Home Blog Page 618

ব্রিকসের নতুন সদস্যদের তালিকায় বাংলাদেশ নেই কেন?

ব্রিকসের ১৫ তম বৈঠকে জোটটির সাথে বাংলাদেশের যুক্ত না হওয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তবে বিষয়টিকে এখনই কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না তারা। তারা বলছেন যে, প্রকৃত কারণ জানতে হলে আরো কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

যদিও কেউ কেউ বলছেন, এবার সদস্যপদ দেয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে। হয়তো সেসব বিষয়ে বাংলাদেশ তুলনামূলক পিছিয়ে থাকায় এ দফায় বাংলাদেশকে সদস্যপদ দেয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে ছয়টি দেশকে এই জোটে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্মেলনের স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, এসব দেশ হচ্ছে সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর্জেন্টিনা, মিসর এবং ইথিওপিয়া।

বাংলাদেশও এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে এর আগে আভাস পাওয়া গেলেও নতুন ছয়টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।

সর্বশেষ নতুন সদস্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভূক্ত না হওয়া নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বাংলাদেশ।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা যান।

এ বছর জুনের মাঝামাঝি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, আগস্টে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট -ব্রিকসের সদস্য পদ লাভ করতে পারে।

যুক্ত না হবার সম্ভাব্য কারণ
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে ব্রিকসে সম্মেলনের পাশাপাশি বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘(চীন বলেছে) ব্রিকসে যখন আপনি যাতে আপনি জয়েন করতে পারেন, সেই জন্যে আমাদের সবসময় সমর্থন থাকবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বার্তা থেকে আশা তৈরি হয়েছিল, এবার হয়তো বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্যপদ পাবে। তবে বৃহস্পতিবার ব্রিকস সম্মেলনের শেষ দিনে জোটটিতে যোগ দিতে যেসব দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, প্রথমত ব্রিকসে যাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তার মধ্যে সবগুলো দেশই অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে অগ্রসরমান দেশ এবং এদের সবার অর্থনৈতিক অবস্থাই বাংলাদেশের তুলনায় ভালো।

‘আমরা তো এখনো এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবেই আছি। আর ব্রিকসে যারা আছে তাদের লেভেলটা তো আরেকটু ওপরে।’

তার মতে, বিকল্প একটা অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করার মতো সক্ষমতা রাখে এমন সব দেশকেই এবার ব্রিকসে যোগ দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সেই জায়গায় বাংলাদেশ এখনো সে ধরণের ভূমিকা পালন করতে পারবে কিনা সে বিষয়টিও হয়তো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

‘দ্বিতীয় কারণ হতে পারে যে আমরা সাম্প্রতিক কালে আগ্রহ দেখিয়েছি। কাজেই আগ্রহ দেখানো এবং তার জন্য মোবিলাইজেশন যেটা দরকার সেটা কতটুকু হয়েছিল সেটা ব্যাপার। আর আমার ধারণা সে কারণেই বিষয়টা হয়তো বিবেচনায় আসে নাই,’ বলেন কবীর।

তবে এবার ব্রিকসে যোগ দিতে না পারার বিষয়টিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে নারাজ সাবেক এই কূটনীতিক।

তিনি বলেন, ‘এটা ব্যর্থতা বলবো না। এটা বলতে পারেন যে, আমরা একটু বেশি প্রত্যাশা হয়তো করেছিলাম।’

‘অথবা এটাকে আশাবাদ তৈরি করে একটা অবস্থান বা একটা ভাবমূর্তি তৈরি করার জন্য হয়তো চেষ্টা করা হয়েছিল যা বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না।’

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশ বাদ পড়ার যথাযথ কারণ জানতে অপেক্ষা করা উচিত।

তার মতে, এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, বাংলাদেশকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল যে, চারটি দেশকে যুক্ত করা হলে তার মধ্যে একটি বাংলাদেশ হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা দেখা যায়নি।

‘এর কারণ হতে পারে, তারা যে ক্রাইটেরিয়া বিবেচনায় নিয়েছে সেগুলোর সাথে হয়তো বাংলাদেশ ম্যাচ করেনি, পরবর্তীতে যখন তারা আবার অ্যাড করবে তখন হয়তো আসতে পারে। তবে এগুলো সবই ধারণা মাত্র।’

তবে এটিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে চান না তিনি।

তিনি বলেন, ‘সব কিছুতেই তো আর দিনে দিনে সাফল্য পাওয়া যায় না, অনেক কিছু আছে যেগুলোতে অনেক সময় লাগে।’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলছেন সম্প্রসারনের বিষয়টি কয়েক ধাপে আলোচনা হয়েছে।

’কোন সূচকের ভিত্তিতে নতুন সদস্য নেয়া হবে কি-না কিংবা কীভাবে গ্রহণ করা হবে। এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে অর্থনীতির আকার ও জাতীয় মাথাপিছু আয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই বলা যায় নতুন সদস্য নেয়ার ক্ষেত্রে পুরোপুরি ঐক্যমত না থাকলে একটি মাপকাঠি ছিলো,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

ভট্টাচার্য যে দুটি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন এ দুটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের চেয়ে ইথিওপিয়া ছাড়া অন্যদেশগুলো, অর্থাৎ যাদের সদস্যপদ দেয়া হয়েছে তারা এগিয়ে।

বাংলাদেশের বাদ পড়াটাকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে চান না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাসও। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিজে থেকে এখানে আগ্রহ দেখিয়েছে বিষয়টি সেরকম নয়। বরং বাংলাদেশকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং সেখানে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে।

‘সেই কনটেক্সটে এটাকে ঠিক এখনই ফেইলিয়র বলাটা, অত্যুক্তি করা হয়ে যাবে। আরেকটু বোধ হয় এটা অ্যানালিসিস করতে হবে।’

বাংলাদেশের বাদ পড়ার পেছনে এখনই কোনো কারণ বোঝা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন বিশ্বাস। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করার সময় আসেনি।

তবে যেসব দেশকে ব্রিকসে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণ করার মতো বলে মনে করেন তিনি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, চীন যেসব দেশে সমস্যা মেটাতে মধ্যস্থতা করেছে সেসব দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যেমন সৌদি আরব এবং ইরান। আবার ইথিওপিয়াতে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে।

এছাড়া আঞ্চলিক একটা ভারসাম্যও মাথায় রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। যেমন, ছয়টি দেশের মধ্যে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ আমেরিকা- সব এলাকার দেশই রয়েছে।

ব্রিকস হলো- উদীয়মান অর্থনীতির পাঁচটি দেশ– ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং সাউথ আফ্রিকার প্রথম অক্ষরের সমন্বয়ে নামকরণ করা একটি জোট। সূত্র : বিবিসি

বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চায় জাতিসঙ্ঘ : ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে জাতিসঙ্ঘ বাংলাদেশে একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ নির্বাচন দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুইন লুইসের সাথে বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘অন্যান্য কূটনীতিকদের সাথে আমাদের যে বৈঠক হয়েছে আজকের আলোচনা তা থেকে ভিন্ন। নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়।’

বৈঠকে প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত এমপি উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির চাপে জাতিসঙ্ঘের কোনো মাথাব্যথা নেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চাই, নির্বাচন যত প্রতিযোগিতামূলক হবে দেশে-বিদেশে তত গ্রহণযোগ্য হবে।’

এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, আমরা তাদের (বিএনপিকে নির্বাচনে যোগ দিতে) বাধ্য করতে পারি না।

তিনি বলেন, অন্যান্য কূটনীতিকদের সাথে তাদের আগের বৈঠকগুলো মূলত নির্বাচন সংক্রান্ত হলেও আজকের বৈঠকটি ছিল একটু ভিন্ন। আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও এসডিজিতে করণীয়।

তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়কারী সকল বড় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রশংসা করেছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসঙ্ঘ বিএনপির শর্তের বিষয়ে কোনো কথা তোলেনি, তবে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে তাদের ভালো লাগবে। সূত্র : ইউএনবি

রেকর্ড দাম বাড়ল স্বর্ণের

দেশের বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) দাম বাড়ায় ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে দুই হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ এক হাজার ২৪৪ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনো দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি এক লাখ এক হাজার স্পর্শ করেনি।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। শুক্রবার থেকে এটি কার্যকর করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) সোনার দাম কমিয়েছিল বাজুস। এক সপ্তাহ যেতে না যেতে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলো সোনা ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি।

নতুন মূল্য অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম হবে এক লাখ এক হাজার ২৪৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৬ হাজার ৬৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৮২ হাজার ৮১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ৬৯ হাজার ৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানো হ‌লেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম।

যুক্তরাষ্ট্রে সফলভাবে সম্পন্ন হল মুনা’র ৩ দিনব্যাপী সম্মেলন

নর্থ আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটি সহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ঘরে ইসলাম তথা পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কোরআনের বাণী ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার অঙ্গীকারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার ঐতিহাসিক ‘পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন’ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকার (মুনা) ষষ্ঠ সম্মেলন। শুক্র, শনি ও রোববার এই তিন দিনের সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার প্রায় ২০ হাজার ধর্মপ্রান মুসলমান অংশ নিয়েছেন বলে মুনা’র কর্তৃপক্ষরা জানিয়েছেন। এবারের সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ইসলামিক স্কলারদের পাশাপাশি মূল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবীদ, সুবক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী।

সম্মেলনের কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো ইসলামি চর্চা ও আলোচনা ছাড়াও ছিল সেমিনার, ছোটদের অনুষ্ঠান, মহিলাদের জন্য আলাদা অনুষ্ঠান, শিশু-কিশোর-কিশোরীদের খেলাধুলা, কালচারাল প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্রোগ্রাম প্রভৃতি। মুনা’র কনভেনশনে যোগদানকারী হাজার হাজার ধর্মপ্রান মুসলমানের একসাথে জুম্মার নামাজ আদায় ও কুরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ আগষ্ট) তিনদিনব্যাপী কনভেনশন শুরু হয়। উদ্বোধনী পর্বে প্রায় ৫ হাজারের মতো নারী পুরুষ অংশ নেন। সম্মেলনের আর্কষনীয় অনুষ্ঠানগুলো শনিবার দিনব্যাপী চলে। বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশ থেকে আগত ৫০ জনের মতো ইসলামী চিন্তাবীদ এ সম্মেলনের বিভিন্ন ইভেন্টের ওপর আলোচনা করেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের আলোচিত ও মালয়েশিয়ায় অস্থায়ীভাবে বসবাসকারি ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজাহারিও ছিলেন। আজাহারিকে একনজর দেখা ও তার বক্তব্য শোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ফিলাডেলফিয়ায় সমবেত হন। মুনা নেতৃবন্দ জানান, গত সম্মেলনে ১৫ হাজারের মতো মুসলমান সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। এবার যোগ দিয়েছেন সর্বস্তরের প্রায় ২০ হাজার মুসলিম নর-নারী।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মুনা কনভেনশন হচ্ছে এককভাবে বাংলাদেশীদের সর্ববৃহৎ কোন সমাবেশ। এদিকে মুনা সম্মেলন ঘিরে পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া শহর বাংলাদেশীদের সরব পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে। ফিলাডেলফিয়া শহরের ডাউনটাউন এলাকা মুসলিম কমিউনিটির উৎসবের শহর পরিণত। উদ্বোধনী দিনে শুক্রবার সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুনা’র ন্যাশনাল কমিটির সভাপতি হারুন অর রশীদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, আব্দুস সালাম আজাদী, আহমেদ আবু ওবায়দুল্লাহ ও মাওলানা লুৎফর রহমান।

(খবর ইউএনএর)

বায়তুল মোকাররমে সাঈদীর গায়েবানা জানাজা স্থগিত

বায়তুল মোকাররম মসজিদে আজ বুধবার বাদ জোহর আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আল্লামা সাঈদীর গায়েবানা জানাজায় হামলা, গুলি ও হত্যার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে বুধবার বাদ জোহর আল্লামা সাঈদীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বিশ্ব বরেণ্য মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ঢাকায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হতে না দেয়া এবং সমবেত জনতার উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

তিনি ১৫ আগস্টের ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, বিশ্ব বরেণ্য মুফাসসিরে কোরআন ও সাবেক এমপি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত ৮:৪০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্তিকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উনার ইন্তিকালের খবর প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে হাজার হাজার তৌহিদি জনতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত হতে থাকে। রাত যত বাড়তে থাকে জনতার উপস্থিতিতে হাসপাতাল চত্বর ও শাহবাগের আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্যে পরিণত হতে থাকে। আল্লামা সাঈদীর পরিবারের লোকজন ও প্রাশাসনের সাথে সমন্বয় করে ১৫ আগস্ট বাদ জোহর পিরোজপুরে জানাযা, দাফন এবং ১৬ আগস্ট ঢাকায় গায়েবানা জানাযা করার সিদ্ধান্ত হয়।’

তিনি বলেন, ‘তবে রাত বাড়ার সাথে সাথে হাসপাতালে আগত হাজার হাজার সমবেত জনতার পক্ষ থেকে ঢাকায় জানাযার দাবি তোলা হয়। অনেকে লাশবাহী এম্বুলেন্স আটকিয়ে তার সামনে বসে যান এবং অনেকে শুয়ে পড়েন। শান্তিপূর্ণভাবে তারা তাদের প্রিয় রাহবারের ঢাকায় জানাযার দাবি জানান। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে দেশবাসী লক্ষ্য করেছে ফজরের পরপরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো কারণ ছাড়াই সমবেত জনতার উপর মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তাদের হাত থেকে হাসপাতালে আগত রোগীদের আত্মীয় স্বজন মসজিদের সাধারণ মুসল্লিগণও রেহাই পাননি। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দলমত-নির্বিশেষে এদেশের কোটি জনতার হৃদয়ের স্পন্দন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় অন্তিম সময়ে তাঁর পরিবারের কারো সাথেই তিনি কথা বলে যেতে পারেননি। পরিবারের লোকজনকে তাঁর সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি। যা অত্যন্ত অমানবিক ও বেদনাদায়ক।

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ না পাঠালে কঠোর কর্মসূচি

খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে না পাঠালে কঠোর আন্দোলন-কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (১৬ আগস্ট) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কায়ার্লয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে তিনি এ হুঁশিয়ারী দেন।

আমীর খসরু বলেন, জনগণকে বাঁচাতে হলে দেশনেত্রীকে বাঁচাতে হবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে দেশনেত্রীকে বাঁচাতে হবে। গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার বাঁচাতে হলে দেশনেত্রীকে বাঁচাতে হবে।

উন্নত চিকিৎসা না দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে যারা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের দায়ভার বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন বিএনপি এই নেতা।

‘ভারতের ভবিষ্যত ও নিরাপত্তা বাংলাদেশের সাথে জড়িত’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ, মিয়ানমার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্মিতা প্যান্ট মঙ্গলবার বলেছেন, ভারতের ভবিষ্যত, বিশেষ করে এর নিরাপত্তা বাংলাদেশের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত একসাথে অনেক কিছু অর্জন করতে পারে, বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সুন্দরবনের বদ্বীপ সুরক্ষায়।

ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন স্মিতা প্যান্ট।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে অপরাধীরা তার মূল্যবোধকে নির্মূল করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু, ‘ইতিহাসে যার সমকক্ষ কম’, তার স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, জনগণ চরমপন্থা প্রত্যাখ্যান করেছে, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে এবং দেশটি প্রায় অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী পাঠায়।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান আলোচনার শুরুতে বলেন, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি মডেল। সাম্য, ন্যায়বিচার, মৌলিক মানবাধিকার এবং বিশেষত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার উপলব্ধির জন্য লড়াই করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন বিকাশ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে জাতিসঙ্ঘে তার প্রথম ভাষণে সবার জন্য শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বঙ্গবন্ধুকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংগ্রামই শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য সার্বজনীন সংগ্রামের প্রতীক।’

একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত ন্যাম সম্মেলনে, যেখানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘যারা অত্যাচারী এবং যারা নির্যাতিত- তাদের মধ্যে পৃথিবী বিভক্ত…। যারা নিপীড়িত এবং যারা নিপীড়ন থেকে মুক্তির ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরা তাদের পাশে আছি।’

বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, কিন্তু তারা এই মহান ব্যক্তির নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। তার শিক্ষা, মতাদর্শ এবং চেতনা আমাদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে।’

হাইকমিশনার অনুসারে, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ একমত পোষণ করেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিসংখ্যান এখন পাকিস্তান এবং কিছু পরিস্থিতিতে ভারতের চেয়ে ভালো।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং ভারতের সাথে সুসম্পর্কের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
সূত্র : ইউএনবি

আল্লামা সাঈদীর রাজনৈতিক জীবন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন ও সাবেক এমপি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সোমবার (১৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি ১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।। তিনি ১৯৮২ সালে জামায়াতের রুকন হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি জামায়াতের মজলিশে শূরা সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। আল্লামা সাঈদী ২০০৯ সাল থেকে আজ অবধি জামায়াতের নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন।

সংসদ সদস্য
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর ১ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে পরপর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেয়া হয়। তিনি মাত্র ৬,৯৯৬ ভোটে পরাজিত হন।

২০০১ সালে তিনি ১,১০,১০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুধাংশু শেখর হালদার ৭৬,৭৩১ ভোট পেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীর মাত্র তিনজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আল্লামা সাঈদী ৫৫,৭১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আওয়ামী লীগে প্রার্থী সুধাংশু শেখর হালদার পেয়েছিলেন ৫৫,৪৩৭ ভোট।

বাবর বিশ্বের সেরা ব্যাটার : কোহলি

পাকিস্তান অধিনায়ক ব্যাটার বাবর আজমের প্রশংসা করে ভারতের সাবেক দলনেতা বিরাট কোহলি বলেছেন, ‘সম্ভবত সব ফরম্যাটে বিশ্বের সেরা ব্যাটার বাবর।’

স্টার স্পোর্টসে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাবরকে নিয়ে এমন কথা কোহলি।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম সেরা তারকা বাবর। ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে ব্যাট হাতে সমানতালে দাপট দেখাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে আছেন বাবর। টেস্টে চতুর্থ ও টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয়স্থানে আছেন তিনি।

গত চার-পাঁচ বছর ধরে দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরমেন্সে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাবর। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ম্যানচেস্টারের ম্যাচে বাবরের সাথে প্রথম দেখার হয় কোহলির। বাবরের সাথে কোহলির সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে ইমাদের সাথে পরিচয় কোহলি। ওই স্মৃতি রোমন্থন করে কোহলি বলেন, ‘২০১৯ বিশ্বকাপে ম্যানচেস্টারের ম্যাচ শেষে তার (বাবর) সাথে আমার কথা হয়। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে আমি ইমাদকে (ওয়াসিম) চিনতাম। ইমাদ আমাকে এসে জানিয়েছিল যে আমার সাথে বাবর কথা বলতে চায়। আমরা বসলাম এবং খেলা নিয়ে আলোচনা করলাম। আমি প্রথম দিন থেকেই তার মধ্যে প্রতিপক্ষের প্রতি যথেষ্ঠ সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ দেখেছি এবং সেটা আজও পরিবর্তন হয়নি।’

বাবরকে বিশ্বের সেরা ব্যাটার হিসেবে অ্যাখায়িত দিয়ে কোহলি বলেন, ‘সব ফরম্যাট মিলিয়ে সে সম্ভবত বিশ্বের সেরা ব্যাটার। ধারাবাহিকভাবে সব ফরম্যাটেই পারফর্ম করে এবং আমি সবসময়ই তার খেলা উপভোগ করি।’

৮৮৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে আছেন বাবর। ৭০৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের নবমস্থানে আছেন কোহলি। আসন্ন এশিয়া কাপে একই গ্রুপ রয়েছে ভারত-পাকিস্তান। ২ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে লড়বে দু’দল। সুপার ফোরে উঠলে আবারো দেখা হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। এছাড়াও আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১৪ অক্টোবর আহমেদাবাদে দেখা হবে ভারত ও পাকিস্তানের।
সূত্র : বাসস

মমতাজের বিরুদ্ধে ভারতের আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ঙ্গীতশিল্পী এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের আদালত। প্রতারণাসহ বিশ্বাসভঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে। টাকা নিয়েও অনুষ্ঠান যাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ আগস্ট) এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বহরমপুর আদালতের মুখ্য বিচারক অলোকেশ দাস।

প্রায় ১৫ বছর আগে মমতাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ নিয়ে ওই মামলায় চতুর্থবারের জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলো।

৯ আগস্ট আদালতে হাজির থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল মমতাজকে। কিন্তু তিনি ওই দিন আদালতে হাজির না থাকায় এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, মমতাজের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে মামলা করেন শক্তিশঙ্কর বাগচি নামের এক ইভেন্ট অর্গানাইজার। আগে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিতেন মমতাজ। শক্তিশঙ্কর বাগচির অভিযোগ, ২০০৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য মমতাজের সাথে তার লিখিত চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে বহরমপুরের একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল মমতাজের।

ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য মমতাজকে ১৪ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু মমতাজ টাকা নিয়েও অনুষ্ঠানে যাননি। ওই টাকা ফেরত চাইলেও তা দিতে অস্বীকার করেন মমতাজ। এ জন্য হেনস্থার মুখে পড়তে হয় শিবশঙ্কর বাগচিকে। থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ নিতে না চাইলে বাধ্য হয়ে বহরমপুর আদালতের যান তিনি।

আদালতে মমতাজের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। ওই মামলায় ২০০৯ সালে মমতাজের বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালত। সমন কার্যকর না করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তার মধ্যে ওই আদালত থেকে আগাম জামিন নেন মমতাজ। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টেও যান শিবশঙ্কর বাগচি।

জানা গেছে, মামলায় সহযোগিতা করার কথা বলেই তিনবার জামিন পান মমতাজ। কিন্তু চলতি বছরে হাজিরা আবারো এড়িয়ে যান তিনি। তারপরেই আবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

শিবশঙ্কর দাবি করেন, নিজের নাম বদল করে আদালতকে মিথ্যা কথা বলছেন ওই গায়িকা।

বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মমতাজ এখন কানাডায় আছেন।
সূত্র : এই সময়