ক্রিকেট বিশ্বে নান্দনিক পারফরম্যান্সে কিংবদন্তি হয়ে আছেন ব্রায়ান লারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই তারকা ক্রিকেট থেকে অবসরে গেলেও তার কিছু রেকর্ড এখনো অক্ষত আছে।
এখন থেকে ২০ বছর আগে ২০০৪ সালের এপ্রিল মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অ্যান্টিগা রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে ৫৮২ বল খেলে ৪৩টি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৪০০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন লারা। তার সেই রেকর্ড আজও অক্ষত আছে।
টেস্টে এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮০ রান করেছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ম্যাথু হেডেন। তিনি ২০০৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই রান করেন।
১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭৫ রানের ইনিংস খেলেন লারা। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৭৪ রানের ইনিংস খেলেন শ্রীলংকান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন ক্যারিবিয়ান তারকা গ্যারি সোবার্স। তার সেই রেকর্ডটি ৩৬ বছর স্থায়ী ছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে দেন লারা।
টেস্ট ক্রিকেটের নতুন এক দিগন্তও উন্মোচিত হয়েছে লারার ব্যাটে। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছেন ৪০০ রান। ইংল্যান্ডের কোনো বোলার থামাতে পারেনি তাকে। লাঞ্চের আধঘণ্টা পর নিজেই থামার সিদ্ধান্ত নেন ব্রায়ান লারা। ৫ উইকেটে ৭৫১ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক। অপরাজিত ৪০০ রান, ৭৭৬ মিনিট, ৫৮২ বল, ৪৩টি চার, ৪টি ছয়- টেস্ট ইতিহাসের নতুন এক দ্বার খুলে দেয় এই পরিসংখ্যান।
টেস্টে এক ইনিংসে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪০০ রান করেছেন লারা। তবে টেস্টে ট্রিপল সেঞ্চুরি আছে ৩০টি। এ তালিকায় নাম আছে-ম্যাথু হেডেন, মাহেলা জয়াবর্ধনে, গ্যারি সোবার্স, লর্ড হার্টন, সনাথ জয়সুরিয়া, হানিফ মোহাম্মদ, ওয়ালি হ্যামন্ড, ডেভিড ওয়ার্নার, মার্ক টেলর, ডোনাল্ড ব্রাডম্যান, গ্রাহাম গুচ, ক্রিস গেইল, মাইকেল ক্লার্ক, ইনজামাম-উল হক, অ্যান্ডি স্যান্ডহাম, বীরেন্দ্রর শেহবাগ, ইউনিস খান, কুমার সাঙ্গাকারা, হাশিম আমলা, বব সিম্পসন, জন এডরিচ, বব কোপার, করুন নায়ার, আজহার আলি, ব্রান্ডন ম্যাককালাম ও লরেন্স রো।
লারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১৭ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে ৫৩টি সেঞ্চুরি আর ১১১টি ফিফটির সাহায্যে অষ্টম সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৩৫৮ রান করেছেন। রেকর্ড সর্বোচ্চ ১০০টি সেঞ্চুরির সাহায্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪ হাজার ৩৫৭ রান করে শীর্ষে আছেন শচীন টেন্ডুলকার।
ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার বর্তমান বয়স ৫৫ বছর। ক্রিকেট থেকে অবসরে তিনি ক্রীড়া বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চট্টগ্রাম কিংসের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
লারার সেই ইনিংস আজও অমলিন
ভারতের নতুন কোচ গৌতম গম্ভীর
ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে রাহুল দ্রাবিড়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন গৌতম গম্ভীর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাধ্যমে ভারতীয় দলের সঙ্গে দ্রাবিড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। অবশ্য এর বেশ আগে থেকেই নতুন কোচ খোঁজা শুরু করে দেয় ভারতীয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিসিসিআই)।
গত আইপিএলের পর থেকেই গুঞ্জন ছিল, আইপিএলজয়ী কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মেন্টর গৌতম গম্ভীর হতে পারেন দ্রাবিড়ের উত্তরসূরি। অবশেষে সেটাই সত্যি হলো।
নতুন কোচ হিসেবে গম্ভীরের নাম ঘোষণা করে বিসিসিআই সচিব জয় শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ভারতের নতুন হেড কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরকে স্বাগত জানাচ্ছি আমি। আধুনিক দিনের ক্রিকেট দ্রতই বিকশিত হচ্ছে এবং গৌতম সেই পরিবর্তিত রূপটি কাছ থেকেই দেখেছেন। ক্যারিয়ারজুড়ে বিভিন্ন ভূমিকায় পারদর্শী হওয়ায় আমি আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে গৌতমই আদর্শ ব্যক্তি।’
এর আগে আজ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গম্ভীরের সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা চলছে বিসিসিআই কর্তাদের। তা চূড়ান্ত হয়ে গেলেই প্রধান কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে বিসিসিআই। অবশেষে সব বিষয়ে একমত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিত-কোহলিদের দায়িত্ব নিলেন সাবেক এই ওপেনার।
গৌতম গম্ভীর ২০১১ সালে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের ওপেনার ছিলেন। তার নেতৃত্বে কলকাতা নাইট রাইডার্স দুইবার আইপিএল শিরোপা জিতে। আইপিএলের সবশেষ আসরে কলকাতার মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তৃতীয় শিরোপা উপহার দেন গম্ভীর।
এমন শিরোপা ভাগ্যের কারণেই তাকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিতে আগ্রহী ছিল বিসিসিআই। যদিও গম্ভীরের অতীতে কোচিং করানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই। শুধু আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সে মেন্টরের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
অবশেষে গোল পেলেন মেসি, আর্জেন্টিনা ফাইনালে
লম্বা সময় ধরে ছন্দে নেই লিওনেল মেসি। এর পেছনে বড় কারণ ছিল চোট। পুরোপুরি ফিট না থাকা মেসি চলতি কোপা আমেরিকাতেও ছিলেন নির্বিষ। অবশেষে সেমিফাইনালে এসে প্রথম জালের দেখা পেলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জালের দেখা পেয়ে যান মেসি। এঞ্জো ফার্নান্দেজের পাসে হালকা করে পা ছুঁইয়ে দিয়ে চলতি কোপায় নিজের প্রথম গোলটি আদায় করে নেন মেসি।
মেট লাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুটা নিজেদের রঙে রঙিন করতে পারতো কানাডা। তবে পরপর দুটি সুযোগ পেয়ে দুটিই হারায় কানাডিয়ানরা। ঠিক এই সুযোগটা লুফে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে পেয়ে গেছে জালের দেখা। জুলিয়ান আলভারেজের একমাত্র গোলে প্রথমার্ধে কানাডার বিপক্ষে এগিয়ে থাকে লিওনেল স্কালোনির দল। বিরতির পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন মেসি।
কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে বুধবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোরে মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও কানাডা। পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার ধারে কাছেও নেই কানাডা। তবুও সেমিফাইনাল বলে কথা। একটু এদিক-ওদিক হলেই হয়ে যেতে পারে বিপদ। এমন ম্যাচে সর্বোচ্চটা দেওয়ার মিশনেই মাঠে নেমেছে দুদল।
তবে ম্যাচের শুরুর ১০ মিনিটে আর্জেন্টিনার চেয়ে বরং দাপট দেখিয়েছে কানাডাই। ম্যাচের প্রথম আক্রমণটাও আসে কানাডার পক্ষ থেকে। চতুর্থ মিনিটে প্রথম সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। সপ্তম মিনিটে আরেকবার আক্রমণে কানাডা। এবারও আর্জেন্টিনার ডি বক্সের বামপাশ থেকে ভুল শটে সুযোগ হারায় কানাডিয়ানরা।
৯০ মিনিটের খেলায় ২-০ গোলে হেরে যায় কানাডা, আর এতেই মেসি আরেকটা শিরোপা জয়ের দারপ্রান্তে দাড়িয়ে।
মায়ের পরিচয় জানতে চায় করণ জোহরের দুই সন্তান
পরিচালক হিসাবে তার সাফল্যের খতিয়ান নতুন করে দিতে হয় না। প্রযোজক হিসাবেও তৈরি করেছেন একাধিক মাইলফলক। পেশাগত ক্ষেত্রের বাইরে ব্যক্তিজীবনেও পরিপূর্ণতা পেতে চেয়েছিলেন করণ জোহর। কাজের বাইরে করণের জীবন আবর্তিত হয় দুই সন্তানকে ঘিরেই।
২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে বাবা হন বলিউডের এ পরিচালক। তার দুই সন্তান যশ আর রুহি জোহর। করণের মায়ের কাছেই বড় হচ্ছে দুজন। দাদির আদরে বেড়ে উঠলেও সন্তানদের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় করণকে।
স¤প্রতি এক সাক্ষাৎকারে করণ জানান, সন্তানেরা এখন মাকে নিয়ে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। আর সেসব প্রশ্নের জবাব দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তাকে।
ভারতীয় সাংবাদিক ফায়ে ডি’সুজার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে করণ জোহর বলেন, ‘আমাদের পরিবারকে আধুনিক পরিবার বলা যায়, যা সব পরিবারে খুব স্বাভাবিক, আমার পরিবারে সে রকমটা নয়। তাই প্রশ্ন আর সিচুয়েশনগুলোও সাধারণ নয়। আমার সন্তান যশ আর রুহি আমাকে প্রশ্ন করে, ‘আমরা কার পেটে জন্মেছি?’ ‘আমরা কেন দাদিকে মা বলি? আমাদের মা কোথায়?’ এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ কঠিন। আমি ওদের স্কুলের কাউন্সেলরের সাহায্য নিচ্ছি।’
এদিন সন্তানদের সঙ্গে খুনসুটি ও অন্যান্য বিষয় নিয়েও কথা বলেন করণ জোহর। করণের ছেলে চিনি খেতে পছন্দ করে। এ নিয়ে মজা করে করণ বলেছিলেন, ‘যশ তোমার ওজন বাড়বে, তুমি মুটিয়ে যাবে।’ বিষয়টি নিয়ে মন খারাপ হয় যশের। অভিমান করে করণের সঙ্গে। আর এ কারণে বেশ অনুশোচনা বোধ হয় করণের। তার কথায়, ‘আমি না বুঝেই ফ্যাট-শেমিং করে ফেলেছিলাম যশের। তার জন্য এখনো লজ্জা করে। যশ চিনি খেতে ভালোবাসে। বেশি চিনি খেলে ও মোটা হয়ে যাবে ভেবে বারবার বারণ করেছি, চেঁচিয়েছি। এটা ভুলে গিয়েছিলাম, ও ছোট বাচ্চা। সেই ঘটনার কথা ভাবলে এখনো লজ্জা করে।’
রাতে রহস্যময় পোস্টের পর দিনে মামলা করলেন ওমর সানী
মধ্যরাতে ফেসবুকে রহস্যময় স্ট্যাটাস দিয়ে দিনের বেলা মামলা করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের দর্শকপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে নায়ক নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওমর সানী জানান, রাতে যাকে হুমকি দিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন তিনি। ওমর সানী বলেন, সকালে আমি কোর্টে ছিলাম। সেখান থেকে বাসায় ফিরছি।
মামলা ও হুমকির কারণ ব্যাখ্যা করে ওমর সানী বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে যে ব্যবসায় প্রতারণা করেছিল তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। একইসঙ্গে একজনকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলাম। তার নামেও মামলা দিয়েছি।
কত টাকা পাওনা ছিলেন, জবাবে নায়ক বললেন, টাকার পরিমাণ সামান্য। তবে যার কাছে পাই, তার যথেষ্ট সামর্থ্য আছে। চাইলে ১০ মিনিটে দিতে পারে। কিন্তু দিচ্ছে না। উল্টো হুমকির সুরে কথা বলছে। এটা নিয়ে আদালত পর্যন্ত আসতাম না। কিন্তু যখন হুমকির সুরে কথা বলল তখন মামলা করে দিয়ে এসেছি।
তবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন তাদের নাম বা পরিচয় বলতে চাননি এই নায়ক। শুধু বলেছেন, পরিচিতদের মাঝেই একজন।
সোমবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক রহস্যময় পোস্ট দেন ওমর সানী।। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজকে আমি কোর্টে যাচ্ছি, তোরে আমি…।’
এমন রহস্যময় স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই নেটিজেনরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্নে জর্জরিত করছেন। অনেকের প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন তিনি। কারও ওপর রেগেও যেতে দেখা গেছে জনপ্রিয় এ অভিনেতাকে।
নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রে দাপুটে অভিনেতা জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। ১৯৬৯ সালের ৬ মে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চলচ্চিত্রে অসংখ্য সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে যিনি জয় করে নিয়েছেন কোটি দর্শক হৃদয়। পরিবারের উৎসাহ আর বাবার অনুপ্রেরণায় রুপালি দুনিয়ায় পথচলা শুরু করেন সানী। ১৯৯২ সালে নুর হোসেন বলাইর এই নিয়ে সংসার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র শিল্পে অভিষেক ঘটে। ১৯৯৪ সালে দিলীপ বিশ্বাসের ‘দোলা’ চলচ্চিত্রে প্রথমবারের মতো মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি।
নিজের তৈরি নিয়ম ভাঙলেন অক্ষয়
অক্ষয় কুমার, বলিউডের ‘খিলাড়ি’। হিন্দি চলচ্চিত্রজগতে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেতাদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে তার নাম। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বলিপাড়ায় রয়েছেন তিনি। ঝুলিতে হিট যেমন রয়েছে, ফ্লপের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এত বছরের অভিনয় জীবনে কোনও দিন ৮ ঘণ্টার বেশি তিনি শুটিং করেননি, কখনও নড়চড় হয়নি এই নিয়মের। কিন্তু এবার আসন্ন ছবি ‘সরফিরা’র জন্য সেই নিয়ম ভাঙতে হল অক্ষয়কে।
তার নিয়মানুবর্তিতার প্রশংসা করেন বড় বড় পরিচালকরা। সময়ের বিষয়ে ভীষণ সচেতন। নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘণ্টা আগেই সেটে পৌঁছে যান কিন্তু, নির্ধারিত সময়ের এক মিনিটও বেশি তাকে সেটে ধরে রাখা সম্ভব নয়। গত কয়েক বছরে একের পর এক শুধু ব্যর্থতাই দেখেছেন অক্ষয়। এবার রাধিকা মদনের সঙ্গে জুটি বেঁধে তাকে দেখা যাবে ‘সরফিরা’ ছবিতে। এটি তামিল ছবি ‘সুরারাই পট্টোরু’-র রিমেক।
ছবির পরিচালক সুধা কোঙ্গরা প্রসাদ জানান, প্রথম সকলেই ভয়ে ছিলেন তাকে আট ঘণ্টার বেশি সময় শুটিং করতে বলবেন কীভাবে, তা ভেবে। যদিও পরে নিজেই রাজি হন অভিনেতা। সে কারণে কৃতজ্ঞ সুধা।
পরিচালকের কথায়, “আসলে অক্ষয় তার প্রতিটা ছবি একদম সময়ে শেষ করেন। উনি প্রথমদিনই আমাকে বলে দিয়েছিলেন, শুটিং চলাকালীন একজন সহকারীর মতো থাকবেন। ওই আট ঘণ্টা সেট থেকে কোথাও বের হন না তিনি। তবে সময় শেষ হয়ে গেলে তাকে খুঁজেও পাওয়া যায় না।”
শুটিং শেষের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সুধা বলেন, “শেষ কিছু অংশের শুটিং বাকি ছিল। যদিও অক্ষয় স্যারের অংশের সমস্ত শুটিং হয়ে গিয়েছিল। চিত্রনাট্যের খাতিরে মনে হয়েছিল তাকে প্রয়োজন হতে পারে। তাই তাকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তিনি সময়ে কাজ শেষ করেছেন বাড়তি সময় দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা পঞ্চগণিতে শুট করছিলাম। সেদিনই তার মুম্বাই ফিরে যাওয়ার কথা। আমরা সবাই ভেবেছিলাম তিনি ফিরে গিয়েছেন। তেমনই জানিয়েছিলেন অক্ষয়। কিন্তু পরদিন সকাল হতেই সেটে একদম সময়ে হাজির।” এই প্রথমবার নিয়ম ভাঙলেন অক্ষয়। সকলেই ভেবেছিলেন বেজায় চটে যাবেন অভিনেতা। কিন্তু আসলে তিনি যে পেশাদার- এর দ্বারা সে প্রমাণই দিলেন।
সালমান খানের ‘গায়ে হলুদ’, কৌতূহলী নেটিজেনরা!
চলতি বছর মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে ভারতের অন্যতম ধনী মুকেশ অম্বানী-নীতা আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির বিয়ের অনুষ্ঠান। বিদেশ থেকে নামি এবং দামি তারকারা এসে একের পর এক অনুষ্ঠানে নাচ-গান করছেন, কোনোটা দেশে কোনটা আবার বিদেশে। আগামী ১২ জুলাই গাঁটছড়া বাঁধছেন অনন্ত আম্বানি ও তার ছোটবেলার বন্ধু রাধিকা মার্চেন্ট। ৮ জুলাই হয়ে গেল তাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানেও দেখা গেছে বলিউডের একাধিক তারকাকে। কিন্তু সব থেকে বেশি নজর পড়ল যার উপর, তিনি বলিউড ভাইজান সালমান খান।
স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কালো পাঠান কুর্তা আর ঢোলা পাজামা পরেই এসেছিলেন ‘সিকান্দার’ সালমান। সেই সময় তার ছবিও তোলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। ভিতরে অবশ্য তাদের প্রবেশ নিষেধ ছিল। কিন্তু সালমান যখন বেরিয়ে আসেন, দেখা যায় একেবারে হলুদে মাখামাখি তিনি। এমনকি তার কালো কুর্তা কখন বদলেও ফেলেছেন! হলুদ কুর্তা পরে নিজের সাদা গাড়িতে চড়ে ফিরে যান তিনি।
কিন্তু এটুকুই তো সব নয়, সালমানের গায়ে হলুদের ছোঁয়া বলে কথা। বলিউডের গায়ে বিয়ের হলুদ পড়তেই হইহই শুরু হয়েছে অনলাইন মাধ্যমে। এক সংবাদমাধ্যমের পক্ষে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা হয়েছে সালমানের হলুদ মেখে বেরিয়ে যাওয়ার ভিডিও। সেই পোস্টেই ভক্তরা লিখতে শুরু করেছেন, এই ভাবে গায়ে হলুদ মেখে বেরিয়েছেন, এই বার যদি সত্যিই সালমানের একটা ‘হিল্লে’ হয়ে যায়!
তবে শুধু সালমান নন, রণবীর সিংকেও প্রায় একই রকম পোশাকে হলুদে মাখামাখি অবস্থায় বের হতে দেখা যায়।
বিলবোর্ডে স্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা!
স্ত্রীকে খুশি করতে জন্মদিনে দারুণ একটি সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করলেন স্বামী। সাধারণত বিলবোর্ড কোনো কমার্শিয়াল কাজেই ব্যবহার করা হয়। তবে তিনি চেয়েছেন স্ত্রীর জন্মদিনে ভিন্ন কিছু করতে। যে কারণে রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনের ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি বড় বিলবোর্ডে স্ত্রীর বেশ কিছু ছবি দিয়ে জন্মদিনের উপহার দিয়েছেন।
এমন কাণ্ড ঘটালেন সদ্য বিবাহিত অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকের স্বামী আজমান নাসির। স্বামীর কাছ থেকে এমন সারপ্রাইজ পেয়ে উচ্ছ¡সিত অভিনেত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কিছু ছবিতে দেখা মিলল সেই চিত্র। যেখানে বিলবোর্ডে চমকের ছবি ও তার সামনে জন্মদিনের কেক দেখা গেছে। এ সময় তার স্বামী নাসিরও পাশে ছিলেন।
চমককে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন তিনি। যে কারণে এবার স্ত্রীকে খুশি করতে জন্মদিনে দারুণ একটি সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করলেন অভিনেত্রীর স্বামী।
বিয়ের পর থেকেই স্বামীকে নিয়ে বেশ আলোচনায় রয়েছেন তিনি। গত মাসে ৯ টাকা দেনমোহর ও ৯০০ টাকার শাড়িতে সাদামাটাভাবে বিয়ে করেছেন তারা।
পেশায় ব্যবসায়ী চমকের স্বামী আজমান নাসির সবার কাছে অনুরোধ করেছেন, তার অতীত টেনে চমকের সম্মানহানি করা বন্ধ হোক। তাদের সুখে-শান্তিতে সংসার করতে দেওয়া হোক।
২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়তে পারে প্রায় ৬ জনে ১ জন ধনকুবের
২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়তে পারে মার্কিন ডলারে সম্পদ থাকা প্রায় ৬ জনে একজন ধনকুবের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানসহ অন্যান্য দেশে এই ধনকুবেরদের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে বুধবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে।
‘দ্য ইউবিএস গেøাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৪’ এর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে ডলারে সম্পদ থাকা ধনকুবেরদের সংখ্যা এবছর ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়াবে ২,৫৪২৪৬৪ জনে, আগের বছরে যা ছিল ৩,০৬১,৫৫৩ জন।
নেদারল্যান্ডসেও ধনকুবেরের সংখ্যা আগের বছরের ১,২৩১৬২৫ জন থেকে ৪ শতাংশ কমে ১,১৭৯৩২৮ জনে দাঁড়াবে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইউবিএস গেøাবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পল ডেনোভান বলেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে ধনকুবেরদের চলে যাওয়া এই বাস্তবতারই কিছুটা প্রতিফলন ঘটাচ্ছে যে, বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক ধনকুবেরের এই দেশটি থেকে এখন তাদের চলে যাওয়ার পরিসংখ্যান ‘অস্বাভবিকভাবে বেড়ে গেছে’।
ডেনোভানের মতে, যুক্তরাজ্য তাদের অ-আবাসিক (নন-ডোম) ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এর কিছু প্রভাব পড়েছে। এ ব্যবস্থায় সম্পদশালী মানুষেরা বিশেষত, বিদেশি যারা যুক্তরাজ্যে বাস করে তারা বৈদেশিক আয়ের ওপর কর এড়াতে পারত। এ সুবিধা না থাকায় এখন ভিনদেশি ধনকুবেররা এখন কম কর কোথায় দেওয়া যায় সেসব জায়গাই খোঁজ করবে।
যুক্তরাজ্য বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করের দেশ। ধনবান মানুষ, যাদের বছরে আয় ১২৫,১৪০ পাউন্ডের বেশি তাদেরকে ৪৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। এর মানে, আয়ের প্রায় অর্ধেকই সরকারকে দিতে হয়। এমনকী যুক্তরাজ্যের অধিবাসী না হওয়ার পরও সেদেশে আয়ের ওপর সরকারকে কর দেওয়ার নিয়ম চালু আছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।
স¤প্রতি কয়েকবছরে যুক্তরাজ্য সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপরেও কর চালু করেছে। এই করও দিতে হয় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত। তার ওপর এবছরের নির্বাচনে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির জয় ধনকুবেরদের দেশ ত্যাগ আরও উস্কে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক সরকারের নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও দলটির বিভিন্ন খাতে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা ধনীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেবার পার্টি ধনীদের নিশানা করে কিছু খাতে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি স্কুলগুলোতেও কর চালু করা এবং যুক্তরাজ্যের অস্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য করের ফাঁকফোকর বন্ধ করা।
তবে করের বিষয়টি ছাড়াও ব্রেক্সিট ও ইউক্রেইন সংঘাতের মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ ও সম্পদ সংরক্ষণের নিরাপদ স্থান হিসেবে দেশটির আবেদন কমাচ্ছে। ফলে ধনকুবেরদের অনেকেই যুক্তরাজ্য ছেড়ে আরও স্থিতিশীল দেশে স্থানান্তরিত হতে চাইছে।
‘দ্য ইউবিএস গেøাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট’ আনুমানিক হিসাব দিয়ে বলেছে, ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডলারে সম্পদ থাকা ধনকুবেরদের মোট সংখ্যা ১৬ শতাংশ বাড়বে। জার্মানিতে বাড়বে ১৪ শতাংশ, ফ্রান্সে ১৬ শতাংশ, জাপানে ২৮ শতাংশ, স্পেনে ১২ শতাংশ এবং ইতালিতে বাড়বে ৯ শতাংশ।
ইউনূসের মামলা ‘শ্রম আইন অপব্যবহারের’ উদাহরণ হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র
ম্যাথু মিলার বলছেন, আইনের অপব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা তৈরি হলে তা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলাগুলো বাংলাদেশে শ্রম আইন অপব্যবহারের উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার হতে পারে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ইউনূসের মামলার বিষয়ে এক প্রশ্নে এ মন্তব্য করেন মুখপাত্র ম্যাথু মিলার।
ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ইউনূসের বিষয়ে, তার বিরুদ্ধে করা মামলার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
“অনেক দিন ধরে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছি যে, এই মামলাগুলো ড. ইউনূসকে হয়রানি ও ভীতিপ্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের শ্রম আইন অপব্যবহার হিসাবে উদাহরণ হতে পারে।”
গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন এবং কর্মীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা চলছে।
এর মধ্যে শ্রম আইন লঙ্ঘনের এক মামলায় জানুয়ারির শুরুতে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আপিলে চলার মধ্যে ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস। এর মধ্যে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গত ১২ জুন মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
আগামী ১৫ জুলাই এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ থাকার মধ্যে অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করেছেন অধ্যাপক ইউনূস।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেন, “শ্রম ও দুর্নীতিবিরোধী আইনের অপব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা তৈরি হলে তা আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমিয়ে দিতে পারে বলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসাবে আমরা উদ্বিগ্ন।”


