Home Blog Page 633

ফুটবল খেলার ইচ্ছেটা কমে যাচ্ছে, ভিনিসিয়ুস

০

এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা লেফট উইঙ্গার বলা হলে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নামটাই প্রথমে আসবে। কিন্তু সেই ভিনিসিয়ুস জানালেন, তার ফুটবল খেলার ইচ্ছেটাই দিন দিন কমে যাচ্ছে। আর এজন্য অবশ্য নিজের বা ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো অভিযোগ তার নেই। বরং অভিযোগ এনেছেন বর্ণবাদের বিপক্ষে।

স্পেন ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে বর্ণবাদের বিপক্ষে কথা বলতে গিয়ে কেঁদেই ফেলেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নিজেই জানালেন, স্পেনে তাকে যেভাবে একের পর এক বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হচ্ছে, তাতে ফুটবল খেলার ইচ্ছাটাই ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস বেশ অনেকটা দিন ধরেই বর্ণবাদী আচরণের মুখে পড়েছেন। এমনকি স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটাও খেলা হচ্ছে বর্ণবাদ বিরোধী সামাজিক বার্তা নিয়ে।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটায় নিজ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই বর্ণবাদের বিপক্ষে খেলতে নামবেন ভিনি জুনিয়র। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে জল ভেজা চোখে বললেন, ‘অনেক দিন ধরেই এটার (বর্ণবাদ) মুখোমুখি হচ্ছি। প্রতিবারই আরও বেশি দুঃখ লাগে। প্রতিবারই খেলার ইচ্ছাটা আরেকটু মরে যায়।’
যদিও এসবের কারণে স্প্যানিশ ফুটবল ছাড়তে তিনি রাজি নন। রিয়াল মাদ্রিদেই থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি, ‘বর্ণবাদীরা যা খুশি করতে পারে। আমি বিশ্বের সেরা ক্লাবেই থাকব, যত বেশি সম্ভব গোল করব, সেটা তারা (বর্ণবাদী) যেন দেখে।’
ভিনিসিয়ুস অবশ্য সবকিছু বাদ দিয়ে লক্ষ্য রাখতে চান ফুটবলের দিকেই ‘ফুটবল খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই, কৃষ্ণাঙ্গরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক, সেটা নিশ্চিত হলে ক্লাবের হয়ে শুধু খেলাতেই মনোযোগ দিতে পারব।’

কোহলির অন্যরকম ‘সেঞ্চুরি’

০

বিরাট কোহলি ভারতের নীল জার্সিতে সবসময় খেলেছেন ওয়ানডাউনে কিংবা চার নম্বর স্থানে। তবে আইপিএলে যেন তিনি পুরোদস্তুর ওপেনার হয়ে গেলেন! পাঞ্জাব কিংসের ১৭৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলের বাকিরা যখন ধুঁকছেন, তখন কোহলি খেললেন মনে রাখার মতো এক ইনিংস। ৪৯ বলে ৭৭ রান করে আউট হলেও দলকে জয়ের ভিত্তিটা ঠিকই দিয়ে গেলেন বিরাট।
তবে ৭৭ রানে আউট হওয়া এই ইনিংসটাই কোহলিকে এনে দিলো অন্যরকম এক সেঞ্চুরির স্বাদ। ক্রিকেট বিশ্বে মাত্র তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অর্ধশতকের সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। গতকাল পাঞ্জাবের বিপক্ষে ফিফটির মধ্য দিয়ে ২০ ওভারের ক্রিকেটে ১০০টি অর্ধশতকের ইনিংস খেললেন তিনি। যে তালিকায় পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানের বাবর আজমকেও।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সব থেকে বেশি অর্ধশতরানের রেকর্ড রয়েছে ক্রিস গেইলের দখলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন ক্রিকেটারের ঝুলিতে রয়েছে ১১০টি অর্ধশতকের ইনিংস। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। ২০ ওভারের ক্রিকেটে ১০৯ বার ফিফটি হাঁকিয়েছেন এই অজি ব্যাটার। এই দু’জনের পর তৃতীয় স্থানে থাকলেন কোহলি।
সোমবারের আগে পর্যন্ত এই তালিকায় কোহলির সঙ্গে যৌথ ভাবে তৃতীয় স্থানে ছিলেন বাবর। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের এই ব্যাটারের ৯৯টি অর্ধশতরান রয়েছে। এ দিন অবশ্য চতুর্থ স্থানে চলে গেলেন তিনি। পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক জস বাটলার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনি ৯৮টি অর্ধশতরান করেছেন।

পেটে প্রচন্ড ব্যাথা অতঃপর অস্ত্রোপচারে বের হলো কুঁচিয়া

সিলেটে এক জেলের পায়ুপথে ঢুকে পড়া কুঁচিয়া অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়েছে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা এই কুচিয়া দু’দিন পর জীবিত অবস্থায় ওই জেলের পেট থেকে বের করেন। ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সম্ররা মুন্ডা নামের এ জেলে মাছ ধরে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করেন। গত ২৩শে মার্চ মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মিতিঙ্গগা চা বাগানের উপজাতি বাসিন্দা ধনমুন্ডার ছেলে সম্ররামুন্ডা স্থানীয় হাওরে মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ কোমর সমান কাদায় আটকে যান। তখন তার দুই হাতে থাকা দুটি কুঁচিয়া মাছ কাদায় পড়ে যায়। তখন তিনি অনুভব করেন তার পায়ুপথে কি যেন ডুকছে। তবে সেটিকে গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে সম্ররা মুন্ডা সেখান থেকে উঠে বাড়িতে আসার পর তার পেটে প্রচুর ব্যথা অনুভব হয়। রোববার স্থানীয় হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ওসমানীর চিকিৎসকরা তার কথা শুনে এক্সের মাধ্যমে পেটের ভিতর লম্বা আকৃতির একটি বস্তু দেখতে পান। কর্তব্যরত ডাক্তাররা সিনিয়দের সঙ্গে আলাপ করে সম্ররা মুন্ডাকে সন্ধ্যায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। সেখানে প্রফেসর জানে আলমের নেতৃত্বে ৪ জন চিকিৎসক ২ ঘণ্টা অপারেশন চালিয়ে পেটের ভিতর থেকে একটি জীবন্ত কুঁচিয়া মাছ বের করেন। এ ঘটনায় ডাক্তাররা বিস্মিত হন। রোববার রাতে সিওমেকের সার্জারি ইউনিট-২ প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী জানে আলমের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার করে ওই রোগীর পেট থেকে মাছটি বের করা হয়। ওসমানী মেডিকেলের উপ-পরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী জানিয়েছেন- হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে জীবিত ২৫ ইঞ্চি কুঁচিয়া মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সম্ররা মুন্ডা ওসমানী মেডিকেলের ১১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি। তিনি এখন সুস্থ আছেন।

ক্ষমতার দিবাস্বপ্ন দেখছে বিএনপি : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ক্ষমতার দিবাস্বপ্ন দেখছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল সিঙ্গাপুর থেকে দেশে এসে দিবাস্বপ্নে বিভোর। বিদেশে আওয়ামী লীগের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। বিএনপির প্রভু আছে। যারা তাদের স্বার্থের পক্ষে ওকালতি করে। আমাদের বন্ধুরা একাত্তরের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো বিদেশী বন্ধু কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু বিএনপির প্রভুরা যখন নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করেছিল তখন আমাদের বন্ধুরা নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ়ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল।
গতকাল বিকেলে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধের কথা নেই, বঙ্গবন্ধুর কথা নেই। এরা পাকিস্তানের দালাল। বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ভুয়া। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এই সমাবেশ। এখানে মুক্তিযোদ্ধা হাতে গুনলে কয়েকজনকে পাবেন। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্বাস করে না, তারা কখনো মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না। এরা দালাল। এই দালালদের বিরোধিতার কারণেই ২৫ মার্চ গণহত্যার স্বীকৃতি এবং পাকিস্তান থেকে ক্ষতিপূরণ পাইনি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এ দেশে অবস্থান করা পাকিস্তানি নাগরিকরা দেশের বোঝা হয়ে আছে। পাকিস্তান কথা দিয়েও তাদের নাগরিকদের ফেরত নেয়নি। একাত্তরে গণহত্যার জন্য পাকিস্তান একটিবারও দুঃখ প্রকাশ করেনি। পাকিস্তানের কোনো সরকারি লোক একাত্তরে যুদ্ধাপরাধীর জন্য বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশের কাছে এযাবৎ ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। সেই পাকিস্তানের যারা দালালি করে তারা আমাদের স্বাধীনতার শত্রু। বিএনপি পাকিস্তানের দালালি করে এরা আমাদের শত্রু। এরা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের দালালে বাংলাদেশ ভরে গেছে। ২৫ মার্চ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে হলে এই দালালদের প্রতিহত ও পরাজিত করতে হবে।
এ সময় ওবায়দুল কাদের বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চান, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় ছিলেন? কোথায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন? কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন? বিএনপি মহাসচিবকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ফখরুল সাহেব আপনিও রিজভীর মতো মাথা গরম করবেন না। বেশি কথা বললে হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দেবো- বিএনপি নেতারা ভারতীয় পণ্য কে কিভাবে ব্যবহার করে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

কমিউনিটিতে সাড়া ফেলেছে খলিল বিরিয়ানির সেহরি পার্টি

গত শনিবার ২৩ মার্চ রাতে অনুষ্ঠিত হলো কমিউনিটিতে সাড়া জাগানো শেফ খলিলের সেহরী পার্টি। ব্রঙ্কসের খলিল বিরিয়ানি হাউজের ফুড কোর্টের সুপরিসর রুমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এই স্পেশাল সেহরির আয়োজন করা হয়। প্রেসিডেন্ট বাইডেন পদক এবং বৃটিশ কারী অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত সেফ খলিলুর রহমান রাত জেগে নিজ হাতে রোজাদারদের সেবা দিতে সেহরী প্রস্তুত করেন। ওপেন বাফেটের সেহরী খাবারে নানা ধরনের বৈচিত্রময় খাবারের আয়োজন ছিলো। ইলিশ মাছ ভুনা থেকে কয়েক পদের মাছের তরকারী, গরু-খাসি ভুনা, সাদা ভাত, পোলাও, নান রুটি, কলা, দুধ, নানা রকমের ফল, মিস্টি ইত্যাদি। ছিলো চা, কফি সহ নানা আয়োজন।

রেস্তোরাঁর দেয়ালে টাঙানো ঘড়িতে তখন রাত দুটো। অথচ সন্ধ্যায় ইফতারের সময়ের যেমন জমজমাট অবস্থা থাকে, তেমনই দেখা গেল ব্রঙ্কসের খলিল ফুড কোর্টে। নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে রীতিমতো গমগম করছিল সুপরিসর রেস্তোরাঁটি। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মতো। কুইন্স, নর্থ ব্রঙ্কস সহ নানা এলাকার মানুষ ছুটে এসেছিলেন খলিলের সেহরি পার্টির মজাদার খাবার উপভোগ করার জন্য।

মিডিয়াকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, নবযুগ সম্পাদক সাহাব উদ্দীন সাগর, সাংবাদিক শাহেদ আলম, সাংবাদিক দিদার চৌধুরী, ইউএস নিউজ অন লাইন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসন সেলিম, ফটো সাংবাদিক এমবি তুষার, টাইম টিভির ব্রডকাস্ট ইঞ্জিনিয়ার সামিউল ইসলাম, তার সহধর্মিনি আশরাফি পলক প্রমুখ।

কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন স্বপরিবারে এডভোকেট এন মজুমদার, সিপিএ জাকির চৌধুরী, বাফার প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন, বিবিএ সাধারণ সম্পাদক এ ইসলাম মামুন, কমিউনিটি নেতা মোজাফফর হোসেন, কামরুজ্জামান বাবু, যুবলীগ নেতা জামাল হোসাইন, সুমন চৌধুরী, স্বপন তালুকদার, কারেকসন অফিসার কাজী রাশিদুল হাসান, জাসদ নেতা নুরে আলম জিকু সহ আরো অনেকে।
কুইন্স থেকে এসেছিলেন শো টাইম মিউজিকের আলমগীর খান আলম, রিয়েলটর নুরুল আজিম, আহসান হাবীব সহ অন্যান্যরা।

শেফ খলিল জানান, আজকে সেহরী পার্টিতে যে অভাবনীয় সারা পেয়েছি তাতে আমি অভিভুত। আমি আগামীতেও আরো সেহেরী পার্টির আয়োজন করতে চাই। আগামীর এমনি আয়োজনে তিনি কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি কামনা করেন। মধ্যরাত থেকে ভোরের আজান অবধি অতিথিরা চুটিয়ে আড্ডা দেন এই সেহরি পার্টিতে।

মালয়েশিয়ায় সরাসরি পাসপোর্ট পেলেন দেড় হাজার প্রবাসী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সরাসরি পাসপোর্ট পেলেন দেড় হাজার প্রবাসী। শনি ও রোববার দেশটির ছুটির দিনে হাইকমিশনের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। দেশটিতে চলমান অবৈধদের বৈধকরণ, রিক্যালিব্রেশন ২.০ প্রক্রিয়ার আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে বৈধকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে সেইলক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে দ্রুত পাসপোর্ট ডেলিভারির নির্দেশনা দিয়ে আসছে হাইকমিশন।

হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের প্রথম সচিব মিয়া মোহাম্মাদ কেয়াম উদ্দিন জানান, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শামীম আহসানের নির্দেশে ছুটির দিনেও পাসপোর্ট সেবার পাশাপাশি অন্যান্য সেবা চালু রয়েছে। শুধু পাসপোর্ট বিতরণই নয়, যাদের পাসপোর্ট আবেদনে তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে, দুদিনে এরকম প্রায় সাড়ে ৪শ’র অধিক আবেদনকারীদের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।

হাইকমিশন সূত্র জানায়, দেড় হাজার পাসপোর্টসহ সরাসরি ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৮০ হাজার পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩০ ও ৩১ মার্চ দেশটির জোহর প্রদেশে অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ থেকে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাসপোর্ট বিতরণ ও কন্স্যুলার সেবা প্রদান করা হবে। সেক্ষেত্রে ২৫ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

মালয়েশিয়া থেকে ফিরে এলেন আড়াই হাজার বাংলাদেশি

প্রত্যাবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আড়াই হাজারের বেশি বাংলাদেশি। চলতি মাসে শুরু হওয়া অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ৫৩০ অবৈধ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। গত ১ মার্চ দেশটিতে অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি চালু হওয়ার পর ২০ দিনে এই বাংলাদেশিরা জরিমানা দিয়ে দেশে ফিরেছেন।

বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা ও মালয়েশিয়া গেজেটের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় গত ২০ দিনে ১১ হাজার ৯৪৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি আছেন ২ হাজার ৫৩০ জন।

দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক রুসলিন জুসোহ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ১৬ হাজার ৮২৪ জন নথিবিহীন অভিবাসী নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। নিবন্ধনকৃতদের মধ্যে ১২ হাজার ৪৯৫ জন পুরুষ, ৩ হাজার ৭২৮ জন নারী, ৩১০ জন তরুণ এবং ২৯১ জন তরুণী রয়েছেন।

রুসলিন বলেন, কর্মসূচিতে অবৈধ অভিবাসীদের সর্বোচ্চ সংখ্যক নিবন্ধন করেছেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। ৭ হাজার ৭৮২ জন ইন্দোনেশীয় দেশে ফেরত যেতে নিবন্ধন করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ২ হাজার ৫৩০ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। এরপরই ভারতের ২ হাজার ৪৫৪ জন এবং পাকিস্তানের এক হাজার ৬১৭ জন নাগরিক।

রুসলিন বলেন, বাংলাদেশিদের মধ্যে অন্তত ৯৪ জন তাদের নিয়োগকর্তার মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন। তাদের সবাইকে চাকরির নিয়োগের সাথে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই কর্মীদের কাউকে আটক করা হয়নি। অভিবাসন বিভাগ তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা দিয়েছে। কারণ তারা অভিবাসন আইনে কোনো অপরাধ করেননি। নিয়োগকর্তারা বাংলাদেশি এই কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে জানিয়েছেন রুসলিন জুসোহ।

যুক্তরাষ্ট্রে এনএসইবি’র সদস্য হ‌চ্ছেন বাংলা‌দে‌শি ওসমান সিদ্দিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন বোর্ড (এনএসইবি) বা জাতীয় নিরাপত্তা শিক্ষা বোর্ডের সদস্য হিসেবে দেশ‌টির প্রে‌সি‌ডেন্ট জো বাইডেনের মনোনয়ন পেয়েছেন একজন বাংলাদেশি মার্কিন নাগরিক। শুক্রবার (২২ মার্চ) হোয়াইট হাউজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এম. ওসমান সিদ্দিক বিশিষ্ট বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ উপাচার্য মরহুম অধ্যাপক ড. এম ওসমান গণির সন্তান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের ভাই।
২২ মার্চ হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতি থেকে ওসমান সিদ্দিকের মনোনয়নের তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা শিক্ষা বোর্ডের সদস্য হওয়ার জন্য দেশ‌টির প্রে‌সি‌ডেন্ট জে বাইডেনের পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি মার্কিন রাজনীতিবিদ এম ওসমান সিদ্দিক। শুক্রবার (২২ মার্চ) হোয়াইট হাউজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওসমান সি‌দ্দিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের ভাই।
হোয়াইট হাউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ সদস্যের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন বোর্ড (এনএসইবি) ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন প্রোগ্রামের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও তদারকি প্রদান করে থাকে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডুকেশন প্রোগ্রাম ডেভিড এল. বোরেন স্কলারশিপ ও ফেলোশিপসহ একাধিক ফেলোশিপ এবং পুরষ্কার দিয়ে থাকে। এর উদ্দেশ্য হলো বিদেশি সংস্কৃতি ও ভাষাকে কার্যকরভাবে বোঝার এবং যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো।
এনএসইবি মূলত অলাভজনক সংস্থার বিশেষজ্ঞ ও একাডেমিয়া থেকে যারা জাতীয় নিরাপত্তা শিক্ষা কর্মসূচিতে মূল্যবান সহায়তা প্রদান করে তারাসহ রাষ্ট্রপতির নিয়োগপ্রাপ্ত ছয় সদস্য নিয়ে গঠিত।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী এম. ওসমান সিদ্দিক হলেন প্রথম আমেরিকান মুসলমান ও বাংলাদেশি আমেরিকান যিনি ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ফিজি, নাউরু, টঙ্গা ও টুভ্যালুতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও চিফ অব মিশন ছিলেন।
আমেরিকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করার স্বপ্নপূরণ ও সুযোগ অন্বেষণের লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ফরচুন ম্যাগাজিনের তালিকাভুক্ত ৫০০ কোম্পানির অন্যতম প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর তিনি হয়ে ওঠেন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা ও গর্বিত আমেরিকান নাগরিক। সিদ্দিক তার স্ত্রীর সঙ্গে ভার্জিনিয়াতে বাস করেন। সেখানকার জনসমাজের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিপি।এসএম

নিউ ইয়র্কের কন্স্যুলার সেবা নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন বাংলাদেশ সোসাইটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিউ ইয়র্কে কন্স্যুলার সেবার মান নিয়ে এবার প্রকাশ্যে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন ভাঙলেন বাংলাদেশ সোসাইটি। গত রোববার (২৪ মার্চ) কুইন্সের তিব্বতিয়ান কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ সোসাইটি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মেদ রব মিয়া ওরফে আব্দুর রব কনস্যুলার সেবা প্রদানে কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদার দায়িত্বহীনতার কথা জনগণের সামনে তুলে ধরেন।
আব্দুর রব অভিযোগ করে বলেন, অতীতে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হতো, কিন্তু নতুন কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা দায়িত্বে আসার পর অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কর্মজীবী প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর্মদিবসে কাজ বন্ধ করে সেবা নিতে কনস্যুলেটে যেতে পারেন না। অতীতে এ জন্য কনস্যুলার সেবা প্রদানে কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রংকসে ছুটির দিনে মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প স্থাপন করতো। শতশত মানুষ সেবা নিতেন। বাংলাদেশিদের ট্যাক্সের অর্থে কনস্যুলেট পরিচালিত হয়। পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট, নো ভিসা ইস্যুসহ নানা কনস্যুলার সেবা দেয়া তাদের দায়িত্ব। জেনারেল নাজমুল হুদা দায়িত্বে আসার পর কেন তা বন্ধ হয়ে গেছে প্রবাসীরা কেউ জানেন না।
আব্দুর রব বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি একাধিকবার তার সাথে দেখা করে কনস্যুলার সেবা প্রদানের আহ্বান জানায়। তিনি সহায়তার হাত বাড়াননি। সভাপতি রব মিয়া যখন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন ইফতার পার্টিতে উপস্থিত কনস্যুলেটের কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ তার বক্তব্য শুনছিলেন। তিনি কিছু বলার আগ্রহ প্রকাশ করলেও সে সুযোগ আর পাননি।
এ বিষয়টি প্রকাশের পর নিউইয়র্কস্থ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদার নিউ ইয়র্কের বাংলা গণমাধ্যমকে বলেন, সভাপতি রব মিয়া জনসন্মুখে সঠিক বক্তব্য তুলে ধরেন নি। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে কথা বলেছেন। আমি তাকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলেছি, একই শহরের ভেতর মোবইল টিম পাঠিয়ে কনস্যুলার সেবা প্রদানে ঢাকা থেকে আসা অডিট টিম আপত্তি তুলেছে। এ ধরনের কনস্যুলার ক্যাম্প স্থাপনে অর্থ খরচের ব্যাপার থাকে। এতেই অডিট টিমের আপত্তি। নিউইয়র্ক সিটির বাইরে, যেমন বাফেলো, আটলান্টিক সিটি, বোস্টন বা কানেকটিকাটে ক্যাম্প স্থাপনে তাদের কোনো বাধা নেই। অতীতে তো সিটির ভেতর বিভিন্ন এলাকায় হয়েছে। এখন বন্ধ করলেন কেন? জবাবে নাজমুল হুদা বলেন, অডিট ডিপার্টমেন্টের আপত্তির কারণেই। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা অডিট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা পেলে সিটির বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল টিম পাঠিয়ে কনস্যুলার সেবা আমরা দিতে পারবো।

বিপি।এসএম

পাকিস্তান ক্ষমা না চাইলে সুসম্পর্ক হবে না

একাত্তরের পঁচিশে মার্চ, রাত দশটা। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন। বারোজনের একটি পরিবার প্ল্যাটফরমে পৌঁছে দেখল একটু আগেই উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনটা চলে গেছে। ওটাই ছিল শেষ ট্রেন, আর কোনো ট্রেন নেই। পরিবারটি বিপদে পড়ল। ট্রেন নেই, ঘরে ফিরে যাওয়ার মতো কোনো যানবাহনও স্টেশনে নেই। স্টেশনে যারা ছিলেন, ছোটাছুটি করে যে যেদিকে পারেন পালিয়ে যাচ্ছেন। শহরে পাকিস্তান আর্মি নেমেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সবাই আতঙ্কিত।
স্টেশন মাস্টার বারোজনের পরিবারটিকে একটি ওয়েটিং রুম খুলে দিয়ে বললেন সেখানেই রাতটা কাটিয়ে দিতে। তিনি সাবধান করে দিয়ে বললেন ‘কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। খবর পেলাম আর্মি এদিকেই আসছে। যাই হোক, আমি আমার অফিস ঘরেই থাকব।’
ভয়াল রাতে কমলাপুরে
এরপরেই শুরু হয়ে গেল পাকিস্তানি হানাদারদের তাণ্ডব। ট্রাক থেকে নেমেই সৈন্যরা যাকে যেখানে পেল সেখানেই গুলি করে মারল। স্টেশন মাস্টারও রেহাই পেলেন না। তাকে তার অফিস ঘরেই গুলি করে হত্যা করা হলো। বারোজনের পরিবারটি আলো নিভিয়ে ওয়েটিং রুমে দরজা বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকায় তারা বেঁচে গেল। কিন্তু জানালার ফাঁক দিয়ে দেখল কিভাবে নিরস্ত্র নিরীহ মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে।
২৭ মার্চ সকাল ৮টায় কারফিউ উঠে যাওয়া পর্যন্ত পরিবারটি ওয়েটিং রুমে আটকে ছিল। তাদেরই একজন শাহানা পারভীন ‘ভয়াল রাতে কমলাপুর স্টেশনে’ শীর্ষক এক নিবন্ধে ২৫-২৬ মার্চের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। নিবন্ধটি প্রকাশিত হয় ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রাঙ্গণ’-এর চতুর্থ বর্ষ চতুর্থ সংখ্যায় (জানুয়ারি-মার্চ ২০০৮)।
শাহানা পারভীন তার নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, তারা প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ওয়েটিং রুমের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন। এ সময় এক মিনিটের জন্যও গোলাগুলি থামেনি। গোলাগুলির শব্দের সঙ্গে শোনা গেছে মানুষের আর্তচিৎকার। স্টেশনের প্ল্যাটফরমে রক্তের স্রোত। মৃতদেহগুলোর পা ধরে টেনে নিয়ে মালগাড়ির ওয়াগনে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। সব দোকানপাট ভেঙে তছনছ করা হয়। প্ল্যাটফরমের সবখানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ, বালি দিয়ে ঢেকে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
হানাদারদের নৃশংসতা
কমলাপুর স্টেশনে দুই রাত একদিনে বহু প্রাণহানির কথা শাহানা পারভীন বললেও কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন সে তথ্য দিতে পারেননি। অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে সেটা সম্ভবও নয়। কিন্তু অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীর কাছে যা শুনেছি তা ভয়াবহ। কমলাপুর স্টেশন থেকে উত্তরে মুগদা পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশে এবং দক্ষিণে গোপীবাগ রেলগেট পর্যন্ত শত শত বস্তি ও কাঁচাঘর ছিল। দক্ষিণ কমলাপুরেও বড় বস্তি ছিল। এগুলোর একটিও হানাদারদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি। পাকিস্তানি সৈন্যরা সবকটি বস্তি ও কাঁচাঘরে আগুন দিয়েছে। ঘরের ভেতরে যারা ছিল, তারা পুড়ে মরেছে, যারা বাইরে আসার চেষ্টা করেছিল, তাদের গুলি করে মারা হয়েছে।
কমলাপুর স্টেশনের ছাদ থেকে সৈন্যরা ভারী মেশিনগান দিয়ে গোপীবাগ রেলগেটের দিকে অবিরাম গুলি ছুড়েছে, এতেও বহু লোক মারা যান। ২৭ মার্চ সকালে কারফিউ উঠে যাওয়ার পর গোপীবাগ রেলগেট সংলগ্ন জামে মসজিদের ভেতরে ও বাইরে অনেক গুলিবিদ্ধ লাশ দেখা গেছে। হানাদাররা মসজিদকেও রেহাই দেয়নি।
কমলাপুর স্টেশন এবং এর আশপাশের বস্তি এলাকায় সেই দুই রাত একদিনে কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন? কমলাপুর, মুগদা ও গোপীবাগ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা যারা সে সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন, যারা প্রত্যক্ষদর্শী, তারা সবাই একমত যে, সে সময় ওই এলাকায় অন্তত পাঁচ হাজার লোক নিহত হন।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে যে গণহত্যা শুরু করেছিল, তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এ অপারেশন দুই দিন ধরে চলেছিল সমগ্র ঢাকা মহানগরীতে। কমলাপুর স্টেশন ছাড়াও এ অপারেশনের প্রথম টার্গেট ছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানায় ইপিআর হেডকোয়ার্টার্স ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
পিলখানা, রাজারবাগে প্রতিরোধ
উল্লিখিত তিনটি স্থানে একই সময়ে হামলা শুরু করা হয়। তবে রাজারবাগে পুলিশ বাহিনী ও পিলখানায় ইপিআরের বাঙালি সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং অনেকক্ষণ হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। গুলি বিনিময়ে বেশ কিছুসংখ্যক বাঙালি পুলিশ ও ইপিআর সৈনিক শহিদ হন। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হানাদার বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতিও কম ছিল না। রাজারবাগে এক পর্যায়ে বাঙালি পুলিশরা পিছু হটে গেলে হানাদাররা পুলিশের সবকটি ব্যারাক ও ছাউনি পুড়িয়ে দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একইসঙ্গে ছাত্রাবাস ও শিক্ষকদের আবাসিক ভবনে আক্রমণ শুরু হয়। জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, রোকেয়া হল এবং শিক্ষকদের কয়েকটি আবাসিক ভবন ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। ছাত্রাবাসগুলোতে যারা অবস্থান করছিলেন, তাদের কেউ বাঁচতে পারেননি। কিছুসংখ্যক শিক্ষককে তাদের বাড়িতে গিয়ে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়। তাদের একজন অধ্যাপক জি সি দেব। ধারণা করা যায়, হানাদাররা শিক্ষকদের তালিকা নিয়ে এসেছিল এবং এ তালিকা তৈরি করেছিল পাকিস্তানিদের এদেশীয় এজেন্টরা। মধুর ক্যান্টিনের মধুদাও এ তালিকায় ছিলেন। তার বাড়িতে গিয়ে তাকে সৈন্যরা হত্যা করে। নিউমার্কেটের পশ্চিম দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের দোতলা ছাত্রাবাস ছিল। সেখানেও পঁচিশের রাতেই সৈন্যরা প্রতিটি কক্ষে ঢুকে ছাত্রদের গুলি করে মারে।
পঁচিশে মার্চ রাতে ও পরদিন সকালে ঢাকা শহরে যত বস্তি ও কাঁচাবাজার ছিল, সবকটিতে আগুন দেয় পাকিস্তানি সৈন্যরা। বস্তিবাসী আগুনে পুড়ে মরেছে অথবা ঘর থেকে বের হলে গুলি খেয়েছে। কাঁচাবাজারগুলোতে রাতেও কিছু লোক থাকে। আগুনে তারাও দগ্ধ হয়েছে পণ্যসামগ্রীর সঙ্গে। পঁচিশে মার্চ ক্র্যাকডাউনের সময় বহু লোক রাস্তায় ছিলেন; রিকশায় অথবা যানবাহনে অথবা হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের মধ্যে কমসংখ্যকই বাঁচতে পেরেছেন।
ওরা কত মানুষ মেরেছে
একাত্তরের ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে ২৭ মার্চ সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩২ ঘণ্টায় হানাদার বাহিনী ঢাকা নগরীতে কত মানুষকে হত্যা করেছে, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। দখলদার পাকিস্তানি সরকার কোনো হিসাব দেয়নি, পরবর্তীকালে বাংলাদেশ সরকারও এ নিয়ে কোনো হিসাব বা জরিপ করেছে বলে জানি না।
তবে ভয়াবহ ওই দুদিনে ঢাকা নগরীতে নিহত মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে আমার নিজের পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও জরিপ রয়েছে। ওই সময়ে আমি ঢাকা শহরের গোপীবাগে নিজ বাসভবনে ছিলাম। কমলাপুর গোপীবাগের কাছেই। কাজেই নিজের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মনে করি কমলাপুর, মুগদা ও গোপীবাগ এলাকায় ২৫-২৬ মার্চে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজার। ঢাকার একটি এলাকাতেই যদি পাঁচ হাজার প্রাণহানি হয়, তাহলে পুরো নগরীতে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেই সময়ে? এক্ষেত্রে অনুমাননির্ভর হিসাবনিকাশ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
কমলাপুর স্টেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ এবং বিভিন্ন রাস্তা ছাড়াও বস্তিগুলোতেই প্রাণহানি বেশি হয়েছিল। বেশিরভাগ বস্তি ও বাজার পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রয়াত ট্রাস্টি স্থপতি রবিউল হুসাইন গণহত্যা নিয়ে কিছু কাজ করেছিলেন। তিনি এবং আরও অনেকে আমাকে বলেছিলেন, ২৫-২৬ মার্চ ঢাকায় গণহত্যায় প্রাণহানির সংখ্যা কমপক্ষে ২০ হাজার। ৩২ ঘণ্টার বিরতিহীন গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে আমিও নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ঢাকায় সেই দুদিনে প্রাণহানি ২০ হাজারের কম হবে না। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রাণহানির সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করতে পারেন, তাহলে স্বাগত জানাব। ঢাকায় মার্চের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছাড়াও একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর নিয়াজির আত্মসমর্পণ পর্যন্ত হানাদার বাহিনী সারা দেশে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়েছিল। সরকারিভাবে একাত্তরে গণহত্যার মোট প্রাণহানি ৩০ লাখ বলা হয়েছে এবং সেটাই স্বীকৃত। গণহত্যা ছাড়াও পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের এদেশীয় সহচররা নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধও করেছে।
পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে
পাকিস্তানিরা পরাজয় মেনে নিয়ে মাথা নিচু করে এদেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বমানচিত্রে স্থান পেয়েছে। স্বাধীনতার ৫২ বছর পূর্ণ হয়ে ৫৩ বছর হতে চলেছে। কিন্তু পাকিস্তান সরকার একাত্তরে গণহত্যার জন্য এখনো বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চায়নি। পাকিস্তান যে অপরাধ এখানে করে গেছে, বাংলাদেশের জনগণ তা ভুলে যায়নি, কখনো ভুলবে না।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলকথা-‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’। কিন্তু এ নীতি পাকিস্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। পাকিস্তান যতদিন ক্ষমা না চাইবে, ততদিন সেই দেশ আমাদের ‘শত্রুরাষ্ট্র’ হিসাবেই থাকবে। দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও সুসম্পর্ক কখনোই হবে না, সুসম্পর্ক রাখার প্রশ্নই আসে না।
লেখকঃ চপল বাশার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, লেখক