Home Blog Page 601

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুর, সম্পাদক রাশেদ

গণঅধিকার পরিষদের (একাংশের) ১ম কাউন্সিলে সভাপতি পদে নুরুল হক নুর ১৩৫ ভোটে এবং রাশেদ খান ১০৯ ভোটে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার (১০ জুলাই) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ফকিরাপুলের প্রীতম জামান টাওয়ারে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর ১টায় কাউন্সিলের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকেল ৫টায়। যদিও ভোট শুরুর কথা ছিল সকাল ১০টায়।

রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশন আরিফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন তোফাজ্জল হোসেন ও তৌফিক শাহরিয়ার।

কাউন্সিলে মোট ভোটার ছিলেন ২১৬ জন। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির ভোটার ১২৬ জন। এতে সভাপতি পদে নুরুল হক নুর, নাজমুল উস সাকিব, বায়েজিদ শাহেদ এবং জাফর মাহমুদ এই চারজন প্রার্থী ভোটে লড়েছেন। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদেও প্রার্থী ছিলেন চারজন। তারা হলেন রাশেদ খান, মাহফুজুর রহমান খান, বিপ্লব কুমার পোদ্দার এবং জিল্লু খান।

অন্যদিকে উচ্চতর পরিষদে আট পদের বিপরীতে লড়ছেন ১৮ জন। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ১ম আবু হানিফ। বাকি বিজয়ী সদস্যরা হলেন শাকিলউজ্জামান, হানিফ খান সজিব, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, ফাতেমা তাসনিম,আব্দুজ জাহের, অ্যাডভোকেট নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, জসিম উদ্দিন।

উচ্চতর পরিষদে ভোটার সংখ্যা ১২৬ জন, ভোট পড়েছে ৮৩, বাতিল ২টি।

ইসরাইলকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে যুক্ত করবে মার্কিন বাণিজ্য করিডোর

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব, জর্ডান ও ইসরাইলকে সংযুক্ত করার জন্য একটি বাণিজ্য স্থল সেতু নির্মাণের গোপন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার (৭ জুলাই) ইসরাইলের ইনেট নিউজ এমন তথ্য প্রকাশ করেছে বলে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থল সেতুটি দুবাই থেকে ইসরাইলের হাইফা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত প্রলম্বিত হবে।

ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনেট নিউজ বলছে, এটি পূর্ব থেকে ইজরাইলের মাধ্যমে ইউরোপে পণ্য রফতানি করা ও পর্যটকদের চলাচলের উদ্দেশে নির্মাণ করা হবে।

ইসরাইলি সংবাদপত্র দ্য জেরুজালেম পোস্ট বলছে, ইয়ার ল্যাপিডের সাবেক সরকারের সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ শিরা গ্রিনবার্গ এই পরিকল্পনাটি তৈরি করেছিলেন।

ট্রাকগুলো এই বাণিজ্য করিডোরের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে সক্ষম হবে, যা উল্লেখ পরিমাণ পরিবহন খরচ ও সময়কে হ্রাস করবে।

ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে একই ট্রাক ও একই চালকের মাধ্যমে পণ্য দুবাই থেকে হাইফা বন্দর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। তখন সীমান্ত ক্রসিংগুলোতে চালক কিংবা ট্রাক পরিবর্তন করতে হবে না।

ইনেট নিউজে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি মার্কিন বিশেষ দূতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার বিষয়ে উৎসাহী ছিল। এই প্রকল্পে জড়িত দেশসংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও জর্ডানের সাথে আলোচনাও শুরু করেছিল।

এই অবকাঠামো প্রকল্পটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে ইসরাইলের সমুদ্রবন্দরে গিয়ে শেষ হবে। পরে বাহরাইন ও ওমান পর্যন্তও সেটা বিস্তৃত হতে পারবে।

ইনেট নিউজ বলছে, ইসরাইল ও সৌদি আরব আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের আগেই পরিকল্পনাটি অগ্রসর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ সকল পক্ষই সুদূর প্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে ট্রানজিট সময় ও শিপিং খরচ বাঁচাতে পারবে।

পরিকল্পনার জন্য সকল দেশকে ট্রাকগুলোর মানকরণে একমত হতে হবে। যেন তারা সকল দেশের মধ্যে চলাচল করতে পারে এবং রুটে নির্বিঘ্নে ও বিলম্ব ছাড়াই যাতায়াতের জন্য অনুমোদিত ড্রাইভারদের ড্রাইভার লাইসেন্সে সম্মত হতে পারে।

ইসরাইলের সংবাদপত্রের মতে, এই প্রকল্পটি পরিবহন, অবকাঠামো ও তথ্যের ক্ষেত্রে ইসরাইল এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ বাড়াবে।

প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ও এই অঞ্চলে শান্তি প্রচারে মার্কিন প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষরের জন্য প্রকল্পটি সম্ভব হয়েছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

পাকিস্তানি আলেমের সাথে মিলিয়ে নিজ সন্তানের নাম রাখলেন ভারতীয় অভিনেত্রী সানা খান

ইসলামী জীবনযাপনের জন্য বলিউডকে বিদায় জানানো সাবেক ভারতীয় অভিনেত্রী সানা খান পুত্র সন্তানের মা হয়েছেন। এই অভিনেত্রী সদ্যভূমিষ্ট নিজ সন্তানের নাম রেখেছেন ‘সাইয়েদ তারিক জামিল’।

রোববার (৯ জুলাই) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তারিক জামিল পাকিস্তানের শ্রদ্ধেয় একজন আলেমের নাম। যিনি বিশ্বব্যাপী ‘মাওলানা তারিক জামিল’ নামে প্রসিদ্ধ। ধারণা করা হচ্ছে- তার নামের সাথে মিলিয়েই সন্তানের এই নাম রেখেছেন সানা খান।

নবজাতক সন্তানের নাম রাখার বিষয়ে সাবেক অভিনেত্রী বলেন, ব্যক্তির ওপর নামের বিরাট প্রভাব। তাই আমরা আমাদের সন্তানের জন্য এমন একটি নাম চাইছিলাম, যা দ্বীনদারী, তাকওয়া, সহনশীলতা, ভদ্রতা ও সততার প্রতীক।

সানা খান আরো বলেন, আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমার সন্তান এসেছে। মা হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। আমার কাছে এখনো মনে হচ্ছে- আমি অন্য কারো সন্তান কোলে নিয়েছি। বাবা-মা হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সানা খান ২০২০ সালের নভেম্বরে শোবিজ অঙ্গন ত্যাগ করে ইসলামী জীবনযাপন বেছে নেন। তিনি মুফতি আনাস সাইয়েদ নামে ভারতীয় এক আলেমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ঘর আলোকিত করেই ‘সাইয়েদ তারিক জামিল’র আগমন।

ভারতে পা চাটতে বাধ্য করা হলো দলিত যুবককে

ভারতের সোনভদ্র জেলার একটি গ্রামে এক দলিত যুবককে পা চাটতে বাধ্য করেছেন স্থানীয় এক লাইনম্যান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত লাইনম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) উত্তরপ্রদেশের ওই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সিয়াসত ডেইলি।

ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, এক দলিত যুবক তার আত্মীয়ের বাড়িতে বৈদ্যুতিক তার পরীক্ষা করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় সেখানে গিয়ে পৌঁছান লাইনম্যান। এরপর তাকে শাস্তি স্বরূপ পায়ের জুতা চাটতে ও স্কোয়াট করতে বাধ্য করা হয়েছে।

এ ঘটনা নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, অভিযুক্ত তেজবালি সিং প্যাটেলকে ধারা ৩২৩ (স্বেচ্ছায় আঘাত করা), ৫০৪ (শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশে ইচ্ছাকৃত অবমাননা) ও ৫০৬ (অপরাধমূলক ভয় দেখানো)-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসসি/এসটি আইনও নেয়া হয়েছিল।

সূত্র : সিয়াসত ডেইলি

আসুন আমরা সবাই উঠে দাঁড়াই : মির্জা ফখরুল

সরকারকে বিদায় দিয়ে জনগণের নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসুন আমরা সবাই উঠে দাঁড়াই।

রোববার (৯ জুলাই) বিকেলে সিলেট শহরের সরকারি আলিয়া মাদরাসার মাঠে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোটাধিকার প্রয়োগ, ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও শিক্ষা উপকরণের দাম কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে এই সমাবেশ হয়। বিকেল সোয়া ৪টায় কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় সমাবেশ। সমাবেশে নতুন ভোটার ও তরুণদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পূর্ব নির্ধারিত এই সমাবেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই সিলেট শহরে জড়ো হন দলটির নেতাকর্মীরা। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সিলেট শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে দুপুরের মধ্যেই আলিয়া মাদরাসার মাঠে জড়ো হন। তারা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশ স্থলের চারপাশে অসংখ্য ব্যানার পোস্টার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম এ জিলানীর সভাপতিত্বে ও যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিলেট বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, যুবদলের জাকির হোসেন সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবক দলের ফখরুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেন, সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি মোহাম্মদ কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির নিখোঁজ নেতা ও সিলেট বিভাগীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা, নতুন ভোটার সাবিয়া জামান আরিফা, সাদিয়া কাওসার রুহি, বিগত আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী খালেদুর রহমান খালেদ, গুম হওয়া ইফতেকার আহমেদ দিনারের বোন তাহসিন শারমিন তামান্না।

কবিতা আবৃত্তি করেন শিক্ষার্থী সায়েমা আহমেদ অসীম, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের এম এ চৌধুরী শাহান, শিক্ষার্থী আরিফ উল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান। তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনিই নেতৃত্ব দিয়ে সিলেটকে শত্রুমুক্ত ও স্বাধীন করেছিলেন।

তিনি বলেন, তারুণ্যের সমাবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে তরুণরা এগিয়ে আসছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণরে দাবি আদায়ে আমাদের কথা বলার অধিকার ১৪ বছর ধরে বাধা দিয়ে আসছেন। আমরা এক কঠিন সময় ও সঙ্কটের মধ্যে উপনীত হয়েছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব থাকবে কি না তা কয়েক মাসের মধ্যে নির্ধারণ হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে তারা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করবে। কিন্তু কোন সংবিধান? যেটা তারা নিজেদের মতো কাটা ছেঁড়া করেছে সেই সংবিধান? আমরা বলেছি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা। যেটা ১৯৯৬ সালে নির্ধারণ হয়েছিল। আজকে কেউ ভোট দিতে পারেনি। তরুণরা ভোট দিতে পারেনি। এই কথা বলতে গিয়ে অনেককে মেরে পঙ্গু করা হয়েছে। আমাদের সিলেটের নেতা এম ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। নিজদের স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। কিন্তু আজকে ভিন্নভাবে শেখ হাসিনা বাকশাল কায়েম করেছে। বেআইনিভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নির্বাচনকে ব্যবহার করে। আর তারাই বলে দেশে নাকি সুষ্ঠু নির্বাচন তারাই করে। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। তারা মনে করে দেশটা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। তাদের তালুকদারী। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করেছে।

তিনি আরো বলেন, আজকে এই সরকার বাংলাদেশ ও জনগণের অনেক কিছু ক্ষতি করেছে। এরা বিদ্যুৎ খাতকে লুটেরা মডেল বানিয়েছে। যা সরকারের রিপোর্টে বলা হয়েছে। অথচ সরকার বলে বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নের রোল মডেল। ১০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতুর ব্যয় এখন কতো? আর দেশের কৃষক তার ফসলের দাম পায় না। মানুষ বাজারে গিয়ে নিতনিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে না। এককথায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রায় সব খাতে দলীয় করণ করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত দু’টি নির্বাচনে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। সেজন্যই আমরা আবারো নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলে ধরেছি। যদিও আওয়ামী লীগ নিজেরা এই দাবিতে আন্দোলন করেছিল। আজকে এই সরকার ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু দেয়নি। ৪ কোটি যুবক এখন বেকার। এমতাবস্থায় তরুণদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ বাঁচাতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য সরকারকে বিদায় করা ছাড়া কোনো পথ নেই। সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তা না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে।

তিনি বলেন, আগামী ১২ জুলাই ঢাকার সমাবেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আসবে। যার মধ্য দিয়ে দেশের সব মানুষকে জাগ্রত করে এই সরকারকে বিদায় দিয়ে জনগণের নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আসুন আমরা সবাই উঠে দাঁড়াই।

তিনি বলেন, আগামী ১২ জুলাই ঢাকার সমাবেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আসবে। যার মধ্য দিয়ে দেশের সব মানুষকে জাগ্রত করে এই সরকারকে বিদায় দিয়ে জনগণের নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আসুন আমরা সবাই উঠে দাঁড়াই।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকার অবৈধ এবং ক্ষমতায় থাকার তাদের কোনো অধিকার নেই। এই সরকারের আমলে কেউ ভোট দিতে পারেনি। শেখ হাসিনা ভোট চোর। সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন না হওয়া ও সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবো না মর্মে উপস্থিত সব নেতাকর্মীকে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে টুকু বলেন, আমরা অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না। এ সময় বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল কারাবন্দী নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন তিনি।

বোলারদের দাপটে অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের প্রথম জয় 

অবশেষে কাজে দিলো বাজবল তত্ত্ব। নতি স্বীকার করলো অস্ট্রেলিয়া, হলো পরাস্ত। চেষ্টা করেছিলো সফরকারীরা, চেপেও ধরেছিল বেশ শক্তপোক্তভাবেই। তাতে উত্তেজনা ছড়ালো বটে, লড়াই চললো সেয়ানে; কঠিন হলো সমীকরণ। তবে শেষ রক্ষা হলো না। হেডংলি টেস্টে বিজয়ী ইংলিশরাই, অ্যাশেজে পেল প্রথম জয়ের দেখা।

২৫১ রানের লক্ষ্য টপকাতে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল ইংল্যান্ড কোনো উইকেট না হারিয়েই ২৭ রান নিয়ে। জয় থেকে মাত্র ২২৪ রানে পিছিয়ে ছিল তারা, হাতে উইকেট ছিল সবগুলোই। ফলে জয়ের সুবাস মেখেই আজ চতুর্থ দিন শুরু করে ইংলিশরা। সিরিজে টিকে থাকতে জয়টা খুব বেশি প্রয়োজন ছিল তাদের জন্য।

তবে দলটা যখন অস্ট্রেলিয়া, হারার আগে হেরে যাবে ভাবাই যায় না। লড়ে গেলো চোখে চোখ রেখে, একটা সময় তো মনে হচ্ছিলো এই বুঝি ম্যাচ ইংল্যান্ডের থেকে গেল ফসকে! স্টার্কের দাপটে ১৭১ রানেই ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিলো ক্যাঙ্গারুরা। হাতে ৪ উইকেট থাকলেও তখনো লক্ষ্য থেকে ৮০ রান দূরে ছিল থ্রি লায়ন্সরা। ফলে বেড়ে যায় উত্তেজনা, কী হয় কী হয় অনিশ্চয়তা!

তবে সব অনিশ্চয়তা দূর করে দেন হ্যারি ব্রুক, বলতে হবে ক্রিস ওকসের নামটাও। দু’জনের ভয়ডরহীন ৫৯ রানের জুটিতে কেটে যায় শঙ্কা। যদিও দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি ব্রুক, ফেরেন ৯৩ বলে ৭৫ রান করে। তবে ৩২ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন ওকস।

আগের দিন কোনো উইকেট নিতে না পারলেও রোববার দিনের শুরুতেই অবশ্য চোখ রাঙায় অস্ট্রেলিয়া। পাঁচ ওভারেই ভেঙে দেয় উদ্বোধনী জুটি। বেন ডাকেটকে পকেটে পোরেন স্টার্ক। তার ব্যাটে আসে ৩১ বলে ২২ রান। মইন আলীকেও দ্রুত ফেরান এই পেসার, ৫ রানের মাথায় ভেঙে দেন স্ট্যাম্প।

আরেক ওপেনার জ্যাক ক্রাওলি ফেরেন ২৩ রান করে। ৯৩ রানে ৩ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। জো রুট ইনিংস বড় করতে পারেননি, ২১ রান করে কামিন্সের শিকার তিনি। খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালায় ব্রুক-স্টোকস জুটি। আবারো বাধা হয়ে দাঁড়ান স্টার্ক। স্টোকসের পর বেয়ারেস্টোকেও ফেরান তিনি। ১৭১ রানে ৬ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

পরের গল্পটা ব্রুক-ওকস জুটির। যদিও এই জুটিও ভেঙে দেন স্টার্ক। তবে ততক্ষণে জয়ের নেশায় ইংল্যান্ড যেন ক্ষুধার্ত বাঘ। ব্রুককে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূরণ করেন এই অজি পেসার। বাকি পথটা মার্ক উডকে সাথে নিয়ে অল্প সময়েই পাড়ি দেন ওকস। ১৫ বলে ২৪ রানের জুটি গড়ে নিশ্চিত করেন জয়।

তথ্য ফাঁস ইসির সার্ভার থেকে হয়নি : এনআইডি ডিজি

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সার্ভার থেকে কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি জানিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ‘আমাদের সার্ভার সুরক্ষিত আছে।’

তবে তিনি বলেন, ‘১৭১টি পার্টনারের সহযোগিতায় আমরা কাজ করি। তাদের মাধ্যমে তথ্য ফাঁস হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখবো। কারো মাধ্যমে যদি তথ্য ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাই তবে তার কাছ থেকে সার্ভিস বন্ধ করে দেবো।’

নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস নিয়ে রোববার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

এনআইডি ডিজি বলেন, ‘এনআইডি সার্ভার কোনো থ্রেটের মধ্যে নেই। ওয়েবসাইটের সাথে এনআইডির কোনো সম্পর্ক নেই। এনআইডি একটা পৃথক সাইট। ১৭১টি প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদাভাবে কানেকটেড। এনআইডি সার্ভার থেকে কোটি কোটি ডাটা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের এনআইডি সার্ভারের সাথে অন্য কোনো সার্ভারের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ হাতে পেলে সেই অনুযায়ী কাজ করব। হাইকোর্টের নির্দেশনা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। আমরা আমাদের সাইটে অ্যাবনরমাল হিট পাইনি। আমাদের সার্ভার পাবলিক প্রপার্টি নয়, এটা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সম্পদ। এখানে কেউ চাইলেই কিছু লিখতে বা নিতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এনআইডি সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। নিয়মিত মনিটরিং করি কী পরিমাণ হিট আসছে। ১৭১টা পার্টনার সার্ভিস নিরাপদভাবে কাজ করছে। গতকাল নিউজ দেখার পর কাজ শুরু করেছি। এখানে একটা সাইট দুর্বল পাওয়া গেছে। তবে মাথাব্যথা হলে মাথা কাটবো না। এর সমাধান করবো, যাতে করে নাগরিক সেবা ঝুঁকিপূর্ণ না হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘এনআইডির সার্ভার হ্যাক হয়নি। সেবা নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভার হ্যাক হতে পারে। এনআইডি সার্ভারে কোনো থ্রেট নেই।’

সরকার তথ্য ফাঁস করে জাতিকে অরক্ষিত করে ফেলেছে : রিজভী

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিয়ে পুরো জাতিকে নিরাপত্তাহীন ও অরক্ষিত করে ফেলেছে।’

রোববার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসনের ওপর দেশী-বিদেশী চাপে হিতাহিত জ্ঞানশূণ্য হয়ে পড়েছে সরকার। দেশ-বিদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সরকার। দেশী কিংবা বিদেশী হোক না কেন, যারাই গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলে তারাই জনগণের বন্ধু।’

রিজভী বলেন, ‘বর্তমান সরকার পানিতে হাবু-ডুবু খেতে খেতে জনগণকে বিভিন্ন বার্তা দেয়ার চেষ্টা করছে। গত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজের গোষ্ঠীস্বার্থে এক নজিরবিহীন স্বৈরাচারি মডেল তৈরি করেছে। আর এজন্য দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করে দেশের স্বাধীন অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতেও তারা দ্বিধা করেনি। গনতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়-বিচার, সুশাসন জনগণের নিরাপত্তাকে পদদলিত করা হয়েছে গুম-খুনের সংস্কৃতির বিস্তার ঘটিয়ে। ব্যাংক লুট, টাকা পাচার, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎকারী ও ঋণ খেলাপিদের দিয়ে ক্ষমতাসীন বলয় তৈরি করেছে সরকার। এরাই বর্তমানে আইন, প্রশাসন, অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। যারা ব্যাংক কেলেঙ্কারির হোতা, তারাই তাদের দলীয় নেতা বা সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী ও উপদেষ্টা। বাংলাদেশে সন্ত্রাসকে করা হয়েছে মহিমান্বিত, সন্ত্রাসীরা ক্ষমতার প্রশ্রয়ে সমাজের প্রভু হয়ে উঠেছে।’

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘বিগত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের একতরফা নিশিরাতের নির্বাচন করে যারা নিরঙ্কুশ ক্ষমতা জবর দখল করে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা কেড়ে নেয়, ওই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা কি অন্যায়? গণধিকৃত সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করে না বলেই বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য নানা কথার ফুল ঝুড়ি ছড়াচ্ছে। দস্যুদল যদি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে, তার বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করা ন্যায্য ও ন্যায় সঙ্গত। আর এই সংগ্রামে যে সমর্থন দিবে, সেই জনগণের বন্ধু। যেকোনো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাহিরের অনেক দেশ সমর্থন দেয়, তা কি অন্যায়? বাংলাদেশের জনগণ নিরাপত্তাহীন ভয় ও শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সরকার পরিবর্তন ও পরিচালনায় তাদের ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে ভোটাধিকার হরণ করে। নাগরিক হিসেবে তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। সুতরাং জনগণের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাক, ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সকল স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে, এটি ফ্যাসিস্ট শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। আমরা মনে করি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের লক্ষ্যে চলে আসা রক্ত ঝরা আন্দোলনে অনেকের আত্মদান বৃথা যাবে না। আর এই আন্দোলকে দেশে-বিদেশে যারাই সমর্থন করবে, তারা বাংলাদেশের জনগণের বন্ধু।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে ও পক্ষে আন্দোলন কখনো বৃথা যায় না। বিগত দেড় দশক ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিরোধী দলসহ ভিন্ন মতের মানুষ, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিককে গণতন্ত্র বিনাশী এই ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মমভাবে হত্যা করেছে। গুম করা হয়েছে জনপ্রতিনিধিদেরও। গণতন্ত্রকামী জনগণকে দাবিয়ে রাখার জন্য সরকারের দমনযন্ত্র প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরাচ্ছে।’

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘জনগণকে পিষ্ট করার পাশাপাশি এরই মধ্যে স্থায়ীভাবে বন্দিত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখার জন্য কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। সরকার হচ্ছে জনগণের আমানতকারী। সরকারের হেফাজতে জনগণের তথ্যসহ অনেক কিছু থাকতে পারে সংরক্ষনের জন্য। নিশিরাতের সরকার জনগণের প্রতিপক্ষ বলেই সংরক্ষিত তথ্য ফাঁস করিয়েছে। সরকারের লোকজনের সহায়তা ছাড়া এই কাজ সম্ভব নয়। জনগণের জান-মাল, সহায়-সম্বল হেফাজতের দায়িত্ব সরকারের। ভোটারবিহীন দখলদার সরকার জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিয়ে গোটা জাতিকে নিরাপত্তাহীন ও অরক্ষিত করে ফেলেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রে যে সকল তথ্য থাকে, ওই তথ্য দিয়ে মানুষের ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ লোপাট করা সম্ভব। যতদিন এটি নির্বাচন কমিশনের অধীনে ছিল, ততদিন তো ফাঁস হয়নি। তাদের অধীন থেকে সরকার নিজ দায়িত্বে নেয়ার পরই এটা ফাঁস হয়েছে। এর ভেতর সরকারের কোনো সু-পরিকল্পিত গভীর চক্রান্ত থাকতে পারে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছিল, তার সঠিক প্রতিবেদন আজও প্রকাশ পায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই সরকার দূর্বৃত্তায়ন, ইতরায়ন ও রক্তাক্ত সন্ত্রাসের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে হত্যা সংখ্যা। দেশকে পরিণত করা হয়েছে মৃত্যু উপত্যকায়। এদের মিথ্যা কথা চেঁচানোর রেওয়াজ র্দীঘ দিনের। আজ এদের সীমাহীন অনাচারের বিরুদ্ধে জনগণ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। জনগণকে আর আটকিয়ে রাখা যাবে না। মিটিং, মিছিল, স্লোগান প্রতিরোধের অভিযাত্রায় রাজপথে অচিরেই জনগণের বিপুল তরঙ্গ উঠবে।’

আগামী ১২ জুলাই (বুধবার) নয়া পল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘ওই দিন দলের পক্ষ থেকে পরের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

ওই সমাবেশ সফল করার জন্য ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইতিহাস সৃষ্টি করে জার্মানির মেয়র হলেন সিরিয়ান শরণার্থী

ইতিহাস সৃষ্টি করে জার্মানির একটি শহরের মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার একজন শরণার্থী।

রাইয়ান আলশেবল নামে ওই ব্যক্তি শুক্রবার বিকেলে ওসটেলশেইম শহরের মেয়র হিসেবে শপথ নেন।

২৯ বছর বয়সী রাইয়ান ৮ বছর আগে যুদ্ধ চলা সিরিয়া ছেড়ে যান।

গত এপ্রিলে ওসটেলশেইম শহরের ২ হাজার ৫০০ বাসিন্দার সোয়াবিয়ান কমিউনিটি তাকে মেয়র নির্বাচিত করেন। নির্বাচনে তিনি ৫৫.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।

জার্মানির তরুণ মেয়রদের নেটওয়ার্ক রাইয়ানের বিজয়কে অন্যান্য শরণার্থীদের জন্য ভাবনাতিত বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছে।

বাডেন-উর্টেমবার্গের মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব জার্মান রাজ্যটিতে মেয়র হিসেবে আর কোনো সিরিয়ান বংশোদ্ভূত দায়িত্ব পালন করেননি।

রাইয়ান আলশেবল গত এপ্রিলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘এটি (জার্মানি) একটি উদার দেশ। এখানে কেউ যদি কিছু করতে উদ্যোগী হয় তাহলে সহজেই তার সুযোগ পায়।’

রাইয়ান ২১ বছর বয়সে কয়েকজন বন্ধুর সাথে জার্মানি গিয়েছিলেন। যুদ্ধপরিস্থিতির শিকার সিরিয়ানদের জন্য ২০১৫ সালে তৎকালীন জার্মান চ্যান্সেলর তার দেশের সীমান্ত খুলে দিলে যে হাজারো শরণার্থী জার্মানি ঢুকতে পেরেছিল রাইয়ান তাদেরই একজন।

জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের তথ্য অনুসারে, নতুন মেয়র রাইয়ানকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েই জার্মানিতে যেতে হয়েছিল।

জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়ার পর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে রাইয়ান আলথেংস্টেট শহরের স্থানীয় কাউন্সিলর হয়ে কাজ করছিলেন, জানিয়েছে ডয়চে ভেলে।

সূত্র : আলজাজিরা

সরকার দেশকে রোল মডেল নয়, গোল মডেল বানিয়েছে : মির্জা ফখরুল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, তাদের বিশ্বাস করে আগেও সংলাপ করেছি, প্রতারিত হয়েছি। এখন প্রশ্নই আসে না। স্যাংশন, ভিসানীতিসহ আরো নানা কারণে বাংলাদেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি এখন তলানিতে। দেশকে রোল মডেল নয়, গোল মডেল বানিয়েছে। দেশকে ফতুর করে দিয়েছে সরকার।

শনিবার দুপুরে ডিআরইউ’তে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)র ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার নতুন নতুন প্লট তৈরি করে জনগণকে বোকা বানিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। আবারো জনগণকে প্রতারিত করে ক্ষমতা দখল করতে চায় আওয়ামী লীগ। কিন্তু জনগণ ভোট দিতে পারলে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তারা স্বাধীনতার পরই গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।

আওয়ামী লীগ দেশে ভয়াবহ লুটপাট করছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভয়াবহ লুটপাটের কারণে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এই আওয়ামী লীগের নাম দিয়েছিলেন নিখিল বাংলা লুটপাট সমিতি। এরা এখনো ভয়াবহ লুটপাট করছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।

সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ও দেশকে বাঁচাতে এই ভয়াবহ দানব সরকারকে সরানোর জন্য কোনো দ্বন্দ্ব, দ্বিধা বা কালবিলম্ব না করে এখনই সবাইকে রাস্তায় নেমে পড়তে হবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি সত্যিকারের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।