে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার পরিকল্পনা করল, নাম দিল মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। জায়গা করল ঢাকা শহর থেকে দূরে লোকবসতিহীন এক প্রান্তরে। এক সময় চেষ্টা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢাকা থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। উদ্দেশ্যটার মধ্যে কোনো লুকোচুরি ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না পরিপূর্ণভাবে, তাকে রাখতে হতো জনজীবন থেকে দূরে, কেননা বিশ্ববিদ্যালয় যদি বড় হয়, অনেক হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় যদি শহরের মাঝখানে থাকে, তবে ছাত্র ও অধ্যাপকরা রাজনীতি করবে, অর্থাৎ অধিকারের কথা বলবে, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সভা-শোভাযাত্রা-বিক্ষোভ শুরু করে দেবে। অবিশ্বাস শুধু নয়, ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড একটা ক্রোধ ছিল শাসকদের। যার প্রমাণ পাওয়া গেল তখন, যখন গণহত্যার সূচনাতেই মিলিটারিরা ছুটে এলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এসে ছাত্র-শিক্ষক যাকে পেল হাতের কাছে গুলি করে হত্যা করল, দালান-কোঠাও রক্ষা পেল না। আত্মসমর্পণের আগে আবার তারা অনুচরদের পাঠিয়েছে বেছে বেছে বাংলাদেশের আন্দোলন সমর্থনকারী শিক্ষকদের হত্যা করার জন্য।
শুধু শিক্ষক বলে নয়, গোটা বুদ্ধিজীবী স¤প্রদায়ের প্রতিই আক্রোশ ছিল। হানাদারদের পরিকল্পনা ছিল প্রত্যেক শহরে তারা ঠান্ডা মাথায় বুদ্ধিজীবী নিধন করে যাবে আত্মসমর্পণের আগে। এবং কাজ তারা শুরুও করেছিল, শেষ করে যেতে পারেনি এটাই যা রক্ষা। এর কারণ বুদ্ধিজীবীদের উসকানিতেই বাংলাদেশ স্বাধীন হতে চেয়েছে বলে তাদের ধারণা। বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী বলে কেউ না থাকুক, থাকুক শুধু সাধারণ মানুষ এটাই তাদের কল্পনার স্বর্গ ছিল, কেননা তাহলে তাদের ধারণা তারা অনাদিকাল ধরে এ দেশে শোষণকার্য অব্যাহত রাখতে পারত। সন্দেহ নেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে বুদ্ধিজীবী সমাজের অধিকাংশ মানুষ সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম ছিলেন, অনেক সময় ছিলেন অগ্রবর্তীও।
বাংলার অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ সাধারণ মানুষের সচেতনতাকে অনেকটা অগ্রসর করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ যে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যাচ্ছে এটা সবারই জানা ছিল। অর্থনীতিবিদরা সেই সত্যটা আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ১৯৫৪-এর সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে তারা দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রে ক্রমশ পঙ্গু হয়ে পড়েছে। সরকার তথ্য বিকৃত করত, অনেক তথ্য বাঙালি অর্থনীতিবিদদের হাতে আসত না, কেন্দ্রীয় অর্থ দপ্তরের উচ্চপদে বাঙালিদের নিয়োগ করা হতো না, তবুও অর্থনীতিবিদরা এটা বুঝেছিলেন, পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানে দুটি স্বতন্ত্র অর্থনীতি চালু করা প্রয়োজন। শেষ দিকে দুই অঞ্চলের অর্থনীতিকদের মধ্যে মতবিরোধ এত প্রবল হতো, তারা কোনো কোনো ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট প্রদান করতেন। আইয়ুব খান চতুর লোক ছিলেন, দুই অর্থনীতির দাবি তার সময়ই জোরেশোরে উঠেছিল এবং তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, দুই অর্থনীতির পরিণাম দুই পাকিস্তান। আইয়ুব খান এ দাবি স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন ধমক দিয়ে, অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করার হুমকি দিয়ে। কিন্তু তাতে সত্য-অসত্য হয়ে যায়নি, ফাটল জোড়া লাগেনি। ফাটল শুরু হয়েছিল ভাষাকে কেন্দ্র করে, অর্থনীতি সেই ফাটলকে ক্রমশ বাড়িয়ে দিয়েছে, পরিণতিতে শুধু দুই অর্থনীতি বা দুই পাকিস্তান নয়, দুই স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভাষার ফাটলের কথাও আইয়ুব খান জানতেন। পতনের আগে তিনি একবার দুই অঞ্চলের জন্য একটি সাধারণ ভাষা সৃষ্টি করার কথা বলেছিলেন। সন্দেহ নেই, সে কাজ করতে গেলে ফাটল তো বন্ধ হতোই না, বরং আরও বৃদ্ধি পেত।
প্রত্যক্ষ ভূমিকার বাইরে বুদ্ধিজীবীদের অপ্রত্যক্ষ ভূমিকাটাও কম গুরুত্বের নয়। বাংলাদেশে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কম, তাই শিক্ষিতের মর্যাদা বেশি। সম্মান প্রদর্শনের অভ্যাসও এ দেশে পুরোনো। বুদ্ধিজীবীদের তাই এ দেশে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান আছে। সেজন্যই দেখা যায়, বুদ্ধিজীবীদের ওপর যখন আক্রমণ এসেছে, তখন আহত হয়েছে সমগ্র দেশ, বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুরুতে ছিল মূলত ছাত্রদের আন্দোলন, কিন্তু যে মুহূর্তে গুলি চলল ছাত্রদের ওপর, গ্রেফতারি পরোয়ানা নেমে এলো শিক্ষকদের ওপর, তখনই অবিশ্বাস্য অল্প সময়ের মধ্যে ছাত্র আন্দোলন লেলিহান গণআন্দোলনে পর্যবসিত হলো। তেমনিভাবে উনসত্তরের আন্দোলন তার চরমরূপ পরিগ্রহ করল সেই মুহূর্ত থেকে, যেই মুহূর্তে খবর প্রচার হলো, মিলিটারিরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জোহাকে গুলি করে হত্যা করেছে। ঢাকায় তখন কার্ফু ছিল, কিন্তু ওই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাজার হাজার মানুষ বের হয়ে এসেছিল রাস্তায়। কেউ তাদের বলেনি বের হয়ে আসতে, ড. জোহাকে তারা জানে না, বিশ্ববিদ্যালয় দূরে থাকুক, কোনো বিদ্যালয়েই যায়নি তাদের অধিকাংশ মানুষ, কিন্তু তবু ড. জোহার হত্যাকাণ্ডের মধ্যে তারা তাদের নিজেদের অপমানকে দেখল-দেখল তাদের নিজেদের অস্তিত্বের ওপর নৃশংস এক আক্রমণকে। ফলে আন্দোলন এমন প্রবল হয়ে উঠল, তার স্রোতে আইয়ুব খান-মোনেম খান ভেসে চলে গেল কোথায়।
উনসত্তরের আন্দোলনের সময় যারা প্রেস ট্রাস্টের সংবাদপত্র দুটির অফিস পুড়িয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো সংবাদপত্র পড়ে না, কিন্তু তারা জানত সংবাদপত্র দুটি তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছিল। অন্যদিকে সরকার যখন যে পত্রিকার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে, তখন সেই পত্রিকাকে জনসাধারণ আদর করে বুকে তুলে নিয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাক সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল সেই সময়ে, যখন তার প্রকাশ নিষিদ্ধ ছিল, যখন তার সম্পাদক কারারুদ্ধ ছিলেন। পুস্তক নিষিদ্ধ করার কাজে সরকারের উৎসাহ ছিল, কিন্তু শেষের দিকে সরকার আর নিষেধাজ্ঞা প্রচার করতে সাহস পায়নি, প্রচার করলেও সে নিষেধাজ্ঞা মান্য করা হয়নি।
১৯৭১-এর গণহত্যা যখন শুরু হয়, তখন বাংলাদেশের মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি মর্মান্তিকভাবে বেজেছে যে ঘটনা, সে হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হত্যাকাণ্ড। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের মানুষ যে যেখানে ছিল এ ঘটনার পর নিশ্চিত জেনেছে, পূর্ণ স্বাধীনতা ভিন্ন অন্য কোনো পথে বাঙালির বাঁচার উপায় নেই।
বুদ্ধিজীবীদের যে অংশ জনতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকারের তাঁবেদার হিসাবে কাজ করেছে, তাদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা মানুষকে বিক্ষুব্ধ করেছে। আটষট্টি সালে অগ্রগতির দশ বছরের গুণকীর্তন করে যখন প্রায় প্রতিদিন সংবাদপত্রে একটি করে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছিল, যখন প্রতিদিন মস্ত মস্ত ছবি ছাপা হচ্ছিল আইয়ুব খানের, তখন সেই সমারোহ যেমন করে বিদ্বিষ্ট করে তুলছিল পাঠকদের, তেমনিভাবে প্রলুব্ধ ও স্তাবক বুদ্ধিজীবীদের প্রতি পৃষ্ঠপোষকতার বর্ধিষ্ণু সমারোহও ঘৃণার সৃষ্টি করেছিল মানুষের মনে। বিশেষ করে আইয়ুব রাজত্বকালে, কেননা সেই কালেই উদ্যোগ-আয়োজনটা বেড়েছিল সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ মীরজাফরদের জন্ম যেমন দিয়েছে, তেমনি তাদের ঘৃণা করতেও কার্পণ্য করেনি।
তারচেয়েও বড় কথা এ সুবিধাভোগী ও ক্ষেত্র বিশেষে
নির্বোধ, বুদ্ধিজীবীদের লেখায়-বক্তৃতায় ফল হয়েছে হিতে বিপরীত। তারা যা ভালো বলেছেন, জনসাধারণ নিশ্চিত জেনেছে, তা মন্দ না হয়ে যায় না। তারা যার পক্ষে থেকেছেন, জনসাধারণ তার বিপক্ষে গেছে। অবশ্য এরা পক্ষে যত না বলেছেন, বিপক্ষে বলেছেন তার চেয়ে বেশি; কেননা এদের প্রধান চরিত্র হচ্ছে বর্জনবাদীর। এরা বলেছেন, ইকবাল অতি মহৎ কবি, বাংলাদেশের মানুষ সেই মহত্ত¡ দেখতে পায়নি। এরা বলেছেন, রবীন্দ্রনাথকে বর্জন কর। যত বলেছেন এই কথা, তত জনপ্রিয়তা বেড়েছে রবীন্দ্রনাথের, তত বেশি দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের মানুষ আঁকড়ে ধরেছে রবীন্দ্রনাথকে। রবীন্দ্রনাথ কবি থাকেননি, তিনি জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন, তার গান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসাবে গৃহীত হয়েছে। এরা বলেছেন, বাংলা ভাষাকে ইসলামি কর। যত বলেছেন, তত বেড়েছে সমগ্র বাংলা ভাষার প্রতি মানুষের প্রীতি ও আকর্ষণ। হরফ বদলানোর পরামর্শ সবাই ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এরা বলেছেন, নজরুল ইসলামের সংস্কার আবশ্যক, সাধারণ মানুষ বলেছে, নজরুল ইসলাম আমাদের একান্ত আপনজন। এরা বলেছে, পুঁথি সাহিত্যই আসল সাহিত্য, সাধারণ পাঠক বুঝে নিয়েছে পুঁথি সাহিত্যের পক্ষে ওই প্রচারে ফাঁকি আছে। মোটকথা, এদের কাজ সম্পূর্ণ বিপরীত ফল উৎপাদন করেছে। তার কারণ এই যে, সাধারণ মানুষ জানত এরা তাদের স্বার্থের শত্রু, এরা তাদের বন্ধু নন, এদের উদ্দেশ্য পশ্চিমাদের শোষণব্যবস্থাটাকে কায়েমি করে রাখা।
এভাবে জনতা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন যেসব বুদ্ধিজীবী, তারাও নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, পরোক্ষে জনতার উপকারই করেছেন। জনতার দৃষ্টি খুলে দিতে তারাও সাহায্য করেছেন, এ করে জনতার আন্দোলনকে তারাও এগিয়ে দিয়েছেন।
বুদ্ধিজীবী সমাজের যে অংশ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছিলেন, তারা বিবেকবান ছিলেন সত্য, কিন্তু তারাও আসলে নিজেদের স্বার্থেই কাজ করেছেন, তবে তফাত এই যে, তাদের স্বার্থকে তারা জনসাধারণের স্বার্থ থেকে ভিন্ন করে দেখেননি। এবং উভয়ের স্বার্থ যেহেতু ছিল এক ও অভিন্ন, তাই তাদের কাজের ফলে জনসাধারণের আন্দোলনের উপকার হয়েছে।
পাকিস্তান আন্দোলনের পেছনে কোনো দার্শনিক প্রস্তুতি ছিল না, যদিও পরবর্তীকালে প্রচার করা হয়েছিল, বিশিষ্ট জীবনদর্শনের প্রয়োজনেই স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের আন্দোলনও কোনো গ্রন্থপাঠ থেকে শুরু হয়নি; কিন্তু বুদ্ধিজীবীরা এ আন্দোলনে ছিলেন, এ আন্দোলনে তারা সরাসরি নেতৃত্ব দেননি, আন্দোলন যখন এগিয়ে গেছে, তখন তার গতির সঙ্গে সমতা রক্ষা করতেও হয়তো তারা পারেননি, পিছিয়ে পড়েছেন, তবু তারা সঙ্গেই ছিলেন, তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় ভূমিকাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সভা করে গুলিবর্ষণের নিন্দা করেছেন, ফলে তাদের ভেতর থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। উনসত্তরের এবং একাত্তরের আন্দোলনের সময় শিক্ষকরা রাজপথে শোভাযাত্রা করেছেন।
এসব ঘটনা ছোট ঘটনা; কিন্তু এগুলোর তাৎপর্য আছে। তাৎপর্য এই যে, বোঝা গেছে বিক্ষোভ সর্বজনীন হয়ে উঠেছে, তারচেয়ে বড় কথা, বোঝা গেছে শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব মানুষ এক হয়ে গেছে। সেই একতার দরুনই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
জনতার সঙ্গে চলা বুদ্ধিজীবী সমাজ জনতার অগ্রবর্তী অংশ হিসাবেই কাজ করেছে। পাকিস্তানের ব্যর্থতার লক্ষণ প্রথম ধরা পড়েছে তাদের কাছেই, পরে তারাই প্রমাণ পেয়েছেন সেই ব্যর্থতার। তারাই বুঝেছেন ভাষার ওপর আক্রমণের অর্থ কী, অর্থনীতির গতি কোন দিকে। সেই জ্ঞানকে তারা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বাকি কাজটা সাধারণ মানুষ নিজেরাই করেছে। বাংলাদেশকে তারা স্বাধীন করে নিয়েছে নিজের হাতে।
লেখক :সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রোহিতের স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে রঙ মাখালেন হার্দিক
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দোলে এবার জমিয়ে মজা করতে দেখা গেল হার্দিক পান্ডে, রোহিত শর্মাদের। সোমবার গোটা ভারত হোলির রঙে মেতে উঠেছিল যেন। আর সেই রঙের উৎসবের ছোঁয়া লাগে আইপিএলের সমস্ত দলেও।
এখন টানা আইপিএলের ম্যাচ চলছে, প্র্যাকটিস, ম্যাচসহ নানা চাপের মধ্যেও এদিন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টিমকে দোল খেলতে দেখা যায়। এই দলের সমস্ত খেলোয়াড়দের আনন্দ, রঙে মেতে উঠতে দেখা যায় এদিন।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টিমের আয়োজিত হোলিতে এদিন রোহিত শর্মাসহ অন্যান্য খেলোয়াড়দের দারুণ মজা করতে দেখা যায়। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছিল তাদের পরিবারও। এদিন হার্দিক পান্ডেকে রোহিতের স্ত্রী রিতিকা সাজদেহর সঙ্গে জমিয়ে রঙ খেলতে দেখা যায়।
এমনকি তাদের রঙ খেলা হয়ে গেলে শেষে সাধারণ প্লেন জল দিয়েও হোলি খেলেন তারা। দিল্লি ক্যাপিটালসের তরফেও হোলির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ঋষভ পন্ত, ডেভিড ওয়ার্নার, প্রমুখকে রঙ খেলতে দেখা যায়। ধর্ম, দেশ, ইত্যাদির বিভেদ ভুলে তারা একসঙ্গে রঙের খেলায় রঙিন হয়ে উঠেছিলেন।
কেকেআরের টিমের তরফেও এদিন দোলের আয়োজন করা হয়। সেখানে শ্রেয়স আইয়ার, হর্ষিত রানা, গৌতম গম্ভীর, প্রমুখকে এদিন রঙের খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। রাজস্থান রয়্যালসের শিবিরেও আয়োজন করা হয়েছিল হোলির। যুবেন্দ্র চাহাল, ধ্রুব জুরেল, স্টিভ স্মিথ প্রমুখও অংশ নেন দোলের উদযাপন।
এদিনের একাধিক ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল হয়েছে। সব থেকে বেশি নজর কেড়েছে হার্দিক এবং রোহিতের স্ত্রীর দোল খেলা।
প্রসঙ্গত আগামী ২৭ মার্চ মুম্বই ইন্ডিয়ান্স মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের।
মেসির পর ডি মারিয়াও পেলেন মৃত্যুর হুমকি
গত বছর স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে লক্ষ্য বানিয়ে মেসিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল তার জন্মস্থল রোসারিওতে। ব্যাপারটা যে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না সেটাই যেন মনে করিয়ে দেওয়া হলো এক বছর পর। মেসির জাতীয় দল সতীর্থ আনহেল ডি মারিয়ার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে বর্তমানে বেনফিকায় খেলা এই উইঙ্গার যেন তার অঞ্চলে ফেরার চিন্তা না করেন। করলেই তার আত্মীয়দের প্রাণহানি হবে!
মেসির মতোই রোসারিওতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ডি মারিয়ার। ওই শহরেই তার নিকটাত্মীয়রা বাস করেন। জানা গেছে, মিরাফ্লোরেস অঞ্চলের একটি বিল্ডিং কমপ্লেক্সের সামনে স্থানীয় সময় সোমবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে একটি ধূসর-রঙা গাড়ি থেকে একটি হুমকি বার্তা ছুড়ে মারা হয়েছে।
বুয়েনেস এইরেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই কমপ্লেক্সে ডি মারিয়ার মাসহ আরও বেশ কয়েকজন আত্মীয় থাকেন। হুমকি বার্তায় সান্তা ফে অঞ্চলের শহরে ডি মারিয়াকে না ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কালো প্লাস্টিক ব্যাগে মোড়ানো সে কাগজে লেখা ছিল- ‘আপনার ছেলে আনহেলকে বলে দিয়েন যেন সে রোসারিওতে আর না ফেরে। না হলে পরিবারের কোনো সদস্যকে খুন করেই এর বদলা নিব। এমনকি (মাসিমিলিয়ানো) পুয়ারো-ও (সান্তা ফে অঞ্চলের গভর্নর) আপনাদের বাঁচাতে পারবে না। আমরা (শুধু) কাগজ ছুড়ে মারি না। আমরা সিসা (বুলেট) ও মৃত ব্যক্তি ছুড়ে মারি।’
দেশটি বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বলছে, এমন হুমকির পেছনের কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। কী কারণে স্থানীয় অন্ধকার জগতকে আনহেল ডি মারিয়া খেপিয়ে তুলেছেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। গত বছর মেসির স্ত্রী রোকুজ্জোর পরিবারের মালিকানাধীন একটি দোকানে গুলি ছোড়া হয়েছিল। সঙ্গে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, ‘মেসি, তোমার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’
নতুন এই বার্তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতানোর নায়ক ডি মারিয়াকে কেন লক্ষ্য বানানো হয়েছে, সেটা বুঝে উঠতে পারছে না কেউ।
সংবাদমাধ্যম বিএ টাইমস বলছে, এই হুমকির সঙ্গে জড়িত গ্যাংটি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।
মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু
মৌলভীবাজারে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে তাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে জেলার জুড়ি উপজেলার পূর্ব গোয়ালবাড়ি গ্রামে মখলিছ মিয়ার বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালবাড়ী গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী ফয়জুর রহমান (৫০), তার স্ত্রী শিরিন বেগম (৪৫), মেয়ে সামিয়া (১৬), সাবিনা (১৩) ও ছেলে সায়েম (৮)। দগ্ধ অবস্থায় আরেক মেয়ে সোনিয়া বেগমকে (১২) সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় হয়। এসময় বিদ্যুৎ ছিল না। কিন্তু ফয়জুর রহমানের বাড়ির টিনের ওপর ৩৩০০ কেভির হাই ভোল্টের পল্লী বিদ্যুতের একটি তার ছিঁড়ে পড়ে ছিল। সেহেরীর পর সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যুৎ আসলে তাদের ঘরে বিদ্যুতায়িত হয়ে সবাই পুড়ে মারা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া দগ্ধ অবস্থায় আরেক শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী মাছুম বলেন, দিনমজুর ফয়জুল রহমান বাক প্রতিবন্ধী হলেও সহজ সরল মানুষ ছিলেন। তাদের পরিবারের ৫ জনের মৃত্যুতে গ্রামের সবাই শোকাহত।


