Home Blog Page 626

নিঃসন্দেহে শেখ মুজিব এ দেশের ‘ওয়ান অব দ্য গ্রেটেস্ট সান ’: ফখরুল 

ঢাকা ডেস্ক : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিঃসন্দেহে এ দেশের ‘ওয়ান অব দ্য গ্রেটেস্ট সান’ বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হয়। এরকম একজন বিশাল মানুষের কন্যা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা)। আমরা কেউ বলি না বলি এটা তো সত্য কথা যে, শেখ মুজিবুর রহমান নিঃসন্দেহে এদেশের ওয়ান অব দ্য গ্রেটেস্ট সান। তার মেয়ে গোটা জাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল। উনিও (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) দিয়েছিলেন বাকশাল তৈরি করে। ওই যে বলি না- বডি কেমেস্ট্রিতে আছে আওয়ামী লীগের। ওরা লুট করবে, ওরা ভোগ করবে আর আমাদেরকে পায়ের তলে পিষে মারবে, সাধারণ মানুষকে।’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। গত সোমবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গতকাল (সোমবার) সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘দাম্ভিকতার বহিঃপ্রকাশ’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সোমবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার ওপর কোনো চাপই কাজ করবে না। এখানেই বুঝা যায় তার (প্রধানমন্ত্রীর উক্তিতে) দেশের ও মানুষের প্রতি কোনো দায়িত্ব নেই। জনগণের ভবিষ্যত নিয়ে এই রাষ্ট্রকে একটা সত্যিকার অর্থে কার্যকর রাষ্ট্র করার চিন্তা তার নেই।’

চাপ কেন পড়ছে ব্যাখ্যা করে ফখরুল বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে গত দুইটা নির্বাচন করেছেন সম্পূর্ণ একতরফাভাবে। ভোট জালিয়াতি, কারচুপি, সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দিয়ে ভোট কেন্দ্রে শূন্য করে তারা ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে বেআইনভাবে ক্ষমতায় গেছেন। যখন আবার নির্বাচন আসছে তখন তারা দেখছেন, জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। সত্যিকার অর্থে যদি সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এ কারণে আগে থেকেই একটা অবস্থা তৈরি করছেন- তা হচ্ছে দেশের নির্বাচনের ব্যাপারে কেউ বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ করবে না, কেউ কথা বলবে না এবং নির্বাচনটা আমাদের মতোই করছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিদেশিরা যারাই যাচ্ছে তারাই বলছে যে, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চাই। সরকার বলছে, না সব ঠিক আছে তো। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করবে। তারা ফ্রি, যা খুশি তাই করতে পারবে। সোমবারও একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী দেখা করতে গেলেন, এর আগেও একজন গেলেন তাদের উনি (প্রধানমন্ত্রী) একই কথা বলেছেন।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ ও কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন।

সূত্র : যুগান্তর

সাড়ে ৪ মাসে কুরআন মুখস্থ করল ৮ বছরের শিশু আশরাফুল

সিরাজগঞ্জ বেলকুচিতে মাত্র সাড়ে ৪ মাসে পুরো কোরআন মুখস্থ করে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে শিশু আশরাফুল ইসলাম (৮)।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) এশার পর হাফেজ আশরাফুলের এই অসামান্য কৃতিত্বের জন্য তার মাদরাসা মাঠে এক বিশাল সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

শিশু আশরাফুল সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলাস্থ এনায়েতপুর থানাধীন গোপরেখী পশ্চিমপাড়া মিফতাহুল ঊলুম কওমি মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। তার বাবা গোপেরেখী পশ্চিমপাড়া মহল্লার মোহাম্মদ বাবু প্রামাণিক। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।

সংবর্ধনার সময় বেলকুচি, এনায়েতপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুরের সহস্রাধিক আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। একইসাথে বিশেষ দোয়া ও ক্ষুদে হাফেজ আশরাফুল ইসলামকে দস্তরবন্ধি করে সম্মাননা ক্রেস্ট, ফুলেল অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাসহ নগদ আর্থিক সম্মাননা এবং বিভিন্ন উপহার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসা ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম তালুকদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুকনী জামিয়া হুসাইনিয়া মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা মুহতামিম হাফেজ মাওলানা আব্দুল রাজ্জাক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর মুহতামিম মাওলনা আব্দুর রউফ, বেলকুচি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান, বেলকুচি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম সোহেল, ওই মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ, মসজিদের খতিব মাওলানা আবু তালেব ও মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সেক্রেটারি
মাস্টার নজরুল ইসলাম।

এ সময় বক্তারা বলেন, আশরাফুল ইসলাম অল্প দিনে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছে। মুখস্থের আগে সে সহিহ ও শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে শেখে। তার এই মহতি অর্জনে আমরা খুশি। তার জন্য অশেষ বিশেষ দোয়া রইল।

ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশে যাদের অবদান বেশি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেল বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সিরিজে দ্বিতীয় হোয়াইটওয়াশ জয়। প্রায় ১০ বছর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার মিরপুরে ১৬ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাট করে ১৫৮ রান তুলেছিল টাইগাররা, জবাবে পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে ১৪২ রান তুলে ইংল্যান্ড।

যেভাবে বাংলাদেশ জয় পেল
সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ধরনের ব্যাট করে। রনি তালুকদার ও লিটন দাস পাওয়ার প্লেত ৪৬ রান তোলে।

রনি আউট হয়ে গেলেও লিটন খেলা চালিয়ে যান এক পাশ ধরে রেখে। লিটন দাস এই সিরিজে এই ম্যাচের আগে তেমন রান পাননি। আজ তুলেছেন নিজের ক্যারিয়ার সেরা টি-টোয়েন্টি স্কোর। ৭৩ রানে আউট হন লিটন দাস।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের নিয়মিত দর্শক শেখ মিনহাজ হোসেনের মতে, লিটনের শট দেখে একটা ‘ওয়াও’ বের হয় যা অনেকের ব্যাটিং দেখেই হয় না।

তিনি আরো বলেন, ‘স্যাম কারেনের বলে লিটন একটা গ্লান্স করেছেন। পয়েন্ট আর গালির মাঝখান দিয়ে বল বের করে দিয়েছেন, বল ব্যাটে চুমু দিয়ে সাথে সাথে চার হয়েছে! কোনো জোর ছাড়া বলটাকে স্রেফ বের করে দেয়া। এতো আরামে সেটা করেছেন যেন মাখনে আলতো করে ছুড়ি চালিয়ে একদম সমান দুই ভাগ করা।’

লিটন দাস আজ ৫৭ বলে ১০টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

ক্রিকেট সাংবাদিক আফনান পিয়ালের মতে, ‘লিটন দাস বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেই কমফোর্ট জোন। লিটনের একেকটা শট দেখলে চোখে প্রশান্তির ঢেউ খেলে! যেন সারাদিন ধরে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে।’

তৃতীয় ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন লিটন কুমার দাস।

আগের ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিং দেখে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন বলেন, ‘ধীরে ধীরে বাংলাদেশের তারকা হয়ে উঠছেন শান্ত।’

আজও শান্ত ৩৬ বলে ৪৭ রানের একটি ইনিংস খেলেন তিনি।

তিন ম্যাচে ১৪৪ রান তুলে শান্ত এই সিরিজের সেরা রান সংগ্রাহক হয়েছেন। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রেমিয়ার লিগেরও সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন।

শান্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেরও সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন।

তবে আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের ফিনিশিং ব্যাটিং ভালো হয়নি, শেষ পাঁচ ওভারে মাত্র ২৭ রান তোলেন সাকিব, শান্তরা।

এক সময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের স্কোর ১৭০-১৮০ এর মতো হবে। কিন্তু দুই উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রানে থামে বাংলাদেশ।

ম্যাচ ঘুরিয়েছেন মোস্তাফিজ
ইংল্যান্ড শুরুতেই অভিষিক্ত তানভীর ইসলামের বলে উইকেট হারালেও জস বাটলার ও ডাউইড মালান ৯৫ রানের জুটি গড়েন।

১৩ তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান মালানের উইকেট নিয়ে নেন। এর পরের বলেই জস বাটলার রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। চার ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়েছেন মোস্তাফিজ।

মূলত তিনিই ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের হাত খুলে ব্যাট করতে দেননি।

তাসকিন আহমেদ ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারে বেন ডাকেট ও মইন আলীর উইকেট নিয়ে নেন।

আমেরিকান আন্তর্জাতিক বেসিক কেবল স্পোর্টস চ্যানেল (ইএসপিএন ও ক্রিকইনফোর) ধারাভাষ্যে ম্যাক্স মোহাম্মদ বাংলাদেশের পেস বোলারদের পারফরম্যান্সের ক্রেডিট দেন ফাস্ট বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডকে।

তিনি লিখেন, ডোনাল্ড দারুণভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ছেলেরা তার অধীনে কাজ করে খুশি।

ম্যাচ শেষে সাকিব আল হাসান ও জস বাটলার দু’জনই মোস্তাফিজের করা এক ওভারের প্রশংসা করেন। মূলত ওই ওভারেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড।

মালান ৪৭ বলে ৫৩ রান করেন।

বাটলারকে রান আউট করেন আগের ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

সাকিব আল হাসান ১৯তম ওভারে বল হাতে নেন। তখন ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল দুই ওভারে ৩১ রান। সাকিব স্যাম কারানের উইকেট নেন এবং মাত্র চারটি রান দেন সেই ওভারে। এতেই ইংল্যান্ডের হোয়াইটওয়াশ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

এটি ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসের তৃতীয় হোয়াইটওয়াশ পরাজয়।

বাংলাদেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের এই হারে কেউ কেউ উইকেট নিয়ে সমালোচনা করলেও ম্যাচ শেষে জস বাটলার বলেন, উইকেটে বল ভালোভাবে ব্যাটে এসেছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা বড় সময় সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিমদের মতো ক্রিকেটারদের ওপর একটা নির্ভরতা ছিল, তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ে তুলনামূলক সিনিয়র ক্রিকেটার মধ্যে ছিলেন কেবল অধিনায়ক সাকিব।

তার নেতৃত্বে তরুণ ক্রিকেটাররা অবদান রেখেছেন এই জয়ে।

সূত্র : বিবিসি

মুম্বাইয়ের দিকে যাচ্ছে ২০ হাজার কৃষকের বিক্ষোভ মিছিল

ভারতের মহারাষ্ট্রের হাজার হাজার কৃষক পায়ে হেঁটে রাজধানী মুম্বাইয়ের দিকে পদযাত্রা শুরু করেছে। কৃষকরা দাবি করছে যে পেঁয়াজ চাষ করে তাদের বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এ বছর, সরকার অনুদান দিয়ে সেই ক্ষতি পূরণ করুক।

সোমবার নাসিক শহর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বুধবার সন্ধ্যায় পৌঁছেছে থানে জেলার কাসওয়া ঘাটে। ইতোমধ্যেই মিছিলটিতে প্রায় ২০ হাজার কৃষক যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন নাসিকে বিবিসির সহযোগী সংবাদদাতা প্রভিন ঠাকরে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, মিছিল যত মুম্বাইয়ের দিকে আগাবে, ততই বহরে কৃষকের সংখ্যা বাড়তে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃষকদের এই মিছিলটি সংগঠিত করছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্ক্সবাদী (সিপিআইএম) দলের কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভা। ২০১৮ সালেও এমনই একটি মিছিল মুম্বাইতে গিয়েছিল।

কী দাবিতে কৃষকদের মিছিল?
মিছিলে হাঁটার পথেই সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি উমেশ দেশমুখ বলছিলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের দাবিগুলো খুব স্পষ্ট। এ বছর পেঁয়াজ চাষ করে উত্তর মহারাষ্ট্রের হাজার হাজার কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কুইন্টাল (একশো কেজি) প্রতি মাত্র সাত শ’ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের অর্ধেক। সরকার সর্বনিম্ন সংগ্রহ মূল্য দুই হাজার টাকা কুইন্টাল প্রতি নির্দিষ্ট করুক, যার মধ্যে অনুদান হিসেবে দেয়া হোক পাচ শ’ থেকে ছয় শ’ টাকা করে।’

ফসলের ক্ষতি হলে বীমার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ করা, বিদ্যুতের বিল আর কৃষি ঋণ মওকুফ করাসহ আরো একগুচ্ছ দাবি নিয়ে কৃষকরা এখন যাচ্ছে মুম্বাইয়ের দিকে।

ওই মিছিলে যে শুধু পেঁয়াজ-চাষিরা যোগ দিয়েছে তা নয়। সংগঠকরা বলছেন, দুধ উৎপাদনকারী, সয়াবিন, তুলা আর ডাল-চাষিরাও যে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে, তারও সমাধান চান তারা।

পেঁয়াজ চাষ করে ক্ষতির মুখে
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এ বছর কৃষকরা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পাঞ্জাব থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের আলু-চাষি, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ, মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজ-চাষি হোন ও ছত্তিশগড়ের সবজি-চাষি- প্রায় সব জায়গাতেই ক্ষতির পরিমাণ কমাতে তারা ক্ষেতেই ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে।

মহারাষ্ট্রের পেঁয়াজ-চাষি কৃষ্ণ ডোংরে তার ক্ষেতের ১৫ হাজার কেজি পেঁয়াজ পুড়িয়ে ফেলেছেন। ট্রাক্টর চালিয়ে তিন একর জমির পেঁয়াজ নষ্ট করে দিয়েছেন সেখানকারই আরেক পেঁয়াজ-চাষি রাজেন্দ্র বোঢ়গুঢ়ে।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বোঢ়গুঢ়ে বলেছিলেন, ‘তিন একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম এ মৌসুমে। পেঁয়াজ মণ্ডিতে আড়ৎদারের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার টাকা মতো খরচ হয় প্রতি একরের ফসলে। এক একরে ১৫০ কুইন্টাল তো হয়, ভালো ফলন হলে ১৭০ থেকে ১৮০ কুইন্টালও হয়। সেই হিসেব যদি করেন, তাহলে এক একরের ফসল থেকে গড়ে আমি দাম পাচ্ছি ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। যা আমার খরচের অর্ধেক। তো সেই ফসল আড়তে পৌঁছে দেয়ার জন্য আরো বাড়তি খরচ করে লোকসানের বোঝা বাড়াবো কি?’

এক সপ্তাহ আগেও তারা প্রতি কেজি পেঁয়াজের জন্য দুই/তিন টাকা করে পাচ্ছিলেন। গত সপ্তাহের শেষ দিকে অবশ্য দাম সামান্য বেড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাবে ক্ষতির মুখে আলু-চাষিরা
মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে বহু দূরে পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুর, যে অঞ্চলটি আলু ফলনের জন্য পরিচিত। নাসিকের পেঁয়াজ-চাষিরা যেমন অতিরিক্ত ফলনের জন্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, তেমন সিঙ্গুর এলাকায় আবার এ বছর বিঘা প্রতি আলুর ফলন কম হয়েছে।

সেখানকার এক কৃষক প্রহ্লাদ মণ্ডলের কথায়, ‘চাষের উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেকটা বেড়ে গেছে। যে সার আমরা গত বছর কিনেছি এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায়, এ বছর সেই সার কিনতে হয়েছে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায়। কৃষিশ্রমিকদের মজুরি ৩০০ থেকে বেড়ে ৪০০ টাকা হয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় পানির খরচ বেড়েছে ৫০ টাকা করে। আমার এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তার ওপরে আমার মতো এলাকার অনেকের জমিতেই ফলন প্রায় অর্ধেক হয়েছে।’

প্রহ্লাদ মণ্ডল জানান, ‘সরকার থেকে যে সহায়ক মূল্য ঘোষণা করেছে, তা হলো ৬৫০ টাকা প্রতি ১০০ কেজি। আমি ০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে পাচ্ছি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা।’

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের আলু-চাষিরাও রাস্তায় আলু ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

আবার পাঞ্জাব বা উত্তরপ্রদেশের মতো অনেক রাজ্যে আলুর প্রচুর ফলন হয়েছে এ বছর। তাই সেখানে আলুর দাম কমে গেছে।

দারুণ ফলন এ বছর, তাই দাম মুখ থুবড়ে পড়েছে
ভারতের কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে ‘নিউজপোটলি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল চালান সাংবাদিক অরভিন্দ শুক্লা। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ‘গত বছর নাসিকের পেঁয়াজ-চাষিরা বিক্রি করেছেন ২০ টাকা কেজি দরে, যেটা ১০০ টাকা করে কিনে খেয়েছি আমরা। কৃষকদের একটা স্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, এ বছর যে ফসলের দাম বেশি উঠল, পরের বছর তারা সেটা আরো বেশি করে চাষ করে। এ বছর ঠিক সেটাই হয়েছে। গত বছর বেশি দাম পেয়েছে দেখে এ বছর আরো বেশি করে চাষ করেছে, আর তাদের সাহায্য করেছে আবহাওয়া। তাই বেশিরভাগ জায়গায় আলু বা পেঁয়াজের ফলন অত্যধিক বেশি হয়েছে। আর মুখ থুবড়ে পড়েছে দাম।’

তিনি ইসরাইলের উদাহরণ দিয়ে বলছিলেন, ‘সেখানে চাহিদা অনুযায়ী চাষ করা হয়। যাতে অতিরিক্ত ফলনের কারণে দাম না কমে যায়, আবার খাদ্য ভাণ্ডারেও টান না পড়ে। আমাদের দেশে তো ওই ব্যবস্থাপনা নেই। দেশের জন্য কী পরিমাণ সবজি লাগবে, বিদেশে কতটা রফতানি হবে, সে সব তথ্য মিলিয়ে কৃষকদের নির্দেশ দেয়া যেতে পারে যে এই পরিমাণের বেশি চাষ করা যাবে না। আর সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থা তো নেই-ই। নাসিকে দেখে এলাম আলুর দাম কেজি প্রতি ২৫ টাকা আর আমি উত্তরপ্রদেশের যে শহরে থাকি, সেই বারাবাঙ্কিতে আলু চার টাকা। সুষ্ঠু বণ্টন ব্যবস্থা থাকলে কী এই অবস্থা হয়?’

রাজনৈতিক দল বা সরকারের মাথ্যাব্যাথা নেই
মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা বলছে, আলু বা পেঁয়াজের দাম যখন বাজারে খুব বেড়ে যায়, তখন সরকার তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিতে নামে, যেন সাধারণ মানুষের ওপরে চাপ বেশি না পড়ে।

কিন্তু যখন কৃষকরা অত্যধিক কম দামে সবজি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়, তখন রাজনৈতিক দল বা সরকারের মাথাব্যাথা হয় না, সেগুলো নিয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো টকশো করে না।

কৃষি বিশেষজ্ঞ দেবেন্দ্র শর্মা বিবিসিকে বলছিলেন, ‘যখন শহরাঞ্চলের মানুষদের বেশি দামে সবজি কিনতে হয়, তখন দেশের সংবাদমাধ্যম ঝাঁপিয়ে পড়ে, সরকার চাপে পড়ে। কিন্তু যখন কৃষকদের সামান্য দামে ফসল বিক্রি করে দিতে হয়, তখন কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় না।’

পেঁয়াজের দাম নিয়ে সরকার গত সপ্তাহ থেকেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। তারা জাতীয় কৃষি সমবায় ন্যাফেডের মাধ্যমে পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেছে, যার ফলে পেঁয়াজের দাম কিছুটা হলেও বেড়েছে। কিন্তু তা চাষিদের ক্ষতি এখনো পূরণ করার মতো অবস্থায় আসেনি।

সূত্র : বিবিসি

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া অনিবার্য হয়ে ওঠেন আশির দশকের শুরুতে। জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে বিএনপিতে বিভক্তি দেখা দেয়। দ্বিধা-বিভক্তির কুশীলবদের নাম-ধাম না বলে এভাবে বলতে পারি, সুবিধাবাদী গ্রুপ এবং আদর্শবাদী গ্রুপ। সুবিধাবাদী গ্রুপ এরশাদ সরকারে যোগদান করার জন্য বিএনপিকে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয়। অপর দিকে আদর্শবাদী গ্রুপ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে আঁকড়ে থাকার উদ্যোগ নেয়। বিভক্তি এড়ানোর জন্য ১৯৮৪ সালের শেষের দিকে বেগম খালেদা জিয়াকে দলের নির্বাহী চেয়ারম্যান করা হয়। খালেদা জিয়া কোনো মতেই রাজি হচ্ছিলেন না। অনেক অনুরোধ উপরোধ করে তাকে রাজি করানো হয়। এভাবে বিচারপতি সাত্তারের পদত্যাগের পর থেকে আজ পর্যন্ত (২০২৩) কার্যত তিনিই দলটির কর্ণধার। যিনি ছিলেন নিরেট গৃহবধূ, তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন।

সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় দলের প্রধান হিসেবে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে তিনি তিন তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকিত করেন। বিএনপি সম্পর্কে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী এবং বিরোধীদের মন্তব্য ছিল, এটি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘সেনা ছাউনি’ থেকে সৃষ্ট সরকারি দল। তিনি সে বদনাম ঘুচিয়ে আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপিকে জনগণের দলে পরিণত করেন। এটি কোনো ভক্তের অতিশয় উক্তি নয়।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর রওনক জাহান মন্তব্য করেন, ÔShe (Khaleda Zia) succeeded in transforming the BNP from a state sponsored party to an opposition party, (Rounaq Jahan, Political Parties in Bangladesh, 2015, P-31) এভাবে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি ও কৌশল বিএনপিকে বারবার ভাঙন থেকে রক্ষা করে। যারা জিয়ার আদর্শকে পরিত্যাগ করে হিরো হতে চেয়েছেন অবশেষে তারাই জিরো হয়েছেন।

এটি একটি সাধারণ সত্য যে, বাংলাদেশে উত্তরাধিকারের রাজনীতি একটি অনিবার্য বিষয়। এই উত্তরাধিকারের রাজনীতিতে নেতৃত্ব যদি হয় সুশাসনের ধারক, কল্যাণকামী ও জনগণের জীবনবোধের প্রতিভূ তাহলে জনগণ সতত আনুগত্য প্রকাশ করে। আর যদি তা হয় কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী তাহলে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে যখন সবাই একটি পরিত্যক্ত দলের পুনরুত্থান আশঙ্কা করেছিল তখন জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ জনগণের সম্মতিতে আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রমাণিত হয়, ‘বাংলাদেশ জাগ্রত জনতার’। কিন্তু যারা জনগণের ভোটে কখনো নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ খোঁজে। এভাবেই ঘটে ১/১১’র অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলি। ‘ব্যতিক্রমী নির্বাচনের মাধ্যমে যে অভিনব সরকার’ (ইয়াহিয়া আখতার : ২০০৯) প্রতিষ্ঠিত হয়, ২০২৩ সালের এই প্রান্তে এসেও তাদেরকেই বাধ্যতামূলকভাবে ধারণ করতে হয়। উত্তরাধিকারের রাজনীতির বিপরীত ধারকরা নিশ্চিত করেই জানে যে, জনসমাদৃত প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপিত হলে তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত। তাই ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন ও ২০১৮ সালের নিশীথ রাতের নির্বাচন। ২০২৪ এর জন্য অনুরূপ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে- এটা নাবালকও বোঝে। আর জিয়া পরিবার যে তাদের সামনে একমাত্র চ্যালেঞ্জ, তাও তারা বোঝে। সে কারণেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, অন্যায় কারাবাস ও দুরভিসন্ধির রাজনীতি। ক্ষমতাসীন দলের সর্বশেষ নাটক আবারও খালেদা জিয়াকে নিয়ে।

বিষয়টি সম্পর্কে বিবিসির ভাষ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয় : খালেদা জিয়া বিতর্ক : আন্তর্জাতিক চাপ নাকি বিএনপির জন্য ‘ট্র্যাপ’? বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা না করা নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক শুরু হয়েছে তা সরকার সচেতনভাবেই করছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। তারা বলছেন, এর পেছনে আন্তর্জাতিক চাপসহ নানা কারণ থাকতে পারে। অবশ্য সরকার বলছে যে, খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে যে বিতর্ক তার পেছনে সরকারের কোনো দুরভিসন্ধি নেই। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি রয়েছে তা থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে সরাতেই এমন বিতর্ক শুরু করতে পারে আওয়ামী ল্লীগ। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা না করা নিয়ে সরকারের অন্তত চারজন মন্ত্রী নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আইনমন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী ল্লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। একই মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদও। তবে কিছুটা ভিন্ন মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, রাজনীতি করতে কোনো বাধা নেই মিসেস জিয়ার। আর আইনমন্ত্রী বলেছেন, রাজনীতি করতে কোনো বাধা না থাকলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বিএনপির সভানেত্রী।

সরকারের একাধিক মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, বিএনপি প্রধানের ব্যাপারে এই সময়ে এসে কেন মন্ত্রীরা এ ধরনের মন্তব্য করছেন? এটা কি বিএনপির জন্য ‘ট্র্যাপ’? এই প্রশ্নের উত্তরে বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানা বলছেন, সরকারের ওপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে, যার কারণে আওয়ামী ল্লীগ খালেদা জিয়াকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করছে। তার মতে, প্রথমত আন্তর্জাতিক মহল বারবারই বিএনপিকে নির্বিঘ্নে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেয়ার জন্য সরকারকে বলছে। একই সাথে, প্রধান বিরোধী দলের নেতাকে এভাবে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে একটার পর একটা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দেখানোটাও সরকারের ওপর একটা চাপ সৃষ্টি করছে।

ফারহানা মনে করেন, দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে সরকারের মন্ত্রীদের যে দু’রকমের বক্তব্য সেটা আসলে বিএনপির জন্য একটা ‘ট্র্যাপ’ বা ফাঁদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এখন রাজনীতিতে সক্রিয় হলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হবে যে, তিনি সুস্থ আছেন। তাই তার আসলে বাসায় থাকার দরকার নেই। তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হোক।

রুমিন ফারহানা আরও মন্তব্য করেন, ‘এই সরকার অত্যন্ত প্রতিশোধপরায়ণ, ধূর্ত ও মিথ্যাবাদী। তাই এই সরকার কী উদ্দেশ্যে কী করে সেটা বলা মুশকিল।’ এই বিতর্কের সূচনা করেন আওয়ামী ল্লীগের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। গত ২৬ জানুয়ারি সংসদে তার এক বক্তব্যে বলেছিলেন যে, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না, এমন মুচলেকা দেয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে তাকে বাসায় নেয়া হয়েছে। সংসদে মি. সেলিমের এমন বক্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির দু’টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্তি দেয়া হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে বাসায় অবস্থান করছেন তিনি। অসুস্থ থাকার কারণে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়া হয়েছে তাকে। শেখ সেলিমের উত্থাপিত শর্ত সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেছেন, এমন কোনো শর্ত ছিল না। মুক্তি দেয়ার সময় সম্ভবত দুটো অলিখিত শর্ত ছিল। সেগুলো হচ্ছে, তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিবেন এবং তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, ‘খালেদা জিয়া যদি অসুস্থ থাকেন তাহলে তিনি রাজনীতি করবেন কিভাবে?’ আর যদি সুস্থ থাকেন তাহলে তার স্থগিত দণ্ডাদেশ আবার চালু করা হবে এবং তাকে কারাগারে গিয়ে তার মেয়াদ পূর্ণ করতে হবে। সে কারণেই বলা হচ্ছে যে, তার রাজনীতি করার সুযোগ নেই।

এখন কেন বিতর্ক? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাসায় থাকার মেয়াদ প্রায় তিন বছর হতে চলল। এতদিন কোনো মন্তব্য না আসলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কারণে এখন তার রাজনীতি নিয়ে বক্তব্য আসছে বলে মনে করছে বিএনপি। সামনে নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৎপরতা রয়েছে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। বিএনপির প্রধান দাবি হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ রেখে এবং দল্লীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহল একটা চাপ তৈরি করেছেন যাতে সামনে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে হয়। এটি একটি কারণ হতে পারে এই সময়ে এমন বিতর্কের জন্য। খালেদা জিয়ার দৃশ্যত মুক্তি এবং অদৃশ্য আইনি কারসাজির মাধ্যমে তাঁকে অকার্যকর করার কূটবুদ্ধি থেকে বিতর্কটি উত্থাপিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক ছাড় দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কৌশলও হতে পারে এই বিতর্কের উৎস। একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়, বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতিসহ নানা নাগরিক ভোগান্তির দিক সামনে এনে একটি আন্দোলন দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। একই সাথে তারা নির্দল্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতেও অটল রয়েছে। এই অটল মনোভাবকে টলায়মান করার জন্য ক্ষমতাসীনদের ফন্দি ফিকিরের অংশ হিসেবে বিষয়টি উত্থাপিত হয়ে থাকবে।

সবকিছু ছাপিয়ে এটা স্পষ্টতর হচ্ছে যে, বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবশ্যম্ভাবী ব্যক্তিত্ব, কোটি কোটি মানুষের মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজও রাজনীতির নিয়ামক। তাকে জেলে রেখে কোনো জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আন্তর্জাতিক চাপ তখনই কার্যকর হতে পারে যখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আন্দোলন প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে। বিগত ১৫ বছরে সেই কাঙ্ক্ষিত আন্দোলন করতে জাতীয়তাবাদী দল ও ইসলামী শক্তি ব্যর্থ হয়েছে-এতে কোনো সন্দেহ নেই। নির্মম শক্তি প্রয়োগের রাজনীতির বিপরীতে আন্দোলন কষ্টকর হলেও অসম্ভব ছিল না। রাজনীতি যদি হয় কৌশল ও শিল্পকলার অপরূপ সমন্বয়, তাহলে বিরোধী রাজনীতিকরা সেখানেও ব্যর্থ। এখন সূচিত আন্দোলনকে একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। এ ধরনের আন্দোলন এবং শুধুমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রত্যাশিত। আর তাই যদি হয় গণতন্ত্রকামী সব শক্তিকে সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় বল্লীয়ান হতে হবে। প্রতিজ্ঞা হোক, ‘মুক্তি অথবা মৃত্যু’।

লেখক :ড. আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com

আ’লীগের হাত থেকে জনগণের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির লড়াই চলবে : গয়েশ্বর

ঢাকা ডেস্কঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে জনগণের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির লড়াই-সংগ্রাম চলবে। আর এজন্য দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে মুক্ত করতে চাই, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে চাই, আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে চাই। এই মুক্তি আমরা যতক্ষণ না পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। আর এজন্য যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সফল হতে হলে ঐক্যবদ্ধের বিকল্প নেই।’

বুধবার (১৫ মার্চ) জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস পার্টি সেন্টারে সকাল ১১টায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকনের উপস্থাপনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জলসহ সারাদেশের ৬০ জেলার শীর্ষনেতারা।

গয়েশ্বর বলেন, ‘দেশের জনগণের একটাই দাবি-নিরপেক্ষ নির্বাচন। এই মুদ্রা পাচারকারী, শিশু হত্যাকারী সরকারকে এ দেশের জনগণ আর দেখতে চায় না। কিন্তু এ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। আশা করছি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব এবং দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ, তাদের মালিকানা ফেরত দিতে পারব।’

আন্দোলনের জাসাসের অনেক ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন মানুষকে আকৃষ্ট করে। সহজেই সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। তাই আগামী দিনে আন্দোলনে সাংস্কৃতির বিপ্লবের মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যেমন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতা আর গানের মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অধিকার আদায়ের শিহরণ তুলেছিলেন।’

সভাপতির বক্তব্যে জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে জাসাসের দায়িত্ব দিয়েছেন। এরপর ঢাকাসহ সারাদেশের জাসাসের ইউনিটগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি। সাংগঠনিকভাবে কর্মিসভা করে যোগ্য নেতাদের খুঁজে কমিটি দিয়েছি। চেষ্টা করছি জাসাসকে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে।’

জাসাসের সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন বলেন, ‘জাসাসকে শক্তিশালী করতে প্রতিটি জেলায় গিয়ে কর্মিসভা করেছি। এ পর্যন্ত ৬০ জেলায় কমিটি দিয়েছি। যেখানে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা নিরসনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। সেইসাথে বিএনপি-ঘোষিত সব কর্মসূচিতে জাসাস সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। আগামীতে সরকারবিরোধী যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে সারিতে থাকবে জাসাস।’

বান্দরবানের ৩ উপজেলায় আবারো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

নিরাপত্তাজনিত কারণে বান্দরবানের তিন উপজেলায় আবারো পর্যটক ভ্রমণের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন।

বুধবার (১৫ মার্চ) জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বান্দরবান পার্বত্য জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থানীয় ও বিদেশী পর্যটক ভ্রমন নিষিদ্ধ করা হলো। এছাড়া বান্দরবান জেলার অন্যান্য উপজেলায় পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন।

এর আগে রুমা উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে গত ১০ ফেব্রুয়ারি রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উগ্রবাদবিরোধী অভিযানের কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১৮ অক্টোবর থেকে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্থানীয় প্রশাসন। এরপর ধারাবাহিকভাবে থানচি ও আলীকদম উপজেলাও নিষেধাজ্ঞা দেয় প্রশাসন। পরবর্তীতে সময়ে দফায় দফায় উপজেলাভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে প্রশাসন।

রমজানে ব্যাংকে লেনদেন হবে ৫ ঘণ্টা

আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ব্যাংকের কর্মঘণ্টা ও লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত লেনদেন চলবে। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

বুধবার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন ডিপার্টমেন্টের এক সার্কুলারে এ সময়সূচি জানানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, দেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক পবিত্র রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এর মধ্যে বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। তবে এ বিরতির সময় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের লেনদেন অব্যাহত রাখা যাবে।

পবিত্র রমজান মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আগের সময়সূচি বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সার্কুলারে।

উল্লেখ্য, বছরের অন্য সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হয়। আর অফিস চলে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

এ সরকারকে এবার পদত্যাগ করতেই হবে : মির্জা ফখরুল

ঢাকা ডেস্কঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দুর্নীতিতে নিমজ্জিত আওয়ামী লীগ এখন লম্বা লম্বা কথা বলে। দেশে আর কোনো বিনাভোটের নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। পাড়া-মহল্লায়, ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ সরকারকে এবার পদত্যাগ করতেই হবে।’

বুধবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্নাসহ কারাগারে থাকা সকল নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান মোতাবেক। অথচ সংবিধান তো তারাই কেটে-ছেঁটে শেষ করেছে। অনির্বাচিত, গণবিরোধী ও দেশবিরোধী সরকার ভয় দেখাতে অতীতে র‌্যাব দিয়ে গুম করেছে, এখন ডিবি দিয়ে গ্রেফতার করাচ্ছে। ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। জনগণের যৌক্তিক দাবিকে কখনো অস্ত্র দিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না, অতীতেও যায়নি। স্বৈরশাসক হিটলার পারেননি। বিষপাণ করে মারা গেছেন তিনি। ইরাকের সাদ্দাম হোসেন মাটির নিচে গুহায় লুকিয়েও বাঁচতে পারেননি। মুসোলিনি পারেননি, আইয়ুব-ইয়াহিয়া ও ভুট্টো পারেননি। এ আওয়ামী লীগ সরকারও পারবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। কারণ এ দেশে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে ভোট চুরি হয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে। হাজারো নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। থানায় নিয়ে পায়ে গুলি করা হয়েছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কী কোনো ভয় সৃষ্টি করাতে পেরেছে? কোনো লাভও হয়নি।’

‘আওয়ামী লীগ মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করছে,’ বলেন তিনি।

যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

নিঁখোজের ২ দিন পর শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

নিঁখোজের দু’দিন পর গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ইসলামপুর বিল থেকে এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৫ মার্চ) বিকেলে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

শিশু সাখাওয়াত (৬) রংপুরের মিঠাপুকুর থানার বড় হযরতপুর গ্রামের মো: জাফর আলীর ছেলে। পরিবারসহ তারা মহানগরের ভোগড়া (পেয়ারা বাগান) এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।

বাসন থানার এসআই মো: নাজমুল হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ভাড়া বাসার গেটের বাইরে দোকানে সামনে খেলার কথা বলে বের হয় শিশুটি। এরপর থেকে সাখাওয়াতের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বুধবার বিকেলে পাশের ইসলামপুর বিলে জমি ভরাটের জন্য ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলার কাজ চলছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন একটি লাশের দু’টি পা বের হওয়া অবস্থায় দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ মাটির নিচে চাপা দেয়া লাশটি উদ্ধার করে। লাশের বাম চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে, বাম হাতের কনুই ও আঙ্গুল কাটা এবং লুঙ্গি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।