Home Blog Page 63

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর জামায়াত সামলাতে হেফাজতকে কাছে টানার কৌশল বিএনপির হেফাজতের আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আজ

বিগত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছিল হেফাজতে ইসলাম। এমনকি প্রকাশ্যে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম বলেও জানিয়েছিলেন সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। জামায়াত ইস্যুতে হেফাজতের এই অবস্থান বিএনপির জন্য নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। নির্বাচনের পরও জামায়াতবিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছে হেফাজত।

এমনকি হেফাজতে থেকেও নির্বাচনে জামায়াত জোটে যাওয়া খেলাফতে মজলিস নেতা মামুনুল হকসহ অনেক সিনিয়র নেতাকে সংগঠনে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এটি বিএনপি-হেফাজতকে আরও কাছাকাছি এনেছে। নানা ইস্যুতে জামায়াত জোট যখন সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তখন হেফাজতকে আরও কাছে টানছে বিএনপি। এটিকে অবশ্য জামায়াতকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

আজ রোববার দিনব্যাপী চট্টগ্রাম সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন, চট্টগ্রামে বন্যাদুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং দলীয় একটি সভায় অংশ নেবেন তিনি। তাঁর এই সফরের সব ছাপিয়ে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে হেফাজতের আমির শাহ আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়টি।

আজ দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় তাদের এই সাক্ষাৎ হবে। মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটির মুহতামিম পদে দায়িত্ব পালন করছেন। মাদ্রাসাটি থেকে হেফাজতের কার্যক্রমও পরিচালনা করেন তিনি। হাটহাজারীর ওই মাদ্রাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে চিরসমাহিত হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবরও জিয়ারত করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে হেফাজত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যেসব মামলা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার চাইবেন মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। একই সঙ্গে ধর্মীয় ইস্যুতে হেফাজতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং কওমি মাদ্রাসা পরিচালনায় সহযোগিতাও আশা করেন হেফাজতের নেতারা।

হেফাজতের তথ্যমতে, আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন ইস্যুতে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিনশ মামলা করা হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার হেফাজত নেতাকর্মীদের এসব মামলার বড় একটি অংশ প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীকালে বিএনপি সরকার আমলেও বেশ কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

তবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফর করেন। ভারতে মুসলিম নিপীড়নের অভিযোগে হেফাজতে ইসলাম ও বিভিন্ন সমমনা দল তাঁর এই সফরের বিরোধিতা করলে বিভিন্ন এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় হাটহাজারী, মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়ের হওয়া দুই ডজনের বেশি মামলা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। এর বাইরে আরও কিছু মামলা রয়েছে। এগুলো প্রত্যাহার চায় হেফাজতে ইসলাম।

এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা আজিজুল হক ইসলামাবাদী সমকালকে বলেন, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী শুধু হেফাজতে ইসলামের আমিরই নন; তিনি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন বুজুর্গ আলেম ও মুরব্বি। তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে এ জন্য হেফাজতের পক্ষ থেকে আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দুজনের সাক্ষাতে স্বাভাবিকভাবে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখনও যেসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহারের বিষয়টি আসবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ইস্যুতে হেফাজতের অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

আদর্শিক কারণে দেওবন্দি ধারার হেফাজতে ইসলাম স্পষ্টতই মওদুদী আদর্শে পরিচালিত জামায়াতের ঘোরবিরোধী। জামায়াতের এই আদর্শিক বিরোধিতাকে আরও কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি। নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে দলটি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আগে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হেফাজত আমিরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে খোঁজ-খবর নিতে ফটিকছড়ি যাচ্ছেন। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো।

এ ব্যাপারে গত নির্বাচনে ফটিকছড়ি আসন থেকে নির্বাচন করা চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যক্ষ নুরুল আমিন সমকালকে বলেন, হেফাজতের পক্ষ থেকে জামায়াতের বিরোধিতাকে আকিদাগত বলা হলেও এর নেপথ্যে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ও রয়েছে। বিএনপি এটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাবে– এটাই বাস্তবতা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম যেসব সমালোচনা করে, সেগুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করি; উপদেশ হিসেবে নিই। কোথাও সংশোধনের বিষয় থাকলে সেটিও করা হয়ে থাকে। আমরা আশা করছি, তাদের সঙ্গে আমাদের যে দূরত্ব, সেটি ধীরে ধীরে কেটে যাবে।

তবে নাম প্রকাশ না করে চট্টগ্রাম জামায়াতের এক সিনিয়র নেতা জানান, হেফাজতের কার্যক্রম হচ্ছে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক। এগুলো মানুষের দানের টাকায় পরিচালিত হয়। বিনা খরচে শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো ও পড়ানো হয়। মধ্যপ্রাচ্য থেকেই আসে বেশির ভাগ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তাদের টাকার উৎসে টান পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন তারা সরকারের সঙ্গে আরও সুসম্পর্ক বাড়াতে চায়। বিএনপিও এটিকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে। এটি জামায়াতকে এক ধরনের চাপে রাখার কৌশলগত ষড়যন্ত্র ছাড়া অন্য কিছু নয়।

তবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হেফাজতের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এবং নির্বাচনে তারা আমাদের সমর্থন দিয়েছে। এই সম্পর্কের টানেই প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। এ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে ১৩ দফা দাবি আদায়ে আয়োজিত সমাবেশের মাধ্যমে প্রথম জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে হেফাজত। সমাবেশটি অবরুদ্ধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেই কর্মসূচিকে সমর্থন দিলে বিএনপির সঙ্গে হেফাজতের সুসম্পর্ক গড়ে উঠতে থাকে। তবে পরবর্তীকালে মামলা-মোকদ্দমা ও ধরপাকড় এড়াতে তাদের একটি অংশ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে বাধ্য হয়। তবে এখন সেই অংশটি নিষ্ক্রিয়।

প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু থাকলেও, জিয়া নেই কেন—জবাবে যা বললেন জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের ছবি থাকলেও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি বা স্বাধীনতা ঘোষণার প্রসঙ্গ কেন নেই- প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। জবাবে জামায়াতে বলেছে, জিয়াউর রহমান স্বৈরাচার নন বলেই, ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নানা পর্বে স্বৈরশাসনের ইতিহাসে তাঁর ছবি রাখা হয়নি।

গত ৫ আগস্ট রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবন প্রাঙ্গনে ‘জুলাই এখনো শেষ নাই’ শীর্ষক এই স্থিরচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। যা শেষ হয় শনিবার রাতে। এতে জুলাই শহীদদের ছবি, চিঠি রয়েছে। স্বৈরাশসক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, শেখ মুজিবুর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও শেখ হাসিনাকে। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করলেও জামায়াতের এই প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধ অংশে রাখা হয়েছে ৭ মার্চের ভাষণের ছবি। এরপর রয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের ছবি। এই অংশে জেনারেল নিয়াজির রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন, বাংলাদেশিদের ওপর হানাদার বাহিনীর আক্রমণ এবং সর্বশেষ বিজয় অর্জনের চিত্র উঠে এসেছে।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালকে ‘একনায়কতন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীতে। শেখ মুজিবের শাসনামলে দুর্ভিক্ষ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কায়েমের ছবি রয়েছে। এরপর ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালকে সামরিক স্বৈরশাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে রয়েছে, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও জামায়াতের বর্তমান নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার তথ্য ও ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এই অংশে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরশাসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার জামায়াতের চিত্র প্রদর্শনী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জামায়াত আমিরের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্র এবং জুলাই আন্দোলনের ছবি রয়েছে; কিন্তু সেখানে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি, কথা বা পোস্টার রাখা হয়নি। বিষয়টি খুবই রহস্যজনক।

এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বক্তব্যের জবাবে জামায়াত আমির বলেছেন, ‘কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন এখানে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ আছে, জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা নেই কেন? জিয়াউর রহমান স্বৈরাচারী শাসক ছিলেন না। এই জন্য তাঁর শাসনামল প্রদর্শনীতে রাখা হয়নি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা কর্তৃত্ববাদী ছিল, যারা আগ্রাসী ছিল, জুলুমবাজ ছিল, আমরা তাদের এখানে তুলে এনেছি। এখানে দেখবেন আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান সবাই আছে; কিন্তু কেউ বাদ পড়েনি। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে আনা হয়েছে।’

প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সরকারের সফলতা দেখানোর জন্য এই আয়োজন করা হয়নি। যুগে যুগে যারা স্বৈরাচারী ছিল, তাদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জনগণ তখন কীভাবে নিগৃহীত হয়েছিল, সেটা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের জনগণ, শহীদ ও শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা তুলে ধরাই ছিল এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য।

১৯৪৭ সালে দেশভাগ থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন অংশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আজাদী, অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’। এই অংশে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানকে একনায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষভাগে রয়েছে ‘ফ্যাসিবাদ’। এই অংশে ২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া পরবর্তী পরিস্থিতি, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতা গ্রহণ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় গভর্নর ডিজিটাল রূপান্তরকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখছে বাংলা কিউআর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে নিরাপদ, সহজ ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাংলা কিউআর দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএভবনের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাবির অ্যাকাউন্টিং বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সহযোগিতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বাংলা কিউআর বিষয়ে সচেতনতামূলক এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. এহতেশামুল হক খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকসুদুর রহমান সরকার।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাংলা কিউআর সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার আরও সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. এহতেশামুল হক খান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করে। ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসার এবং মানুষের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও দ্রুত একটি ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।

স্বর্ণের বাজারে ফের অস্থিরতা

দেশের স্বর্ণের বাজারে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভরিতে ১০ হাজার টাকা বাড়ার পরদিন শুক্রবার তিন হাজার ২২৬ টাকা কমেছিল। এরপর গতকাল শনিবার ফের দাম বেড়েছে। ২২ ক্যারেট অর্থাৎ ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম চার হাজার ৩৭৪ টাকা বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। একই সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে।

গতকাল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সমন্বয় করা হয়েছে। মূলত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে।

বাজুসের নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ দুই লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম এক লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।

স্বর্ণের সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার ভরি এখন চার হাজার ৬৬৬ টাকা।

চলতি বছর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেশ কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার বেড়েছে এবং ১২ বার কমেছে। গত বছরের ৮ আগস্ট প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ টাকা। ঠিক এক বছর পর গতকাল এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ভরিতে বেড়েছে ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানেও কম বাড়েনি দাম। গত ৮ জুলাই প্রতি ভরির দাম ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার ২৮৬ টাকা। এ হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে ভরিতে বেড়েছে আট হাজার ৭৪৮ টাকা। বাজুসের হিসাবে, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের উত্তেজনা এবং স্থানীয় অর্থনীতির নেতিবাচক সূচকের কারণে চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ১২ শতাংশ বেড়েছে।

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দর ওঠে স্বর্ণের। ওই সময় ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের দর হয়েছিল দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকা। মূলত বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার দেশে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠে দর। ওই সময় বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর কিছুটা কমলেও ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে আবার পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর দাম চার হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন এবং মার্কিন ডলারের দর স্বর্ণের দামে হ্রাস-বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকের সুদহারসহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের দামে প্রভাব ফেলে।

গ্যাস বাড়লেও কাটেনি বিদ্যুৎ সংকট, দিনরাত লোডশেডিং

কক্সবাজারের মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও বিদ্যুৎ সংকট কাটেনি। বরং দিনের পাশাপাশি এখন মধ্যরাতেও লোডশেডিং হচ্ছে। সরকারি ছুটির দিন গতকাল শনিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুই হাজার থেকে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল।

বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার ৮৯৬ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং করা হয় দুই হাজার ৫৩৪ মেগাওয়াট। এর আগে বিকেল ৩টায় ১৫ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৯৫৮ মেগাওয়াট।

সাধারণত সকালে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় লোডশেডিং কম হয়। তবে গতকাল সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। সকাল ৯টায় ১৩ হাজার ৭৩৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এক হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যরাতের বিদ্যুৎ সংকট। গত শুক্রবার রাত ৩টায় ১৪ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, দিনের ব্যস্ত সময়ের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিনের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল। ওই সময় লোডশেডিং ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াটের মধ্যে। কিন্তু এক দিনের ব্যবধানেই পরিস্থিতির বড় অবনতি হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়াই সংকটের অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রে যেখানে আগে দৈনিক ৯৯ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এ ছাড়া পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় মাত্র ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালটি থেকে প্রায় ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয় বয়লার চালু হলে আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গোর সরবরাহও নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর তা কমে প্রায় ২১২ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বর্তমানে সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৩৬ দশমিক ৭ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তবে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম।

হেলিকপ্টারে মহেশখালীর পথে প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর হস্তান্তর করবেন।’

সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান।

দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন তারেক রহমান। পরে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে মহেশখালী যাচ্ছেন হেলিকপ্টারে এবং ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে যাবেন। সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বিমানে ঢাকায় ফিরবেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো আজ রোববার চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন। এ সময় কক্সবাজার জেলাও সফর করবেন তিনি।

আজ রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান।

দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন তারেক রহমান। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামীকাল সোমবার প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীরা ফলাফল জানতে পারবেন এসএমএসের মাধ্যমে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট এবং কেন্দ্রীয় দুটি ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যাবে।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ফল প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল দেখতে পারবেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।

এসএমএসে ফল জানার পদ্ধতি

মুঠোফোনে যে কোনো সিম ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানা যাবে। এ জন্য মুঠোফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমেSSC লিখতে হবে। এরপর একটি স্পেস দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, একটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর এবং এরপর YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএমএসের ফরম্যাট হবে (SSC DHA ROLL YEAR), মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফল জানতে লিখতে হবে (SSC MAD ROLL YEAR) ও আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীদের জন্য ফরম্যাট হবে (SSC TEC ROLL YEAR)। এই তথ্য ১৬১৪০ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফলে কোনো পরীক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে।

আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন। এই আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে হলে টেলিটক মোবাইল অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করতে হবে।

আবেদনের প্রক্রিয়া : কেবল টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীরা ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত আবেদন ফি লাগবে ১৫০ টাকা।

পরীক্ষার্থীকে ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে প্রথমে মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে RSC <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> বিষয় কোড এবং তা পাঠিয়ে দিতে হবে 16222 নম্বরে। একাধিক বিষয়ের কোড লিখতে হলে কমা (,) দিয়ে আলাদা করতে হবে। যেমন- ১০১,১০২।

টেলিটকের ডিজিটাল সার্ভিসেস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার সালেহ মো. ফজলে রাব্বী বলেন, রিভিউয়ের জন্য শুধুমাত্র টেলিটক মোবাইল নম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীদের এসএমএস পাঠানোর পর একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে, তাতে ফি কেটে নেওয়ার তথ্য থাকবে।

টেলিটকের ওয়েবসাইট (www.teletalk.com.bd) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে।

এ বছর ৯টি সাধারণ বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ছয় লাখ ৬৬০ শিক্ষার্থী ফেল করেছে, যাদের মধ্যে ছাত্র তিন লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন এবং ছাত্রী দুই লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫। এবার পাসের হারে শীর্ষ রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে এই ফল প্রকাশ করা হয়।

এবার পাসের হারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ ছাড়া কারিগরিতে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, সিলেটে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ঢাকা বোর্ডে ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ, দিনাজপুরে ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ এক হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। দুই হাজার ২৯১টি কেন্দ্রে ১৮ হাজার ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী রয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৩ জন এবং ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৩ জন ছাত্রী। এই বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ৭২৫টি। প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৬৩টি।

অপরদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন সর্বমোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৫ এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৯২৮ জন।

২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ বোর্ডে সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৬ জন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এ ফল প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির ফল ঘোষণা করেন।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। তার মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। সেই হিসাবে এবারও পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এ নিয়ে টানা ১০ বছর এসএসসিতে পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা।

এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন। সেই হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ব্যাপক হারে কমেছে।

দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে মোজতবা খামেনি, ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ

দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে না আসা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ। ভিডিওটি প্রকাশের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে চীনের বার্তাসংস্থা সিনহুয়া ও সিজিটিএন জানিয়েছে, শনিবার মেহের নিউজ তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। তাকে দৃশ্যত সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে।

তবে ভিডিওটি কখন বা কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মেহের নিউজ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে ঘিরে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়ও জানানো হয়নি।

সিজিটিএনের ফেসবুক পেজেও মেহের নিউজের বরাতে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে ভিডিওটি নিয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ঠিক পরপরই ভিডিওটি প্রকাশ পেয়েছে। বুধবার পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, বর্তমানে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা ‘খুবই কঠিন’। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধের খবরের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

তবে একই সঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির উপস্থিতি ইরানিদের জন্য ‘অনেক বড় শক্তি’।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ওই হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। একই হামলায় তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিকও হামলায় নিহত হন।

হামলার পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে মার্চের শুরুতে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। এরপর থেকে তার প্রকাশ্য অনুপস্থিতি এবং শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়।

এ অবস্থায় নতুন ভিডিওতে তাকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা যাওয়ায় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভিডিওটি। তবে ভিডিওটির ধারণের সময় ও স্থান নিশ্চিত না হওয়ায় এর মাধ্যমে মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থান বা সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের নলকায় পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাসের চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের নলকা ওভারপাসের নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসটি নলকা ওভারপাসের নিচ দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় সিরাজগঞ্জ শহর থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাক ওভারপাসে ওঠার সময় বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের চালকসহ দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ যাত্রী।

যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. এ টি এম নুরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

ব্যবসা মন্দা, আশুলিয়ায় ছুটির মধ্যেই ৫৬৫ শ্রমিক ছাঁটাই কারখানার ফটকে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নোটিশ

সাভারের আশুলিয়ায় ৫ আগস্ট উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির মধ্যেই এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ব্যবসায়িক মন্দার কথা।

বৃহস্পতিবার কারখানার প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ থেকে স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিভিন্ন সেকশনের মোট ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, আজ শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে এসব শ্রমিকের ছাঁটাই কার্যকর হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডে কর্মরত সব শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে বর্তমানে কারখানায় মারাত্মক ব্যবসায়িক মন্দা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত কাজের স্বল্পতার কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় কারখানার অস্তিত্ব রক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ধারা ২০ অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারখানার মোট ৫৬৫ জন শ্রমিককে ৮ আগস্ট  থেকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

নোটিশে বলা হয়েছে, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের চাকরির মেয়াদকাল অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ মেনে তাদের যাবতীয় আইনগত পাওনা ও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানার কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলে বা পুনরায় নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে ছাঁটাই করা এসব শ্রমিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকা ও গ্যাস-সংকটের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কারখানাটি কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

কারখানাটির ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম থাকা সুইং সেকশনের অপারেটর মো. জিয়ারুল হক বলেন, ৫ আগস্ট উপলক্ষে কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় টানা তিন দিনের ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে তিনি ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন সমকালকে জানান, ব্যবসায়িক মন্দা মালিকপক্ষের একটি বাহানা মাত্র। এভাবে ছুটির মধ্যে হঠাৎ করে একযোগে এত শ্রমিক ছাঁটাই করা অমানবিক। তারা অবিলম্বে এই নোটিশ প্রত্যাহার করে ছাঁটাই করা সব শ্রমিককে কাজে পুনর্বহালের দাবি জানান।