পবিত্র রমজান আসে মুমিনের হৃদয় আন্দোলিত করে। এর সুখ-সুর বাজে প্রতিটা প্রাণের অণুতে অণুতে। আনন্দে উদ্বেল হয়ে বান্দা কামনা করে তার প্রভুর সান্নিধ্য।
আনুগত্যে আনুগত্যে নিজেকে সমর্পণ করে প্রভুর একান্ত কাছের হয়। হৃদয় হয়ে ওঠে আলোকিত। মানুষ হয়ে ওঠে আরও শুদ্ধ আরও পবিত্র। আল্লাহর রহমতের চাদরে আবৃত হয় তার বান্দারা। তাই এ মাস অন্য সব মাস থেকে ভিন্নতর। এর ফজিলত বা মর্যাদা গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অনেক।
এ মাসে আমলের সওয়াব বেড়ে যায় কয়েকগুণ। একটি ভালো কাজের বিনিময়ে পুণ্য আসে কয়েকটি।
সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে (রমজান) পায় সে যেন রোজা রাখে।’
পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলে কারিম (সা.)-এর অনেক হাদিস রয়েছে। হাদিসের কিতাবগুলো যার বিস্তর সম্ভার। সেখান থেকে কয়েকটি হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো-
যেমন এক হাদিসে আছে, প্রিয় নবিজি (সা.)-এর প্রিয় সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানকে করা হয় শৃঙ্খলিত। (বুখারি, মুসলিম)।
অপর হাদিসে এসেছে, হজরত সাহাল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ছাড়া আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি, মুসলিম)।
বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রাতে ইবাদত করে তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি, মুসলিম)।
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) এ মাস তথা রমজানের ফজিলত ও গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন : ‘তোমাদের মধ্যে যারা রমজান পেল কিন্তু তাদের গুনাহ মাফ করাতে পারল না তাদের ধ্বংস হোক।’
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো-রাসুল (সা.) রমজানের গুরুত্ব বোঝাতে কতটা কঠোর হয়েছেন। আর যার গুরুত্ব এত বেশি তার ফজিলত কেমন হবে এটা বুঝবান মাত্রই অনুমেয়।
মাহে রমজানে প্রবৃত্তির অবৈধ চাহিদার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা সহজ হয়। প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয় লাভ করে আল্লাহর ভালোবাসা যারা পায় তাদের সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যখন তার কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাইল (আ.)-কে ডেকে বলেন, আমি অমুক বান্দাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাস। তখন জিবরাইল (আ.)ও তাকে ভালোবাসেন। অতঃপর জিবরাইল (আ.) আসমানবাসীদের (সব ফেরেশতা) মধ্যে ঘোষণা করে দেন যে, আল্লাহ অমুক বান্দাকে ভালোবাসেন তোমরাও তাকে ভালোবাস। তখন আসমানবাসীরাও তাকে ভালোবাসতে থাকে। তারপর পৃথিবীবাসীর অন্তরেও তাকে বরণীয় করে রাখা হয়। (বুখারি, হাদিস : ৭৪৮৫)।
মাহে রমজান নানাভাবে মুসলমানদের জীবন প্রভাবিত করে। এ মাসে তুলনামূলকভাবে পাপাচার কমে যায়। মানব কুপ্রবৃত্তি সর্বদা মানুষকে আরাম-আয়েশি জীবন এবং বেশি খাদ্যের প্রতি আকর্ষণ করে; যৌনতা, অশ্লীলতা, ধন-সম্পদের প্রতি অতি লোভ, ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা, পরচর্চা, অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, মিথ্যা বলা, স্বেচ্ছাচারিতা, আল্লাহর বিধিবিধান সম্পর্কে উদাসীনতা, সালাত থেকে দূরে থাকার অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকে। কিন্তু মাহে রমজানে এ চিত্র বদলে যায়।
সর্বত্র ইবাদত ও আমলের পরিবেশ থাকে। মসজিদগুলো মুসল্লি দিয়ে ভরপুর থাকে। পবিত্র রমজানে আল্লাহ শয়তানকে শিকলবন্দি করে দেন, যাতে বান্দারা উপরোক্ত নিন্দনীয় প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করে পরকালমুখী হতে পারে। এজন্য রমজানে আমাদের জীবনকে পাপমুক্ত করতে হবে-যাতে আমরা খোদার রহমতে সিক্ত হতে পারি।
লেখক : মুফতি লুৎফর রহমান ক্বাসিমী, নিউইয়র্কের আস-সাফা ইসলামিক সেন্টারের সেক্রেটারি জেনারেল খতিব ও ইউনাইটেড উলামা কাউন্সিল অব ইউএসএ ইনকের প্রেসিডেন্ট
রমজানে আল্লাহর রহমতের চাদরে আবৃত হয় বান্দা
হ্যাকিংয়ে সর্বস্বান্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী
প্রযুক্তিতে বিশ্বের সর্বোচ্চ সুরক্ষিত দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোনো ব্যাংক এখন চরম অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এখানকার শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্ক্যামাররা (হ্যাকার) প্রতিদিন শত শত প্রবাসীকে সর্বস্বান্ত করেছে। তাদের ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ তছনছ করছে। হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ ডলার। স্ক্যামাররা প্রথমে ব্যক্তির ফোন নম্বর হ্যাক করে। এরপর শেয়ার বাজার অ্যাপস দখলে নিয়ে একের পর এক শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। বিক্রির অর্থ তারা তাদের প্রিপেইড ডেবিট কার্ডে ট্রান্সফার করে আত্মসাৎ করছে।
দেশি-বিদেশি এসব হ্যাকাররা এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মাসের পর মাস পার হলেও প্রতিকার মিলছে না। উদ্ধার হচ্ছে না অর্থ। খোদ বাংলাদেশি অনেক মেধাবীদের বিরুদ্ধেও এসব হ্যাকিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর তালিকায় এরকম শতাধিক বাংলাদেশির নাম রয়েছে। এছাড়া আছে ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও ভারতীয় হ্যাকারদের নাম। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, স্ক্যামাররা এতটাই ভয়ংকর যে-তাদের খোঁজ পেলেও টিকিটি ধরা যাচ্ছে না। প্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা স্ক্যামাররা যুক্তরাষ্ট্রে জাল ফেলেছে। আর সেই জালে আটকা পড়ছে নিরীহ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য। নিউইয়র্ক পুলিশের একটি সূত্র জানায়, স্ক্যামাররা দীর্ঘ সময় কোনো ব্যক্তিকে নজরে রাখে। নানা মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল, ব্যাংক হিসাব ও ক্রেডিট কার্ডের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর সাইবার আক্রমণ চালায়। স্ক্যামাররা প্রথমে মোবাইল ফোনের সিম তুলে নেয়। হ্যাক করে ইমেইল। এরপর একে একে ব্যাংক, শেয়ারবাজার ও ক্রেডিট কার্ডের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সরিয়ে নেয় অর্থ। এ পর্যন্ত যত অভিযোগ এসেছে, বেশিরভাগ ঘটনায় প্রথমে মোবাইল হ্যাক হয়েছে। এসব মোবাইল ফোনের অধিকাংশই প্রিপেইড অপারেটরের। জানা গেছে, সামান্য কিছু তথ্য দিয়ে সহজেই এসব গ্রাহকদের সিমকার্ডগুলো হ্যাকাররা তাদের কবজায় নিয়ে নিচ্ছে। এরপর ইমেইলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে একের পর এক চালাচ্ছে সাইবার লুটপাট।
স্ক্যামাররা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজার থেকেও বহু বাংলাদেশির বিনিয়োগ হাতিয়ে নিয়েছে। মমতাজুল আহাদ নামে নিউইয়র্কের একজন মিডিয়াকর্মী বলেন, শেয়ার বাজার ট্রেডিং অ্যাপস রবিনহুড হ্যাকড করে তার ১৭ হাজার ডলারের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। অপু কাজী নামে একজন প্রবাসী জানান, তার ফোন নম্বর হ্যাকড করে ব্যাংক থেকে ২০ হাজার ডলার নিয়ে গেছে স্ক্যামাররা।
স¤প্রতি বাংলাদেশ সোসাইটির অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় মামুন আবু নামে এক বাংলাদেশির নাম উঠে এসেছে। তার বাসা কুইন্সের জ্যামাইকায়। পুলিশ তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মামুন আবু একজন পেশাদার স্ক্যামার। আগে স্ক্যামে পাকিস্তানিরা জড়িত ছিল বলে শোনা যেত। আর এখন আসছে বাংলাদেশিদের নাম।
স্ক্যামের শিকার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি শাহাদাত ইমন বলেন, গত মাসে সকালে একটি ফোনকলে তার ঘুম ভাঙে। হ্যালো বলার পর অপর প্রান্ত থেকে জানতে চাওয়া হয় এটা জিসানের নম্বর কিনা। রং নম্বর বলে কল কেটে দেন ইমন। পরদিন সকালে একইভাবে ফোনকল রিসিভ করেন তিনি। দিনে আরও দুবার একই ফোন নম্বর থেকে কল রিসিভ করেন ইমন। এভাবে এক সপ্তাহে তিনটি নম্বর থেকে ১৩ বার ফোন পান তিনি। ৭ দিনের মাথায় ইমনের সিমটি অকার্যকর হয়ে যায়। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তার ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৭০০ ডলার হাওয়া হয়ে যায়।
একইভাবে মাহবুবুর রহমান নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এক যুবক বলেন, অফিসের প্রয়োজনে তিনি প্রিন্টারের কালি অর্ডার করেছিলেন অ্যামাজন ডটকমে। যেদিন অর্ডার দেন পরদিন তার ইমেইলে জানানো হয় অ্যামাজনের অর্ডারটি কমপ্লিট হয়নি। ইমেইলে একটি ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর মাহবুব ওই নম্বরে কল করেই ফেঁসে যান। মুহূর্তেই তার ইমেইলটি হ্যাক হয়ে যায়। পরদিন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট লগইন করে দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৯৫০ ডলার উধাও। অভিযোগ দেওয়ার পর ডলার ফেরত পেয়েছেন। কিন্তু এ ঘটনার তদন্ত চলছে।
সিরাজুল ইসলাম নামে অপর এক বাংলাদেশি প্রবাসী বলেন, আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী চেজ ব্যাংকে তার একটি চেকিং ও বিজনেস অ্যাকাউন্ট আছে। একদিন ঘুম থেকে উঠে নোটিফিকেশন পান যে তার বিজনেস অ্যাকাউন্টে ৫০ ডলারের একটি লেনদেন হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। অথচ তিনি সেখানে কখনোই যাননি। আর কোনো অর্থ বেহাত হয়েছে কিনা সন্দেহ হলে তিনি চোখ রাখেন আগের ট্রানজেকশনগুলোতে। এবার তিনি দেখতে পান বেশ কয়েকবার তার অ্যাকাউন্ট থেকে ছোট ছোট অ্যামাউন্টের অর্থ বেহাত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনা তিনি ব্যাংকে ফোন করে জানান। প্রতিটি বেহাত লেনদেনের অর্থ ফেরত পাওয়া গেলেও ব্যাংক তার ডেবিট কার্ডটি পরিবর্তন করে দেয়। এরপর থেকে সতর্ক রয়েছেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে ছোট পরিমাণে অর্থ বেহাত হলেও অনেকেই তা খেয়াল করেন না। এটাই স্ক্যামারদের এক ধরনের কৌশল। এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক সিটিতে বসবাসরত চট্টগ্রামের স›দ্বীপ উপজেলার অহিদুল মাওলা নামে এক যুবকের প্রায় ২৫ হাজার ডলারের মতো অর্থ হ্যাকাররা হাতিয়ে নিয়ে যায়। অহিদ বলেন, কিছুদিন আগে তার মোবাইলে অপরিচিত একটি কল আসে। কলটি রিসিভ করতেই কেটে যায়। পরদিন ওই নম্বর থেকে আরও দুই বার কল আসে। দুটি কলই একই ভাবে রিসিভ করতে গিয়ে কেটে যায়। পরের দিন ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার সিমটি বিকল হয়ে আছে। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখতে পান তার ২২ হাজার ডলার উধাও। বিষয়টি তিনি ব্যাংকে জানালে কর্তৃপক্ষ ১৬ হাজার ডলার ফেরত দিলেও এখনো ৬ হাজার ডলার ফেরত দেয়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই ৬ হাজার ডলার অহিদুলের ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে উত্তোলন করা হয়েছিল। যদিও অহিদুল জানান, তিনি কখনোই তার ডেবিট কার্ড ব্যবহার করেননি। জানা গেছে, হ্যাকরারা তার অ্যাকাউন্ট জব্দ করে ডেবিট কার্ডটি নিয়ে নেয়। এরপর হুবহু ওই কার্ড তৈরি করে এই ডলার উঠিয়ে নেয়। এ বিষয়ে অহিদুল আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান। একইভাবে নিউইয়র্কের ব্রæকলিনে বসবাসরত নোয়াখালীর ল²ীপুরের এক গ্রোসারি শপের মালিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ১৬ হাজার ডলার নিয়ে যায় স্ক্যামাররা। যদিও ওই ব্যবসায়ীর পুরো ডলারই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ফেরত দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, স্ক্যামাররা খুবই বিচক্ষণ ও মেধাসম্পন্ন। তারা বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য কেনাবেচা করে। ফোনের দোকান, মেডিকেল অফিস এবং বিভিন্ন থার্ড পার্টির কাছ থেকে একজন নাগরিকের তথ্য পাচার হচ্ছে। অনেক সময় তথ্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। টি-মোবাইলের মতো জায়ান্ট কোম্পানি গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। এ পর্যন্ত ছয়বার তাদের তথ্যভান্ডারে হানা দিয়ে তছনছ করেছে হ্যাকাররা। এসব তথ্য জানান সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করা একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ জানায়, শাহাদাত ইমনের অর্থ হ্যাকের তদন্ত করতে গিয়ে তারা জেনেছেন হ্যাকরারা প্রথমে তার সিম তুলে নিয়েছিল। এরপর ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট দখলে নিয়ে তার গচ্ছিত ডলার তুলে নেয়। পুলিশ আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো প্রিপেইড মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। কথা বলার তিনটি নম্বর বলতে পারলেই সিম রিপ্লেস করে দেয় কোম্পানিগুলো। এর বাইরে তাদের আর কোনো নিরাপত্তা প্রশ্ন থাকে না। প্রবাসী ইমনের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। তিনটি নম্বর থেকে ১৩ বার কল রিসিভ করা মানে তিনটি নম্বরে তিনি কথা বলেছেন। এভাবে সহজেই তার সিম নিয়ে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ডে ঢুকে পড়ে স্ক্যামাররা।
সাধারণত প্রতি বছর ট্যাক্স রিটার্ন মৌসুম শুরু হলে স্ক্যামারদের তৎপরতা বেড়ে যায়। তারা নাগরিকের ট্যাক্স রিটার্নের অর্থ হাতিয়ে নিতে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে। এমনকি আইআরএসের অ্যাকাউন্ড হ্যাকড করে রিটার্নের জন্য যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেওয়া হয় তার পরিবর্তন করে দেয় স্ক্যামাররা। এভাবে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে স্ক্যামাররা।
ট্যাক্স রিটার্ন মৌসুমে স্ক্যামাররা ট্যাক্স ফাইলিংয়ের পর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করার জন্য নানাভাবে ওতপেতে থাকে। ফলে ট্যাক্স ফাইলিংয়ের পর ফোনে এ সংক্রান্ত যোগাযোগ না করার পরামর্শ দিচ্ছে ট্যাক্স ফাইল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। স্ক্যামের শিকার ভুক্তভোগী এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, স্ক্যামাররা অত্যন্ত সংঘবদ্ধ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো-এসব স্ক্যামের সঙ্গে অনেক বাংলাদেশির নাম এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ সংক্রান্ত কিছু প্রমাণও পেয়েছে। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে স্ক্যামাররা। স্ক্যামে জড়িতদের মধ্যে ফিলিপিনো ও ভারতীয়দের নাম সবার আগে উঠে আসছে। এরপর রয়েছে পাকিস্তানিদের নাম। স্ক্যামিংয়ের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশিদের নামও আসছে। এসব বাংলাদেশিরা নানাভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করে তা সরবরাহ করছে পেশাদার স্ক্যামারদের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্তে বেশকিছু বাংলাদেশির নাম এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) টেলিফোন স্ক্যামের বেশকিছু ঘটনা তদন্ত করছে।
রাশিয়ায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা নিহত ১৫০ ছাড়িয়েছে, দায় স্বীকার আইএসের, ১১ হামলাকারী গ্রেফতার
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উত্তরাঞ্চলীয় উপকণ্ঠ ক্রাসনোগরস্ক এলাকার ক্রকাস সিটি কনসার্ট হলে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে কেমোফ্লেজ ইউনিফর্ম পরা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। তারা স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হলটিতে প্রবেশ করে মেশিনগান থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে, পাশাপাশি গ্রেনেড ও আগুনবোমা নিক্ষেপ করে। এতে হলটিতে আগুন ধরে যায়। এ সময় গুলি, আগুন ও বিস্ফোরণে বহু মানুষ হতাহত হন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৩৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৮৭ জনের বেশি। পরে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে কেমোফ্লেজ ইউনিফর্ম পরা চার অস্ত্রধারীসহ ১১ জন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে। চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট-আইএস-কে (খোরাসান) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
খবরে বলা হয়, কয়েক দশকের মধ্যে রাশিয়ায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি এটি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি, কিউবাসহ বিশ্বনেতারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, কনসার্টে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। হামলায় কনসার্ট হলটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন খুব দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো ভবন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। দর্শনার্থীরা এ সময় চিৎকার করে জরুরি নির্গমন দরজার দিকে ছুটতে থাকেন। হামলাকারীরা কেমোফ্লেজ ইউনিফর্ম পরে কনসার্ট ভবনটিতে ঢুকে গুলি করতে শুরু করে। একই সঙ্গে তারা গ্রেনেড ও আগুনবোমা ছুড়তে থাকে।
এলেক্সি নামে একজন সংগীত প্রযোজক জানান, রক গানের কনসার্টটি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি গুলিবর্ষণের শব্দ এবং অনেক মানুষের চিৎকার শুনতে পান। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম অটোমেটিক রাইফেলে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হামলা হচ্ছে এবং সবচেয়ে খারাপ যেটা, তা হলো এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা।’ এলেক্সি আরও বলেন, ‘সব লোকই বের হওয়ার জরুরি দরজাগুলোর দিকে ভিড় করছিলেন এবং এতে সেখানে প্রচণ্ড ঠাসাঠাসির সৃষ্টি হয়। এমনকি, লোকেরা একে অন্যের মাথার ওপর দিয়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন।’ রুশ ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে আছে এবং দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করতে অভিযান পরিচালনা করছে। প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশকে গন্ধ শুঁকে অপরাধী শনাক্ত করতে পারে, এমন কুকুর নিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানায়, কনসার্ট হলে মুখোশ পরা বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৩৩ জনে পৌঁছেছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা কনসার্ট ভেন্যুতে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার সময় আরও কিছু লাশ খুঁজে পেয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা দেওয়া হয়। এদিকে ক্রেমলিনের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে চার অস্ত্রধারী সরাসরি জড়িত। এ ঘটনাকে ‘রক্তাক্ত সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে ঘটনার পরপরই নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করে বলা হয়, এই হামলা চালিয়েছে ইসলামিক স্টেট-আইএস-কে (খোরাসান)। এদিকে রুশ বার্তা সংস্থা আরটিতে এক হামলাকারীর ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, হালকা শারীরিক গঠনের এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ওই সময় তাকে বেঁধে রাখা হয়। তিনি স্বীকার করেন, মাত্র ৫ লাখ রুবলের বিনিময়ে ভয়াবহ এই হামলায় জড়িত হন তিনি। হামলার আগে তুরস্কে যাওয়ার কথাও জানান এই হামলাকারী। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ রাশিয়ায় মার্কিন দূতাবাস একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, মস্কোয় বড় জমায়েতে উগ্রপন্থিদের হামলার পরিকল্পনার খবর জানা গেছে। এ সতর্কবার্তায় বড় জমায়েতের মধ্যে কনসার্টের কথাও বলা হয়েছিল। সতর্কবার্তায় মস্কোয় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ৪৮ ঘণ্টার জন্য বড় জমায়েত এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের সবচেয়ে সক্রিয় আঞ্চলিক সহযোগীর একটি ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান’ বা আইএস-কে। ইরান, তুর্কমেনিস্তান ও আফগানিস্তানের অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত খোরাসান অঞ্চলে (পুরনো নাম) সক্রিয় রয়েছে গোষ্ঠীটি। ২০১৪ সালের শেষ দিকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এর আবির্ভাব। চূড়ান্ত পর্যায়ের নৃশংসতা দেখিয়ে দ্রæতই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে গোষ্ঠীটি।
বদলা নেওয়ার ঘোষণা : রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার বদলা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই মুখপাত্র বলেছেন, ‘যদি এটি প্রমাণ হয় যে, এরা মৌলবাদী শাসনের সন্ত্রাসী, তবে তাদের এবং তাদের আদর্শিক অনুপ্রেরণাকারীদের সঙ্গে ভিন্নভাবে মোকাবিলা করা অসম্ভব। তাদের সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে এবং রাষ্ট্রের কর্মকর্তাসহ যারা এ ধরনের নৃশংসতা চালিয়েছে তাদের নির্দয়ভাবে ধ্বংস করতে হবে।’
মস্কোর সর্বোচ্চ সতর্কতা, জনসমাগম নিষিদ্ধ : সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে মস্কোর সব পাবলিক ইভেন্ট এবং জমায়েত বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দরসহ সবগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও অফিসে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা বিদেশি : রাশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গ্রেফতাকৃত ব্যক্তিরা বিদেশি নাগরিক। তারা তাজিকিস্তানের নাগরিক। দেশটির সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্ত রয়েছে। আর আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিভিন্ন দল সক্রিয় রয়েছে।
ভারতে উত্তর প্রদেশে মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ আদালতের
ভারতের জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে ইসলামিক স্কুল বা মাদ্রাসাকে বন্ধ ঘোষণা করেছে আদালত। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের থেকে আরো দূরে সরে যেতে পারেন মুসলিমরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, উত্তর প্রদেশে মাদ্রাসা শিক্ষাকে অনুমোদন বা পরিচালনার জন্য একটি আইন করা হয় ২০০৪ সালে। কিন্তু শুক্রবারের রায়ে আদালত সেই আইন বাতিল ঘোষণা করে। এতে বলা হয়, সাংবিধানিকভাবে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এখানে মাদ্রাসা প্রচলিত থাকলে তা এই সংবিধানকে লঙ্ঘন করে। এই শিক্ষাকে বাতিল করে শিক্ষার্থীদেরকে প্রচলিত স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয় আদালত। রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের প্রধান ইফতিখার আহমেদ জাভেদ বলেন, এলাহাবাদ হাই কোর্টের এ রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ২৭ লাখ শিক্ষার্থী, ১০ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা এবং ২৫ হাজার মাদ্রাসা। এ রাজ্যের মোট ২৪ কোটি মানুষের মধ্যে এক পঞ্চমাংশ হলেন মুসলিম।
চারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী এবং বিবেক চৌধুরী তাদের লিখিত রায়ে বলেছেন, স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে যাতে ভর্তি থেকে বঞ্চিত না হয় ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য সরকারকে।
আইনজীবী অংশুমান সিং রাঠোরের এক আপিল আবেদনে আদালত ওই রায় দেয়। রাঠোর কোনো রাজনৈতিক গ্রæপের সঙ্গে সংযুক্ত কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে ভারতে। এতে নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি বিজয়ী হতে পারেন বলে মনে করা হয়। কিন্তু ইসলামবিরোধী ঘৃণাপ্রসূত বক্তব্য এবং নজরদারিকে উৎসাহিত করার জন্য বিজেপির কিছু সদস্য এবং সমমনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছেন মুসলিমরা ও অধিকার বিষয়ক গ্রæপগুলো। তবে ভারতে ধর্মীয় বৈষম্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন মোদি। বিজেপি বলেছে, ঐতিহাসিক যেসব ভুল ছিল তা পরিবর্তন করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ১৯৯২ সালে ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত বাবরি মসজিদের স্থানে হিন্দুদের জন্য একটি মন্দির উদ্বোধন করেছেন।
উত্তর প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠি বলেছেন, রাজ্য সরকার মাদ্রাসাবিরোধী নয়। মুসলিম শিক্ষার্থীদের শিক্ষার বিষয়ে সচেতন রাজ্য। তিনি বলেন, আমরা মাদ্রাসার বিরোধী নই। আমরা বৈষম্যমূলক শিক্ষার বিরোধী। আমরা অবৈধ অর্থায়নের বিরোধী। আদালতের নির্দেশের পর সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এমন রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুধাংশু চৌহান। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা এবং ধর্মীয় নির্দেশনা কোনো স্কুলের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। ধর্মীয় শিক্ষার অনুমতি দিয়ে বিধিবদ্ধ শিক্ষা বোর্ড তৈরির কোনো ক্ষমতা রাজ্য সরকারের নেই।
মাদ্রাসা কর্মকর্তা জাভেদ বলেন, একজন মুসলিম হিসেবে তিনি নিজের দল এবং তার স¤প্রদায়ের মধ্যে অগ্রাধিকারকে খুঁজে নেন। শুক্রবারের রায়ের পর থেকে মুসলিমদের দিক থেকে তার কাছে অসংখ্য কল আসছে। তার ভাষায়, আমাকে প্রচুর ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে চয়। একজন মুসলিম হওয়ায় দল আমাকে মুসলিম স¤প্রদায়ের কাছে পাঠায় তাদেরকে আশ্বস্ত করতে এবং তাদের পক্ষে ভোট চাইতে। কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বা কর্মসুচিতে আমি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে চলি। কারণ, আমি এতটাই ভয় পাচ্ছি।
পাকিস্তানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে
অপারেশন সার্চলাইটের প্রথম রাত শেষে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সকালে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত নিজের কমান্ড পোস্ট থেকে বাইরে এসে শহরের দিকে তাকিয়ে জেনারেল টিক্কা খান বিদ্রƒপের হাসিতে তার জনসংযোগ কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিককে বলেন, ঢাকা শহরে কয়েকটি নেড়ি কুত্তা ছাড়া মানুষজন আছে বলে তো মনে হচ্ছে না। উইটনেস টু সারেন্ডার গ্রন্থে সিদ্দিক সালিক সেদিনের সকালের দৃশ্যপটের স্মৃতিচারণায় এ কথাগুলোই লিখেছেন। একাত্তরে মাত্র আট মাস ২২ দিনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৩০ লাখ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে রেকর্ডকৃত তথ্যমতে, এত স্বল্প সময়ে এত বড় গণহত্যা বিশ্বের আর কোথাও হয়নি। উপরোক্ত গণহত্যা পাকিস্তান সেনাবাহিনী চালায় আনুষ্ঠানিক লিখিত মিলিটারি অপারেশন আদেশ জারি করে। এটা ছিল মূর্খতা ও গোঁয়ার বুদ্ধির পরিচায়ক এবং সীমাহীন ঔদ্ধত্যের উদাহরণ। প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বিশ্বের বহু প্রান্তে অনেক রকমের এবং বহু ডাইমেনশনের গণহত্যা হয়েছে, যার কোনোটাই লিখিত সামরিক আদেশ জারি করে করা হয়নি। যেখানে যা ঘটেছে তা করা হয়েছে ক্ল্যানডেস্টাইন (গোপন পরিকল্পনা) পন্থায় এবং গোপনীয় বা বিশেষ বাহিনীর দ্বারা। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ। পাকিস্তান সেনাবাহিনী একাত্তরের মার্চ মাসের ২৫ তারিখ দিবাগত রাতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে। তাদের অভিযান শুরু হওয়ার পরই কেবল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তাই জাতিসংঘের কনভেনশন অনুযায়ী পাকিস্তান এক্ষেত্রে আগ্রাসি এবং প্রথম আক্রমণকারী দেশ। সুতরাং কনভেনশন অনুযায়ী এই যুদ্ধের সব দায়-দায়িত্ব বর্তায় পাকিস্তানের ওপর। পাকিস্তান সেনা অভিযানের সাংকেতিক নাম দেয় অপারেশন সার্চলাইট। এর প্রথম পর্ব চলে মধ্য মে মাস পর্যন্ত। তারপর শুরু হয় সার্চলাইটের দ্বিতীয় পর্ব, যা বলবৎ থাকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রথম পর্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তৎকালীন সব মহাকুশা শহর, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, ব্যবসা কেন্দ্র এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুগুলোকে দখল ও নিয়ন্ত্রণ নেয়। অপারেশন সার্চলাইটের প্রথম পর্বের প্রথম রাতে (২৫ মার্চ রাত) পাকিস্তান সেনাবাহিনী অভিযান চালায় ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রাজশাহী, রংপুর, সৈয়দপুর ও সিলেট শহরে, অর্থাৎ সে সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অবস্থানকৃত শহরগুলোকে তারা প্রথম টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়। গভর্নরের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ছিলেন ঢাকা শহরের দায়িত্বে আর ১৪ পদাতিক খাদিম হোসেন রাজা ছিলেন ঢাকা ব্যতীত অন্য শহরগুলোর দায়িত্বে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল হামিদ খান ১৭ মার্চ খাদিম হোসেন রাজাকে সার্চলাইটের আদেশনামা চূড়ান্ত করার হুকুম দেন। খাদিম ও রাও ফরমান আলী ১৮ মার্চ একত্রে ঢাকা সেনানিবাসে বসে অপারেশন আদেশনামা চূড়ান্ত করেন। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ফেব্রæয়ারি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে পরামর্শের পর পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক অভিযানের জন্য সেনাপ্রধান হামিদ খানকে প্রস্তুত হতে বলেন। হামিদ খান ও পূর্ব পাকিস্তানের নতুন গভর্নর ও সামরিক প্রধান টিক্কা খান একত্রে ২০ মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের অনুমোদন দেন। এর মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) গুল হাসান কয়েকবার রাওয়ালপিন্ডি থেকে ঢাকায় আসা- যাওয়া করেন। জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্ররোচনায় গুল হাসান ও টিক্কা খান দুজনে মিলে তত্ত¡ দেন সাড়ে ৭ কোটির মধ্যে ২৫-৩০ লাখ বাঙালি হত্যা করলে কিছু যাবে-আসবে না। বরং তাতে সব ঠিক হয়ে যাবে এবং পাকিস্তান রক্ষা পাবে। আগামী ৩০ বছর নিশ্চিন্তে বাঙালিদের শাসন করা যাবে। এই তত্তে¡র সূত্রেই ২৬ মার্চ সকালে ঢাকা ত্যাগকালে বিমানবন্দরে জুলফিকার আলী ভুট্টো তার সফরসঙ্গী অফিসারদের বলেন, ‘থ্যাংক গড পাকিস্তান ইজ সেভড’ অর্থাৎ পাকিস্তান রক্ষা পেল। রাও ফরমান আলী ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা শহরে অপারেশন পরিচালনার জন্য ৫৭ পদাতিক ব্রিগেড ও তার কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব আরবাবের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেন। ৫৭ ব্রিগেডের অধীনে ছিল ২২ বালুচ রেজিমেন্ট ১৮ পাঞ্জাব, ৩২ পাঞ্জাব, ৩১ গোলন্দাজ এবং ১৩ ফ্রন্টিয়ার রেজিমেন্ট। সার্চলাইটের আদেশনামায় রাও ফরমান আলী সুনির্দিষ্টভাবে টার্গেট উল্লেখপূর্বক আদেশ দেন কোন সেনাদল কোথায় অভিযান চালাবে। আদেশনামায় টার্গেট হিসেবে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করেন ইকবাল হল, জগন্নাথ হল, ঢাকা হল এবং শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা। ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ ১৮ পাঞ্জাব রেজিমেন্টকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতে আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একইভাবে অন্যান্য সেনাদলকে আলাদা আলাদাভাবে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, চকবাজার, পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনকে টার্গেট হিসেবে নির্দিষ্ট করে আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণীয় বিষয় হলো, লিখিতভাবে সামরিক অপারেশন আদেশনামায় বেসামরিক এলাকা ও মানুষকে টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ঢাকার বাইরেও অন্য শহরগুলোতে খাদিম হোসেন রাজা বেসামরিক মানুষ ও আবাসিক এলাকাকে টার্গেট হিসেবে আক্রমণের জন্য নির্ধারণ করে দেন। ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় কত বড় গণহত্যা চালানো হয় তার চিত্র বোঝার জন্য টিক্কা খানের উক্তিই যথেষ্ট, যে কথা লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি। সিদ্দিক সালিক উইটনেস টু সারেন্ডার গ্রন্থের ৭২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ২৫ মার্চ সন্ধ্যার মধ্যে পরিপূর্ণ একটি গণহত্যার জন্য নিখুঁত ও যুৎসই প্রস্তুতি নেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোবিন্দ্র চন্দ্র দেবসহ এক ডজনের ওপর শিক্ষক এবং কয়েক শ ছাত্রকে হত্যা করা হয়।
এক রাতেই শাঁখারীবাজারে নিহত হন প্রায় ৮ হাজার মানুষ। চকবাজারসহ ঢাকা শহরের অন্যান্য এলাকায়ও একই রকম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। পুরান ঢাকায় প্রধানত টার্গেট করা হয় হিন্দু স¤প্রদায়ের মানুষকে। ঘুমন্ত নারী-শিশুসহ ঘরবাড়িতে গানপাউডারের মাধ্যমে আগুন দেওয়া হয়। বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে সারা রাত দাউ দাউ করে পুরান ঢাকায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ২৫ মার্চ গণহত্যার নৃশংস বর্ণনা বিশ্ব মিডিয়াতেও ছাপা হয়। একমাত্র বিদেশি সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ওই রাতে ঢাকায় ছিলেন। পরে লন্ডনে পালিয়ে গিয়ে ৩১ মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় তিনি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ সব ধরনের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে। ইকবাল হলকে তারা প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ওপর একদিকে উপর্যুপরি ভারী কামানের শেল নিক্ষেপ করা হতে থাকে, একই সঙ্গে চলতে থাকে মেশিনগানের গুলি। শুধু ইকবাল হলেই প্রথম ধাক্কায় ২০০ ছাত্র নিহত হন। বেসামরিক মানুষের ওপর এমন সমন্বিত অস্ত্রের ব্যবহার বিশ্বে আর কোথাও হয়নি। দুই দিন পর্যন্ত পোড়া ঘরগুলোর জানালায় মৃতদেহ ঝুলে থাকতে দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকায় এই মর্মে খবর হয় যে, ২৫ মার্চ রাতে সারা বাংলাদেশে ১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যুদ্ধ সম্পর্কে জেনেভা কনভেনশনের প্রারম্ভে বলা হয়েছে, যুদ্ধেরও একটা সীমা ও নিয়ম আছে, বেসামরিক মানুষকে কখনোই টার্গেট করা যাবে না। তারপর জেনেভা কনভেনশনে যুদ্ধরত বাহিনীকে ১০টি রুলস বা বিধি মান্য করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যেখানে তিনটি বিধির মাধ্যমে বিশেষভাবে বেসামরিক মানুষের জন্য রক্ষাকবচ তৈরি করা হয়েছে। তার মধ্যে এক নম্বর বিধিতে বেসামরিক মানুষকে টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেটা করা হলে তা অবশ্যই যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তাই জেনেভা কনভেনশন অনুসারে অপারেশন সার্চলাইটে বেসামরিক মানুষকে টার্গেট হিসেবে নির্ধারণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃসন্দেহে যুদ্ধাপরাধ করেছে। সার্চলাইটের আদেশনামা পড়লে তা যে কেউ বুঝতে পারবেন। সুতরাং যুদ্ধাপরাধের দায় থেকে পাকিস্তান রক্ষা পাবে না। কোনো সুযোগ নেই।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় নিযুক্ত আমেরিকান কনসাল জেনারেল আর্চার কে বøাড তার নিজের লিখিত ক্রয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ গ্রন্থের ২১৩ পৃষ্ঠায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাছাই করা গণহত্যার বর্ণনা দিয়েছেন। এ গণহত্যার রিপোর্ট তিনি ২৮ মার্চ ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছিলেন। একই রকম বাছাইকৃত গণহত্যার বর্ণনা পাওয়া যায় তখন দিল্লিতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত কেন কিটিংয়ের প্রতিবেদনে, যার বর্ণনা রয়েছে আর্চার বøাডের বইয়ের ২১৫ পৃষ্ঠায়। ১৯৭২ সালে জানুয়ারির ৩ তারিখে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা প্রাভদা প্রকাশ করে, বাংলাদেশে গত ৯ মাসে ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। লন্ডনের মর্নিং নিউজ ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি প্রকাশ করে। গত ৯ মাসে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী বাংলাদেশে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে। সুতরাং পাকিস্তান সেনাবাহিনী ’৭১-এ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে তার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। এখানে উল্লেখ্য, একাত্তরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের থেকে অনেক অনেক খারাপ অবস্থায় ছিল। বর্তমানে জেলা, তখনকার মহকুমা শহরের সঙ্গে সব জায়গায় সড়ক ও রেল যোগাযোগ ছিল না। ওই রকম যোগাযোগ ব্যবস্থায় পাকিস্তান আর্মি গ্রামগঞ্জে গিয়ে কিছুতেই হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারত না, যদি রাজাকার, শান্তি কমিটির সদস্য, জামায়াত, মুসলিম লীগের সদস্যরা পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে না থাকত। তখন জামায়াত মুসলিম লীগের যারা পাকিস্তানি গণহত্যার সঙ্গী ছিলেন তার অনেকেই এখন আর সশরীরে জীবিত নেই। কিন্তু দেশের সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য পাকিস্তানের গণহত্যার ওইসব বাঙালি সহযোগী যারা ছিলেন তাদের উত্তরসূরিদের উচিত অনুতপ্ত হয়ে তাদের পূর্বসূরিদের পক্ষ হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। অন্যদিকে পাকিস্তানকেও ক্ষমা চাইতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আগ্রাসি অর্থাৎ আক্রমণকারী পক্ষ হিসেবে জার্মানি একাধিকবার গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে এবং যুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্ড ১৯৭০ সালে পোল্যান্ড সফরে যান এবং যে স্থানে ইহুদিদের দলবদ্ধ অবস্থায় হত্যা করা হয়েছিল সেখানে প্রকাশ্যে হাঁটু গেড়ে জার্মান জাতির পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যদিও উইলি ব্রান্ড নিজে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অপর আক্রমণকারী পক্ষ জাপান একাধিকবার চীন ও কোরিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের মানুষ কিছু ভুলে যায়নি। আন্তর্জাতিক প্রথা ও জাতিসংঘের কনভেনশন অনুযায়ী পাকিস্তানের পক্ষে এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল তারা কেউ এখন বেঁচে নেই। আন্তজার্তিক আইনের কাছে তাদের মাথা নত করতে হবে। পাকিস্তান কর্তৃক নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া ছাড়া অন্য কিছু বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার পিএসসি (অব.)
কঙ্গনার বিয়ের পোশাক প্রস্তুত
বলিউডে এখন প্রায় অধিকাংশ অভিনেত্রীই বিবাহিত। কিন্তু এখনো ‘সিঙ্গেল’ কঙ্গনা রানাউত। চারপাশে এত বিয়ে দেখে নাকি আর তর সইছে না বলিউডের ‘কুইন’-এর। লোকসভা নির্বাচনের পর বিয়ে করতে চলেছেন কঙ্গনা!
ইতোমধ্যে নাকি পোশাক নির্বাচনও করে ফেলেছেন তিনি। মুম্বাইয়ের খ্যাতনামা এক পোশাকশিল্পীর কাছে যাতায়াতও বেড়েছে তার। বিয়ের জন্য মুম্বাই নয়, হিমাচলই পছন্দ কঙ্গনার। তবে খুব বেশি আয়োজন নয়, বরং ঘরোয়া পরিবেশে ছিমছামভাবেই বিয়ে সারবেন অভিনেত্রী। কিন্তু পাত্রটি কে?
অভিনেতা কিংবা মাঝ বয়সি পরিচালকÑ একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারই শেষটা ভালো হয়নি। অভিনেতা হৃতিক রোশন থেকে অধ্যয়ন সুমনÑ সবাই প্রায় কটাক্ষ করেছেন তাকে নিয়ে। মাঝে একটা লম্বা সময় তার প্রেমজীবন নিয়ে তেমন চর্চা হয়নি।
২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে সব হবে। আমিও সংসারী হতে চাই। একাধিক সন্তানের মা হতে চাই। স্বপ্ন দেখি, আমার সাজানো সংসার আগলাবে আমার স্বপ্নের পুরুষ। যে ভালো-মন্দে ঘিরে থাকবে আমায়।’
স¤প্রতি মুম্বাইয়ের এক পোশাকশিল্পী নাকি অভিনেত্রীর বিয়ের খবরটি ফাঁস করেছেন। কিন্তু পাত্রটি কে, সেই নিয়ে বাক্যব্যয় করেননি তিনি।
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, কঙ্গনার হবু স্বামী বলিউডের কেউ নন। তার হবু বর বিদেশে থাকেন এবং তিনি নামকরা ব্যবসায়ী। বেশ কিছু দিন ধরেই নাকি সেই ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপনে প্রেম করছেন কঙ্গনা। আর এবার বিয়ের পালা।
এমনিতেই সমাজমাধ্যমে খুব সক্রিয় অভিনেত্রী। গোটা বিশ্বের খবর রাখেন তিনি। যদিও নিজের বিয়ের প্রসঙ্গে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি কঙ্গনা।
স্ত্রী সানার জন্মদিনে আদুরে বার্তা শোয়েব মালিকের
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের তারকা অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক তার স্ত্রী অভিনেত্রী সানা জাভেদকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সানার জন্মদিনে আদুরে বার্তা দিয়েছেন মালিক।
রোববার এক ইন্সটাগ্রাম পোস্টে শোয়েব ক্যাপশন সহ তার এবং সানার তিনটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন সানা শোয়েব মালিক।’ খবর জিইও নিউজের।
কিছু দিন আগে সানা এক ইনস্টাগ্রামে স্বামী শোয়েবকে নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন,’কখনও কখনও অলৌকিক ঘটনাগুলো সদয় হৃদয়ের ভালো মানুষ হয়। ‘
শোয়েব মালিকের ছবি দিয়ে একটি হার্ট ইমোজিসহ ক্যাপশনে এই অভিনেত্রী লিখেছিলেন,’মাই ওয়ান অ্যান্ড অনলি এসএম। ‘
চলতি বছরের২০ জানুয়ারি নিজেদের বিয়ের বিয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন শোয়েব ও সানা। এরপর থেকেই আলোচনা-সমালোচনায় এই দম্পতি।
এর আগে ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জাকে বিয়ে করেছিলেন শোয়েব মালিক। সানা জাভেদও পাকিস্তানের অভিনেতা এবং গায়ক উমাইর জাসওয়ালকে বিয়ে করেছিলেন।
১০০ শিশুকে নিয়ে গান গাইবেন রুনা লায়লা
কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা ‘বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি দেশীয় গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পরের দিন ২৭ মার্চ বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে পরিবেশন করবেন তিনি। গানটিতে শিল্পীর সঙ্গে অংশ নেবেন ১০০ জন শিশু।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে শিশুদের নিয়ে গানটি গাইবেন তিনি। গানটির কথা লিখেছেন আনজীর লিটন, সুর ও সংগীত করেছেন আশরাফ বাবু।
রুনা লায়লা বলেন, বাংলাদেশ গানটি একটু ভিন্ন রকম হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১০০ শিশুকে নিয়ে গানটি পরিবেশন করব।
গানটি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জন্য করা হয়েছে। শিশুরা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। সব সময় শিশুদের অনুপ্রেরণা দিতে চাই, যেন তারা বড় হয়ে যে যা হতে চায়, তা-ই হতে পারে।
গোপনে বিয়ে সারলেন তাপসী-ম্যাথিয়াস
বিয়ে করেছেন বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। বর অলিম্পিক পদকজয়ী সাবেক শাটলার ও ভারতের ব্যাডমিন্টন দলের ডাবলস কোচ ডেনমার্কের ম্যাথিয়াস বোয়ে। খেলার মাঠেই প্রথম আলাপ হয়েছিল দুজনের। এরপর টুইটারে জমে বন্ধুত্ব, ধীরে ধীরে তা গড়ায় প্রেমে। অবশেষে ১০ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।
নিউজ ১৮-এর সূত্র জানিয়েছে, রাজস্থানের উদয়পুরে গোপনে বিয়ে সেরেছেন তাপসী-ম্যাথিয়াস। শিখ পরিবারের মেয়ে তাপসী, অন্যদিকে বর ম্যাথিয়াস ক্যাথলিক। তাই শিখ ও খ্রিষ্টান দুই রীতিতেই হয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠান।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে নিউজ ১৮ জানিয়েছে, গত শনিবার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে তাদের। গত বুধবার থেকেই শুরু হয়েছিল বিয়ের প্রাক-প্রস্তুতি। শুধু দুজনের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন বিয়েতে। সাত পাক ঘোরার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো মুখ খোলেননি তাপসী। সামনে আসেনি নবদম্পতির বিয়ের ছবিও।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিউড বড় কোনো তারকাকে অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। তাপসীর দোবারা এবং থাপ্পড়ের সহ-অভিনেতা পাভেল গুলাটি উপস্থিত ছিলেন। তাপসীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অনুরাগ কশ্যপ, কণিকা ধিলো ও তার স্বামী হিমাংশু শর্মাও বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন।
তাপসীকে সামনে দেখা যাবে আসন্ন থ্রিলার ছবি ‘ফির আয়ি হাসিন দিলরুবা’তে, যেখানে তার সঙ্গে আরও আছেন বিক্রান্ত ম্যাসি এবং সানি কৌশল। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জিমি শেরগিল। ফির আয়ি হাসিন দিলরুবা, হাসিন দিলরুবার সিক্যুয়েল, যা ২০২১ সালের জুলাই মাসে নেটফ্লিক্সে প্রিমিয়ার হয়েছিল।
শায়েস্তাগঞ্জে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শাহজিবাজার, সুতাং, সুরাবই, পুরাসুন্ধ্যা, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার দাউদনগর, বিরামচর, জগন্নাথপুর, পশ্চিমবড়চর, বছরতপুর, নুরপুর, ব্রাহ্মডুরা এলাকার গ্রামগুলোতে প্রচুর পরিমাণে বাঁশ ও বেত জন্মাতো। স¤প্রতি এ সকল বাঁশ ও বেতশিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে দাঁড়িয়েছে। এতে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঁশ ও বেতশিল্প দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র।
জানা গেছে, প্রতিদিন শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরের দাউদনগর বাজার, আলিগঞ্জ বাজার, শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজার, সুতাং বাজার, অলিপুর বাজার ও ব্রাহ্মণডুরা পুরাই কলাবাজারে নিয়মিত পাওয়া যেত বাঁশ ও বেতের তৈরি কুলা, ডালা, খাঁচা, পলো, টুকরি, ঝাঁজরি, ছাতা, মাছ ধরার লুঙ্গা, দাঁড়ি, চাটি, পাটিসহ নানা ধরনের আসবাবপত্র। কিছুদিন আগেও গ্রাম এলাকা থেকে শুরু করে শহর পর্যন্ত প্রতিটি ঘরেই বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র দেখা যেতো। গ্রামে গৃহস্থালির কাজে বাঁশ ও বেতের আসবাবপত্র বেশি ব্যবহার হতো। কেউ কেউ ওই সব আসবাবপত্র বিক্রি করে আয়ের পথ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে ধারায় হারাতে বসেছে এই শিল্প। প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের আসবাবপত্রে সয়লাব হয়েছে বাজার। এ বিষয়ে দাউদনগর বাজারের বাঁশ ও বেত বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, ‘আগের মতো বেতসামগ্রী কেউ কেনেন না। নিত্যনতুন প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি জিনিসে বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
ওই সব পণ্যের দামও কম, সময়ও বাঁচে। এ কারণে অনেকেই আর বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী ক্রয় করতে আগ্রহ দেখান না। তা ছাড়া বাঁশের দাম বেশি। তাই এসব জিনিস তৈরি ছেড়ে দিয়েছেন কারিগররা। আগের মতো এসব জিনিস তৈরি না হওয়ায় পাশের জেলা থেকে আসবাবপত্র কিনে এনে বিক্রি করছি।’
কারিগর বকুল সরকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ ও বেতের আসবাবপত্র তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আগে এসব আসবাবপত্রের খুব কদর ছিল। কিন্তু এখন আর নেই। তা ছাড়া বাঁশের মূল্য খুব বেশি হওয়ায় আগের মতো আর দাম পাই না। আস্তে আস্তে আমরা এ থেকে সরে আসবো। যতক্ষণ পর্যন্ত না সরকার আমাদের দিকে আলাদা করে দেখছেন, তত দিনে আমাদের পক্ষে এশিল্পে কাজ করা আর সম্ভব নয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার মিতা বলেন, যারা উদ্যোক্তা হিসেবে বাঁশ ও বেত শিল্পে কাজ করবেন তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।


