Home Blog Page 635

সরকারের পদত্যাগের ঘোষণা ছাড়া সংলাপের প্রশ্নই আসে না : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের সরকারের পদত্যাগের ঘোষণা ছাড়া সংলাপের প্রশ্নই আসে না। তিনি আবারো নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বিকেল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটা তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ যাই বলুক না কেন- নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তার আগে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই ঘোষণা সরকারকে সবার আগে দিতে হবে। এবং পদত্যাগ করে নির্বাচন দিতে হবে। এ ছাড়া সংলাপের কোনো প্রশ্ন আসে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের অধিকার, কথা বলার বাকস্বাধীনতা- এগুলো পুনরুদ্ধার করার জন্য আমরা আন্দোলন করছি। বর্তমান অবৈধ সরকারের ক্ষমতা আসার পর থেকেই অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশের সকল অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের আন্দোলন একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই আওয়ামী লীগ সরকার এই বছরেই একটি পাতানো নির্বাচন করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে। পাতানো নির্বাচন এ দেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, এই অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এদেশে মানুষ মেনে নেবে না। আমাদের পক্ষ থেকে দাবি উত্থাপন হয়েছে, পরিষ্কারভাবে বলেছি, এই সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে যদি আবারো ক্ষমতায় আসে তাহলে আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো।’

মিজা ফখরুল বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের উপর নির্ভর করবে জাতির অস্তিত্ব থাকবে কি থাকবে না। জাতির স্বাধীনতা থাকবে কি থাকবে না। জাতি একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র তৈরি করতে পারবে কি পারবে না। সেজন্য আমরা বলেছি, নির্বাচনটা অবশ্যই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।’

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

১২ দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে ওলামায় ইসলাম মহাসচিব মুফতি গোলাম মুহিউদ্দিন ইকরাম, ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জাগপার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদ প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব আবদুল করিম, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি সভাপতি ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মাদ সালেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) মহাসচিব মো: নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি মহাসচিব অ্যাড. আবুল কাশেম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন।

কেবলমাত্র আ’লীগই পারে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে

আগামী দিনেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেছেন, কেবলমাত্র আওয়ামী লীগই পারে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে।

দেশে সাম্প্রতিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং তার শাসনামলে অনুষ্ঠিত সংসদ উপ-নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি কেবলমাত্র আওয়ামী লীগই এদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারে।’

তিনি আরো বলেন,‘আমাদের লক্ষ্য জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন। আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এটি চালিয়ে যাব।’

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনের (২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন) সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও গাজীপুরের সাম্প্রতিক সিটি নির্বাচন নিয়ে কেউ একটি প্রশ্নও তুলতে পারেনি। অতীতে বাংলাদেশে এত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে কিনা প্রশ্ন করেন তিনি।

সংসদের বিভিন্ন উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি উপনির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩১ মে শুরু হওয়া অধিবেশন ২২ কার্য দিবস শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতির সমাপ্তির আদেশ পাঠ করেন।

সূত্র : বাসস

মস্কোর কাছে ২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া

রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী মঙ্গলবার মস্কো অঞ্চলে দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

জরুরি পরিষেবাগুলো সংবাদ সংস্থা তাস’কে জানায়, নিউ মস্কো অঞ্চলে ‘ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের মাধ্যমে দু’টি ড্রোনকে ভূপাতিত করা হয়েছে।’

তাস আরো জানায়, রাজধানী থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দূরে কালুগা অঞ্চলে তৃতীয় একটি ড্রোনকে ‘গুলি করে নামানো হয়েছে।’

তাস বলেছে ‘প্রাথমিক প্রতিবেদন’ অনুসারে, তিনটি ড্রোন মস্কোর দিকে যাচ্ছিল।

সংস্থাটি অজ্ঞাত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, তিনটি ড্রোনই ফিক্সড উইং। এতে আরো বলা হয়, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জরুরি পরিষেবার উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংস্থা আরআইএ নভোস্তিও জানিয়েছে, নিউ মস্কোর ভ্যালুয়েভো গ্রামের কাছে দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোনগুলো একটি ‘খোলা মাঠে’ পড়েছিল এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে ড্রোনের উড্ডয়ন স্থলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

২০ বছরের মধ্যে পশ্চিমতীরে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান ইসরাইলের

ইসরাইলি বাহিনী ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে। ইতোমধ্যেই এই অভিযানে অন্তত আটজন নিহত এবং শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া রামাল্লার কাছে আরেকজন নিহত হয়েছে।

ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসীদের অবকাঠামোয়’ আঘাত হানতে জেনিন ও জেনিন ক্যাম্প এলাকায় ব্যাপক অভিযান চলছে।

আইডিএফ প্রায় ১০ বার ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া শত শত সৈন্য এতে অংশ নিচ্ছে। ইসরাইলিদের ভাষায় তাদের হামলার টার্গেট হলো ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ সেন্ট্রার।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, জেনিনের ‘সন্ত্রাসী শিবিরে’ সামরিক অভিযান চলছে।

বাসিন্দারা সিএনএনকে বলেছেন, বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার এলাকাটি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। জেনিনের ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ জারার বলেন, উদ্বাস্তু শিবিরের বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও পানিসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ইসরাইলি হামলায় নিহতদের পাঁচজন কিশোর বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে ক্যাম্প এলাকায় ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্টকে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আল-সাদি।

সূত্র : সিএনএন

মানুষ গণতন্ত্র অর্জনের জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এবার জনগণ অপশাসনের দিনের অবসান ঘটাবে। মানুষ গণতন্ত্র অর্জনের জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে।

তিনি বলেছেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব যাই বলুন না কেন, অবৈধভাবে সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগ করে আর ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। দেশের জনগণ এবং বিশ্ববাসীর কাছে এটা স্বীকৃত যে অবৈধ সরকার গোটা দেশ অবৈধভাবে দখল করেছে। গত ১৪ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতের মৃত্যুর ঘটনা ছিল হাড়-হিম করা আতঙ্কের শিহরণ, জোরপূর্বক গুম, নারীর প্রতি সহিংসতা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি, সাংবাদিক হত্যা, বেআইনী আটকের ও রহস্যজনক নিখোঁজের হিড়িকের মধ্য দিয়ে যেভাবে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা দেশ চালিয়েছেন সেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেশ শাসনের অবসান ঘটাতে এবার জনগণ সর্বাত্মক প্রস্তুত আছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশটা আওয়ামী নেতাদের বাপ-দাদার জমিদারী নয়। এরা আক্রমণাত্মক ভাষায় শিষ্টাচার ও বিনয়কে বিদায় দিয়েছে। যখন যা ইচ্ছে সেটা করবেন এবং বলবেন সেই দিন শেষ হয়ে আসছে। দেশের জনগণকে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর কাছে কৃপাপ্রার্থী বানানোর চেষ্টার অবসান ঘটিয়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।

ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার তথ্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সশস্ত্র সহিংসতায় এক বিভীষিকাময় পরিবেশ তৈরি করেছে। তাদের উগ্রতা, নিমর্মতা ও হিংস্রতার এক পৈশাচিক প্রকাশে ফলশ্রুতিতে রক্তাক্ত হয়েছে এলাকার পর এলাকা। বিরোধী দলের অস্তিত্ব মুছে দেয়ার জন্য মনে হয় তারা শপথ করে মাঠে নেমেছে। সন্ত্রাসকে তারা অমোঘ অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। বহুদলীয় গণতন্ত্র যাতে ফিরে না আসে সেই জন্য সন্ত্রাস তাদের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে লুটপাট করে বিদেশে সুখে-শান্তিতে থাকার জন্য আবাসস্থল বানিয়ে চিরদিন আরাম-আয়েশে থাকার জন্য গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে গোটা জাতিকে বন্দি করেছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এখন চরম দুর্দশাগ্রস্থ যেহেতু তাদের আগ্রহ দুর্নীতি আর টাকা পাচার সে কারণে লুটপাট ও বেপরোয়া দুর্বিনীত কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও জনগণের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। মানুষের সম্পদ ও সম্পত্তির নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপে আওয়ামী ক্যাডারদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে। কায়েমি স্বার্থে আঘাত লেগেছে বলেই গত পরশু থেকে গতকাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, নড়াইল ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর সশন্ত্র আক্রমণ চালিয়ে রক্ত ঝরিয়েছে। এই সরকারি মদদপৃষ্ট সন্ত্রাসীদের হাতে এখন বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, আমিনুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, তারিকুল আলম তেনজিং প্রমুখ।

নির্বাচনে পুলিশের শতভাগ নিরপেক্ষতা না থাকলে নাকে খত দিয়ে চলে যাব

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, এই নির্বাচনে পুলিশের শতভাগ নিরপেক্ষতা না থাকলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নাকে খত দিয়ে চলে যাব।

তিনি বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা দেখি। সব এলাকার জন্য সমান গুরুত্ব দেয়া হবে। আমরা বিবেচনা করব- কোথায় ঝুঁকি বেশি, কোথায় ঝুঁকি কম। সে হিসেবে ফোর্স মোতায়েন কোথাও কম-বেশি হবে। ঢাকার উপ-নির্বাচন নিয়ে কমিশন যে নির্দেশনা দিয়েছে, সুষ্ঠু ভোটে যা যা করণীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সভাপতিত্ব করেন। সভায় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ডিএমপির সক্ষমতা রয়েছে। এই ছোট একটি উপ-নির্বাচনে মোতায়েনের জন্য যথেষ্ট ফোর্স রয়েছে। ইসির চাহিদা মোতাবেক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যা যা করণীয়, সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইসি যে ধরনের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চাচ্ছে, সে ধরনের সহযোগিতা পুলিশের তরফ থেকে সব সময় থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা দেখি। ভোট নির্ভর করে জনগণের ওপর, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পোলিং অফিসারের ওপরে। আমাদের কাজ হলো কেন্দ্রের পুরো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। যাতে ভোটারারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। নিরপেক্ষতা প্রমাণে পুলিশের শতভাগ উদ্যোগ থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের জায়গা শতভাগ থাকবে। কারা বিশ্বাস করে না? আমি এক শ’ ভাগ গ্যারান্টি দিলাম। ১৭ জুলাইয়ের নির্বাচন দেখেন, আমাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ পান কি না। যদি না পান তখন বলবেন। আমি ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নাকে খত দিয়ে চলে যাব।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকে বসেছে বিএনপি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির সাথে বৈঠকে বসেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে গুলশান চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ উপস্থিত আছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি ডিসিএম এর সাথে আছেন স্প্যানিয়ার বার্ন্ড ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা সেবাস্টিয়ান।

হাজতিকে নির্যাতন : পাপিয়াকে কাশিমপুর থেকে কুমিল্লা কারাগারে স্থানান্তর

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে এ নারী হাজতিকে নির্যাতনের অভিযোগে যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে তাকে কুমিল্লা পাঠানো হয়।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (ভারপ্রাপ্ত) ওবায়দুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে কারাগার অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ কারাগারে বন্দি শামীমা নুর পাপিয়াকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কারাসূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ মাস ধরে বন্দি আছেন পাপিয়া। ২৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে জেলবিধি অনুযায়ী পাপিয়াকে ‘রাইটার’ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তিনি রুনা লায়লা নামে এক হাজতিকে সম্প্রতি নির্যাতন করে তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা লুট করে নেন। এমন অভিযোগে রুনার ছোট ভাই জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। পরে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে একটি প্রিজন ভ্যানে করে পাপিয়াকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার রুনা লায়লা গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার কড়িহাতা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে এবং মৃত একেএম মাহমুদুল হকের স্ত্রী। তিনি গত ১৬ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা গেছে, নথি চুরির একটি মামলায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী রুনা লায়লাকে ১৬ জুন কাশিমপুর মহিলা কারাগারে আনা হয়। কারাগারের সাধারণ ওয়ার্ডে নেয়ার পর রুনার দেহ তল্লাশি করে কর্তব্যরত মেট্রন সাত হাজার চার শ’ টাকা পান। ওই টাকা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পাপিয়া ও তার সহযোগী কয়েদিরা ১৯ জুন রুনার ওপর অমানবিক নির্যাতন করেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন রুনা।

নির্যাতনের শিকার এই নারী অভিযোগ করেন, ‘কারগারের ভেতরে রাতে তারা লাঠি ও কম্বল চাপা দিয়ে আমাকে মারতে চেয়েছিল। পরে তারা জেলহাজতের আসামিদের দিয়ে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে আমি প্রস্রাব-পায়খানা করে দিই। পরে পাপিয়া এসে আমাকে মারতে মারতে উলঙ্গ করে দেয়। আমার প্রস্রাব-পায়খানার দুর্গন্ধ বের হলে পাপিয়া ধুপখানায় নিয়ে সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মারধর করে। কিছুক্ষণ পর আবার কিছু জামা-কাপড় দেয়। এরপর ফাতেমা ও পাপিয়া আমার হাত-পা বেঁধে লাঠিচার্জ করে। পানি খেতে চাইলে আমাকে নর্দমার পানি খেতে দেয়। আমাকে মহিলা পুলিশও মারধর করে। মহিলা পুলিশের মুখে মুখোশ ছিল।’

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, রুনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।

ঢাকাকে ছিনতাইকারীমুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান চলবে

রাজধানী ঢাকাকে ছিনতাইকারীমুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক এই কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিনতাইকারীর হামলায় আহত ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহকারী প্রযোজক রাকিবুল হাসানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের বন্ধে রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঈদের আগেই অনেক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করছিলাম। কিন্তু এরপরও দুঃখজনকভাবে বিষয়গুলো ঘটেছে। পুলিশ এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক আছে।

তিনি বলেন, ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। রাজধানীকে ছিনতাইকারীমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। এর জন্য আমাদের যা করা লাগে, যতো পরিশ্রম করা লাগে আমরা করব।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ কনস্টেবলকে হত্যার ঘটনায় আমরা সবাইকে গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে নেয়া হয়েছে। সাংবাদিক রাকিবুল হাসানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি, মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আরেক আসামি নজরদারিতে আছে, তাকেও যে কোনো সময় গ্রেফতার করা হবে।

সাংবাদিক রাকিবুল হাসানের ওপর হামলকারী গ্রেফতার দু’জনের মধ্যে একজন পাঠাও চালক ও আরেকজন ইলেক্ট্রেশিয়ান। তারা নিজেদের পেশার পাশাপাশি ছিনতাইয়ে জড়িত।

ছাত্রীকে বিয়ে করা আইডিয়ালের দাতা সদস্য মুশতাকের জামিন

অপহরণের অভিযোগের মামলায় রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও বিচারপতি মো: আমিনুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সোহরাব হোসেন পলাশ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহিন আহমেদ খান।

সোহরাব হোসেন জানান, গত ২২ জুন এই আসামির নামে একটি অপহরণের মামলা করা হয়। সে মামলায় তিনি হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তবে জামিনের এই সময় পর তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

এর আগে গত ৭ জুন মুশতাকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে একাধিক ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কথোপকথন শোনা যায়, প্রাইভেট গাড়িতে বসে অঝরে কাঁদছেন এক নারী। তাকে নামিয়ে দেয়ার আকুতি জানিয়ে বারবার বলছেন, ‘আমার ক্লাস আছে একটু পর, প্লিজ যেতে দেন। আমাকে নামিয়ে দিন এখানে। প্লিজ আমি ক্লাসটা মিস দিতে পারব না। প্লিজ।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবে আর্তনাদ আর আকুতি জানালেও মন গলেনি ওই ব্যক্তির (একজন পুরুষ)। উত্তরে তিনি (পুরুষ) ওই শিক্ষার্থীকে শাসাতে থাকেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার সঙ্গে ঠিক মতো কথা বলতে হবে। ঠিকমতো পড়ালেখা করো; লাইফ নষ্ট করতেছ।’ভিডিওতে পুরুষ কণ্ঠ শোনা গেলেও তাকে দেখা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিও’র ওই নারী রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর পুরুষ কণ্ঠের ওই ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ছাত্রীর সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যের এমন আচরণের বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় ফুঁসে ওঠেন অভিভাবকরা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এদিকে ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনার জেরে ৩১ মে পরিচালনা পর্ষদের সভায় ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মমতাজ বেগমকে দিয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গভর্নিং বডির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, খন্দকার মুশতাক আহমেদের বাসায় ‘পিকনিকের’ আয়োজন করেন অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী। সেখানে কয়েকজন ছাত্রীকে খন্দকার মুশতাককে পরিচয় করিয়ে দেন। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন তিনি। বিষয়টি শিক্ষক ও অন্য ছাত্রীদের নজরে আসে। এরপর ভিডিও ভাইরাল হয়। অভিযুক্ত সদস্যকে দুই মাসের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ করেছে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি।

এদিকে ১ জুন অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রোস্তম আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের দাতা সদস্য ষাটোর্ধ্ব খন্দকার মুশতাক আহমেদ প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার ১৭ বছর বয়সী ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রেখেছেন। একপর্যায়ে অভিভাবকদের চাপে সম্প্রতি মেয়েটিকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন মুশতাক। এটি তার তৃতীয় বিয়ে।