Home Blog Page 632

পঞ্চগড়ে আহমদিয়াদের জলসা নিয়ে স্থানীয় জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ

পঞ্চগড়ে আহমদিয়া মুসলিম জামাতের সালানা জলসা বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, আহমদিয়াদের বাড়িঘর ও দোকানে ভাংচুর করে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৩ মার্চ) এ ঘটনা ঘটে।

তৌহিদী জনতার ব্যানারে উচ্ছৃংখল জনতা আহমদনগরে আহমদিয়াদের কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করে আগুন দিয়েছে। 

শুক্রবার জুমার নামাজের পর পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার কয়েকটি মসজিদ থেকে মুসুল্লিরা পঞ্চগড় সিনেমা হল রোডসহ চৌরঙ্গী এলাকায় একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। তাদের সাথে অচেনা অনেক মানুষ যোগ দেয়। এক সময় তারা পঞ্চগড়-ঢাকা সহাসড়ক অবরোধ করে।

পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে লাঠিচার্জ শুরু করলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ পিছু হটে। পরে সিনেমা রোডের আহমদিয়াদের মালিকানাধীন দুটি দোকানে ভাংচুর করে মালামাল বের করে সড়কে ফেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় জনতা। করতোয়া নদীর পাড়ে ট্রাফিক পুলিশ অফিস ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। এ সময় সাতটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়।

একই সময় ধাক্কামারা গোল চক্করে পুলিশ বক্স ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। এ সময় সেখানে কয়েকটি দোকানে ভাংচুর করা হয়।

পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। এ সময় পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জেলা শহরের মসজিদ পাড়া গ্রামের আরিফ (২৭) নামের এক যুবক মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভাংচুর ও আগুনের ছবি তুলতে গেলে এসএ টিভির প্রতিনিধি কামরুজ্জামান টুটুলকে বেধড়ক মারপিট করে বিক্ষুব্ধ লোকজন। আরো কয়েকজন সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে তাদের লাঞ্ছিত করা হয়।

এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা শহরের অদূরে আহাম্মদনগর গ্রামে আহমদিয়াদের জলসা অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওয়ানা দিলে চৌরঙ্গি মোড় এলাকায় পুলিশ মিছিলটিকে আটকে দেয়। সেখান থেকে মুসুল্লিরা জেলা শহরে সিনেমা হল সড়কে পিছু হটে।

বিকেলে করতোয়া নদী হেঁটে ও নৌকায় পার হয়ে উচ্ছৃংখল লোকজন আহমদনগরে প্রবেশ করে আহমদিয়াদের ১২-১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় তাদের হামলায় কয়েকজন আহমদিয়া আহত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল।

আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গেছে খালেদা জিয়ার রাজনীতি ও নির্বাচন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমান অবস্থায় রাজনীতি করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সম্প্রতি সরকারি দলের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ও মন্ত্রী ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সরকারের আইনমন্ত্রীও। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হচ্ছে রাজনীতিতে। খালেদা জিয়া বর্তমানে সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাগারের বাইরে থাকলেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় নন।

এমন অবস্থায় খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আইনগত ব্যাখ্য কী আছে?

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য
সম্প্রতি খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বক্তব্য দিয়েছেন।

বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার সুযোগ কতটা আছে, সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এর ফলে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি করেছে বলেই অনেকে মনে করছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথম বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনার ‘উদারতার’ জন্য খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে আছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) তো দণ্ডিত। তিনি কি মুক্তি পেয়েছেন? যেটুকু পেয়েছেন, সেটুকু মানবিক কারণে ও শেখ হাসিনার উদারতার জন্য পেয়েছেন। অসুস্থ না হলে তিনি থাকতেন কোথায়? কারাগারে। ঠিক আছে? তাহলে রাজনীতির সুযোগ কোথায়? দণ্ডিত ব্যক্তির রাজনীতি করার সুযোগ কোথায়?’

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তি কারাগারে থাকলে তার প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। কিন্তু খালেদা জিয়া তো এখন কারাগারের বাইরে আছেন।

একই বিষয়ে আরেক বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুক্তির শর্ত মেনে তাকে রাজনীতি করতে হবে।

মুক্তির শর্ত
বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করা হয়। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে দু’টি শর্ত দেয়া হয়েছিল। খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করার সময় রাজনীতি করতে পারবেন না এমন কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি বলে স্পষ্ট করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘শর্তগুলী কী? সেটা তখনো ছিল। এখনো আছে। (ক)- তিনি ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। (খ)- উক্ত সময়ে তিনি বিদেশ গমন করতে পারবেন না।’

রাজনীতি করার সুযোগ নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনি দিক থেকে যদি বলেন, তাহলে তিনি রাজনীতি করতে পারবেন। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, এটাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আপনাদেরকে দেখতে হবে। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, তিনি তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করার আবেদন করেছিলেন। কারণ, তিনি অসুস্থ। এটাকে মনে রাখতে হবে।’

আইনের ব্যাখ্যা
নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করার সময় দেয়া শর্ত ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে কোনো বাধা নেই। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসিকে বলেন, সরকার যেকোনো সময় শর্তযুক্ত বা বিনা শর্তে সাজা স্থগিত করতে পারে।

মালিক বলেন, ‘সাজা তো সাসপেন্ড করে রেখেছে। তাকে যদি ঘরবাড়ি থেকে বের হবার অনুমতি দেয়, তাহলে বের হয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বর্তমানে যে শর্ত দেয়া আছে ওই শর্ত অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে আমি কোনো আইনগত বাধা দেখছি না।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছর কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ কারাগারে থাকার পর ২০২০ সালের মার্চে তার দণ্ড স্থগিত করে সরকার।

কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন কি না এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ধারা ‘ঘ’তে বলা হয়েছে ‘তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অনূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছরকাল অতিবাহিত না হয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন।

সংবিধানের ধারা ও গণপ্রতিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী বর্তমান অবস্থায় দলের চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারলেও সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘দু’বছরের বেশি দণ্ডিত হলে কারাবাসের সময়টা পার হওয়ার পরের পাঁচ বছর প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রার্থীদের যোগ্যতা অযোগ্যতার তালিকায় সংবিধানেও বলা আছে। রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্যা পিপলস অর্ডারেও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) বলা আছে।

‘এটা হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের বেলায়ও হয়েছিল। ওনার সাড়ে তিন বছরের মতো জেল হয়েছিল। বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০১-এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কারণ পাঁচ বছর পেরোয়নি। কিন্তু ২০০১-এর নির্বাচনে তো তিনি প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।’

দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দু’বছরের কিছু বেশি সময় কারাভোগ করেছেন। সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ এ পর্যন্ত ছয়দফা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ তার দণ্ড স্থগিতের চলতি মেয়াদ শেষ হবে।

সূত্র : বিবিসি

আগামী সংসদ নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জাপা : জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) বলেছেন, তার দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে সব আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দল। সব জায়গায় আমাদের লোক আছে এবং আমরা প্রার্থী দেয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের রাজনীতি এবং সংগঠন এই দু’টিকে আমরা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি একক নির্বাচন করার জন্য।

শুক্রবার (৩ মার্চ) দুপুরে তিন দিনের সফরে তিনি লালমনিরহাট এসে লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পরিদর্শন উপলক্ষে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উন্মুক্ত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, আমাদের দেশের মানুষের জন্য ডাক্তার নেই। সাধারণ মানুষের বাঁচার যে একটা অধিকার সেটিও তারা হারিয়ে ফেলেছে। যে চিকিৎসা সুবিধা উন্নতি করেছে বাংলাদেশ, এটি উচ্চ শ্রেণির জন্য। সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষের জন্য যে হসপিটাল সুবিধা, সেগুলো সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিচ্ছে, এটি দুর্ভাগ্যজনক।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার রমজান আলীর সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা: নির্মলেন্দু রায়, ডা: জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল হক, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব জাহিদ হাসান লিমন, সদর উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব আলী, পৌর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলমগীর চৌধুরীসহ অন্যরা।

সভায় সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তুলে ধরেন। প্রায় ৪০ শতাংশ ডাক্তার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংকটের কথা উল্লেখ ধরেন তিনি।

উন্মুক্ত বক্তব্যে আরো অংশ নেন জেলার সচেতন নাগরিক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

চারদিক থেকে বাখমুট শহর ‘ঘিরে ফেলেছে’ ওয়াগনার বাহিনী

রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধরত ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান বলেছেন, তার বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাখমুট শহরের বেশিরভাগ জায়গাই ঘিরে ফেলেছে।

এই শহর দখলকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাথে তাদের তীব্র লড়াই চলছে যাতে উভয়পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে।

ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন বলেছেন এখন এই শহর থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য একটাই পথ খোলা আছে।

বাখমুট থেকে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, একটি বাড়ির ছাদের ওপর ধারণ করা ভিডিওতে প্রিগোঝিন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উদ্দেশে বলেন, ইউক্রেনীয় সৈন্যদের জীবন বাঁচাতে হলে তাদেরকে সরিয়ে নিন।

কী বলছে কিয়েভ
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্বীকার করে নিয়েছে তাদের সৈন্যরা বাখমুট শহরে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। সেখান থেকে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের সরিয়ে নেয়া হতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছে। এর আগে এই শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য সেখানে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো হয়েছিল।

কিয়েভ বলছে, তাদের সৈন্যরা এখনও সেখানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তারা স্বীকার করেছে এ সপ্তাহে বাখমুটে তাদের অবস্থার অবনতি হয়েছে।

ন্যাশনাল গার্ড অব ইউক্রেনের একজন ডেপুটি কমান্ডার ভলোদিমির নাজারেঙ্কো ইউক্রেনীয় একটি টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, বাখমুটের পরিস্থিতি ‘গুরুতর’ এবং ‘সারাক্ষণই সেখানে যুদ্ধ’ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কত প্রাণহানি ঘটছে সেটা তারা বিবেচনা করছে না। তারা এখন এই শহর দখল করতে চাইছে। আমাদের সৈন্যদের কাজ হচ্ছে শত্রুর যতো বেশি ক্ষতি করা যায়।’

ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোঝিনও বলেছিলেন, ‘বাখমুট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইউক্রেনীয় সৈন্যরা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।’

এই শহরে যুদ্ধে উভয়পক্ষের বেশ ক্ষয়ক্ষতি ও বহু সৈন্যের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বলা হচ্ছে, এই শহরটি দখল করে নিতে পারলে ইউক্রেন যুদ্ধের গত ছয় মাসে রাশিয়ার জন্য এটা হবে বড় ধরনের বিজয়।

একটি পথ খোলা
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান জানিয়েছেন, প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাখমুট শহরটিকে তারা চারদিক দিকে ঘিরে ফেলেছেন। ইউক্রেনীয় সৈন্যদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটা পথ খোলা রাখা হয়েছে।

এই শহরের পশ্চিমাঞ্চলে রয়টার্সের সাংবাদিকরা দেখেছেন ইউক্রেনীয় সৈন্যরা প্রতিরক্ষার জন্য সেখানে নতুন করে পরিখা খনন করছে।

ওই শহরে গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধ করছে ইউক্রেনের এরকম একটি ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ১১০ দিন ধরে তিনি সেখানে যুদ্ধ করছেন। তবে কেন তাদেরকে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ওই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

বাখমুট কেন গুরুত্বপূর্ণ
পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে রসদপত্র সরবরাহের জন্য একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর এই বাখমুট শহরের অবস্থান। এই শহরের নিয়ন্ত্রণ দখল করতে পারলে রাশিয়া এই এলাকাটিকে ক্রামাটরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কের মতো দুটি বড় শহরের দিকে এগিয়ে যাবার জন্য ভিত্তি তৈরি করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাখমুট শহরে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে রাশিয়ার পক্ষে পুরো ডনবাস অঞ্চল দখল করে নেয়া আরো সহজ হয়ে উঠবে।

বাখমুট দখল করার জন্য লড়ছে রাশিয়ার পক্ষে ওয়াগনার গ্রুপ।

এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন। বহু রুশ কারাবন্দিকে এই বাহিনীতে সৈনিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তারা সহিংস যুদ্ধের জন্য সুপরিচিত। ইউক্রেনের যুদ্ধ ছাড়াও আফ্রিকার কিছু সংঘাতে তারা জড়িত।

সূত্র : বিবিসি

সরকার জনগণের কথার তোয়াক্কা করে না : গয়েশ্বর রায়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয়তাবাদী নয়, দেশপ্রেমিক নয়, গণতান্ত্রিকও নয়। যার কারণে এরা জনগণের কথার তোয়াক্কা করে না।’

শুক্রবার (৩ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবি ও দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে এক পেশাজীবী সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘এখন আমাদের মুখ্য দাবি হওয়া দরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে এই সরকারকে প্রত্যাহার ও সরানো। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেছেন, জনগণ থাকবে নিরাপদে ঘরে, ভোট দেবে প্রশাসন, সন্ধ্যায় ফল গণনা করবে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ জনগণ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন না। ২০১৮ সালের নির্বাচন দেখেছেন, কারা ভোট দিয়েছে? প্রশাসন।’

চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবাইকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘দেশের কথা চিন্তা করেন, ১৯৭১ সালের মতো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের রুখে দাঁড়ান। ১৯৭১ সালে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা এখন যুদ্ধ করছি। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন, নাকি বিরোধিতা করবেন? অংশগ্রহণ করলে ভালো, না করলে ১৯৭১ সালের মতো রাজকারের খাতায় নাম লেখাবেন।’

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন আওয়ামী লীগও আরেকটি শান্তি কমিটি করছে। যেদিন আমরা কর্মসূচি করি, সেদিন ওই শান্তি কমিটিও কর্মসূচি দেয়। ওই শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হলেন ওবায়দুল কাদের। আমি বিশ্বাস করি, তিনি শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করবেন। কোনো কমিটি এ সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না।’

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক রাশেদুল হক, আমিরুল ইসলাম কাগজী, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, সাংস্কৃতিক জোটের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়া অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা : র‌্যাব ডিজি

সমন্বয়ের অভাবে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই উগ্রবাদী (জঙ্গি) ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা ছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অপর দিকে ঘরছাড়া ৩৩ জন তরুণকে শনাক্ত করেছে রথ্যাব। শনাক্ত হওয়া ৩৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে ইতোমধ্যে রথ্যাব আটক করেছে। বাকি ২১ জন এখনো পলাতক রয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ তথ্য জানানো হয়।
র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, শুধু পুলিশকে এককভাবে বলছি না। পুলিশের সাথে সবার একটা সমন্বয় থাকার কথা ছিল। সেখানে কোথাও সমন্বয়ের অভাব ছিল। সমন্বয়ের অভাব থাকার কারণে ওখানে যেভাবে লোক থাকার কথা ছিল, কিংবা জঙ্গিরা যখন পালিয়েছে, তখন যে তথ্য জানানোর কথা ছিল সেই জায়গাগুলোতে কোথাও অভাব ছিল। যে কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। আমরা চাইব, আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য।
ঘরছাড়া ৩৩ তরুণকে শনাক্ত করেছে র‌্যাব :
সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ হওয়া নতুন উগ্রবাদী সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া ৫৫ জন তরুণের মধ্যে ৩৩ জনকে শনাক্ত করেছে র‌্যাব সদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেফতার নতুন জঙ্গি সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান ওরফে রণবীরের কাছ থেকে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়। ওই ভিডিওতে মোট ২৯ জন জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার হওয়া ৭ মিনিট দৈর্ঘ্যরে নতুন ভিডিওতে আরো ২৩ জন জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়। এই ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জন জঙ্গি আগের ভিডিওতেও ছিলেন, আর চারজন নতুন জঙ্গির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নতুন চারজন হলো- শেখ আহমেদ মামুন ওরফে রমেশ, শামিম মিয়া ওরফে বাকলাই ওরফে রাজান, নিজাম উদ্দিন হিরন ও ডা: জহিরুল ইসলাম ওরফে আহমেদ। ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ৬ জুন ডা: জহিরুল মারা গেছেন।
তিনি বলেন, দুই ভিডিওতে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে থাকা মোট ৩৩ জনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকে অভিযান চলবে। নতুন পাওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূলত অর্থ সংগ্রহ এবং সদস্য সংগ্রহের জন্য এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। অপর দিকে দেশে বড় কোনো নাশকতার পর নিজেদের অস্তিত্ব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে জানান দেয়াও এই ভিডিওর উদ্দেশ্য হতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গত নভেম্বর থেকে তাদের মোবাইল ফোনে ভিডিওটি ছিল। ভিডিওর কাজটি চলমান ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই র‌্যাবের অভিযান শুরু হয়। এখন পর্যন্ত কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তারা নিজেদের গ্রুপের মধ্যেই এগুলো সরবরাহ করেছে। কোনো নাশকতার পরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে এটি ব্যবহৃত হতে পারে।
নতুন সংগঠনের নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সর্বশেষ যে চারজনকে আটক করা হয় তাদের সমতলে আত্মগোপনের নির্দেশনা ছিল। এ জন্য তারা চার দিন ধরে পাহাড় থেকে হেঁটে বান্দরবান শহরে আসে। তাদের বিচ্ছিন্নভাবে চট্টগ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এখন তাদের কি শুধু আত্মগোপন নাকি অন্য কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ইরানে মেয়েদের স্কুলে ফের ‘বিষাক্ত গ্যাস’ হামলা, বহু ছাত্রী হাসপাতালে

ইরানে নতুন করে মেয়েদের স্কুলে স্কুলে বিষাক্ত গ্যাসের হামলা হচ্ছে– এমন খবরে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ২৬টি স্কুলের শত শত ছাত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ইরানে মেয়েদের স্কুলে নতুন করে বিষাক্ত গ্যাসের হামলা হচ্ছে বলে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

কমপক্ষে ২৬টি স্কুলের বহু মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নভেম্বর মাস থেকে এক হাজারেরও বেশি মেয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে। তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে ক্লান্তি, ঝিমুনির উপসর্গ দেখা গেছে।

ইরানে অনেক মানুষ সন্দেহ করছে মেয়েদের স্কুলগুলো যাতে বন্ধ করে দেয়া হয় সে লক্ষ্যে ইচ্ছা করে গ্যাস ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু সরকার এখনো এ ধরনের ষড়যন্ত্র তত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

ইরানের ফারস সংবাদ সংস্থা খবর দিয়েছে- স্কুলে গ্যাস হামলার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কিন্তু ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ভাহিদি, প্রেসিডেন্ট রাইসি যাকে এ ধরনের বিষক্রিয়ার কারণ খোঁজার দায়িত্ব দিয়েছেন– বলেছেন এমন গ্রেফতারের খবর সঠিক নয়।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, এবং “ভাড়াটে বিভিন্ন গ্রুপ” পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করেছে, মানুষজনের মধ্যে আতংক ছড়াচ্ছে।“

কিছু ছাত্রী এবং অভিভাবক সন্দেহ করছে পুলিশ হেফাজতে মাসা আমিনি নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে সম্প্রতি সরকারবিরোধী যে ব্যাপক আন্দোলন হয় তাতে অংশ নেয়ার শাস্তি হিসাবে মেয়েদের স্কুলগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে।

স্থানীয় বিভিন্ন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী পাঁচটি শহরের ২৬টি মেয়েদের স্কুলে নতুন দফা এই বিষাক্ত গ্যাসের হামলা হয়েছে।

বিবিসি ফার্সি ভাষা বিভাগের যাচাই করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরান, উত্তর-পশ্চিমের আরদাবিল এবং পশ্চিমের কেরমানমাহ শহরে মেয়েদের স্কুলের সামনে অ্যাম্বুলেন্স জড় হয়েছে, এবং হাসপাতালে হাসপাতালে ওইসব স্কুলের ছাত্রীদের চিকিৎসা চলছে।

তেহরানের একটি স্কুলের ছাত্রীদের হাসপাতালের বেডে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেছে।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে তেহরানের পূর্বাংশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে ফুটপাতে ছাত্রীরা বসে রয়েছে। সেসময় একজন মা স্কুলের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছেন “আমার মেয়ে কই?” এক পুরুষ তাকে বলছেন, ”তারা ছাত্রীদের গ্যাস দিয়ে বিষাক্রান্ত করেছে।“

স্কুলে গ্যাসে বিষাক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রথম তেহরানের উত্তরে শিয়াদের পবিত্র শহরে কোমে।

বিবিসি ফার্সি বিভাগের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে রোববার পর্যন্ত ৮৩০ জন শিক্ষার্থী, যাদের অধিকাংশই মেয়ে, এমন বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছে।

তবে ইরানি সংসদের একজন সদস্য বলেছেন দুটো শহরেই- কোম এবং বোরুয়ার্ড- ১২০০ জন আক্রান্ত হয়েছে।

বিষ্ফোরণ, তারপর নাকে পচা মাছের গন্ধ
আক্রান্তরা প্রায় সবাই বলেছেন অসুস্থ হয়ে পড়ার আগে তারা নাকে পচা মাছের গন্ধ পেয়েছেন।

পার্লামেন্টের শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আলি রেজা মোনাডি-সেফিডানকে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার ফার্স সংবাদ সংস্থা বলছে এক তদন্তে বিষাক্ত গ্যাসে নাইট্রোজেনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার এমন খবর নাকচ করে দেন।

একজন অভিভাবক বিবিসিকে বলেন তেহরানের পারদিস শহরতলীতে তার মেয়ের স্কুলে মঙ্গলবার অনেক ছাত্রী আক্রান্ত হয়েছে।

“আমার মেয়ে এবং তার দুই বন্ধু বলেছে তারা একটি বিস্ফোরণ শুনেছে এবং পরপরই খুবই বাজে গন্ধ পেয়েছে– অনেকটা পোড়া প্লাস্টিকের মত গন্ধ,” বলেন ওই অভিভাবক। নিরাপত্তার কারণে তার নাম দেওয়া হচ্ছে না।

“ছাত্রীদের ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে বাইরের খোলা চত্বরে গিয়ে দাঁড়াতে বলা হয়। অনেক ছাত্রী সেসময় সেখানেই ঢলে পড়ে…এরপর পুলিশ আসে। অ্যাম্বুলেন্স আসে।“

রোববার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ইউনুস পানাহি বলেন, এটা “প্রমাণিত যে কিছু মানুষ চাইছে সব স্কুল, বিশেষ করে মেয়েদের স্কুল, বন্ধ হয়ে যাক।“ তবে পরে তিনি বলেন, তার কথা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বুধবার অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এক নারীকে বলতে শোনা যায়- কেরমানশাহ শহরের একটি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রীরা তাকে বলেছে স্কুলে এক বিস্ফোরণের মতো শব্দের পর প্রধান শিক্ষক জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরপরই স্কুলে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়।

ওই নারী বলেন একজন ছাত্রী তাকে বলে যে তার আশংকা বিক্ষোভে অংশ নেয়ার জন্য তাদেরকে টার্গেট করা হচ্ছে।

স্কুলে বিষাক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় জনমনে নতুন করে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। বুধবার প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় তেহরানের একটি স্কুলের বাইরে একদল মেয়ে স্লোগান দিচ্ছে –“নারী, জীবন, মুক্তি।“

এই স্লোগানই সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নিয়মিত শোনা গেছে।

পারদিস মহল্লার ওই অভিভাবক বিবিসিকে বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন এবং ক্রদ্ধ অবস্থায় স্কুলে গেছি। অনেক অভিভাবক খামেনির (শীর্ষ ধর্মীয় নেতা) বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে।“

“কেউই বিশ্বাস করেনা এই গ্যাস হামলার তদন্ত হবে। এই সরকারের ওপর আমার কোনো আস্থা নেই।“

সরকারি হিসাবেই ওই অভিভাবকের মেয়ের স্কুলের ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

“অন্যান্য অভিভাবক এবং প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে আমি বুঝতে পেরেছি স্কুলের অর্ধেক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কমপক্ষে ২০০ জন।“

এদের মধ্যে একজন ছাত্রী এখন মুমূর্ষু অবস্থায়। “অনেক অভিভাবক তাদের বাচ্চাদের হাসপাতালে নিতে চাইছেন না কারণ তারা ভীত, তারা সরকারি কর্মকর্তাদের বিশ্বাস করেন না।“

সূত্র : বিবিসি

ভোটকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেই ভারসাম্য আনতে হবে : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই ভারসাম্য আনতে হবে।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা বারবার আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা আসুন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। আপনাদের মধ্যে যদি মতপার্থক্য থাকে, সেটা নিরসন করার চেষ্টা করুন। কারণ, নির্বাচন কমিশন মুরুব্বিয়ানা করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিনীতভাবে সকল রাজনৈতিক দলকে বলবো- আপনারা যেকোনো প্রকারেই হোক, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন।’

কাজী হাবিবুল আউয়াল বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে ভোটার দিবসের শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।

সব দলকে ভোটে আসার আহ্বানের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণমূলক ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরিতে কমিশনের সব ধরনের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। নিজেদের মেয়াদে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও সন্তোষজনক ছিল বলে উল্লেখ করেন সিইসি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে ‘যথেষ্ট’ ভোটার উপস্থিতি থাকবে বলে আশা রাখেন তিনি।

সিইসি আরো বলেন, ‘ইভিএমে ভোটে বলা হয় ধীরগতি, সেখানেও উপস্থিতি যথেষ্ট ভালো ছিল। আমরা আশা করি আগামীতে ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, সেখানে উপস্থিতি যথার্থ হবে, সেই আশাবাদ আমি ব্যক্ত করছি।’

সিইসি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। আবহাওয়াগত কারণ হতে পারে, দুর্যোগের কারণে হতে পারে, শীতের কারণে হতে পারে; বিভিন্ন কারণেই হতে পারে। কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ণ, ভোটাররা এসেছেন কিনা? তাদের বাধা দেয়া হয়েছে কিনা? তারা ভোট দিতে পেরেছেন কিনা? সেটাই বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য আমাদের কাছে।’

ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রে আসার দায়িত্ব হচ্ছে প্রথমত ভোটারের নিজের। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল একটা ভূমিকা রয়েছে। তাদেরকে সে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন- আমরা ভোটটা আয়োজন করব। আমরা আপনাদের ব্যালট পেপার সাপ্লাই করব, বক্স সাপ্লাই করব এবং আমরা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সংস্থাগুলোকে স্ট্রিকলি বলে থাকি, আপনারা ভোটকেন্দ্রের চারপাশে প্রত্যাশিত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। তাই দায়িত্বটি কার? দায়িত্বটি সামগ্রিক সমন্বয়ের। এটা আপনাদের অনুধাবন করতে হবে। এককভাবে এই দায়িত্ব কখনোই নির্বাচন কমিশনের নয়।’

ভোটার দিবসের এ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা, মো: আলমগীর, ইসি সচিব মো: জাহাংগীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সকালে নির্বাচন ভবন থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে আগারগাঁওয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্বাচন ভবনের সামনে শেষ করা হয়। বিকেলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে ইসি।

সূত্র : বাসস

আওয়ামী লীগ জনগণের সাথে পরিহাস করছে : মির্জা ফখরুল

স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিলেও তাদের নাম উল্লেখ করা হয় না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সাথে পরিহাস করছে। এখন দাবি করা হচ্ছে, সবকিছু নাকি আওয়ামী লীগ করেছে।

২ মার্চকে জাতীয় জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আক্ষেপ করে বলেন, কিন্তু ৫২ বছরেও এই দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। তাদের নাম স্মরণ করা হয় না। এ যুদ্ধের রূপকার মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর অবদান, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতৃত্বদানকারী তাজউদ্দীন আহমেদের অবদানও স্মরণ করা হয় না। আজকে ভিন্ন দল করার জন্য স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম রব, ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজ, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকেও স্মরণ করা হয় না। বরং জিয়াউর রহমানকে একটা খলনায়ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তারা (আওয়ামী লীগ) বলে, জিয়াউর রহমান নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। সবকিছুই নাকি করেছে আওয়ামী লীগ এবং একজন ব্যক্তি।’

তিনি বলেন, ‘আজ ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় চেপে বসেছে। দেশের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। তারা আবারো বাকশাল কায়েম করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে লুটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। অথচ পত্রিকায় দেখলাম চট্টগ্রামের ওএমএসের চালের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ সরকার দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিনষ্ট করে দিচ্ছে। মানুষ ভোট দিতে পারছে না। ভিন্নমত পোষণ করতে পারছে না। ভিন্ন মত প্রকাশ করলেই কারাগারে যেতে হচ্ছে। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে লিখতে পারছে না। সৎভাবে কেউ ব্যবসা করতে পারছে না। দলীয় লোক না হলে সেই ব্যবসায়ীর প্রতি চলে দমন-নিপীড়ন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতের এক বিতর্কিত ব্যবসায়ীর সাথে সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে একটি চুক্তি করেছে। যার ফলে ২০০ টাকার কয়লা ৪০০ টাকা দিয়ে কিনতে হবে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সবকিছুর দাম আরো বেড়ে যাবে। তারা আইন করেছে, গণশুনানি না করেই আবারো বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারবে। এ সরকার জনগণের টাকা লুটপাট করতেই বারবার বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ অবস্থায় বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই আন্দোলন বিএনপির একার আন্দোলন নয়। এটা গোটা জাতির সংগ্রাম। স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে সকল গণতন্ত্রগামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

জেএসডি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতার পতাকা উত্তেলক ও জেএসডি সভাপতি আ স ম রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকের হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর প্রমুখ।

জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেন ক্রিকেটার সাইফুদ্দিন

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন ক্রিকেটার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুরে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের পছন্দ করা পাত্রী কাজী ফাতেমাতুজ জাহরার সাথে সাইফুদ্দিন গাঁটছড়া বাঁধলেন। কনে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অনার্স ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন।

বিয়ে প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন বলেন, আমার পরিবারের মা-বোনের পছন্দই আমার পছন্দ। আমার বোন যাকে পছন্দ করেছে তাকেই বিয়ে করেছি। অতীতের পছন্দ ছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘প্লিজ নো কমেন্টস’।

সাইফ জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে যাওয়ায় তার মা জহুরা বেগম ও বড় ভাই কফিল উদ্দিন সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এর আগে বুধবার রাতে একই কনভেনশন হলে জমকালো হলুদ সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে হলুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।