নিউইয়র্ক প্রতিনিধি, ১২ জানুয়ারি : বলিউড বাদশাহ বলা হয় শাহরুখ খানকে। এদিকে যেমন তিনি বলিউডের শীর্ষ তারকা, অন্যদিকে তিন ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ীও। কারণ বলিউডের দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে যশ-খ্যাতি যেমন পেয়েছেন, তেমনি আয় করেছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। এবার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় উঠে এসেছে এই তারকার নাম। ওয়ার্ল্ড অব স্ট্যাটিস্টিক্স এই তালিকা প্রকাশ করেছে।
এ তালিকার সবার উপরে রয়েছেন মার্কিন স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান জেরি সিনফিল্ডের নাম। তার মোট অর্থের পরিমাণ ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন মার্কিন অভিনেতা-পরিচালক টেইলর পেরি। তার অর্থের পরিমাণও ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ‘দ্য রক’খ্যাত মার্কিন অভিনেতা ডোয়াইন জনসন। যার সম্পদের পরিমাণ ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এ তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন ভারতের বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান। তার সম্পদের পরিমাণ ৭৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মার্কিন অভিনেতা টম ক্রুজ। যার সম্পদ ৬২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৬ষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম স্থানে যথাক্রমে রয়েছেন চাইনিজ অভিনেতা জ্যাকি চ্যান (৫২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), মার্কিন অভিনেতা-পরিচালক জর্জ ক্লুনি (৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার), মার্কিন অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো (৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
শাহরুখ খান নামি ১৪টি পণ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছে, আইসিআইসি, লাক্স, হুন্দাই প্রভৃতি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাকে পারিশ্রমিক হিসেবে ৫.৫-১০ কোটি রুপি প্রদান করে থাকে। তা ছাড়া এ অভিনেতার রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, শাহরুখ খানের গড়ে বার্ষিক আয় প্রায় ৩১৩ কোটি রুপি। ফোর্বসের জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় তিনবার জায়গা পেয়েছেন তিনি
ফোর্বসের জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান
তুমি আমি
লুৎফুর রহমান চৌধুরী
তুমি ফুল আমি ফল
তাই তো পাখিগুলো
করে কোলাহল।
তুমি মাটি আমি চারা
তাই তো বৃষ্টির পানি
হয় দিশেহারা।
তুমি নদী আমি ঢেউ
তাই তো মুক্তা খুঁজে
কেউ না কেউ।
তুমি চন্দ্র আমি তারা
তাই তো রৌদ্র তাপে
অশান্ত পাড়া।
তুমি ছবি আমি তুলি
তাই তো ডালে ডালে
ডাকে বুলবুলি।
তুমি পাতা আমি লতা
তাই তো সবুজ মিলে
বলে কিছু কথা।
তুমি মেঘ আমি বৃষ্টি
তাই তো দু’জন মিলে
কবিতা করি সৃষ্টি।
শাহবাগে পুলিশি বাধায় স্থগিত হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-ঐক্য পরিষদের রোডমার্চ
ঢাকা, ১০ জানুয়ারি : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ইতশেহারে দেওয়া প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাত দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অভিমুখে রোডমার্চ পুলিশি বাঁধায় পন্ড হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার সাত দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অভিমুখে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য রোডমার্চ শুরু করে ঢাকার রমনা কালী মন্দির থেকে যাত্রা শুরু করে টিএসসি হয়ে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত পুলিশ রোড মার্চকে সামনে এগুলোতে দেয়নি।
এসময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা শেষে পরিষদের অন্যতম সভাপতি নিম চন্দ্র ভৌমিকের নেতৃত্ব সাত সদস্যের একটি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিকাল ৩টা ৫০মিনিটে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অভিমুখে রওনা দেন। প্রতিনিধি দলের অন্যরা হলেন-রানা দাশ গুপ্ত,কাজল দেবনাথ,উষাতন তালুকদার,জয়ন্ত কুমার দেব,বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক,সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চন্দ্র নাথ পোদ্দার।
রোডমার্চে ‘ধর্ম যার যার,রাষ্ট্র সবার,পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা, আজকের সমাবেশ, সফল হোক! সফল হোক!, ঐক্য পরিষদের সমাবেশ, সফল হোক! সফল হোক!, সংখ্যালঘু কমিশন গঠন কর! করতে হবে!- আমাদের দাবি,আমাদের দাবি, মানতো হবে,মানতে হবে!- বলে শ্লোগান দিতে থাকে।
এর আগে বেলা ১২টায় সংগঠনের অন্যতম সভাপতি উষাতন তালুকদারের সভাপতিত্বে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের দাবিতে রমনা কালিমন্দিরের সামনে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে তাদের পেশকৃত সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ২৪ ফেব্রæয়ারি মশাল মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেন নেতারা। এর পরেও দাবি আদায় না হলে আমরণ অনশন কর্মসূচিরও ঘোষণা দেওয়ার হুমকি দেন নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা গনিমতের মাল হিসেবে থাকতে চাইনা। রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে সেই ব্যবহার আর আমরা করতে দেবো না। গণতন্ত্রের স্বার্থে আপনারা আমাদের থেকে কী নেবেন আর কী দেবেন এই সমঝোতা আজকে প্রয়োজন। আজকে এই সমাবেশে আমরা যে দাবি নিয়ে আমরা উপস্থিত হয়েছি, এই দাবি করেছিলাম ২০১৮ সালে। সরকারি দল এই দাবি মেনে নিয়ে তাদের ইশতেহারে তারা অঙ্গিকার করেছিলেন নির্বাচনে তারা জয়যুক্ত হলে তা বাস্তবায়ন করবেন। আমরা আশা করেছিলাম, আমরা আশা করেছিলাম, কিন্তু আর মাত্র ১বছর বাকি। এখনো তার কিছুই হয়নাই। বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনীতির প্রতি আমরা আস্থা রাখতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, আপনি আমাদের শেষ ভরসাস্থল। আপনার ওপর আমরা আশা ও আস্থা রাখতে চাই। আমরা চাই এতে বিন্দুমাত্র ঘাটতি হোক। আমাদের দাবিগুলো যদি বিবেচিত না হয়, আমাদের দিকে যদি ফিরে তাকাতে কুণ্ঠাবোধ করেন, তাহলে আমরাও আপনাদের প্রতি কতটুকু ফিরে তাকাবো সেই বিষয়েও চিন্তাভাবনা করতে হবে।
এসময় তিনি রোডম্যাপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি দলের নির্বাচনি প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ২৪ ফেব্রæয়ারি দেশের বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মশাল মিছিলের কর্মসূচির ঘোষণা করছি। আজকের রোডম্যাপ, স্মারকলিপি প্রদান ও পরবর্তী সময়ে মশাল মিছিলের কর্মসূচি দিয়েও যদি দাবি বাস্তবায়ন না হয় তবে আমরণ অনশন কর্মসূচি দিতে আমরা প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের অন্যতম সভাপতি উষাতন তালুকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এই সমাবেশে থেকে সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে জানাতে চাই। আজকে এই কনকনে শীতের মধ্যে এসকল মানুষ আনন্দ করতে আসেনি। তারা এসেছে তাদের অধিকার আদায়ে, ন্যায্য দাবি লড়াইয়ে। প্রধানমন্ত্রী আমরা জানি আপনার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, অনেক মহল রয়েছে। আপনি কথা দিলে কথা রাখেন, কিন্তু গত চার বছরে তো কোনো ওয়াদা রাখলেন না। আমরা আশা করছি আপনি অবিলম্বে আমাদের দাবি মেনে নিবেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা বার বার এই সাত দফা দাবি পেশ করে আসছি। কিন্তু কোনো অজানা কারণে আমাদের এই দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। আমরা বার বার সা¤প্রদায়িক হামলার শিকার হচ্ছি,আমরা এই নির্যাতন থেকে রেহাই চাই। আমাদের এই দাবি বাস্তবায়ন অবিলম্বে না করা হলে আমরা আরো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো। আমরা আগামী নির্বাচন বয়কট করবো যদি আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না করা হয়। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মতুয়া সাধু-সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাগর সাধু ঠাকুর, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি উষাতন তালুক, ড. নিম চন্দ্র ভৌমিকসহ আরো অনেকে।
প্রসঙ্গত, তাদের সাত দফা দাবি হলো- জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন, সমতলে অধিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন যথাযথ বাস্তবায়ন,পার্বত্য শান্তি চুক্তি ও পার্বত্য ভূমি কমিশনের যথাযথ কার্যকরীকরণ, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন।
বিছানা বালিশে রক্ত : পরীমণির সংবাদ সম্মেলন
রাজকে জীবন থেকে ‘ছুটি’ দেয়ার পর আবার আলোচনায় এসেছেন পরীমণি। সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে ২০২২ সালের শেষ দিনে নিজের জীবন থেকে অভিনেতা শরিফুল রাজকে ‘ছুটি’ দেন তিনি।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে পরী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘হ্যাপি থার্টি ফার্স্ট এভরিওয়ান! আমি আজ রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম এবং নিজেকেও মুক্ত করলাম একটা অসুস্থ সম্পর্ক থেকে। জীবনে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার থেকে জরুরি আর কিছুই নাই।’
এদিকে শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে নতুন স্টোরি শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা গেছে তার বিছানা ও বালিশে রক্তের ছাপ। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু লেখেননি।
ফেসবুকে দেয়া ওই ছবির সাথে কেবল লিখেছেন ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার। প্রেস কনফারেন্স টুমরো (আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন)’।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ অক্টোবর গোপনে বিয়ে করেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণি ও অভিনেতা শরিফুল রাজ। মাত্র সাত দিনের পরিচয়ে তারা বিয়ে করেছিলেন। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি সেই খবর প্রকাশ্যে আনেন তারা। একই দিন সন্তানধারণের বার্তাটিও দেন এ দম্পতি। এরপর ২২ জানুয়ারি পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে সারেন। গত ১০ আগস্ট তাদের ঘর আলো করে এসেছে ছেলে সন্তান-শাহীম মুহাম্মদ রাজ্য।
রাজকে জীবন থেকে ‘ছুটি’ দিয়ে দিলেন পরীমণি
বছরজুড়ে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন পরীমণি। বছরের শেষ দিনে দিলেন নতুন বার্তা। তবে তা সুখের নয়। বছর শেষে সংসারে ভাঙনের সুর।
শুক্রবার রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে পরীমণি নিজেই এই ইঙ্গিত দেন। জানান শরিফুল রাজের সাথে সম্পর্কের সমাপ্তির কথা।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে পরী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘হ্যাপি থার্টি ফার্স্ট এভরিওয়ান! আমি আজ রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম এবং নিজেকেও মুক্ত করলাম একটা অসুস্থ সম্পর্ক থেকে। জীবনে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার থেকে জরুরি আর কিছুই নাই।’
বিষয়টি গণমাধ্যমকেও নিশ্চিত করেন এই নায়িকা। বলেন, ‘এখনো আমাদের বিচ্ছেদ হয়নি। তবে আমি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজের বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছি। আজ থেকে আমরা আলাদা হয়ে গেলাম। শিগগির বিচ্ছেদের চিঠি পাঠিয়ে দেব।’
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ অক্টোবর গোপনে বিয়ে করেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণি ও অভিনেতা শরিফুল রাজ। মাত্র সাত দিনের পরিচয়ে তারা বিয়ে করেছিলেন। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি সেই খবর প্রকাশ্যে আনেন তারা। একই দিন সন্তানধারণের বার্তাটিও দেন এ দম্পতি। এরপর ২২ জানুয়ারি পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে সারেন। গত ১০ আগস্ট তাদের ঘর আলো করে এসেছে ছেলে সন্তান-শাহীম মুহাম্মদ রাজ্য।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন না মাহি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।
রোববার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় এ আসনে জিয়াউর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তিনি নবম জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রাতে গণভবনে দলের বোর্ড সভায় আসন্ন ছয় আসনের উপনির্বাচনে ৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন চেয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনায় আসা চিত্রনায়িকা মাহিকে মনোনয়ন দেয়নি ক্ষমতাসীন দলটি।
৬টি আসনের মধ্যে যে তিনটিতে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ, সেগুলো হলো- রাগেবুল আহসান রিপু (বগুড়া-৬), জিয়াউর রহমান (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২), আব্দুল ওদুদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩)। এছাড়া বাকি তিন আসনের মধ্যে বগুড়া-৪ (জাসদ-ইনু), ঠাকুরগাঁও-৩ (ওয়ার্কার্স পার্টি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (উন্মুক্ত)।
প্রসঙ্গত, গত ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এ ছয় আসনের বিএনপির এমপিরা। এরপর এ আসনগুলোতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন।
যৌথ পারমাণবিক মহড়া নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবেলায় মার্কিন পরমাণু শক্তির অংশগ্রহণে যৌথ পারমাণবিক মহড়া চালানোর জন্য সিউল ও ওয়াশিংটন আলোচনা করছে।
সোমবার প্রকাশিত বার্তা সংস্থা চোসান ইলবো’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ইউন বলেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ‘পারমাণবিক সহায়তা’ এবং ‘বর্ধিত প্রতিরোধ ক্ষমতা’ দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য যথেষ্ট না।’
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে নেতা কিম জং-উন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের শত্রু বলে অভিহিত করে এ দুই দেশকে ঠেকাতে তার দেশের পারমাণবিক অস্ত্রাগারের এবং আন্তঃমহাদেশীয় নতুন ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) ‘তাত্বিক বৃদ্ধি’ করার আহ্বান জানানোর এক দিন পরে সাক্ষাতকারটি প্রকাশ করা হয়।
২০২২ সালে উত্তর কোরিয়া প্রায় প্রতি মাসেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এসবের মধ্যে তাদের একেবারে অত্যাধুনিক আইসিবিএম রয়েছে।
তারা শনিবার প্রথম প্রহরে স্বল্প পাল্লার তিনি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং রোববার ভোরে আরো একটি অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়।
চৌকস নেতা ইউনের প্রশাসনের আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ সামরিক মহড়া জোরদার করেছে।
এদিকে ২০১৯ সালে আলোচনা ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকেই কিম নিষেধাজ্ঞা থাকা তার অস্ত্র কর্মসূচি জোরদার করেছেন। সিউল ও ওয়াশিংটন কয়েক মাস ধরেই সতর্ক করছে যে পিয়ংইয়ং তাদের সপ্তম পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
সূত্র : বাসস
মেক্সিকোতে কারাগারে সশস্ত্র হামলা, নিহত ১৪
উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহরের একটি কারাগারে সশস্ত্র হামালা হয়েছে। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন বেশ কয়েকেজন।
স্থানীয় সময় রোববার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর জুয়ারেজের একটি কারাগারে সশস্ত্র হামলার পর হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ওই হামলার পর একই শহরে পৃথক কয়েকটি স্থানে হামলা হয়েছেন। এতে করে আরো দুজন নিহত হয়েছন।
সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
চিহুয়াহুয়া রাজ্যের প্রসিকিউটর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কারাগারের হামলায় যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে ১০ জন নিরাপত্তাকর্মী ও চারজন বন্দী রয়েছে। তাছাড়া ১৩ জন আহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ২৪ জন পালিয়ে গেছেন। তবে কারা কারাগারটিতে হামলা চালিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রসিকিউটর জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে সশস্ত্র আক্রমণকারীরা স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে কারাগারে পৌঁছায়। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি সাঁজোয়া যানে করে এসে গুলি শুরু করে।
এর আগে জুয়ারেজের পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কার্যালয়েও হামলা হয়েছিল। পরে আক্রমণকারীদের ধাওয়া করে একটি ট্রাক জব্দ করা হয় এবং চারজনকে আটক করা হয়।
এর আগে গত বছরের আগস্টে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে কারাগারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়। ওই সময় প্রাণ হারানোদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসামরিক মানুষ।
ইসরাইলে চরম দক্ষিণপন্থীদের উত্থানে আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা
ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টরপন্থী এবং গোঁড়া ধর্ম-ভিত্তিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব আরো সংঘাতময় হয়ে উঠবে বলে ইসরাইলের ভেতর এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইতোমধ্যেই প্রবল শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা। এই পটভূমিতে হেব্রনে ফিলিস্তিনিদের সাথে কথা বলেছেন বিবিসি নিউজের টম বেইটম্যান। কী দেখেছেন তিনি?
আমি গিয়েছিলাম হেব্রনে ইয়াসের আবু মারখিয়ার বসতবাড়ির ওপর চালানো হামলা নিয়ে তার সাথে কথা বলতে। কিন্তু সাক্ষাৎকারের মধ্যেই কুঁচকিতে লাথি খেয়ে বাগানে তাকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতে হলো।
তার বাড়িতে হামলা চালানো যখন শুরু হয়, তখন আমাদের ক্যামেরা ওই ঘটনা রেকর্ড করতে শুরু করেছে।
‘বসতিস্থাপনকারীরা হামলা শুরু করেছে! তারা পাথর ছুঁড়ছে! আমার প্রযোজক চিৎকার করছিলেন।’
ফিলিস্তিনি পরিবারটির সদস্যদের সাথে আমরা ছুটে বাসার বাইরে গেলাম। দুজন তরুণ ইসরাইলি, ইয়াসের আবু মারখিয়ার বাসার বাগানে জোর করে ঢুকে পড়েছে। তাদের পেছন পেছন ঢুকেছে কিছু সৈন্য।
দুই তরুণ বসতিস্থাপনকারীর একজন সোজা আমাদের দিকে তেড়ে এল- পরিবারটিকে উদ্দেশ্য করে চেঁচাতে লাগল : ‘এখান থেকে বেরিয়ে যাও। চলে যাও!’
তাদের হম্বিতম্বি থামানোর চেষ্টায় আবু মারখিয়া এগিয়ে গেলেন- তিনি তার ফোনে ঘটনাটার ছবি তুলছিলেন। একজন সৈন্য তাকে ছবি তুলতে বাধা দিল। কিন্তু এরই মধ্যে ইসরাইলি তরুণটি এগিয়ে এসে ওই বাসার মালিক ফিলিস্তিনি আবু মারখিয়াকে জোরে লাথি মারল।
ঠিক এ ধরনেরই আচমকা হামলা নিয়ে এই পরিবারটির সাথে কথা বলতে আমরা হেব্রনে এসেছিলাম।
হেব্রনের ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা বলছেন, ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর তাদের ওপর হামলা ক্রমশ বাড়ছে। তারা সবসময় আচমকা হামলার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
এবারের ভোটে চরম ডানপন্থীদের প্রতি সমর্থন ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। যার ফলে হেব্রন এবং অন্যত্র ইহুদী বসতিস্থাপনকারীদের পক্ষে আন্দোলনকারী চরম জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠির একেবারে কট্টর মনোভাবাপন্ন মানুষরা নিজেদের ক্ষমতাশালী মনে করছেন।
এছাড়া এই ভোটের ফলাফল, অধিকৃত এলাকাগুলোয় সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হওয়া উচিত তা নিয়ে ইসরাইলি সমাজের ভেতর একটা সংস্কৃতির লড়াইয়েও রসদ জোগাচ্ছে।
আবু মারখিয়াকে লাথি মারা ঘটনার পর আমরা যখন ছবি তোলা চালিয়ে যাচ্ছি, তখন সেখানে একটা অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ওই পরিবারকে সাহায্য করছেন এমন একজন ফিলিস্তিনি আন্দোলনকারী, বাদি দোওয়েক, চিৎকার করতে থাকেন : এখানে সৈন্যরা ফিলিস্তিনিদের রক্ষার জন্য কিছুই করে না। একজন ফিলিস্তিনি যদি একাজ করতো, তাহলে তোমরা (সৈন্যরা) তাকে জেলে ধরে নিয়ে যেতে, নয়ত গুলি করতে!
সেখানে এই পদ্ধতিমাফিক বৈষম্যের যে অভিযোগ অনবরতই শোনা যায় সেটাই ওই ব্যক্তি পুনর্ব্যক্ত করলেন। তাদের চিরাচরিত অভিযোগ হলো : অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি গাড়তে আসা ইসরিইলি, যারা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়, তাদের দায়বদ্ধ করার সংস্কৃতি খুবই বিরল।
আর তাদের এই অভিযোগ যে কতটা সত্যি সেটাই প্রমাণ করলেন ওই ব্যক্তি, যিনি ইয়াসের আবু মারখিয়াকে লাথি কষিয়েছিলেন। তিনি তার গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন, একজন সৈন্য তার সাথে করমর্দন করল এবং তিনি চলে গেলেন।
আবু মারখিয়াকে একজন ইসরাইলির লাথি মারার ঘটনা ভিডিও করার সময় ইসরাইলি একজন সৈন্য বিবিসির ক্যামেরার লেন্সের ওপরও হাত দিয়ে ছবি তুলতে বাধা দেন।
আবু মারখিয়া অচৈতন্য আর আহত অবস্থায় পড়ে রইলেন। প্রতিবেশীরা এসে তার সেবা শুশ্রূষা করতে লাগল।
এই ঘটনা নিয়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আমরা প্রশ্ন করলে তারা বলে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা হলে সেটা থামানোর দায়িত্ব সৈন্যদের এবং প্রয়োজন হলে পুলিশ না আসা পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের আটক রাখার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
পুলিশও নিয়মমাফিক বলে থাকে, ইহুদী বসতিস্থাপনকারীদের দিক থেকে সহিংসতার ঘটনা ঘটলে তারা তা তদন্ত করে। কিন্তু অধিকার গোষ্ঠিগুলো বলে, এগুলো সাধারণত কেবল মুখের কথা, আদতে কখনই এসব ঘটে না।
‘সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু’
হেব্রন শহর হলো তল্লাশি চৌকির শহর আর অধিকৃত এলাকায় সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে রয়েছে কয়েক শ’ ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীর ঘর, যারা বাস করে সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় এবং পূর্ণ রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে। তাদের ঘিরে বসবাস কয়েখ লাখ ফিলিস্তিনির, যাদের না আছে নিরাপত্তা সুরক্ষা, না আছে কোনো অধিকার।
অনেকেই মনে করেন ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে এটা ইসরাইলি দখলদারির চরম নিদর্শন।
ঐতিহাসিক এই শহর কেন্দ্রের রাস্তায় চোখে পড়ে বেসামরিক মানুষের অনেক বসতবাড়ি আর দোকানপাটের দরজায় কুলুপ আঁটা- সামরিক বেড়া, দেয়াল আর নজরদারি টাওয়ার দিয়ে সেগুলো ঘেরা। একসময় ফিলিস্তিনিদের প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা এই এলাকায় এখন শুধু অনুমতি সাপেক্ষে ঢুকতে পারেন বাসিন্দারা।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর যুক্তি এলাকাটিকে ‘নিষ্কলুষ’ রাখতে নিরাপত্তার প্রয়োজনেই এই ব্যবস্থা।
হেব্রন ইসরাইলি কট্টর দক্ষিণপন্থীদের মূল রাজনৈতিক ঘাঁটি। সেখানে যেসব ইসরাইলি বসতি নির্মাণ করে আছেন, তারা বেন-গ্যভির এবং আরেকজন উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক বেজালেল স্মটরিচের যৌথ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি নির্বাচনে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে।
স্মটরিচকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অর্থ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে এবং সেখানে ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন আর্থিক বিষয়গুলো তিনিই দেখভাল করবেন।
‘চাপা আগুন উস্কে উঠেছে’
ইসরাইলি সমাজের ভেতর বিষয়টি নিয়ে বহুদিনের যে টানাপোড়েন রয়েছে অধিকৃত হেব্রনের পরিস্থিতি সেই চাপা আগুনকে আবার উস্কে দিয়েছে।
শহরে দেখেছি পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ আর উত্তেজনা- বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি শান্তিকামীদের আন্দোলন- আবার তাদের বিরুদ্ধে বসতি সমর্থকদের মিছিল সমাবেশ।
ইশাই ফ্লেইশার বসতি নির্মাণকারীদের অধিকারের পক্ষে। তিনি নিজেকে পরিচয় দেন হেব্রনের ইহুদীদের আন্তর্জাতিক মুখপাত্র হিসাবে। হেব্রন সফরে যাওয়া ইসরাইলের শান্তিকামী কর্মীদের বিরুদ্ধে তার সমর্থকদের স্লোগান ছিল- তারা ‘বিশ্বাসঘাতক’।
‘এই ছোট ভূখণ্ডটা আমাদের- উত্তরাধিকার পরম্পরায় এই ভূখণ্ড আমাদের। এর ওপর অবশ্যই আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। কারণ এই ভূখণ্ড আমাদেরই,’ তিনি আমাকে বললেন।
এ মন্তব্য ‘বর্ণ বিদ্বেষী’ আমার এমন কথা তিনি নাকচ করে দিলেন। অধিকৃত পশ্চিম তীরে থাকেন প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি।
ইহুদীদের বসতি এলাকায় বাস করেন প্রায় পাঁচ লাখ ইসরাইলি। ইহুদী বসতিতে বসবাসকারী সবাই আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত, যদিও ইসরাইল তা মানে না।
ইসা আমরো সুপরিচিত ফিলিস্তিনি আন্দোলনকর্মী এবং বসতি বিরোধী তরুণদের আন্দোলন গোষ্ঠি ইয়ুথ এগেনস্ট সেটেলমেন্টস-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ইসরাইলি বাহিনী এবং প্যালেসটিনিয়ান অথরিটি উভয়েরই প্রকাশ্য সমালোচক। দু’পক্ষের হাতেই তিনি বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়েছেন।
জাতিসঙ্ঘ এবং ইউরোপিয় ইউনিয়ন তাকে মানবাধিকার রক্ষাকর্তা বলে মনে করে এবং বারবার তাকে গ্রেফতার করার নিন্দা তারা করেছে।
যেসব ইসরাইলি অধিকারকর্মী শান্তির পক্ষে, তাদের হেব্রন সফরের সময় আমরো বিভিন্ন সমাবেশে বক্তৃতা দিয়েছেন। কিন্তু এর ফলে তিনি এখন ঘর-ছাড়া বলে জানালেন আমাকে।
বিবিসি যখন তার সাক্ষাৎকার নিচ্ছে, তখন সাদা পোশাকে চারজন ইসরাইলি পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে গেল। এদের মধ্যে একজন পুলিশ অফিসারকে আমরা আগে দেখেছিলাম। তিনি ইসা আমরোকে দেওয়ালের গায়ে দাঁড় করিয়ে তাকে তল্লাশি করলেন। তারপর বললেন, ‘ন্যায়বিচারে বাধা দেয়ার জন্য’ তাকে আটক করা হলো।
আমরা বিবিসির জন্য যখন ছবি তুলছি তখন যেসব ইসরাইলি আন্দোলনকর্মী, বা ঘরবাড়িতে হামলা হওয়া যেসব ফিলিস্তিনি পরিবারের সাথে আমরা কথা বলেছি, তাদের মতই আমরোও বলছিলেন নভেম্বরের নির্বাচনের পর থেকে বসতি সমর্থকদের ক্ষমতার দাপট অনেক বেড়ে গেছে।
কিন্তু মাত্র ওইটুকুই তিনি বলতে পেরেছিলেন। কারণ সাক্ষাৎকারের মাঝপথে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে কিছু দিনের জন্য তার মুখ বন্ধ থাকে।
সূত্র : বিবিসি
আওয়ামী বাংলাদেশ এখন ফ্যাসিস্ট হয়ে গেছে : আমীর খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন কোন দিকে যাবে তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে আছে। দেশ কোন পথে যাবে সেটা নিয়েও দ্বিধায় আছে। বিদেশীরাও উদ্বিগ্ন। কারণ আওয়ামী বাংলাদেশ এখন ফ্যাসিস্ট হয়ে গেছে।
সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রুপরেখা ঘোষণা দেয়ার পর আওয়ামী লীগের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ প্রত্যেকটি দফা একেকটি ভিন্ন চিন্তা ভাবনা থেকে প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক ফিলোসফি। যা খুব কম রাজনীতিবিদ করতে পারেন। সেই জায়গায় তারেক রহমান এই রুপরেখা ঘোষণা দিয়ে নিজের নেতৃত্বের যোগ্যতাকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা’ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিল বিএনপির মিডিয়া সেল।
আমীর খসরু বলেন, আজকে নব্বই শতাংশ রাজনীতিবিদ বক্স থেকে বেরিয়ে চিন্তার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তারা বিজনেস মনে করে শুধু। কিন্তু বিশ্ব যে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা ভাবে না। সেই জায়াগাটা উপলব্ধি করেই কিন্তু তারেক রহমান এই রুপরেখা দিয়েছেন। যেমন তার বাবা জিয়াউর রহমান সাহসী কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে তার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের সব অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। মাঝে স্বৈরাচার সরকার দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যায়।
খসরু বলেন, আজকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে গভীর সঙ্কটে নিপতিত করেছে। যা অনেক গভীরে চলে গেছে। এখান থেকে মুক্তি পেতে হলে ২৭ দফা রুপরেখা বাস্তবায়ন করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বিএনপি তুলে ধরেছে বলে সাধারণ মানুষ বলছে। বিদেশীদের কাছেও খুব বেশি গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে বিএনপির ২৭ দফা রুপরেখা বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। দেশকে গভীর গর্ত থেকে তুলে আনতে হলে ২৭ দফার বিকল্প নাই। এজন্য বিএনপির প্রতিশ্রুত থাকা দরকার।
আমীর খসরু বলেন, আজকে বাংলাদেশে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি শুরু হয়েছে। দেশের ৬৫ শতাংশ ব্যবসায়ী সংসদে বসে আছেন। তারা তো কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। আজকে দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এটা তো তারাই করছে। আজকে দেশের অর্থনীতি আওয়ামী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং পরিবর্তন দরকার। আপার হাউসের পরিবর্তন দরকার। যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী তারা সেখানে যাবেন। তখনই দেশের স্থিতিশীলতা আসবে।
তিনি আরো বলেন, ভঙ্গুর রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে জনগণের সাথে কিছু চুক্তি বা ওয়াদা দিতে হবে। সেটাই করেছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। যা রাজনীতিবিদরা খুব একটা করতে পারেন না। রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বের যোগ্যতা অনেক উপরে স্থান পেয়েছে।
রেইনবো নেশনের ব্যাখ্যা করে আমীর খসরু বলেন, রেইনবো নেশন হলো- আজকে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা ও সংস্কৃতি পরিবর্তন হচ্ছে। এখানে অনেক ধর্মের ও বর্ণের মানুষ বাস করে। সবার ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতিকে প্রাধান্য বা সম্মান জানানোর জন্য রেইনবো নেশন। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে মূলে রেখে নতুনভাবে রেইনবো নেশনের কথা বলা হচ্ছে। যা নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই ধারণা মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছে। রেইনবো নেশন সারাবিশ্বকে বোঝায়।
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের যে রুপরেখা দিয়েছে তা সময়োপযোগী। আসলে দেশের যে অবস্থা তার মেরামত ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দেশ ও জনগণকে রক্ষার লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাস্তব চিন্তা ধারা থেকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা দিয়েছেন।
বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী বলেন, গণতন্ত্র হলো বুর্জোয়া পদ্ধতি। আজকে ক্ষমতাসীনরা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট করেছে। তারা লুটপাট করে বিদেশে অর্থ পাচার করছে। আজকে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের বিকল্প নাই।
স্বাগত বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের যে রুপরেখা ঘোষণা করেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে উদ্দেশ্য সেটা বাস্তবায়ন হবে। আমাদের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণে কাজ করা। ক্ষমতা ভোগ করা নয়। ইতোমধ্যে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সবাই প্রশংসা করছেন।
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, লাইফ সাপোর্টে থাকা গণতন্ত্র ও লক্ষচ্যুত দেশকে পুনরুদ্ধার করতে হলে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের বিকল্প নেই। বিএনপি যে রুপরেখা দিয়েছে এটা জাতির মুক্তির সোপান।
অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, বিএনপি ঘোষিত ২৭ দফা শুধু রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা নয়, এটা এখন বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সনদ।
অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে। এখান দেশের মানুষ ও দেশকে রক্ষার স্বার্থে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের যে রুপরেখা দিয়েছেন তা হলো আমাদের মুক্তির গাইডলাইন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশ ভালো চললে তো আজকে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রুপরেখা লাগতো না। কিন্তু দেশের কী পরিস্থিতি? এখানে ভোটাধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই। আর্থিক খাতে চলে লুটপাট। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটে স্বদেশ আজ ধ্বংস প্রায়। এখানে থেকেই দেশ রক্ষার লক্ষ।


