Home Blog Page 648

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা শীর্ষে

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় বুধবার সকালে ঢাকার অবস্থান আবারো শীর্ষে। সকাল ১০টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১৯৮ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’।

১০১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। আর ৩০১ থেকে ৪০০ এর এর মধ্যে থাকা একিউআইকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

চীনের উহান ও নেপালের কাঠমান্ডু যথাক্রমে ১৯৪ ও ১৯১ এর স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে, সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।

দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে- ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

প্রথমবারের মতো ইরাক সফরে জাতিসঙ্ঘ প্রধান

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বিগত ছয় বছরের মধ্যে তার প্রথম সফরে মঙ্গলবার ইরাকে পৌঁছেছেন। দেশটিতে টানা রাজনৈতিক সঙ্কটের পর ‘সংহতি’ প্রকাশ করতে তিনি এ সফরে গেলেন।

গুতেরেস বলেন, তিনি ইরাকের জনগণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংহতি প্রকাশ করতে চান। এ সংহতির অর্থ জাতিসঙ্ঘ এই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর একত্রীকরণকে সমর্থন দিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

তিনি বলেন, তিনি দৃঢ়তার সাথে বলতে চান যে- ইরাকিরা এখনো যে অসুবিধা এবং চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হবে তা একটি উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে

সফরে গুতেরেসের বুধবার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ শিয়া আল-সুদানির পাশাপাশি নারী ও যুব অধীকার গ্রুপের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার তিনি ইরাকি কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতে ইরবিলে যাওয়ার আগে দেশটির উত্তরে বাস্তুচ্যুতদের একটি ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৭ সালে ইরাক সফর করেন।

এরপর তিনি কাতারে যাবেন। সেখানে তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
সূত্র : বাসস

জাতীয় বীমা দিবসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীমা খাতের আরো উন্নয়নের জন্য ও বীমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে জাতীয় বীমা দিবস-২০২৩-এর উদ্বোধন করেছেন।

বুধবার (১ মার্চ) সকালে তার সরকারি বাসভবন গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দিবসটির উদ্বোধন করেন।

অর্থমন্ত্রণালয় এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘বীমায় সুরক্ষিত থাকলে, এগিয়ে যাবো সবাই মিলে’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার জাতীয় বীমা দিবস উপলক্ষে বীমা কোম্পানি ও সাধারণ মানুষসহ বীমা শিল্পের সাথে জড়িত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা দিবসটি উপলক্ষে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন এবং দিবসটির প্রতিপাদ্যকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, আইডিআরএয়ের চেয়ারম্যান জয়নুল বারী ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বীমা খাতের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

১৯৬০ সালের ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। তারপর থেকেই তার সরকার প্রতিবছর ১ মার্চকে জাতীয় বীমা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে সরকার গত বছর ‘জাতীয় বীমা দিবস‘কে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করে।

সূত্র : বাসস

পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের ধরা যাচ্ছে না তা নয়, অনেক জঙ্গিকে ধরেছি। অনেক জঙ্গিকে খুঁজে বের করেছি। যারা পালিয়ে গেছে তাদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। আমরা তাদের নিশ্চয়ই ধরে ফেলব।’

‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২৩’ উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০টায় পুলিশ স্টাফ কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘জঙ্গি উত্থান ও তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। যখনই যে তথ্য তারা পাচ্ছেন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা কিন্তু জঙ্গিদের মূলোৎপাটন করে নিঃশেষ করে দিতে পারিনি। তবে সবকিছু কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছি। আমাদের নিরাপত্তা সংস্থা বিশেষ করে পুলিশ-র‌্যাব ভালো কাজ করছে বলেই সব কিছু কন্ট্রোলে আছে। আন্তর্জাতিকভাবে সারাবিশ্বে যেভাবে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। আমাদের দেশকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে অকার্যকর করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে, সবকিছু কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছি।’

বাংলা একাডেমি সংশ্লিষ্টদের ওপর ও বইমেলায় বোমা হামলা করা হবে, এমন হুমকির উড়ো চিঠি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরকম অনেক হুমকি আসে। আমরা সব কিছু শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সামনে নির্বাচন রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন এলে সব দলই তৎপর হয় নির্বাচনী প্রচারণা, ব্যানার ফেস্টুন প্রচার ও নিজস্ব মত কর্মসূচি প্রচার করেন। এটাই যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি। নির্বাচন এলে সবার মধ্যে উৎসুক দৃষ্টি থাকে। সেই সময় সব রাজনৈতিক দল তাদের মতামত, চিন্তা নিয়ে কাজ করেন। সামনে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়নি। সবাই কাজ করছেন। আমার মনে হয় নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মৃত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে প্রতি বছর ১ মার্চ পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালন করছে বাহিনী। তবে কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ পেতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। ডিসিদের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কারণে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতায় বিলম্ব হচ্ছে। এ ব্যাপারে এসপিদের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা গত বছর বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপিকে উত্তর দেয়ার অনুরোধ জানান। আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছি। বিবেচনায় আছে। আশা করছি, খুব শিগরির এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পাবো।

বাড়ছে সাইবার অপরাধ, শিকার হচ্ছে নারী-শিশু

ভারতে নারী ও শিশুদের সাথে বেড়েই চলেছে সাইবার অপরাধ। সংগঠিত এসব অপরাধের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধের শিকার পরিবারই পুলিশি তদন্ত চায় না।

২০১৬ সালের ঘটনা। তিরিশ ছুঁই ছুঁই এক নারীর কাছে জিমেইলে কুকথা লিখে পাঠাতে শুরু করেন কেউ।

ঘটনার শিকার নারী কলকাতার বাসিন্দা হলেও কাজের সূত্রে দিল্লি লাগোয়া গুরুগ্রামে থাকতেন।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ওই নারী বলেন যে ওই ইমেইলগুলো কে পাঠাচ্ছিল, আমি এক রকম নিশ্চিত ছিলাম। মেসেজ ও ইমেইলগুলো ফেক আইডি থেকে পাঠানো হতো। আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে এক নারীর সাথে আমার সামান্যই আলাপ হয়েছিল। আমি কেন ওই ছেলেটির সাথে বন্ধুত্ব রেখেছি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ওই নারী। ধীরে ধীরে গালিগালাজ দেয়া শুরু হয়। তারপর সেটা পৌঁছায় অশ্রাব্য গালিগালাজে। আমার চেহারা নিয়ে বিভিন্নভাবে বুলিং করতে শুরু করেন।

ওই বছরেরই শেষের দিকে তিনি কলকাতা পুলিশের কাছে সশরীরে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন।

বেনামী অভিযোগ বাড়ছে
২০১৯ সাল থেকে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে জাতীয় স্তরের একটি পোর্টালে নাম প্রকাশ না করেই অভিযোগ জানানো যায়। তবে সেসব বেনামী অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে পুলিশ কোনো তদন্তই করছে না।

ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে ২০২০ সালে নারী এবং শিশুদের সাথে সাইবার অপরাধ হওয়ার ১৭ হাজার ৪৬০টি বেনামী অভিযোগ জমা পড়েছিল, যার মধ্যে পুলিশ মাত্র ২৬টি এফআইআর দায়ের করেছে।

আবার ২০২২ সালে ৫৬ হাজার ১০২টি বেনামী অভিযোগ দায়ের হলেও মাত্র নয়টি অভিযোগের ক্ষেত্রে এফআইআর হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর বিভাস চ্যাটার্জী জানান, বিপুল সংখ্যক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এফআইআর হয় না, এটা সঠিক। তবে অপরাধের শিকার হওয়া পরিবার যখন অভিযোগ জানাতে আসেন তখন বেশিরভাগেরই অনুরোধ থাকে যে পেজ বা অ্যাকাউন্ট থেকে অপরাধটা সংঘটিত হয়েছে, সেই পেজ বা অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়ার।

তিনি আরো জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মামলা হওয়া উচিত তথ্যপ্রযুক্তি আইনে। কিন্তু মামলা দায়ের করা হয় ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী। কারণ তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ইন্সপেক্টর র‍্যাঙ্কের হতে হয়। আর পর্যাপ্ত ইন্সপেক্টর না থাকায় অনেক সময় দণ্ডবিধি অনুযায়ী মামলা করা হয় না।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বেনামী অভিযোগের ক্ষেত্রে একটা বড় সমস্যা হলো যদি বাড়তি কোনো তথ্য দরকার হয়, তবে সেটা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।

অন্যদিকে, একজন অভিযোগ জানানোর পর তদন্তের অগ্রগতির বিষয়েও তিনি জানতে পারবেন না। কারণ বেনামী অভিযোগ হওয়ার ফলে তার অভিযোগ ট্র্যাক করার কোনো পদ্ধতি নেই।

বেশিরভাগ পরিবারই তদন্ত চায় না
সাইবার অপরাধের মধ্যে সবথেকে গুরুতর অপরাধগুলো হলো রিভেঞ্জ পর্ণ, ধর্ষণের হুমকি, ব্ল্যাকমেইল করা আর সেক্টটর্শান। বিভাস চ্যাটার্জী পশ্চিমবঙ্গের প্রথম রিভেঞ্জ পর্ণ সংক্রান্ত মামলাটিতে অবশ্য অপরাধীকে জেলে পাঠিয়ে ছিলেন।

অপরাধের শিকার হওয়া নারীর পরিবার চান না তদন্ত বা মামলা করতে। আমাদের চিন্তাধারা এমন যে ভিক্টিম লুকিয়ে বেড়াবে আর অপরাধী বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াবে।

দরকার মানসিক সহায়তা
এফআইআর না নেয়ার ব্যাপারে সরকারি কৌঁসুলি বিভাস চ্যাটার্জী বলছেন, যেহেতু একজন নারী বা শিশুর অনলাইন পরিচয় প্রকাশ পেয়ে গেছে অপরাধীদের মাধ্যমে, সেটা আটকাতে পুলিশ বেশি তৎপর থাকে। ওই অনলাইন পরিচয় পৃথিবীর কোনো প্রান্তে গিয়ে কোন অপরাধ চক্রের হাতে পড়বে বলা যায় না। সেটা আটকানোই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

আবার এ ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া মানুষের জন্য বিশেষজ্ঞ মনোবিদও রয়েছেন, যারা একদিকে পরামর্শ দেন কিভাবে সাইবার অপরাধে ঘটনা পুলিশের কাছে জানাতে হবে, তেমনই তিনি অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তির মানসিক চিকিৎসাও করেন।

আইনজীবী বিভাস চ্যাটার্জী বলছিলেন, ‘সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে মানসিক সহায়তা খুবই জরুরি। এতে অনেক ভিক্টিমই অভিযোগ দায়ের করবে এবং তাদের আর লুকিয়ে থাকতে হবে না।’

সূত্র : বিবিসি

ইবির ৫ ছাত্রীকে বহিষ্কার ও হল প্রভোস্টকে প্রত্যাহার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে পাশবিক ও অমানবিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় পাঁচ ছাত্রীকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসাথে সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১ মার্চ) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ওই পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন- ইবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ছাত্রলীগ কর্মী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম, আইন বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান মীম, ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মী ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোয়াবিয়া। অন্তরা ছাড়া সবাই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করার পর আজ বুধবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। এদিন বিচারিক তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়।

বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নির্যাতিত হওয়ার পরেও অন্তরার জোরাজুরিতে ভিকটিম মুচলেকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। ভিকমটিমকে হল থেকে বিতাড়িত করতে চাপ দিলে হল প্রভোস্ট তাকে হলত্যাগের নির্দেশ দেন। পরে মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হয়।

আদালত শুনানি নিয়ে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো আইনজীবী আছে কিনা সেটা জানতে চান।

আদালত থেকে বের হয়ে রিটকারী আইনজীবী মো: মহসিন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কমিটিতে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। লিখিত বক্তব্য এবং অডিও ক্লিপসহ তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।

এতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, লিমা, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম ইসলাম, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মীম, চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার ঊর্মি ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মুয়াবিয়া জাহানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। লিমা বিচারিক তদন্তে এসেছে। আর বাকিরা দুই তদন্তেই আছেন।

বিচারিক তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের প্রভোস্ট এবং হাউজ টিউটরদের চরম ব্যর্থতা ও অবহেলার অভিযোগ উঠে এসেছে। কারণ তারা হলো তাদের হলের অভিভাবক। তারা তাদের দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছে। অন্তরা এবং অভিযুক্তরা এই ভিকটিমের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করে। প্রোভোস্টের সামনেই তারা এটা করে। প্রভোস্ট অভিযুক্তদেরকে সাহায্য করে- এটা বিচারিক তদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে। আর বিচারিক তদন্তে আরেকটি যে বিষয় উঠে এসেছে তা হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর চরম উদাসীনতা দেখিয়েছেন, অবহেলা করেছেন। তিনি অভিযোগ পাওয়ার পরেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নেননি। আজকে রিপোর্ট দেখে আদালত আগামীকাল আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া ইবির ছাত্রী ফুলপরীকে রাতভর মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তার আগের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রীকে রাতভর মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে জড়িতদের হাইকোর্টে তলব করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো: মোহসীন জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব, ইবির ভিসি, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে ফুলপরী খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ ছাত্রীর আবাসিকতা বাতিল করেছে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল কর্তৃপক্ষ। তাদের সবাইকে আগামী ১ মার্চের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

গতকাল সোমবার এ ঘটনার দুটি তদন্ত প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় এ প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার আদালতে দাখিল করেন। এরই মধ্যে গতকাল ইবি’র হল থেকে পাঁচজনকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত ছাত্রীরা হলেন- ইবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ছাত্রলীগ কর্মী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম, আইন বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান মীম, ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মী ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোয়াবিয়া। অন্তরা ছাড়া সবাই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের গণরুমে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ নেত্রীর নাম সানজিদা চৌধুরী অন্তরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার সহযোগী তাবাসসুম ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী ছাত্রীও একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন নির্যাতনের শিকার ছাত্রী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম রাত ৮টায় ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রজাপতি-২ রুমে যেতে বলেন। অসুস্থ থাকায় সেদিন তিনি যেতে পারেননি। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীকে হল থেকে নামিয়ে দেয়ার হুমকি দেন তাবাসসুম। ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রথম দফায় র‌্যাগিং করে তাকে হল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে হলের প্রভোস্টের সহযোগিতায় তখন সেটা সম্ভব হয়নি।

পরদিন রোববার ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরাসহ ৭-৮ জন মিলে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে গণরুমে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং মুখ চেপে ধরে গালিগালাজ করা হয়। এমনকি তাকে ময়লা গ্লাস মুখ দিয়ে পরিষ্কার করতে বলেন সানজিদা। পরে ওই ছাত্রীকে জামা খুলতে বলেন অভিযুক্তরা। জামা না খুললে পুনরায় মারতে থাকেন তাকে। এরপর জোর করে তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেন তারা। এ ঘটনা কাউকে বললে হত্যার হুমকিও দেয়া হয় ভুক্তভোগীকে।

ময়মনসিংহে ধানখেত থেকে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

ময়মনসিংহ সদরের একটি ধানখেত থেকে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার সকালে উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের গোষ্ঠা পশ্চিমপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলামের ধানখেত থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মৌসুমী আক্তার (২৫) মুক্তাগাছা উপজেলার সৈয়দ গ্রামের পুলিশ সদস্য সুজন হাসানের স্ত্রী। সুজন নারায়ণগঞ্জে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, বুধবার সকালে শফিকুল ইসলামের ধানখেতে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ফারুক হোসেন আরো জানান, প্রাথমিক তদন্তে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : ইউএনবি

রোনালদোর সাড়ে ৪ ঘণ্টার দাম সাড়ে ১১ কোটি টাকা!

অর্থের দিক থেকে এমনিতেই তিনি বিশ্বের বাকি ক্রীড়াবিদদের থেকে অনেক এগিয়ে। ফুটবল খেলা ছাড়াও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আরো যে কয়েকটি বিভাগ থেকে উপার্জন করেন, তার মধ্যে একটি হলো বিজ্ঞাপন। প্রতি বছরই বাংলাদেশী মুদ্রায় কয়েক কোটি টাকা রোজগার করেন তিনি। সম্প্রতি একটি তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে একটি বিজ্ঞাপনে রোনালদোর আকাশছোঁয়া উপার্জনের কথা জানা গিয়েছে।

জার্মানির একটি সংবাদপত্রের দুই সাংবাদিক রাফায়েল বুশম্যান এবং মাইকেল উলজিঙ্গার একটি বই প্রকাশ করেছেন। ফুটবল ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ফুটবলারদের কত অর্থ দিয়ে ভাড়া করা যায়, সেই তথ্য রয়েছে বইয়ে। সেখান থেকেই জানা গেছে, সৌদি আরবের একটি টেলিকম সংস্থা ছবি স্বত্ত্বের জন্য রোনাল্ডোর সাথে চুক্তি করেছিল। সাড়ে ৪ ঘণ্টার জন্য রোনালদোকে পেয়েছিল তারা। তার মধ্যে একটি ফটোশুট, পাঁচটি সই করা জার্সি এবং রোনাল্ডোর সমাজমাধ্যমে দু’টি পোস্ট করার চুক্তি হয়েছিল।

সেই কাজের জন্য সৌদির ওই টেলিকম সংস্থার কাছে ৯লাখ ২০ হাজার পাউন্ড বা বাংলাদেশী মুদ্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার বেশি চায় রোনালদোর সংস্থা। সৌদির সংস্থা সেটি দিয়েও দিয়েছিল। বদলে বিজ্ঞাপনে রোনালদোর ছবি ব্যবহারের অনুমতি মিলেছিল। তবে আঞ্চলিক সংস্থা হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে তারা শুধু বিজ্ঞাপন দিতে পারত রোনালদোর ছবি দিয়ে।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

আবারো বাড়ল বিদ্যুতের দাম

বিদ্যুতের দাম আবারো বাড়ানো হয়েছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে এ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে শতকরা ৫ শতাংশ বাড়িয়ে বিদ্যুতের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ দফায় আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিটের দাম ৩ টাকা ৯৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৩৫ পয়সা, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিটের দাম ৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৮৫ পয়সা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৯৫ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৩৪ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের দাম ১০ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের দাম ১২ টাকা ৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে দুই দফায় বাড়ানো হয় বিদ্যুতের দাম। এটি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই ভাগে কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ ৩০ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে খুচরা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ও পাইকারি পর্যায়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয় বিদ্যুতের দাম।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ সামলাতে এ বছর প্রতি মাসে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করছে সরকার। আজ বাড়ানোর মাধ্যমে গত ১৪ বছরে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৩ বার বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম।

আগে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করত এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আইন সংশোধন করে এ ক্ষমতা হাতে নিয়েছে সরকার। এর পর থেকে নির্বাহী আদেশে দাম বাড়াচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

চীনা প্রস্তাবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হবে কি

রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাতের প্রথম বার্ষিকীতে, বেইজিং ‘ইউক্রেন সঙ্কটের রাজনৈতিক মীমাংসার বিষয়ে চীনের অবস্থান’ শিরোনামে একটি অবস্থানপত্র প্রকাশ করেছে। ১২ দফায় চীনের অবস্থানকে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। চীনের প্রস্তাবে সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা, শীতল যুদ্ধের মানসিকতা পরিত্যাগ, শত্রুতা বন্ধ, শান্তি আলোচনা আবার শুরু করা, মানবিক সঙ্কটের সমাধান, বেসামরিক ও যুদ্ধবন্দীদের রক্ষা করা, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরাপদ রাখা, কৌশলগত ঝুঁকি হ্রাস করা, শস্য সরবরাহ বজায় রাখা, রফতানিতে একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করা, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখা এবং দ্বন্দ্ব-পরবর্তী পুনর্গঠনের কাজ শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

ইউক্রেনের আগ্রহ কতটা
যেকোনো শান্তি প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রধান পক্ষ হিসেবে ইউক্রেনের মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক টুইট করে বলেছেন, যেকোনো শান্তি পরিকল্পনায় যদি শুধু একটি যুদ্ধবিরতির কল্পনা করা হয় এবং রাশিয়াকে ইউক্রেনের যেকোনো অংশে দখল চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় তার অর্থ শান্তি প্রতিষ্ঠা নয়, যুদ্ধকে স্থগিত করা। ইউক্রেন মনে করে দেশটির ভূখণ্ড থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহার ছাড়া কার্যকর শান্তি সম্ভব নয়।

আত্মসমর্পণের মতো পরাজিত হবার অবস্থা ইউক্রেনের কোনোভাবেই এখনো সৃষ্টি হয়নি, যাতে তারা রুশ দখল বজায় থাকা অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধের বিষয় মেনে নেবে। পূর্ব ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে কিয়েভ সৈন্যদের মনোবল এখনো উচ্চে। ডনেটস্কের পূর্বাঞ্চলে ‘কুক’ কল সাইন দিয়ে যাওয়া একজন সৈনিক বলেছেন, ‘ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করছেন। কেউ ভাবেনি যে ইউক্রেন তার অবস্থান ধরে রাখবে, আমি জানি অলৌকিক ঘটনা ঘটে।’

এর মানে হলো ইউক্রেনিয়ানদের অনেকে এখনো বিশ্বাস করে রাশিয়া পরাজিত হতে পারে। কারণ রুশ জয় মানে ইউরোপের পরাজয়। এরপরও ইউক্রেন চীনের এই প্রচেষ্টাকে একবারে খারিজ করে দেয়নি। প্রস্তাবের বিস্তারিত জানতে চীনা নেতাদের সাথে কথা বলার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

পাশ্চাত্যের মনোভাব
ইউক্রেনের মিত্ররা চীনা প্রস্তাবের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান সিএনএন-এ বলেন যে, প্রস্তাবের প্রতি তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল যে, ‘যুদ্ধটি এক পর্যায়ে থামতে পারে, যদি সব জাতির সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হয়।’ তিনি উল্লেখ করেন : ‘রাশিয়া যদি ইউক্রেনে আক্রমণ করা বন্ধ করে এবং তার বাহিনী প্রত্যাহার করে তবে এই যুদ্ধ আগামীকাল শেষ হতে পারে… এটি ছিল একটি তৈরি করা যুদ্ধ।’

জার্মান ইউক্রেন সঙ্ঘাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। জার্মান সরকারের মুখপাত্র উলফগ্যাং বুচনার বলেছেন যে, চীনা প্রস্তাবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে, তবে এতে একটি মূল বিষয় অনুপস্থিত রয়েছে সেটি হলো : ‘প্রথম এবং সর্বাগ্রে ইউক্রেন থেকে রাশিয়ান সৈন্য প্রত্যাহার।’

ইউক্রেনের এই যুদ্ধ পশ্চিমাদের জন্য ভূখণ্ড লাভ বা হারানোর চেয়ে অনেক বেশি কিছু। ইউক্রেনীয় জাতি, একটি ইউরোপীয় জাতি, তারা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে। ইউরোপীয়দের আশঙ্কা পুতিন যে সাম্রাজ্যবাদী মতাদর্শ যা অন্য জাতির অস্তিত্বকে অস্বীকার করে আগ্রাসন শুরু করেছে তা কেবল একটিতেই থেমে থাকবে না। রাশিয়াকে যদি আগ্রাসনের সুফল পেতে দেওয়া হয়, যুদ্ধের শিখা আরো ইউরোপীয় দেশে জ্বলবে এবং স্বৈরাচার গ্যাংগ্রিনের মতো ছড়িয়ে পড়বে সবখানে।

রুশ প্রতিক্রিয়া
চীনা প্রস্তাবের পর প্রাথমিকভাবে মস্কো চুপচাপ ছিল। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভা বলেছেন, চীনের এই পরিকল্পনার অর্থ হলো ‘ইউক্রেনে পশ্চিমারা যে অস্ত্র ও ভাড়াটে সৈন্যের জোগান দিচ্ছে, তা বন্ধ হওয়া।’ তিনি আরো বলেন, এই পরিকল্পনার অভিপ্রায় হলো, ‘হিংসার অবসান, ইউক্রেনের নিরপেক্ষ অবস্থানে ফিরে যাওয়া, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে যে নতুন সীমানার বিন্যাস তৈরি হয়েছে, তার স্বীকৃতি প্রদান এবং ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসিমুক্ত করা ও ইউক্রেন ভূখণ্ড থেকে যে ধরনের হুমকি সৃষ্টি হয়েছে, তার অপসারণ।’ রাশিয়ার এই বক্তব্য সঠিক হলে এটি স্পষ্টত মনে হয় বেইজিং রাশিয়ার সাথে আলোচনা করে এই প্রস্তাব দিয়েছে।

আর রাশিয়ার বাস্তবতা হলো সামরিক বাধা এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, ৭০ বছর বয়সী পুতিন পশ্চিমাদের নব্য-নাৎসি বাহিনীকে সমর্থন করার অভিযোগ এনে এবং রাশিয়ার বেঁচে থাকাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে দাবি করে পিছু হটতে অস্বীকার করছেন। পুতিন তার রাষ্ট্রীয় ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমরা মানুষের জীবন রক্ষা করছি, এটি (ইউক্রেন) আমাদের আদি বাড়ি, আর পশ্চিমের লক্ষ্য অবিরাম শক্তি প্রয়োগ করা।’ পুতিন এর আগেও একাধিক বার ইউক্রেনকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পতিনের কথায় তারই প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
ইউক্রেনের ওপর পুতিনের আক্রমণ এবং এরপর সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলে এটি ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় গণপ্রস্থান হতে পারে। অনেক রাশিয়ান কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যা এবং বহুসংখ্যক হতাহতের পরও পুতিনের পিছনে সমর্থন বজায় রেখেছেন। মস্কোর ৪৮ বছর বয়সী নিরাপত্তা প্রহরী লিউবভ ইউডিনা বলেছেন, ‘দেশটি সত্যিই উন্নতির জন্য পরিবর্তিত হচ্ছে।’ এর উল্টোটাও রয়েছে। ২৮ বছর বয়সী শিক্ষক রুসলান মেলনিকভ হতাশ হয়ে বলেছেন,‘আমি (রাশিয়ার) এখন কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি না।’

পুতিন অবশ্য এখন সম্ভবত বুঝতে শুরু করেছেন, ইউরোপ ও ন্যাটোর ওপর বিজয় অর্জন করা মস্কোর পক্ষে অসম্ভব। এজন্য চীনের সাথে অপ্রকাশ্য আলোচনা করে শান্তি প্রস্তাবে তিনি সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। তবে তিনি যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইলেও অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং দখল বজায় রাখার পুনরুল্লেখই করেছেন।

যুদ্ধ কি শেষ হবে?
যুদ্ধ সম্পর্কে বলা হয়, ‘এটি আপনি শুরু করতে পারেন নিজের সিদ্ধান্তে কিন্তু তা আপনি চাইলে শেষ করতে পারেন না।’ একটি পুরনো চীনা প্রবাদ আছে: ‘অসুস্থতা আসে ভূমিধসের মতো, অসুস্থতা যায় সুতোর মতো টানা ধীরগতিতে।’ বেইজিংও উল্লেখ করেছে, আমাদের কারো এমন একটি জাদু-সমাধান নিয়ে আসার আশা করা উচিত নয় যা অবিলম্বে ইউক্রেন সঙ্কট সমাধান করবে। কোনো ব্যক্তি, দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা এটি অর্জন করতে পারে না। জটিল সমস্যার সহজ সমাধান নেই। তবে, সমস্যা যত জটিলই হোক না কেন, সংলাপ ও আলোচনার পথ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়; বিরোধ যতই তীক্ষ্ম হোক না কেন, রাজনৈতিক সমাধানের জন্য অবিচল থাকা উচিত; আর পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, শান্তির সুযোগ দেয়া উচিত।

চীনের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে পশ্চিমারা উচ্ছাস বা গুরুত্ব কোনোটাই দিয়েছে বলে গত কয়েক দিনে মনে হয়নি। বর্তমানে আমেরিকা ও তার মিত্ররা রাশিয়ার সাথে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়েই প্রশ্ন তুলছে, যদিও চীন বলেছে ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানের জন্য পশ্চিমের পক্ষ থেকেই চীনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বেইজিং যেন রাশিয়ার সাথে তার সম্পর্ককে ব্যবহার করে। পশ্চিমা সূত্রগুলোই বলছে, পুতিন ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে চীন ও ভারতের অনুরোধে। এখানে সমস্যাটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে না এমন কোনো সমাধান ভালো নয়। অন্য দিকে পশ্চিমারা লাভবান হয় চীন এমন কোন নিষ্পত্তি প্রত্যাশা করে না।

ফ্রান্স টিমারম্যানস এর মতো অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, পুতিন এই যুদ্ধে জিতবে না। আসলে, তিনি ইতোমধ্যে এতে হেরে গেছেন। তবে তিনি এটিকে দীর্ঘায়িত করতে পারেন বা একটি আধা-হিমায়িত সঙ্ঘাত তৈরি করতে পারেন যদি ইউক্রেন রাশিয়ান বাহিনীকে বহিষ্কারের জন্য যা প্রয়োজন তা থেকে বঞ্চিত হয়। যে কোনো শান্তি স্থায়ী হওয়ার জন্য, তা অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত হতে হবে। আর ন্যায়সঙ্গত হতে হলে, এটি অবশ্যই ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক সীমানা, এর গণতন্ত্র, এর রাষ্ট্রত্ব এবং নিজের ভাগ্য বেছে নেয়ার অধিকারকে সম্মান করতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাশিয়ার আগ্রাসনের ন্যায্যতা ইউক্রেনের রাষ্ট্রত্ব অস্বীকারের ওপর ভিত্তি করে। এ ধরনের দাবিগুলো একটি রাশিয়ান জাতীয়তাবাদী এবং সাম্রাজ্যবাদী মতাদর্শের জন্ম দেয় যা একটি স্বতন্ত্র ইউক্রেনীয় পরিচয়ের ধারণাকে বাতিল করে।

যুদ্ধ বন্ধ সম্ভব যদি-
এ সময়ে এসে যুদ্ধ সব পক্ষ বন্ধ করতে চায় বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়। তবে তারা নিজেদের জয়ও একই সাথে নিশ্চিত করতে চায়। চীনা প্রস্তাবের ইতিবাচক দিক হলো, এখানে একটি মধ্যপন্থার সন্ধান করা হয়েছে। ভৌগোলিক অখণ্ডতার স্বীকৃতি এতে রয়েছে আবার রাশিয়ার ওপর আরোপিত একপাক্ষিক (জাতিসঙ্ঘে ছাড়া) বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে আর এখন এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ দুটি বিষয়কে নিষ্পত্তি করা ছাড়া ইউক্রেন নিয়ে কার্যকর সমঝোতা হবে বলে মনে হয় না। এ ক্ষেত্রে ডনবাস অঞ্চলকে ছাড়তে হবে রাশিয়াকে আর ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার দখলদারিত্বকে মেনে নিতে হবে কিয়েভকে। তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে রাশিয়ান সৈন্য প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে। ইউক্রেনের অবকাঠামো পুনর্বাসনে রাশিয়াকে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে অংশ নিতে হবে। দনবাসে মিনসক চুক্তি অনুসারে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা যেতে পারে। যেটি নিশ্চিত করতে পারে জাতিসঙ্ঘ বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে। এই মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য হলে বাকি বিষয়গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হয়ে যেতে পারে। তবে মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়ায় কেবলমাত্র চীনের সম্পৃক্ততাই সমাধানে উন্নীত হতে সহায়তা করবে না। এখানে তুরস্ক বা ইউরোপের কোনো দেশকেও সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের একক কৃতিত্ব যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না তার প্রতি প্রতিদ্ব›দ্বীসুলভ মনোভাবের কারণে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের চীন সফরের পরিকল্পনার সাথে এর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকতেও পারে।

mrkmmb@gmail.com