Home Blog Page 618

এক যুগ পর ভারতে আসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বৃহস্পতিবার সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগ দিতে ভারতের গোয়াতে এসে পৌঁছাবেন। প্রায় এক যুগের মধ্যে এই প্রথম কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরে আসছেন।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার (৪ ও ৫ মে) ভারতের গোয়াতে এসসিওভুক্ত দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন। যেখানে ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও চীন, রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার আরও চারটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা থাকছেন।

এসসিও জোটের বর্তমান চেয়ার ভারত, ফলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করই এই বৈঠকের হোস্ট।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনের অবকাশে (‘সাইডলাইনে’) ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে না বলেই জানা যাচ্ছে।

পাকিস্তান সরকারও ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির এই সফর হবে পুরোপুরি এসসিও ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে, এর সাথে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কোনোভাবে জড়িত নয়।

তবু সাম্প্রতিককালে কথিত জঙ্গী অনুপ্রবেশের ইস্যুতে দু‘দেশের সম্পর্ক যেরকম তলানিতে এসে ঠেকেছে, সেই পটভূমিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সশরীরে ভারতে আসাটাকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

গোয়ার সমুদ্রতটে বিলাওয়াল ভুট্টোর এই সফর দু‘দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করবে কি না, তা নিয়েও নানা মহলে জল্পনা চলছে।

গোয়াতে যা যা ঘটবে
বৃহস্পতিবার (৪ মে) স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে পাকিস্তানের করাচি থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ও তার প্রতিনিধিদলকে নিয়ে একটি বিশেষ বিমান গোয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে।

ভারতীয় সময় বিকেল ৫টার আগেই তার গোয়ায় পৌঁছে যাওয়ার কথা। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সম্মেলনের হোস্ট এস জয়শঙ্কর বুধবারই সেখানে পৌঁছে গেছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিন গাং, রাশিয়ার সের্গেই লাভরভ এবং কাজাখস্তান, কিরঘিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অল্প আগে-পরে একে একে গোয়াতে এসে নামবেন।

অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মানে কাল সন্ধ্যায় আরব সাগরের তীরে গোয়ার একটি সমুদ্রসৈকতে ‘গ্যালা ডিনার’ বা রাজসিক নৈশভোজের আয়োজন করেছে ভারত।

তবে এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সেই নৈশভোজে জারদারি যোগ দেবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ভারত সফরে এসেছিলেন। সে দেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সেটাই শেষবারের মতো ভারতে আসা।

দিল্লিতে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডভানির সাথে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার। জুলাই, ২০১১

ঘটনাচক্রে সেই হিনা রাব্বানি খারই এখন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সেই সুবাদে এবারের প্রতিনিধিদলেও তিনি থাকছেন।

এসসিও জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মূল বৈঠকটি হবে শুক্রবার (৫ মে), যেখানে আফগানিস্তান আলোচনার একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আয়োজক দেশ ভারতের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, তালেবান শাসনের অধীনে আফগানিস্তান যাতে আরো একবার সন্ত্রাসবাদের আঁতুরঘরে পরিণত না-হয় এসসিও জোটের দেশগুলোর যৌথভাবে সেই লক্ষ্যেই কাজ করা দরকার।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব?
তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা যেহেতু বহু বছর ধরে বন্ধ এবং সেই পটভূমিতেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বহুকাল পর ভারতে আসছেন, ফলে গোয়ার সম্মেলন দিল্লি ও ইসলামাবাদের সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে সে দিকেও পর্যবেক্ষকদের তীক্ষ্ণ নজর থাকবে।

গত ডিসেম্বরেই বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘গুজরাটের কসাই’ বলে বর্ণনা করার পর এস জয়শঙ্করও জারদারিকে কঠোর ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করেছিলেন।

২০১৬-তে জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে ও ২০১৯ সালে পুলওয়ামায় ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বিধ্বংসী হামলার জন্যও ভারত পাকিস্তান থেকে আসা উগ্রবাদীদেরই দায়ী করেছিল, সীমান্তের অন্য পারে ও বেশ দূরের বালাকোটে পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছিল।

এই মারাত্মক তিক্ততার পরিবেশের মধ্যেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে শেষ পর্যন্ত ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটাকেই বেশ বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন দু‘দেশের অনেক বিশ্লেষক।

ভারতের সাবেক কূটনীতিবিদ ও প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুনায়াতের মতে গোয়ার বৈঠক থেকে নাটকীয় কোনো ফল হয়ত আশা করা উচিত নয়, তবে দু‘দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সেখানে অগ্রগতি হতে পারে।

ত্রিগুনায়াতের কথায়, ‘এসসিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন যদি কোনো তিক্ততা ছাড়াই শেষ হয়, তাহলে হয়ত আমরা দেখব আগামী জুলাই মাসে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতে আসছেন।’

পাকিস্তানের প্রথম সারির ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডন’ লিখেছে, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপের প্রক্রিয়া প্রতীকী স্তরে হলেও নতুন করে আবার শুরু করার একটা সুযোগ এনে দিয়েছে গোয়ার এই সম্মেলন।’

যদিও এসসিও প্ল্যাটফর্মে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার অবকাশ কম, ‘দ্য ডনের’ মতে গোয়াতে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হলেও তাতে সম্পর্কের তিক্ততা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।

তবে একই সাথে তারা মন্তব্য করেছে, ইসলামাবাদে নতুন একটি সরকার ক্ষমতায় আসলে এবং ভারতে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনের পরই কেবল দু‘দেশের মধ্যে ‘সত্যিকারের শান্তি প্রক্রিয়া’ শুরু হওয়া সম্ভব।

দিল্লিতে নামী স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষক সি রাজামোহন আবার মনে করছেন, গোয়াতে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির সফর নিয়ে মিডিয়াতে হয়ত তুমুল আলোড়ন হবে, কিন্তু এতে দু‘দেশের সম্পর্কে তেমন কোনো প্রভাব পড়ার কারণ নেই।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশী শক্তিগুলোর সাথে পাকিস্তানের কী ধরনের সম্পর্ক রাখা উচিত, তা নিয়ে সে দেশের ভেতরেই তীব্র মতবিরোধ ও বিভাজন আছে।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে এ বিষয়ে যতক্ষণ না মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ‘রাওয়ালপিন্ডিতে সে দেশের সামরিক নেতৃত্বের সাথে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ রেখে চলা ছাড়া’ ভারতের বিশেষ কিছু করারও নেই বলে রাজামোহনের অভিমত।

সূত্র : বিবিসি

বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বড় বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল এবং ফার্মাসিউটিক্যালে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শুধুমাত্র মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিবেদিত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ রাখার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আমাদের নবায়নযোগ্যযোগ্য জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, হালকা ও ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার, আইসিটি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ইত্যাদিসহ অনেক গতিশীল ও সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ‘

বাংলাদেশে সুযোগ অন্বেষণ ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি ‘ইউএস-বাংলাদেশ ইকোনমিক পার্টনারশিপ: শেয়ার্ড ভিশন ফর স্মার্ট গ্রোথ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক্সিকিউটিভ বিজনেস গোলটেবিলের মূল বক্তব্য উপস্থাপনের সময় একথা বলেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ইউএস বাংলাদেশ আইটি কানেক্ট পোর্টাল (ঁং.রঃপড়হহবপঃ.মড়া.নফ) উদ্বোধন করেন।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল এখানে ইউএস চেম্বার অব কমার্স ওয়াশিংটন, ডিসির গ্রেট হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের যাত্রায় অংশীদার হিসেবে আমাদের সাথে থাকার জন্য আমি আজকে এখানে আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) এবং ২৯টি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করছে।

প্রধানমন্ত্রী এ অঞ্চলে বাংলাদেশের সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতির কথা আবারো স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইন দ্বারা বিদেশী বিনিয়োগ সুরক্ষা, ট্যাক্স হলিডে, রয়্যালটি রেমিটেন্স, বাধাহীন প্রস্থান নীতি, লভ্যাংশ ও মূলধন সম্পূর্ণ প্রত্যাবর্তন সুবিধা রয়েছে।
তিনি আশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন যে, ‘আমরা আমাদের বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ জলবায়ু উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আমাদের একক বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য, বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের বৃহত্তম উৎস, দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।’

তিনি বলেন, তিনি আশাবাদী যে, যুক্তরাষ্ট্র এই চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং পারস্পরিক সুবিধার জন্য একটি মসৃণ ও অনুমানযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীল অংশীদার হবে।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ অনেক ক্ষেত্রে নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হলো আমাদের জনগণের জন্য পারস্পরিক সুবিধা ও সমৃদ্ধি অর্জন করা। আমাদের ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের মধ্যে সম্পর্কের তা প্রতিফলিত হচ্ছে। ২০২১-২০২২ সালে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১০.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে বাংলাদেশে একটি শিল্প কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপানের প্রস্তাবের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাই আমাদের লক্ষ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নীত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রচেষ্টায় গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন সর্বজনীনভাবে “আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসাবে স্বীকৃত।

তিনি বলেন, সুশাসনের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও স্থিতিশীলতা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আইসিটি খাতে অগ্রগতির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে যা আমাদেরকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এ কারণেই ইদানীং বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ভ্যালু দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স ইউকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ভ্যালু গত বছর ৩৭ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে যা বিশ্বে সর্বোচ্চ এবং গ্লোবাল সফট পাওয়ার ইনডেক্স ২০২৩ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা। এই রূপকল্প ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উচ্চ আয়ের উন্নত দেশে পরিণত করবে।”

তিনি আরো বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ মানে অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া এবং স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজের উপর এ ধারণা প্রতিষ্ঠিত।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক এবং চেয়ারম্যান এক্সেলরেট এনার্জি স্টিভেন কোবোস, বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের গ্লোবাল চেয়ার ইমেরিটাস (বিসিজি) হ্যান্স-পল বার্কনার, মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ইন্দো-প্যাসিফিক পলিসি অপারেশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি অরোরা, বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদির, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এরিক ওয়াকার এবং গ্লোবাল হেড অব এক্সপ্রোরেশন অ্যান্ড নিউজ এক্সনমোবিলের ভেঞ্চার ডঃ জন আর্ডিল উচ্চ-স্তরের গোলটেবিলে বক্তৃতা করেন।

ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট-সাউথ এশিয়া অ্যাম্বাসেডর অতুল কেশপ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, বোয়িং ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট শাইল গুপ্ত, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান কেভিন রোপেকে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত ছিলেন টইঊজ-এর পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স-এশিয়া প্যাসিফিক মাইক অরগিল, ইউএস চেম্বার অফ কমার্সের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান মিলার, ইউএস চেম্বার অফ কমার্সের নির্বাহী পরিচালক সন্দীপ মাইনি এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালক সিদ্ধান্ত মেহরা।

প্রধানমন্ত্রী এর আগে ইউএস চেম্বার অব কমার্সের ব্রিফিং সেন্টারে ইউএসবিবিসি’র সিনিয়র এক্সিকিউটিভদের সঙ্গে দুটি পৃথক বৈঠকে এবং ইউএস চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও সিইওদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠকে যোগ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি গর্বিত নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি এবং বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি। অনুমান করা হচ্ছে এই অর্থনীতি ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।”

তিনি বলেন, ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। এটি প্রকৃত মূল্যে কয়েক বছরের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে চলেছে।
তিনি বলেন, “আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নীতিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের থেকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বৃহত্তর প্রতিবেশীদের তুলনায় বেশি।
তিনি আরো বলেন, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বাংলাদেশকে নারীর ক্ষমতায়নে শীর্ষ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ দেশ হিসেবে এবং বিশ্বব্যাপী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে স্থান দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাজার এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান ৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার বাজারের কেন্দ্রে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এই অঞ্চলে ও এর বাইরেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি আদর্শ জায়গা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের ভৌত, আইনি এবং আর্থিক অবকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, অবকাঠামোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা সারা দেশে দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, ‘বৃহৎ পদ্মা নদীর উপর গত বছর আমরা নিজস্ব অর্থায়নে আমাদের দীর্ঘতম সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন করেছি, যা এখন আঞ্চলিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার মেট্রোরেলও নির্মাণ করেছে, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বন্দরের অবকাঠামো উন্নত করেছে। এগুলো অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের জলবায়ু দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি নীতি, শ্রম সংস্কার, এবং শ্রম নিরাপত্তা মান উন্নয়ন প্রশংসার দাবিদার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গর্বিত যে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) দ্বারা প্রত্যায়িত বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সবুজ পোশাক কারখানার মধ্যে ৫৩টি বাংলাদেশে। তিনি আরো বলেন যে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে ‘স্বল্পোন্নত’ থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, ‘এর জন্য, আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং রপ্তানি ভিত্তি প্রসারিত করতে আমাদের সমর্থন প্রয়োজন হবে।’
সূত্র : বাসস

বিএনপির চূড়ান্ত কর্মসূচি ঢাকা অভিমুখে

-রোডমার্চসহ নতুন ঘোষণা আসছে
-যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণাও চূড়ান্ত

সরকারবিরোধী দলগুলোকে সাথে নিয়ে ধীরে ধীরে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিএনপি। দলটি ঢাকা অভিমুখে চূড়ান্ত এবং শেষ কর্মসূচি পালনের বিষয়ে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা শুরু করেছে। তবে তার আগে এ মাসের শেষে কিংবা জুনের প্রথমার্ধে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে রোডমার্চের মতো জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। আগামী সপ্তাহে দলটি রোডমার্চ কিংবা এ ধরনের একাধিক কর্মসূচির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।
বিএনপি নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির পথ ধরে বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলনে যেতে চায়। এই জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও বিএনপি সমর্থক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মতামত নিচ্ছেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামীকাল ৪ মে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে বৈঠক করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সাথে বৈঠক করে তাদের মতামত নিয়েছেন দলের লিয়াজোঁ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এসব মতামত নিয়ে স্থায়ী কমিটির পরবর্তী সভায় আলোচনা করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
কর্মসূচি নিয়ে গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আলোচনা হয়েছে। সেখানে নেতারা দ্রুত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে নেতাদের কয়েকজন বলেন, গত কয়েক মাসে বিএনপি প্রায় সব ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে। তাই এবার অধিকতর আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য কর্মসূচির পথরেখা তৈরি করতে হবে। এমন কর্মসূচি দিতে হবে যাতে আন্দোলনে গতি আসে। স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে নেতাদের অনেকে রোডমার্চের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করেন।
বিএনপি নেতারা জানান, এসএসসি পরীক্ষার কারণে কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে কোনো বড় ধরনের কর্মসূচিতে যেতে চায় না দলটি। পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে কর্মসূচি শুরু হতে পারে।


বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সে লক্ষ্যে ঈদুল আজহার আগেই আন্দোলনের শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে চায় দলটি। আন্দোলনকে অযথা টেনে দীর্ঘমেয়াদি করতে চান না নীতিনির্ধারকেরা।
জানা গেছে, সোমবারের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কর্মসূচি কেন্দ্রিক আলোচনা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর চলমান তিন দেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে নেতারা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে কোনো অর্জন নেই বলে মনে করছেন। এ সফরকে তারা পিকনিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গতকাল দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রস্তাবিত অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল-২০২৩ নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এটি নানা কারণে বিতর্কিত, অগণতান্ত্রিক, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের স্বার্থবিরোধী, একতরফা, নিবর্তনমূলক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট বরখেলাপ। এই আইনটি প্রণয়নে কোনো পর্যায়ই অংশীজনের মতামত নেয়া হয়নি। বিএনপি মনে করে, প্রস্তাবিত বিলটি শুধু শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ ও অধিকারকেই ক্ষুণ্ণ করবে না, এটি সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগণের সংবিধানসম্মত প্রতিবাদের অধিকার পরিপন্থী। বিএনপি প্রস্তাবিত অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা বিল-২০২৩ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।

যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা চূড়ান্ত : বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক আলোচনা করে যুগপৎ আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা চূড়ান্ত হয়েছে। এতে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ১০ দফা অটুট রেখে অন্যান্য দলের দাবিগুলো সংযুক্ত করা হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দলগুলো কী করবে তার একটি যৌথ রূপরেখাও তুলে ধরা হবে। বিএনপি ইতোমধ্যে ২৭ দফার রূপরেখা ঘোষণা করেছে। এ দফার সাথে অন্যান্য দলের প্রস্তাবগুলো সংযুক্ত করা হচ্ছে।

সমমনা দলগুলোর লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে এক মঞ্চ থেকে যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে। কবে এই ঘোষণা আসবে, তা আগামী দু’একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।
যৌথ ঘোষণার বিভিন্ন দফা নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে বিএনপির কিছুটা মতপার্থক্য ছিল। গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দল এ বিষয়ে একমত হয়েছে।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সব দল মিলে যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুত এ ঘোষণা দেয়া হবে।
গণতন্ত্র মঞ্চের ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বলেন, আমরা অল্পদিনের মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, বিএনপিসহ অন্যান্য দল নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে- সেটার রূপরেখা যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে তুলে ধরব। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

কোহলির নির্বাসন দাবি গাভাস্কারের

আইপিএল ম্যাচের সময় ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীরের মধ্যে মাঠে যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে তা থামাতে জরিমানার শাস্তি দিলে হবে না বলে মনে করেন কিংবদন্তির ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার। ভারতের এই সাবেক ক্রিকেটারের মতে, একমাত্র কয়েক ম্যাচ নির্বাসিত করলে তবেই ক্রিকেটারদের মধ্যে ভয় ঢুকবে।

সম্প্রচারকারী চ্যানেলে গাভাস্কার বলেছেন, ‘ওদের ম্যাচ ফি-র ১০০ শতাংশ কেটে নেয়া হয়েছে। মানে বিরাট যে টাকা পায় তাতে তার এক কোটি রুপির মতো জরিমানা হয়েছে। সেটা অবশ্য অনেক বড় জরিমানা। গম্ভীরের কত জরিমানা হয়েছে সেটা আমি জানি না। কিন্তু শুধু জরিমানা করে এই ঘটনা থামিয়ে রাখা যাবে না।’

গাভাস্কার মানেন যে মাঠে প্রতিযোগিতা চলাকালীন কোনো ঘটনায় মাথা গরম হতেই পারে। কিন্তু সেটা মাঠেই শেষ করে দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। খেলা শেষেও সেটা জিইয়ে রাখা উচিত নয়। কিন্তু কড়া শাস্তির ভয় না থাকায় ক্রিকেটাররা বার বার এই ভুল করছেন বলে মনে করেছেন তিনি। গাভাস্কার বলেছেন, ‘বিসিসিআইকে নিশ্চিত করতে হবে এই ঘটনা যেন আর না ঘটে। তার জন্য কড়া শাস্তি দিতে হবে। খেলায় প্রতিযোগিতা থাকুক। কিন্তু সেটা শুধু খেলার মধ্যেই থাকুক। এই ধরনের ঘটনা উঠতি ক্রিকেটারদের বিপথে পাঠাতে পারে।’

গাভাস্কারের মতে, একমাত্র নির্বাসনের শাস্তি দিলে তবেই ক্রিকেটাররা ঝামেলায় জড়াবেন না। তিনি বলেছেন, ‘হরভজন-শ্রীসন্থের ঘটনার পরে তো ওদের নির্বাসিত করা হয়েছিল। তা হলে এ ক্ষেত্রে কেন হবে না? নির্বাসনের শাস্তি দিলে যেমন ক্রিকেটাররাও সতর্ক হবে, তেমনই প্রতিটা দলও সজাগ থাকবে। বিসিসিআইকে কড়া পদক্ষেপ নিতেই হবে। নইলে এই ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে।’

উল্লেখ্য, লখনৌ সুপার জায়ান্টস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ম্যাচে বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিরাট কোহলি এবং গৌতম গম্ভীর। তাদের ঝগড়া নিয়ে উত্তাল আইপিএল। দু’জনকেই কড়া শাস্তি দিয়েছেন আইপিএল কর্তৃপক্ষ। ঠিক কী কথা হয়েছিল তাদের মধ্যে? জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।

খেলা শেষ হওয়ার পর কোহলির কাছে যান লখনৌর কাইল মেয়ার্স। কোহলি কেন তাদের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করছেন জানতে চান। ওই সময় গম্ভীর এসে সরিয়ে নিয়ে যান মেয়ার্সকে। তার পরেই বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন কোহলি ও গম্ভীর। ওই প্রত্যক্ষদর্শীর মতে ছোটদের মধ্যে ঝগড়া করেন দিল্লির দুই ক্রিকেটার।

গম্ভীর বলেন, ‘কী বলছিল বল।’ জবাবে কোহলি বলেন, ‘আমি আপনাকে কিছু বলিইনি। আপনি কেন শুধু শুধু এর মধ্যে ঢুকছেন।’ এর পর গম্ভীর বলেন, ‘তুই আমার কোনো খেলোয়াড়কে বলেছিস মানে তুই আমার পরিবারকে গালাগালি দিয়েছিস।’ এর জবাবে কোহলি বলেন, ‘তা হলে আপনি আপনার পরিবারকে সামলে রাখুন।’’ কোহলির উত্তর শুনে গম্ভীর আবার বলেন, ‘তা হলে এখন তুই আমাকে শেখাবি?’

এই ঝামেলার জন্য ম্যাচ ফি-র পুরোটাই জরিমানা করা হয়েছে কোহলির। একই শাস্তি পেতে হয়েছে গম্ভীরকেও। তুলনায় শাস্তি কম হয়েছে আফগান ক্রিকেটার নবীন উল হকের। তিনিও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার ম্যাচ ফি-র ৫০ শতাংশ কেটে নেয়া হয়েছে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

চীন নাকি যুক্তরাষ্ট্র কার দিকে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশের যেসব দেশের কূটনীতিককে সব সময় নানা বিষয়ে সরব ভূমিকায় দেখা যায়, চীনা রাষ্ট্রদূত সাধারণত সেরকম কেউ নন। বিশেষ করে পশ্চিমা কূটনীতিকরা বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি হতে শুরু করে নানা বিষয়ে যেভাবে প্রকাশ্য মন্তব্য করেন, তাকে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘নাক গলানো’ বলেই গণ্য করেন অনেকে। চীনা কূটনীতিকরা সাধারণত এ ধরনের মন্তব্য সযত্নে এড়িয়ে যান।

কিন্তু ২০২১ সালের ১০ মে ঢাকায় তৎকালীন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সাংবাদিকদের কাছে এমন কিছু কথা বললেন, যা মারাত্মক অস্বস্তি তৈরি করলো বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে।

বাংলাদেশ এ নিয়ে এতটাই বিব্রত হলো যে, পরদিনই সরকার চীনা রাষ্ট্রদূতের কথার প্রতিবাদ জানালো। চীনের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্র একটি দেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এরকম প্রকাশ্য বিবৃতি, এটিও ছিল খুবই বিরল এক ঘটনা।

রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সেদিন ঢাকায় কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সাথে কথা বলছিলেন ‘কোয়াড’ (কোয়াড্রিলেটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ) নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের এক নিরাপত্তা জোট নিয়ে। তিনি এই জোটে যোগ দেয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, যদি বাংলাদেশ এই জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি চীনের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘বড় ক্ষতি’ করবে।

তিনি আরো বলেছিলেন, কোয়াড হচ্ছে ‘চীনের পুনরুত্থান ঠেকানোর এক সামরিক জোট’ এবং বাংলাদেশের উচিৎ হবে না, এরকম একটি ‘সংকীর্ণ লক্ষ্য’ অর্জনের চক্রে সামিল হওয়া।

চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে ঢাকা কতটা অসন্তুষ্ট হয়েছিল, তা টের পাওয়া যায় পরের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের কড়া জবাবে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করি। আমাদের দেশের এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে আমরাই সিদ্ধান্ত নেব আমরা কী করবো।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন আরও বলেছিলেন, কোয়াডের সদস্য দেশগুলোর কেউই বাংলাদেশকে এই জোটে যোগ দিতে বলেনি, কাজেই চীনা রাষ্ট্রদূত যেকথা বলেছেন তা অকাল প্রসূত।

তিনি বলেন,‘চীন বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এমনটি খুবই ব্যতিক্রমী একটা ঘটনা, চীনের কাছ থেকে এটা আমরা আশা করিনি।’

বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ কীভাবে জড়িয়ে পড়ছে এবং সেটি এই দুই দেশের সাথেই তাদের সম্পর্কে কীরকম টানাপোড়ন তৈরি করছে, তার উদাহরণ হিসেবে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করছিলেন কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মাহমুদ আলী।

তিনি বলেন, ‘এই কোয়াড গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সদস্য দেশগুলো বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশকে তাদের সাথে সহযোগিতার হাত বাড়াবার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চীনের দিক থেকে এ নিয়ে সতর্কবাণী পেয়েছে। কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি চীন এবং চীন বিরোধী জোটের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, এরই মধ্যে বাংলাদেশের ওপর তার প্রভাব পড়ছে।’

‘বাংলাদেশকে দেশের ভেতরের এবং বাইরের নানা চাপ মোকাবেলা করে এখানে একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। কাজটি বেশ কঠিন।’

বাংলাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল?
স্বাধীনতার পর হতে গত ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মোটামুটি একটি ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এসেছে। বৃহৎ শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই প্রথম দেশটি নিজেদেরকে এমন একটি অবস্থানে দেখতে পাচ্ছে, যেখানে ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক এরকম একটি দ্বন্দ্বে তাদের জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলোর ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় ধরনের বাঁক বদল ঘটেছিল ২০১৭ সালে। ওই বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরই নামের যে মহা-পরিকল্পনা নিয়ে চীন বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তার করছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি ছিল মূলত তার পাল্টা পরিকল্পনা, চীনকে ঠেকানোর কৌশল।

মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, ‘২০১৭ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যত ধরণের প্রতিরক্ষা, সামরিক বা কূটনৈতিক দলিল প্রকাশ করেছে, তার সব কিছুর কেন্দ্রে কিন্তু আছে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সব কৌশলের একটাই লক্ষ্য, চীন যেন কোনোভাবেই মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করতে না পারে। আর চীনকে ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এসব কৌশলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি।’

‘ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যত মিত্র দেশ আছে, এই ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজিতে তাদেরকে একটি চীন-বিরোধী জোটে জড়ো করতে চায়। এই জোটের অনেক ধরনের লক্ষ্য আছে সামরিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং কূটনৈতিক। তবে সবকিছুর উপরে মূল লক্ষ্য একটাই চীন যেন কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের এক নম্বর ক্ষমতাধর দেশের অবস্থান থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।’

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দুই বিশ্ব পরাশক্তির দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ কেন হঠাৎ এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল?
বিশ্লেষকরা এর নানা কারণ উল্লেখ করছেন। এর একটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। সেই সাথে সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশ যেভাবে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেটিকেও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজিতে বাংলাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, তা বোঝা কঠিন নয়। প্রথমত বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান। বঙ্গোপসাগরের একেবারে মুখে বাংলাদেশের অবস্থান। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে।’

‘তবে এর পাশাপাশি গত দুই দশকে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, তাতে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। জনসংখ্যার বিচারে এটি বিশাল এক দেশ, বড় একটি বাজার। অনেকেই বাংলাদেশের এই বাজারে ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন, বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন।’

আহমেদ বলেন, ‘আর সম্প্রতি ভারত এবং মিয়ানমারের সাথে সমুদ্র সীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ যে বিশাল জলসীমা পেয়েছে, সেখানেও প্রচুর সম্পদ আছে। এসব কারণে বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
তবে এর পাশাপাশি বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব যেভাবে বাড়ছিল, সেটি নিয়েও যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতে।

বাংলাদেশে চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বের সবচেয়ে বড় একটি উদাহরণ সম্ভবত দেশটির একটি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প।

চীন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ মহা-পরিকল্পনায় যে মেরিটাইম সিল্ক-রুট প্রকল্প নিয়েছে, তার অংশ হতে পারতো বাংলাদেশের সোনাদিয়ায় প্রস্তাবিত একটি গভীর সমুদ্র বন্দর।

সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, ‘চীনকে দমন করার জন্য, চীন যেন বঙ্গোপসাগর দিয়ে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য না করতে পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ভারত সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে ঢুকতে না পারে।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে চীনে গিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন কক্সবাজার উপকূলে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য। চীন বেশ আগ্রহের সাথেই এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছিল। ‘কিন্তু তখন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ভারত সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এই পরিকল্পনা বাদ দিতে। তারা উল্টা প্রস্তাব দেয় সোনাদিয়া হতে অল্প দূরত্বে মাতারবাড়িতে জাপানের সহায়তায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য। বাংলাদেশ ২০১৪ সালে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই নেয়।’

জাপানের কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তায় মাতারবাড়িতে এই গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ এখন পুরো-দমে চলছে।

সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ এই সাহায্য পাচ্ছে বাংলাদেশের কারণে নয়, মূল কারণ হচ্ছে চীন যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, চীন যেন বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের সুযোগ বা অনুমতি না পায়।’

ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা নিয়ে হঠাৎ কেন সক্রিয় বাংলাদেশ
চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ সরকার ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে তাদের নীতি কী হবে, সে বিষয়ে কাজ করছে। এরকম একটি রূপরেখা ঘোষণা করা হবে এমন আভাস বেশ কিছুদিন থেকেই দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে হঠাৎ করেই ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এই রূপরেখা ঘোষণা করে।

যে সময়ে বাংলাদেশ এই গুরুত্বপূর্ণ দলিলটি প্রকাশ করলো, তাকে অনেক বিশ্লেষকই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন।

বিশেষ করে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নানা টানাপোড়ন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে যখন নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে, তার সাথে সরকারের এই পদক্ষেপের সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছেন অনেকে। তবে শেখ হাসিনার জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র সফরের সফরের আগে ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা প্রকাশের বিষয়টিকে একেবারেই ‘কাকতালীয়’ বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমীন।

অধ্যাপক ইয়াসমীন বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য দেশকে খুশি করার জন্য বাংলাদেশ এই রূপরেখা প্রকাশ করেছে বলে যে কথা বলা হচ্ছে, তার সাথে আমি সুস্পষ্টভাবে দ্বিমত পোষণ করি। বাংলাদেশ কিন্তু এই রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে ২০২১ সাল হতে। এটা যখনই তৈরি হয়েছে, সরকার তখনই এটা প্রকাশ করেছে। আপনি বলতে পারেন যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই যে এটি প্রকাশ করা হলো, সেটা একটা কাকতালীয় ব্যাপার।’

ভারত এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এই রূপরেখায়।

কোন দিকে ঝুঁকলো বাংলাদেশ
ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় এশিয়া-প্যাসিফিক এখন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই অঞ্চলকে ঘিরেই এখন তীব্র হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বে দুই বৃহৎ শক্তিই বাংলাদেশকে তাদের পক্ষে চায়। বাংলাদেশ তাহলে ঘোষিত ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখায় শেষ পর্যন্ত কাদের পক্ষ নিলো চীন নাকি যুক্তরাষ্ট্র? রূপরেখায় তার কী ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসি জার্নালে একটি নিবন্ধে একজন বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান দাবি করেছেন, এই রূপরেখায় বাংলাদেশ আসলে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজির প্রশ্নে পশ্চিমা শক্তির দিকে ঝুঁকেছে।

‘বাংলাদেশ টিল্টস টুওয়ার্ড দ্য ইউএস ইন দ্য ইন্দো-প্যাসিফিক’ শিরোনামের এই নিবন্ধে মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ বহু দিন ধরে জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি পুরোপুরি গ্রহণ করার কাছাকাছি যাচ্ছে, যেটি কিনা চীনকে ঠেকাতে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের কৌশল।’

তবে এই মাইকেল কুগেলম্যানের এই বিশ্লেষণের জোরালো প্রতিবাদ এসেছে এরই মধ্যে বাংলাদেশের তরফ থেকে।

অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমীন বলেন, ‘মাইকেল কুগেলম্যান যেটা লিখেছেন, তার বিরুদ্ধে কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। আমি নিজেও কিন্তু এটা নিয়ে লিখেছি। বাংলাদেশ আসলে কোনো দেশের দিকেই ঝুঁকছে না। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিই হচ্ছে সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বিদ্বেষ নয়।’

বাংলাদেশ যে এই রূপরেখায় মোটেই পশ্চিমা শক্তির দিকে যায়নি, তার প্রমাণ হিসেবে প্রফেসর ইয়াসমীন কয়েকটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করছেন।

‘প্রথমত, এই ডকুমেন্টের কোথাও কিন্তু বাংলাদেশ একবারও ‘ইন্দো-প্যাসিফিক রিজিওন’ কথাটি ব্যবহার করেনি। বাংলাদেশ এই পরিকল্পনা থেকে কাউকে বাদ দেয়া বা কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা এ ধরনের বিষয়গুলোকে এড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ এখানে ইনক্লুসিভিটির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশ যে নিরপেক্ষতার নীতিতে বিশ্বাস করে সেই বার্তাটাই দিতে চেয়েছে।’

তবে সৈয়দ মাহমুদ আলী মনে করেন, বাংলাদেশ আসলে এক ভারসাম্যপূর্ণ নীতির মাধ্যমে দুই দিক রক্ষার কৌশল নিয়েছে এই রূপরেখায়।

‘ভারতীয় এবং মার্কিন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের রূপরেখা যে দলিলের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ইন্দো-প্যাসিফিক কথাটি বলা, নাম দেয়া, ব্যবহার করা, এবং ভেতরে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে একথা প্রচ্ছন্ন, বাংলাদেশ সামরিক দিক থেকে কোয়াড গোষ্ঠীর সাথে হাত মেলায়নি। কিন্তু কূটনৈতিকভাবে সেদিকেই তার ইচ্ছের বহিপ্রকাশ ঘটেছে। সেটি সরাসরি চীন বিরোধী নয়। কারণ বাংলাদেশ বারবার বলছে, তাদের রূপরেখা হচ্ছে ইনক্লুসিভ, অর্থাৎ সব রাষ্ট্রের স্থান আছে এখানে। কোনো রাষ্ট্রকেই বাদ দেয়া হবে না। বাংলাদেশ সবার দিকেই হাত বাড়াবার কথা বলেছে।’

‘একদিকে বলা যায়, এই দলিলটির যে নাম, এবং এতে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, সেদিক থেকে বাংলাদেশ চীন-বিরোধী গোষ্ঠীর সাথে একটা সহযোগিতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ বাস্তবে অসামরিক, অর্থাৎ কোয়াড গোষ্ঠী যেভাবে চীনের ওপর সামরিক চাপ দিচ্ছে, বাংলাদেশ তার সাথে যোগ দেয়নি। সহযোগিতার কোনো কথা বলেনি। কাজেই বলা যায়, দুদিক রক্ষা করেই বাংলাদেশ ভারসাম্য রক্ষার এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।’

কোনো দুর্বল রাষ্ট্রকে ঘিরে যখন বৃহৎ শক্তির দ্বন্দ্ব এবং প্রতিযোগিতা শুরু হয়, তখন সেটি একই সাথে দেশটির জন্য আশীর্বাদ এবং অভিশাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রতিযোগিতার সুযোগে দরকষাকষি করে নিজের স্বার্থ আদায়ের সুযোগ যেমন থাকে, তেমনি বৃহৎ শক্তির টানা-হেঁচড়ার মাঝখানে পড়ে অনেক রাষ্ট্রে সংঘাত এবং বিপর্যয়ের নজিরও কম নয়।

সৈয়দ মাহমুদ আলী বলছেন, এই পরিস্থিতিতে নিজের স্বার্থ রক্ষা এবং সেই সাথে ভারসাম্য বজায় রাখা বাংলাদেশের সামনে বেশ বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের কূটনীতি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে কিনা, সেই দূরদর্শিতা তাদের আছে কিনা, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

সূত্র : বিবিসি

সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা ও টোকিও’র মধ্যে ৮টি চুক্তি স্বাক্ষরিত

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ বুধবার ঢাকা ও টোকিও আজ আটটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়, মেধাসম্পদ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি এবং সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চুক্তিগুলো বিনিময় করা হয়।
প্রথম চুক্তিটি হলো- বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কৃষি সহযোগিতার বিষয়ে একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি)।

দ্বিতীয় চুক্তিটি হলো- শুল্ক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে শুল্ক বিষয়ক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা সংক্রান্ত জাপান সরকার এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি। এর লক্ষ্য শুল্ক অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং শুল্ক পদ্ধতির সরলীকরণ ও সমন্বয়ের জন্য সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা।

তৃতীয় চুক্তিটি হলো বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ‘বাংলাদেশ-জাপান ইন্ডাস্ট্রিয়াল আপগ্রেডিং পার্টনারশিপ কোঅপারেশনের ওপর একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য যৌথভাবে বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পের মানোন্নয়নের সম্ভাবনা অন্বেষণ করার জন্য একটি এমওসি।

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) অবস্থান থেকে উত্তরণ লাভের জন্য এবং ‘ভিশন ২০৪১’-এর সাথে সঙ্গতি রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশ হওয়ার চলমান প্রচেষ্টার জন্য বাণিজ্য কর্মক্ষমতা এবং পণ্য বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার।

চতুর্থ চুক্তিটি হলো- প্রতিরক্ষা সংলাপ, সফর বিনিময়, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কোর্স, সেমিনার, কর্মশালা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং এর সাথে প্রাসঙ্গিক অন্য কোনো সম্মত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত স্মারক।
পঞ্চম চুক্তিটি হলো- মেট্রো রেলের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, মেট্রো রেল নীতি, আইন ও প্রবিধান বিষয়ে সহযোগিতা, অবকাঠামো, রোলিং স্টক ও সিস্টেমের জন্য প্রযুক্তি; নিরাপত্তা নীতি ও ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক।

ষষ্ঠ চুক্তিটি হলো জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা স্মারক। বাংলাদেশী পক্ষ ২০২৩ সালের মধ্যে জাহাজের নিরাপদ ও পরিবেশসম্মতভাবে রিসাইক্লিং করার জন্য হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন (এইচকেসি) মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।
জাপানি পক্ষ জাহাজ রিসাইক্লিং করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। এগুলোর মধ্যে একটি ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ এবং ডিসপোজাল সুবিধা প্রতিষ্ঠা করা এবং এইচকেসি এর বিধানগুলোর শর্ত পূরণে বাংলাদেশকে সহায়তা করা।

তথ্য বিনিময় ও চর্চা, আইপিআরের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিল্পের বিকাশ ও উদ্ভাবনের জন্য আইপিআর সিস্টেমের উন্নতির মাধ্যমে মেধাসম্পদ অধিকার (আইপিআর) সিস্টেম ও চর্চার বিষয়ে জাপান পেটেন্ট অফিস এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পেটেন্ট, ডিজাইন এবং ট্রেডমার্ক বিভাগের মধ্যে সপ্তম সহযোগিতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অষ্টম চুক্তিটি হলো- বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগ, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তাসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এমওসি।
কৃষিমন্ত্রী ড. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনীম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকের-উজ-জামান, সড়ক পরিবহন ও জনপথ বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের আগে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বর্ধিত বাণিজ্য সম্পর্ক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ সংশ্লিষ্ট পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
সূত্র : বাসস

নির্যাতন করে সরকার নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে পারেনি : রিজভী

সদ্য কারামুক্ত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দিনভর ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় রুহুল কবির রিজভী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা আজ অনেক বেশি উজ্জীবিত। এই সরকার নির্যাতন, অত্যাচার করে নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে পারিনি।

রিজভী বলেন, আজকে যে লড়াই সেটি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, বাকস্বাধীনতার ফিরিয়ে আনার লড়াই। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে আন্দোলন হচ্ছে, তারই প্রতিফলন আজ আমি দেখতে পাচ্ছি। এই লড়াই কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়। এটি দেশ বাঁচানোর লড়াই, একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই।

তিনি আরো বলেন, এই সরকারের হিংস্রতা শুধু রাজপথেই নয়, কারাগারেও। সেখানে রাজবন্দীরা অমানবিক জীবনযাপন করছেন। আমাকে একা একটি প্রিজন ভ্যানে দাঁড়িয়ে আদালতে আনা হতো। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। গাড়ি ব্রেক করলে আমি পড়ে যেতাম। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে আমার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ঈদের আগে আমি সবকয়টি মামলায় জামিন পেলেও আমাকে মুক্তি দেয়া হয়নি, পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদ করতে দেয়া হয়নি।

এ সময় তিনি আটকের সময় তার পরিবারের প্রতি খোঁজ-খবর রাখার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে, তিনি গতকাল বিকেলে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই তার বাসভবনে গিয়ে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর-দক্ষিণ, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী তার আদাবরের বাসায় গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় রিজভীর স্ত্রী আরজুমান আরা বেগমসহ বিএনপি নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস,
হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আব্দুস সালাম আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, আমিনুল হক, মীর সরাফত আলী সপু, অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ডা. রফিকুল ইসলাম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, অধ্যাপক ড. মো: মোর্শেদ হাসান খান, আমিনুল ইসলাম, তারিকুল আলম তেনজিং, ঢাকা জেলার সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, তানভীর আহমেদ রবিন, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল করিম রনি, আসাদুল করিম শাহীন, শাখায়াত হোসেন সবুজ, কাজী সাইফুল আলম বাবুল, মুজিবুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা কাদের গনি চৌধুরী, রাশেদুল হক, বাছির জামাল, পেশাজীবী নেতা ডা. শামীমুর রহমান, ডা. রফিকুল ইসলাম, ডা. আউয়াল, মৎস্যজীবী দলের মো. আবদুর রহিম, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, ফজলে কাদের সোহেল, কেএম সোহেল রানা, এম সায়েম উদ্দিন সিয়াম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, আরিফুর রহমান তুষার, যুবদলের মেহবুব মাসুম শান্ত, সোহেল আহমদ, ছাত্রদলের সাবেক নেতা ওমর ফারুক কাওসার, ঢাবি ছাত্রদলের রাজু আহমেদসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ মাস তথা ১৪০ দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। ঈদের আগেই ৫০ মামলার সবকটিতেই জামিন পেয়েছিলেন রিজভী।

সর্বশেষ মানহানির অভিযোগে গোপালগঞ্জে করা এক মামলায় গত ১৮ এপ্রিল জামিন পেলেও জামিননামার মূল কপি কারাগারে না পৌঁছানোর কারণে ঈদের আগে তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি।

২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে ঘিরে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে ওই রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই সময় রুহুল কবির রিজভীকে আটক করা হয়। পরদিন পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় পৃথক চারটি মামলা করে পুলিশ।

পল্টন ও মতিঝিল থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রুহুল কবির রিজভীকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আরো বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মামলার জট নিরসনের চেষ্টা রয়েছে : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, মামলা জট যাতে না হয় এবং তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে তারা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বুধবার টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্ত্বরে ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণের স্থান পরিদর্শন ও ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মামলার জট আমাদের চিন্তিত করেছে। বিচার প্রার্থীরা যদি দীর্ঘ দিনেও বিচার না পায়, তবে একসময় তারা আদালতের প্রতি বিশ্বাস হারাতে পারেন।’ মামলা থাকবে, কিন্তু যাতে জট না হয়- যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে সে চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে প্রধান বিচারপতি বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল এসে পৌঁছলে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ও পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ২০২২ সাল থেকে আমাদের বিচারকরা অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পুরোনো বা বর্তমান মামলাগুলো যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়। এ কারণে বর্তমানে যতগুলো মামলা ফাইল হয়েছে তার চেয়ে বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে আমরা একটা সহনীয় পর্যায়ে থাকবো। তিনি আইনজীবী, আইনজীবীর সহকারী এবং বিচার প্রার্থীদের আদালতের কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ শেখ আব্দুল আহাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুন্সি মো: মশিয়ার রহমান, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মাহাবুবুর রহমান, টাঙ্গাইলের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) রাফিজুল ইসলাম, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাউদ হাসান, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের ৬৪ জেলার আদালত প্রাঙ্গণে ন্যায়কুঞ্জ স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ন্যায়কুঞ্জ স্থাপন হলে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায় বিচারের জন্য আদালত প্রাঙ্গণে এসে স্বস্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবেন।
সূত্র : বাসস

শি জিনপিংয়ের সাথে জেলেনস্কির দীর্ঘ টেলিফোনে আলাপ

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের পর এই প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং চীনের নেতা শি জিনপিংএর মধ্যে টেলিফোনে সরাসরি কথাবার্তা হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, এটি ছিল একটি দীর্ঘ এবং অর্থপূর্ণ আলাপ।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট শি জোর দিয়ে বলেছেন যে বেইজিং সবসময়ই শান্তির পক্ষে এবং ‘সংলাপ ও আলোচনাই’ সঙ্কট থেকে ‘বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এই দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কথাবার্তার খবর এবারই প্রথম জানা গেল।

চীনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, কিয়েভ সবগুলো যুক্তিসংগত উদ্যোগকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং অবাস্তব দাবি তুলে আল্টিমেটাম দিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি টুইটারে এক বার্তায় বলেছেন, এই ফোনালাপ এবং বেইজিংয়ে ইউক্রেনের একজন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের গতি জোরালো করবে।

বুধবার জেলেনস্কির সাথে শি-র ফোনালাপের পর চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, চীন ইউক্রেনের সাথে সরাসরি যোগাযোগের অংশ হিসেবে কিয়েভ এবং অন্যান্য রাজধানীতে একজন বিশেষ প্রতিনিধি পাঠাবে- যার লক্ষ্য হবে একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় শি জিনপিং
বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, ইউক্রেনে রুশ অভিযানের ব্যাপারে চীন বরাবরই এটা দেখানোর চেষ্টা করেছে যে তারা এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে।

কিন্তু চীন কখনো মস্কোর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে লুকানোর চেষ্টা করেনি বা রুশ অভিযানের নিন্দাও করেনি।

গত মাসে প্রেসিডেন্ট শি রাশিয়াতে এক রাষ্ট্রীয় সফরেও গিয়েছেন। তবে তিনি কখনোই রাশিয়াকে অস্ত্র দেবার অঙ্গীকার করেননি।

ওই সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে বর্ণনা করেন শি। তিনি একটি ১২-দফার শান্তি পরিকল্পনাও প্রস্তাব করেন। তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলো ওই পরিকল্পনার সমালোচনা করে।

এতে (রাশিয়ার ওপর) নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেবার কথা থাকলেও ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বা রাশিয়ার দখল করা এলাকাগুলোর ব্যাপারে স্পষ্ট কোন পরিকল্পনা ছিল না।

সেই সফরের কয়েকদিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি চীনা নেতাকে আলোচনার জন্য কিয়েভ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানান।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, চীন এই যুদ্ধ অবসানে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারবে এমন সম্ভাবনা কম। কারণ রাশিয়া এখন পর্যন্ত তাদের সৈন্যদের ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে নেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি- যা কিয়েভের অন্যতম প্রধান দাবি।

তবে শি জিনপিং সম্প্রতি ইরান ও সৌদি আরবকে তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে প্রভাবিত করে কূটনৈতিক সাফল্য পেয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি

Особенно высокий приветственный бонус и первоклассная библиотека развлечений: это основные причины попробовать игру в Кэт Казино!

Это игровое учреждение быстро покорило пользователей благодаря экстраординарному каталогу видеослотов, оптимальной доступности и особенно высокому приветственному бонусу по сравнению с остальными азартными порталами!

Когда вы заходите на портал Кат Казино впервые, ваше впечатление, по всей видимости – будет позитивным. На самом деле, интерфейс игровых клубных платформ отличается выделяющийся читабельностью, в том числе благодаря выбору цвета. После нескольких минут, проведенных на этом очень защищённом веб-портале, вы уже будете знать, как перемещаться между разными доступными вкладками.

Меню казино предоставляет шанс получить доступ ко всем частям портала, а именно:

  • Homepage;
  • Регистрация;
  • Игровые автоматы;
  • Бонусы;
  • Всё для VIP;
  • Обслуживание пользователей;

У вас также будет возможность сортировать игровые автоматы по меню или оператору. Эта функция выгодна из-за огромной библиотеки вендеров интернет-казино Кэт Казино.

Азартное заведение использует протокол Secure Sockets Layer (SSL) и гарантирует как персональную безопасность, так и целостность ваших конфиденциальных данных. Из-за этого вы можете смело играть на портале Кэт Казино. Этот игровой сайт имеет лицензию, предоставленную Комиссией по казино развлечениям Curacao, а это считается одним из авторитетов в индустрии iGaming. Другими словами, вы гарантированно будете наслаждаться игрой на полностью легальной веб-площадке, которая соблюдает такие пункты:

  • Реализация политики ответственной игры для предотвращения рискованного поведения среди игроков;
  • Защита ваших онлайн-транзакций с использованием протокола SSL;
  • Честность азартных аппаратов с соблюдением соответствующей нормы возврата и использованием случайной жеребьевки для всех игр, в которые можно играть на сайте;
  • Прозрачность предлагаемых промокодов с указанием условий;

Какие игры размещены в Кэт Казино?

Кэт Казино поражает пользователей своим списком видеослотов. На сайте вы встретите широкий ассортимент игр, и каждая категория будет вас приятно радовать своим разнообразием: игровые автоматы, блэкджек, рулетка, очко, онлайн дурак и т. Д. Какую бы игру вы ни активировали, вы получите уникальный опыт, сделав депозит в этом онлайн-казино. Вот несколько примеров игр, которые предлагает казино Cat Casino:

  • Онлайн рулетка: американская версия, европейская рулетка;
  • Живые игры: лайв покер, ловец снов;
  • Онлайн-блэкджек: обычный блэкджек, 3D-блэкджек;
  • Популярные видеослоты: Gonzo’s Quest, Fire Joker, Starburst;

Такое огромное число вендеров связано с партнерскими отношениями с достаточно талантливыми операторами в сфере iGaming: Wazdan, 1×2 Gaming, Quickspin, Novomatic, Evolution Gaming. И это обилие игр вероятно постоянно продолжать и продолжать с более чем 50 операторами вендеров, сотрудничающими с Кэт Казино!

Выбрав игру по своим предпочтениям, у вас будет два варианта: играть на реальные деньги или играть в демонстрационном режиме. Как следует из названия, этот второй вариант позволяет вам играть бесплатно на сайте. Вам не надо входить в систему или завершать регистрацию. Демонстрационный режим предназначен для слотов, бинго, буры, покера и разных других игр, кроме живого казино.

image

Департамент поддержки Кэт Казино

Наконец, важно также взглянуть на обслуживание посетителей в Cat Casino. Проведя несколько минут на портале, можно увидеть, что в качестве связи казино предлагает чат и виртуальное сопровождение по e-mail. Это вполне удовлетворительно, так как все администраторы будут крайне компетентными и отзывчивыми. Более того, эта услуга актуальна в любое время, то есть 7 дней в неделю и 24 часа в сутки.

Кэт Казино смело реально переместить в количество надёжных азартных сайтов, предлагаемых в стране. Эта платформа приветствует вас на современном сайте и предоставляет приблизительно 900 игр, предоставленных лучшими издателями. Как азартный клиент, вы останетесь удовлетворены выбором между видеослотами, бинго, рулеткой, видеопокером, скрэтч-билетами и живым казино!