Home Blog Page 61

জামায়াত থেকে বহিষ্কার গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী মো. নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থাকবে কিনা এই প্রশ্ন উঠেছে। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় অতীতে কারো এমপি পদ বাতিলের নজির নেই। তবে গণপ্রতিনিধি আদেশ-১৯৭২ এর ১২(খ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমপি নির্বাচিত হতে বা পদে থাকতে পারবেন না, যদি তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত না হন অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন।

২০০৮ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিধান যুক্ত করা হয়েছে গণপ্রতিনিধি আদেশে। তবে এই বিধান কার্যকরের পর ২০১২ সালে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার হলেও বিষয়টি নিষ্পত্তিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি না দেওয়ায় তার পদ বাতিল হয়নি।

তবে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ বাতিলে এই আইনে ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনে গেলে, শুনানির আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। ফলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(খ) অনুযায়ী, কোনো এমপি দল থেকে বহিষ্কার হলে পদ বাতিল হবে কিনা এ সংক্রান্ত নজির নেই।

২০১৪ সালে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিক এমপি পদ বাতিলে ওই বছরই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। শুনানি করে নিষ্পত্তি করতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন তৎকালীন স্পিকার ডা. শিরীন শারমিন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে যান লতিফ সিদ্দিকী। তবে হাইকোর্টের পর আপিল বিভাগও রিট খারিজ করেন।

২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে শুনানি শুরু হয়। ওই শুনানিতে আওয়ামী লীগকে প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার। তিনি সমকালকে বলেন, দলের মনোনীত প্রার্থী বহিষ্কার হলে এমপি পদে থাকতে পারেন না। কারণ আইন অনুযায়ী এমপি দুইরকম- দলীয় এবং স্বতন্ত্র। দল বহিষ্কার করলেও সেই এমপি স্বতন্ত্র হয়ে যান না। ফলে দলে না থাকলে এমপি পদ থাকবে না।

রিয়াজুল কবীর সমকালকে জানান, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট প্রথম দিনের শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকী সময় প্রার্থনা করেন। পরে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন। ফলে কোনো রায় বা আদেশ আসেনি।

সংবিধান কী বলে
দল কোনো এমপিকে বহিষ্কার করলে কী হবে তা সংবিধানে বলা নেই। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো এমপি যে দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সেই দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে এমপি পদ বাতিল হবে। ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো এমপির নৈতিক স্খলনের কারণে দুই বছরের বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড হলে এমপি পদ বাতিল হবে। সাজার মেয়াদ শেষে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত এমপি হতে পারবেন না।

জামায়াত নৈতিক স্খলনের কারণ দেখিয়ে গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে। তবে এ সিদ্ধান্ত কোনো আদালতের নয় বা গাজী নজরুলের জেল হয়নি। ফলে ৬৬ অনুচ্ছেদ তার জন্য প্রযোজ্য নয়। তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেননি বা দলের বিরুদ্ধেও ভোট দেননি। ফলে এই অনুচ্ছেদেও প্রযোজ্য নয়।

আগের কী নজির
২০২১ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হলেও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ ছিল সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের। তার পদ বাতিলে স্পিকারকে চিঠি দেয়নি আওয়ামী লীগ। সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো এমপির আসন শূন্য হবে কিনা, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

সংসদ সদস্য আইন-১৯৮০ এর ৩ ধার অনুযায়ী, বিরোধ সৃষ্টির ৩০ দিনের মধ্যে স্পিকার বিরোধের বিবরণ প্রস্তুত করে শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনকে পাঠাবেন। জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

কীভাবে নির্বাচন কমিশন শুনানি করবে তা বলা রয়েছে আইনে। কমিশনকে এই আইনে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এর রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

১৯৯৮ সালে বিএনপির দুই এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন এবং আলাউদ্দিন আহমদ নিজ দলে থেকে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। স্পিকার একে ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে গণ্য না করলেও, আদালত একে দল ত্যাগ হিসেবে গণ্য করে ওই দুই এমপির পদ বাতিল করেন। বিএনপির এমপি আবু হেনা ২০০৪ সালে বহিষ্কার হয়েছিলেন। তৎকালীন স্পিকার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার তার পদ বহাল রাখেন। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের আগে এই ঘটনা ঘটেছিল।

জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় এমপি পদ থাকবে না গাজী নজরুলের।

বর্ষায় পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উপকারী ৬ পানীয়

বর্ষাকালে অনেকেই নানারকম পেটের সমস্যায় ভোগেন। এ সময় পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি। এমন কিছু পানীয় আছে যা এ সময়ে অন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যেমন-

ঘোল : ঘোলে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া থাকায় অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে হজমে সাহায্য করে।

বিটের রস : বিটে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার থাকায় এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
ধনে ভেজানো পানি :প্রতিদিন ধনে ভেজানো পানি পান করলে হজমশক্তি উন্নত হয়। এই পানি পানে পেট ফাঁপার সমস্যা কমে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয়।

আদা চা : প্রতিদিন আদা চা খেলে হজমশক্তি বাড়ে। নিয়মিত এই চা খেলে পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমে। এই চা অন্ত্র সুস্থ রাখে।

হলুদ মেশানো দুধ : হলুদে থাকা কারকিউমিনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। নিয়মিত হলুদ মেশানো দুধ খেলে হজমশক্তি বাড়ে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

মজুরি বৃদ্ধি ও নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

চা শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, কুরমা চা বাগানের বকেয়া মজুরিসহ শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চা শ্রমিকরা।

গতকাল বুধবার সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে সাধারণ চা শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকদের ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়, যা চা শ্রমিকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই অবিলম্বে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। এর পাশাপাশি কুরমা চা বাগানের শ্রমিকদের টানা চার সপ্তাহের মজুরি বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা অবিলম্বে চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও শ্রমিকদের সব আইনসিদ্ধ পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয়, শ্রম অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এতে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নুরুল হক এবং শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক নেত্রী লছমি রানী রাজভর, সুজিত পাশা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, চা শিল্পের মূল চালিকা শক্তি চা শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর ও সব পাওনা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে তরুণদের আন্দোলন, চাপে মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের আশ্বাস দিলে অনশন ভাঙবেন ওয়াংচুক

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন এবার দিল্লি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে চলমান এই বিক্ষোভ নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নির্দিষ্ট কোনো পরিচয়ের গণ্ডিতে আটকে না থেকে, শ্রেণি-ধর্ম-অঞ্চল নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন এক সর্বভারতীয় রূপ নিচ্ছে।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির পাশাপাশি গতকাল বুধবার মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, বিহারের পাটনা এবং মিজোরামেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। পাটনায় শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা দিল্লির যন্তর মন্তর আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের সমর্থনে মাঠে নেমেছে। গত মঙ্গলবার রাতে আটক এবং পরে ছাড়া পাওয়ার পর গতকাল সংসদে কালো পোশাক পরে আসেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে রাহুল বলেন, ‘বিগত এক দশকে ১৫৪টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটিতেও শাস্তি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে গড়ে ওঠা দলটি কোনো মন্ত্রীর কার্যালয়ে বা বাসভবনে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা কোনো মন্ত্রীর কার্যালয় বা বাসভবনে যাব না। যন্তর মন্তরের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে এই আলোচনা হতে হবে।’

এদিকে, আন্দোলনকারী অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। চিকিৎসাধীন ওয়াংচুক চিঠিতে জানান, সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতির মুচলেকা দিলে তিনি অনশন ভাঙবেন।

পুলিশের মারধরের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়েছে। আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের জবাব চেয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

রাজনৈতিক চাপে মোদি 
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এটিই তাঁর প্রশাসনের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় ও ব্যতিক্রমী যুব আন্দোলন। মোদি সরকার এর আগে যেসব বড় আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছিল, সেগুলোকে নির্দিষ্ট একটি পরিচয়ে চিহ্নিত করা গেছে।

কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেকারত্বকেন্দ্রিক এই লড়াই দেশের দুই কোটিরও বেশি পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। এ আন্দোলন জাত, ধর্ম, অঞ্চল বা ভাষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীলঞ্জন মুখোপাধ্যায় এএফপিকে বলেন, ‘সরকার এই আন্দোলনকে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর আন্দোলন বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। আবার শিক্ষামন্ত্রীকে এখনই সরিয়ে দিলে সরকার নতিস্বীকার করেছে বলে মনে হবে, যা মোদির রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’

যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ লড়াই
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আটক ও নির্যাতনের পরও শিক্ষার্থীরা ভয় না পেয়ে যন্তর মন্তরে ফিরে আসছেন। ১৯ বছর বয়সী আন্দোলনকারী পূজা কুশি বলেন, ‘সরকার আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।’

আরেক আন্দোলনকারী সীমা যাদব জানান, ২০ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে আলাদা করে এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তবুও কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে তারা সরাসরি আবার আন্দোলনের ময়দানে ফিরে এসেছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর রূপক হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করেছিলেন। এই তেলাপোকা রূপকটি ভারতীয় যুবসমাজের টিকে থাকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ঘোষণা ছাড়া ২০ হাজার ডলার আনতে পারবেন ফ্রিল্যান্সাররা

ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত দেশে আনা যাবে। প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার গ্রহণ করতে পারবেন ফ্রিল্যান্সাররা। দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ইমেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয়ের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে প্রচলিত রপ্তানি নথির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে প্রক্রিয়াটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ক্ষুদ্র অঙ্কের লেনদেন সহজ করতে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। একই সঙ্গে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারের (ওপিজিএসপি) মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এসব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ফ্রিল্যান্সার কার্ড ইস্যুর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ব্যবহার সম্প্রসারণ করেছে, যা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআকিউ) হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারেন। এখান থেকে দেশের বাইরে পরিশোধ করতে পারেন। অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অধিক নমনীয়তা প্রদান করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এই পদক্ষেপটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী। এটি ডিজিটাল বাণিজ্য ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ ও বিটিএমএ নেতাদের বৈঠক গ্যাস-বিদ্যুতে বিশেষ ব্যবস্থা চায় বস্ত্র ও পোশাক খাত দুই খাতের সমস্যা সমাধানে দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের সুরক্ষা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ ব্যবস্থা চেয়েছেন এ দুই খাতের উদ্যোক্তারা। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা এ দাবি তুলে ধরেন। বস্ত্র ও পোশাক খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে পোশাকশিল্পের স্বার্থে কাস্টমস বন্ড সুবিধা সহজ করা, বিমানবন্দরে স্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণসহ আরও বেশ কিছু দাবি জানান বিজিএমইএ নেতারা। রপ্তানিমুখী শিল্পের যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে দ্রুত একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালুর অনুরোধও করেন তারা।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএর পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। উপস্থিত ছিলেন প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী প্রমুখ।

বৈঠকে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানান বিজিএমইএ নেতারা। পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তারা। বিজিএমইএ নেতারা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি জানান।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সহজ করা, বেনাপোল বন্দরে লজিস্টিকস সহজ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি সহজ করা এবং মিথ্যা ঘোষণা রোধসহ ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর একটি যৌথ সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

তৈরি পোশাকশিল্পের সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বস্ত্র খাতের সংকট নিরসনে পৃথক কমিটি 
গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর নেতারা। তারা গ্যাস, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, কাস্টমসসহ অন্যান্য সরকারি সেবা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য একটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস ম্যাকানিজম’ চালুর দাবি তুলে ধরেন।

সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বিটিএমএ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, বর্তমান সহসভাপতি শামীম ইসলাম, পরিচালক বাদশা মিয়া, চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, সৈয়দ এনায়েত কবীর, সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দার ও হেলাল মিয়া প্রমুখ। বিটিএমএর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে পাঁচ কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।

বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের জন্য সমন্বিত শুল্ক-কর কাঠামো, আর্থিক সহায়তা এবং রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। তারা রপ্তানিমুখী প্রাথমিক বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান ঋণের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ, সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নে সহজ প্রক্রিয়া গ্রহণ, বন্ধ বা আংশিক বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিআইবি-সংক্রান্ত শিথিলতা প্রদান এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে মূলধনি সহায়তা ও স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বস্ত্র খাতের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন। কমিটিতে বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকবেন। কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সভা করবে।

আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির জানান, বৈঠকে রিহ্যাব প্রতিনিধি দল জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আবেদন জানায়। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিভিন্ন সরকারি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে উলম্ব নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, সহসভাপতি-২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ ও ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার।

কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল, সবজির দরও চড়া

কাঁচামরিচের দাম বাড়ছেই। গত এক সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। একই সময়ে কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এছাড়া গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের ডজনেও ৫ টাকা বেড়েছে। আগের মতোই চড়াভাব দেখা গেছে মাছ-মাংসের বাজারে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে বেশির ভাগ এলাকায় মরিচ ও নানা সবজির গাছ মরে গেছে। এদিকে অতিরিক্ত গরমে মরিচ গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কিছু এলাকায় ক্ষেতে পানি জমে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে কৃষকরা ক্ষেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী মরিচ ও সবজি পাচ্ছেন না। ফলে ঢাকায় তুলনামূলক কম সবজি এসেছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজকুনিপাড়া, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সপ্তাহ দুয়েক আগে মানভেদে এক কেজি কাঁচামরিচ কেনা গেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। গতকাল আরও বেড়ে বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। এই হিসাব অনুযায়ী, দুই সপ্তাহে কেজিতে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ১৪০ টাকা বেড়েছে।

এদিকে বেশির ভাগ সবজির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে। কোনোটির দাম শতক পার হয়েছে। গেল সপ্তাহে এক কেজি মুলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে ও ধুন্দুল বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। উচ্ছে, বেগুন ও বরবটির কেজি গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৯০ টাকা ছিল। তবে গতকাল কেজিতে খরচ করতে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে শসা ও টমেটোর দাম। প্রতি কেজি টমেটো ১৩০ থেকে ১৪০ এবং শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। গেল সপ্তাহে শসার কেজি ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।

সবজির মধ্যে কিছুটা কম দর দেখা গেছে পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও পেঁপের। এগুলোর মধ্যে প্রতিকেজি পটোল ও ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। গত সপ্তাহে সবজি দুটি কেনা গেছে যথাক্রমে ৪০ ও ৬০ টাকায়।

আগারগাঁও কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শ্রাবণ হোসেন সমকালকে বলেন, পাইকারিতে কাঁচামরিচের কেজিতে ৫০ টাকার বেশি বেড়েছে। এ কারণে বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকরা সবজি তুলতে পারেন না। কোনো কোনো এলাকায় জমিতে পানি জমে সবজি গাছ মরে গেছে। অনেকের ক্ষেতে পানি জমে সবজি পচে গেছে। এসব কারণে ঢাকায় সবজি কম আসছে। যেসব ব্যাপারি সবজি নিয়ে আসেন তারা দাম কমাতে চান না।

ডিম-মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। গত সপ্তাহের মতোই ফার্মের সাদা রঙের প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ এবং বাদামি রঙের ডিম ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুদিপণ্যের বাজারে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।

আমলাদের পদক নিয়ে বিপাকে জনপ্রশাসন

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে ২০১৬ সালে চালু করা হয়েছিল জনপ্রশাসন পদক। ২০২২ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জনপ্রশাসন পদকের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’ রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পদকপ্রাপ্তরা বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় আমলাদের নতুন করে পদক প্রদান নিয়ে বিপাকে পড়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে রয়েছে অস্বস্তি।

বর্তমান বাস্তবতায় এই নাম বহাল রেখে পদক দিলে অথবা পদক বাতিল করলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে– এমন আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ জন্য গত দুই বছর ধরে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবসে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে না। এখন এই পদকের নাম পরিবর্তন করে আবার চালু, পদকপ্রাপ্তদের পদক বাতিল কিংবা নীতিমালা সংশোধন হলে নতুন কী যুক্ত হবে– এসব নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন জনপ্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, যতক্ষণ নীতিমালা বাতিল বা পরিবর্তন হচ্ছে না, সে পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। তবে দিবসটি কীভাবে পালন করা হবে, এ বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।

দিবস আছে, অনুষ্ঠান নেই
প্রতিবছর ২৩ জুলাই জাতিসংঘ ঘোষিত জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোনো অনুষ্ঠান করছে না।

এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পদকের নাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি সমস্যা। নাম পরিবর্তন না করে পদক দিলে সমালোচনা হতে পারে, আবার নাম পরিবর্তন করলেও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তৈরি হবে। তাই আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

২০১৭ সালে জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন,  প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে এমন পদক প্রদান ব্যবস্থা থাকা উচিত। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে উন্নতর জনসেবা দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তাই নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা দরকার।

২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ২০৪ জন ব্যক্তি ও ১৫টি প্রতিষ্ঠান জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন ৫৬ ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত অবদানের জন্য পেয়েছেন দুই লাখ টাকা এবং দলগত অবদানে পাঁচ লাখ টাকা। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট।

বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পাওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, নামের কারণে এ পদক আমার চাকরিজীবনে একটি কলঙ্কের দাগ বসিয়ে দিয়েছে। অথচ আগের নাম থাকলে এই পদকের জন্য আজ সম্মানের স্থানে থাকতাম।

বিপিএএ ব্যবহার করছেন অনেকে 
নীতিমালা বদল না হওয়ায় পদকের উপাধি বিপিএএ (বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক) ব্যবহার করছেন অনেক কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গোলাম রাব্বী নামের সঙ্গে লিখেছেন বিপিএএ। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ হাসান এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের যুগ্ম সচিব মঞ্জুরুল হাফিজ বিপিএএ লিখেছেন। এভাবে অনেক কর্মকর্তা উপাধি ব্যবহার করছেন।

গোলাম রাব্বী বলেন, সরকার নীতিমালা সংশোধন করেনি। নীতিমালা যতক্ষণ বাতিল না হচ্ছে, ততক্ষণ উপাধি থাকবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল ইসলাম বলেন, নামের সঙ্গে কেউ কেউ বিপিএএ ব্যবহার করছেন– এটা আমি লক্ষ্য করিনি। শিগগিরই আমরা এই বিষয়টা দেখব।

মহেশখালীর টার্মিনালে ত্রুটি এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন, বেড়েছে গ্যাস সংকট আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে

কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। এমনিতেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। তার ওপর সরবরাহের নতুন এই বিঘ্নে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও কোথাও একেবারেই গ্যাস মিলছে না। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানাও প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্প চাপের মুখে থাকবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকরাও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ, প্রতিদিনই ১০০ কোটির বেশি ঘনফুটের ঘাটতি থাকে। জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট।

বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এ দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ত্রুটি সারিয়ে তোলার পর এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এ জন্য কারিগরি টিমের সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক বাসায় চুলায় পর্যাপ্ত আগুন মিলছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও স্বল্প চাপের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এলএনজি ও এলপিজির আন্তর্জাতিক বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি সরবরাহ ব্যবস্থাও নতুন করে চাপে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বর্তমান সংকট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জাতীয় গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

মহেশখালীর ভাসমান দুটি টার্মিনালের মধ্যে একটি পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট। আরেকটি পরিচালনা করে দেশীয় কোম্পানি সামিট গ্রুপ। গতকাল দুপুর থেকে এক্সিলারেটের চালানো টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দিলে এলএনজি সরবরাহ কমে আসে। সামিটের চালানো টার্মিনাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
কাতার ও ওমান ছাড়াও আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট (খোলাবাজার) থেকে সরকারিভাবে এলএনজি সংগ্রহের পর তা জাহাজে করে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে রাখা হয়। টার্মিনাল থেকে সাগরের তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস প্রথমে মহেশখালীর ল্যান্ডিং স্টেশনে আসে। সেখান থেকে স্থলভাগের পাইপলাইন দিয়ে পেকুয়া, চকরিয়া, বাঁশখালী হয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মিত গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইনে পৌঁছায়। আনোয়ারা থেকে এই গ্যাস একটি লাইনে সরাসরি সিইউএফএল এবং কাফকো সার কারখানায় যায়। অন্য লাইনটি শিকলবাহা হয়ে চট্টগ্রামের প্রধান বিতরণ লাইন এবং জাতীয় গ্রিডের ফেনী-আশুগঞ্জ লাইনে যুক্ত রয়েছে।

সাতক্ষীরা পেঁয়াজ-রসুনের দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা

সাতক্ষীরার কলারোয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গত তিন দিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। হঠাৎ এ মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে রসুনের দাম ৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। অল্প সময়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ দুই পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

কলারোয়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মনিরুজ্জামান বলেন, কয়েক মাস ধরেই পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে ছিল। হঠাৎ কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ বেড়ে গেছে। বাজারে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলার সরসকাটি বাজারের ক্রেতা আব্দুল মাজেদ বলেন, তিন দিন আগে দুই কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকায় কিনেছেন, এখন একই পরিমাণ পেঁয়াজ কিনতে ১০০ টাকা লাগছে। শুধু পেঁয়াজ নয়, আদা, আলুসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে।

ছলিমপুর গ্রামের ভ্যানচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাজারে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে।

বিক্রেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন মোকামে পেঁয়াজ ও রসুনের পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। কলারোয়া বাজারের আড়তদার আলাউদ্দিন বলেন, বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মৌসুমগত কারণেও এ সময়ে দাম কিছুটা বাড়ে।

পেঁয়াজ-রসুন বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সম্প্রতি মোকামগুলোতে দাম বেড়েছে। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে বাজার স্বাভাবিক হতে পারে।

কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে সংগ্রহ করা পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কয়েক দিন ধরে বেড়েছে। পাশাপাশি বর্ষাকালের প্রভাবেও দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা শেষ হলে বাজারে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, পৌর এলাকার তুলনায় উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ বাজারগুলোতে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে। নিয়মিত বাজার তদারকির অভাবে অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

এদিকে, সাধারণ ক্রেতারা পেঁয়াজ-রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।