Home Blog Page 616

‘কাঁটাতারের বেড়া টপকে আসা হিন্দু-মুসলিম সবাইকে ফিরে যেতে হবে’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘যে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে ঢুকেছ, তাকে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে যেতে হবে। সে হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক।’ যদিও শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের নাম করেননি, তবে মালদা জেলার ওই জনসভায় দেয়া বক্তৃতা শুনে মনে করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা মানুষদের কথাই বোঝাচ্ছেন।

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এত দিন বলে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দুদের ‘উদ্বাস্তু’ আর মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণের পরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে যে বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দুরা ভারতে গেছে, তাদেরও কি ফেরত পাঠানো হবে?

এ প্রশ্নও উঠছে যে বিজেপি কি তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের নীতি পরিবর্তন করল?

হিন্দুদের মনে আশঙ্কা
শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণের ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এমন এলাকায়, যেখানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া অনেক মানুষ বসবাস করে।

কলকাতার কাছে এমনই একটা এলাকা যাত্রাগাছি। যেখানে ৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষরা বাস করছে। তাদের মধ্যে হিন্দুরা বড় সংখ্যা হলেও মুসলমানরাও রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই এখন ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছে এবং বিজেপি ওই অঞ্চলে যথেষ্ট সংখ্যক ভোট পায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও গিয়েছিলেন ওই এলাকার এক বাড়িতে দুপুরের খাবার খেতে।

ওই পাড়াতে এখন শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণ নিয়েই আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে ১৯৮৬ সালে ওই এলাকায় যাওয়া এক বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘আমরা তো এটা নিয়েই আলোচনা করছি। সবাই দেখেছি শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণটা। আমাদের মধ্যে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভাষণটা শোনার পরে যে এত বছর পরে তিল তিল করে এখানে সব গড়ে তোলার পরে যদি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব।’

তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের বড় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখ থেকে যখন এমন কথা শোনা যায়, তাহলে তো চিন্তা হয়ই।

আবার ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার এক বাসিন্দা যিনি ৯০-এর দশকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে নাগরিক হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার তো কোনো আশঙ্কা হচ্ছে না ওই ভাষণ দেখার পরে।’

প্রথম ব্যক্তি সরাসরি রাজনীতি না করলেও দ্বিতীয় ব্যক্তি বিজেপির সমর্থক।

তার কথায়, ‘আমার মনে হয় যে শুভেন্দু অধিকারী হয়ত আবেগের বশে বলে ফেলেছেন। কিন্তু হিন্দুদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিবে, এটা হতে পারে না। বিশ্বের সব হিন্দুদের আশ্রয়স্থল এই দেশ। নাগরিকত্ব আইন বদল করেছে যারা, তাদের তাড়ানো হবে না।’

‘নীতিতে বদল হয়নি’
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করার সময় থেকেই তাদের নীতি ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে যেসব হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈনরা ভারতে গিয়েছে বা যেতে চায় ‘ধর্মীয় অত্যাচার’-এর কারণে, তাদের ভারতে উদ্বাস্তু বলে চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমিক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘জনসঙ্ঘের সময় থেকে এ নিয়ে আমাদের যে নীতি তাতে কোনো বদল হয়নি। যারা নিজেদের ধর্ম রক্ষার তাগিদে, সম্ভ্রম রক্ষার তাগিদে, জীবন রক্ষার তাগিদে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, আমাদের দেশে এলে তারা নাগরিকত্ব পাবেন এবং উদ্বাস্তু হিসেবে তাদের দেখা হবে। তাদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা হবে না। এটা জনসঙ্ঘের সময় থেকেই নীতি ছিল, পরে যখন বিজেপি গঠিত হল, ওই মূল নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

তার কথায়, ‘আমরা এই মতাদর্শগত নীতিকে কখনোই লঘু করতে দিব না। এই কারণেই সিএএ, এনআরসির কথা বলা হয়েছে। যারা একদিন ভারতকে নাপাক বলে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন পাকিস্তান নামক একটা রাজনৈতিক মস্তিষ্ক-প্রসূত রাষ্ট্রের দাবি করে, যার জন্য মৃত্যু হয়েছিল লাখ লাখ মানুষের, তারা ভারতে এলে তো অনুপ্রবেশকারীই বলতে হবে। কারণ তাদের মসজিদে তো কেউ আগুন লাগিয়ে দেয়নি, তাদের বাড়ির মেয়েকে তুলে নিয়ে কেউ বিয়ে করছে না বা ধর্মান্তরিত করছে না।’

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য নিয়ে শমিক ভট্টাচার্যের ব্যাখ্যা, ‘বক্তব্যটা একটু ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

‘উদ্বাস্তুরা নাগরিক নয়’
উদ্বাস্তু নেতারা বলছেন এখনো যে লাখ লাখ মানুষ, যারা ১৯৪৭ থেকে অনেক দশক ধরে ভারতে গেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে কেন বিজেপি কোনো স্পষ্ট নীতি নিচ্ছে না?

উদ্বাস্তু নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস বলছিলেন, ‘উদ্বাস্তু প্রশ্নে বিজেপি একেক সময়ে একেকটা কথা বলে। যখন যেখানে ভোটের জন্য যেমন প্রয়োজন সেভাবেই কথা বলেন তারা। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে সেভাবেই দেখছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে গত সাড়ে সাত দশক ধরে যারা এসে পড়েছে ভারতে, তাদের একটা বিরাট অংশ এখনো নাগরিকত্ব পায়নি। বাংলাদেশ থেকে মূলত সেদেশের সংখ্যালঘুরাই তো এসেছে, তাদের ফিরে যাওয়া সম্ভবও না। তাই আমাদের দাবি, যারা এসে গেছে তাদের সবাইকে নাগরিকত্ব দেয়া হোক। এরা বলছে সিএএ করে নাগরিকত্ব বিবে, কিন্তু সেটা যে সম্ভব নয়, তা আমরা বারবার বলেছি। তাই শুভেন্দু অধিকারীর এমন কথার বিরোধিতাই করছি আমরা।’

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশভাগের পর থেকে প্রায় দুই কোটি মানুষ ভারতে গিয়েছে, যাদের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ এখনো ‘আইনত অনাগরিক’।

যদিও পূর্ব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া উদ্বাস্তুরা নিজেরাই স্বীকার করে, তাদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো পথে ভারতের নাগরিকত্ব ‘সংগ্রহ’ করে নিয়েছে। সূত্র : বিবিসি

নরসিংদীতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিবের বাড়িতে আগুন

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের বাসভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার বিকেলে শহরের চিনিশপুরস্থ বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত খায়রুল কবির খোকনের বাড়িটিতে এ অগ্নিসন্ত্রাসের হয়।

জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে একদল যুবক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে খোকনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কেউ কিছু বুঝার আগেই হামলাকারীরা চলে যায়। স্থানীয়রা নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে খায়রুল কবির খোকনের দোতলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলার আংশিক পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খোকনের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূইয়ার সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২৫ মে মোটরসাইকেল শোডাউনে গুলিবিদ্ধ হয়ে পদবঞ্চিত দুই ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়। এ ঘটনায় খোকন ও তার স্ত্রীসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ্য করে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন নিহত ছাত্রদল নেতা সাদেকুর রহমানের বড় ভাই মো: আলতাফ হোসেন। এছাড়াও খোকন বিরোধী পদবঞ্চিত নেতাকর্মী ও হাজীপুর এলাকাবাসী রোববার সকালে খোকন ও তার স্ত্রীসহ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এবং এছাড়া শহরের মোড়ে মোড়ে ফাঁসির দাবি জানিয়ে পোস্টার লাগানো হয়।

বিদেশীরা আমাদের প্রভু নয়, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোনো নিষেধাজ্ঞায় নির্বাচন বন্ধ হবে না। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বিদেশীরা আমাদের বন্ধু, প্রভু নয়। বিএনপি অসুস্থ রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিএনপির পরাজয় হবে।

আজ রোববার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের এক যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সাথে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বিএনপি দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের বারবার ক্ষতি করেছে। আর তা মেরামত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষতি করতে চাইছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেরানীগঞ্জ ও খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর নাটক করেছে। এসবের মধ্য দিয়ে তারা ভুল বার্তা দিচ্ছে। তবে নেতাকর্মীদের বলব, আপনারা শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। আমরা আগ বাড়িয়ে কিছু করব না। তবে কোনো হামলা হলে ছাড় দেয়া হবে না।

ওবায়দুল বলেন, দেশের সংবিধানে যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপার উল্লেখ নেই। তাই এ বিষয়ে কথা বললে বিএনপি ভিসা নীতিতে আক্রান্ত হবে। এখন যারা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের ব্যাপারে আমেরিকার পদক্ষেপ কী হবে, সেটা দেখার বিষয়। আওয়ামী লীগ অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। কিন্তু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নোংরা ও নষ্ট রাজনীতি করে বিএনপি। এদের কাছে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। তাই শপথ নিতে হবে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক এই অপশক্তি বিএনপিকে প্রতিহত করতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করেছেন শেখ হাসিনা। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াতে আছি। আর বাধা দিচ্ছে বিএনপি। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বিপরীত পথে হাঁটছে বিএনপি। তাই ভিসা নীতির কারণে তারাই চাপে রয়েছে। বিএনপির বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আমাদের শান্তি সমাবেশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসবের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার গল্প সারা দুনিয়া থেকেই আমরা শুনছি। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে আমি ও আমার পরিবার শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করি। তিনি আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

ভারতে গণতন্ত্রের ‘মন্দির’ উদ্বোধন করলেন মোদিই

বিতর্কের মধ্যেই দিল্লিতে ভারতের নতুন পার্লামেন্ট ভবনের উদ্বোধন হলো। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘বাদ দিয়ে’ই রোববার নতুন পার্লামেন্ট ভবনের উদ্বোধন করলেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর পরনে ছিল সাদা কুর্তা, সোনালি জ্যাকেট এবং তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে উত্তরীয়। রোববার নতুন পার্লামেন্ট ভবন উদ্বোধনের আগে ঐতিহাসিক রাজদণ্ড ‘সেঙ্গোল’-এর সামনে উপুড় হয়ে শুয়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ঘটনাচক্রে, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথমবার পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের আগেও সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করেছিলেন তিনি। পরে অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাসের সময়েও মোদিকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করতে দেখা গিয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে সংসদ ভবন উদ্বোধনের এই বহর দেখে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। এই অনুষ্ঠানকে মোদির ‘রাজ্যাভিষেক’ বলে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। নতুন সংসদ ভবনের সাথে কফিনের তুলনা করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে লালুপ্রসাদ যাদবের দল আরজেডি। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও।

সংসদের নতুন ভবন উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না করা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বিতর্ক চলছিল জাতীয় স্তরে। মোদির হাতে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনের বিরোধিতা করে এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে ২০টি বিরোধী দল। গত মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র হাতে পেতেই পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল প্রথম বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর একে একে কংগ্রেস আম আদমি পার্টি, ডিএমকে, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দেয়। তার মধ্যেই ‘সেঙ্গোল’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই রাজদণ্ডকে নতুন সংসদ ভবনে স্থাপন করার মধ্যে মোদীর রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা দেখছেন অনেকে। প্রথমত, বার বার নেহরুর কথা তুলে এবং স্বাধীনতা প্রাপ্তির রাতের বর্ণনা দিয়ে কংগ্রেসকে চাপে ফেলার কৌশল। দ্বিতীয়ত, তামিলনাড়ুর ঐতিহ্য এই রাজদণ্ডকে অনুষ্ঠানের কেন্দ্রে এনে সেই রাজ্যের শাসকদল ডিএমকে-কে কোণঠাসা করার চেষ্টা।

উল্লেখ্য, গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংবাদ সম্মেলনে তামিলনাড়ুর ঐতিহ্য সংবলিত এই সেঙ্গোলের ইতিহাস বর্ণনা করেন। জানান, ব্রিটিশদের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতীক হিসাবে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এই সেঙ্গোল গ্রহণ করেছিলেন। পাল্টা কংগ্রেসের রাজ্যসভা এমপি জয়রাম রমেশ বলেন, সেঙ্গোলের ইতিহাস নিয়ে কেন্দ্র যা বলছে, চেন্নাইয়ের এক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কল্পনাপ্রসূত। তার মতে, চেন্নাইয়ে তৈরি এই রাজদণ্ডটি ১৯৪৭ সালের অগস্টে জওহরলাল নেহরুকে উপহার দেয়া হয়েছিল। তার কথায়, ‘কিন্তু লর্ড মাউন্টব্যাটেন, রাজাজি এবং নেহরু এই রাজদণ্ডকে ক্ষমতা প্রতীক হিসাবে বর্ণনা করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই।’

নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন

রোববার সকালেই নয়া সংসদভবন চত্বরে পৌঁছে যান মোদি। সেখানে তার সাথে ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। পাশাপাশি বসে পুজোয় অংশ নেন দু’জনে। পুজায় সংকল্প করেন মোদি। আরতিও করেন। এর পর সামনে রাখা ‘সেঙ্গোল’ দেখে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তার হাতে ‘সেঙ্গোল’ তুলে নাম তামিল অধিনাম পুরোহিতেরা। এর পর পুরোহিতদের দ্বারা পরিবৃত হয়েই নয়া পার্লামেন্ট ভবনের অন্দরে প্রবেশ করেন মোদি। নতুন সংসদ ভবনে লোকসভার স্পিকারের আসনের কাছেই রাখা থাকবে ‘সেঙ্গল’। সেই মতো সেখানেই সোনার রাজদণ্ডটি স্থাপন করেন মোদী। তার পর পুরোহিতদের প্রণাম সেরে বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সম্মান জানানো হয় সংসদ ভবনের নির্মাণে যুক্ত থাকা কর্মীদের। গলায় পরানো হয় উত্তরীয়। এর পর বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে শুরু হয় বিশেষ সর্বধর্ম প্রার্থনাসভা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় দুপুর ১২টা নাগাদ। জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু হয় সেই পর্ব। অনুষ্ঠান শেষে ৭৫ রুপির মুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী

নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ভারতের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। নতুন সংসদ ভবন নতুন ভারতের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এটি গণতন্ত্রের মন্দির। ভারতীয় গণতন্ত্রের এই সোনালি মুহূর্তের জন্য আমি সকল দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই। আগামী দিনে এই নতুন সংসদ স্বনির্ভর ভারতের উত্থানের সাক্ষী হয়ে উঠবে। ভারত যখন এগিয়ে যায়, তখন বিশ্ব এগিয়ে যায়। সংসদের এই নতুন ভবন ভারতের উন্নয়নের সাথে সাথে বিশ্বের উন্নয়নের আহ্বান জানাবে। ভারত গণতন্ত্রের জননী। পবিত্র সেঙ্গোল আজ সংসদে স্থাপিত হয়েছে। চোল রাজবংশের সেঙ্গোল ন্যায়বিচার, ন্যায়পরায়ণতা এবং সুশাসনের প্রতীক। যখনই এই সংসদ ভবনে কার্যক্রম শুরু হবে, সেঙ্গোল আমাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করবে।’ বিরোধীদের প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, যে জনপ্রতিনিধিরা নতুন অনুপ্রেরণা নিয়ে এই সংসদে বসবেন, তাঁরা গণতন্ত্রকে নতুন দিক নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।’

পুরনো সংসদ ভবনের পাশেই নতুন ভবন তৈরি করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার বর্গ মিটার জায়গার উপর গড়ে উঠেছে ত্রিভুজাকৃতি চারতলা ভবনটি। মোট তিনটি দরজা রয়েছে। এগুলোর নাম— জ্ঞানদ্বার, শক্তিদ্বার ও কর্মদ্বার। নতুন ভবনে লোকসভা, রাজ্যসভা, সেন্ট্রাল লাউঞ্জ, সংসদীয় কর্তৃপক্ষের কার্যালয়, কনস্টিটিউশন হল, গ্রন্থাগার, ডাইনিং রুম এবং থাকছে পর্যাপ্ত গাড়ি রাখার ব্যবস্থা। ভারতের জাতীয় পাখি ময়ূরের আদলে তৈরি হয়েছে লোকসভা। রাজ্যসভা তৈরি হয়েছে জাতীয় ফুল পদ্মের আদলে। দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার বর্গফুট মেঝেতে যে কার্পেট বিছানো হয়েছে, তা তৈরি করেছে দেশের ১০০ বছরের পুরনো কার্পেট প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ওবিতি কার্পেট’, যার বর্তমান কর্ণধার বঙ্গসন্তান রুদ্র চট্টোপাধ্যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই কার্পেট তৈরিতে কাজে লাগানো হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি এবং মির্জাপুর জেলার ৯০০ শিল্পীকে। দু’টি কক্ষের জন্য ১৫০টি করে কার্পেট বোনা হয়েছে। তার পর সেই কার্পেটগুলোকে জুড়ে একটি পূর্ণ কার্পেট বানানো হয়েছে।

রুদ্র বলেন, ‘রাজ্যসভার জন্য যে কার্পেট বানানো হয়েছে, তাতে লাল আভা দেয়া হয়েছে। আর ময়ূরপুচ্ছের রঙের বিষয়টি মাথায় রেখেই লোকসভার কার্পেটের রং করা হয়েছে সবুজ।’ এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিখ্যাত উপকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সংসদ ভবন। অন্দরসজ্জাতেও রয়েছে নানা চমক। তার মধ্যে রয়েছে নাগপুরের সেগুনকাঠ থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর থেকে আনা কার্পেট! এ ছাড়াও রাজস্থানের সরমথুরা থেকে লাল এবং সাদা বেলেপাথর এনে তৈরি হয়েছে সংসদ ভবনের একাংশ। রাজ্যসভা এবং লোকসভার ‘ফলস সিলিং’ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে ইস্পাতের কাঠামো, যা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দমন এবং দিউ থেকে আনানো।

কফিন বিতর্ক

নতুন সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করেছে আরজেডি। রোববার টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করা হয় লালুর দলের তরফে। দেখা যায়, ছবিটির বাঁ দিকে একটি কফিন, ডান দিকে নতুন সংসদ ভবন। বিবরণীতে লেখা, ‘এটা কী?’ দলের নেতা শক্তিসিংহ যাদব বলেন, ‘গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হচ্ছে, সেটা বোঝাতেই টুইটে কফিনের ছবি দেওয়া হয়েছে। দেশ এই সংসদ ভবনকে মেনে নেবে না। সংসদ হলো গণতন্ত্রের মন্দির এবং আলোচনার পীঠস্থান।’

পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও। সুশীল মোদি পাল্টা টুইট করে হুঁশিয়ারি দেন, ‘যারা নতুন সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মামলা দায়ের করা হবে।’ কফিন বিতর্কে বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া আবার এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘২০২৪ সালে দেশের মানুষ আপনাদের সেই কফিনেই কবর দেবে।’

অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ

নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনের অনুষ্ঠানকে মোদির ‘রাজ্যাভিষেক’ বলে কটাক্ষ করেছেন রাহুল। সংসদ ভবনের উদ্বোধন নিয়ে একটি টুইটে কংগ্রেস নেতা লিখেছেন, ‘সংসদ আসলে দেশের মানুষের গলার স্বর। প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনের উদ্বোধনকে রাজ্যাভিষেক ভেবেছেন!’ সংসদ ভবনের উদ্বোধনে পুজো, যজ্ঞ এবং প্রার্থনার আয়োজন দেখে কটাক্ষ করেছেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার। তিনি বলেন, ‘সকালের অনুষ্ঠান আমি দেখেছি। আমি যে ওখানে যাইনি, তাতে আমি খুশি। ওখানে যা যা হয়েছে, দেখে আমি চিন্তিত। আমরা কি দেশটাকে আরো পিছিয়ে দিচ্ছি?’ পাওয়ারেরও প্রশ্ন, ‘এই অনুষ্ঠান কি শুধুমাত্র কয়েক জন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল?’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পাল্টানোর রাজনীতিতে বোধহয় বেশি বিশ্বাস করেন। সংসদ ভবন না পাল্টে প্রধানমন্ত্রী নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে দেশের উপকার হতো। রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানোই প্রমাণ করে, প্রধানমন্ত্রী আদিবাসী ও নারীদের সম্মান করেন না।’
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

ডলার সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র : যেমন প্রভাব পড়তে পারে

ডলার সংকটের কারণে কয়লার দাম দিতে না পারায় সাময়িকভাবে বন্ধ হতে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র- পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কয়লা না থাকায় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দু’টি ইউনিটের একটিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

পূর্ণ সক্ষমতায় চললে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। আর বর্তমানে কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ হাজার টনের মতো কয়লা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। আরেকটি ইউনিট হয়তো তিন বা চার তারিখের দিকে বন্ধ হয়ে যাবে কয়লা স্বল্পতার জন্য।’

এরপর জুন মাসে অন্তত তিন সপ্তাহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ থাকতে পারে বলে অনুমান করেন খোরশেদুল আলম।

এই সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকাতেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিভাবে তৈরি হলো কয়লার সংকট?
পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা কিনতে ঋণ দেয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চীনা অংশীদার চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি (সিএমসি)। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব এই সংস্থা আর বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ বিনিয়োগে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২০ সালে।

আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ করে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। কেন্দ্রের পরিচালনার দায়িত্বও বিসিপিসিএলের ওপরই।

শুরু থেকেই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা কেনার দায়িত্ব সিএমসির ওপর ছিল বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদুল আলম। তারা কয়লা কেনার জন্য অর্থ দিয়ে থাকে এবং প্রতি ছয় মাস পরপর কয়লার টাকা আদায় করে।

খোরশেদুল আলম বলেন, কয়লা আমদানির বকেয়া বিল না দিতে পারার কারণে নতুন করে কয়লা কেনা যাচ্ছে না।

‘এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) বকেয়া হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে তারা যে পেমেন্ট করেছে, সেটি শোধ করার কথা ছিল এই এপ্রিলে। এপ্রিলে আমরা এই টাকা দিতে পারিনি।’

এই বকেয়া বিল পরিশোধ না করা হলে সিএমসি আর কয়লা কেনার জন্য টাকা দেবে না। ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লাও কেনা সম্ভব হবে না।

ডলার সংকটের কারণে কয়লার বকেয়া বিল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান খোরশেদুল আলম। সপ্তাহ দুয়েক আগে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে ডলারের কিছুটা সংকট থাকায় কয়লার টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সেসময় তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে ‘সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই’ এই সমস্যার সমাধান হবে বলে।

সংকটের সমাধানে কী করা হচ্ছে?
চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমসিকে এরই মধ্যে ৬০ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিসিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদুল আলম।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার ও আমরা এ মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার তাদের ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। এরই মধ্যে ৬০ মিলিয়ন ডলার পেমেন্ট করা হয়েছে।’

‘আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে আমরা কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের কয়লা কেনার অর্থ দিতে রাজি করতে পারবো।’

সিএমসির সাথে এই বিষয়ে আলোচনা শেষে কয়েক দিনের মধ্যেই তারা এলসি খুলতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন খোরশেদুল আলম।

‘এলসি খোলার পর জাহাজ যাবে, কয়লা লোড হবে, তারপর আসবে, আনলোড হবে – সব মিলিয়ে কমপক্ষে ২৫ দিন লাগবে,’ বলেন তিনি।

লোডশেডিংয়ে কতটা প্রভাব পড়বে
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ থেকে সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে গড়ে প্রতিদিন ১২ থেকে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

তবে কখনো কখনো দৈনিক চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎও উৎপাদন হয়। যেমন এবছরের ২৯ এপ্রিল সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। সেদিন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৫৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

কিন্তু পিডিবির হিসাবে, চাহিদার চেয়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও ওইদিন বাংলাদেশে বিদ্যুতের যোগান ছিল মোট চাহিদার চেয়ে ৯০ মেগাওয়াট কম।

কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা থাকলেও সঞ্চালন ও সরবরাহ লাইনের অভাব থাকায় গ্রাহকদের কাছে ঠিকমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় না। তাই অনেক এলাকাতেই গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সেবা ঠিকমতো পান না।

চালু হওয়ার পর থেকে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গত তিন বছরে প্রতিদিনই এর পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। তাই এই কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন পিডিবির একজন পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শামীম হাসান।

তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে যদি বৃষ্টি হয় তাহলে হয়তো বিদ্যুতের ওপর তেমন চাপ পড়বে না, কারণ বৃষ্টির সময় চাহিদা কম থাকে। কিন্তু যদি আবহাওয়া পরিষ্কার থাকে আর তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপর থাকে, তাহলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বাড়বে।’

সেক্ষেত্রে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যেসব অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, সেসব এলাকায় অপেক্ষাকৃত বেশি চাপ পড়তে পারে। আবার ভারসাম্য রক্ষা করতে সারা দেশেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান শামীম হাসান।

সূত্র : বিবিসি

আবারো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হলেন এরদোগান

রজব তাইয়্যেব এরদোগান আবারো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ৯৭ শতাংশ ব্যালট বাক্সের গণণা শেষ হয়েছে। এতে এরদোগান পেয়েছেন ৫২.১ শতাংশ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগ্লু পেয়েছেন ৪৭.৯ শতাংশ ভোট।

রোববার (২৮ মে) দ্বিতীয় দফায় এ ভোটগ্রহণ হয়।

প্রথম দফায় কেউ নিয়ম অনুসারে ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করতে হয়।

ইতোমধ্যে কাতারের আমির, হাঙ্গেরির ও লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী, ভেনিজুয়েলার, ইরান, আজারবাইজান ও সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গত ১৪ মে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম দফার ভোটে এরদোগান পান ৪৯.৫২ শতাংশ ভোট আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিচদারোগ্লু পান ৪৪.৮৮ শতাংশ ভোট।

ওই ধাপে তৃতীয় হয়েছিলেন সিনান ওগান। তিনি পান ৫.১৭ শতাংশ ভোট। এ ধাপে অবশ্য তিনি এরদোগানকে সমর্থন জানিয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, দেশটির ৬ কোটি ৪০ লাখ বৈধ ভোটারের মধ্যে প্রথম ধাপে ৪৪.৮৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন।

২০১৪ সাল থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এরদোগান। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আর ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত।

সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, ডেইলি সাবাহ

যে সিনেমা টানা ২৭ বছর ধরে হলে চলছে

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যে ছবিটি সিনেমা হলে একটানা প্রদর্শিত হয়েছে তার নাম দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, সিনেমা-প্রেমীদের কাছে যা সংক্ষেপে ডিডিএলজে নামে পরিচিত।

বলিউড কাঁপানো এই ছবি মুক্তি পাওয়ার পর ২৭ বছর ধরে মুম্বাইয়ের একটি সিনেমা হলে প্রতিদিন সকালে প্রদর্শিত হয়েছে।

এই ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি সুপারস্টার হয়েছেন শাহরুখ খান, কাজল এবং পরিচালক আদিত্য চোপড়া।

হাসতে হাসতে কাজল বিবিসিকে বলেছেন, এই ছবি যে একদিন এত বড় ঘটনা হয়ে উঠবে এবং দর্শকদের কাছে এত বছর ধরে আদৃত হবে সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।

‘আমরা কয়েকজন তরুণ-তরুণী মিলে শুধু একটা জনপ্রিয় ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলাম। এটাই ছিল আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য। তবে ছবিটি নিয়ে পরে যা হয়েছে তা এক বিশাল ঘটনা! আমরা যা করেছি সেটা সত্যিই যাদুকরী এবং এর পুনরাবৃত্ত সম্ভব নয়,’ বলেন তিনি।

হিন্দি সিনেমার জগতে কাজল অত্যন্ত জনপ্রিয় এক তারকা। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের সাফল্যের পেছনেও তিনি ছিলেন অন্যতম।

ছবিতে ভারতের কিং খান শাহরুখের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন কাজল।

‘কখনো বুঝতে পারিনি’

ডিডিএলজে মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালের অক্টোবর মাসে।

এই সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছিল মুম্বায়ের মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে। তার পর থেকেই ছবিটি সেখানে ২৭ বছর ধরে প্রতিদিন দেখানো হয়েছে। শুধু কোভিড মহামারির সময় এর প্রদর্শনী অল্প কিছু সময়ের জন্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এখনো সেই এতিহ্য অব্যাহত রয়েছে।

কাজল বলছেন, ‘ছবিটির জন্য আমরা যখন শুটিং করতে শুরু করলাম তারপরে কোনো একদিন এবং পরে যখন মুক্তি দেয়া হলো, আমরা কখনো ভাবিনি যে এটি এত বড় ঘটনা হয়ে উঠবে।’

‘ছবিটি তৈরির জন্য আমরা কৃতিত্ব দাবি করতে পারি। কিন্তু পরে এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে হলে দেখানো- আমি মনে করি এটা তাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে যারা ছবিটিকে গ্রহণ করেছে, তাদের পরিবারের ঐতিহ্যের অংশ করে নিয়েছে, নিজেদের ছেলে-মেয়ে ও নাতি পুতিদের সিনেমাটি দেখিয়েছে, এমনকি বিয়ের প্রস্তাব দিতেও ছবিটিকে ব্যবহার করছে।’

ছবির কাহিনী

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবিতে দেখা যায়, ভারতীয় একদল তরুণ তরুণী ছুটিতে ইউরোপে বেড়াতে আসে। এসময় অপূর্ব এক নৈসর্গিক পরিবেশে সিমরান ও রাজ পরস্পরের প্রেমে পড়ে যায়।

সিমরান চরিত্রে কাজল এবং রাজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান।

সিমরানের বাবা যখন বুঝতে পারেন যে তার মেয়ে রাজের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন তিনি তার পুরো পরিবার নিয়ে লন্ডন থেকে ভারতে চলে যান তার পছন্দের এক পাত্রের সাথে কন্যার বিয়ে দেয়ার জন্যে।

কিন্তু রাজ সিমরানকে এতটাই ভালোবেসে ফেলে যে সেও ভারতে চলে যায়।

পরে সিমরানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নায়ক রাজ সিমরানের বাবা মায়ের মন জয় করার চেষ্টা করে।

‘দিন শেষে প্রত্যেক সন্তানই চায় তাদের পিতামাতা তাদের দিকে তাকিয়ে বলুক, তুমি বেশ ভালো করেছ, আমি তোমার সাথেই আছি। আমার মনে হয় এই বিষয়টাই সবাইকে নাড়া দিয়েছে এবং সবাই এর মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেয়েছে,’ বলেন কাজল।

প্রতিদিন সকালে

ডিডিএলজে মুক্তি পাওয়ার পর প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১১টায় মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে ছবিটি দেখানো হতো। টিকেটের দাম ছিল মাত্র ৩০ রুপি।

সিনেমা হলের বাইরের দেয়াল ছিল উজ্জ্বল কমলা রঙের। সেখানে টাঙ্গানো বিশাল এক বিলবোর্ড যাতে শাহরুখ খান ও কাজলের ছবি।

এসআরকের পরনে সেই হার্লি ডেভিডসন চামড়ার জ্যাকেট। সিমরানকে সে তার কাঁধের উপরে তুলে নিয়েছে। বিলবোর্ডে লেখা- ‘আসুন, আবার প্রেমে পড়ুন।’

দর্শকরা যখন থিয়েটারের ভেতরে প্রবেশ করে, স্পিকার থেকে তাদের কানে ভেসে আসে এই ছবির জনপ্রিয় সব গান। হলের মাঝখানে একটি হিন্দু মন্দির। তার চারপাশ ঘিরে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে লাল সবুজ বাতি।

‘সেখানে গেলে মনে হবে যে আপনি অতীতে ফিরে গেছেন। আসনগুলো একই রঙের। মঞ্চটাও একই ধরনের। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কুড়িতম বার্ষিকীতে আমরা দুজনেই মারাঠা মন্দিরে গিয়েছিলাম।’

‘ওই থিয়েটারে ফিরে যাওয়া দারুণ এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছিল। সেখানে আমরা প্রথমবারের মতো সিনেমাটি দেখি এবং দেখতে দেখতে আমরা আমাদের অভিনয়ের সমালোচনা করি- এই কাজটা আমরা আরো ভালো করতে পারতাম, ওই কাজটা আরো ভালো হতে পারতো,’ বলেন কাজল।

কাজল বলেন, লোকজন এখনো সিনেমাটি দেখতে যাচ্ছে। দিনের পর দিন। বিশেষ করে মারাঠা মন্দিরে। সারা দেশ থেকেই লোকজন এখানে আসছে হলে বসে এই সিনেমা দেখতে।

এক দম্পতি দর্শকের কথা

এই ছবি দেখতে যেমন এসেছিলেন ভিজে এবং তার স্ত্রী প্রীতি।

তারা ৫৬০ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন এই সিনেমা দেখতে। তাদের বিয়ের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে। একটা রোমান্টিক ছবি দেখার মাধ্যমে তারা তাদের বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করতে চেয়েছেন।

প্রীতি এই ছবিতে তার সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্যটির কথা বর্ণনা করছিলেন। সেটি হচ্ছে বিখ্যাত সেই ট্রেনের দৃশ্য যখন সিমরানের পিতা তার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন- ‘সিমরান যাও, সিমরান যাও।’

কাজল একটা মজার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তারা তখন জয়পুরে শুটিং করছিলেন।

‘আমরা যে হোটেলে উঠেছি তার একজন শেফ আমার কাছে এসে বললো- ম্যাম, আপনাকে একটা কথা আমার বলতেই হবে- আমি আমার স্ত্রীকে ডিডিএলজে দেখাতে ২৩বার সিনেমা হলে নিয়ে গেছি। এবং তার পরেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেই।’

‘আমার তখন মনে হলো, ও মাই গড, এটা তো একটা দারুণ ঘটনা। এই সিনেমা দেখতে যাওয়া নিয়ে লোকজনের নানা ধরনের গল্প আছে। এটা তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মারাঠা মন্দিরে সিনেমাটি দেখতে গেলে দারুণ অনুভূতি হবে, মনে হবে আরে…আমি তো এটা দেখেছি, এটা তো সেই একই পপকর্ন, একই পোশাক এবং এটা তো গরুর সেই ঘণ্টাটা।’

গরুর এই ঘণ্টা সিমরান সুইজারল্যান্ড থেকে সুভ্যেনির হিসেবে সংগ্রহ করেছিল। মারাঠা মন্দিরে একটি কাঁচের বাক্সর ভেতরে ঘণ্টাটা রাখা এবং তার পাশেই রাখা সোনার এক ট্রফি।

আদিত্য চোপরার অভিষেক

বলিউড জগতে পরিচালক আদিত্য চোপরার অভিষেক হয় এই দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবি নির্মাণের মধ্য দিয়ে। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। এর আগে ১৮ বছর বয়স থেকেই তিনি তার বাবা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ইয়াশ চোপরার সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।

কাজল বলেন, ‘নতুন পরিচালক আদির সাথে কাজ করা আমার জন্য খুব সহজ ছিল। কারণ তাকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনতাম। আমরা আসলেই খুব ভালো বন্ধু। ফলে আমরা যখন কাজ শুরু করি কাজটা খুব স্বাভাবিকভাবেই এগিয়েছে।’

‘আমরা সবাই খুব আনন্দ করেছি। একজন আরেকজনকে নিয়ে মজা করেছি। আমার জন্য সবচেয়ে মজার ছিল ইউরো রেলে চড়া। আমরা সবাই বাসে করে সারা সুইজারল্যান্ডে ঘুরে বেড়িয়েছি। এই ছবির শুটিং করতে গিয়ে আমরা সবাই দারুণ সময় কাটিয়েছি,’ বলেন তিনি।

মজার অভিজ্ঞতা

‘কাপড় বদলাতে হবে। কৃষকের একটি গরুর শেডে গিয়ে আমাকে শাড়ি পরতে হয়েছিল। আমার পাশেই ছিল একটি গরু। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমি আসলেই সেখানে কাপড় বদলাচ্ছি। খুব দ্রুত শাড়ি পরে ফেললাম। বললাম আমি রেডি, শট দেয়ার জন্য আমি রেডি।’

এই ছবিতে কাজলসহ আরো অনেকেরেই বয়স ছিল কুড়ির ঘরে।

কাজল জানান, ইয়াশ চোপড়া এবং তার স্ত্রী শুটিংয়ের সময় তাদের ওপর সবসময় কড়া নজর রাখছিলেন। কারণ এই ছবির জন্য তিনি তার ছেলেকে সব অর্থ দিয়েছিলেন।

ডিডিএলজে ছবির গান, যেগুলোতে কাজল ঠোঁট মিলিয়েছেন, তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্লে ব্যাক কুইন হিসেবে পরিচিত প্রয়াত লতা মঙ্গেশকার।

“এই ছবির সবগুলো গান আমার খুব প্রিয়। এই গানগুলো সর্বকালের। আজকের দিনেও এগুলো আমার প্রিয় গান। তার পরেও আমি বলব ‘মেন্দি লাগাকে রাখ না’ আমার সবচেয়ে প্রিয়।”

গানটি পরে ভারতে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুবই পরিচিত একটি গান হয়ে উঠেছে।

ডিডিএলজে ১০টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জয় করেছে। এই ছবি দিয়েই রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন কাজল, এসআরকে এবং আদিত্য চোপরা।

কাজল বলেন, ‘আমি আশা করব লোকজন এখনো এই ছবি উপভোগ করুক, দেখুক এবং তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ করে তুলুক। ছবিটির প্রতি তাদের ভালোবাসা অব্যাহত থাকুক।’

সারা বিশ্বে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিডিএলজে সে সময় প্রায় দুই কোটি ডলার আয় করেছে, যা ছিল ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যবসা-সফল সিনেমা।

সূত্র : বিবিসি

রাশিয়ার ‘ব্যাপক’ ড্রোন হামলায় কিয়েভে একজন নিহত

ইউক্রেনের রাজধানীতে ‘ব্যাপক’ রাশিয়ান ড্রোন হামলার পর কিয়েভে একজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো রোববার এ কথা বলেছেন।

মেয়র এবং সাবেক বক্সার টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘৩৫ বছর বয়সী এক মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৪১ বছর বয়সী এক লোক মারা গেছে।’ একটি পেট্রোল স্টেশনের কাছে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিধ্বস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, কিয়েভের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী শহরের দিকে যাওয়া ‘২০টিরও বেশি ড্রোন’ গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং শহরের বাসিন্দাদের অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘আশ্রয়স্থলে থাকুন। আক্রমণটি ব্যাপক!’

তিনি বলেন, হলোসিভস্কি জেলার একটি কোম্পানির চত্বরেও আগুন লেগেছে। রুশ বাহিনী মে মাসজুড়ে কিয়েভকে টার্গেট করেছে।

স্থানীয় বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হি পপকো শুক্রবার বলেছেন, চলতি মাসে ১৩টি হামলা হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলার রিপোর্টও বহুগুণ বেড়েছে।

শনিবার ওইসব এলাকায় গোলাবর্ষণে দু’জন নিহত হয়েছে বলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ক্রেমলিনসহ ক্রমবর্ধমান সংখ্যক হামলা ও নাশকতা অভিযানের জন্য মস্কো কিয়েভ এবং তার পশ্চিমা সমর্থকদের দায়ী করেছে, তবে ইউক্রেন এ সব হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
সূত্র : বাসস

ট্রেইলারেই বিতর্কের জন্ম দিলো ‘দ্য ডায়েরি অব ওয়েস্ট বেঙ্গল’

ভারতে ‘দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ নামে একটি হিন্দি সিনেমার ট্রেলার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ সেখানে বলা হয়েছে, ‘অসংগঠিত হিন্দুদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ এখন দ্বিতীয় কাশ্মীর হয়ে গেছে!’ আরো বলা হয়েছে, ‘সরকারি মদদে সেখানে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই সিনেমা তৈরি করা হয়েছে বলে ইতোমধ্যে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মে’র মধ্যে পরিচালক সানোজ মিশ্রকে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।

তবে ওই পরিচালকের দাবি, তিনি সত্য ঘটনা অবলম্বনে যথেষ্ট গবেষণা করেই সিনেমাটি বানাচ্ছেন।

ছবিটি প্রযোজনা করেছেন জিতেন্দ্র নারায়ণ সিং ত্যাগী, যিনি ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর খুব ধূমধাম করে ইসলাম ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু হয়েছেন।

তার ইসলামি নাম ছিল ওয়াসিম রিজভি। দীর্ঘ সময় তিনি উত্তরপ্রদেশের শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এক সময়ে তিনি সমাজবাদী পার্টির নেতা ছিলেন। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে তিনি বিজেপি ঘনিষ্ঠ।

সিনেমার ট্রেলারের শুরুর দিকে বলা হয়েছে, ‘গণতন্ত্রের অর্থ হলো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। কিন্তু এর একটা দ্বিতীয় দিকও আছে: জনমত যদি মুসলমানদের হয়, তাহলে সেখানে শরিয়তি আইন চলে।’

এর কিছুটা পরেই বলা হয়েছে, ‘একসময়ে যে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার বলা হত, তা এখন গণতন্ত্রের ওই দ্বিতীয় পথেই হাঁটছে।’ যার অর্থ করা যেতেই পারে যে পশ্চিমবঙ্গে শরিয়তি আইন চলে।

‘সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো পুরোপুরি হিন্দুহীন হয়ে গেছে এবং সেখান দিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আর কট্টরপন্থী বাংলাদেশীরা ভারতে প্রবেশ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে’, এমনটা বলা হয়েছে ওই সিনেমাটির ট্রেলারের নেপথ্য ভাষণে।

আবার আরেকটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে, এক অভিনেতাকে যিনি কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ হিন্দুত্ববাদী নেতার চরিত্রে অভিনয় করছেন বলে স্পষ্টই মনে হচ্ছে। তার মুখ দিয়ে এরকম সংলাপ বলানো হয়েছে, ‘মমতার এই রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রেম হিন্দুদের বাধ্য করছে ঘর ছেড়ে চলে যেতে।’

যদিও ছবিটির পরিচালক সানোজ মিশ্র সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন যে ছবিটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সম্বন্ধে নয়।

ওই একই অভিনেতার আরেকটি দৃশ্যে তাকে এক নারীর সামনে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে আর তাকে দিয়ে এরকম সংলাপ বলানো হয়েছে যে ‘আপনি মেয়েকে নিয়ে দ্রুত ওখান থেকে বেরিয়ে যান। পশ্চিমবঙ্গে এখন কাশ্মীরের থেকেও খারাপ পরিস্থিতি।’

ট্রেলার শুরুর আগে লেখা হয়েছে যে সিনেমাটিতে দেখানো প্রতিটা ঘটনা এবং তথ্য সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত।

পুলিশের তলব পরিচালককে
দুই মিনিট ১২ সেকেন্ড দীর্ঘ ট্রেলারটি মাসখানেক আগে ইউটিউবে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কলকাতা পুলিশের কাছে এক ব্যক্তি ওই সিনেমার পরিচালক-প্রযোজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বিষয়টি জানাজানি হয়েছে।

ছবিটির পরিচালক সানোজ মিশ্র বলিউডে খুব পরিচিত নাম নয়।

তিনি সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘আমাদের ছবিটার ভিত্তিই হলো তোষণের রাজনীতি। যে রাজনীতির ফলে ভোট ব্যাঙ্কের জন্য যা কিছু দরকার সেসবই করা হয় ওখানে। প্রতিটা ঘটনাই সত্য, গবেষণা করেই ছবিটা বানিয়েছি আমি। সব তথ্য আমার কাছে রাখা আছে।’

‘১১ মে আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। এরকম সব ধারা দেয়া হয়েছে, যেন আমি একজন বড় ক্রিমিনাল।’

কলকাতায় পুলিশের সামনে এলে তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মিশ্র।

জেলে গেলে সেখান থেকে হয়তো তিনি নাও ফিরে আসতে পারেন, এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

হিন্দুরা কি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালাচ্ছে?
সিনেমার ট্রেলারে যেমনভাবে বলা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় কাশ্মীর হয়ে গেছে, সেখান থেকে হিন্দুরা পালিয়ে যাচ্ছে, রোহিঙ্গা আর ‘কট্টরপন্থী বাংলাদেশী’দের সরকারী সহায়তায় বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, সীমান্ত অঞ্চল পুরোপুরি হিন্দু শূন্য হয়ে গেছে বা হিন্দু উৎসব বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে– এর সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

লেখক ও প্রাবন্ধিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলছিলেন, এটা সম্পূর্ণভাবেই একটা প্রচারমূলক ছবি।

তার কথায়, ‘হিন্দুরা যদি পশ্চিমবঙ্গে এতটাই অসুরক্ষিত থাকত, তাদের এখান থেকে বিতারণ করা হয়, তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার রামনবমীর মিছিল কী করে করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা বজরং দল? কিভাবে হিন্দুরা তলোয়ারসহ নানা অস্ত্র নিয়ে মিছিল করছে এই রাজ্যে?

‘ওই উদগ্র মিছিলগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে হিন্দুরা এখানে অসুরক্ষিত নয়, যেমনটা ওই সিনেমার ট্রেলারে বলা হয়েছে,’ বলেন সেনগুপ্ত।

তিনি আরো বলেন, ‘ট্রেলারে দেখলাম বলা হয়েছে যে এখানে নাকি দুর্গা পুজাঢ বাধা দেয়া হচ্ছে। সারা রাজ্যে যত দুর্গা পুজা হয়, তত সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাত বা মহারাষ্ট্রে কোনো ধর্মীয় উৎসব হয় না। এখানকার দুর্গা পুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পেয়েছে। এধরনের ছবি সামাজিক হিংসা ছড়াতে পারে। নিষিদ্ধ করা উচিত এসব সিনেমা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নাম করে জাতিগত দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়ার অধিকার কারো নেই।’

সিনেমার ছাড়পত্র এখনো নেই, তবুও বিদ্বেষমূলক ট্রেলার?
সিনেমাটির পরিচালক সানোজ মিশ্র বলছেন যে তার ছবির ৬০ শতাংশ শুটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। তাই সেটি এখনো কেন্দ্রীয় ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর্যায়ে যায়নি।

সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী মাসে সেন্সর বোর্ডে ছবিটি যেতে পারে বলে তার আশা।

তবে সিনেমার ট্রেলারের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। পুলিশ ওই প্ল্যাটফর্মের মালিককেও ডেকে পাঠিয়েছে।

সানোজ মিশ্র বলছেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ট্রেলার প্রকাশের জন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। কত মৌলানাদের উস্কানিমূলক ভাষণের ভিডিও-তো পাওয়া যায় অনলাইনে। কই তাদের বিরুদ্ধে তো এই পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয় না!’

২০২৪ এর নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এই ছবির পরিকল্পনা?
তৃণমূল কংগ্রেস ছবিটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

দলের অন্যতম মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলছেন, ‘ছবির পরিচালক গবেষণা করে পাওয়া তথ্যের কথা বলছেন। কিন্তু এখন তো হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির গবেষণাটাই বেশি চলে!’

ভারতে হিন্দুত্ববাদী ‘ইকো সিস্টেম’ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে দেয়, এই অভিযোগ করে সেই ব্যবস্থাকেই ‘হোয়াটস্অ্যাপ ইউনিভার্সিটির তথ্য’ বলে ব্যঙ্গ করে থাকে বিরোধীরা।

অরূপ চক্রবর্তী আরো বলছিলেন, ‘একটা জনপ্রিয় বাংলা কবিতার লাইন মনে পড়ছে, যখনই জনতা চায় বস্ত্র ও খাদ্য, সীমান্তে বেজে ওঠে যুদ্ধের বাদ্য। আসলে ভারতের মানুষ সিনেমা তো দেখছেন সেই ২০১৪ সাল থেকেই।
সবথেকে প্রান্তিক মানুষরা, যাদের ভরসা কেরোসিন তেল, তার দাম ১৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকারও বেশি। প্রান্তিক মানুষের না আছে খাদ্য, না আছে বস্ত্র, না আছে কর্মসংস্থান। তাই যত লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসবে, ততই মানুষের দৃষ্টি অর্থনৈতিক বিষয়গুলো থেকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হবে।’

বিজেপি যদিও বলছে যে তারা এই ছবির নির্মাণের সাথে কোনোভাবেই যুক্ত নয়। তবে দলের পক্ষ থেকে মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য এটাও বলছেন যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজের সাথে পশ্চিমবঙ্গের নাম জড়িয়ে গেছে।

এখান থেকে জঙ্গি ধরা পড়েছে। সেটা কতটা সত্য, কতটা আংশিক সত্য, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ করে দেয়ার প্রসঙ্গ চরম অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ।

বিজেপি একথা বললেও ইউটিউব এবং টুইটারে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্রটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল কেন?

সূত্র : বিবিসি

ভারতের নতুন সংসদ ভবনের আকৃতিকে কফিনের সাথে তুলনা

ভারতে আজ নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরই মধ্যে একটি ছবির ডান দিকে নতুন সংসদ ভবন, বাঁ দিকে একটি কফিনের ছবি দিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে ভারতের লালুপ্রসাদ যাদবের দল আরজেডি (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)।

ভারতের নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন নিয়ে বিতর্ক চলছিলই, তার মধ্যেই সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করে সেই বিতর্কে ঘি ঢাললেন আরজেডি নেতা লালুপ্রসাদ। ঘটনাচক্রে, নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন বয়কট করেছে ২০টি দল। তাদের মধ্যে রয়েছে আরজেডিও। দলগুলোর প্রশ্ন, কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন করবেন?

বোরবার সকালেই আরজেডির পক্ষে একটি টুইট করা হয়। ওই টুইটের সাথে ছবিটি জুড়ে দেয়া হয়েছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, এটা কি?’

এদিকে আরজেডিওর আরেক নেতা শক্তি সিংহ বলেন, গণতন্ত্রকে কবর দেয়া হচ্ছে সেটা বুঝাতেই টুইটে কফিনের ছবি দেয়া হয়েছে। দেশ এই সংসদ ভবনকে মেনে নেবে না। সংসদ হলো গণতন্ত্রের প্রতীক এবং আলোচনার কেন্দ্রস্থান। সেই সংসদ ভবনকে এমন আদল দেয়া হয়েছে, তা দেখতে ঠিক কফিনের মতোই লাগছে।

আরজেডির এই টুইটের পরই কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপিও। সুশিল মোদি পাল্টা টুইট করে হুঁশিয়ারি দেন, যারা নতুন সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মামলা দায়ের করা হবে। কফিন প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া আবার এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ’২০২৪ সালে দেশের মানুষ আপনাদের ওই কফিনেই কবর দেবে।’
সূত্র : আনন্দবাজার