Home Blog Page 650

কবিতা/ শুষ্ক হৃদ ভিটা

///শুষ্ক হৃদ ভিটা

——-✍️ মমতা মজুমদার 

এখন আমি তপ্ত রোদে পুড়ছি দিবারত

চৈত্র বৈশাখ পিঠে চেপে বসছে অবিরত।

খরায় ভীষণ পুড়ছে হিয়া শুষ্ক হৃদ ভিটা

একটুখানি প্রশান্তি পেলে মনটা হত মিঠা।

এখন শুধুই দাবানলে পুড়ছে কতক কায়া

পৃথিবীটা পুড়ে পুড়ে রেখে গেছে তার মায়া।

অধির হয়ে দেখি কোথাও নেই যে কোন ক্ষণ

দুঃখ স্রোতের বারিধায়ায় বসুধার শান্ত মন।

এখন সময় আঁধার ভীষণ দগ্ধতায় চারপাশ

তৃপ্তি ভরে এ ধরার বুকে পাইনা নিতে শ্বাস।

কোথায় আছে শান্তি খুঁজি পাখির মত ঘুরে

অবিশ্বাস্য হলেও যদি নিতাম খানিক কুঁড়ে।

কার বুকেতে দুঃখ খেলে কার হৃদয়ের দহন

সময় করে দেখতাম শুধু, নিরব সাগর বহন।

কবিতা/ খাণ্ডব দাহনে 

খাণ্ডব দাহনে 

এস ডি সুব্রত

বিষাদ বিস্বাদের অনুভূতিগুলো

মননে মগজে সেঁটে থাকে শুধু

তৃষ্ণায় কাতর মন বৃষ্টির অপেক্ষাতে

শান্তির জলে হৃদয় ভেজাতে

ভালবেসে তবু হই অপরাধী 

নিরবে নিভৃতে ভাঙ্গে অশ্রুনদী ,

বিধির বিধানে  ঘুরেফিরে  শোকের সঙ্গী

স্মৃতির পায়রারা  যায় যেন উড়ে

দূর থেকে দূরে  এক ধূসর  জগতে 

কষ্টে ভরা এক মায়া  নদী

খাণ্ডব দাহনে  পোড়ে  এই  মনোভূমি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মারা গেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রধান কিডনি বিশেষজ্ঞ ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক মামুন মোস্তাফী রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন ।একইসাথে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।

এদিকে, ৮১ বছর বয়সী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। কিছু দিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগেও ভুগছিলেন। গত বুধবার তাকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন। পিতামাতার ১০ জন সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়।

তিনি বকশীবাজারের নবকুমার স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণের পর তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৬৭ সালে বিলেতের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিলেতের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসে এফআরসিএস পড়াকালীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি চূড়ান্ত পর্ব শেষ না-করে লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার নিমিত্তে আগরতলার মেলাঘরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং এরপরে ডা. এম এ মবিনের সাথে মিলে সেখানেই ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন।

তিনি সেই স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক নারীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যজ্ঞান দান করেন, যা দিয়ে তারা রোগীদের সেবা করতেন এবং তার এই অভূতপূর্ব সেবাপদ্ধতি পরে বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল পেপার ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত হয়।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়াও তিনি ফিলিপাইন থেকে রামন ম্যাগসাইসাই (১৯৮৫) এবং সুইডেন থেকে বিকল্প নোবেল হিসেবে পরিচিত রাইট লাভলিহুড (১৯৯২), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ হিরো’ (২০০২) এবং মানবতার সেবার জন্য কানাডা থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। ২০২১ সালে আহমদ শরীফ স্মারক পুরস্কার পান।

কবিতা/এলো রে বৈশাখ

এলো রে বৈশাখ

-বিচিত্র কুমার 

এলো রে বৈশাখ –

বাজে ঢোল বাজে ঢাক

নতুনত্বের দিয়ে ডাক, 

মন নাচে প্রাণ নাচে

এলো ফিরে পহেলা বৈশাখ। 

এলো রে বৈশাখ –

শুভ দিন কাটে উল্লাসে 

খুকুর পায়ে নূপুর বাজে, 

শাড়ি পড়ে কানে দুল

নিত্য নতুন কত্ত সাজে।

কবিতা/ বৈশাখী মেলা

বৈশাখী মেলা

আতিকুর রহমান

চলরে সবাই বটের ছায়ায় 

বসলো বোশেক মেলা

কিনবো লাঠিম কিনবো গাড়ি 

করবো, দারুন খেলা।

বোনের জন্য কিনবো চুড়ি 

লেইস ফিতা আর শাড়ি 

বাংলা সাজে সাজবে বোন 

মাতিয়ে রাখবে বাড়ি।

ঢোলের শব্দে বাঁশির সুরে 

বৈশাখী গান তুলে

নতুন দিনের আনন্দেতে 

নাচবো হেলে দুলে।

কবিতা/ইচ্ছে কথা

ইচ্ছে কথা

এবি ছিদ্দিক 

ভাবি যেমন হয় না তেমন ইচ্ছে নদীর ধারা

হয়তো বেশি নয়তো কম, অন্য রকম সাড়া

রাত নিশীথে জীবন খাতা খুলে যখন পড়ি

কল্পনা আর বাস্তবতায় অসীম ফারাক দেখি

বোকা-সোকা এই আমিকেও নকল পাড়ায় পাই

ইচ্ছে দিনের কথা ভেবে একলা হেসে যাই

বলছি মুখে যেমন কথা নয়তো জীবন তেমন

কাব্য লেখাও হলো না আর মন চেয়েছে যেমন

ইচ্ছে নদীর এইতো ধারা ভাবলে আয়ু ক্ষয়

তবু ইচ্ছে সেলাই করে…ভাবি সুখের জয়।

কবিতা/ শুভ নববর্ষে

শুভ নববর্ষে

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

রঙে রঙে সাজে দেশ

ঢোল বাজে হর্ষে

চারদিকে হাসি খুশি

শুভ নববর্ষে।

পাখি ওড়ে নীলাকাশে

গাছে ফুল ফুটে

ধান খেতে চাষি ওই

রাঙা পান ঠোঁটে।

বধূ গায় সুখে গান

মাঠে বসে মেলা

খোকা খুকু ঘুরে সুখে

কাটে কী যে বেলা।

নববর্ষে দুখ ভুলে

আনন্দে যে দেশ

সবুজের মেলা বয়

লাগে ভালো বেশ।

ঈদে ছুটি ৫ দিন করে প্রজ্ঞাপন জারি, বাড়তে পারে আরেক দিন

শবে কদরের পরে এবং ঈদের ছুটির আগে ২০ এপ্রিলকে (বৃহস্পতিবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ফলে এবার ঈদের সরকারি ছুটি পাঁচ দিন হবে। তবে রোজা ৩০টা পূর্ণ হলে ছয় দিন ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সবকিছু নির্ভর করছে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর।

এর আগে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই তারিখে সাধারণ ছুটি অনুমোদন করা হয়।

এবার ২২ এপ্রিল শনিবার ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করে ছুটির তালিকা তৈরি করে সরকার। সে অনুযায়ী শুরুতে যে তিন দিন ছুটি ছিল। এর মধ্যে শুক্র ও শনিবার পড়ে যাচ্ছিল। অর্থাৎ সরকারি চাকুরেদের ঈদের ছুটির তিন দিনের দু’দিনই পড়ে যাচ্ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে।

তবে ১৯ এপ্রিল শবে কদরের ছুটির পর ২০ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা হওয়ায় এখন ঈদের ছুটি দাঁড়াচ্ছে পাঁচ দিনে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতাবলে ২০ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সিটি নির্বাচনে বিএনপি ঘোমটা পরে আসবে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সরাসরি না এলেও ঘোমটা পরে আসবে। এটা তাদের রাজনীতির আরেক ভণ্ডামি।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রতীক (ধানের শীষ) ছিল না, কিন্তু ঘোমটা পরে সব খানেই তাদের প্রার্থী ছিল। এই ঘোমটা পরা প্রার্থী কিন্তু সিটি নির্বাচনেও থাকবে। সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফ অলরেডি ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যান্য সিটিতেও ঘোমটা পরা তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।’

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

আগামী ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন উপলক্ষে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদাহ ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা মহল বিএনপির নেতৃত্বে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত দিবসগুলোকে অস্বীকার করে, পালন করে না, উপেক্ষা করে। এর মধ্যে ১৭ এপ্রিল একটি। এদিন দেখবেন বিএনপির কোনো কর্মসূচি নেই।

তিনি বলেন, ৭ মার্চ তারা পালন করে না। স্বাধীনতার পথে স্বাধীকার আন্দোলনে ৭ জুন গুরুত্বপূর্ণ। এদিনও তারা পালন করে না। এরা নাকি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী! দেখবেন তাদের বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধু নেই। তাদের অনুষ্ঠানমালায় বঙ্গবন্ধু নেই। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার মহানায়ক নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমান যা শুরু করে দিয়েছিল সেই ধারা বিএনপি এখনো অব্যাহত রেখেছে। ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি এমনটা করেছে এখনো তারা সেই ভাবধারা বহন করছে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় তারা বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণার পাঠক মাত্র। ঘোষণার পাঠক ঘোষক হতে পারে না। স্বাধীনতার ঘোষণা অনেকেই পাঠ করেছেন। স্বাধীনতা ঘোষণার একমাত্র বৈধ অধিকার ছিল বঙ্গবন্ধুর। সত্তরের নির্বাচনে জনগণ তাকে সেই ম্যান্ডেট দিয়েছিল।

মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও আফম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খানসহ নির্দিষ্ট জেলাসমূহের দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস

সরকার রাজতন্ত্র কায়েম করতে চায় : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার একটি অবৈধ সরকারই নয়, দখলদারি সরকারের ভূমিকা পালন করে রাজতন্ত্র কায়েম করতে চায়।

মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। গুলশান লেক শো’র হোটেলে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক কাঠামো’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে বিএনপি। এ সেমিনারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন।

তিন বলেন, এখন পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ। আমাদের গণতন্ত্রকামি জাতিকে একটি ভয়াবহ সঙ্ঘাতের দিকে ফেলে দেয়া হচ্ছে। কিভাবে নাগরিককে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দাস করে রাখা যায়; তারই প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। এরা রাজতন্ত্র কায়েম করতে চায়।

মহাসচিব বলেন, এখন একটাই মত, এ সরকারকে সরাতে হবে। কারণ একে সরানোর কোনো বিকল্প নেই। বিচার বিভাগের বিচার পাওয়া এখন একটা ভাগ্যের ব্যাপার। অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এরা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। সামনে নির্বাচনকে রেখে তারা নতুন নতুন আইন করছে। যাতে কেউ রুখে দাঁড়াতে না পারে, প্রতিবাদ না করতে পারে। নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে আইন দিয়ে ঘায়েল করে এরা পার হতে চায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানতেই চায় না। তারা বলে এটা বাতিল হয়েছে। কবর হয়েছে। আপনারা যখন এই ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। তখন কি এটা জীবন্ত ছিল? আমরা তো আপনাদের দাবি মেনে ছিলাম। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিতে হবে। এর মাধ্যমে সবার ভোটাধিকার ফিরে পাবে। ডিজিটাল আইন নামে এই কালা কালুন বাতিল করতে হবে।

তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈষম্য কমিয়ে সাম্যের একটি দেশ গড়তে একসাথে আন্দোলনের ঝাঁপিয়ে করি। কারণ এই দানব সরকার আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। একে ঘাড় থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে। এর জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

প্রধান অতিথির বক্তব্য ড. মোশাররফ বলেন, এই সরকার ক্ষমতা থাকার জন্য সকল যন্ত্র ব্যবহার করছে। এর একটি যন্ত্র হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই ডিজিটাল আইন গণতন্ত্র পরিপন্থী। আজকে এরা মুক্তিযোদ্ধা চেতনা ধ্বংস করে দিয়েছে। লুটপাট করে বিদেশে টাকা পাচার করেছে। আজ আমাদের কণ্ঠকে রোধ করতে তারা সকল যন্ত্রকে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, আমেরিকা বলেছে বাংলাদেশের কোনো গণতন্ত্র নেই। যে দেশে গণতন্ত্র নেই সে দেশের মানবাধিকার থাকে না। তাই তারা মানবাধিকার না থাকায় র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই সরকার কিছু কালাকাল কালুন দিয়ে আমাদের ওপর চাপিয়ে এরা ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে। এইসব কালাকানুন দিয়ে তাদের দুরভিসন্ধি হলো সামনে আন্দোলনকে তারা বন্ধ করে দিবে। প্রধানমন্ত্রীও জানেন তিনি দেশের ভোটে নির্বাচিত নন। তাই তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে এরকম কথা বলতে পারেন।

গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই বলে জানান বিএনপির এই নেতা।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় ও সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদের পরিচানায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অবঃ হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, শাজাহান ওমর, বরকত উল্লা বুলু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, বিজন কান্তি সরকার, অ্যাডভোকেট সুকমল বড়ুয়া, ক্যাপ্টেন সৈয়দ সুজা উদ্দিন প্রমুখ।

অন্য দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া, সদস্য সচিব নুরুল হক নুর প্রমুখ।