Home Blog Page 620

নিউইয়র্কে বিশ্ব শান্তি বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে সেন্টার ফর এনআরবি’র আলোচনা ও ইফতার অনুষ্ঠান

নিউইয়র্ক: সকলের জন্য বাসযোগ্য ও নিরাপদ পৃথিবী গঠনের আহŸানের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেন্টার ফর এনআরবির আলোচনা ও জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সম্মানে আন্তধর্মীয় ইফতার। এনআরবি সেন্টারের ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ ২০২৪ এর অংশ হিসেবে ৮ এপ্রিল সোমবার কুইন্সের জয়া পার্টি হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনআরবি চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরী। অতিথিদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি খিজির আহমদ, নিউইয়র্ক কুইন্স কোর্টের প্রেসিডেন্ট সোমা সাইদ, জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত ও জি১০০ গ্রæপ যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি সীমা কারাতনায়া, রাষ্ট্রদূত ডঃ আন্দ্রেই বাস ও নিউইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোঃ নাজমুল হুদা।
অনুষ্ঠানে নিধার্রিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক ইসলামী স্কলার ইন্দোনেশিয়ার ডঃ শামসী আলী, খৃষ্টানিটি স্কলার ডঃ ফ্রান্ক কাউফম্যান, জাতিসংঘের সাবেক সুপারিনডেন্ট মোহামেদ সুলায়মান ইয়ার, নিউইয়র্ক মেয়রের নিরাপত্তা প্রধান হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশী আমেরিকান পেশাজীবী ব্যাংকার ওয়াসেফ চৌধুরী, সফ্টওয়ার ইন্জিনিয়ার মোজাফ্ফর আহমদ, এটর্নী জিনাত জাহান টিবিএন ২৪ চ্যানেলের মার্কেটিং প্রধান আফম জামান, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের নির্বাহী সদস্য জুলকার হায়দার, এওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রবাসী সানওয়ার চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী এবং অথর্নৈতিক বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ডঃ মশিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি খিজির আহমদ বলেন, যথেষ্ট হয়েছে আর না, এবার বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে রাজনীতিবিদদের, হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।
কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা বলেন, রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, করণীয় ঠিক করে দিতে হবে তবেই না আমরা কুটনীতিকরা দায়িত্ব পালন করতে পারবো।জাতিসংঘ তার সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয় সুতরাং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ইসলামী চিন্তাবিদ ডঃ শামসী আলী বলেন, একজন মানুষের মৃত্যু মানে মানবতার মৃত্যু, সুতরাং মৃত্যু রোধ করতে না পারলে মানবতা বিপন্ন হবে।
খৃষ্টানিটি চিন্তাবিদ ডঃ ফ্রাঙ্ক কাউফম্যান বলেন, কোন মৃত্যু গ্রহন যোগ্য হতে পারেনা।
সভাপতির বক্তব্যে এনআরবি চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, দেশে দেশে সংঘাত, সংখ্যা লঘুদের নির্মূল প্রয়াস, ধর্মীয় বিরোধ, জাতিগত দাঙ্গা ও ক্ষমতাবানদের অত্যাচার বন্ধে জাতিসংঘের বলিষ্ট ভূমিকা নিতে হবে। রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে দূবর্লদের অত্যাচার নিরসনে জাতিসংঘের মধ্যস্থতা ও পরামর্শ পালনে শক্তিমানদের বাধ্য করতে সকলকে একযোগে কায্যর্কর পদক্ষেপ গ্রহনে করতে হবে। সকলের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে ধর্মীয় ও বিভিন্ন জাতিগোষ্টি এবং স¤প্রদায়গুলোকে পরষ্পরের প্রতি সহনশীল ও ন্যায্য আচরণের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও স¤প্রীতি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের লাগসই ও ন্যায়সংগত পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘ তার করণীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সবলের অত্যাচারে বিশ্বময় সুশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও আন্তÑরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়বে। বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের কাযর্ক্রম ও কর্মীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে ঐকমত্যে আসতে হবে যাতে উপদ্রæত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজ নির্বিগ্নে পালন করা যায়।
এওয়ার্ড প্রাপ্তীর অনুভূতি প্রকাশ করে সানওয়ার চৌধুরী বলেন, দেশে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি উন্নয়নে আমার সামান্য অবদান রাখতে পেরে আমি খুশী, এই এওয়ার্ড আমাকে আরো ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।
আলোচনা, ইফতার ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রবাসী আমেরিকান, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, পেশাজীবী, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহন করেন।

‘মোদীর উন্নয়নে শামিল বাংলা’, জেতা বা হারা সব আসনে একই সুর চাই

ঢাকা: লোকসভা নির্বাচনে তিনিই যে বিজেপির ‘মুখ’, তা এত স্পষ্ট করে এর আগে নিজের মুখে বলেননি নরেন্দ্র মোদী। তৃতীয় বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে নিজের সরকারের নাম নিজেই ‘মোদী’ বলে উল্লেখ করছেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদীর ছবি বড়। প্রার্থীর ছবি তুলনায় ছোট। নরেন্দ্র মোদীর কাজের প্রচার বড় করে। প্রার্থীর পরিচয় ছোট করে। এটাই দিল্লিবাড়ির লড়াইয়ে বিজেপির প্রচারমন্ত্র। এমন মন্ত্র ঠিক করে দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা দেশে এই নীতিতেই হতে হবে লোকসভা ভোটের নির্বাচনী প্রচার। কারণ, বিজেপি মনে করছে, জয় আসবে একমাত্র নরেন্দ্র মোদীর মুখচ্ছবিতেই। প্রার্থী নন।
এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ছ’টি সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম চারটি ভোট ঘোষণার আগে। সব ক’টিতেই দেখা গিয়েছে, মোদীর ভাষণে মোটামুটি চারটি ভাগ রয়েছে। প্রথমটিতে বাংলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কোন কোন প্রকল্প চালু রয়েছে। কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। দ্বিতীয়, বাংলায় কোন কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা পেয়েছে দিল্লি। এর মধ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের কথা বেশি করে বলেছেন তিনি। তৃতীয়, বাংলার শাসকদল তৃণমূলকে আক্রমণ। আর চতুর্থ তথা শেষ ভাগে নেতা কর্মীদের কাছে তাঁর আর্জি। প্রতি সভায় শপথ নেওয়াচ্ছেন এই বলে যে, ‘‘নিজের নিজের এলাকায় ভোটারদের কাছে গিয়ে বলবেন, মোদী আপনাকে প্রণাম জানিয়েছে।’’ প্রতিটি ভাগেই কম পক্ষে এক বার ‘মোদীর গ্যারান্টি’র কথা শোনাচ্ছেন মোদী।
মোদী তাঁর নিজের বক্তৃতাতেও কেন্দ্রের যে কোনও প্রকল্পের কথা বলতে গিয়ে নিজের নামই নিচ্ছেন। ‘মোদী গরিবের কথা ভাবে’ থেকে ‘মোদী মানে দুর্নীতির বিরুদ্ধ লড়ে’Ñ বলছেন মোদী নিজেই। প্রচারের এই সুর সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চায় কেন্দ্রীয় বিজেপি। বাংলায় ইতিমধ্যেই ৪০ জন প্রার্থীর কাছে চলে এসেছে সেই নির্দেশ। জেতা আসনে তো বটেই, ২০১৯ সালে জয় মেলেনি এমন কেন্দ্রেও প্রচারে জোর দিতে হবে সেই এলাকার জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাবদে পাওয়া বিভিন্ন সুবিধার উপর। প্রচার পুস্তিকা থেকে হোর্ডিং-ব্যানারে বলতে হবে রেল থেকে সড়ক নির্মাণ, আবাস যোজনা থেকে বাড়ি বাড়ি জল প্রকল্পে কেন্দ্র কত টাকা ওই এলাকার জন্য খরচ করেছে। আর ২০১৯ সালে জেতা আসনের জন্য নির্দেশ আরও কড়া।
হেরে যাওয়া আসনে কেমন প্রচার হবে? উদাহরণ হিসাবে ধরা যাক বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের কথা। ২০১৯ সালে ওই আসনে তৃণমূলের কাছে বিজেপি হেরেছিল প্রায় ৯০ হাজার ভোটে। এর পরেও যে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকার ওই আসনের এলাকার উন্নয়নে সচেষ্ট হয়েছে, সেই বিষয়টির প্রচারে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোন প্রকল্পের সুবিধা কত মানুষ পেয়েছেন বা কেন্দ্র ওই এলাকার জন্য ঠিক কত খরচ করেছে, তার হিসাব নিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে হবে প্রার্থীদের। জলজীবন মিশন থেকে উজ্জ্বলা প্রকল্পে রান্নার গ্যাসের সুবিধাÑ সবই জানাতে হবে। এর পরে রয়েছে কেন্দ্রের উদ্যোগে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ ওই এলাকায় হয়েছে, তার খতিয়ান। সেখানে বলতে হবে খড়্গপুর-বর্ধমান-মোরগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে থেকে খড়্গপুর-শিলিগুড়ি অর্থনৈতিক করিডরের কথা। আবার বর্ধমান রেল স্টেশনের নতুন রূপের খরচ থেকে কোথায় ডবল লাইন হয়েছে বা কোথায় কত টাকার সেতু বানিয়েছে রেল, সে সবও লিখতে হবে প্রচার পুস্তিকায়।
রাজনৈতিক সভায় প্রচারে এর সঙ্গেই উল্লেখ করতে হবে, কোন কোন প্রকল্প ‘রাজ্যের বাধায়’ এখনও করা যাচ্ছে না সেই অভিযোগ। দলের তেমনই নির্দেশ। যেমন বর্ধমান পূর্বের প্রার্থী অসীম সরকারের প্রচারে বলতে হবে, সেখানে রেলের মোট প্রকল্প ৫৪ হলেও রাজ্যের জন্য কাজ আটকে আছে ২৮টিতে। আটক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা আছে ২১,১৪৮ কোটি টাকা। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের কোন প্রকল্পের সুবিধা থেকে ওই এলাকার কত মানুষ ‘বঞ্চিত’ তা-ও বলতে হবে। পাশাপাশি বলতে হবে, কেন্দ্রের প্রকল্প নয়, ‘মোদীর প্রকল্প’ থেকে বঞ্চিত। তেমনই চান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
জেতা আসনে কী করতে হবে? গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮ আসনে জিতলেও এখন তাদের হাতে ১৭। বাবুল সুপ্রিয়র ছেড়ে আসা আসানসোল ছাড়া বাকি সর্বত্র সাংসদ তহবিলের কত টাকা কোন খাতে কোথায় খরচ হয়েছে, তার বিবরণ ভোটারদের হাতে হাতে পৌঁছে দিতে হবে। দলের যা নির্দেশ, তাতে শুধু গোটা লোকসভা আসন নয়, তার ভিতরে থাকা প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক কেমন উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সাংসদ করেছেন, তা-ও জানাতে হবে। মনে রাখতে হবে, সাংসদ তহবিলের অর্থও ‘মোদীর উন্নয়নে শামিল বাংলা’ প্রচারের অঙ্গ।
এই ভাবে যে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে, তা মেনে নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘সাংসদ তহবিলের টাকা তো কেন্দ্রেরই। মোদীজি একটা নিয়ম করে দিয়েছেন যে, সব সাংসদকে তাঁর মেয়াদ শেষের আগে পাঁচ বছরের খরচের হিসাব দিতে হবে। ভোটের প্রচারেও সেটা সর্বত্র উল্লেখ করা হবে।’’ সুকান্ত জানান, করোনার কারণে কিছু দিন সাংসদ তহবিলের টাকা দেওয়া বন্ধ থাকলেও গত পাঁচ বছরে ১৭ কোটি টাকা করে পেয়েছেন বিজেপি বা অন্য দলের সকল সাংসদ। সুকান্তের বালুরঘাটে ভোটগ্রহণ দ্বিতীয় দফায়। ইতিমধ্যেই তিনি বিধানসভা পিছু কত টাকা কোন খাতে খরচ করেছেন, তার বিস্তারিত হিসাবের হ্যান্ডবিল ভোটারদের দিচ্ছেন। সুকান্তের কথায়, ‘‘এটাই মোদীজির স্বচ্ছতা। বিরোধীরা কি এর থেকে শিখবেন, যে মানুষের টাকা মানুষের জন্য খরচ করলেও তার হিসাব দেওয়াটাই নৈতিকতা? তৃণমূলের সাংসদেরা তো দূরের কথা, রাজ্য সরকারই হাজার হাজার কোটির হিসাব দেয়নি কেন্দ্রকে!’’
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব জেতা আসনে প্রার্থী বদল হয়েছে, সেখানেও একই নীতি কার্যকর হচ্ছে। যেমন রায়গঞ্জ বা মেদিনীপুরের প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী এবং দিলীপ ঘোষ অন্য আসনে লড়ছেন। কিন্তু তাঁদের আসনে যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদেরও বিদায়ী সাংসদের কাজের হিসাব সামনে এনেই প্রচার করতে হবে।

ঈদে মধ্যবিত্তরা মুখ লুকিয়ে কাঁদছে: রিজভী

ঢাকা : সরকারি দলের লোকজনের লুটপাট আর দুর্নীতির কারণে জনগণের ঈদের উৎসব ম্লান হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের আর্তি শোনা যাচ্ছে। ঈদের আনন্দ উদযাপনের বিপরীতে মধ্যবিত্ত মানুষেরা মুখ লুকিয়ে কাঁদছেন।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ঈদযাত্রা, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস, দলের নেতা-কর্মীদের নিপীড়নসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগাম না টেনে সিন্ডিকেটের হোতা ও সরকারের আস্থাভাজন ব্যক্তিরা ব্যস্ত লুটপাট, দুর্নীতি ও বিরোধী মতকে দমন-পীড়নে। সমাজে তৈরি হয়েছে ধনী ও গরিবের বিশাল ব্যবধান। অধিকাংশ মানুষের সামান্য প্রয়োজন মেটানোই এখন দুঃস্বপ্ন। জনজীবনের ঈদ উৎসব ম্লান হয়ে হয়ে গেছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ঈদের প্রাক্কালে বিভিন্ন পথে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে ঘরমুখী যাত্রীরা দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। আর বিমানের ভাড়া কল্পনাতীত এবং ট্রেনে মানুষ টিকিট পাচ্ছেন না।
রিজভী বলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলছেন, সড়ক-মহাসড়কে কোনো যানজট বা হয়রানি নেই। মন্ত্রীর এ বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশা।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায়ের প্রসঙ্গে রুহুল কবির বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা ছাড়তে ৯৮৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় বাসের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। পরিবহন খাত আপাদমস্তক অনিয়ম-দুর্নীতির কারখানা। ঈদ উপলক্ষে সড়কে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে।
তৈরি পোশাক খাতের ৬০ শতাংশ কারখানার শ্রমিকরা সোমবার বিকেল পর্যন্ত মার্চ মাসের বেতন পাননি দাবি করে রুহুল কবির বলেন, ঈদের উৎসব ভাতা বা বোনাস পাননি ১৪ শতাংশ কারখানার শ্রমিক। শ্রমিকেরা বেতন না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। তাঁদের ঈদের আনন্দ চোখের পানিতে ভাসছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এবারও পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন করতে হবে জানিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ছয় বছরের বেশি সময় ধরে অসুস্থ অবস্থায় বন্দি রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। সরকার গায়ের জোরে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিতে দিচ্ছে না।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতিদিনই নির্যাতন-হয়রানি করা হচ্ছে জানিয়ে রুহুল কবির বলেন, নেতা-কর্মীর মধ্যে কেউ কারাগারে, কেউ মানবেতর অবস্থায় ঘরছাড়া হয়ে জীবন যাপন করছেন। ৭ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আকরাম হোসেনকে পুলিশ বিনা কারণে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করে। গতকাল তাঁর মৃত্যু হয়। ফেনী জেলার কালীদহ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিলে আওয়ামী লীগের রুবেল মেম্বারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জাফর ইকবালসহ প্রায় ১০ নেতা-কর্মীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস

ঢাকা : বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন আজ বুধবার। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অর্থাৎ এই দিনে গঠিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার।আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও পাঠ করা হয় সরকার গঠনের পর। এ দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে দেওয়া হয় অনুমোদন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
শপথ গ্রহণের পর ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৭ জন। এ সময় মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তান সামরিক শাসকদের হাতে বন্দি), উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ), প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান, পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমাদ, প্রধান সেনাপতি কর্নেল (অব.) এমএজি ওসমানী, চিফ অব আর্মি স্টাফ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব। সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এই বৈদ্যনাথতলাকেই তখন ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর’ হিসেবে নামকরণ করেন। সেই থেকে কলকাতায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার মানুষের কাছে ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত ছিল। এ সরকারের নেতৃত্বেই পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।
প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস উদযাপন করা হয়। তবে এবার ঈদের ছুটির কারণে কর্মসূচি পালনে কিছুটা বিঘœ ঘটছে। ঈদের ছুটির পর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করবে বলে জানা গেছে।

বুকের ধন জিম্মি রেখে ঈদ হয় কি করে, পথচেয়ে ২৩ নাবিকের পরিবার

ঢাকা : অতিকুল্লাহ খাঁনের বাসা নগরীর নন্দনকাননে। সোমালিয়ান জলদস্যুদের কাছে জিন্মি থাকা ২৩ নাবিকের একজন তিনি। প্রধান কর্মকর্তার পদে থাকা আতিক এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে উঠেছেন মাস চারেক আগে। এর মধ্যেই জলদস্যুদের কবলে পড়েছে তাদের জাহাজ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে আতিকুল্লাহ খাঁনের পরিবারে ততই গাড় হচ্ছে যেন বিষাদের ছায়া। তাঁর ষাটোর্ধ মা শাহনূর আক্তার ছেলের জন্য কিনেছেন ঈদের পায়জামা ও পাঞ্জাবি। কিন্তু ঈদের আগে আর ফিরছে না ছেলে। তাই শাহনূর আক্তারের চোখ করছে ছলছল।
চোখ মুছতে মুছতে শাহনূর আক্তার বলেন, ‘আশা ছিল, ছেলে আসবে ঈদের আগেই। জাহাজের মালিকপক্ষ সেই আশ্বাসই দিয়েছিলেন শুরুতে। কিন্তু এখন বলছে ঈদের পরে আসবে। ছেলে আসার দিনই হবে আমাদের ঈদ। ঈদের শাড়িও পড়বো সেদিন।’
আতিকুল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায়। সপরিবারে বসবাস করেন নগরীর নন্দনকাননের রথেরপুকুর পাড় এলাকায়। সেখানেই কথা হয় তার পরিবারের সঙ্গে। কথার ফাঁকে ফাঁকে সদস্যদের কান্না ঠুকরে বের হয়। ছবি হাতে বাবাকে খুঁজে ফিরছে আতিকের ছোট ছোট তিন মেয়ে। বাবাকে নিয়ে তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে বুক ভেঙে যায় দাদির। আতিকুল্লাহর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। ভেঙে পড়েছেন তিনি। আত্মীয়স্বজন সান্ত¡না দিলেও অশ্রুবাণ থামছে না মা ও স্ত্রীর।
আতিকুল্লাহর বাবা বেঁচে নেই। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। মা, ভাই, স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে শহরের নন্দনকানন এলাকায় থাকেন তিনি। ছোট ভাইয়ের পড়ালেখা শেষ হয়নি। তিন মেয়ের মধ্যে বড় ইয়াশা ফাতিমা পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। মেজো মেয়ে উমাইজা মাহাবিন প্রথম শ্রেণিতে। আর ছোট মেয়ে খাদিজা মাহাবিনের বয়স মাত্র দুই বছর।
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের প্রধান কর্মকর্তা আতিকুল্লাহ খানের সঙ্গে আরও ২২ নাবিক জিম্মি। গত ১২ মার্চ তাদের ভারত মহাসাগর থেকে জিম্মি করে সোমালিয়ার সশস্ত্র জলদস্যুরা।
প্রহর গুনছেন জান্নাতুল
এমভি আবদুল্লাহর চতুর্থ প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ ও নাবিক নুরউদ্দিনের পরিবারে ঈদ কাটবে অশ্রুসজল। তানভীরের মা জোছনা বেগম বলেন, ‘সবাই ছেলের অপেক্ষায় আছি। ঈদের আগেই ফিরবে- শুরুতে জাহাজের মালিকপক্ষ আশ্বাস দিলেও, এখন হাল ছেড়ে দিয়েছে। দস্যুর ডেরায় ছেলেকে রেখে ঈদ করব কীভাবে?’
অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নাবিক নুরউদ্দিনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। স্বামীর সন্ধানে কবির গ্রæপের কার্যালয়ে ঘুরেছেন কর্ণফুলীর লিচুতলার বাড়িতে আড়াই বছরের সন্তান রেখে। জান্নাতুল বলেন, জিম্মি করার পরপরই এক অডিও বার্তায় নুরউদ্দিন বলেছিল- ‘ফাইনাল কথা, এখানে টাকা না দিলে একজন একজন করে মেরে ফেলবে বলছে।’ মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ভয় রয়েই গেছে। চিন্তায় ঘুম আসে না। ছোট্ট সন্তান বাবা ছাড়া ঈদ করবে, ভাবতেই বুকে কেঁপে ওঠে।
বুকের ধন জিম্মি রেখে কি করে হয় ঈদ
খুলনা ব্যুরোপ্রধান মামুন রেজা জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহর দ্বিতীয় প্রকৌশলী খুলনার তৌফিকুল ইসলামের পরিবারে নেই আনন্দ। নগরীর সোনাডাঙ্গার করিমনগর এলাকার বাড়িটি এখন নিষ্প্রাণ। কারও জন্য কেনা হয়নি পোশাক। তৌফিকের মা দিল আফরোজা বলেন, ‘ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা তো আছেই। না পারছি কাছে যেতে; না পারছি দেখতে। বুকের ধন জিম্মি রেখে ঈদ আনন্দ কি থাকে? কারও জন্য কেনাকাটা করা হয়নি। ওর মেয়ে তাসফিয়া নামাজ পড়ে দোয়া করে। ছোট ছেলে মুসাফি বলে, আমি গিয়ে যুদ্ধ করে বাবাকে ছাড়িয়ে আনব।’
গত রোববার তিনি বলেন, ‘ছেলে বলেছে, তারা ভালো আছে। জামাতে তারাবি নামাজ ও রোজা রাখতে পারছে। দুর্ব্যবহার না করলেও বেশিক্ষণ ফোনে কথা বলতে দেয় না। পাশে জলদস্যুরা দাঁড়িয়ে থাকে। আগে সবাইকে এক কক্ষে রাখলেও এখন কেবিনে থাকতে পারছে।’ তৌফিকের স্ত্রী জোবাইদা নোমান বলেন, ‘আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়ে খুব কষ্টে আছে। বাবার জন্য তারা অস্থির হয়ে উঠেছে।’
সাইদুজ্জামানের পরিবারে চলছে নীরব কান্না
নওগাঁ প্রতিনিধি কাজী কামাল হোসেন জানিয়েছেন, শহরের পলিটেকনিক অ্যাভিনিউর দুবলহাটি রোডে এমভি আবদুল্লাহর প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম সাইদুজ্জামানের পরিবারে চলছে নীরব কান্না। ঈদের দিন ঘনিয়ে এলেও করেনি কোনো কেনাকাটা, নেই রান্নাবান্নার প্রস্তুতি।
সাইদুজ্জামানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সুস্থভাবে ছেলের ফেরার অপেক্ষায় আছি। একটা সময় খুব ভয় পেয়েছিলাম। এখন সান্ত¡না পাই, মাঝে মধ্যে কথা বলতে পারছি। জলদস্যুরা যোগাযোগে কোনো বাধা দিচ্ছে না। মা কোহিনূর বেগম বলেন, আমাদের কারও মাঝে ঈদের আনন্দ নেই। ছেলেকে ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না। কবে ফিরবে আমার বুকের ধন? সরকার যেন দ্রæত উদ্যোগ নেয়।
সাইদুজ্জামানের স্ত্রী মান্না তাহরিন শতধা বলেন, স্বামী ফিরে এলে এবার ঈদ হতো সবচেয়ে আনন্দের। এখন নিজেরা নিজেদের সান্ত¡না দিচ্ছি- বেঁচে আছে, এক দিন আল্লাহ আমাদের কাছে তাকে ফেরত দেবে।
ছেলে নাই, টাকা পাঠানোরও কেউ নাই
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম খান রানা জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহর নাবিক নাজমুল হকের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের চর-নুরনগর গ্রামের বাড়িতে নেই প্রাণচাঞ্চল্য। কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে বাবা আবু সামা ও মা নার্গিস খাতুনের।
গত শনিবার বাড়িতে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নার্গিস বলেন, ‘ছেলে যেখানেই থাকুক, ঈদ এলে টাকা পাঠাত। সময় পেলে নিজে কিনে দিত। এবার আমার ছেলেও নাই, টাকা পাঠানোর কেউ নাই। সারাক্ষণ মনে হয়, নাজমুল এসে মা মা বলে ডাকছে। ওদের সবাই ঈদের আগে মুক্তি পেলে সবচেয়ে খুশি হতাম। নাজমুলের বাবা আগেই অসুস্থ। ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে আরও অসুস্থ হয়ে গেছে। তাকে নিয়েও চিন্তা হচ্ছে।’
সাব্বির কল করবে, ফোন হাতে অপেক্ষায় বাবা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আবদুর রহিম জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহর মার্চেন্ট কর্মকর্তা সাব্বির হোসেনের পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ। একমাত্র ছেলের জন্য কেঁদে কেঁদে ফিরছেন মা সালেহা বেগম। প্যারালাইসড বাবা হারুন-অর রশিদ সারাদিন মোবাইল ফোন হাতে বসে থাকেন, ছেলের ফোন পাওয়ার আশায়।
সরেজমিন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গা ধলাপাড়া গ্রামে গিয়ে সাব্বিরের বাড়িতে সুনসান নীরবতা পাওয়া যায়। ডাকাডাকির এক পর্যায়ে আসেন একমাত্র বোন মিতু আক্তার। তিনি জানান, ভাই জিম্মি হওয়ার পর থেকে সবাই উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। মা-বাবা কেঁদেই চলেছেন। ভাইয়ের কিছু হলে তাদের বাঁচানো যাবে না। ঈদের আনন্দ আমাদের কাছে বিষাদে পরিণত হয়েছে।
হারুন-অর রশিদ বলেন, জিম্মি হওয়ার পর এক দিন সাব্বিরের সঙ্গে কথা বলেছি। তার পর আর কোনো যোগাযোগ নেই। আমি ও আমার স্ত্রী ফোন হাতে বসে থাকি, কখন সাব্বির কল দিয়ে বলবে- বাবা, ভালো আছি, তোমরা চিন্তা করো না। গত বছর একসঙ্গে ঈদ করেছি। এবার পারব না, ভাবতে পাজর ভেঙে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে এমভি আবদুল্লাহর মালিকপক্ষের প্রতিনিধি কেএসআরএমের গণমাধ্যম উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে নাবিকদের মুক্ত করতে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়। আমাদের আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে। ঈদের পরে তারা মুক্ত হবেন।’

ভারতের যেসব এলাকায় ঈদ বুধবার

ঢাকা : ভারতের কেরালা, লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীরের আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বুধবার এসব এলাকায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। কিন্তু লক্ষ্ণৌ, দিল্লি, বেঙ্গালুরুসহ দেশটির বাকি অংশে চাঁদ দেখা যায়নি। তাই বৃহস্পতিবার এসব এলাকায় ঈদ উদযাপিত হবে। অর্থাৎ সেসব অঞ্চলে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশজুড়ে মুসলমানেরা শাওয়ালের চাঁদ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের আকাশে তা দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে বৃহস্পতিবার ঈদ হবে।
এছাড়া সোমবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, মিসর, তুরস্ক, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমের অন্যান্য দেশে শাওয়ালে চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে বুধবার এসব দেশে ঈদ উদযাপিত হবে। একই দিনে ঈদের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের চাঁদপুরসহ কয়েকটি জায়গায় ঈদ উদযাপন করা হবে। সাধারণত সৌদির একদিন পর দেশে চাঁদ দেখা যায়। এবার রোজাও শুরু হয়েছিল দেশটির একদিন পরে।

বিশ্বের একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার ঈদ

ঢাকা: সিয়াম-সাধনার মাস রমজান শেষে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে দেখা গেছে শাওয়াল মাসের চাঁদ। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ, পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান ও ভারতের কিছু অঞ্চলে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।তবে এরমধ্যে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার পালিত হবে ঈদ।
মুসলিম দেশগুলোতে ঈদ উদযাপন এবং কতগুলো রোজা পালন করল সেটির একটি তালিকা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান যুবাইর এহসান হক।
তার দেওয়া তথ্যমতে- ইন্দোনেশিয়ায় বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, মালয়েশিয়ায় বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, পাকিস্তানে বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, আরব আমিরাতে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, কাতারে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, সৌদি আরবে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, ইয়েমেনে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি।
এছাড়া ওমানে বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, জর্ডানে বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, ফিলিস্তিনে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, মিশরে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, তিউনিসিয়ায় বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি এবং মরক্কোয় বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি।

হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে নারীদের নিরাপত্তা চায় মার্কিন নারী নেত্রীরা

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের সকল মুসলিম নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ ও যুদ্ধের সময় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট টেকনোলজি (এমআইটি)তে পৃথক দু’টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের দাবি জানানো হয়।
সোমবার বিকেলে প্রথম ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট টেকনোলজি (এমআইটি)তে এবং সন্ধ্যার পর বোস্টনের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় সেমিনার দুটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দু’জন নারীসহ পাকিস্তান ও শ্রীলংকান আরও দু’জন মুসলিম নারী অংশ নেন। এরা হলেন-এএমএমডাবিøউইসি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনিলা আলী, নিউ ইংল্যান্ড বাংলাদেশি আমেরিকান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফারহানা খোরশেদ, মুসলিম উমেন স্পীকার্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোরায়া ডীন ও এএমএমডাবিøউইসি এর নির্বাহী বোর্ড এর সদস্য জেবুন্নেসা জেবা জুবায়ের।
তারা বলেন, আমাদের সমাজের মধ্যে শান্তি, আস্থা এবং সহযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা একটি জরুরি বিষয়। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি প্রত্যাশা করি এই অঞ্চলের সমস্ত জাতির জন্য আরও প্রতিশ্রæতিশীল ভবিষ্যত গড়তে সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করবো।
বক্তারা বলেন, হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ [আরব] উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির এগিয়ে যাওয়ার কৌশল। ছোট দেশগুলো শুরু করবে, তারপর বড় দেশগুলো এগিয়ে যাবে সৌদি আরবের নেতৃত্বে। যেখানে সৌদি আরব হল পবিত্র শহর মক্কা, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি, ইসরায়েল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনটি ধর্মের পবিত্র স্থানগুলির আবাসস্থল যেখানে প্রায় দুই মিলিয়ন আরব ইজরায়েলকে বাড়িতে ডাকে। যদিও দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি আগে কখনো হয়নি, তবে আমরা আশাবাদী।
তারা বলেন, আমরা ওয়েস্টার্ন ওয়াল এবং আল আকসার মতো স¤প্রদায় এবং ধর্মীয় স্থান দেখতে গিয়েছিলাম। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল কৌতূহল। এই কৌতূহলটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সম্ভব হয়েছিল। যখন ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নামে একটি দ্বিপাক্ষিক স্বাভাবিককরণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে মরক্কোতে যোগ দেই। আমাদের একে অপরের সাথে সহযোগিতা করা দরকার বলে মনে করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, আমাদের অতীতের দ্ব›দ্ব বা অতীতের সংঘাতের একতরফা উপলব্ধির দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না, যা এই অঞ্চলটিকে পিছিয়ে রাখে। তাই আমরা শান্তির পক্ষে ওকালতি করে ইসরায়েলি, বাহরাইনি, ইহুদি এবং মুসলমানদের মধ্যে সেতু তৈরি করতে চাই। অবিলম্বে হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের অবসানসহ মুসলিম নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ ও যুদ্ধের সময় শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। উক্ত সেমিনারের ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বিষয়ক দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নারী নেত্রীরা। সেমিনারটির উদ্যোক্তা ছিলেন বি কালেকটিং।

ঈদে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে দেশ

ঢাকা : আসন্ন ঈদুল ফিতরে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ, র‌্যাব ছাড়াও আনসার সদস্যরা এ সময় মাঠে থাকবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জেলার পুলিশ সুপারসহ (এসপি) সব অপারেশনাল ইউনিটকে ৩৪ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সতর্ক ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এবার ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। এজন্য পুলিশ সদস্যদের ছুটিও সীমিত করা হয়েছে।
এছাড়া র‌্যাব দেশের অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে রেড ও ইয়েলো জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। র‌্যাবের অন্তত ৮ হাজার সদস্য ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬৫ হাজার সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তায় মাঠে থাকবে। রাজধানীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলাদা নিরাপত্তা ছক এঁকেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া ৩৪ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদ ও বাংলা নববর্ষসহ টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামমুখী হবেন। এ সময়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অজ্ঞান ও মলম পার্টির তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও জাল টাকার ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশনস; অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঈদের ছুটির সময় সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ সময় মানুষ গ্রামে চলে যাওয়ায় বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাবে। এই সুযোগে চোর ও ছিনতাইকারীরা সক্রিয় হয়। এ বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের পরই পহেলা বৈশাখ। এদিন মঙ্গল শোভাযাত্রাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে হতে পারে সে লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে। ঢাকার রমনা বটমূল, বিআইসিসিসহ যেখানে যেখানে বর্ষবরণকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান হবে প্রত্যেকটা জায়গাতে স্যুইপিং করা, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেকটর দিয়ে চেক করাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র‌্যাবের পক্ষ থেকেও ছয় স্তরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ঈদে মানুষের নিরাপত্তায় এলাকাভিত্তিক গোয়েন্দা কার্যক্রম ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এ সময় ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র‌্যাবের মোট আট হাজার সদস্য তৎপর থাকবে। কিছু কিছু এলাকাকে আমরা রেড জোন ও ইয়েলো জোনে ভাগ করেছি। নির্জন এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর রেড জোনের মধ্যে রয়েছে-রামপুরা, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁওসহ বেশ কিছু এলাকা। তিনি জানান, র‌্যাবের ৬ স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। সেগুলো হলো-গোয়েন্দা, ফুট প্যাট্রোল, মোবাইল প্যাট্রোল (মোটরসাইকেল বা পিকআপ নিয়ে), সাইবার ওয়ার্ল্ডের নজরদারি, স্পেশাল ফোর্স ও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকবে। ফাঁকা ঢাকায় অনেকে উৎসব করতে গিয়ে মাদক সেবন করে। এগুলো ঠেকাতে র‌্যাবের মোবাইল টিম কাজ করবে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নিরাপত্তায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার সাধারণ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য সারা দেশে মোতায়েন থাকবে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অপারেশনে আমরা ব্যস্ত আছি। এরপরও ঈদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের যে সাধারণ আনসার ও ব্যাটালিয়ন আনসার আছে তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছে।
রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ছক তৈরি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির অপারেশন্স বিভাগ প্রণীত এ ছকে প্রাধান্য পাচ্ছে ঈদগাহ মাঠ, বিপণিবিতান, মার্কেট, ব্যাংক এবং এটিএম বুথ। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে আলাদা নিরাপত্তা ছক। নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ ও অন্যান্য বস্তু তল্লাশি করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঈদগাহ প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের এলাকায় যাতে ভিক্ষুক বা হকার ঢুকতে না পারে, সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ কন্ট্রোলরুম বা হাইকোর্ট অভ্যন্তরে স্থাপিত সাব-কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন থেকে বিপণিবিতান এবং স্বর্ণের দোকানে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ব্যাংক এবং এটিএম বুথের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। আবাসিক এলাকায় পুলিশের মোবাইল প্যাট্রোল লোকজনের গমনাগমনে দৃষ্টি রাখাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে ফুট প্যাট্রোলের আওতায় আনবে। মোটরসাইকেলবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে। চেকপোস্ট, তল্লাশি ও গাড়ি চেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়া ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে রাজধানীবাসীকে ১৪ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-গ্যাস সিলিন্ডার অথবা গ্যাসের লাইন, পানির লাইনসহ সব ধরনের লাইট, ফ্যানের সুইচ, বৈদ্যুতিক প্লাগ বন্ধ করে বাসা থেকে বের হওয়া। বাসাবাড়িতে সিসি ক্যামেরা বসাতে এবং পূর্বে বসানো সিসি ক্যামেরা সচল আছে কিনা পরীক্ষা করা। রাতে কিংবা দিনে একসঙ্গে মুখে মাস্ক এবং মাথায় ক্যাপ পরিহিত অপরিচিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারি করা এবং প্রয়োজনে ৯৯৯ ফোন দেওয়া।

পহেলা বৈশাখ : অতীত থেকে বর্তমান


বাংলা নববর্ষে আমরা সাধারণত দুটি শব্দ ব্যবহার করে থাকি। একটাকে ‘সন’ বলি, আরেকটাকে ‘সাল’ বলি। ‘সাল’ হলো ‘ফারসি’ আর ‘সন’ হলো ‘আরবি’ শব্দ। বাংলা ভাষায় প্রচুর আরবি, ফারসি শব্দ আছে। বাংলাদেশ নামটিও বাংলা নয়; বাংলা এবং দেশ ফারসি শব্দ। বাংলা সন বা সাল প্রচলনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি অভিমত আছে। প্রথমত, তিব্বতি রাজা ‘সংস্রন’ এ বাংলা সনের প্রবর্তক। এর যুক্তিটা হলো, প্রাচীনকালে বেশ কিছুদিন তিব্বতি রাজাদের অধীন ছিল বাংলা; বিশেষ করে উত্তর বাংলা। তিব্বত সেই সময় অনেক বড় সাম্রাজ্য ছিল। এমনকি অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, তিব্বতি শব্দ ‘বন্স’ থেকে ‘বাংলা’ বা ‘বাঙগালা’ শব্দটি হয়েছে। ‘বন্স’ শব্দের অর্থ হলো ‘ভেজা মাটির দেশ’। বাংলাদেশ নদী-নালার দেশ, তাই ভেজা মাটির দেশই বটে। আর একটি অভিমত হচ্ছে, বাংলা ভূখণ্ডের প্রথম স্বাধীন বাঙালি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শশাংক ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে। শশাংককে বলা হয় তিনি ‘শকাব্দ’ চালু করেছিলেন। আবার অনেক সময় অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, সুলতান আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ্, যিনি স্বাধীন বাংলার সুলতান ছিলেন ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯, তিনি বাংলা ‘সন’ চালু করেন। সর্বশেষ অভিমতটি সম্রাট আকবর করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধোপে টিকেছে সম্রাট আকবর তত্ত¡টি। সম্রাট আকবর তত্ত¡টি সম্পর্কে ১৯৫৪ সালে ভারতে পঞ্জিকা সংস্কার কমিটির প্রধান বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহা অঙ্ক কষে ফর্মুলা তৈরি করে প্রমাণ করেছেন আকবরই হচ্ছে বাংলা সনের প্রবর্তক এবং তার সপক্ষে মন্তব্য দিয়েছেন ওড়িশার প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ কাশীপ্রসাদ জয়াসওয়াল এবং সর্বশেষ ড. অমর্ত্য সেন। আমরা মনে করি আকবরই এ বাংলা সন প্রবর্তন করেছেন।
আকবর লক্ষ করলেন, বাংলাদেশে যারা চাষি তারা ‘সৌর বছর’ অনুসরণ করে ফসল বুনে এবং ফসল তোলে, কিন্তু আকবরের সময় প্রচলিত ছিল হিজরি সন, চান্দ্র সন। এতে ফসলের খাজনা আদায়ে সমস্যা হতো, সেজন্য আকবর তার নবরতেœর অন্যতম রতœ আমির ফতেউল্লাহ্ সিরাজীকে অনুরোধ করেছিলেন, এর একটি সমাধান বের করতে। তার কারণ হলো, আমির ফতেউল্লাহ্ সিরাজী ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী। আকবরের দরবারের ৯ জনই ছিল জ্ঞানে-পাণ্ডিত্যে রতœ। তিনি হিসাব করে বের করলেন যে আকবর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে এসেছিলেন আর ওই বছরটি ছিল হিজরি সন ৯৬৩। তিনি ৯৬৩ সনকেই বাংলা প্রথম সন করে ফেললেন। আকবরের রাজত্বকালের ২৯তম বর্ষে ১৫৮৫ সালে এটি জারি করা হলো; কিন্তু এর কার্যকারিতা নির্ধারণ করা হলো ১৫৫৬ থেকেই। আকবর এটাকে ‘ফসলি সন’ নাম দিলেন। তিনি রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য এ সন চালু করেছিলেন। কিন্তু আমরা জানি যে সারা পৃথিবীতে প্রায় সব স¤প্রদায় তাদের বছরের প্রথম দিন উদযাপন করেন, সেই সুবাদে আমাদের মধ্যেও উদযাপন এসে গেল।
বাঙালির জীবনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন সম্পর্কে যে ইতিহাস আছে তাতে দেখা যায়, মুর্শিদাবাদের নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর সময় থেকেই এ উদযাপনটি শুরু হয়েছিল। তবে বাংলাদেশে উদযাপন শুরু হয় সেই সময়ের পাকিস্তান আমল থেকে। বাংলাদেশে ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তানপন্থি বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের রোষানল ছিল, বেশ কঠিন অবস্থান ছিল। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বাঙালিরা রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন করেছিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে; সেই প্রতিবাদী ঘটনার প্রেক্ষাপটে জন্ম নিয়েছিল ছায়ানট; রবীন্দ্রসংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যে। ছায়ানট ১৯৬৪ থেকে বলদা গার্ডেনে প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু করে, কিন্তু প্রতিবছর জনসমাগম বাড়তে থাকে বলে বলদা গার্ডেনে আর স্থান সংকুলান হয় না। ১৯৬৭ থেকে রমনার বটমূলে বৃহত্তর পরিসরে বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। যদিও বলা হয়, বটমূল; কিন্তু ওটা অশ্বথ গাছ; লোকমুখে শুনতে শুনতে প্রচলিত হয়ে গেছে বটমূল। বিত্তবানরা আশির দশকের সূচনায় পান্তাভাত আর ইলিশ মাছ খাওয়া শুরু করেন। এটা আমি মনে করি আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যারা পান্তাভাত খেয়ে সকালে খেতে যান, কাজ করতে যান, তাদের সঙ্গে মশকরা করা হয়। আর তারা পান্তাভাত খান কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ দিয়ে, এটি স্বাস্থ্যকর; পান্তাভাতের সঙ্গে ইলিশ চলে না, এটি অস্বাস্থ্যকর খাবার। কিন্তু আমাদের বিত্তবানের কাছে পহেলা বৈশাখের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে পান্তাভাত ও ইলিশ। ১৯৮৫ থেকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন আরও বড় পরিসরে শুরু হলো। সেখানে দেখা গেল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ যুক্ত করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী। সবাই মিলে বিভিন্ন ধরনের মুখোশ বানিয়ে শোভাযাত্রা শুরু করেন। মঙ্গল শোভাযাত্রা যখন শুরু হয়, তখন বাংলাদেশের বাঙালির ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল এরশাদের স্বৈরাচার। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসাবেই এ মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হলো, অশুভর বিরুদ্ধে শুভ, অমঙ্গলের বিরুদ্ধে মঙ্গল, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র, এ চেতনা নিয়ে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ করে নেয়। পহেলা বৈশাখ শুধু বাঙালির উদযাপনের দিন নয়, এটি অসা¤প্রদায়িক এবং ধর্মবণনির্বিশেষে সবার জন্য উদযাপনের দিন; এর মধ্যে প্রতিবাদ আছে, আছে দ্রোহ ও চেতনাও।
ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন :অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়ার, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)