Home Blog Page 590

ডিপফেক পর্নোগ্রাফির শিকার ৪ হাজার তারকা

ডিপফেক যে ক্রমশ আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে, তা নানা মহলেই আলোচিত হচ্ছিল। এবার তার বড় প্রমাণ মিলল। জানা গেল, বিশ্ব জুড়ে ৪ হাজার তারকা ও বিখ্যাত ব্যক্তি ডিপফেক পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছেন। এই চমকে দেওয়া খবরটি একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, এঁদের মধ্যে ২৫০ জনের বেশি শুধু ব্রিটিশ তারকাই আছেন!

অন্য এক প্রখ্যাত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিপফেক ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পাঁচটির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। তারা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রায় চার হাজার তারকা ও বিখ্যাত ব্যক্তির মুখ এই পর্নোগ্রাফিক ইমেজে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একটাই বাঁচোয়া, এইসব ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

যে সংবাদমাধ্যম এই কাণ্ডটি করেছে তারা আহ্লাদিত হয়ে বলেছে, ওই পাঁচটি ডিপফেক ওয়েবসাইটের ভিডিয়োগুলি মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ১০ কোটি ভিউ এনে দিয়েছে!

গবেষকেরা কাজটি করতে গিয়ে একটা আশ্চর্য জিনিস খেয়াল করেছেন। ২০১৬ সাল অনলাইনে মাত্র একটি ডিপফেক পর্নোগ্রাফি ভিডিয়ো শনাক্ত করতে পেরেছেন তাঁরা। অথচ, ২০২৩ সালের প্রথম কয়েক মাসেই ৪০ টির বেশি ডিপফেক পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৩টি ভিডিয়ো আপলোড করার তথ্য পেয়ে মাথা ঘুরে যায় তাঁদের। তাঁরা বলছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি!

অনলাইন নিরাপত্তা আইন বিষয়ে পরামর্শ দেয় এমন এক সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অবৈধ ডিপফেক বিরক্তিকর ও ক্ষতিকারক। এ ধরনের জিনিস কী ভাবে নির্বিবাদে ও নির্বিচারে প্রচার পেয়ে যাচ্ছে, সেটা দেখতে হবে। অনলাইন নিরাপত্তা আইন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। পাশাপাশি তিনি এই প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কনটেন্টের প্রদর্শন বন্ধের কথাও বলেন।
সূত্র : জি নিউজ

বাপ্পা মজুমদারের কণ্ঠে সায়ীদ আবদুল মালিকের ‘ব্যস্ত শহর’

সাংবাদিক ও গীতিকার সায়ীদ আবদুল মালিকের লেখা ‘ব্যস্ত শহর’ গানে কণ্ঠ দিলেন প্রজন্মের হার্টথ্রুব গায়ক বাপ্পা মজুমদার। রেকর্ডিং, মিক্সিং ও মাস্টারিং শেষে বর্তমানে গানটির মিউজিক ভিডিওর কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বাপ্পা মজুমদারের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গানটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন গায়ক নিজেই।

কথা ও সুরের বৈচিত্রে গানটি শ্রোতাপ্রিয়তা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী বাপ্পা। গানটির মধ্য দিয়ে শ্রোতারা ভিন্নধারার কথা ও বৈচিত্র্যময় সুরের স্বাদ পাবে বলেও জানান তিনি।

গানটির গীতিকার হিসেবে সায়ীদ আবদুল মালিককে অনন্য উচ্চতায় আসীন করবে বলেও ধারণা করেছেন জনপ্রিয় এই শিল্পী।

তিনি বলেন, ‘এটি আমার গাওয়া সায়ীদ আবদুল মালিকের লেখা দ্বিতীয় গান। এর আগে ভাষা শহীদদের নিয়ে তার লেখা প্রাণের বর্ণমালা শিরোনামের একটি ভাষার গান সুর, সঙ্গীত আয়োজন ও কণ্ঠ দিয়েছিলাম আমি।’

গানটি নিয়ে গীতিকার সায়ীদ আবদুল মালিক বলেন, ‘ব্যস্ত শহরের নানা যান্ত্রিক জটিলতা, একাকিত্বতা ও মানুষে মানুষে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই গানটি লেখা। এই গানটি গীতিকার হিসেবে আমার ক্যারিয়ার আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বাংলাদেশকে লজ্জায় ডুবিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয়

শক্তিমত্তার পার্থক্য যেন চোখে আঙুল দিয়েই বোঝাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। অজি নারীদের সামনে যেন দাঁড়াতেই পারছে না নিগার সুলতানারা। প্রথম ওয়ানডের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও সঙ্গী হয়েছে হার। নিছকই পরাজয় বললে ভুল হবে, বলা যায় রীতিমতো আত্মসমর্পণ। তাতে হাতছাড়া হয়েছে সিরিজও।

প্রথম ওয়ানডেতে হেরে যাওয়ায় আজকের (রোববার) ম্যাচটা ছিল বাংলাদেশের সিরিজে ফেরার শেষ সুযোগ। তবে মিরপুরে টাইগ্রিসদের সেই সুযোগ নিতে দেয়নি অজিরা। আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে ৪৪.১ ওভারে মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে দেয়ার পর, সেই লক্ষ্য পাড়ি দিয়েছে ২৩.৫ ওভারে; ৬ উইকেট হাতে রেখেই।

আগের ম্যাচের ভুল শুধরে সিরিজে ফেরার আশার কথা শুনিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেটি হয়ে থাকল শুধুই কথার কথা। প্রথম ওয়ানডে ৯৫ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ এই ম্যাচে করলো ২ রান বেশি। স্পর্শ করতে পারেনি তিন অংকের ঘর। নয় নম্বরে নামা নাহিদা আক্তার করেছেন ইনিংস সর্বোচ্চ ২২ রান।

যেই স্পিন বোলিংকে ধরা হয় বাংলাদেশের শক্তির জায়গা, সেই স্পিনেই এই সিরিজে ধরাশায়ী হলো বাংলাদেশ। আজও অজি স্পিনাররাই নেন ৯ উইকেট। ১০ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন সোফি মলিনিউ। করেছেন ৫টি মেডেন!

টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুই উদ্বোধনী ব্যাটার ফারজানা হক পিংকি ও সোবহানা মোস্তারির জুটি ৮.৩ ওভার স্থায়ী হলেও এই সময়ে আসে মাত্র ১৭ রান! ২০ বল খেলে ৩ রান করে মেগান শাটের বলে আউট হন মোস্তারি। টেস্ট মেজাজে খেলে ফারজানা ৫২ বলে করেন ৭ রান।

তিনে নামা মুর্শিদা খাতুন ২৪ বলে ৫ রানের ইনিংস খেলে আউট হন অ্যাশলে গার্ডেনারের বলে। অধিনায়ক নিগার সুলতানাও পারেননি এদিন হাল ধরতে, আউট হন ৫ বলে ১ রানে। ২৭ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে ২৫ রানের জুটি গড়ে ৫০ এর গন্ডি পার করান ফাহিমা খাতুন ও রিতু মনি।

তবে ৫ বলের ব্যবধানে এই দুজনও ফেরেন সাজঘরে। রিতু মনি ২৪ বলে ১০ ও ফাহিমা ১৯ বলে ১১ রান করেন। এর স্বর্না আক্তার ১৯ বলে ২, রাবেয়া খান ১৭ বলে ৩ করে আউট হন। নয়ে নামা নাহিদাই কেবল করেন ৪৭ বলে ২২ রান। তাতেও অবশ্য ১০০ রানের গন্ডি পার করা হয়নি বাংলাদেশের।

রান তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও এলিসা পেরি কখনো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেননি। এশলে গার্ডনারকে নিয়ে নিশ্চিত করেন জয়। দখলে নেন সিরিজও। পেরি ৫০ বলে ৩৫* ও গার্ডনার করেন ২৩ বলে ২০* রান।

তবে ওপেনার এলিসা হেলি ১৫ রান করে শিকার হন রাবেয়া খানের। এরপর বেথ মানিকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন স্বর্ণা খাতুন। বাকি দুটো উইকেট অবশ্য রান আউট।

প্রধানমন্ত্রীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে স্বাধীনতা দিবস এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মিলিত সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন। রোববার (২৪ মার্চ) সকালে ফিতা কেটে বেলুন উড়িয়ে তিনি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রদর্শনী ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে। এতে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী তাদের সমরাস্ত্রসহ সরঞ্জাম প্রদর্শন করে।

এ উপলক্ষে বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমানের ফ্লাই-পাস্ট এবং অনুষ্ঠানস্থলে হেলিকপ্টার থেকে সেনা বাহিনীর প্যারাট্রুপারদের সফল অবতরণ প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা তিন বাহিনীর বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমরাস্ত্র সম্পর্কে তাকে ব্রিফ করার সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সৈন্যদের ব্যবহৃত বিভিন্ন হালকা ও ভারী অস্ত্র প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ও অতিথিরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং পরে তাদের সাথে ফটোসেশনে যোগ দেন।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সচিব, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

অপমান-লাঞ্ছনার কারণেই জনগণ ভারতীয় পণ্য বর্জনে সমর্থন দিয়েছে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে সমাদৃত শব্দ ‘ভারতীয় পণ্য বর্জন’। এই পণ্য বর্জন এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিনের অপমান, বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণ ভারতীয় পণ্য বর্জনের সমর্থন দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ বর্জনের আহ্বান জানালেও আজ তা সর্বমহলে সমাদৃত।

রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আজকে ভারত বন্ধুত্বের কথা বলে। অথচ পানির ন্যায্য হিস্যা দেয় না, বন্ধুত্বের কথা বলে প্রতিনিয়ত সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা করা হচ্ছে। এসব অন্যায় ও অবিচারের কারণে বাংলাদেশীদের প্রতিবাদী করে তুলেছে। বাংলাদেশের বাজার বাণিজ্যে তারা একতরফা আধিপত্য বজায় রেখেছে দীর্ঘদিন। তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র মনে করলে ভারসাম্যমূলক বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তুলতো। ভারত কখনোই ব্যবসায়িক নীতি মানেনি।’

তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব না করে একটি রাজনৈতিক দলের সাথে বন্ধুত্ব করেছে। দেশ কিভাবে চলবে তা নির্ধারণ করবে জনগণ। দেশবাসীই ভোটের মাধ্যমে ঠিক করবে কে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আর এই অবৈধ সরকারকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ভারতের নীতিনির্ধারকেরা। এ কারণেই বাংলাদেশের জনগণের ভারতের বিরুদ্ধে বেশি ক্ষুদ্ধ হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘৭২ সালে ভারত যখন ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে তখন থেকেই মওলানা ভাসানী এর প্রতিবাদ করেন। সকল বাম রাজনৈতিক দলগুলোও এর বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। তৎকালীন জাসদও সে সময় ভারতের এই নীতির জন্য প্রকাশ্যে রাজপথে ছিল। বড়ভাই সুলভ আচরণের জন্য ভারতকে আধিপত্যবাদী শক্তি বলে আখ্যা দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো।’

শাটডাউন এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারের বিল পাস

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস শনিবার ভোরে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এক লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারের বাজেট বিল পাস করেছে। ছয় মাস আগে শুরু হওয়া অর্থবছরের সরকারের অর্থায়ন বজায় রাখায় সাহায্য করছে এই বিপুল বাজেট। আইনটিতে স্বাক্ষর করার জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই বিল পাসের মাধ্যমে আংশিক শাটডাউন এড়াতে সক্ষম হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

কংগ্রেসে ৭৪-২৪ ভোটে এই বিলটি পাস হয় ।

ডেমক্রেটিক সংখ্যাগরিষ্ঠায় সিনেটে পাস হওয়া বিলটির ফলে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, বিচার, রাজ্য এবং ট্রেজারি বিভাগসহ মূল ফেডারেল এজেন্সিগুলোতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থায়ন করা হবে।

কিন্তু এই উদ্যোগে মূলত ইউক্রেন, তাইওয়ান অথবা ইসরাইলের জন্য সামরিক ত্রাণের অর্থায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়টি অন্য একটি বিলে যোগ করা হয়েছিল, যেটি সিনেটে পাস করলেও রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এ বাতিল করা হয়।

সিনেট নেতারা শুক্রবার বাজেট বিলে বেশ কয়েকটি সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করেন। তবে সেগুলো সিনেটের অনুমোদন পায়নি। তবে আলোচনার দীর্ঘসূত্রতায় সিনেট সদস্যরা শুক্রবার মধ্যরাতের সময়সীমা পার করে ফেলেন।

তবে হোয়াইট হাউস অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট এক বিবৃতিতে সিনেট দ্রুত বিলটি পাস করবে বলে আস্থা প্রকাশ করেছে। সিনেট অবশ্য তাই করেছে। এমনকি তারা এজেন্সিগুলো বন্ধ করার নির্দেশও দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে।

১০১২ পৃষ্ঠার এই বিলে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধিসহ প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য ৮৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতা বাইডেন এতে স্বাক্ষর করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শুক্রবার তার নিজ দলের কট্টরপন্থীদের এড়াতে একটি বিশেষ পার্লামেন্টারি কৌশল অবলম্বন করেন জনসন। পূর্বসূরি কেভিন ম্যাকার্থির কাছ থেকে স্পিকারের দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর তাকে ৬০ বারেরও বেশি এই কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে। তিনি এই উদ্যোগকে ২৮৬ বনাম ১৩৪ ভোটে পাস করানোর ব্যবস্থা করেন। এতে রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বেশি।

গত ছয় মাসের বেশিরভাগ সময় সরকারের অর্থায়ন করার জন্য চারটি স্বল্প-মেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। রেটিং সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, এতে ঋণগ্রহীতা হিসেবে ফেডারেল সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার ৩৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার দেনায় আছে।

রিপাবলিকান দলের সিনেটর সুজান কলিন্স বলেন, ‘এ বিলটি সত্যিকার অর্থেই একটি জাতীয় নিরাপত্তা বিল। কারণ এর প্যাকেজের ৭০ শতাংশ তহবিল আমাদের জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য রয়েছে, তাছাড়া সামরিক প্রস্তুতি এবং শিল্প ভিত্তির মজবুত করার জন্যও এর প্রয়োজন। আমাদের সাহসী পরিষেবা প্রদানকারী সদস্যদের বেতন আর সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির সাথে আমাদের নিকটতম মিত্রদেরও সমর্থন করবে।’

বিলটির বিরোধীরা এটিকে ভীষণ ব্যয়বহুল বলে অভিহিত করছেন।

নতুন বাজেটে বিলটি ডেমোক্র্যাটের ১৮৫টি এবং রিপাবলিকানের ১০১টি ভোটে হাউসে পাস হয়। তাই কট্টরপন্থী রক্ষণশীল গ্রিন, জনসনকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

কিছু কিছু ডেমোক্র্যাট শুক্রবার জনসনকে রাখার পক্ষে ভোট দেয়ার কথা বলেছেন, যদি তিনি ইউক্রেন, ইসরাইল এবং তাইওয়ানের জন্য ইতোমধ্যে সিনেট দ্বারা অনুমোদিত নয় হাজার পাঁচ শ কোটি ডলার সুরক্ষা সহায়তা প্যাকেজের উপর ভোট আহ্বান করেন।
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

হামাসের দাবি মেনে নিতে রাজি ইসরাইল!

গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নিতে ইসরাইল প্রস্তুত বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যা না করার ওয়াদা।

ইসরাইলি মিডিয়া কানের উদ্ধৃতি দিয়ে জেরুসালেম পোস্টের এক খবরে বলা হয়েছে, হামাসের সিনিয়র নেতারা যদি গাজা উপত্যকা থেকে প্রবাসে চলে যান, তবে তাদেরকে হত্যা না করার প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করছে ইসরাইল।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেখানেই থাকুন না কেন, হামাসের নেতাদের হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মোশাদকে।

খবরে বলা হয়, গাজা উপত্যকাকে অসামরিকীকরণ এবং পণবন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে এই চুক্তিতে রাজি হতে পারে ইসরাইল।

হামাস দৃঢ়ভাবে দাবি জানিয়ে আসছে, গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ধাপে ধাপে বন্দী মুক্তির প্রস্তাবটিতে এসব রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে প্রথমে ছয় সপ্তাহের অস্ত্রবিরতিতে ৪০ বন্দীর মুক্তির কথা বলা হয়েছে।

ইসরাইলের এক সিনিয়র কর্মকর্তা কানকে বলেন, তারা যে প্রস্তাব বিবেচনা করছেন, তার মধ্যে প্রবাসী সিনিয়র কর্মকর্তাদের ক্ষতি না করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

আলোচনাকালে হামাস কর্মকর্তারা জানান, তারা যুদ্ধবিরতি হলেই কেবল বাকি বন্দীদের মুক্তি দেবে। নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলছেন, গাজা হামাসের হাতে থাকবে- এমন কোনো চুক্তি তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

দুই পাশ্চাত্যের কূটনীতিক নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে হামাসের নেতারা গাজা উপত্যকা ত্যাগ করে প্রবাসে গেলে তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে।

তবে হামাস কর্মকর্তারা গাজা ত্যাগ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে খবরে প্রকাশ। হামাসের সিনিয়র নেতা হুসাম বাদরান বলেন, ‘হামাস এবং এর নেতারা গাজায় তাদের ভূমিতে আছেন। আমরা যাব না।’

কাতারে ইসরাইলি প্রতিনিধিদলের এক সদস্য বলেছেন, আমেরিকার প্রস্তাব অনুযায়ী হামাসের হাতে আটক বন্দীদের বিনিময়ে ইসরাইলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তির আপসেও রাজি হয়েছেন তারা। তারা এখন হামাসের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।

মমতার দুর্গে কি এবার ফাটল ধরাতে পারবে মোদির বিজেপি

সন্দেশখালি, তৃণমূলের নেতা-সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত, বেকারত্ব, নেতাদের দল-বদল, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন চালু হওয়া, অনুপ্রবেশ, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের বিষয়ের অভাব নেই। কিন্তু এমন অনেক মানুষ পাবেন, যারা আপনাকে বলবেন, যেকোনো লোকসভা আসনে প্রার্থী যিনিই হোন না কেন, এবারের নির্বাচন হতে চলেছে নরেন্দ্র মোদি বনাম মমতা ব্যানার্জী।

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১৩ বছর আগে, ২০১১ সালে ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা বাম সরকারের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয় পাওয়া মমতা ব্যানার্জী ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪টিতে জিতেছিলেন। তারপরে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজের স্থান আরো শক্তপোক্ত করতে সমর্থ হন তিনি। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮টি আসন জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছিল।

আর এবছরের নির্বাচনে এনডিএ-র ৪০০ গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে যে বিজেপি, তারা কি এবারো পশ্চিমবঙ্গে ২০১৯-এর মতো জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে? বিশেষ করে যখন সন্দেশখালি, দুর্নীতি ও বেকারত্বের মতো বড় ইস্যু রয়েছে?

পূর্বাভাস কী বলছে?
একটি জনমত সমীক্ষায় বিজেপি ২৫টি আসন পাবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, আর অন্য একটি সমীক্ষা বলছে তারা ১৯টি আসন পেতে পারে। তৃতীয় একটি সমীক্ষায় বলা হচ্ছে বিজেপি ২০টি আসনে জয়ী হতে পারে।

বিবিসির সাথে কথোপকথনে নির্বাচন বিশ্লেষক প্রশান্ত কিশোর বলেছেন যে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ভালো ফল করতে পারে, অন্যদিকে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস ৩০-৩৫টি আসন পাবে।বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য দলের টার্গেট ৩৫ বলে জানালেও সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মইদুল ইসলাম মনে করেন না যে ‘বিজেপি তার অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।’

‘ইন্ডিয়া’ জোট থেকে বেরিয়ে এসে ৪২টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জ হলো, সমালোচকদের এটা প্রমাণ করে দেখানো, যে তারা একাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আটকাতে পারে।

যদি দলটি তা করতে পারে, তা হলে দেশের বিরোধী নেতাদের মধ্যে মমতা ব্যানার্জীর মর্যাদা বাড়বে। তবে তা যদি না করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস, তাহলে নেতাদের দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যেমন তৈরি হবে, তেমনই পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

বিজেপি কি পারবে ২০১৯ -এর মতো ফল করতে?
কী হবে বলা মুশকিল, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে জেতার জন্য বিজেপি সবরকমের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহের ঘন ঘন সভা হচ্ছে, তৃণমূলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিজেপিতে যোগ দেয়া আর বিজেপির প্রচারণা জেতার জন্য কোনো চেষ্টাই বাদ রাখছে না বিজেপি।

উত্তর ভারতে রাজনীতির শিখরে পৌঁছে যাওয়া বিজেপি জানে পশ্চিমবঙ্গ তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাই তাদের এখানে ভালো করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জও কম নয়।

কলকাতায় বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের বাড়ির গেটে ক্যামেরা হাতে একদল সাংবাদিক জড়ো হয়েছিলেন ১৫ মার্চ সন্ধ্যায়। সামনে একটা উঁচু কাঠের টেবিলের ওপর এক গাদা মাইক রাখা।

ভিতরে ঘরের দেওয়ালে লাগানো একটি টিভিতে দিল্লি বিজেপির সাংবাদিক সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার চলছিল।

টিভির পর্দায় দেখানো হচ্ছিল তৃণমূল নেতা অর্জুন সিং এবং দিব্যেন্দু অধিকারীর দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেয়ার ছবি। দল বদল করা নেতাদের লম্বা তালিকা রয়েছে এই রাজ্যে।

সাংবাদিক সম্মেলন শেষ হওয়ার পরে ৪০ বছর ধরে সংগঠনের সাথে যুক্ত শমীক ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘অমিত শাহজি ৩৫টি আসনের কথা বলেছেন। আমরা এটিকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য কাজ করছি। মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

মনে করা হয়, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের বিজেপির ভালো ফলাফলের অন্যতম কারণ ছিল তৃণমূল-বিরোধী ভোট তাদের পক্ষে যাওয়ার ঘটনা।

বিশ্লেষক মইদুল ইসলামের মতে, ২০১৯ সালে বামদের প্রচুর ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছিল এবং এর একটি বড় কারণ ছিল ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, যাতে মানুষ খুব ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। বিজেপিকে ভোট দেয়ার আরেকটি কারণ ছিল রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি বাম এবং কংগ্রেস। তাই মানুষের সামনে বিকল্প ছিল সীমিত- সেজন্যই বিজেপিকে তারা বেছে নিয়েছিল।

তার মতে, বাম দলগুলোর ভোট এখন আবার তাদের দিকেই ফিরছে। তাই বিজেপি তাদের আসন বাড়াতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না।

প্রবীণ সাংবাদিক শিখা মুখার্জীর মতে, কেউ ভাবেনি যে এত সংখ্যায় বামদের ভোট বিজেপির পক্ষে চলে যাবে।

বামদের কী অবস্থা?
সিপিএম অফিসে একটি ঘরে বসে চা খেতে খেতে কথা বলছিলেন মুহম্মদ সেলিম।

ঘরের দেওয়ালে প্রয়াত বামপন্থী নেতাদের ছবি টাঙ্গানো আছে। দলের রাজ্য সম্পাদক সেলিম বলছিলেন, তাদের কাছ থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন যে ভোটাররা, গত দু’বছরে তাদের একটি অংশ ফিরে এসেছেন। এর প্রমাণ হিসাবে তিনি ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে যে কয়েকটি উপনির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করছিলেন যেখানে বামদের ভোট বেড়েছে।

দলে নতুন প্রজন্মের নেতাদের সামনে নিয়ে আসা ভোট বৃদ্ধির একটা কারণ বলে তিনি মনে করেন। নতুন প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে মীনাক্ষী মুখার্জীর নাম রয়েছে।

সম্প্রতি বাম সংগঠন ডেমোক্রেটিক ইউথ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া আয়োজিত ‘ইনসাফ যাত্রা’ এবং কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে বড় সমাবেশ করাকে বামপন্থীদের জন-ভিত্তি ফিরিয়ে আনার একটা প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

কিন্তু সাংবাদিক শিখা মুখার্জী মনে করেন না যে লোকসভা ভোটে বামদের ভোট ফিরে আসবে। তিনি বলছিলেন সমাবেশের জমায়েতের সাথে ভোটকে মেলানো ঠিক হবে না।

অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক প্রশান্ত কিশোরের যুক্তি, ক্ষমতার প্রতিটি স্তরে অর্থাৎ পঞ্চায়েত, বিধানসভা ও লোকসভায় তৃণমূলের আধিপত্যও দলের মাথাব্যথার একটা কারণ হয়ে উঠতে পারে। আবার সন্দেশখালির মতো ঘটনাতে ক্ষমতাসীন দলেরই ক্ষতি বেশি হয়।

বিজেপি সমর্থকরা অবশ্য আশা করেন যে সরকারের ওপরে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ, বেকারত্ব বা সিএএ-র মতো ইস্যুগুলো থেকে তাদের দল ফায়দা তুলতে পারবে, আর তার মাধ্যমেই আসনও বাড়বে তাদের।

আবার সিএএ, বা ৩৭০ ধারা অপসারণ বা রাম মন্দির নির্মাণ নিয়েও তারা তাদের ভোটারদের বলতে পারবেন যে তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো পালন করেছেন।

বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সামনে চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উঠলে বার বার শোনা যায় যে এ রাজ্যে দিদির সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মতো শক্তিশালী সংগঠন নেই, বড় জননেতা নেই বিজেপির। আর যারা আছে, তাদের অনেকে আবার তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা নেতা। অনেকেই বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী মাঠ পর্যায়ের সংগঠনের মোকাবিলা করা বিজেপির পক্ষে সহজ নয়।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মমতা ব্যানার্জীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারী ২০২০ সালে তৃণমূলের একাধিক নেতার সাথে বিজেপিতে যোগ দেন। এবার তার ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং এবং তাপস রায়ও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

মইদুল ইসলাম বলছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কোনো জননেতা বা বড় নেতা নেই। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা রাজনৈতিকভাবে সচেতন। তারা ব্যক্তিগত আক্রমণ পছন্দ করে না।’

তার যুক্তি, ‘শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূল ছাড়েন, তখন তার জন-ভিত্তিটা পুরোপুরি বিজেপির দিকে যায়নি। এর একটা কারণ, সাধারণ মানুষ সহায়তা পাওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের ওপর নির্ভর করে থাকে। তারা মনে করেন, নতুন কেউ এলে তাদের সাথে আবার নতুন করে বোঝাপড়া করতে হবে।’

শুভেন্দু ইসলামের কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার- এই তিন রাজ্যে শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। তারা সহায়তার জন্য রাজ্যের সরকারগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। রাজনৈতিক সহিংসতাও এখানে বেশি কারণ অনেক মানুষকেই রাজনীতিবিদদের ওপর নির্ভর করে চলতে হয়। তারা মনে করেন, নেতা চলে গেলে বা বদলে গেলে আমরা কিভাবে সরকারি সহায়তা পাব!’

শিখা মুখার্জীর মতে, বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তারা এ রাজ্যের কোনো আন্দোলনে যোগ দেয়নি, আবার রাম মন্দির আন্দোলনের কোনো প্রভাবও এ রাজ্যে না পড়ার মতো বিষয়গুলো।

তিনি বলছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কাছে অচেনা। তারা বিরোধী দলের তকমা পেয়েছে, কারণ এখানে বাম ও কংগ্রেস দুর্বল হয়ে গেছে।’

বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলছিলেন, ‘দলে লোক তো নিতেই হবে, তারা আসবে সমাজ থেকেই। কেউ যদি আমাদের জাতীয়তাবাদ, সংস্কৃতি, এজেন্ডা মেনে চলে, তাহলেই আমরা দলে নিই। তার মানে এই নয় যে, বহিরাগতদের দিয়েই বিজেপি চলছে।’

তৃণমূল ও বামেদের তুলনায় বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা কোনো সাংবাদিককে সংগঠনের অবস্থা কী সেটা বলব না, তবে এই নির্বাচনে প্রতিটা বুথে আমাদের অ্যাজেন্ট থাকবে।’

বিজেপির কাছে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো, রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমান ভোটারের একটা বড় অংশ তাদের থেকে অনেক দূরে থাকেন। এটা বলা ভুল হবে না যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন চালু হওয়ার পরে ওই দূরত্ব কমেনি তো বটেই, বরং বেড়েছে।

মুসলমান ভোটার ৩০ শতাংশ
কলকাতা শহর থেকে অনেকটা দূরে, সরু রাস্তা আর প্রচণ্ড যানজটের মধ্য দিয়ে আমরা পৌঁছলাম হাদিপুর গ্রামে, যেখানে মুহম্মদ কামরুজ্জামানের সাথে দেখা হয়েছিল তার স্কুল বাড়িতে।

সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান। রাজ্যে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৪০-৫০ হাজার। তার মতে, মুসলমানরা জানে যে বিজেপি মুসলমানদের বিরুদ্ধে, আবার তারা তৃণমূলেরও বিরুদ্ধে। কিন্তু তৃণমূলকে ভোট দেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প মুসলমানদের সামনে নেই।

পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের সাথে কথা বললে তারা শিক্ষা ও বেকারত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করলেও কামরুজ্জামানের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধন করছেন, তখন মমতা ব্যানার্জী দীঘায় একটি মন্দির নির্মাণ করছেন।

তার কথায়, ‘ধর্মীয় কোনো কাজ করা তো সরকারের দায়িত্ব নয়। তারা সকলের কল্যাণের জন্য কাজ করবে। মোদি যে পথে এগোচ্ছেন, সেই পথে হাঁটছেন মমতাও। তবুও মুসলমানরা বাধ্য হয়েই নরম-হিন্দুত্বের দিকে ভোট দেন।’

উচ্চশিক্ষা ও মুসলমানদের মধ্যে বেকারত্বের সমস্যা ছাড়া আরো একটি কারণে মমতা ব্যানার্জীর ওপরে ক্ষুব্ধ কামরুজ্জামান : ইন্ডিয়া জোটের সাথে নির্বাচনে না গিয়ে একাই ভোটে লড়ার সিদ্ধান্তের জন্য।

তার মতে, এর ফলে কংগ্রেস-বাম দল ও তৃণমূলের ভোট ভাগ হয়ে যাবে।

তবে এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে তৃণমূলের সুবিধা হবে বলেও মনে করছে কোনো কোনো মহল।

‘ভোটের দুই-চার দিন আগে আমরা ঘোষণা করব যে প্রতিটি কেন্দ্রে কাকে ভোট দেয়া উচিত হবে, যাতে বিজেপির পরাজয় আমরা নিশ্চিত করতে পারি।’

শিখা মুখার্জী অবশ্য বলছিলেন, অধীর রঞ্জন চৌধুরী বা বাম দলগুলোর সাথে আপস করতে চাননি মমতা ব্যানার্জী, তাই তার কাছে একা লড়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।

‘ইন্ডিয়া’ জোটের সম্ভাবনা কতটা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে মমতা ব্যানার্জী জোর দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের জন্য যেসব সরকারি প্রকল্প আছে, সেগুলোর ওপরে।

এর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প এবং ‘স্বাস্থ্য সাথী’ নামের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প।

অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল নারীদের সহায়তার জন্য সরকার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে প্রদেয় অর্থ বাড়িয়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে এখন তফসিলি জাতি ও উপজাতি নারীদের প্রতি মাসে ১,২০০ টাকা এবং অন্যান্য নারীদের ক্ষেত্রে যতি মাসে এক হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্প হলো রাজ্য সরকারের নিজস্ব স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রের কাছ থেকে যে অর্থ রাজ্য সরকারের পাওয়া উচিত ছিল, তা তার দীর্ঘদিন ধরে পাচ্ছে না।

মইদুল ইসলামের কথায়, ‘তৃণমূলের ইস্যু হলো কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের প্রতি অবিচার করছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতি ১৯০৫ সাল থেকেই এই অবিচার করা হয়েছে। বঙ্গ-ভঙ্গ হয়েছে, আমাদের নেতাদের গুরুত্ব দেয়া হয়নি, সুভাষ বসুর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে, রাজধানী এখান থেকে চলে গেছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে যে রাজ্যগুলো তাদের প্রাপ্য টাকা পাচ্ছে না। এক লাখ ষাট হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।’

কংগ্রেস, বাম ও তৃণমূল আলাদা লড়ছে। কিন্তু একইসাথে তারা এটাও বলছে যে তাদের লক্ষ্য বিজেপিকে পরাস্ত করা এবং তারা লোকসভা নির্বাচনের পরে জোট নিয়ে কথা বলতে পারে।

তবে তার প্রয়োজন হবে কি না, তা জানা যাবে ৪ জুন, যেদিন লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সূত্র : বিবিসি

সূর্য অভিযানে গিয়ে কী করবে আদিত্য এল-১

ভারত তার প্রথম সূর্য অভিযান শুরু করেছে। দেশটির প্রথম সূর্য পর্যবেক্ষণ মিশন ‘আদিত্য-এল ১’ শনিবার শ্রীহরিকোটা থেকে স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে উৎক্ষিপ্ত হয়। আদিত্য সূর্যের আরেক নাম।

সূর্যের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করবে আদিত্য। পরবর্তী চার মাস ধরে যাত্রা করে সূর্য আর পৃথিবীর মধ্যে একটি ‘হ্যালো’ কক্ষপথের ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট বা এল১ পয়েন্টে স্থাপন করা হবে আদিত্যকে। ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্টকে সূর্যের পথে যাওয়ার মাঝে একটি পার্কিং লট বলে বর্ণনা করা হয়।

সূর্য-পথের ‘পার্কিং লট’
পৃথিবী থেকে ওই ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্টের দূরত্ব ১৫ লক্ষ কিলোমিটার। এই দূরত্ব অবশ্য পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব, ১৫.১ কোটি কিলোমিটারের মাত্রই এক শতাংশ।

ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট হলো এমন একটি জায়গা, যেখানে সূর্য এবং পৃথিবীর আকর্ষণ ও বিকর্ষণ বল একসঙ্গে কাজ করে, ফলে এই অঞ্চলে পৌঁছে মহাকাশযান স্থির থাকতে পারে। উপগ্রহটি স্থির থাকার কারণে সামান্যই জ্বালানি লাগে। এমনকি সূর্যগ্রহণের সময়েও সূর্যের দিকে নজর রেখে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট থেকে।

তবে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে মহাকাশযানটি পরবর্তী ১৬ দিন পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে।

কত খরচ হচ্ছে সূর্য অভিযানে?
মিশনের খরচ কত হবে তা ইসরো জানায়নি, তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে সূর্যাভিযানের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় পৌনে চার শ’ কোটি ভারতীয় টাকা।

ইসরো বলেছে যে অরবিটারে সাতটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র রয়েছে যা সৌর করোনা (সবচেয়ে বাইরের স্তর) ফটোস্ফিয়ার (সূর্যের পৃষ্ঠ বা যে অংশ আমরা পৃথিবী থেকে দেখি) এবং ক্রোমোস্ফিয়ার (প্লাজমার একটি পাতলা স্তর যা ফটোস্ফিয়ার এবং করোনার মধ্যে থাকে), তিনটি অংশেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাবে।

আদিত্যর পাঠানো তথ্য থেকে সৌর বায়ুচলাচল, সৌর শিখা আর পৃথিবীর কাছাকাছি মহাকাশের আবহাওয়াতে সেগুলোর প্রভাব সংক্রান্ত গবেষণা চালাতে পারবেন।

‘যে নক্ষত্রের ওপরে আমাদের জীবন নির্ভর করে…’
ইসরোর সাবেক বিজ্ঞানী মাইলাস্বামী আন্নাদুরাই জানাচ্ছেন যে বিকিরণ, তাপ এবং কণা ও চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের প্রবাহের মাধ্যমে সূর্য ক্রমাগত পৃথিবীর আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে। আবার একইসঙ্গে সেটি মহাকাশের আবহাওয়ার ওপরেও প্রভাব ফেলে।

তার কথায়, ‘মহাকাশের আবহাওয়া আবার স্যাটেলাইটগুলোর কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও একটা ভূমিকা পালন করে। সৌর বায়ু বা ঝড় স্যাটেলাইটের ইলেকট্রনিক্সকে প্রভাবিত করতে পারে, এমনকি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ভেঙে দিতে পারে। মহাকাশ আবহাওয়া সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের মধ্যে ফাঁক রয়েছে,’ বিবিসিকে বলেছেন আন্নাদুরাই।

তিনি বলেছেন, যে নক্ষত্রটির ওপরে আমাদের জীবন নির্ভর করে, সেই সূর্যকে আরো ভালোভাবে বুঝতে আর আগাম সতর্কতা দিতেও সাহায্য করবে আদিত্য মহাকাশযানটি।

তিনি বলছেন, ‘সৌর বায়ু বা সৌর অগ্নুৎপাতের মতো ঘটনা যদি কয়েকদিন আগে জানা আমাদের উপগ্রহগুলোকে সরিয়ে নিয়ে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে আদিত্য। মহাকাশে আমাদের উপগ্রহগুলোর আয়ুও বাড়বে।’

‘যে নক্ষত্রটি পুরো সৌরজগতকে একসঙ্গে ধরে রেখেছে, সেই সূর্য সম্পর্কে আমাদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান তো বাড়বেই,’ বলছিলেন আন্নাদুরাই।

যদি মিশন সফল হয়
ভারতের মহাকাশে ৫০টিরও বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা, আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্য, কীটপতঙ্গের উপদ্রব, খরা এবং আসন্ন দুর্যোগের পূর্বাভাস দেয়ার মতো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা পাওয়া যায়।

আদিত্য এল-১ মিশন সফল হলে, ভারতও সেই সব কতিপয় দেশের তালিকায় নাম তুলবে, যারা ইতোমধ্যেই সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করছে।

জাপান ১৯৮১ সালে প্রথম এ ধরণের মিশন শুরু করেছিল, এরপর নাসা এবং ইউরোপীয় স্পেস অ্যাজেন্সি ১৯৯০ সাল থেকে সূর্যকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।

নাসা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি ‘সোলার অরবিটার’ উৎক্ষেপণ করে, যেটি সূর্যের কাছাকাছি থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে।

আবার নাসার নতুন মহাকাশযান ‘পার্কার সোলার প্রোব’ ২০২১ সালে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল, করোনার মধ্য দিয়ে প্রথম উড়ে ইতিহাস তৈরি করেছিল।

সূত্র : বিবিসি

তফসিল ঘোষণা করলেই নির্বাচন হবে, এত সহজ নয় : আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার মানুষকে বোকা ভাবছে। এদেশে এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেই নির্বাচন হয়ে যাবে? এত সহজ নয়।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গণতন্ত্র ফোরামের উদ্যোগে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে- ইসির এই বক্তব্যের জবাবে আমীর খসরু বলেন, কিসের নির্বাচন? কার নির্বাচন? যে ভোটাধিকারের জন্য মানুষ সংগ্রাম করছে তা পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ তার অধিকারের জন্য রাস্তায় নেমেছে। ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য। লক্ষ মানুষের হৃদয়ে আন্দোলনের দোলা দিচ্ছে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে।

উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এই উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়েছে। ব্যাংকগুলোতে কোনো টাকা নেই। লুটপাট করে বাইরে টাকা নিয়ে গেছে। বড় বড় প্রকল্পের টাকা লুটপাট করে বাইরে নিয়ে গেছে। আর উন্নয়নের কথা বলছেন, এক লক্ষ কোটি টাকার ওপরে টাকা ছাপাচ্ছে তারা। ব্যাংকের টাকা শেষ, রিজার্ভ শেষ আর সরকারের তহবিলেও টাকা নেই।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (উড়ালসড়ক) উদ্বোধন প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, আজকেও একটা উদ্বোধন করছে। এগুলো হলো স্বৈরাচারের আরেকটা বৈশিষ্ট। সে লুটপাটি করবে আর উন্নয়ন দেখাতে গিয়ে তারা দুই থেকে চার-পাঁচটা বড় বড় জিনিস এরকম করবে। আর মেগাপ্রজেক্টের নামে মেগাদুর্নীতি করার জন্য বড় বড় প্রজেক্ট করা হচ্ছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।