Home Blog Page 652

পরমাণু অস্ত্র আত্মরক্ষামূলক তবে প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে : কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, শুধুমাত্র দেশরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার স্বার্থে পিয়ংইয়ং পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার ঘটাচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে।

কিম আজ তার দেশের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি এবং পাল্টা পারমাণবিক হামলা পরিকল্পনা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখেন। তিনি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিদর্শনের সময় এই অস্ত্রের প্রয়োজনীয় উপাদানের সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন যাতে আরো শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়।

উত্তর কোরিয়ার নেতা বলেন, তার দেশ এমনভাবে তার পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত করছে যাতে শত্রুরা উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও জনগণের বিরুদ্ধে কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিতে না পারে।

কিম জং-উন সতর্ক করে দিয়ে একথাও বলেন, তার দেশের পরমাণু অস্ত্র আত্মরক্ষামূলক হলেও ‘যেকোনো স্থানে যেকোনো সময়’ ব্যবহার করার জন্য এসব অস্ত্র প্রস্তুত রাখা হবে।

কোরীয় উপদ্বীপে যখন আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া চলছে এবং আমেরিকার নৌবাহিনীর একটি স্ট্রাইক গ্রুপের দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরে আসার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে তখন কিম জং-উন এসব কথা বললেন।
সূত্র : পার্সটুডে

যে দেশে গণতন্ত্র নাই, সেখানে মানবাধিকার থাকতে পারে না : ড. মোশাররফ

যে দেশে গণতন্ত্র নাই, সে দেশে মানবাধিকার থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এই দেশে গণতন্ত্র নেই, এ দেশ হাইব্রিড সরকার দ্বারা পরিচালিত। শুধু আমরা বলছি না, আজকে সারা বিশ্ব বলছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘স্বাধীনতার ৫২ বছর ও বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভয়াবহ বিপর্যয় হয়েছে গত ১৪ বছরে। এই মন্ত্রণালয়ে পাঁচ বছর মন্ত্রী থাকার কারণে আমি দেখেছি, এই সেক্টরে কী ছিল, কী হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না। কিসের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে? সবকিছু দলীয়করণ করার কারণে। দক্ষ, মেধাবি চিকিৎসককে ভালো জায়গায় অবস্থান দেয় না। আর যাদের তেমন কোনো দক্ষতা নেই, তাদের ভালো জায়গায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র একটি দলের কর্মী হওয়ার কারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সরকারের হাত থেকে দেশের মানুষকে যত দ্রুত মুক্ত করা যায়, ততই মঙ্গল। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। কোনো অভ্যুত্থান তখনই সফল হয়, যখন সকল পেশাজীবী সংগঠন, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে শরিক হয়। ইনশাল্লাহ সেই গণ-অভ্যুত্থান হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, এই সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে। তারা কোনোভাবেই এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেবে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারের বিদায় হবে। রাজপথে ফয়সালা হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশিদ বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে স্পেশালিস্ট যে চিকিৎসা সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধের দাম বেড়ে যাবে। এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে যদি আমরা হটাতে না পারি, আমাদের আরো দুর্দশার মুখে পড়তে হবে।

ড্যাবের মহাসচিব আব্দুস সালাম বলেন, আজকে দুঃখ লাগে। আমি একজন সার্জন, আমাকে যন্ত্রপাতি দেয় না। যদি বলি যন্ত্রপাতি দেন, বলে এলসি করতে পারছি না। অনেক রোগী এখন চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে।

হাসপাতালে বসে ডাক্তাররা প্রাইভেটভাবে ভিজিট নেয়ার প্রথার চালুর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা বাতিল করার দাবি জানান তিনি।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা: মো: আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী, ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: এম এ সেলিম, কোষাধ্যক্ষ ডা: জহিরুল ইসলাম শাকিল, সহ-সভাপতি মোস্তাক রহিম স্বপন, অধ্যাপক ডা: মো: মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, সেলিম ভূঁইয়া, ড্যাবের সহ-সভাপতি ডা: শহীদ হাসান, ডা: মো: সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা ডা: পারভেজ রেজা কাকন, ডা: মো: মেহেদী হাসান, ডা: সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ডা: সায়ীদ মেহবুব উল কাদির, ডা: আদনান হাসান মাসুদ প্রমুখ।

কবিতা/ কবি ও প্রকৃতি

কবি ও প্রকৃতি

ফজিলা খাতুন

মাঠ আর গাছের মাঝে

কবি ঘুরে বেড়ায় সপ্ন দেখে।

হওয়ায় অনুপ্রেরণা খোঁজে 

আর মৃদু বয়ে চলা স্রোতে।

সবুজ পাতা ,মৌমাছির গুঞ্জনে

পাহাড় ,নদী ঝর্নার বুকে,

কান্না ,হাসি , আশা ,ভয়

কবির আত্মিক শান্তি খুঁজে।

অনুভূতি সদা সতেজ থাকে

প্রকৃতির মাঝে,মানুষের গল্পে।

সদাসর্বদা আকুল হৃদয় 

মন মাতানো প্রকৃতির খেলায়।

সবুজের সমারোহে সপ্ন বুনেন

হওয়ার মাঝে আনন্দের সন্ধানে।

প্রকৃতির শোভা ভাবনায় আঁকে

কবির কবিতা প্রকৃতির তরে।

কবিতা/ গরীব মরছে ধুকে

গরীব মরছে ধুকে

রাজীব হাসান

নিম্ন আয়ের মানুষ গুলো

মরছে ধুকে ধুকে

চড়া দামের জিনিস কেনে

পাথর চেপে বুকে।

ব্যবসায়ীরা খাচ্ছে চুষে

দিনমজুরের রক্ত

গরীব মরে ক্ষুধার জ্বালায়

পেটটা করে শক্ত।

সারাটা দিন খেটে পায় না

ন্যায্য আয়ের মূল্য

গরীব বলে কি মানুষ নয়

পশুর সমতূল্য।

ক্ষুধা পেটে সারাটা দিন

ঘুরছে দ্বারে দ্বারে 

গরীব বলে বাবু সাহেব

তাড়িয়ে দেয় তারে।

তাসকিন ঝড়ে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের

০

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি২০ ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশ ২২ রানে পরাজিত করেছে আয়ারল্যান্ডকে। তাসকিন আহমেদের অবিশ্বাস্য বোলিং দলকে এই জয় এনে দিতে সহায়তা করেছে।

বৃষ্টি আইনে আয়ারল্যান্ডকে ২২ রানে হারালো বাংলাদেশ

ব্যাট হাতে লিটন দাস ও রনি তালুকদারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে তাসকিন আহমেদ করলেন দুর্দান্ত বোলিং। আর এর ফলে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে বৃষ্টি আইনে আজ সোমবার ২২ রানে হারালে বাংলাদেশ। সুবাদে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

চট্টগ্রামে উদ্বোধনী জুটিতে শুরুতে বাংলাদেশকে চমকে দিলেও সেই চমক বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, বলা যায় হতে দেননি তাসকিন আহমেদ। দারুণ বল করেছেন এই পেসার। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট তোলে নেয়ার পর নিজের দ্বিতীয় ও দলের শেষ ওভারে ৯ রান দিয়ে তুলে নেন আরো ১ উইকেট। সব মিলিয়ে তার স্পেলটি ছিল ২-০-১৬-৪!

২.৪ ওভারে ৩২ রানের মাথায় আইরিশদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। মার্ক অ্যাডাইরের স্ট্যাম্প ভাঙেন তিনি। পরের ওভারেই তাসকিন ঝলক, প্রথম বলে লরকান টাকারের স্ট্যাম্প ভাঙার পর চতুর্থ বলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা পল স্টার্লিংয়ের স্ট্যাম্পও ভাঙেন এই পেসার৷ পরের বলেই ফেরান জর্জে ডকরেলকে শামিমের ক্যাচ বানিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেন তাসকিন।

পরের ওভারে হাসান মাহমুদ ১৬ রান দিলেও তা বাংলাদেশের জয়ের জন্য বাঁধা হতে পারেনি। ষষ্ঠ ওভারে সাকিব আল হাসান মাত্র ৫ রান দিলে শেষ ২ ওভারে আইরিশদের প্রয়োজন ছিল ৩৯ রান। আর শেষ ওভারে প্রয়োজন হয় ৩২ রান। তবে সেই ওভারে মাত্র ৯ রানের বিনিময়ে হ্যারি টেক্টরের উইকেটটাও নিয়ে নেন ঝুলিতে৷ ২২ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

এর আগে চট্টগ্রামে দেখা মেলে নতুন এক বাংলাদেশের৷ যেই বাংলাদেশ বড্ড সাহসী, যেই বাংলাদেশ ভয়ঢরহীন, নির্দয়! শুর‍ু থেকে শেষ, সবার লক্ষ্য একটাই; আক্রমণ। সুবাদে দুইশো পেরিয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। তবে বৃষ্টি বাধায় ইনিংস শেষ করতে পারেনি টাইগাররা, চার বল বাকি থাকতেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে সাকিব আল হাসানদের। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ২০৭ রান।

এইদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই হাত খোলে খেলতে থাকেন লিটন দাস ও রনি তালুকদার। বিধ্বংসী হয়ে উঠেন দু’জনেই, ঝড়ো গতিতে ব্যাট করতে থাকেন তারা৷ পাওয়ার প্লেতে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৮১ রান তোলে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন হয় ৭.১ ওভারে দলীয় ৯১ রানে৷ ৪ চার আর ৩ ছক্কায় ২৩ বলে ৪৭ রান করে ফিরেন লিটন দাস। আউট হবার আগে অবশ্য বাংলাদেশের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ১৫০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করলেন লিটন দাস। মাত্র ৬৮ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিইনি, যা বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম।

লিটন অর্ধশতকের আক্ষেপে পুড়লেও এইদিন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তোলে নেন রনি তালুকদার। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। তবে বড় হয়নি নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে তার দ্বিতীয় উইকেট জুটি। ভয়ংকর হয়ে উঠার আগেই ফিরেন শান্ত স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন হ্যারি টেক্টর, ১৩ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

এইদিন ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে চার নাম্বারে নেমে আসেন শামিম পাটোয়ারী। হাত খুলে খেলতে থাকেন তিনিও। তবে তেকে রেখেই ১৪তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৫৪ রানে ফিরেন লিটন। গ্রাহাম হিউমের বলে আউট হবার আগে খেলেছেন ৩৮ বলে ৬৭ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। নিজের ক্যারিয়ার সেরা এই ইনিংসটা রনি সাজান ৭ চার আর ৩ ছক্কার মারে।

এরপর তাওহীদ হৃদয়ের সাথে জুটি গড়েন শামীম, ২ চার ১ ছক্কাউ ২০ বলে ৩০ রান করে আউট হন তিনি। ইনিংসটা বড় না হলেও শামীমের ইনিংসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হৃদয় আউট হন ৮ বলে ১৩ রানে। তবে শেষ দিকে নেমে ঝড় তোলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলকে ২০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করান তিনি।

বৃষ্টি বাঁধায় খেলা বন্ধ হবার আগে ১৩ বলে ২০ রানে সাকিব আল হাসান ও ১ বলে ৪ রানে অপরাজিত মেহেদী মিরাজ। দলীয় সংগ্রহ এখন ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ২০৭ রান।

সরকার একটি ত্রাসের সংস্কৃতি চালু করেছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার শুধুমাত্র নিজেদেরকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য হত্যা, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে, একটি ত্রাসের সংস্কৃতি চালু করেছে। এভাবেই তারা আজকে দেশকে শাসন করতে চায়।

সোমবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর লেডিস ক্লাবে বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবি নেতাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নওগাঁ এক নারীকে র‌্যাব তুলে নিয়ে গেছে।‌ তুলে নেয়ার ৩৬ ঘণ্টায় পরে মারা গেছে। তার ডাক্তারি রিপোর্টে এসেছে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে এবং তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে যে এফআইআর করা হয়নি, সেটা পরে করা হয়েছে। অর্থাৎ আবার র‌্যাব হাতে সাধারণ একজন মানুষ, যিনি সরকারি চাকরি করেন তার মৃত্যু হলো।

তিনি বলেন, দেশের মারাত্মক অশান্তি বিরাজ করছে, মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো এই ফ্যাসবাদী সরকার কেড়ে নিয়েছে।

দেশে এমন একটি অবস্থা বিরাজ করছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ ভালোভাবে ইবাদত পর্যন্ত করবে পারছে না, মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না। জিনিস দাম বাড়ছে বৃদ্ধি, সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে।

তিনি সবাইকে এ সরকারের অন্যায়ে বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকের এই শাসক অত্যাচার-নির্যাতনকারী, তাদের অবসরণের জন্য আল্লাহতালার কাছে অবশ্যই দোয়া চাইতে হবে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পেশাজীবীদের মধ্যে অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, কবি আবদুল হাই শিকদার, রুহুল আমিন গাজী, এম এ আজিজ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ডা. মো: আবদুল কুদ্দুস, কাদের গণি চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, ডা. মো: আবদুস সালাম, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক শহীদুর রহমান, অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক সেলিম ভুঁইয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক এনামুল পারভেজ, অধ্যাপক আব্দুল হালিম, অধ্যাপক আমির হোসেন ভূঁইয়া, ড. বোরহান উদ্দিন, ড. আব্দুর রহমান, সাংবাদিক ইলিয়াস খান, শফিকুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ফরিদ আহমেদ, আমিরুল ইসলাম কাগজী, সাহাবুদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা এম আবদুল্লাহ, নুরুল আমিন রোকন, মুরসালিন নুমানী, খুরশিদ আলম।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে বেগম সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, মো: আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিক, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, প্রকৌশলী এ কে এম আসাদুজ্জামান চুন্নু, শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার হচ্ছেন হামজা ইউসুফ

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হামজা ইউসুফ। স্কটল্যান্ডের ক্ষমতাসীন দল স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি হামজাকে তাদের নতুন নেতা নির্বাচিত করেছে। স্কট পার্লামেন্ট আগামীকাল মঙ্গলবার তাকে আধা-স্বায়াত্তশাসিত স্কটল্যান্ড সরকারের ফার্স্ট মিনিস্টার নির্বাচিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত মাসে অপ্রত্যাশিতভাবে পদত্যাগ করা নিকোলা স্টারজেনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

হামজা সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বক্তৃতায় বলেন, ‘পাঞ্জাব থেকে আমাদের পার্লামেন্ট, এটি আমাদের প্রজন্মের একটি সফর।’

তিনি বলেন, স্কটিশ স্বাধীনতা জন্য তার রয়েছে ‘আবেগ।’

তিনি বলেন, তিনি স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন জোরদার করবেন। স্কটল্যান্ডের জনগণের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনতার প্রয়োজন অনেক বেশি।

২০১৪ সালে স্কটল্যান্ড স্বাধীনতার বিপক্ষে ৫৫-৪৫ শতাংশ ভোট দেয়।

দুই বছর আগে ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে ভোট দিলেও স্কটদের বেশির ভাগ থেকে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।

তবে এই মুহূর্তে স্কটিশদের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থানে ভাটা পড়েছে। ২০২০ সালে তা রেকর্ড ৫৮ ভাগ হলেও এখন তা নেমে এসেছে ৩৯ ভাগে।

সূত্র : আল জাজিরা

গে কানেকশন! স্থপতি ইমতিয়াজ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের স্থপতি ইমতিয়াজ মোহাম্মদ ভূঁইয়া (৪৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন মিল্লাত হোসেন মুন্না ওরফে মুন (১৯), এহসান ওরফে মেঘ (২৩) ও আনোয়ার হোসেন (৩৮)।

ডিবি তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এনামুল হক মিঠু বাসসকে জানান, গ্রেফতারকৃতরা সমকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য। তারা একটি গে চ্যাটিং অ্যাপসের মাধ্যমে আগে থেকে সমকামী বিভিন্ন লোকজনকে টার্গেট করে রুম ডেটের কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন। এভাবে বিভিন্ন কৌশলে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে আসছেন তারা।

নিহত ইমতিয়াজ মোহাম্মদ ভূঁইয়ার সঙ্গে আসামি আলিফের গে চ্যাটিং অ্যাপসের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়। তারই সূত্র ধরে গত ৭ মার্চ দুপুরে আলিফকে ফোন করেন ইমতিয়াজ। আলিফ তাকে কলাবাগান থানার ক্রিসেন্ট রোডের আরাফাতের বাসায় যেতে বলেন।

ওই বাসার একটি রুমে ইমতিয়াজ ও আলিফ আপত্তিকর অবস্থায় থাকাকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আলিফের সহযোগী আরাফাত, মেঘ, মুন্না ও আনোয়ার প্রবেশ করেন। তারা ওই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইমতিয়াজকে মারধর শুরু করে এবং তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।

এডিসি এনামুল হক মিঠু আরও বলেন, ইমতিয়াজ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বুকে, পিঠে বেদম মারধর করেন আসামিরা। পরে ইমতিয়াজের মৃত্যু হয়। আসামিরা কৌশলে বাসা থেকে ইমতিয়াজের মরদেহ বের করে একটি প্রাইভেটকারে করে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানা এলাকার কামারকান্দা গ্রামের নবাবগঞ্জ হাইওয়ে রোডের পাশে ঝোপে ফেলে দেয়। পরে আলিফকে বাসাবো, আনোয়ারকে গ্রিনরোড নামিয়ে দিয়ে আরাফাত, মেঘ ও মুন্না নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লা হয়ে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান।

ডিবি তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) গোলাম সবুর বলেন, ভারতে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে আসামিরা ওই স্থান থেকে পালিয়ে পুনরায় অবৈধভাবে একই পথে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর ডিবি পুলিশের অভিযানে ইমতিয়াজ হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ডিবির তেজগাঁও বিভাগের নেতৃত্বে টানা অপারেশনে মেঘ, আনোয়ার ও মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার একটি গ্যারেজ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। তবে আরাফত আর আলিফ ভারতে পালিয়ে গেছেন ।

ইমতিয়াজ তেজগাঁও এলাকায় নিজ ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত ৭ মার্চ কলাবাগান ক্রিসেন্ট রোড এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ইমতিয়াজ। পরদিন তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের চিত্রকোট কামারকান্দা সেতু এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৯ মার্চ পুলিশ লাশ আঞ্জুমান মুফিদুলে হস্তান্তর করে। এরপর বেওয়ারিশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জ পৌর এলাকার কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কবর থেকে তোলার পর তার স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার ও স্বজনেরা ইমতিয়াজের লাশ শনাক্ত করেন।
সূত্র : বাসস

অবশেষে নিউইয়র্কে দেখা মিলবে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’

নিউ ইয়র্ক ডেস্ক: অবশেষে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বপ্ন পূরণ হলো। স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশের ৫৩তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের একটি রাস্তা ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে নামফলক উম্মোচন করা হয়। এ দুপুর ২টায় বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন করেন জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্ট এলাকার নব নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলম্যান উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভুদ শেখর কৃষ্ণান। জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। যথাযথ আমন্ত্রণ না পাওয়ায় নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ দূতাবাসের কোন সরকারি কর্মকর্তাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

জ্যাকসন হাইটসের একটি রাস্তা ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে নামকরণের জন্য প্রায় এক বছর ধরে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ) সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা নানাভাবে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগসহ সামাজিক তৎপরতা চালিয়ে আসছেন কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের কাউকেই কোন রকম বক্তব্য দিতে না দেওয়ায় প্রবাসীদের মাঝে নানা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় সেখানে উপস্থিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকলেও তাদেরকেও দু’টি কথা বলার সুযোগ দেননি কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান। এ ঘটনায় প্রবাসীরা হতবাক হয়েছেন। এমনকি জ্যাকসন হাইটসে বসবাস করন না শ্রমিক সংগঠনের সাথে জড়িত এমন এক ব্যক্তি মিলন রহমানকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করা হয়। যা উপস্থিত প্রবাসীদের মাঝে নানা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

bd street 01

বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কের কংগ্রেসওমেন গ্রেস মেং, অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ, স্টিভেন রাঘাব, কাউন্সিল মেম্বার জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস, অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা, কাউন্সিল মেম্বার লিন্ডা লি, জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, অপর জেবিবিএ’র সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাধারন সম্পাদক তারেক হাসান খানসহ শত শত বাংলাদেশি উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলম্যানদের সাধারন সভায় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’  নামকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নিলে পরে ৪৭-০ ভোটে তা পাশ হয়। সেই থেকে জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউয়ের ৭৩ স্ট্রিটের নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’। বিলটির সিদ্ধান্ত নম্বর হলো- আইএনটি ৮৯৭।
নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধুষ্যিত জ্যাকসন হাইটসে ‘বাংলাদেশ’ নামে সড়ক করার জোর তৎপরতা চালান জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্ট এলাকার নব নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলম্যান উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভুদ শেখর কৃষ্ণানকে গত বছরের জুলাই মাস থেকে কয়েক দফায় তাগিদ দেন। এর আগেও জেবিবিএ’র সাবেক ও প্রয়াত নেতা সাঈদ রহমান মান্নান, পিয়ার মোহাম্মদ, মহসিন ননি, গিয়াস আহমেদ ও শাহনাওয়াজ সকলেই এই দাবির প্রতি ছিলেন ঐক্যবদ্ধ।  

bd street 02

গত বছর জুলাই মাসে উক্ত জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান নিউ ইয়র্ক সিটি’র কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। তাদের দেওয়া তাগিদের ফলেই প্রস্তাবটি পাস করানোর চেষ্টা চালান সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলম্যানরা।
কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণান, মেয়র এরিক এডামস, বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস গত নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা জয়ী হলে এই নামকরণ বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু শেকার কৃষ্ণানের আন্তরিকতায় এবং জ্যাকসন হাইটসের নেতৃবৃন্দের দাবিতে ও সহায়তায় প্রায় ৬ মাসের প্রস্তুতিতে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামকরণের সিদ্ধান্তটি পাশ করা হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ১৬ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটির ১২৯টি স্ট্রিটের পুণঃনামকরণের বিলটি সভায় আলোচনায় আসে। এক এক করে ১২৯টি স্ট্রিটের নতুন নামকরণের প্রস্তাব শোনানো হয়। পাঁচ বরোতেই নতুন নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্ট্রিটের বা এভিনিউয়ের। এইসব নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন কম্যুনিটির নিজ দেশের বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি ইমিগ্রান্টদের সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটের এক ব্লকের নামকরণ করা হলো ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’। এছাড়াও বাংলাদেশ কম্যুনিটির বিশিষ্ট একটিভিস্ট, শিক্ষক ও লেখক লিজি রহমানের পুত্রের নামে এলমহার্স্টের কুইন্স বুলোভার্ডে ৫৫ রোডের কর্ণারে নামকরণ করা হলো আসিফ রহমান ওয়ে। আসিফ রহমান ২০০৮ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি সাইকেল চালিয়ে কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুইন্স বুলোভার্ডে ৫৫ রোডের কাছে ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এই রাস্তাটিরও নামকরণ করা হলো কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণানের উদ্যোগেই।
এদিকে শুনানিতে যেমন এই ১২৯টি রাস্তার তালিকায় কুইন্স বরোতে ‘লিটল বাংলাদেশ ওয়ে’ নামে একটি রাস্তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, পাশ হওয়া বিলেও সেই নামটি রয়ে গেছে। কিন্তু কোন কাউন্সিলম্যানের প্রস্তাবে কোন এলাকায় কোন রাস্তার নাম লিটল বাংলাদেশ ওয়ে হলো তা জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের পার্ক কমিটির চেয়ার। আর স্ট্রিটের পুণঃনামকরণ করার দায়িত্বটিও পার্ক কমিটির। সে কারণে নির্বাচিত হওয়ার ৬ মাস পর থেকেই তিনি ৭৩ স্ট্রিটের নাম বাংলাদেশ স্ট্রিট এবং ৫৫ রোডের নাম আসিফ রহমান ওয়ে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তাবনা তৈরি শুরু করেন। এর জন্য কেন ৭৩ স্ট্রিটের নাম ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ করতে হবে তার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করান। অবশেষে পার্ক কমিটি তার প্রস্তাবনা মেনে নেয় এবং শুনানিতে তোলে। ৩১ জানুয়ারি শুনানিতে তা গৃহীত হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি তা ফুল কাউন্সিলে ৪৭-০ ভোটে পাশ হয়। এ সময় কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান সিটি কাউন্সিল চেম্বারে ৭৩ স্ট্রিটকে বাংলাদেশ স্ট্রিট ও ৫৫ রোডকে আসিফ রহমান ওয়ে ঘোষণার পক্ষে চমৎকার দুটি বক্তব্য রাখেন।

ভারতে ভোটের বছরে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাহুল গান্ধী

ভারতে এক মানহানির মামলায় বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর কারাদণ্ড আর লোকসভার সদস্যপদ হারানোর ঘটনা অনেকটা হঠাৎ করেই দেশটির রাজনীতিতে সৃষ্টি করেছে এক বিরাট আলোড়ন।

এর প্রতিবাদে শনিবার ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন, পাঞ্জাবে হয়েছে রেল অবরোধ।

দেশের ১৪টি বিরোধী দল – যাদের মধ্যে অন্য প্রশ্নে খুব একটা সহমত হতে দেখা যায় না- তারাও রাহুল গান্ধীর প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এক হয়েছে ।

এছাড়া এমপির পদ খোয়ানোর পরে শনিবারই প্রথম সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন রাহুল গান্ধী, আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বিজেপি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লোকসভা ভোটের যখন বছরখানেক বাকি, তখন এ ঘটনার ভেতর দিয়ে রাহুল গান্ধীই মূল রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছেন।

কিন্তু তাতে কোন দলের লাভ, কার ক্ষতি হতে পারে?

গুজরাতের এক আদালতে ফৌজদারী মানহানির মামলায় দুই বছরের জেলের সাজা হওয়ার পরে আইন অনুযায়ীই গান্ধীর পার্লামেন্ট সদস্য পদ খারিজ হয়ে যায়।

চার বছর আগে নির্বাচনী প্রচারে কর্ণাটকে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “নিরাভ মোদী, ললিত মোদী, নরেন্দ্র মোদী .. মোদী পদবীধারীরা সবাই কী করে চোর হয়!”

ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গুজরাটের বাসিন্দা মোদী পদবীধারী এক বিজেপি নেতা এই যুক্তিতে মানহানির মামলা করেন যে গান্ধী একথা বলে সব মোদী পদবীধারীর মর্যাদাহানি করেছেন।

শুক্রবার ওই গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশিত হওয়ার পরে রাহুল গান্ধী শনিবারই প্রথমবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন।

‘মোদী-আদানির সম্পর্ক’ নিয়ে মুখ বন্ধ রাখবেন না রাহুল গান্ধী
রাহুল গান্ধী বলেন, “আমার সদস্য পদ খারিজ হয়েছে কারণ আমার পরের ভাষণকে প্রধানমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন। ওই ভাষণটা আমি আদানির ব্যাপারে দিতাম। আমি তার চোখে আতঙ্কের ছাপ দেখেছি। তিনি কিছুতেই চাননি যেন ভাষণটা সংসদের কক্ষে দিতে পারি।“

নরেন্দ্র মোদী ও আদানি গোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে তিনি যে তথ্যবহুল ভাষণ দিয়েছিলেন, সেটা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে কেন বাদ দেয়া হলো, সেই প্রশ্ন বারবার জানতে চেয়েও তিনি জবাব পাননি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন গান্ধী।

মোদী ও আদানির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে রাহুল গান্ধীকে শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে একাধিকবার মুখ খুলতে শোনা গেছে।

তিনি বলেন, “আদানি গোষ্ঠীর সংস্থাগুলির কাছে যে ২০ হাজার কোটি টাকা এসেছিল, কেউ জানে না এই অর্থের উৎস কী! প্রধানমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন যে মোদী-আদানি সম্পর্কটা মানুষের সামনে ফাঁস হয়ে যেতে পারে। সেজন্যই আমাকে আটকানো হচ্ছে। কিন্তু আমি থামব না। মোদী-আদানি সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন আমি তুলবই।“

‘আমি সাভারকার নই, আমি গান্ধী, ক্ষমা চাইব না’
আদালতের নির্দেশে তার যে জেল এবং পরবর্তীকালে সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে গেছে, সেটা নিয়ে অবশ্য ওই সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

বিজেপি নেতারা গান্ধীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘মোদী’দের নিয়ে ওই মন্তব্যের জন্য যেন ক্ষমা চান কংগ্রেস নেতা।

কিন্তু সে প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী শনিবার বলেন ,”আমি সাভারকার নই, আমি গান্ধী। ক্ষমা চাইব না।“

এই উক্তিতে গান্ধী যে সাভারকারের কথা বলেছেন, তিনি সম্ভবত বোঝাতে চেয়েছেন বিনায়ক দামোদর সাভারকারের কথা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের যে হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি, তার মূল দর্শন সাভারকারেরই লেখা থেকে আসা। তিনি আন্দামানের সেলুলার জেলে বন্দী থাকার সময়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে একাধিকবার ক্ষমাপ্রার্থনা করে চিঠি লিখেছিলেন বলে ঐতিহাসিকরা জানান। শনিবার সেই ক্ষমাপ্রার্থনার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন রাহুল গান্ধী, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

‘কংগ্রেস আদালতে কেন যাচ্ছে না?’
রাহুল গান্ধীর সংবাদ সম্মেলনের জবাব দিতে বিজেপি নেতা রভি শঙ্কর প্রসাদ একটি জবাবী সংবাদ সম্মেলন করেন।

সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন- ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশের ওপরে স্থগিতাদেশ নেয়ার কোনো চেষ্টাই কেন করল না কংগ্রেস?

তার কথায়, কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধীর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা থেকে ফায়দা তুলতে চাইছে কংগ্রেস।

তিনি আরো বলেন, “মোদী পদবী নিয়ে রাহুল গান্ধী যা বলেছিলেন, সেটা সমালোচনামূলক কখনই ছিল না। ওটা অশালীন মন্তব্য ছিল। অন্যান্য পিছিয়ে থাকা শ্রেণী বা ওবিসি সমাজকে অপমান করেছেন তিনি। এ নিয়ে বিজেপি আন্দোলনে নামবে।“

রাজনৈতিক কৌশল?
কংগ্রেস কেন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করল না, তাহলে কি সত্যিই এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা কাজ করছে, এই প্রশ্ন উঠছে বিশ্লেষকদের মনেও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভাশিস মৈত্র বলছিলেন, “বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছে আদালত, তারপরে শুক্রবার আজ শনিবার চলে গেল। এই কয়দিনে কংগ্রেস তো উচ্চতর আদালতে যেতেই পারত। কিন্তু তা তারা করেনি। নিঃসন্দেহে এর পেছনে একটা রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে।

“উচ্চতর আদালতে না যাওয়ার একটা কারণ হতে পারে রাহুল গান্ধীকে একজন শহীদ বা পরিস্থিতির শিকার হওয়া এক ব্যক্তির মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা তাদের পক্ষে লাভজনক তো হবেই। তাদের আইনি পরামর্শদাতারাও কিন্তু এখনো এটা স্পষ্ট করেননি।”

“হয়ত শনিবার রাতে বা রোববার তাদের রাজনৈতিক কৌশলটা স্পষ্ট হবে,” বলছিলেন মৈত্র।

‘আদানি ইস্যু সামনে এলে বড় ক্ষতি হতে পারে বিজেপির’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এতদিন রাহুল গান্ধী-সোনিয়া গান্ধীকেই নিশানা করে রাজনীতি করে এসেছে বিজেপি। এবার যদি রাহুল গান্ধী নাই থাকেন, তাহলে কী নিয়ে রাজনীতি করবে বিজেপি?

‘লোকসত্তা’ পত্রিকার সম্পাদক গিরীশ কুবেরের কথায়, “এটা কংগ্রেসের কাছে একটা বড় সুযোগ নতুন কোনো চেহারা সামনে নিয়ে আসার। গান্ধী সবসময়েই বিজেপির ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’ হয়ে থেকেছেন। এখন তিনিই যদি না থাকেন, তাহলে বিজেপির তো নিশানা করারই কেউ থাকবে না। তাই কংগ্রেসকে খুব ভেবে চিন্তে এগোতে হবে।“

আবার রাহুল গান্ধীর সংসদ সদস্য পদ খারিজের প্রশ্নে বিজেপি বিরোধী সব দলগুলিই একজোট হয়ে প্রতিবাদ করছে।

বিশ্লেষক শুভাশিস মৈত্র বলছেন, “রাহুল গান্ধীকে নিশানা করা বিজেপির তো একটা অ্যাজেন্ডা বটেই। তাই বিজেপি-আরএসএসের মধ্যে দুটো মতই আছে।

“একটা অংশ চাইছে রাহুল গান্ধীই থাকুন তাদের প্রধান নিশানা হয়ে। আরেকটা মত বলছে রাহুল গান্ধী সামনে থাকলেই বারেবারে আদানি ইস্যুটা তুলবেন, আর তাতে নরেন্দ্র মোদীর ইমেজের বড়সড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।“

কংগ্রেস এবং বিরোধী দলগুলো যেমন একদিকে রাহুল গান্ধীকে ‘পরিস্থিতির শিকার’ বা তার সংসদ সদস্য পদ খারিজকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ ধরনের শব্দ বন্ধে অভিহিত করছে, অন্যদিকে বিজেপি যে কোনোভাবে আদানি গোষ্ঠীর সাথে নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ককে সামনে আসতে দিতে চায় না।

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন রাহুল গান্ধীই
সবমিলিয়ে লোকসভা নির্বাচনের একবছর আগে এবং কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানের বিধানসভা নির্বাচনের বছরেই ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন রাহুল গান্ধীই।

রাহুল গান্ধীর সংসদ সদস্য পদ খারিজ হয়ে যাওয়ায় শনিবার সারা দেশেই কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

তিনি যে আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন, কেরালার সেই ওয়েনাডে কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভ যেমন হয়েছে, তেমনই কর্ণাটকেও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

রাজ্যের রাধানী বেঙ্গালুরুতে ওই বিক্ষোভ আটকিয়ে দেয় পুলিশ।

আবার পাঞ্জাবে রেল অবরোধ করেন কংগ্রেস কর্মীরা।

মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের বিধায়করা মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিধানসভা চত্ত্বরেই বিক্ষোভ দেখান। সূত্র : বিবিসি