Home Blog Page 615

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের হামলা : গুলিবিদ্ধ ১৩, গ্রেফতার ১৪

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় ১৩ ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে আরো ১৪ জন। আজ বৃহস্পতিবার আরিহার আকাবায়ে জাবের ক্যাম্পে এ অভিযান চালানো হয়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকাবায়ে জাবের ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা ক্যাম্পের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাটির ঢিবি দিয়ে বন্ধ করে দেয়। নাগরিকদের ক্যাম্প থেকে বের হতে দেয়নি। বাইরে থেকে মানবাধিকারকর্মীদেরকেও প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এরপর তারা অন্তত ৫০টি ঘরে তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা আরিহার গভর্নরের বাসভবনও বাদ রাখেনি। তারা স্থানীয় সিসি ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেখান থেকে ধারণকৃত অনেক ভিডিও ডিলেট করে দেয়।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম ওয়াফা প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে বর্ণনা করেছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ক্যাম্পে প্রবেশ করে নাগরিকদের উদ্দেশ করে গুলি ও বিষাক্ত গ্যাস নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এতে ১৩ ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত ক্যাম্পটিতে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অনেক।

জাতিসঙ্ঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রিয়াজ মানসুর ইসরাইলী আগ্রাসন বন্ধে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি সংস্থাটির মহাসচিত অ্যান্তনি গুতরেস, নিরাপত্তা পরিষদ সভাপতি ও সাধারণ পরিষদ সভাপতি বরাবর তিনটি চিঠি লিখেছেন।

এসব চিঠিতে তিনি ইসরাইলিদের অভিবাসন তৎপরতা ও বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক উচ্ছেদসহ পূর্ণ পরিস্থিতি অবহিত করেছেন। তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক নীতি ভঙ্গন করে কিভাবে ইসরাইল আকসা মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলের চরমপন্থী মন্ত্রী ইতিমার বিন গাফির গত রোববার ইসরাইলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশ করেন। এরপর থেকেই সেখানে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।

এ সময় তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিন ও আকসা মসজিদে ইসরাইলের যেকোনো পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে বিবৃত দেয়ার অনুরোধ জানান। একইসাথে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আইন ও আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক সম্মান রক্ষার প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র : ওয়াফা/আল জাজিরা মুবাশ্বির ও অন্যান্য

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি নিয়ে যা বললেন আমীর খসরু

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা তার প্রতিফলন হিসেবে এগুলো হচ্ছে। অন্যদের বা অন্য দেশের নির্বাচনগুলো নিয়ে এত উদ্বেগ ও আলোচনা হচ্ছে না। আমাদের প্রতিবেশী চার পাঁচটি দেশের নির্বাচনে নিয়ে তো আলোচনা হচ্ছে না। এই স্টেটমেন্টটা কিন্তু শুধু বাংলাদেশের জন্য দেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে কিনা- এই শঙ্কা থেকেই তো বিষয়গুলো উঠে আসছে। এবং তার মধ্যে এটা একটা পদক্ষেপ। যেটা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসছে। সেটা হচ্ছে, আগামী দিনে এ দেশের জনগণ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে কিনা? নাকি তারা আবারো বঞ্চিত হবে ভোট থেকে?

তিনি বলেন, এই স্টেটমেন্টটা তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কিন্তু শুধু বাংলাদেশের জন্য দিয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশের সংগঠনগুলোকে ও ব্যক্তিবর্গ, যারা নির্বাচনকে বাঞ্চল করার জন্য, ভোট কেন্দ্র দখল করার জন্য, ভোট চুরির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সাথে সরাসরি জড়িত থাকবে তাদের এড্রেস করা হয়েছে। এখানে সংবাদ মাধ্যমের কথা বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথা বলেছে, রাজনৈতিক ব্যক্তির কথা বলেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের কথা বলেছে, যারা নির্বাচনের ভোট চুরি সাথে সরাসরি অথবা ইনডাইরেক্টলি জড়িত থাকবে- এটা তাদের জন্য। তাদের ভিসা বাতিল হবে এবং আমেরিকাতে তাদের কোনো ভিসা দেয়া হবে না। বিষয়টা নির্বাচনের দিন শুধু ভোট চুরির জন্য নয় কিন্তু। এখনো ভোট চুরি চলছে। প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি এগুলোও তো ভোট চুরি। গুলি করে হত্যা করাটাও তো ভোট চুরি। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) জিনিসটাকে ওইভাবেও এড্রেস করেছে। আগামী নির্বাচনে সম্পৃক্ততা জড়িত যে সংগঠন, ব্যক্তি হিসেবে সবাইকে এড্রেস করেছে। এটা ইঙ্গিত দিয়েছে যারা যারা জড়িত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা এখন থেকে বিষয়টা এপ্লাই করেছে।

এটা আপনাদের সফলতা কি না এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, এখানে আমাদের সফলতা বলতে কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষ যেদিন ভোট দিতে পারবে। ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি ও তাদের সরকার নির্বাচিত করতে পারবে। সেটা হবে বাংলাদেশের মানুষের সফলতা। সেই উদ্দেশ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপের মধ্যে এটা হয়ত একটা ভালো পদক্ষেপ। এবং দেশবাসী এটাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। এদের মাধ্যমে তারা আশা করছে, যারা ভোট চুরি সম্পৃক্ত থাকে সেটা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে হোক, বিচার বিভাগে হোক, মিডিয়াতে বা গণমাধ্যমে হোক, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে হোক সকলের প্রতি একটা পরিষ্কার বার্তা। এর থেকে পরিষ্কার বার্তা কিন্তু আর হতে পারে না। তারা নাম ধরে ধরে বলছে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষকে অর্জন করতে হবে। এটা আমাদের মুক্তির দাবি। আগামী দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র থাকবে কি না? মানবাধিকার থাকবে কি না? গণমাধ্যমে স্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তা, মুক্তির সংগ্রামের পথে এটা একটা পদক্ষেপ। অনেকগুলো পদক্ষেপ দিতে হবে, যাতে তারা আগামীতে ভোট চুরি করে জোর করে ক্ষমতায় না থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে যারা ভোট চুরি করবে বা নির্দেশ দেবে, শুধু তারাই নয়। তার পরিবারের সদস্যরাও কিন্তু এ ভিসা থেকে বঞ্চিত হবে। এবং বাতিল করা হবে।

আমীর খসরু বলেন, যেহেতু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। নির্বাচন তো পরের কথা। নির্বাচনের পরিবেশ থাকতে হবে লেবেল প্লেয়িং করতে হবে। মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে হবে। আমাদের জনসভায়, রেলিতে মানববন্ধনে বাধা দেয়ার কারণেই তো এই প্রশ্নগুলো আসছে বার বার। যেহেতু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ তাদের কথা বলতে পারছে না। বাক স্বাধীনতা নেই। জীবনে নিরাপত্তা নেই। আইনের শাসন নেই। সভা মিছিল করতে পারছে না। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ভয়ভীতি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ভোটের আগে থেকে ভোট শুরুর প্রক্রিয়া চলতেছে। ভোট চুরি অলরেডি বাংলাদেশে চলছে।

বাংলাদেশে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে সরকার উদ্বিগ্ন নয়, ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খসরু বলেন, ভালো কথা। আইনের শাসন, বাক স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। উদ্বিগ্ন হতে হবে, উদ্বিগ্ন নয় বললে তো আর হবে না।

খসরু মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ আগামী দিনের নির্বাচনে সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু এটা একটা সিগনাল, একটা বার্তা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

মামুনুল হক ৫ মামলায় জামিন পেলেন

রাজধানীর পল্টন ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় দায়ের করা নাশকতার পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।
আজ বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামনুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদকে ঘিরে আন্দোলনের জেরে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার জেরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতায় কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে তিন ডজন মামলা হয়।

একই বছরের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সাথে অবস্থান করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে নিয়ে যান। ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন তার সাথে থাকা ওই নারী। কিন্তু মামুনুল হকের দাবি, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে উদাহরণ : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিস্তৃতি উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। প্রতিবেশী অনেক দেশেই গণমাধ্যমের এ রকম বিস্তৃতি ঘটেনি এবং এমন অবাধ স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে কাজ করে না।’

তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার সাথে দায়িত্বশীলতাকে যোগ করতে হয়, তাহলেই গণমাধ্যম সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। আর যদি স্বাধীনতার সাথে দায়িত্বশীলতা না থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে সমাজের ক্ষতি হয়, রাষ্ট্রেরও ক্ষতি হয়।

তথ্যমন্ত্রী বুধবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘মানবাধিকার সংরক্ষণ ও গণতন্ত্র সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, দৈনিক সমকাল সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মো: আইয়ুব ভূঁইয়া প্রমুখ তাদের আলোচনায় দেশে গণমাধ্যমের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথযাত্রা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণতন্ত্র এবং গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। গণমাধ্যম ব্যতিরেকে গণতন্ত্র হতে পারে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ব্যতিরেকে গণতন্ত্র কখনো পথ চলতে পারে না, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা টিকে থাকতে পারে না। সে কারণে গণতন্ত্রকে সংহত করতে হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গণতন্ত্র ও বহুমাত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিকাশ, ন্যায়ভিত্তিক-বিতর্কভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করার লক্ষে গণমাধ্যমের বিস্তৃতি এবং স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছে, উল্লেখ করে পরিসংখ্যান দিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গত ১৪ বছরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ সম্প্রচারে আসা টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৩৯টি, খুব সহসা আরো কয়েকটি সম্প্রচারে আসবে। বেসরকারি টেলিভিশন এবং বেতারের যাত্রাও শুরু হয়েছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। আমরা যখন ২০০৯ সালে সরকার গঠন করি, তখন টিভি চ্যানেল ছিল ১০টি আর দৈনিক পত্রিকা ছিল ৪৫০, যা এখন ১২৬০। ২২টি বেসরকারি এফএম রেডিও-এর লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, ১২টি সম্প্রচারে আছে, কয়েক ডজন কমিউনিটি রেডিও-এর লাইসেন্স দেয়া আছে, যার বেশিরভাগই সম্প্রচারে আছে। অনলাইন গণমাধ্যম কয় শত কিংবা কয় হাজার, সেটি একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপার। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক অনলাইন গণমাধ্যমের রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে, পত্রিকা এবং টেলিভিশনের অনলাইনসহ সেটা আরো অনেক বেশি।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এর ফলে আজকে হাজার হাজার সাংবাদিক গণমাধ্যমে কাজ করছে। আজকে যারা বিদগ্ধ সাংবাদিক, তারা তাদের এই ‘ট্যালেন্ট’ প্রকাশ করার সুযোগ পেতেন না, যদি গণমাধ্যমের এমন ব্যাপক বিস্তৃতি না ঘটত। আশেপাশের দেশে গণমাধ্যমের এমন বিস্তৃতি ঘটেনি এবং এমন অবাধ স্বাধীনতার মধ্যে কাজ করে না। কয়েকটি ছাড়া প্রায় সকল টেলিভিশন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরেই অনুমোদন পেয়েছে। আর সকল টেলিভিশনে প্রতি দিন রাতের বেলায় টক শো’তে সরকারের সমালোচনা হয়। সংবাদ যখন প্রকাশ করা হয়, তখনও সরকারের ব্যাপক আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার কখনো হস্তক্ষেপ করে না। কারণ, আমরা মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাস করি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।’

ড. হাছান বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দেই, একটি জেলে পল্লী থেকে কিভাবে সিঙ্গাপুর উন্নত দেশে রূপান্তরিত হলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত প্রায় সব দেশের চেয়ে সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু আয় বেশি। সিঙ্গাপুরের চারটি চ্যানেল রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পত্রিকাও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। থাইল্যান্ডে সব টেলিভিশন চ্যানেল ফিড একটা জায়গা থেকে আপলিংক করা হয়। কোনো কনটেন্ট পছন্দনীয় না হলে তা অফ করে দিয়ে বিজ্ঞাপন বা অন্য কিছু দেওয়া হয়। আমাদের দেশে তা নয়। মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা ৮০ দশক পর্যন্ত আমাদের দেশে পড়তে আসতো। এখন আমাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে যাচ্ছে। তারা কিভাবে এই জায়গায় এলো সেটি একটি বিস্ময়। সেখানে গণমাধ্যমের এই স্বাধীনতা নাই, বিস্তৃতিও নাই।’

ইউরোপের দেশগুলোর উদাহরণ দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে আমরা যুক্তরাজ্যকে অনুসরণের চেষ্টা করি। সেখানে প্রতি সপ্তাহে ভুল বা অসত্য সংবাদ পরিবেশন কিংবা কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার দায়ে গণমাধ্যমকে প্রতিনিয়ত মোটা অঙ্কের জরিমানা গুণতে হয়। বিবিসিতে একজন এমপির বিরুদ্ধে ভুল সংবাদ পরিবেশিত হওয়ার কারণে পুরো বিবিসি টিমকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ১৩০ বছরের পুরনো পত্রিকা ‘নিউজ অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ একটি ভুল অসত্য সংবাদ পরিবেশনের কারণে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা পরিশোধ করতে গিয়ে দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের দেশে এ ধরণের ঘটনা কখনো ঘটেনি। কন্টিনেন্টাল ইউরোপেও যুক্তরাজ্যের মতোই ভুল বা অসত্য সংবাদ পরিবেশনের কারণে গণমাধ্যমকে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুণতে হয়, শাস্তি পেতে হয়।’

‘পত্রিকায় পুঁজির দৌরাত্ম্য আজকে দেশে একটা সমস্যা’ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যখন সংবাদ মাধ্যমে পুঁজি বিনিয়োগ হয়, সেই পুঁজির দৌরাত্ম্য সাংবাদিকদের ওপর খড়গ বসায়, তাদের কাজে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। সরকারের পক্ষ থেকে কী প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, সেটি নিয়ে আমরা সবসময় আলোচনা করি। কিন্তু আমি মনে করি, সুস্থভাবে, অবাধে, ভয়হীন পরিবেশে কাজ করার ক্ষেত্রে মালিক পক্ষের পুঁজির দৌরাত্ম্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। কয়েকজন সাংবাদিক নেতা প্রশ্ন রেখেছেন, ব্যাংকের মতো সংবাদ মাধ্যমের পরিচালনা পর্ষদে কেন সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে না, ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর থাকবে না!’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সব সময় বলেছি, আজকেও বলব, একজন সাংবাদিক, গৃহিনী, চাকরিজীবী, কৃষক অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে সব মানুষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই এই আইন। অনেক সাংবাদিকও এই আইনে ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ক’দিন আগে একজন নারী সাংবাদিক তার চরিত্র হননের প্রতিকারের জন্য এই আইনে আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।’

হাছান বলেন, ‘আজকের আলোচনায় সাংবাদিকরাও বলেছেন, এ আইনের প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরণের আইন আজকে পৃথিবীর প্রায় সব দেশ প্রণয়ন করেছে। অনেক দেশে এই আইন আমাদের চেয়ে কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ছাড়া অন্যগুলোতে ফাঁসি নেই। কিন্তু সেখানে ডিজিটাল অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। যুক্তরাজ্যের লোকসংখ্যা আমাদের তিন ভাগের এক ভাগ, ছয় কোটির একটু বেশি। সেখানে প্রতি মাসে কয়েক ডজন মানুষ গ্রেফতার হয়। আমাদের দেশে হয় না। একজন গ্রেফতার হলে সেটা পত্রিকায় শিরোনাম হয়।’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘একইসাথে অবশ্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কারণে-অকারণে মামলা ঠুকে দেয়া, সাথে সাথে আবার গ্রেফতার করা- এগুলো অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সে ব্যাপারে আমি একমত। কোনো একটা গোষ্ঠীকে কোনো আইন থেকে বাদ দেয়া সেটি সমীচীন হয়। কিন্তু কোনো আইনের যেন অপপ্রয়োগ না হয় বা কারো ওপর অপপ্রয়োগ না হয়, সেটি আমাদের নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আগের তুলনায় অপপ্রয়োগ কমেছে, অপপ্রয়োগটা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।’

সূত্র : বাসস

পুতিনকে হত্যার চেষ্টা করেছে কিয়েভ : রাশিয়া

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হত্যার উদ্দেশে ক্রেমলিনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বুধবার (৩ মে) রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই অভিযোগ জানানো হয়েছে।

ক্রেমলিন বলেছে, হামলায় দু’টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রুশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোন দু’টিকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পুতিন সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট পুতিন ক্রেমলিনে ছিলেন না। এ হামলায় ক্রেমলিনের কোনো ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

ক্রেমলিন সতর্ক করে জানিয়েছে, রাশিয়া প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার রাখে এবং এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে ক্রেমলিন থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে আসছে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। দ্বিতীয় একটি ভিডিওতে ক্রেমলিনের ভেতরে একটি ভবনের ছাদে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

তবে এই হামলার বিষয়ে ইউক্রেন এখন পর্যন্ত কোনো দাবি জানায়নি।

সূত্র : বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরা

খালেদা জিয়াকে হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে

আজ বুধবার রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার সম্ভাবনা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। কিন্তু তার মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর জানা যায়, চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে হাসপাতালেই থাকতে হচ্ছে।

এ বিষয় বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আজ সন্ধ্যায় ম্যাডামের মেডিক্যাল বোর্ড বৈঠকে বসেছিল। বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত এসেছে তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে। ম্যাডামের বাসায় ফেরার বিষয়টি কত দিন লাগতে পারে, তা বলা যাচ্ছে না।

এভারকেয়ারে হাসপাতালের ৭২২৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকের পরামর্শ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছেন তিনি।

গত ২৯ এপ্রিল নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই নিয়মিত চেকআপ করার পর বাসায় ফেরার কথা থাকলেও তার মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তে রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে গত বছরের জুনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হার্টের তিনটি ব্লক ধরা পড়ে । তার একটি ব্লকে রিং পরানো হয়েছে।

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। নানা শারীরিক জটিলতায় ওই বছরের ২৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

একপর্যায়ে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। প্রায় দুই মাস তিনি সিসিইউতে ছিলেন। ১৯ জুন বাসায় ফেরেন। এর মধ্যে করোনার টিকা নেয়ার জন্য খালেদা জিয়া দুই দফায় মহাখালীর শেখ রাসেল ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যান। ১৯ জুলাই করোনার প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার পর ১৮ আগস্ট দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন তিনি।

গত বছর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার ‘পরিপাকতন্ত্রে’ রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানান চিকিৎসকরা।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার শর্ত সাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। এ পর্যন্ত ছয় দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ফলে তিনি তার গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এক যুগ পর ভারতে আসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বৃহস্পতিবার সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে ভারতের গোয়াতে এসে পৌঁছাবেন। প্রায় এক যুগের মধ্যে এই প্রথম কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরে আসছেন।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার (৪ ও ৫ মে) ভারতের গোয়াতে এসসিওভুক্ত দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন। যেখানে ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও চীন, রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার আরও চারটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা থাকছেন।

এসসিও জোটের বর্তমান চেয়ার ভারত, ফলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করই এই বৈঠকের হোস্ট।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনের অবকাশে (‘সাইডলাইনে’) ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে না বলেই জানা যাচ্ছে।

পাকিস্তান সরকারও ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির এই সফর হবে পুরোপুরি এসসিও ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে, এর সাথে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনোভাবে জড়িত নয়।

তবু সাম্প্রতিককালে কথিত জঙ্গী অনুপ্রবেশের ইস্যুতে দু‘দেশের সম্পর্ক যেরকম তলানিতে এসে ঠেকেছে, সেই পটভূমিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সশরীরে ভারতে আসাটাকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

গোয়ার সমুদ্রতটে বিলাওয়াল ভুট্টোর এই সফর দু‘দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করবে কি না, তা নিয়েও নানা মহলে জল্পনা চলছে।

গোয়াতে যা যা ঘটবে
বৃহস্পতিবার (৪ মে) স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে পাকিস্তানের করাচি থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ও তার প্রতিনিধিদলকে নিয়ে একটি বিশেষ বিমান গোয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে।

ভারতীয় সময় বিকেল ৫টার আগেই তার গোয়ায় পৌঁছে যাওয়ার কথা। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সম্মেলনের হোস্ট এস জয়শঙ্কর বুধবারই সেখানে পৌঁছে গেছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিন গাং, রাশিয়ার সের্গেই লাভরভ এবং কাজাখস্তান, কিরঘিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অল্প আগে-পরে একে একে গোয়াতে এসে নামবেন।

অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মানে কাল সন্ধ্যায় আরব সাগরের তীরে গোয়ার একটি সমুদ্রসৈকতে ‘গ্যালা ডিনার’ বা রাজসিক নৈশভোজের আয়োজন করেছে ভারত।

তবে এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সেই নৈশভোজে জারদারি যোগ দেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ভারত সফরে এসেছিলেন। সে দেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেটাই শেষবারের মতো ভারতে আসা।

দিল্লিতে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডভানির সাথে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার। জুলাই, ২০১১

ঘটনাচক্রে সেই হিনা রাব্বানি খারই এখন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সেই সুবাদে এবারের প্রতিনিধিদলেও তিনি থাকছেন।

এসসিও জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মূল বৈঠকটি হবে শুক্রবার (৫ মে), যেখানে আফগানিস্তান আলোচনার একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আয়োজক দেশ ভারতের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, তালেবান শাসনের অধীনে আফগানিস্তান যাতে আরো একবার সন্ত্রাসবাদের আঁতুরঘরে পরিণত না-হয় এসসিও জোটের দেশগুলোর যৌথভাবে সেই লক্ষ্যেই কাজ করা দরকার।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব?
তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা যেহেতু বহু বছর ধরে বন্ধ এবং সেই পটভূমিতেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বহুকাল পর ভারতে আসছেন, ফলে গোয়ার সম্মেলন দিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে সে দিকেও পর্যবেক্ষকদের তীক্ষ্ণ নজর থাকবে।

গত ডিসেম্বরেই বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘গুজরাটের কসাই’ বলে বর্ণনা করার পর এস জয়শঙ্করও জারদারিকে কঠোর ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করেছিলেন।

২০১৬-তে জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে ও ২০১৯ সালে পুলওয়ামায় ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বিধ্বংসী হামলার জন্যও ভারত পাকিস্তান থেকে আসা উগ্রবাদীদেরই দায়ী করেছিল, সীমান্তের অন্য পারে ও বেশ দূরের বালাকোটে পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছিল।

এই মারাত্মক তিক্ততার পরিবেশের মধ্যেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে শেষ পর্যন্ত ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটাকেই বেশ বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন দু‘দেশের অনেক বিশ্লেষক।

ভারতের সাবেক কূটনীতিবিদ ও প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুনায়াতের মতে গোয়ার বৈঠক থেকে নাটকীয় কোনো ফল হয়ত আশা করা উচিত নয়, তবে দু‘দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সেখানে অগ্রগতি হতে পারে।

ত্রিগুনায়াতের কথায়, ‘এসসিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন যদি কোনো তিক্ততা ছাড়াই শেষ হয়, তাহলে হয়ত আমরা দেখব আগামী জুলাই মাসে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতে আসছেন।’

পাকিস্তানের প্রথম সারির ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডন’ লিখেছে, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপের প্রক্রিয়া প্রতীকী স্তরে হলেও নতুন করে আবার শুরু করার একটা সুযোগ এনে দিয়েছে গোয়ার এই সম্মেলন।’

যদিও এসসিও প্ল্যাটফর্মে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার অবকাশ কম, ‘দ্য ডনের’ মতে গোয়াতে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হলেও তাতে সম্পর্কের তিক্ততা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।

তবে একই সাথে তারা মন্তব্য করেছে, ইসলামাবাদে নতুন একটি সরকার ক্ষমতায় আসলে এবং ভারতে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের পরই কেবল দু‘দেশের মধ্যে ‘সত্যিকারের শান্তি প্রক্রিয়া’ শুরু হওয়া সম্ভব।

দিল্লিতে নামী স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষক সি রাজামোহন আবার মনে করছেন, গোয়াতে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির সফর নিয়ে মিডিয়াতে হয়ত তুমুল আলোড়ন হবে, কিন্তু এতে দু‘দেশের সম্পর্কে তেমন কোনো প্রভাব পড়ার কারণ নেই।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশী শক্তিগুলোর সাথে পাকিস্তানের কী ধরনের সম্পর্ক রাখা উচিত, তা নিয়ে সে দেশের ভেতরেই তীব্র মতবিরোধ ও বিভাজন আছে।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে এ বিষয়ে যতক্ষণ না মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ‘রাওয়ালপিন্ডিতে সে দেশের সামরিক নেতৃত্বের সাথে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ রেখে চলা ছাড়া’ ভারতের বিশেষ কিছু করারও নেই বলে রাজামোহনের অভিমত।

সূত্র : বিবিসি

বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বড় বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল এবং ফার্মাসিউটিক্যালে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শুধুমাত্র মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিবেদিত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ রাখার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আমাদের নবায়নযোগ্যযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা ও ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদিসহ অনেক গতিশীল ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ‘

বাংলাদেশে সুযোগ অন্বেষণ ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি ‘ইউএস-বাংলাদেশ ইকোনমিক পার্টনারশিপ: শেয়ার্ড ভিশন ফর স্মার্ট গ্রোথ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক্সিকিউটিভ বিজনেস গোলটেবিলের মূল বক্তব্য উপস্থাপনের সময় একথা বলেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ইউএস বাংলাদেশ আইটি কানেক্ট পোর্টাল (ঁং.রঃপড়হহবপঃ.মড়া.নফ) উদ্বোধন করেন।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এখানে ইউএস চেম্বার অব কমার্স ওয়াশিংটন, ডিসির গ্রেট হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের যাত্রায় অংশীদার হিসেবে আমাদের সাথে থাকার জন্য আমি আজকে এখানে আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) এবং ২৯টি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করছে।

প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতির কথা আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইন দ্বারা বিদেশী বিনিয়োগ সুরক্ষা, ট্যাক্স হলিডে, রয়্যালটি রেমিটেন্স, বাধাহীন প্রস্থান নীতি, লভ্যাংশ ও মূলধন সম্পূর্ণ প্রত্যাবর্তন সুবিধা রয়েছে।
তিনি আশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন যে, ‘আমরা আমাদের বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ জলবায়ু উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আমাদের একক বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য, বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের বৃহত্তম উৎস, দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।’

তিনি বলেন, তিনি আশাবাদী যে, যুক্তরাষ্ট্র এই চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং পারস্পরিক সুবিধার জন্য একটি মসৃণ ও অনুমানযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীল অংশীদার হবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ অনেক ক্ষেত্রে নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হলো আমাদের জনগণের জন্য পারস্পরিক সুবিধা ও সমৃদ্ধি অর্জন করা। আমাদের ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের মধ্যে সম্পর্কের তা প্রতিফলিত হচ্ছে। ২০২১-২০২২ সালে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে বাংলাদেশে একটি শিল্প কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপানের প্রস্তাবের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাই আমাদের লক্ষ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নীত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রচেষ্টায় গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন সর্বজনীনভাবে “আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসাবে স্বীকৃত।

তিনি বলেন, সুশাসনের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আইসিটি খাতে অগ্রগতির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে যা আমাদেরকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এ কারণেই ইদানীং বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ভ্যালু দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স ইউকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ভ্যালু গত বছর ৩৭ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে যা বিশ্বে সর্বোচ্চ এবং গ্লোবাল সফট পাওয়ার ইনডেক্স ২০২৩ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা। এই রূপকল্প ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উচ্চ আয়ের উন্নত দেশে পরিণত করবে।”

তিনি আরো বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ মানে অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া এবং স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজের উপর এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক এবং চেয়ারম্যান এক্সেলরেট এনার্জি স্টিভেন কোবোস, বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের গ্লোবাল চেয়ার ইমেরিটাস (বিসিজি) হ্যান্স-পল বার্কনার, মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ইন্দো-প্যাসিফিক পলিসি অপারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি অরোরা, বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এরিক ওয়াকার এবং গ্লোবাল হেড অব এক্সপ্রোরেশন অ্যান্ড নিউজ এক্সনমোবিলের ভেঞ্চার ডঃ জন আর্ডিল উচ্চ-স্তরের গোলটেবিলে বক্তৃতা করেন।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট-সাউথ এশিয়া অ্যাম্বাসেডর অতুল কেশপ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, বোয়িং ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট শাইল গুপ্ত, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান কেভিন রোপেকে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত ছিলেন টইঊজ-এর পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স-এশিয়া প্যাসিফিক মাইক অরগিল, ইউএস চেম্বার অফ কমার্সের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান মিলার, ইউএস চেম্বার অফ কমার্সের নির্বাহী পরিচালক সন্দীপ মাইনি এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালক সিদ্ধান্ত মেহরা।

প্রধানমন্ত্রী এর আগে ইউএস চেম্বার অব কমার্সের ব্রিফিং সেন্টারে ইউএসবিবিসি’র সিনিয়র এক্সিকিউটিভদের সঙ্গে দুটি পৃথক বৈঠকে এবং ইউএস চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও সিইওদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে যোগ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি গর্বিত নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি এবং বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি। অনুমান করা হচ্ছে এই অর্থনীতি ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।”

তিনি বলেন, ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। এটি প্রকৃত মূল্যে কয়েক বছরের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে চলেছে।
তিনি বলেন, “আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নীতিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের থেকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃহত্তর প্রতিবেশীদের তুলনায় বেশি।
তিনি আরো বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বাংলাদেশকে নারীর ক্ষমতায়নে শীর্ষ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ দেশ হিসেবে এবং বিশ্বব্যাপী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে স্থান দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাজার এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান ৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার বাজারের কেন্দ্রে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এই অঞ্চলে ও এর বাইরেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি আদর্শ জায়গা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা সারা দেশে দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, ‘বৃহৎ পদ্মা নদীর উপর গত বছর আমরা নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের দীর্ঘতম সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন করেছি, যা এখন আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার মেট্রোরেলও নির্মাণ করেছে, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বন্দরের অবকাঠামো উন্নত করেছে। এগুলো অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জলবায়ু দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি নীতি, শ্রম সংস্কার, এবং শ্রম নিরাপত্তা মান উন্নয়ন প্রশংসার দাবিদার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গর্বিত যে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) দ্বারা প্রত্যায়িত বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সবুজ পোশাক কারখানার মধ্যে ৫৩টি বাংলাদেশে। তিনি আরো বলেন যে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে ‘স্বল্পোন্নত’ থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, ‘এর জন্য, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং রপ্তানি ভিত্তি প্রসারিত করতে আমাদের সমর্থন প্রয়োজন হবে।’
সূত্র : বাসস

বিএনপির চূড়ান্ত কর্মসূচি ঢাকা অভিমুখে

-রোডমার্চসহ নতুন ঘোষণা আসছে
-যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণাও চূড়ান্ত

সরকারবিরোধী দলগুলোকে সাথে নিয়ে ধীরে ধীরে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিএনপি। দলটি ঢাকা অভিমুখে চূড়ান্ত এবং শেষ কর্মসূচি পালনের বিষয়ে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা শুরু করেছে। তবে তার আগে এ মাসের শেষে কিংবা জুনের প্রথমার্ধে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে রোডমার্চের মতো জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। আগামী সপ্তাহে দলটি রোডমার্চ কিংবা এ ধরনের একাধিক কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।
বিএনপি নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির পথ ধরে বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতে চায়। এই জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও বিএনপি সমর্থক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মতামত নিচ্ছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামীকাল ৪ মে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে বৈঠক করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সাথে বৈঠক করে তাদের মতামত নিয়েছেন দলের লিয়াজোঁ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এসব মতামত নিয়ে স্থায়ী কমিটির পরবর্তী সভায় আলোচনা করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
কর্মসূচি নিয়ে গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আলোচনা হয়েছে। সেখানে নেতারা দ্রুত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে নেতাদের কয়েকজন বলেন, গত কয়েক মাসে বিএনপি প্রায় সব ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে। তাই এবার অধিকতর আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য কর্মসূচির পথরেখা তৈরি করতে হবে। এমন কর্মসূচি দিতে হবে যাতে আন্দোলনে গতি আসে। স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে নেতাদের অনেকে রোডমার্চের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করেন।
বিএনপি নেতারা জানান, এসএসসি পরীক্ষার কারণে কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে কোনো বড় ধরনের কর্মসূচিতে যেতে চায় না দলটি। পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে কর্মসূচি শুরু হতে পারে।


বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সে লক্ষ্যে ঈদুল আজহার আগেই আন্দোলনের শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে চায় দলটি। আন্দোলনকে অযথা টেনে দীর্ঘমেয়াদি করতে চান না নীতিনির্ধারকেরা।
জানা গেছে, সোমবারের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কর্মসূচি কেন্দ্রিক আলোচনা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর চলমান তিন দেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে নেতারা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে কোনো অর্জন নেই বলে মনে করছেন। এ সফরকে তারা পিকনিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গতকাল দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রস্তাবিত অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল-২০২৩ নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এটি নানা কারণে বিতর্কিত, অগণতান্ত্রিক, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের স্বার্থবিরোধী, একতরফা, নিবর্তনমূলক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট বরখেলাপ। এই আইনটি প্রণয়নে কোনো পর্যায়ই অংশীজনের মতামত নেয়া হয়নি। বিএনপি মনে করে, প্রস্তাবিত বিলটি শুধু শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ ও অধিকারকেই ক্ষুণ্ণ করবে না, এটি সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগণের সংবিধানসম্মত প্রতিবাদের অধিকার পরিপন্থী। বিএনপি প্রস্তাবিত অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল-২০২৩ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।

যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা চূড়ান্ত : বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক আলোচনা করে যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা চূড়ান্ত হয়েছে। এতে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ১০ দফা অটুট রেখে অন্যান্য দলের দাবিগুলো সংযুক্ত করা হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দলগুলো কী করবে তার একটি যৌথ রূপরেখাও তুলে ধরা হবে। বিএনপি ইতোমধ্যে ২৭ দফার রূপরেখা ঘোষণা করেছে। এ দফার সাথে অন্যান্য দলের প্রস্তাবগুলো সংযুক্ত করা হচ্ছে।

সমমনা দলগুলোর লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে এক মঞ্চ থেকে যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে। কবে এই ঘোষণা আসবে, তা আগামী দু’একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।
যৌথ ঘোষণার বিভিন্ন দফা নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে বিএনপির কিছুটা মতপার্থক্য ছিল। গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দল এ বিষয়ে একমত হয়েছে।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সব দল মিলে যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুত এ ঘোষণা দেয়া হবে।
গণতন্ত্র মঞ্চের ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, আমরা অল্পদিনের মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, বিএনপিসহ অন্যান্য দল নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে- সেটার রূপরেখা যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে তুলে ধরব। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

কোহলির নির্বাসন দাবি গাভাস্কারের

আইপিএল ম্যাচের সময় ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীরের মধ্যে মাঠে যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে তা থামাতে জরিমানার শাস্তি দিলে হবে না বলে মনে করেন কিংবদন্তির ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার। ভারতের এই সাবেক ক্রিকেটারের মতে, একমাত্র কয়েক ম্যাচ নির্বাসিত করলে তবেই ক্রিকেটারদের মধ্যে ভয় ঢুকবে।

সম্প্রচারকারী চ্যানেলে গাভাস্কার বলেছেন, ‘ওদের ম্যাচ ফি-র ১০০ শতাংশ কেটে নেয়া হয়েছে। মানে বিরাট যে টাকা পায় তাতে তার এক কোটি রুপির মতো জরিমানা হয়েছে। সেটা অবশ্য অনেক বড় জরিমানা। গম্ভীরের কত জরিমানা হয়েছে সেটা আমি জানি না। কিন্তু শুধু জরিমানা করে এই ঘটনা থামিয়ে রাখা যাবে না।’

গাভাস্কার মানেন যে মাঠে প্রতিযোগিতা চলাকালীন কোনো ঘটনায় মাথা গরম হতেই পারে। কিন্তু সেটা মাঠেই শেষ করে দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। খেলা শেষেও সেটা জিইয়ে রাখা উচিত নয়। কিন্তু কড়া শাস্তির ভয় না থাকায় ক্রিকেটাররা বার বার এই ভুল করছেন বলে মনে করেছেন তিনি। গাভাস্কার বলেছেন, ‘বিসিসিআইকে নিশ্চিত করতে হবে এই ঘটনা যেন আর না ঘটে। তার জন্য কড়া শাস্তি দিতে হবে। খেলায় প্রতিযোগিতা থাকুক। কিন্তু সেটা শুধু খেলার মধ্যেই থাকুক। এই ধরনের ঘটনা উঠতি ক্রিকেটারদের বিপথে পাঠাতে পারে।’

গাভাস্কারের মতে, একমাত্র নির্বাসনের শাস্তি দিলে তবেই ক্রিকেটাররা ঝামেলায় জড়াবেন না। তিনি বলেছেন, ‘হরভজন-শ্রীসন্থের ঘটনার পরে তো ওদের নির্বাসিত করা হয়েছিল। তা হলে এ ক্ষেত্রে কেন হবে না? নির্বাসনের শাস্তি দিলে যেমন ক্রিকেটাররাও সতর্ক হবে, তেমনই প্রতিটা দলও সজাগ থাকবে। বিসিসিআইকে কড়া পদক্ষেপ নিতেই হবে। নইলে এই ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে।’

উল্লেখ্য, লখনৌ সুপার জায়ান্টস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ম্যাচে বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিরাট কোহলি এবং গৌতম গম্ভীর। তাদের ঝগড়া নিয়ে উত্তাল আইপিএল। দু’জনকেই কড়া শাস্তি দিয়েছেন আইপিএল কর্তৃপক্ষ। ঠিক কী কথা হয়েছিল তাদের মধ্যে? জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।

খেলা শেষ হওয়ার পর কোহলির কাছে যান লখনৌর কাইল মেয়ার্স। কোহলি কেন তাদের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করছেন জানতে চান। ওই সময় গম্ভীর এসে সরিয়ে নিয়ে যান মেয়ার্সকে। তার পরেই বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন কোহলি ও গম্ভীর। ওই প্রত্যক্ষদর্শীর মতে ছোটদের মধ্যে ঝগড়া করেন দিল্লির দুই ক্রিকেটার।

গম্ভীর বলেন, ‘কী বলছিল বল।’ জবাবে কোহলি বলেন, ‘আমি আপনাকে কিছু বলিইনি। আপনি কেন শুধু শুধু এর মধ্যে ঢুকছেন।’ এর পর গম্ভীর বলেন, ‘তুই আমার কোনো খেলোয়াড়কে বলেছিস মানে তুই আমার পরিবারকে গালাগালি দিয়েছিস।’ এর জবাবে কোহলি বলেন, ‘তা হলে আপনি আপনার পরিবারকে সামলে রাখুন।’’ কোহলির উত্তর শুনে গম্ভীর আবার বলেন, ‘তা হলে এখন তুই আমাকে শেখাবি?’

এই ঝামেলার জন্য ম্যাচ ফি-র পুরোটাই জরিমানা করা হয়েছে কোহলির। একই শাস্তি পেতে হয়েছে গম্ভীরকেও। তুলনায় শাস্তি কম হয়েছে আফগান ক্রিকেটার নবীন উল হকের। তিনিও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার ম্যাচ ফি-র ৫০ শতাংশ কেটে নেয়া হয়েছে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা