Home Blog Page 601

দক্ষিণ গাজায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ২ ইসরাইলি সেনা নিহত

০

দক্ষিণ গাজায় বুধবার ভোরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যম টাইমস অফ ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নিহত সেনারা হলেন মেজর (অব.) ড্যানিয়েল আলোশ (৩৭), মেজর (অব.) টম ইশ-শালোম (৩৮)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২৩তম স্কোয়াড্রন থেকে একটি ইউএইচ-৬০ ব্ল্যাক হক মঙ্গলবার রাতে রাফায় যায়। সেখান থেকে তারা আহত এক প্রকৌশলীকে সরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু হেলিকপ্টারটি সঠিকভাবে অবতরণ করতে পারেনি। তাই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ওই দুই সেনা নিহত হয়।

সামরিক বাহিনী বলেছে, হেলিকপ্টার ধ্বংসের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। হেলিকপ্টারটি দক্ষিণ গাজার শহর রাফায় অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়।

উল্লেখ্য, এই দুই সেনা নিহতের মধ্য দিয়ে চলমান যুদ্ধে নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে ৩৪৪ হয়েছে।

সূত্র : টাইমস অফ ইসরাইল

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেয়ার এক মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ভাষণ দেবেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভাষণটি বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে একযোগে সম্প্রচার করা হবে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২৫ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা। এর দুই সপ্তাহ পরে আবারো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তিনি। অবশ্য এর মধ্যে তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের এক মাসপূর্তিতে ৫ সেপ্টেম্বর দেশবাসীকে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন।

খেয়াল রাখবেন, ঘাতকরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে এখনো আওয়ামী লীগের ঘাতকরা রয়ে গেছে। পরাজিত ঘাতকরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাবধান হতে হবে, যাতে শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা না যায়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সিলেটে পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের বাসায় তার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ‘আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবুল কাশেম এবং সিলেট মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে লাশের রাজ্যে পরিণত করেছিল। দেশের সম্পদ লুট করে পার্শ্ববর্তী দেশের ফায়দা করেছে শেখ হাসিনা। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দিল্লির কাছ থেকে গ্যারান্টি পেয়েই শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়েছে। একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে, তাই দেশকে স্থিতিশীল করতে দ্রুত নির্বাচনের তাগিদ দেন তিনি।

তিনি বলেন,‘মুক্তচিন্তার মানুষদেরকে হয়রানিমুক্ত করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে দিতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই সিলেটে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক আবু তাহের মোহাম্মদ তুরাব। তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট প্রতিনিধি ও দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন।

নির্বাচনের সময় বেঁধে দিয়ে সরকারকে চাপ দিতে চাই না : আমীর খসরু

নির্বাচনের জন্য সময় বেঁধে দিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের পর চাপ সৃষ্টি করতে চাই না বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনার নারদিয়া সিম্পসনের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকেদর এ কথা বলেন তিনি।

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির সাথে বৈঠক করেন অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনার।

বৈঠক শেষে আমীর খসরু বলেন, অষ্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনার জানতে চেয়েছে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর বিএনপি কী ভাবছে ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের একমাস কেমন হয়েছে। এ সময়ে আমাদের দলের কী প্রত্যাশা ও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দু’দেশের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই অঞ্চলের জিও পলিটিক্স ও রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দু’দেশেরর শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আপনারা জানেন অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের অনেক ছাত্র পড়াশোনা করছে তাদের শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়ে তারা আরও কী ভূমিকা রাখতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কবে নির্বাচন হবে, নির্বাচনের জন্য কত সময় লাগতে পারে তা জানতে চেয়েছে। নির্বাচনের আয়োজনের জন্য কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত সার্বিকভাবে আলোচনা শেষে যত তাড়াতাড়ি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে সেটা আলোচনা হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কথা বলেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা তো যৌক্তিক সময়ের কথা বলেছি। যৌক্তিক সময়ের পরিধি যারা স্টেকহোল্ডার আছে তারা বিবেচনা করবে। আমরা একটা সময় বেঁধে দিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা সরকার সফলভাবে তাদের কাজগুলো করুক। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হোক। আমরা নিশ্চিত তারা সে কাজটি করবে।

জেলা প্রশাসক নিয়োগে গতকাল সচিবালয়ে হাতাহাতি হয়েছে, জনগণ বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছে না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে দেশে চরমভাবে রাজনৈতিক করণ হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার নিজেদের লোক বসানোর ফলে দেশের নির্বাহী বিভাগ দলীয় নির্বাহী বিভাগে পরিণত হয়েছে। এখান বেরিয়ে আসা খুব সহজ কাজ নয়। হয়তো ভুলত্রুটি থাকতে পারে, আমরা বলবো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য। নিজেদের মধ্য আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হবে। কারণ বিগত শেখ হাসিনা রেজিম নির্বাহী বিভাগকে ধংস করে চলে গিয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে একটা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটি সদস্য শামা ওবায়েদ। অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনার সাথে ছিলেন ডিপুটি হেড অব মিশন ক্লিনটন পোবকে ও প্রথম সচিব লারা অ্যাডামস।

বিসিবি থেকে পদত্যাগ করলেন খালেদ মাহমুদ সুজন

০

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন।

বুধবার পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সাবেক এই ক্রিকেটার।

দীর্ঘদিন থেকে বিসিবির পরিচালকের পদে ছিলেন সুজন। ছিলেন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধানও। এছাড়াও কাজ করেছেন নানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে তাকে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবেই বিসিবিতে ছিলেন সুজন। বিদায়ী সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। ফলে বোর্ডের দায়িত্বে থেকেও নানান সময় বাহিরে কাজ কর‍তে দেখা গেছে তাকে।

কখনো টিম ডিরেক্টর, অন্তর্বর্তীকালীন কোচ, টিম ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন ক্লাবের কোচ হিসেবেও। বিপিএলেও বিভিন্ন দলের কোচ হিসেবেও দেখা গেছে তাকে।

বিসিবির সাবেক প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন পদত্যাগ করার পর বিসিবির পরিচালকদের পদত্যাগের হিড়িক পড়ে। জালাল ইউনুস, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এবং নাইমুর রহমান দূর্জয়ের পর এবার ওই তালিকায় নাম লেখালেন সুজনও।

তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ৪ দিনের রিমান্ডে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর সুমন সিকদার হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুন করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা ফুজি টাওয়ারের উত্তর পাশে প্রগতি সরণিতে রাস্তার ওপর গুলিতে নিহত হন সুমন সিকদার (৩১)। এ ঘটনায় তার মা মাসুমা একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭৯ জনকে আসামি করা হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে অবসরে যান তিনি।

ব্যারিস্টার সুমনসহ ৯৭ জনের নামে হবিগঞ্জে মামলা

ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এবং আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ৯৭ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে হবিগঞ্জে মামলা করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।

মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মো: মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি করেন বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় জানান।

এতে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ গোলচত্বরে ছাত্র-জনতার ঢল নামে। ব্যারিস্টার সুমনের নির্দেশে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসামিরা ছাত্র-জনতার ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাসহ নানা শ্রেণিপেশার অসংখ্য মানুষ আহত হন।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল আলম রুবেল, ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ, রুমন ফরাজী, মানিক সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, ওয়াহেদ আলী ও আব্দালুর রহমান, চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পিপি এম আকবর হোসেইন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, করিব মিয়া খন্দকার, আব্দুল হান্নান এবং রজব আলী।

বাদির অভিযোগ, আন্দোলনের সময় ব্যারিস্টার সুমনের নির্দেশে মানিক সরকার তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে বড়গাঁও এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে অলিউর রহমানকে আঘাত করেন। আরেক আসামি কবির মিয়া খন্দকার তাকে রড দিয়ে মারধর করেন। এতে অলিউর রহমান গুরুতর আহত হন। অন্য আসামিরাও অস্ত্র হাতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে বেধড়ক মারধর করেন।
সূত্র : বাসস

নেত্রকোনার সাবেক পৌর মেয়র নজরুল খান বিমান বন্দরে গ্রেফতার

নেত্রকোনা পৌরসভার সাবেক মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বহুল আলোচিত নজরুল ইসলাম খান গোপনে দেশ থেকে পালানোর সময় গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে, নানান অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

বিগত ২০০৮ সালে তত্তাবধায়ক সরকার আমলে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেড়িয়ে ২০২১ সালে দলের সুবাদে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হয়ে আবোরো তিনি নানান অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে লিপ্ত হয়ে আলোচিত হয়ে উঠেন।

তিনি একাধারে মেয়র ও ঠিাদার হয়ে রাস্তাঘাটসহ নানান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ফাঁকি ও কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। মেয়র থাকাকালীন ঠিকাদার হিসেবে ছোট বাজারের রাস্তার সিসি ঢালাইয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তিনবার কাজ বন্ধ করে দেন। জমি ক্রয় করে পৌর শিশু পার্ক নির্মাণের জন্য ১০ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্ধ দেয়া হলেও তিনি বাধার মুখে শহরের উকিল পাড়াস্থ রেললাইন দখল করে নামমাত্র শিশু পার্ক নির্মাণ করে পুরো ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে।
বিগত ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি ‘নেত্রকোনা রেললাইনে পৌর শিশুপার্ক’ শিরোনামে নয়া দিগন্ত প্রত্রিকায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ সংবাদটি সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শিশু পার্কের পাশেই রেলের সরকারি ভূমিতে বসবাসকারী উড়িয়াদের উচ্ছেদ করে তিনি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। তিনি এতটাই বেপরোয়া উঠেন যে তার বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি করতে সাহস পাননি। নয়া দিগন্তে ওই সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ায় তিনি সাংবাদিক ফজলুল হক রোমানকে লোকদ্বারা হুমকি, ধামকিসহ নানানভাবে হয়রানী করেন। রোমানের বাড়ির পৌর ট্যাক্স ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা বর্ধিত করেন। মেয়রের ঈশারায় তার বাড়ির সামনে ময়লার ভাগার গড়ে তোলা হয়েছে। তার গ্রেফতারের সংবাদে অসংখ্য পৌরবাসী আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেছেন।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ বুধবার সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, বুধবার সকাল ৬টায় সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান ঢাকায় বিমান বন্দর দিয়ে দেশের বাইরে পালানোর চেষ্টাকালে ইমগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আমাদের অবহিত করে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। তাকে নেত্রকোনায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

পাঠ্যবইয়ে থাকবে না শেখ হাসিনার ছবি

– বাদ যাচ্ছে শেখ মুজিবের অতিরঞ্জিত ইতিহাস
– যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা

বিগত এক যুগ ধরে সব শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের মলাটে যুক্ত হয়েছে শেখ হাসিনার ছবি; কিন্তু আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা যে পাঠ্যবই হাতে পাবে সেখানে থাকবে না শেখ হাসিনার কোনো ছবি। ইতোমধ্যে বিতর্কিত কারিকুলাম বাতিল করে সেখানে পুরনো কারিকুলামকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এখনি পুরো কারিকুলাম পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে কয়েকটি ধাপে আওয়ামী সরকারের প্রবর্তিত জনধিকৃত ডিম ভাজি আর আলু ভাজি শেখানোর কারিকুলাম পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা হবে। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষে (২০২৫ সাল) শিক্ষার্থীরা যে নতুন বই হাতে পাবে সেখানে বিদ্যমান কারিকুলামের বেশ কিছু সংশোধন আনা হচ্ছে। বিদ্যমান পাঠ্যবইয়ের মলাটের শেষ পৃষ্ঠায় শেখ হাসিনার ছবিজুড়ে দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের জন্য মুদ্রিত নতুন পাঠ্যবইয়ের শেষ পাতায় শেখ হাসিনার ছবি থাকবে না। সেখানে শিক্ষামূলক কোনো উক্তি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্য দিকে নতুন কারিকুলামে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে বিশেষ করে ইতিহাস বা সমাজবিজ্ঞান কিংবা বিশ্বপরিচয় বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যেভাবে অতিরঞ্জিত ইতিহাস সংযুক্ত করা হয়েছে সেখানে পরিমার্জন করা হবে। ভুল ইতিহাস বা বিকৃতি ইতিহাস আর থাকবে না। তবে দেশ মাতৃকার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা জিয়াউর রহমান প্রত্যেকের প্রাপ্য সম্মান এবং সঠিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের জানার জন্য শেখার জন্য পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরা হবে। দীর্ঘ দিন ধরেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা না হলেও নতুন কারিকুলামে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) বিভিন্ন শাখাপ্রধান এবং শিক্ষাক্রমের দায়িত্বে থাকা (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) সদস্যদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়। পাঠ্যবইয়ের বর্তমান কারিকুলাম পরিমার্জনের জন্য বিতর্কিত সব বিষয় সংশোধনের পর সম্পাদনা বিভাগ চূড়ান্ত করে মুদ্রণে পাঠাবে। তবে পাঠ্যসূচি বা কারিকুলাম নিয়ে এখনো সংশোধন কিংবা পরিমার্জনের কাজ চলছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিতর্কিত কারিকুলাম পরিমার্জন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্র্মকর্তা নয়া দিগন্তকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে থেকেই বিদ্যমান কারিকুলামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। অনেকেই আবার এই কারিকুলামকে ডিম ভাজি আর আলু ভাজির কারিকুলাম বলেও আখ্যায়িত করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার কারো কোনো কথাতেই কর্ণপাত করেনি। সরকার একতরফাভাবে বিতর্কিত এই শিক্ষা কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।
এ দিকে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগর সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্বভার নেয়ার পর প্রথমেই বিতর্কিত কারিকুলাম বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য এখন যে পাঠ্যবই ছাপার প্রস্তুতি চলছে, সেই বইয়ের পাঠ্যসূচিতে পরিমার্জন বা পরিবর্তনের কাজও শুরু করা হয়েছে। বিদ্যমান কারিকুলামে নবম শ্রেণীতে বিভাগ বিভাজন তুলে দেয়া হলেও নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে আবারো নবম শ্রেণীতে বিভাগ বিভাজনের (আর্টস, সাইন্স, ব্যবসায় শিক্ষা) সুযোগ দিচ্ছে। আর এ বছর যারা নবমে শ্রেণীতে আছে তারা আগামী বছর (২০২৫ সাল) দশম শ্রেণীতে উঠে যাবে। তারাও এক বছরের জন্য বিভাগ পছন্দ করার সুযোগ পাচ্ছে। তাদের জন্য পাঠ্যপুস্তকও সেভাবেই রচিত হচ্ছে।
সূত্র মতে, বিগত দিনে পাঠ্যবইয়ের পাতায় পাতায় যেভাবে ইতিহাসের বিকৃতি করা হয়েছে নতুন পাঠ্যবইয়ে তা বাতিল করা হচ্ছে। অর্থাৎ ইতিহাসের অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণের ধারা পাঠ্যবইয়ে আর থাকবে না। তবে দেশমাতৃকার জন্য যে বা যার যতটুকু অবদান রয়েছেন সেই বিষয়গুলো সম্মানজনকভাবেই পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করা হবে।
আওয়ামী সরকারের চাপিয়ে দেয়া বিতর্কিত কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজের সাথে যুক্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রাখাল রাহা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, পাঠ্যবইয়ে আমরা কাউকে ছোট বা বড় বানাতে চাই না। দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য যার যতটুকু অবদান ছিল বা রয়েছে আমরা তা নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে চাই। তবে ইতিহাসের বইয়ের অতিরঞ্জিত বিষয়গুলো বাদ দেয়ার প্রস্তাব করছি। একই সাথে দেশের কৃষ্টি কালচার বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করে এমন সব বিষয়ও বাদ দেয়া হচ্ছে। একটি কথা পরিষ্কার, আমাদের পক্ষে হয়তো এক বছরে সব পরিবর্তন বা পরিমার্জন সম্ভব হবে না। তবে এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে কয়েক ধাপে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের কাজ চলবে।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক মাধ্যমিক) প্রফেসর মো: সাইদুর রহমান জানান, এক বছরেই সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। কেননা আমাদের মাথায় রাখতে হবে বছরের প্রথম দিনেই কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে হবে। তাই ইতোমধ্যে যেসব শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য টেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়েছে সেগুলো বাতিল না করে বরং দ্রুততম সময়ে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করে মুদ্রণের কাজে হাত দিতে হবে। ফলে আগামী দুই-তিন মাস আমাদের কাজের ব্যস্ততাও অনেক বাড়বে। সবকিছু ঠিক থাকলে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা বই পাবে।

জামায়াত নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার প্রত্যাহার হচ্ছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তা আগামীকাল (মঙ্গলবার) প্রত্যাহার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

শিশির মনির বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার বা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে। একইসাথে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আপিল বিভাগে জামায়াতের নিবন্ধ সংক্রান্ত আপিলটি পুনরায় শুনানির জন্য আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জামায়াত আইনি পদক্ষেপ অনুযায়ী পথ চলতে চায়। গত ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হয়। ওই দিনই সেনাপ্রধানের অফিস ও বঙ্গ ভবনে রাজনৈতিক দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অতঃপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রেও জামায়াত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জামায়াত রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, মন্দির পাহারা, শহীদ পরিবার ও আহত-পঙ্গুদের পাশে দাঁড়ানো ও বন্যা-দুর্গতের মানবিক সহায়তা প্রদান তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

শিশির মনির বলেন, ১২ আগস্ট মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সাথে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী এই বিষয়ে আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হয় এবং আশু সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের সাথে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইনি বিধানগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরই প্রেক্ষিতে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ১৯ ধারা অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়। অতঃপর আইন অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক তিন সদস্য বিশিষ্ট প্যানেল গঠন করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে এই সংক্রান্তে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধের আদেশ বাতিল করে নতুন গেজেট প্রকাশিত হবে।