Home Blog Page 643

যে কারণে মুসলিমরা বারবি মুভি বয়কট করছে

আমি ছোটবেলা থেকেই বারবিকে ভালোবাসতাম। তার পুতুল, শো ও গল্পগুলো বিনোদনের চেয়ে বেশি ছিল। সেগুলো আমার অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। আমাকে আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও উদারতা শিখিয়েছিল।

যাইহোক, বার্বির প্রতি আমার ভালবাসা এবং পুতুলের এই বিশেষ শৈশব স্মৃতি থাকা সত্ত্বেও আমি এই সিনেমাটি না দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্তে আমি একা নই। বিশ্বের অনেক মুসলমান বিভিন্ন কারণে সিনেমাটি বয়কট করছে। এখানে ওই কারণগুলো তুলে ধরছি।

ফিল্মে বার্বিকে একজন কট্টর নারীবাদী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এটি প্রচলিত লিঙ্গ ভূমিকাকে চ্যালেঞ্জ করে। তা আমার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। যদিও আমি নারীর স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করি, একজন মুসলিম হিসেবে আমার বিশ্বাস পুরুষ ও মহিলাদের জন্য অর্পিত দায়িত্ব ভিন্ন ভিন্ন। এটি নারীবাদী নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। আমি বিশ্বাস করি যে ইসলামের শিক্ষাগুলো লিঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে, যা নারীবাদ বিবেচনা করে না।

মুভির একটি উল্লেখযোগ্য দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, বার্বি চীন সফর করছেন। দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত নাইন-ড্যাশ লাইন দেখানো একটি মানচিত্র জুড়ে আসছেন। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই লাইনটি আমার জন্য পতাকা তুলেছে। এটি চীনা আঞ্চলিক দাবির সমর্থন বলে মনে হচ্ছে, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আমি এই অন্তর্ভুক্তিকে সম্প্রসারণবাদী নীতি ও আঞ্চলিক বিরোধগুলোর একটি সূক্ষ্ম প্রচার হিসেবে দেখি, যা আমি সমর্থন করি না।

বার্বিকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র হিসেবে চিত্রিত করা বিশ্বজুড়ে তার লাখ লাখ মুসলিম ভক্তদের উপেক্ষা করার নামান্তর। একজন মুসলিম হিসেবে আমি বিশ্বাস করি যে বিশ্বব্যাপী চরিত্রগুলো তাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধসহ তাদের দর্শকদের বৈচিত্র্যকেও প্রতিফলিত করবে। ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বের অনুপস্থিতিকে আমার কাছে মনে হয়, বার্বির ফ্যান বেস তৈরি করে এমন সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক টেপেস্ট্রি স্বীকার করার একটি সুযোগের হাতছাড়া।

ফিল্মের দৃশ্যে বার্বির পোশাক প্রকাশ করা, কেনের সাথে রোমান্টিক মিথস্ক্রিয়া, অ্যালকোহল সেবন ও নাইটক্লাবের নাচ নৈতিক সমস্যাগুলো উত্থাপন করে। এই দৃষ্টান্তগুলো বিনয়, বিশুদ্ধতা ও সম্মানের নীতিগুলো লঙ্ঘন করে। তদুপরি আমি উদ্বিগ্ন যে এই দৃশ্যগুলো অসাবধানতাবশত তরুণ মুসলিম মেয়েদেরকে আমাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী আচরণ গ্রহণ করতে প্রভাবিত করতে পারে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মতামত ভিন্ন হলেও, আমার নতুন বার্বি মুভিটি এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দৃঢ় রয়েছে। এটা আমার বিশ্বাসের প্রতি আমার অঙ্গীকার। একজন মুসলিম নারী হিসেবে আমার পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে।

ফিল্মের নারীবাদের চিত্রায়ন, ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বের অভাব ও নৈতিক বিষয়বস্তু সবই আমার সিদ্ধান্তের কারণ। আমি বুঝি যে বিনোদন বিষয়ভিত্তিক। কিন্তু আমার জন্য সিনেমাটি মূল নীতিগুলোর বিরুদ্ধে যায়, যা আমার জীবন পরিচালনা করে।

বার্বি এক সময় আমার জন্য ক্ষমতায়নের প্রতীক ছিল। এখন তার নতুন চিত্রায়ন আমার মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক, যা আমাকে এই সিনেমা থেকে বিমুখ হতে বাধ্য করেছে।

সূত্র : ইসলামিক ইনফরমেশন

মণিপুর স্বাভাবিক হবে কবে, জানা নেই কারো

সমস্যা বড় জটিল। তার সমাধান কবে হবে, এখন তা বলতে পারছে না কোনো পক্ষই।

গত বুধবার রাতের ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে গেলেন মণিপুরের ৪০ জন বিধায়ক। মণিপুর বিধানসভার আসনসংখ্যা ৬০, তার মধ্যে বিজেপি বিধায়কদের সংখ্যা ৩২। বিজেপি-র নেতৃত্বে এই বিধায়করা প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কর্মীদের কাছে একটা স্মারকলিপি দিয়ে আসেন। সেখানে তাদের দাবি, মণিপুর থেকে অবিলম্বে আসাম রাইফেলসকে সরিয়ে দিতে হবে, কুকিদের সাথে যে সাসপেনশন অফ অপারেশন বা এসওও চুক্তি করা হয়েছিল তা বাতিল করতে হবে, এনআরসি চালু করতে হবে, কুকিদের আলাদা প্রশাসনের দাবি মানা যাবে না এবং সব অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

মণিপুরে যে কোনো মেইতেইয়ের সাথে কথা বলুন, জানতে চান, কিভাবে এই জটিল সমস্যার সমাধান হবে, তারা সকলে ঠিক এই দাবিগুলোই জানাবেন। আর আপনি যদি কুকিদের সাথে কথা বলেন, তাহলে শুনবেন, আসাম রাইফেলসকে কোনোভাবে সরানো যাবে না, মণিপুরের পুলিশ ও কম্যান্ডোদের পাহাড় থেকে সরাতে হবে, কুকিদের জন্য আলাদা প্রশাসন দিতে হবে এবং মেইতেইদের হাত থেকে অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং এসওও বাতিল করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

এসওও প্রসাথে পরে আসছি, আগে আসাম রাইফেলস ও মণিপুর পুলিশ ও কম্যান্ডোদের প্রসাথে আসি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই বাস্তব, মণিপুরের এই সংঘাতে আসাম রাইফেলস ও মণিপুর পুলিশ ও কম্যান্ডোদের নাম বারবার উঠে আসছে। কয়েকদিন আগেই আসাম রাইফেলসের নয় নম্বর ব্যাটেলিয়ানের বিরুদ্ধে মণিপুরের পুলিশ একটি এফআইআর করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আসাম রাইফেলস পুলিশকে তাদের কাজ করতে দিচ্ছে না। তারা সাঁযোয়া যান দিয়ে রাস্তা আটকে দিচ্ছে। অভিযুক্ত কুকি সন্ত্রাসীরা মেইতেইদের হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট বলছে, কিছুদিন আগে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে পুলিশের সাথে আসাম রাইফেলসের উত্তেজিত বাক্য বিনিময় ছিল। আমরা এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারিনি। তবে পুলিশের এফআইআর পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে দিচ্ছে। তার সাথে আসাম রাইফেলসের প্রতিক্রিয়াও বলে দিচ্ছে, পরিস্থিতি কোন জায়গায় গেছে।

দ্য ওয়্যার জানাচ্ছে, সেনার তরফে জানানো হয়েছে, কিছু শত্রুভাবাপন্নরা কেন্দ্রীয় বাহিনী বিশেষ করে আসাম রাইফেলসের ভূমিকা, অভিপ্রায় ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে বারবার বেপরোয়া ও ব্যর্থ অভিযোগ করছে। আসাম রাইফেলস ৩ মে-র পর থেকে মানুষের জীবন বাঁচানো ও শান্তি ফেরানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

সেনার তরফ থেকে আরো জানানো হয়েছে, মণিপুরের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। সেখানে গ্রাউন্ড লেভেলে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কৌশলগত পর্যায়ে মতবিরোধ হতেই পারে। এরকম ক্ষেত্রে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হয় ও বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হয়। সকলে মিলে মণিপুরে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে কাজ করছে।

এক কুকি নেতাকে ঠিক এই প্রশ্নটাই আমরা করেছিলাম। আসাম রাইফেলসকে আপনারা সম্পূর্ণ সমর্থন করেন, আর মেইতেইরা কেন বিরোধ করে? তিনি বলেছিলেন, ‘আসাম রাইফেলসের ক্যাচলাইনটা একবার দেখবেন।’ সেটা হলো, ‘ফ্রেন্ডস অফ হিল পিপল’।

আমরা যখন ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের শহর মোরে-তে যাই, তার একদিন আগেই কুকি মেয়েদের সাথে আসাম রাইফেলসের বিশাল ঝামেলা হয়েছিল। কুকি মেয়েদের অভিযোগ ছিল, আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা তাদের হেনস্থা করেছে। মোরেতে কুকি নারীদের সংগঠনের প্রধান আনচিনকে প্রশ্ন করেছিলাম, তবে কি আপনারা চান, আসাম রাইফেলস চলে যাক? সাথে সাথে আনচিনের জবাব, ‘প্রশ্নই ওঠে না। আমরা চাই মণিপুরের কম্যান্ডোরা এখান থেকে চলে যাক। আমরা আসাম রাইফেলসের বিরুদ্ধে নই। মণিপুরের পুলিশ ও কম্যান্ডোর বিরুদ্ধে।’

নামপ্রকশে অনিচ্ছুক ইম্ফলের সাংবাদিকের অভিযোগ, ‘আসাম রাইফেলস কুকিদের সাহায্য করছে। তারা অনেকদিন মণিপুরের পাহাড়ে আছে। তাদের সরিয়ে দেয়া হোক। তাদের জায়গায় সেনার অন্য ব্রিগেড মোতায়েন করা হোক।’

আপনি মেইতেই ত্রাণশিবিরে যান। বিশেষ করে চূড়াচাঁদপুরের কাছে মৈরাঙের শিবিরে। সেখানে শুনবেন, আসাম রাইফেলস তাদের শিবিরে নিয়ে এসেছে। কোথাও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি করে মেইতেইদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছে তারা। মোরের কাছে কথা নামে মেইতেইদের গ্রাম আছে। চারদিকে কুকিরা, মাঝখানে এই একটা মেইতেই গ্রাম। আসাম রাইফেলস অনেক কষ্টে গ্রামটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে। কিন্তু তারপরেও ত্রাণশিবিরে মেইতেইদের অভিযোগ, কুকিরা যখন তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, তখন আসাম রাইফেলস আসেনি, কিছুই করেনি।

আবার মোরেতে কুকিদের ত্রাণশিবিরে পুলিশের বিরুদ্ধে একই অভিয়োগ শুনেছি ঘরহারানো উদ্বাস্তু মানুষদের কাছে। তারাও বলেছেন, যখন তাদের ঘর জ্বলছিল, তখন পুলিশ কী করছিল`? তারা দীর্ঘ পথ জঙ্গলের মধ্যে পাড়ি দিয়ে অবশেষে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছেন। কিন্তু তাদের বাড়ি, টাকা, পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে সব খুইয়েছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ কোনো মেইতেইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।

মণিপুরে এই বিভাজনটা মারাত্মক। বিশেষ করে আসাম রাইফেলস ও রাজ্যের পুলিশকে নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে তা বড়ই চিন্তার।

সমাধান কোন পথে?
প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিধায়করা স্মারকলিপি দিয়ে যেসব ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে, তা মেইতেইদের দাবি। এই দাবির মধ্যে আছে এসওও চুক্তি বাতিল করা। ২০০৮ সালে এই চুক্তি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার, মণিপুর ও কুকিদের মধ্যে। চুক্তি অনুসারে কুকি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সেনা ও মণিপুরের পুলিশ কোনো অপারেশন করবে না। কুকি গোষ্ঠীগুলোও কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজ করবে না।

গত ১০ মার্চ মণিপুর সরকার জানিয়ে দিয়েছে, তারা কুকি ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) ও জোমি রেভলিউশনারি আর্মির ক্ষেত্রে এসওও থেকে সরে এসেছে। কারণ, এই গোষ্ঠীগুলো বেআইনিভাবে বনভূমি দখল করার আন্দোলনের সাথে যুক্ত। তারপরেও তারা কুকি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অপারেশন করতে পারছে না, কারণ পাহাড়ে তো আসাম রাইফেলস আছে। আবার অস্ত্র হাতে তুলে নেয়া মেইতেইদের বিরুদ্ধে তাদেরও কিছু করার নেই, কারণ, উপত্যকায় আছে পুলিশ ও কম্যান্ডোরা।

কুকিদের মধ্যে প্রায় ৩০টি গোষ্ঠী আছে যারা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। ৪০ বিধায়কের দাবি, অস্ত্র সমর্পন করতে হবে। এর আগেও বলেছি, অস্ত্র শুধু কোনো একপক্ষের হাতে নেই। দুই পক্ষের হাতেই প্রচুর ও অত্যাধুনিক অস্ত্র আছে। এই সঙ্ঘাতে সেইসব অস্ত্র ব্যবহারের ফলে এত মানুষ মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন। প্রশ্ন হলো, দুই পক্ষের হাত থেকে কী করে অস্ত্র নেয়া হবে? কোনো সমাধানসূত্র এক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত নেই।

কুকিদের প্রধান দাবি, তাদের জন্য আলাদা প্রশাসন করতে হবে। মেইতেইদের দাবি, এটা কিছুতেই করা যাবে না। এই সমস্যার কিভাবে সমাধান হবে? কোনো সমাধানসূত্র এখনো সামনে নেই।

কিভাবে ও কবে মাদক-সমস্যার সমাধান হবে, অনুপ্রবেশ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করবেন না, জানা নেই। কবে উদ্বাস্তু মানুষরা ত্রাণশিবির থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন, জানা নেই। দুই পক্ষের মধ্যে বৈরিতা, বিদ্বেষ, সন্দেহ, অবিশ্বাস, লড়াইয়ের ইচ্ছে কবে কমবে সেটাও জানা নেই। এমনকি সরকার কবে সমাধানসূত্র নিয়ে আসতে পারবে, তাও জানা নেই মণিপুরের মেইতেই ও কুকিদের। তবে সবপক্ষ একসুরে একটা কথাই বলেছেন, পরিস্থিতি এত সহজে স্বাভাবিক হবে না। তার জন্য সময় লাগবে। কতদিন? এক বছর, পাঁচ বছর, ১০ বছর বা তারও বেশি? সত্যিই জানা নেই। সূত্র : ডয়চে ভেলে

যে কারণে এশিয়া কাপে বাদ দেয়া হলো মাহমুদউল্লাহকে

০

প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানসহ টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে আলোচনার পরই এশিয়া কাপের দল থেকে অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

তার মতে, টিম ম্যানেজমেন্টের দেয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এই মুহূর্তে জাতীয় দলের সাথে মানিয়ে নেয়া সম্ভব নয় ৩৭ বছর বয়সী মাহমুদুল্লাহর।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ক্রিকেটে আলোচনার অন্যতম মাহমুদুল্লাহর দলে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি। বিশেষ করে মাহমুদুল্লাহ ফিটনেস ক্যাম্পে ডাকা পাওয়ায় অনেকেই ধারণা করিছিলেন যে তিনি দলে ফিরছেন।

শনিবার (১২ আগস্ট) দল ঘোষণার সময় নান্নু জানান, ‘মাহমুদুল্লাহর সাথে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট একটা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দিয়েছে। ভবিষ্যতে কোন দলের বিপক্ষে এবং কোথায় খেলবে, সব নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। সব বিষয় বিবেচনা করে মাহমুদুল্লাহকে বাদ দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদেও দৃষ্টিতে টিম ম্যানেজমেন্টের দেয়া পরিকল্পনাটি ভালো এবং আমরা এটি সমর্থন করেছি। কিভাবে দল চালাতে চান সে বিষয়ে প্রধান কোচের একটা পরিকল্পনা আছে এবং আমরা অধিনায়কের সাথেও আলোচনা করেছি।’

অনেকেই বাংলাদেশের জার্সিতে মাহমুদুল্লাহ শেষ দেখলেও, বিশ্বকাপের জন্য এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে বিবেচনা করা হবে বলে জানান নান্নু। তিনি বলেন, ‘এটি এশিয়া কাপের দল, বিশ্বকাপের নয়। আমরা টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে এশিয়া কাপ নিয়ে আলোচনা করেছি। পেসারের জায়গায় অতিরিক্ত স্পিনার নেয়ার পরিকল্পনা দিয়েছেন তারা এবং এসব বিবেচনায় আমরা তাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা যখন বিশ্বকাপের জন্য দল ঠিক করব, তখন জানিয়ে দেব ওই স্কোয়াডে সে থাকবে কি-না।’
সূত্র : বাসস

‘আমার স্বামী খারাপ খেলে বাদ পরেনি’

০

এশিয়া কাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। এতে ক্ষুব্ধ ভক্তদের একাংশ। পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম মাহমুদউল্লাহর ভক্তরা তাকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে।

আসন্ন এশিয়া কাপে মাহমুদউল্লাহ জায়গা না হওয়ার বিষয়ে তার স্ত্রী জান্নাতুল কাওসার মিষ্টি বলেছেন, ‘আমি এখনো গর্ববোধ করছি, কারণ আমার স্বামী খারাপ খেলে দল থেকে বাদ পরেনি।’

শনিবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

ফেসবুকে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরিয়ানের স্ত্রী হিসেবে তিনি গর্ববোধ করেন। এশিয়া কাপের প্রাথমিক দলে থেকে কঠোর অনুশীলন করে চেষ্টা করেছেন এবং ফিটনেস টেস্টেও ফেল করেনি। তারপরও তাকে বাদ দেয়া হয়েছে।

রিয়াদ অবহেলার শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ আর কোনো ক্রিকেটার যেন অবহেলার শিকার। আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন‍্য বিশ্রামের ট্রেন্ড বন্ধ হোক, যেন তাদের অবসরের অধিকার কেড়ে নেয়া না হয়।

জান্নাতুল কাওসার মিষ্টির ফেসবুক পোস্টটি হুবহু দেয়া হলো :
বিশ্বকাপ এর প্রথম সেন্চুরিয়ান এর স্ত্রী হিসেবে আমি জান্নাতুল কাওসার গর্ববোধ করি এবং আজীবন করবো যাকে কোটি কোটি মানুষ ভদ্রলোক,সৎ,ভালো মানুষ হিসেবে জানে।আলহামদুলিল্লাহ্।

তাকে দলের প্রয়োজনে যখন যেখানে খুশি খেলতে নামানো হতো তাও সে কখনো কনোদিন কিছু বলেননি তার স্বাচ্ছন্দ্যের পজিশন আসলে কোনটা।সেই সেক্রিফাইসগুলো না করলে আজকে তার রানের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতো!সে সর্বদাই অপ্রতিবাদী ছিলেন।নিজের যোগ্যতায় সবসময় দলে জায়গা পেয়ে আসছেন।আমি এখনো গর্ববোধ করছি কারন আমার স্বামী খারাপ খেলে দল থেকে বাদ পরেনি!ভালো করে পরিসংখ‍্যান অনুসন্ধান করলে দেখবেন!প্রাথমিক দলে থেকে কঠোর অনুশীলন করে চেষ্টা করেছেন এবং ফিটনেস টেস্টেও ফেল করেনি।আলহামদুলিল্লাহ।তাই যথাযথ কারন বিশ্লেষন করে তাকে বাদ দিলে উপকৃত হতাম।

আমি দোয়া করি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ আর কোনো ক্রিকেটার যেন অবহেলার স্বীকার না হয়,সুযোগ বঞ্চিত না হয়,সাইলেন্ট হিরো না হয়!আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন‍্য “বিশ্রামের”ট্রেন্ড বন্ধ হোক যাতে তাদের অবসরের অধিকার কেড়ে নেওয়া না হয়।

সর্বোপরি,আমি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সব শুভাকাঙ্খী,ফ‍্যান ফলোয়ারদের কাছে কৃতজ্ঞ এত ভালোবাসা,সম্মান আর সমর্থনের জন‍্য।আলহামদুলিল্লাহ্।বাংলাদেশের জন‍্য তার অবদান কতটুকু যারা ক্রিকেট সত্যিকার অর্থে বোঝে তারাই জানে এবং মনে রাখবে ইনশাআল্লাহ।আপনারা সবাই তার সুস্বাস্থের জন্য দোয়া করবেন।
~ধন্যবাদ~

এর আগে মাহমুদউল্লাহর শ্যালিকা এবং ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের স্ত্রী জান্নাতুল কিফাইয়াত মন্ডি ফেসবুকে লেখেন, ‘ইনজাস্টিজ ইজ দ্য নিউ ট্রেন্ড।’

বিএনপির এক দফা মরণ যন্ত্রণায় ছটফট করছে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পরাজয়ের ভয়ে বিএনপির এক দফা খাদে পড়ে মরণ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের সংখ্যা কমে গেছে, তাদের মিছিল সমাবেশে দৈর্ঘ্য বেড়েছে, প্রস্থ কমেছে। 

তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে তারা প্রশংসা করতে পারে না। এরা শুধু সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। গণতন্ত্র আছে বলেই আজ উন্নয়নের মুখ দেখছে বাংলাদেশ। বিএনপি এর সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে।’

শনিবার (১২ আগস্ট) বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের উন্নয়নে বিএনপি’র অন্তরজ্বালা। পরাজয়ের ভয়ে বিএনপির এক দফা খাদে পড়ে মরণ যন্ত্রণায় ছটফট করছে। বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের সংখ্যা কমে গেছে, তাদের মিছিল সমাবেশে দৈর্ঘ্য বেড়েছে, প্রস্থ কমেছে। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল বলেন, বিদ্বেষের রাজনীতি করলে আজীবন আপনাদের বিরোধী দল থাকতে হবে। আজকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের উন্নয়নকে অনুসরণ করছে। আজকে আইএমএফসহ সারা দুনিয়া বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করে। এ দুঃসময়েও বাংলাদেশের যে উন্নয়ন অগ্রগতি তা সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি শুধু জ্বালায় জ্বালায় মরে, তাদের অন্তরজ্বালা!

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে দেবেন না? ক্ষমতা কি আপনার বাপ-দাদার? ক্ষমতার মালিক আল্লাহ পাক ও এ দেশের জনগণ। বিএনপি ক্ষমতা দেবে, ওই ক্ষমতা তো আমাদের দরকার নেই। বিএনপি নিজেরাই ক্ষমতায় যেতে পারে না, আবার বড় বড় কথা বলে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বছর ৩৩টি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাউকে নিয়ে বিশ্ব মোড়লদের কোনো মাথাব্যথা নেই, মাথাব্যথা কেবল বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে। পৃথিবীর কোনো দেশেই ওয়াশিংটন হস্তক্ষেপ করতে পারে না শুধুমাত্র বাংলাদেশেই পান থেকে চুন খসলেই আমাদের নিষেধাজ্ঞা দেবে, ভিসা নীতি দেবে এমন হুমকি-ধামকি দেয়। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে প্রতিপক্ষ ভাবে আর বিএনপি আওয়ামী লীগকে শত্রু ভাবে। তারা এই যাত্রা শুরু করেছিল ২১ আগস্ট। ১৫ আগস্ট কিংবা একুশে আগস্টসহ সকল হত্যা এবং ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড জিয়া পরিবারের সদস্যরা।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচনে তাদের কি দশা হবে। এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে এদেশের ৭০ ভাগ মানুষ ভোট শেখ হাসিনাকে দেবেন। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশের ৬৪ জেলায় সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে বর্তমান সরকারের একচেটিয়া জনপ্রিয়তা। সরকারের জনপ্রিয়তা দেখে বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, পার্লামেন্ট বিলুপ্তি, শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ বিএনপির অসাংবিধানিক কোনো দাবি মেনে নেয়া হবে না। সরকার পদত্যাগ করবে না, সংসদও বিলুপ্ত হবে না। বর্তমান ইসির অধীনেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনে আসলে আসুন, না আসলে জ্বালাও পোড়াও করবেন না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সভাপতি জামাল উদ্দিন চৌধুরী।

সূত্র : বাসস

পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা

বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির সিনেটর আনোয়ারুল হক কাকারকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। আজ শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর এ তথ্য জানিয়েছে।

আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও বিলুপ্ত সংসদের বিরোধী নেতা রাজ রিয়াজের মধ্যে এক বৈঠকের পর এ ঘোষণা এলো।

প্রধানমন্ত্রীর দফর থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শাহবাজ শরিফ ও রাজ রিয়াজ প্রেসিডেন্ট আলভির কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে কাকারকে নিয়োগ দিতে একটি পরামর্শ পাঠিয়েছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে গণমাধ্যমকেও বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহবাজ শরিফ ও রাজ রিয়াজ।

পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার তিন দিন আগে ৯ আগস্ট রাতে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। পাকিস্তানের সংবিধানে বলা আছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেয়া হয়, তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন করতে হবে। আর জাতীয় পরিষদ মেয়াদ পূর্ণ করলে ৬০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন হবে।

গতকাল শুক্রবার শাহবাজ শরিফ ও রাজা রিয়াজকে চিঠি দেন প্রেসিডেন্ট আলভি। সেখানে তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের নাম প্রস্তাব করতে বলেন। চিঠিতে আলভি মনে করিয়ে দেন, ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পরামর্শে তিনি জাতীয় পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন।

সূত্র : ডন

দেশের শাসনতন্ত্র মেনেই আগামী নির্বাচন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের শাসনতন্ত্র মেনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি শনিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সিলেট মহানগরীর শাহী ঈদগাহস্থ আরটিএম আল কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছুই করছে সরকার। সেলক্ষ্যে একটা শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, নির্বাচনের আগে মনে হয় না তড়িগড়ি করে কোনো দেশের সাথেই নতুন চুক্তি করবে বাংলাদেশ। আর এতে দেশের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। দেশ এখন একটি পজিশন নিয়ে আছে। আমরা ব্যালেন্স বৈদেশিক নীতি মেনে চলছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন প্রসঙ্গে বলেন, আয়োজকরা দাওয়াত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে যাবেন। ব্রিকস যদি এ বছর নতুন দেশকে অন্তর্ভুক্ত নাও করে তবুও সেখানে গেলে অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ হবে, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে বলে তিনি জানান।

সূত্র : বাসস

বিশ্বকাপ এখন বাংলাদেশের!

বিশ্বকাপ এখন বাংলাদেশের’ এমন দাবিকে ভুল বলে উড়িয়ে দেয়ার কিছু নেই৷ ২০২৩ বিশ্বকাপ ট্রফি তো এখন এই দেশেই! বিশ্ব ভ্রমণে বের হয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি এখন বাংলাদেশেই অবস্থান করছে।

সোমবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় পদ্মা সেতুতে আনা হয় ট্রফিটি। মাওয়া প্রান্তের ১ নম্বর পিলারের পাশে চলে এই ফটোসেশন৷ গত রাতে বাংলাদেশে আসার পর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রফি উন্মোচন ও ফটোসেশন পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। 

রুটিনমাফিক প্রতিটি বিশ্বকাপের মতো এবারো বিশ্ব ভ্রমণে বের হয়েছে ‘ট্রফি।’ আইসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে কিছু সময় অবস্থান করে থাকে তা। যার ধারাবাহিকতায় আট দেশ পাড়ি দিয়ে ট্রফি এসেছে বাংলাদেশে। 

আজ থেকে শুরু করে তিন দিন ঢাকায় থাকবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের এই ট্রফি। ৮ আগস্ট মিরপুরে ক্রিকেটার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মিডিয়ার জন্য, আর শেষ দিন অর্থাৎ ৯ আগস্ট বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে ট্রফিটি।

এর আগে গত জুনে ট্রফিটি পৃথিবী হতে ১ লাখ ২০ হাজার ফুট ওপরে থেকে দর্শনীয় শৈলীতে বিশেষ প্রযুক্তির বেলুনের সাহায্যে ফাইনালের ভেন্যু ভারতের আহমেদাবাদে অবতরণ করে। এরপর ২৭ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ট্রফি ট্যুর চলে ভারতের বিভিন্ন শহরে।

এরপর ভারত প্রদক্ষিণ করে বিশ্ব ক্রিকেটের এই রাজমুকুট বিশ্ব ভ্রমণ শুরু করে। যার ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কা হয়ে বাংলাদেশে এসেছে ট্রফিটি। বাংলাদেশ থেকে ১০ আগস্ট কুয়েতে যাবে বিশ্বকাপ ট্রফিটি।

র‌্যাবের মতো গোয়েন্দা পুলিশও এখন মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে : রিজভী

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ডিবি পুলিশের আক্রমণে টার্গেটকৃত নেতাকর্মীদের না পেলে পরিবারের সদস্যদের তুলে নেয়া হচ্ছে, এতে পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। র‌্যাবের মতো গোয়েন্দা পুলিশও এখন মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। 

সোমবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়া পল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশ এখন মনুষ্যত্বহীন আওয়ামী ফ্যাসিজমের কালো ছায়ার নিচে। নির্যাতনের নির্মমতার মুখে দাঁড়িয়ে আছে গণতন্ত্রকামী মানুষ। অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামী জনগণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আজ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দি পরেও দেশকে গণতন্ত্রের অভিমুখী না করে নিষ্ঠুর ফ্যাসিজমকে প্রতিষ্ঠিত করার আয়োজন চলছে মহাধুমধামে। কবির কথায় বলতে হয় ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এই পৃথিবীতে আজ’। হিংসার একটা আদিম রূপের ছবি বাংলাদেশের সর্বত্র। প্রভুত্বকামী জুলুমবাজ সরকারের বিষাক্ত থাবা পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী বিদ্বেষের মন্ত্রণাদাতা, শান্তির শত্রু। বিগত কয়েকদিনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয়েছে এক সর্বগ্রাসী সহিংসতার ভয়ঙ্কর আক্রমণ। আইনের শাসন, সুবিচার, মানবিক মর্যাদার অস্তিত্ব ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্রসমাজ থেকে মুছে দেয়া হয়েছে নগ্ন দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বাহিনী গুলোকে। গণতন্ত্র এখন মৃত, সেজন্যই গণতন্ত্রে স্বীকৃত বিরোধী দলের যেকোন কর্মসূচিকে বরদাস্ত করছে না অবৈধ সরকার। মিছিলের শব্দ শুনলেই গুলি চালানো হচ্ছে নির্বিচারে, সাপ পেটানোর মতো লাঠিপেটা করা হয় নেতাকর্মীদের। প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে বিরোধী নেতাকর্মীদের হাত, পা, পিঠ, পাকস্থলীই বিদ্ধ হচ্ছে না, তাদের মহামূল্যবান অঙ্গ চোখ হারিয়ে চিরদিনের জন্য অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে, চেনা পৃথিবী হয়ে যায় তাদের কাছে অচেনা। আজীবন পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে দিন কাটাতে হয়, এ বেদনা সহ্য করার মতো নয়। তাদেরকে সহমর্মিতা জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, বর্তমানে এদেশে মত প্রকাশের ওপর বাধা নিষেধ রয়েছে। ব্যক্তি স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে গেলে তার ঠাঁই হয় কারাগারে বা আয়নাঘরে। এখন রাজনৈতিক দলের সমাবেশের অধিকার পুলিশের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। সুষ্ঠু নির্বাচনে নিজের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় আনার অধিকার ভোটাররা হারিয়েছে। প্রতিনিয়ত সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য একটি তাবেদার তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অতিযত্নে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় অপপ্রচার আর কুৎসা ছড়ানোর জন্য গণমাধ্যমের কিছু অংশকে ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে। গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনকে রোধ করার জন্য অবৈধ কতৃর্ত্ববাদী সরকার জুলুমের সর্বোচ্চ পন্থা নামিয়ে এনেছে জনগণের ওপর। গণতন্ত্রের উল্টোযাত্রাকেই অব্যাহত রাখতে চায় আওয়ামী নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, কোনোভাবেই যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হতে না পারে সেজন্য খুন জখমে উৎসাহী ও সিন্ডিকেট হিতৈষী ম্যান্ডেটবিহীন আওয়ামী সরকার দমন-পীড়ণে নতুন নতুন মাত্রা যোগ করছে। মুদ্রা পাচার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান লোপাট, শাসকগোষ্ঠীর আত্মীয়স্বজনদেরকে হরিলুট করার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের সীমাহীন আবর্তের মধ্যে দেশকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এই অনাচারমূলক পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য তাদের ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা প্রয়োজন। তাই তারা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে গুম, খুন, ক্রসফায়ারের মতো অমানবিক নিষ্ঠুরতার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবেই এই আতঙ্কের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে যাতে গণতন্ত্রকামী মানুষ রাজপথে ধেয়ে আসতে না পারে। বিএনপি ও ভিন্ন মতের মানুষদের পাইকারী হারে গ্রেফতার, রিমান্ডের নামে নির্যাতন, কখনো বিবস্ত্র করে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বিগত দেড় দশক ধরে। শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এখনো সেই পৈশাচিকতা অব্যাহত আছে। আর এ ক্ষেত্রে দলীয় চেতনাবাহী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা এখন শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ২৮ ও ২৯ জুলাইয়ের পূর্বাপর চলছে জুলুম-উৎপীড়ণের নানামুখী তৎপরতা। পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের কতৃর্ক গ্রেফতার, গুম কোনোভাবেই থামছে না। গভীর রাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশের হানায় দিনকে দিন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। বিশেষ বিশেষ টিম গঠন করে চালানো হচ্ছে অভিযান। তাদের আক্রমণে টার্গেটকৃত নেতাকর্মীদের না পেলে পরিবারের সদস্যদের তুলে নেয়া হচ্ছে, এতে পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। র‌্যাবের মতো গোয়েন্দা পুলিশও এখন মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগের দলীয় অনুগত উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। 

রিজভী আহমেদ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আজ আদালতে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক সরকারসহ ২৭ জন নেতাকর্মীকে দু’বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আমরা আগেই বলেছি সরকারের নির্দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হচ্ছে। ইসাহাক সরকারসহ ২৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আজ সাজা প্রদানের ঘটনাও আরেকটি নতুন ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত। অবিলম্বে এই সাজার আদেশ প্রত্যাহারের জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

বৃহত্তর স্বার্থে আ’লীগের সাথে কাজ করবে বিজেপি : জে পি নাড্ডা

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি জে পি নাড্ডা বলেছেন, বিজেপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বৃহত্তর স্বার্থে একসাথে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা আগামী দিনে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করে আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

সোমবার (৭ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে তার বাসভবনে পাঁচ সদস্যের আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের সাথে বৈঠককালে জে পি নাড্ডা এসব কথা বলেন।

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ মিশন জানায়, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী এবং সংসদ সদস্য আরমা দত্ত ও অধ্যাপক মেরিনা জাহান বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে তারা এ অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জঙ্গিবাদ দমন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

এসময় নাড্ডা বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের একটি ঐতিহাসিক ও মানসিক সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানসমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়াদে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমানা ও সমুদ্রসীমা বিরোধ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্কর দুই প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে সমাধান করা হয়েছে।

বিজেপি সভাপতি কৃতজ্ঞতার সাথে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সক্রিয় উদ্যোগের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্কর সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ অঞ্চলে দেশের আর্থ-সামাজিক খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। যা এখন অন্যান্য দেশের কাছে উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

হাছান মাহমুদ বলেন, দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকটি ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, তারা বিজেপি সভাপতির সাথে অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিজেপি খুব ভালো সম্পর্ক উপভোগ করছে এবং আমরা দুই দল সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধান করছি।’

ভবিষ্যতেও এ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে বিজেপির সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তড়ে এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. আব্দুর রাজ্জাক তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেনু।

বৈঠকে তারা দুই দলের পাশাপাশি দুই দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিনিধি পর্যায়ের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে দলীয় পর্যায়ে সম্পর্ক আরও জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

পরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শঙ্করের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল।

সূত্র : ইউএনবি