সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি-ক্রোক নিয়ে সরকারের বক্তব্য লোকদেখানো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় এসেছে বেনজীর চলে গেছে। সপরিবারে দেশত্যাগ করেছে মে মাসের ৪ তারিখে । যাওয়ার আগে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খালি করে গেছে, সেখানে ৬০ কোটি টাকার মতো ছিল বলে পত্রিকায় এসেছে। আমার প্রশ্ন সে কিভাবে গেল? এই যে তারা (সরকার) বলল যে, তার সম্পত্তি আমরা ক্রোক করছি। আদালত থেকে বলা হলো, দুদক মামলা করেছে, তাকে কোথাও যেতে দেয়া হবে না। তাহলে ৪ তারিখ সপরিবারে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে করে কিভাবে চলে গেল সরকারের নাকের ওপর দিয়ে।
ফখরুল বলেন, এই যে আপনারা বলছেন যে, কেউ ছাড় পাবে না, আমরা সবার বিচার করি। আপনারা কি বাংলাদেশের মানুষ সবাইকে আহম্মক মনে করেছেন? বাংলাদেশের মানুষ তো আহম্মক না। সবাই বুঝে, এগুলো সব আপনাদের লোকদেখানো, প্রতারণা। এখন পর্যন্ত এই প্রতারণা করে আপনারা দেশ শাসন করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু বেনজীর নয়, এক আজিজ (আজিজ আহমেদ) নয়, অসংখ্য আজিজ আর বেনজীর তারা তৈরি করেছে। এরা বাংলাদেশটাকে একটা লুটের সামাজ্যে পরিণত করেছে। বর্গীর দেশে পরিণত করেছে। এখান থেকে দেশটাকে রক্ষা করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য্ দিয়ে এই দানব সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে ।
এই আন্দোলনে সাফল্য আনতেই হবে : মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই-সংগ্রাম করছি। বিজয় আমাদের অর্জন করতেই হবে, সাফল্য আমাদের আনতেই হবে। আজকে এই পেশাজীবীদের আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশে বিএনপি কখনোই তার অভিষ্ট লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াবে না। তার লক্ষ্য অটুট আছে। কৌশল অনেক সময় পরিবর্তন হতে পারে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, যখন সাফল্য আসে তখন সবাই দাবি করে যে আমার জন্য হয়েছে। ফেইলিউর হ্যাজ নান। আমরা মনে করি, আমরা ব্যর্থ নই। আমরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছি, আমরা নতুন করে আবার কাজ শুরু করেছি। ইনশা আল্লাহ জয় আমাদের হবেই। কারণ আমরা সত্যের পথে ন্যায়ের পথে লড়াই করছি।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, রুহুল আমিন গাজী, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অ্যাডভোকেট মাসুম আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী, অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদুল ইসলাম, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ডা: রফিকুল ইসলাম, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এই সরকার হচ্ছে চোরের রাজা
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার হাজার হাজার আজিজ-বেনজীর তৈরি করেছে। আজকে খবরের কাগজ খুললেই কী দেখেন আপনারা? দেখবেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ তার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি। কখন করেছেন, যখন তিনি র্যা বের ডিজি ছিলেন, পুলিশে আইজি ছিলেন; তখন করেছেন। যার বেতন সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার বেশি হয় না, সেই লোকের এখন দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
তিনি গতকাল বিকেলে নগরীর চান্দনা চৌরাস্তাসংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে গাজীপুর মহানগর বিএনপি আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আবদুল আজিজ সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি গেল একজনের কথা, আরেকজনের কথা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। হঠাৎ করে আমরা দেখলাম সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আজিজ। যার একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল আলজাজিরাতে। তিনি কিভাবে তার ভাইদেরকে রক্ষা করার জন্য প্রভাব খাটিয়ে তাদেরকে মুক্ত করে পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আমেরিকা স্যাংশন দেয়ার পরে এখন তাদের টনক নড়েছে। এখন বলছে আমরা এখন তদন্ত করব।
বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি ক্রোক লোকদেখানো : ফখরুল
১৫ মিনিটে তুলকালাম ঠাকুরগাঁওয়ে, নিহত ৩
মাত্র ১৫ মিনিটের আচমকা ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় দুই নারী ও এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ঝড়ের কবলে দুই নারী ও জমে থাকা পানিতে ডুবে মারা গেছে আড়াই বছরের এক শিশু। নিহতরা হলেন- উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের শালডাঙ্গা গ্রামের পইনুল ইসলামের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪১), একই গ্রামের দবিরুল ইসলামের স্ত্রী জাহেদা বেগম (৫০) এবং একই উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল ইসলামের আড়াই বছরের ছেলে নাঈম। গতকাল শনিবার (১ জুন) ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দু’টি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। উড়ে গেছে কাঁচা বাড়িঘরের টিনের চালা। গাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
নিহত ফরিদার স্বামী পইনুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মসজিদে থাকা অবস্থায় ঝড় শুরু হয়। ঝড় শেষে বাড়িতে ছুটে এসে স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করি। পরে বাতাসে উড়ে এসে বারান্দায় পড়া টিন ও ছাউনি সরিয়ে দেখি নিচে চাপা পড়ে আছে স্ত্রী। উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ পাড়িয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের দফাদার আজিজুর রহমান জানান, ঝড়ের সময় বারান্দায় বসেছিলেন দবিরুল ইসলামের স্ত্রী জাহেদা। মেঘের গর্জন আর ঝড়ে গাছপালা উড়তে দেখে বারান্দায়ই মারা যান তিনি। দবিরুল ইসলাম জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ঝড়ের সময় ভয়ে স্ট্রোক করেছেন বলে ধারণা করছেন তারা। অপর দিকে লালাপুর নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল ইসলাম জানান, বাড়ির পাশে গর্তে বৃষ্টির পানি জমে ছিল। সকালে খেলতে গিয়ে শিশুটি পড়ে গিয়েছিল। পরে পরিবারের লোকজনের নজরে এলে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঝড়ে পাড়িয়া ইউনিয়নের তিলকড়া, শালডাঙ্গা, বঙ্গভিটা, লোহাড়া, বামুনিয়াসহ ১২টি গ্রাম, বড়বাড়ি ইউনিয়নের বেলহাড়া, বেলবাড়ী, বটের হাট, হরিপুরসহ আটটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশির ভাগ কাঁচা বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। গাছ ভেঙে পড়েছে ঘরের ওপর। বড়বাড়ী ইউনিয়নের আধারদীঘি বাজারে পাঁচটি দোকান ও দু’টি হোটেলে গাছ ভেঙে পড়েছে। ঘরের টিন নষ্টসহ সার ও কীটনাশক ও সিমেন্ট ব্যবসায়ীর ৫ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে। আধাদীঘি বাজারের ব্যবসায়ী হাসান আলী জানান, বাজারে শতবর্ষী কিছু আমগাছ ছিল দীর্ঘদিনের। ১৫ মিনিটের ঝড়ে সেই গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়েছে দোকানের ওপর। এতে দোকানগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লোহাগাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, ঝড়ে তাদের স্কুলের হলরুমের টিনের ছাউনি মাঠে এসে পড়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর বিদ্যালয়টির প্রবেশদ্বারে গাছ ভেঙে পড়েছে।
এদিকে বড়বাড়ি ইউনিয়নের আধারদীঘি থেকে হরিণমারী যাওয়ার রাস্তায় গাছ ভেঙে পড়ে চলাচল বন্ধ আছে। কয়েকজনকে গাছ কেটে সরিয়ে রাস্তায় চলাচল স্বাভাবিক করতে দেখা গেছে । এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, ঝড়ে ৪০টির বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে ও ভেঙে গেছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। বালিয়াডাঙ্গী বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি সব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ। সকাল থেকে আমাদের লোকজন মাঠে কাজ করছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, ঝড়ে মরিচ, বোরো ধান, পটোলসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিসংখ্যান সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফছানা কাওছার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান এবং আমাদের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কাজ করছে।
শাহীনেই আটকে আছে আনার হত্যা
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এখনো অজানা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমপি খুনের মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীকে গ্রেফতারের আগে প্রকৃত মোটিভ বের করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে নেপালে আটক চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাম অন্যতম আসামি সিয়ামকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে শনিবার ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের পুলিশই নেপালে গেছেন। তবে তাকে বাংলাদেশে আনা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভারতের পুলিশ চাচ্ছে সিয়ামকে তাদের দেশে নিতে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে পারেনি কাঠমান্ডু ইন্টারপোল। তবে শেষ পর্যন্ত সিয়ামকে ভারতের সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক কর্মকর্তা নেপাল থেকে বলেন, সিয়ামকে আমাদের কাছে দেবে কিনা এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি। ভারতের পুলিশ তাকে নিতে চাচ্ছে। আমরাও চেষ্টা করছি তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার।
এর আগে শনিবার সকালে নেপালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় ডিবি পুলিশের একটি টিম। ডিবি টিমের সঙ্গে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) একজন প্রতিনিধিও আছেন। এছাড়া মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক সহকারী কমিশনার (এসি) আজ রোববার নেপালে যেতে পারেন বলেও জানা গেছে।
শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, এমপি আনার হত্যার মূল মামলা ভারতে হয়েছে এবং মূল তদন্তও ভারতে হবে। তবে তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক। তাই ভারত মূল তদন্ত করলে শাহীনকে ফিরিয়ে আনা অনেকটা সহজ হবে। আমাদের দেশে এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হলে আমাদের পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করত। তারা (ভারত) যদি তদন্তে আমাদের সম্পৃক্ত করে তাহলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেপালে পলাতক সিয়ামকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান শনিবার বিকালে বলেন, এমপি আনারকে কারা খুন করেছে, কীভাবে খুন করা হয়েছে সবই আমরা জেনেছি। কিন্তু খুনের মোটিভ সম্পর্কে আমরা এখনো বিস্তারিত জানতে পারিনি। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক থাকায় এখনো গ্রেফতার করতে পারিনি। এ কারণেই হত্যার প্রকৃত মোটিভ জানতে পারছি না। শাহীনই জানে সে কেন এই হত্যকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছে। অন্যরা মূলত টাকার জন্যই এই হত্যাকাণ্ডের অংশ নিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে মূল সমন্বয়কারী গ্রেফতারকৃত শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ কী তথ্য দিয়েছে-জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে আমানুল্লাহর ভগ্নিপতি ডা. টুটুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
আমানুল্লাহর পরিবারের অভিযোগ, এই বন্দুকযুদ্ধে আনারের ভূমিকা আছে। এ নিয়ে আনারের প্রতি আমানুল্লাহর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। এছাড়া এমপি আনারের সঙ্গে তার রাজনৈতিক বিরোধও ছিল। এমন পরিস্থিতিতে শাহীনের কাছ থেকে আনারকে হত্যার প্রস্তাব পায় আমানুল্লাহ। সঙ্গে ছিল মোটা অঙ্কের অর্থের প্রস্তাবও। তাই সে এই হত্যাকাণ্ডের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে।
নেপালে আটক সিয়ামকে বাংলাদেশ নাকি ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হবে-জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিষয়টি এখনো কনফার্ম হয়নি। নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করেই আমরা সেখানে ডিবির টিম পাঠিয়েছি। সেখানে ভারতের টিম গিয়েছে। তারা সিয়ামকে ভারত নিতে চাচ্ছে। এখন দেখা যাক কী হয়? তিনি আরও বলেন, নতুন কী ব্যবসার কথা বলে এমপি আনারকে কলকাতার সেই সঞ্জীবা ভবনে নেওয়া হয়েছিল সেটি এখনো আমরা বের করতে পারিনি।
শনিবার সকালে নেপালে যাওয়ার আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ গেটে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান ওরফে শাহীনের সহকারী সিয়াম নেপালে আটক হয়েছেন বলে শুনেছি। এছাড়া হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার পর অন্যান্য আসামিরাও নেপালে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সবদিক বিবেচনা করে আমরা সেখানে যাচ্ছি।
গত ১২ মে ভারতে যান এমপি আনার। কলকাতার ব্যারাকপুর সংলগ্ন মণ্ডলপাড়ায় বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন তিনি। ১৩ মে চিকিৎসার কথা বলে বাসা থেকে বের হন আনার।
ওইদিনই কলকাতার দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া নিউটাউন এলাকার সঞ্জীবা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে খুন হন এমপি আনার। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২২ মে। ওইদিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন (২৪) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। এছাড়া ভারতে একটি হত্যা মামলা হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে দুই দেশেই।
ডিবির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ মে কলকাতা সিআইডি সঞ্জীবা গার্ডেনসের সেপটিক ট্যাংকে অভিযান চালিয়ে কয়েক টুকরো মাংস উদ্ধার করে। দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত আটজনের নাম বেরিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে শিমুল ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহ, তানভীর ভূঁইয়া ও সেলেস্তি রহমান দ্বিতীয় দফায় ডিবির রিমান্ডে আছে।
এছাড়া কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছে আরেক আসামি জিহাদ হাওলাদার ওরফে কসাই জিহাদকে। কাঠমান্ডু ইন্টারপোলের কাছে আটক হয়েছে সিয়াম। শাহীনের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও মোস্তাফিজ ও ফয়সালের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বোস্টনে জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন
ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক: সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাই নন তিনি ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক। তাঁর ঘটনাবহুল কর্মময় জীবনের কারণেই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর দেশপ্রেম, পরিশ্রমপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তাসহ প্রভৃতি গুণাবলী এদেশের গণমানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ক্যামব্রিজের দারুল কাবাব রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নিউ ইংল্যান্ড (বোস্টন) বিএনপির নেতারা এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র সহসভাপতি সোহরাব এইচ খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক আলী হায়দার মনসুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত কালজয়ী দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ও তাঁর অবিনাশী আদর্শে এ দেশের মানুষকে উদ্দীপ্ত করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলন সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বেলাল আহমেদ।
প্রধান অতিথি আব্দুল মালেক বলেন, শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং তার পরবর্তী দেশ পরিচালনায় দক্ষতা ও সফলতায় কিভাবে জনগণের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন যেকারণে উনার মৃত্যু শোক আজও জাতি কাটিয়ে উঠতে পারে নাই বলে উল্লেখ করেন। তারেক জিয়ার ত্যাগ ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট উল্লেখ করে বলেন, বোস্টন প্রবাসী সোহরাব এইচ খান নিউইংল্যান্ড বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিরলস ভাবে জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত প্রত্যেকই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রবাসে সংগঠন ও দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে এ কমিটিকে নিজেই উক্ত কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন।
সভায় বিশেষ অতিথি সাবেক এমপি হাসনা জসীম উদ্দিন মওদুদ বলেন, বিএনপিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দল উল্লেখ করে আন্দোলন সংগ্রাম করেই বিএনপি আবারো দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনবে সেই লক্ষে তারেক জিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সর্বশক্তি নিয়ে শরিক হওয়ার আহবান জানান।

উপদেষ্টা শাহাদাত সোরওর্দী বলেন, এই বাকশালী শ্বাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার কোন বিকল্প নাই তাই অধিক শক্তি নিয়ে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পরতে হবে।উপদেষ্টা মোজাম্মেল হোসাইনী তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবনের ইতিহাস তুলে ধরেন।
বেলাল আহমেদ বলেন, সময় লাগলেও তারেক জিয়ার নেতৃত্বেই হাসিনার দুঃশাসন থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। সাধারন সম্পদক আলী হায়দার মনসুর নিজেদের ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তার বক্তব্যে।
সহসভাপতি আবুল বশর তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক হোসেন তারেক জিয়ার যেকোন নির্দেশের অপেক্ষায় দল উল্লেখ করে বলেন শত নির্যাতন মামলা হামলার মধ্যেও বিএনপি ছিলো আছে থাকবে এবং গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবে।
যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী নিশো খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আন্দোলন ও সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সোহরাব এইচ খান সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন, গত ২৮শে এপ্রিল ইউএসএ’র ১৮টি কমিটির শীর্ষ ৫ সদস্যদের মিটিং এ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন ঘোষণা করেন, ১৮টি কমিটির মধ্যে ২টি কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে যার একটি নিউ ইংল্যান্ড বিএনপি। তিনি নতুনদের যুক্ত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন কমিটি গঠনের মত ব্যক্ত করেন। যাতে করে সত্যিকার অর্থেই একটি শক্তিশালী নিউইংল্যান্ড বিএনপি প্রতিষ্ঠা পায় এবং বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কিছুটা মন্থর আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরো জোরালো আন্দোলনের দিকে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের এমন সিদ্ধান্তের জন্য তার ভূয়সী প্রশংসা করেন উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সভায় উপস্থিত উপদেষ্টা মন্ডলীর মধ্যে ছিলেন রবিউল চৌধুরী ফরহাদ, তারেক আহমেদরুবেন, মাহমুদুর রহমান, পারভেজ চৌধুরী, মাহবুবুল হক ডিউক, মাহাবুবুর রহমান অপু, মুনির রহমান, প্রফেসর আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল মালেক, প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ, বিশেষ অতিথি ডঃ কায়ছার খান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু জুম ও ফোনে আলোচনায় অংশ নেন।
এছাড়াও আফতাব আহমেদ, আকাতুল্লাহ ইসলাম, মাহবুবে খোদা খোকা, মোঃ সালাউদ্দিন খান ইমন, সৈয়দ সালাম শীলু, মোঃ গোলাম মোস্তফা, সালাউদ্দিন চৌধুরী, মেজর (অব.) রাকিবুল রহমান, মেজর (অব.) ইমরান, ইলিয়াস জাকারিয়া, মনির হোসেন, অনুজ কুমার শাহা, রবি শংকর, ওয়ালি উল্লাহ, মোঃ বাদল, মুসাভি ফারদিন, সাদাত সিয়াম, জাকির আলী, বেলাল উদ্দিন, শাকেরা বেগম, ফারুক তালুকদার, পিংকি ফারুক, আব্দুল্লাহ, ফয়জুল, মানিক, মোহন, রেজ্জাকুল,ইকরাম চৌধুরী, ইকবাল চৌধুরী, মুছাম্মৎ হালিমা, ফয়সাল চৌধুরী, মোঃ আজাদ, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ তায়েব, মোঃ নাজমুল আলম, কামরুল হাসান, মোযাম্মেল হোসাইন, আফরিন রাজ্জাক, ইলা দে, আবু তারেক, রাহুল দে, তাজ ফরহাদ, কাইসার খান, গিয়াস উদ্দিন, নাহিয়ান আলী, শরীফুল ইসলাম প্রমুখ উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে জঙ্গি হামলার হুমকি!
আগামী পরশু রোববার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাইভোল্টেজ ম্যাচ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ।
সীমান্ত সমস্যার কারণে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে একযুগ ধরে। বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপ ছাড়া তাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়না। ক্রিকেট ভক্তরা অধীর আগ্রহে বসে থাকেন ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট মাঠের লড়াই দেখার জন্য।
অথচ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেই জঙ্গি হামলার হুমকি রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের নাসাউ কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণই নেই। ৯ জুন ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্টেডিয়ামে জঙ্গি কেন, সাধারণ দর্শক এবং ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজন ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
এ ব্যাপারে নাসাউ কাউন্টির কমিশনার প্যাট্রিক জে রাইডার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি এই গ্যারান্টি দিতে পারি যে, ৯ জুন নাসাউ কাউন্টিতে স্টেডিয়ামের ভিতরে ম্যাচ হলে, কোনও ভয়ের সম্ভাবনা নেই।’
একই কথা বলেছেন নিউইয়র্কের প্রথম নারী গভর্নর ক্যাথি হোচুল। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘ক্রিকেট বিশ্বকাপে যাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং পুলিশ একযোগে কাজ করছে। আমি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে নিরাপত্তা বাড়াতে বলেছি। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নজরদারি চালিয়ে যাব।’
এ ব্যাপারে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কিথ রাউলি বলেছেন, ‘জঙ্গি হামলার হুমকি ২১ শতকের সবচেয়ে বড় বিপদ। দুষ্কৃতীকারীরা যে কোনও রাস্তা নিতে পারে। তাই জঙ্গি হুমকি পুরোপুরি ঠেকানো কার্যত অসম্ভব।’
পরে এক যৌথ বিবৃতিতে আইসিসি এবং ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলেছে, ‘আমরা আয়োজক দেশ এবং প্রশাসনের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছি। সবকিছু মাথায় রাখা হচ্ছে। কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নই।’
আরও একটা বিশ্বকাপ খেলতে চান সাকিব
যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২ জুন থেকে শুরু হচ্ছে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। সাকিব আল হাসানেরও এটি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের সবগুলো আসরেই খেলেছেন তিনি। তার সঙ্গে এই কীর্তি আছে শুধু ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মার।
নিজের নবম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য গ্রিন রেড স্টোরি’তে কথা বলেছিলেন সাকিবও। যেখানে আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছার কথা জানান এই অলরাউন্ডার।
সাকিব ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যতগুলো টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হলো, সবগুলোতেই অংশ নিতে পেরেছি। আমার জন্য এটা গর্বের ও আনন্দের। একই সময়ে যেহেতু দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি, অনেক ভালো লাগার একটা জায়গা আছে। আমি এবং রোহিত শর্মাই হয়তো মাত্র দুজন খেলোয়াড়, যারা সবগুলো টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছে। আশা করব আরও একটি বিশ্বকাপ যেন খেলতে পারি। তার আগে এই বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সটা যেন ভালো থাকে। বাংলাদেশ যেন অন্যান্য যে কোনো টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো ফল করে আসতে পারে।’
ওই ভিডিওতে একটি প্রশ্ন ছিল সাকিবের প্রতি। অনেকেই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র সাকিবের সেকেন্ড হোম (দ্বিতীয় ঘর)। ঘরের সুবিধা কি পাবে দল? সাকিব হাসতে হাসতে এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমার সেকেন্ড হোম ঠিক আছে। তবে হোম অ্যাডভান্টেজ পাব কিনা বলাটা মুশকিল। কিন্তু আমার মনে হয় পাব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং যুক্তরাষ্ট্র, এ দুটো জায়গাতেই আমরা, এর আগে ফ্লোরিডায় যখন খেলেছি বাংলাদেশ ভালো করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমরা সব সময়ই সুবিধা পাই। কারণ পিচগুলো অনেকটা আমাদের মতোই হয়ে থাকে। তাই আমি আশা করছি দুই জায়গাতেই আমরা সুবিধা পাব।’
আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের উত্থানের সমসাময়িক সাকিবের ক্যারিয়ার। তিনটি সংস্করণের মধ্যে টি-টোয়েন্টিই এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই পরিবর্তন কীভাবে দেখেন সাকিব-এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা ওয়ানডেরই বর্ধিত সংস্করণ। ওভার কাটলে যেটা হতো সেটাই। অনেক রোমাঞ্চকর। দর্শকেরা অনেক পছন্দ করেন। আমি একটি জিনিসই শুধু মনে করি যে ব্যাট ও বলের যেন সমান প্রতিযোগিতা এখানে থাকে। যেকোনো একতরফা যেন টুর্নামেন্টটা না হয়। সাধারণত বিশ্বকাপে কখনোই সেটা হয় না। আমি মনে করি এবারও একইরকম হবে।’
২২২ রান করেও জয় পায়নি অস্ট্রেলিয়া, টাইগারদের কী হবে?
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে রোববার থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে প্রতিটি দল এখন ব্যস্ত আইসিসির অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলায়। অধিকাংশ দল বিশ্বকাপের ভেন্যুতে পৌঁছে গেছে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রিনিদাদে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের এই প্রস্তুতি ম্যাচে আগে ব্যাট করে নিকোলাস পুরানের ব্যাটিং তাণ্ডবে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৭ রানের পাহাড় গড়ে ক্যারিবীয়রা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মাত্র ২৫ বল মোকাবেলা করে ৩০০ স্ট্রাইকরেটে ৫টি চার আর ৮টি দৃষ্টি নন্দন ছক্কার সাহায্যে ৭৫ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন নিকোলাস পুরান। ২৫ বলে চারটি চার আর চারটি ছক্কার সাহায্যে ৫২ রান করেন অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। মাত্র ১৮ বলে চারটি চার আর সমান ছক্কায় ৪৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন শেরেফানি রাদারফোর্ড।
১২০ বলে ২৫৮ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমেও ভরকে যায়নি আইসিসির সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী দল অস্ট্রেলিয়া। তারা জয় না পেলেও ৭ উইকেটে ২২২ রান করেছে। তারপরও ৩৫ রানের হার মানতে হয় মিচেল মার্শের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়াকে।
২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অস্ট্রেলিয়া যদি ২২২ রান করে জয় না পায়, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে কেমন পারফরম্যান্স করবে তা আর হলফ করে বলার অপেক্ষা রাখেনা!
বিশ্বকাপ খেলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরে যায় সাকিব আল হাসানরা। শুধু তাই নয়! আইসিসির এই সহযোগী সদস্য দলটির বিপক্ষে কোনো ম্যাচে ১৫৩ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাহলে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মতো তারকা খচিত দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স করবে তা সময়ই বলে দেবে!
টি-টোয়েন্টিতে একাধিক রেকর্ড বাবর আজমের
পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়ক বাবর আজম টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ছুঁয়েছেন।
বাবর আজম প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটার যিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪ হাজার রান করেছেন। বাবর ১১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে করেছেন ৪ হাজার ২৩ রান। তার ওপরে রয়েছেন ভারতের ক্রিকেটার বিরাট কোহলি, তার সংগ্রহ ১০৯ ম্যাচে ৪ হাজার ৩৭ রান।
এ ছাড়া বাবরই একমাত্র অধিনায়ক যিনি টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার ৫০০ রান করেছেন। এই অর্জন তাকে শুধু একজন শীর্ষ খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, একজন নেতা হিসেবেও তার আলাদা মর্যাদা তৈরি করেছে; যিনি ধারাবাহিকভাবে তার দলের সাফল্যে অবদান রেখে যাচ্ছেন।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সময় পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে জয় পায় যেখানে বাবর সবচেয়ে সফল টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে আরেকটি রেকর্ড গড়েন।
ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত, সাজা ঘোষণা ১১ জুলাই
ব্যবসায়িক নথিপত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগে করা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি আদালত এ রায় দেন। ওই মামলায় আনা ৩৪টি অভিযোগের সব কটিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা।
আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ফৌজদারি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলেন। আগামী ১১ জুলাই এ মামলায় ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা করা হবে। সাবেক এ প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, তাঁকে জরিমানা করার সম্ভাবনাই বেশি।
বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটা তাঁর জন্য মর্যাদাহানিকর। তিনি ন্যায়বিচার পাননি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাবেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে বোঝাই যায়, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তবে এটাই কিন্তু ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একমাত্র মামলা নয়। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি মামলা চলছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ শেষের পর হোয়াইট হাউস থেকে সরকারি গোপন নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে করা আরও একটি মামলা ঘাড়ে নিয়ে ঘুরছেন তিনি।
৭৭ বছর বয়সী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা এই মামলায় অভিযোগে বলা হয়, ২০০৬ সালে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তাঁর যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্টর্মিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়া হয়। তাঁর হাতে এ অর্থ তুলে দিয়েছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। তবে ব্যবসায়িক নথিপত্রে এ লেনদেনের তথ্য গোপন করা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন ট্রাম্প।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে শুনানির পর বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন ১২ জন বিচারকের একটি বেঞ্চ। এর আগে তাঁরা রায় নিয়ে ১১ ঘণ্টা আলাপ-আলোচনা করেছেন। এমন সময় এ রায় ঘোষণা করা হলো, যখন কয়েক মাস পরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবার প্রেসিডেন্ট পদে আসতে চাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে রায়ের কারণে তাঁর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় কোনো বাধা আসবে না।
এদিকে এই মামলার মাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব’ বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আদালতে অভিযোগ এনেছিলেন তাঁর আইনজীবীরা। এটাও বলেছিলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ভুল কিছুই করেননি। প্রতিনিয়ত একই কথা বলছিলেন ট্রাম্পও। আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের একাধিকবার বলেছেন, তিনি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক দিন’
পর্নোতারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখতে গোপনে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।
এ ঘটনাকে রিপাবলিকান মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমেরিকার ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক দিন। বিরোধী দলের নেতাকে হাস্যকর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার পর ডেমোক্র্যাটরা উল্লাস প্রকাশ করছে। এটি একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত, এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
এর আগে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে শুনানির পর বৃহস্পতিবার ১২ জুরির উপস্থিতিতে আদালত ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ট্রাম্প নিজেকে একজন ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমি এইমাত্র একটি তথ্য কারচুপির মামলায় রাজনৈতিক বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়েছি, আমি কোনো ভুল করিনি। তারা আমার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে, আমাকে গ্রেফতার করেছে, এখন তারা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এটা আমার জন্য মানহানিকর। আমি ন্যায়বিচার পাইনি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাব।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আদালতের বিচারক জুয়ান মার্চান আগামী ১১ জুলাই সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, তাকে জরিমানা করার সম্ভাবনাই বেশি।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মামলাটির অভিযোগে বলা হয়– ২০০৬ সালে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্টর্মিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুস দেওয়া হয়। তার হাতে এ অর্থ তুলে দিয়েছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেন। তবে ব্যবসায়িক নথিপত্রে এ লেনদেনের তথ্য গোপন করা হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন রিপাবলিকান দলের এই নেতা।


