Home Blog Page 622

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আসলে কী বার্তা দিল ভারত

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় অনেকদিন ধরে পশ্চিমা কূটনীতিকরা সরব থাকলেও এতদিন অনেকটাই চুপ ছিল প্রতিবেশী ভারত।

সেই নীরবতা ভেঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর বৃহস্পতিবার বলেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন কিভাবে হবে সেটি দেশটির জনগণই ঠিক করবে।

একই সাথে ‘শান্তি থাকবে, সহিংসতা থাকবে না এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’ এমন আশা ব্যক্ত করে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে নির্ধারণ করবে নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেভাবেই হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার দেব মুখার্জি বলছেন ভারত বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকছে কারণ এসব বিষয়ে দেশটি সরাসরি প্রকাশ্যে কথা বলতে পছন্দ করে না।

তবে তার বিশ্বাস আগামী নির্বাচন যেন কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেটিই চাইবে ভারত এবং এ বার্তাই ফুটে উঠেছে পররাষ্ট্র দফতরের ভাষ্যে।

তবে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছেন যে, ভারত প্রকাশ্যে না বলে বরাবরই ভেতরে ভেতরে নিজেদের মতো করে কাজ করে। প্রকাশ্যে তাদের পররাষ্ট্র দফতর যাই বলুক না কেন ভারত তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট থাকবে বলেই মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ২০১৪ সালের ও ২০১৮ সালের নির্বাচন দুটিতে ভারতীয় কূটনীতিকদের ভূমিকা ছিল অনেকটাই প্রকাশ্য।

বিরোধী দল বিএনপি নেতাদের অনেকে ২০১৪ সালের বিএনপির বর্জন সত্ত্বেও নির্বাচন সফল করা ও ২০১৮ সালে প্রায় সব আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য প্রকাশ্যেই ‘ভারতের একতরফা সমর্থনের’ কথা উল্লেখ করেন।

এসব কারণে সামনের নির্বাচন নিয়ে ভারতের ভূমিকা কেমন হয় তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল আছে।

কী বলেছেন ভারতীয় মুখপাত্র
বৃহস্পতিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন পরিকল্পিত ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে ভারত আশা করছে।

বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি করে আসছে সে বিষয় অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

‘সেখানে কিভাবে নির্বাচন হবে তা বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে,’ বলেন তিনি।

ঢাকায় পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকদের তৎপরতা ও মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে পুরো বিশ্বই মন্তব্য করতে পারে, তবে ভারত ভারতই। বাংলাদেশের সাথে আমাদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে যা ঘটে, তাতে আমরাও জড়িত, কারণ তা আমাদের প্রভাবিত করে…। বাংলাদেশের মানুষ নির্ধারণ করবে নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেভাবেই হওয়া উচিত।

বাগচি বলেন, তারা অবশ্যই বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

সেখানে আমাদের একটি হাইকমিশন আছে। আমরা আশা করি সেখানে শান্তি থাকবে, সহিংসতা থাকবে না এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

কী ধারণা পেলেন বিশ্লেষকরা
ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কিত প্রশ্নটি করেছিলেন সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী। লাহিড়ী বাংলাদেশের রাজনীতি এবং ভারত-বাংলাদেশ বিষয়ক একজন বিশ্লেষকও।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ভারতীয় মুখপাত্রকে তুলনামূলক সতর্কই মনে হয়েছে তার কাছে।

‘কূটনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক কিছুই বলা হয় না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ বা সহিংসতামুক্ত হোক এমন প্রত্যাশা ভারতের আছে। কিন্তু লক্ষ্য করবেন দু’বছর আগেও ভারত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলতো। যদিও ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত হোক এবার সেই শব্দটি মুখপাত্র উল্লেখ করেননি, বলছিলেন লাহিড়ী।

যদিও ভারত ও বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা ভারতের একজন মুখপাত্রের মন্তব্যকে একেবারেই প্রাথমিক মন্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

কেউ কেউ মনে করছেন, ঢাকায় পশ্চিমারা যেভাবে তৎপরতা দেখান সেটি ভারতীয় কূটনীতিকদের কাজের ধরণ নয়, বিশেষত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে।

আবার বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান দেখা যাচ্ছে আমেরিকা ও রাশিয়ার। অথচ দুটি দেশই আবার ভারতের ঘনিষ্ঠ।

অন্যদিকে ভারতের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ চীন আপাতদৃষ্টিতে আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থানের দিকে সমর্থন প্রকাশ করেছে।

এসব কারণেই ভারত প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো তৎপরতা না দেখালেও ভেতরে ভেতরে তাদের তৎপরতা বন্ধ নেই বলেই মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন।

‘ভারত সতর্ক থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত নিজের স্বার্থে যেটা ভালো হয় সেটাই করবে। আমরা তো জানি না যে ভেতরে ভেতরে তারা কী করছে। তবে তারা চুপ হয়ে আছে এটা ভাবার কারণ নেই কারণ বাংলাদেশে তাদের স্বার্থ আছে, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

ভারতীয় মুখপাত্র ব্রিফিংয়ে যা বলেছেন সেটিকে প্রাথমিক ও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে বিরোধী রাজনীতিকসহ অনেকেই মনে করেন, ভারতের একতরফা সমর্থনের কারণেই ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছিল আওয়ামী লীগ সরকার।

বাংলাদেশে সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার দেব মুখার্জি বলছেন, ২০১৪ সালে ভারত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বরং তখন কিছু পশ্চিমা দেশ নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল বলে ভারত তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।

‘এবার আমি মনে করি, ভারত চাইবে আগামী নির্বাচনটার ওপর কোনো সন্দেহ যেন না থাকে। সবসময় সরাসরি মন্তব্য ভারত করে না। আর সবকিছু প্রকাশ্যে বলা যায় না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, পশ্চিমা অনেক দেশের চেয়ে এখানে ভারতের স্বার্থ বেশি এবং সে কারণে তারা যা করার দ্বিপক্ষীয়ভাবে দুই সরকার মিলেই করবে, বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্রের মন্তব্য প্রসঙ্গে।

পশ্চিমারা তৎপর কিন্তু ভারত চুপ
চলতি বছরের শেষ দিকেই বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে এ নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে গত দুই নির্বাচনের মতো এবারো সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে প্রবল মতবিরোধ আছে।

বিরোধী দল বিএনপি ও সমমনা দলগুলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের পর নির্দলীয় সরকারের অধীনে এ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়াম লীগ পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দিয়েছে যে আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির জের ধরে দেশে সহিংসতাও হচ্ছে মাঝে মধ্যেই। তবে এর মধ্যেই গত বেশ কয়েকমাস ধরে নির্বাচন নিয়ে বেশ সক্রিয় পশ্চিমা কূটনীতিকরা।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর ইতোমধ্যেই নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করে বলেছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কেউ বাধাগ্রস্ত করলে তাকে ভিসা দেবে না দেশটি এবং এ ঘোষণার দৃশ্যমান প্রভাব হিসেবেই ঢাকাসহ সারাদেশে অনেকটা বাধাহীনভাবেই কর্মসূচি পালন করতে পারছে বিরোধী দলগুলো।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস নিয়মিত বৈঠক করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে এবং সক্রিয় দেখা যাচ্ছে আরো অনেক পশ্চিমা কূটনীতিককে।

কিন্তু এতো ঘটনা সত্ত্বেও অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে নীরবতাই পালন করছিল বাংলাদেশের এ মুহূর্তে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ ভারত।

অবশেষে বৃহস্পতিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেছে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি। আমেরিকা এবং পশ্চিমা কিছু দেশের মতো ভারতও একপর্যায়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যদি সরব হয় পরিস্থিতি যে তাহলে নতুন মাত্রা পাবে সন্দেহ নেই।
সূত্র : বিবিসি

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে না দেয়ায় রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে মিরপুর ও মতিঝিলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখা।

সেই সাথে তারা নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকার, জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান ও মহানগরী উত্তর আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবি জানান।

আজ শুক্রবার (৪ আগস্ট) এ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল জামায়াত।

আজ বাদ জুমা মিরপুরের বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ১ নম্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টেকনিক্যালে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ডা: ফখরুদ্দীন মানিক, মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য জিয়াউল হাসান, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, জামাল উদ্দীন, মু. আতাউর রহমান সরকার ও নাসির উদ্দীন প্রমুখ।

এদিকে, মতিঝিলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। মিছিলটি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কমলাপুর রেলস্টেশনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে দেলওয়ার হোসাইন, কামাল হোসাইন, ড. আব্দুল মান্নান। আরো ছিলেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, মাওলানা আবু ফাহিম, আবু সাদিক, আব্দুস সালাম, মোবারক হোসাইন, শেখ শরিফ উদ্দিন, আব্দুর রহমান, কামরুল আহসান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী পূর্বের সভাপতি তাকরিম হাসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের বিভিন্ন থানা আমির ও সেক্রেটারিরা। – প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পিটিয়েছে : গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আজ শনিবার সংঘর্ষের সময় তাকে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পেটানো হয়েছে। ডিবি কার্যালয় থেকে নয়া পল্টনে নিজ কার্যালয়ে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ধোলাই খালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের পর পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে তার অফিসে পৌঁছে দিয়েছে।

শনিবার (২৯জুলাই) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাকে তার নয়াপল্টনের অফিসে পৌঁছে দেয়া হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সংঘর্ষের সময় আমার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে পড়েছি। পরে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পিটিয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়েও নেয়া হয়েছিল। সেখান থেকে অফিসে দিয়ে গেল।

শারীরিক অবস্থা এখন কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইনজুরি হওয়ার পর সুস্থ হতে সময় লাগবে। এখন স্যালাইন দিতে হবে।

সব কিছুরই একটা সীমা থাকে : সরকারকে মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতন্ত্র চাই বলেই এত কিছুর পরও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথেই আছি আমরা। কিন্তু সব কিছুরই একটা সীমা থাকে। আশা করি সরকার সেটা মনে রাখবে।’

শনিবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশ ও দেশের মানুষের কাঁধে সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো চেপে বসা অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, অনির্বাচিত জাতীয় সংসদ বাতিল এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিসহ দেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের ডাকা আজকের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য সরকার জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এবং দলীয় সন্ত্রাসীদের অন্যায় ও বেআইনিভাবে জনগণের বিরুদ্ধে নামিয়ে রাজধানী ঢাকায় যে তাণ্ডব চালিয়েছে আমরা তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বিনা উস্কানিতে প্রতিবাদী জনতার শান্তিপূর্ণ অবস্থানে গুলি, টিয়ারগ্যাস চালানো এবং স্বশস্ত্র আক্রমণ মিডিয়া ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের জনগণ এই স্বৈরাচারী সরকারের অবৈধ ক্ষমতা জোর করে ধরে রাখার বীভৎস অপপ্রয়াস দেখে স্থম্ভিত হয়েছে। তাদের নির্মম আক্রোসে বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মাথায় মারাত্মক রক্তক্ষরণ, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমান উল্লাহ আমানসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী আহত হওয়া এবং অগণিত নেতা-কর্মীকে নির্বিচারে গ্রেফতারের ঘটনা প্রমাণ করে যে ক্ষমতালোভী এই সরকারের হাতে দেশের কোনো নাগরিক নিরাপদ নন। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণকারী এই সরকার আজ জনগণের শুধুই ঘৃণা ও ধিক্কার পাওয়ার যোগ্য।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারি ও সরকার দলীয় বাহিনীর বেআইনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার জবাব দেয়ার ক্ষমতা জনগণের রয়েছে কিন্তু সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে যে অবাঞ্ছিত ও মর্মান্তিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো আমরা তা বরাবরই পরিহার করতে চেয়েছি এবং আজও করেছি। এটা আমাদের দুর্বলতা নয়- জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা। কিন্তু নিশিরাতের অবৈধ সরকারের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে আমাদের এই দেশটা স্বাধীন হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো প্রাণের বিনিময়ে। আমরা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি, জীবন দিয়েছি গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের জন্যও। গত ১৪ বছর আমাদের হাজারো নেতা-কর্মী জীবন দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন শত শত নেতা-কর্মী। নির্যাতিত হয়েছেন কয়েক হাজার। মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার হয়েছেন লাখো নেতা-কর্মী। গণতন্ত্র চাই বলেই এত কিছুর পরও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথেই আছি আমরা। কিন্তু সব কিছুরই একটা সীমা থাকে। আশা করি সরকার সেটা মনে রাখবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা জেনেছি যে, মাতুয়াইল ও শ্যামলীতে গাড়িতে আগুন দেয়ার ও ভাংচুর করার ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অথচ পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে খবর বেরিয়েছে যে পুলিশের সামনেই এসব ঘটনা ঘটিয়ে ভিডিও করে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে চলে গেছে। কারা এটা করতে পারে তা অনুমানের জন্য বেশি বুদ্ধিমান হওয়ার প্রয়োজন নেই।’

‘নিজেরা অপরাধ করে বিএনপির উপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিচ্ছি,’ বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

একতাই বাংলাদেশি আমেরিকানদের সবচেয়ে বড়সৌন্দর্য ও শক্তিঃ আবু জাফর মাহমুদ

নিউইয়র্কঃ গ্লোবাল পিস অ্যাম্বাসেডর ড. আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশিদের একে অপরের মধ্যে
ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। একতাই আমাদের শক্তি, বাংলাদেশি আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য্য। তিনি গত রোববার ব্রঙ্কস এর ফেরী পয়েন্ট পার্কে সিলেটের ‘বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর প্রবাসী কল্যান সোসাইটি আয়োজিত বার্ষিক বনভোজন অনষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির কৃতি ব্যক্তিত্ব, বাংলা সিডিপ্যাপ সার্ভিসেস ও অ্যালেগ্রা হোম কেয়ার ইনক্ এর প্রেসিডেন্ট এবং সিইও ড. আবু জাফর মাহমুদ ওই
বনভোজন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর পরিবারের
সঙ্গে একাত্ম হতে পারায় আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানটি তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে উৎসর্গ করেন।
‘বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর প্রবাসী কল্যান সোসাইটির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনওয়াইপিডি’র কর্মকর্তা খন্দকার আব্দুল্লাহ, সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. জুননুন চৌধুরী, উপদেষ্টা নাজমুল চৌধুরী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফয়জুর নূর চৌধুরী ও নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র এরিখ এডামস্ এর অফিসের প্রতিনিধি। জুয়ায়েব চৌধুরী ও কাউছার আহমেদের উপস্থাপনায় পিকনিকের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন সৈয়দ এনাম আহমেদ। অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. আসাদ মিয়া, বিশ্বনাথ সমিতির উপদেষ্টা আলমাস আলী, প্রেসিডেন্ট সেবুল খান মাহবুব, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সহসভাপতি শাহীন কামালী, মিজানুর রহমান মিজান, সাইফুর খান হারুন, ফয়েজ চৌধুরী, তানিম চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, আলম খান, তৌফিকুল আলম, মোহন মিয়া, সারওয়ার চৌধুরী, সেরুজ্জামান সিরু প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আবু জাফর মাহমুদবাংলাদেশি আমেরিকানদের মানবিক ও জাতিগত বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা আমাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়েই এই সমাজের সঙ্গে যুক্ত। এখানকার
বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির যে বৈশিষ্ট্য, আচার ও স্বভাব আমরা তার থেকে ব্যতিক্রম। আমরা আমাদের ধর্মবোধ ও বাঙালি সংস্কৃতির যে নিজস্বতা তা গভীরভাবে লালন করি। অন্যদের মাঝে তা এক শিক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করি। এটি অনেক বড় সামাজিক কাজ। বাংলাদেশি পরিবারের পারিবারিক শৃংখলা, ভালোবাসাবোধ ও নিজস্ব সংস্কতি চর্চার ক্ষেত্রে সিলেটের বালাগঞ্জ এক অনন্য ক্ষেত্র। এখানকার মানুষ জন্মের সময় থেকে
পরিবারের একান্ত আপন আত্মীয় স্বজনের অসাধারণ ভালোবাসা ও মমতা পেয়ে থাকে। এই ভালোবাসাই প্রতিটি নারী পুরুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে ওঠে। এটিই আমাদের সংস্কৃতি। এটিই আমাদের
সভ্যতা। ভালোবাসা ছাড়া আমাদের কোনো সভ্যতা নেই। এই আমেরিকায় বিভিন্ন জাতি
গোষ্ঠি ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা ক্ষুদ্র স্বার্থকেন্দ্রিক জীবন চর্চায় ব্যস্ত। ঠিক এই বৈশিষ্ট্যের বিপরীতে আমরা পরিবার ও সমাজ নিয়ে চলতে পছন্দ করছি। এই বনভোজন তারই এক ‍দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবর্ধনায় কংগ্রেসম্যান জো উইলসন

ওয়াশিংটনঃ মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান জো উইলসন বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক স¤প্রসারণ এবং উভয় দেশের জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আগ্রহী।দক্ষিণ ক্যারোলিনা থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ২০ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবর্ধনায় কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব উদযাপন উপলক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে একথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান। মিজ এলিজাবেথ হর্স্ট, প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী , ব্যুরো অফ সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং মিঃ ব্রায়ান লুটি, ডিরেক্টর ফর সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যাফেয়ার্স, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, হোয়াইট হাউস, সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রাক্তন কংগ্রেসম্যান মিঃ জিম মোরানও এতে বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসাকালে জো উইলসন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে দেশের এগিয়ে যাওয়া এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং এর জনগণ কঠোর পরিশ্রমী। মিঃ উইলসন বলেন রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে এই সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদে তিনি একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান তার বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কে উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্যের জন্য কংগ্রেসম্যান জো উইলসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের
চমৎকার আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন সরকার সবার জন্য সমান
সুযোগ সৃষ্টি করে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য
নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত ইমরান বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
অব্যাহত সমর্থন এবং মানবিক সহায়তার জন্য আন্তরিক কতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মিজ এলিজাবেথ হর্স্ট তার বক্তব্যে বলেন গত পাচ দশকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী ও ব্যাপক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে এবং এই অংশীদারিত্বটি একটি সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য সহায়ক। ডিরেক্টর ফর সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যাফেয়ার্স, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল মিঃ ব্রায়ান লুটি বলেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরিতা নয় কে স্বীকৃতি দেয়, সম্মান করে এবং সমর্থন করে। তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি জাতিসংঘ সনদে সন্নিবেশিত আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ড. আহমদ কায়কাউস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও
সুদানের রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মার্কিন সরকার ও পররাষ্ট্র দফতরের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের সদস্যরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ
দেন।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী হস্তশিল্প প্রদর্শন এবং অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবার
পরিবেশন করা হয়।

পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় জাতিসংঘে নিন্দা জানালেন রাষ্ট্রদূত মুহিত

নিউইয়র্কঃ “বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের পবিত্র মূল্যবোধকে অবমাননা করে কিছু দেশে প্রকাশ্যে
পবিত্র কোরআনের কপি পোড়ানোর ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই”- আজ জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তার কার্যালয়ে ওআইসি গ্রুপের
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী
প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।

পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় জাতিসংঘে নিন্দা জানালেন রাষ্ট্রদূত মুহিত
নেতৃত্বে উক্ত বৈঠকে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রের মধ্য থেকে মিশর, সৌদি আরব, মৌরিতানিয়া ও
পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ওআইসির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদত মুহিত জাতিসংঘ মহাসচিবকে বলেন যে, পবিত্র কোরআন পোড়ানোর এই ঘৃণ্য কাজটি শুধু বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকেই গভীরভাবে আঘাত
করেনি, বরং এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং ব্যক্তি বিশ্বাসের নীতিরও
পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন যে, এই ধরণের ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সহিংসতার
জন্ম দিতে পারে এবং বিভিন্ন দেশে শান্তি ও নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে
রাষ্ট্রদূত মুহিত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের কথা তুলে ধরেন যারা ধর্মীয় ও জাতিগত
বিদ্বেষের স্বীকার হয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মুহিত জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইসলামফোবিয়া, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য এবং পবিত্র কোরআন
ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক অবমাননাসহ সকল ধরণের ধর্মীয় অসহিষ্ণতা মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রকে অনুরোধ করার আহবান জানান।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওআইসি সদস্যদের সাথে গভীর সংহতি প্রকাশ করেন
এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমলক এই জঘন্য ঘটনায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। তিনি ওআইসি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ধর্মবিরোধী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশ্বব্যাপী চলমান
প্রচেষ্টাকে জোরালোভাবে সমর্থন করার জন্য তিনি তার অবস্থান থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে
যাবেন।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে রাষ্ট্রদূত মুহিতের নেতৃত্বে ওআইসির প্রতিনিধিগণ ১৪ জুলাই ২০২৩ তারিখে
সাধারণ পরিষদের সভাপতি সাবা কোরোসি এবং ২০ জুলাই ২০২৩ তারিখে নিরাপত্তা পরিষদের
প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত ডেম বারবারা উডওয়ার্ডের সাথে দেখা করেন। উক্ত বৈঠক সমূহেও তারা
একই ধরণের উদ্বেগ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের ২৪তম চড়ুইভাতি সম্পন্ন

উজান ভাটির সম্প্রীতি বাংলা আমার সংস্কৃতি স্লোগান কে ধারণ করে নিজ কমিউনিটিসহ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে গত রবিবার ২৩শে জুলাই লংআইলেন্ডের সবুজে ঘেরা আটলান্টিকের সন্নিকটে হেকসার স্টেট পার্কে বার্ষিক চড়ুইভাতি অনুষ্টিত হয় । নিউ ইয়র্ক সহ ট্রাই স্টেটে বসবারত কিশোরগঞ্জ জেলার প্রবাসী ও অভিবাসী বাংলাদেশি সহ অন্য জেলার বাসিন্দারাও অংশ নেন। জাঁকজমকভাবে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর সামাজিক সংগঠন কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের বার্ষিক ২৪তম চড়ুইভাতি ২০২৩।

বার্ষিক চড়ুইভাতিতে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেনে’র বিশ্ব সমন্বয়কারী ড.খালেকুজজ্জামান মতিন, বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক প্রতিদিন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, বিশিষ্ট উপস্থাপিকা সামসুন্নাহার নিম্মি।

সংগঠনের ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য আব্দুল আওয়াল সিদ্দিকী, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, হাবিব রহমান হারুন, ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, জাইদুল কবির খাঁন সারোয়ার, পৃষ্ঠপোষক ডা.সায়েরা হক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. মোক্তার হোসেন, তারক পন্ডিত, মো.শহিদুল হাসান, আনোয়ার উদ্দিন খাঁন, কার্যকরী কমিটির সভাপতি মো.আব্দুর রাজ্জাক, সহ সভাপতি হাবিবুর রহমান কামাল, আলী আহসান আকন্দ শামীম, হাবিবুর রহমান জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক তানভীর রায়হান মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল কবীর সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েদুল হক, প্রচার সম্পাদক আজহারুল ইসলাম রায়হান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা খালেদা আক্তার কিরণ, কার্যকরী সদস্য মো.আব্দুল খালেক, মো.মনিরুজ্জামান, রাফিউল করিম খাঁন সাজ্জাদ, জাবির হোসেন তাকবীর, মো. এমদাদুল হক, মো.সায়েদুল্লাহ, দুলাল বিল্লাহ, চড়ুইভাতির আহবায়ক মুহিবুর রশিদ সুজন ও সদস্য সচিব ফয়সাল খাঁন অনুষ্ঠান  উদ্বোধন করেন ।

image3 edited

চড়ুইভাতির সুস্বাদু খাবার পরিবেশনে ছিলেন তারক পন্ডিত, ইমরুল হাসান ফেরদৌস, মো.আব্দুল আলীম, লুনা বেগম নিরু। ক্রীড়া পরিচালনায় ছিলেন শহিদুল হাসান, মো.এনামুল হক, জাহাঙ্গীর জামিল দিপু, গোলাম হায়দার শামীম, মো. আছির উদ্দিন, মো. বদরুল ইসলাম, শামীম হোসাইন, রাজন দাস, উষা দেবী।

চড়ুইভাতি অনুষ্ঠান  উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা রাফল ড্র অনুষ্টিত হয়। র‌্যাফেল ড্রতে তিন সেট স্বর্ণালংকার সহ দশটি আকর্ষণীয় পুরুস্কার ছিল। ক্রীডা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী এবং র‌্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে চড়ুইভাতি অনুষ্ঠান শেষ হয় ।

অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক আমন্ত্রিত সকল অতিথি ও কিশোরগঞ্জ জেলা বাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে সমাপ্ত ঘোষণা করেন ।
খবর প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

বিএনপি কর্মসূচির নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপি কর্মসূচির নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে বলে দেয়া হয়েছে, আন্দোলনের নামে জানমাল, সম্পত্তি ধ্বংস অথবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকারের কোনো বাধা থাকবে না।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে। এরপর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এক সাংবাদিক বিএনপির মহাসমাবেশের বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আগামী ২৭ জুলাই কর্মসূচি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা গেল কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত কী হবে? দেখুন, হঠাৎ করেই তারা (বিএনপি) এমন-এমন কর্মসূচি দিচ্ছে যেগুলোয় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বলছেন আন্দোলন শুরু করেছেন, আন্দোলন করবেন। আমরা সেখানে কোনো বাধা দিচ্ছি না।

তিনি বলেন, যদি জনগণ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আসে তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই কিন্তু জনগণকে জোর করে আনলে আমাদের আপত্তি। আমাদের আপত্তি সেখানেই যদি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে তারা যদি কিছু করে কিংবা জান-মালের ক্ষতি করে অথবা জীবননাশ হয়, আমরা তখনই বাধা দেব।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে সরকারের কোনো বাধা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন তারা পদযাত্রা করেছে, তারা মানববন্ধন করেছে, যা করেছে আমরা কিন্তু কোনোটাতেই বাধা দিইনি। তারা সুন্দরভাবে এসব কর্মসূচি পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও যদি তারা করতে চান করবেন। সেখানেও আমাদের বাধা থাকবে না। কিন্তু যখন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে, জানমাল ধ্বংস করতে চাইবে তখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। এটাই তাদের বলে দেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা পদযাত্রার পরে অতি সম্প্রতি একটা লং মার্চ করল, তারুণ্যের একটা সমাবেশও করল। এখন তারা একটা বড় সমাবেশ করার জন্য আমাদের পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। পুলিশ কমিশনার এখনো তার মতামত জানাননি। আশা করছি, শিগগিরই মতামত জানিয়ে দেবেন।

আওয়ামী লীগ বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয় কিনা- এমন প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা আপনারাই দেখছেন। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে কর্মসূচি দেয়, শুধু আওয়ামী লীগের কর্মসূচি দেখছেন কেন? আরো অন্যান্য পার্টিও তো দিচ্ছে। সেগুলোও আপনার নজরে নিশ্চয়ই পড়েছে। ২০ জন নিয়ে রাস্তায় নামতে পারেন না তিনিও একটা কর্মসূচি দেয়া শুরু করেছেন। কাজেই সবাই কর্মসূচি দিচ্ছে। সবাই রাস্তায় থাকবে। আমরা এটুকুই বলব, যতক্ষণ পর্যন্ত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করবেন, জান-মালের ক্ষতি না করবেন, গাড়ি ভাঙচুর না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাদের কোনো ধরনের কর্মসূচিতে বাধা দেব না।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ণ করলেই মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

‘আমরা মানবাধিকারের ওপর যে কোনো বিধিনিষেধের বিরোধিতা করি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

মঙ্গলবার নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র পুনর্ব্যক্ত করেছে যে গণতান্ত্রিক সমাজে অবাধে নিজেদের ভূমিকা পালনে সকলের অধিকারকে সমর্থন করে তারা।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করে এমন যে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।’

মার্কিন এ মুখপাত্র বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করে এমন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন, জনগণকে সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখার জন্য সহিংসতার ব্যবহার এবং রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ বা গণমাধ্যমকে তাদের মতামত প্রচার থেকে বিরত রাখার জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থার ব্যবহার।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, তারা বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেয় না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে